Sunday, February 22, 2026

অহংকার দাম্ভিকতা অকৃতজ্ঞতা মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা অন্যের অবদানকে অবজ্ঞা করা অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ এবং লাগামহীন কথাবার্তা মানুষের পতনকে ত্বরান্বিত করে

 রিমাইন্ডার: অহংকার-দাম্ভিকতা, অকৃতজ্ঞতা, মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা, অন্যের অবদানকে অবজ্ঞা করা, অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধ এবং লাগামহীন কথাবার্তা মানুষের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

এই নেতিবাচক গুণগুলো যখন একজন আলেম বা ইলম অন্বেষণকারীর চরিত্রে প্রকাশ পায় তখন তাঁর অর্জিত জ্ঞান, দাওয়াতি মিশন এবং দ্বীনি খিদমত—সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের ভক্তি ও ভালোবাসা বিলীন হয়ে যায় এবং তাঁর ওপর থেকে জনমানুষের আস্থা উঠে যায়। যখন এই আচরণগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে তখন প্রতীয়মান হয় যে, এগুলো তাঁর স্বভাবের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায়, তাঁর আত্মশুদ্ধির প্রত্যাশা করা কেবল দুরাশায় পর্যবসিত হয়। আল্লাহ আমাদেরকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
╼╼╼╼╼╼╼╼╼╼
✪ অহংকার ও দাম্ভিকতা:
– মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
“আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং জমিনে দম্ভভরে চলাফেরা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক-অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” [সূরা লোকমান: ১৮]
– রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [সহীহ মুসলিম: ৯১]
✪ ক্ষমা এবং বিনয়-নম্রতা:
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ
“যে বান্দা অন্যকে ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেন।” [সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮]
✪ মানুষকে তু্চ্ছ-তাচ্ছিল্য করা:
– রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ
“কোনো মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে।” [সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪]
– অহংকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে (রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা সম্পর্কে বলেন:
الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ
“অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।” [সহিহ মুসলিম: ৯১]
✪ অকৃতজ্ঞতা:
– রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ
“যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।” [সহিহ আবু দাউদ, হা/৮৪১১]
✪ ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ:
– আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
“যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আল্লাহ মুহসিনদের (সৎকর্ম শীলদের) ভালোবাসেন।” [সূরা ইমরান: ১৩৪]
– রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ
“কুস্তিতে যে অন্যকে হারিয়ে দেয় সে শক্তিশালী নয়। বরং প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” [সহিহ বুখারী: ৬১১৪, সহিহ মুসলিম: ২৬০৯]
✪ সুন্দরভাষায় কথা বলার নির্দেশ:
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا
“আর তোমরা মানুষের সাথে সদালাপ করবে (সুন্দরভাবে কথা বলবে)।” [সূরা বাকারাহ: ৮৩]
✪ হয় ভালো কথা বলুন অথবা চুপ থাকুন:
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” [সহীহ বুখারী: ৬০১৮, সহীহ মুসলিম: ৪৭]
✪ প্রকৃত মুমিনের পরিচয়:
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
“প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।” [সহীহ বুখারী: ১০, সহীহ মুসলিম: ৪০]
মহান আল্লাহ আমাকেসহ দুনিয়ার সকল মুসলিমকে এই সকল চারিত্রিক ত্রুটি থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর পছন্দনীয় গুণাবলী অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate