আমাদের সমাজের কিছু আলেম বিশেষ কোনও প্রয়োজন বা হাজত পূরণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত (যেমন: ১০০ বা ১০০০ রাকাত) নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন অথচ প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু জরুরি বিষয়ে আলোচনা করা হল:
❑ ১. নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়া:
কোনও হাজত পূরণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়ার ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনও বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়নি। এমনকি সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়িগণের আমল থেকেও এমন কোনও নজির পাওয়া যায় না। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে এমন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা বিদআত-এর অন্তর্ভুক্ত।
❑ ২. যৌথভাবে নামাজ ভাগ করে পড়া:
অনেকে মিলে ভাগ করে (যেমন: ৫০ জন মিলে ১০০০ রাকাত) নামাজ আদায় করা আরেকটি নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি বা বিদআত। ইবাদতের মূল কাঠামো পরিবর্তন করে এমন মনগড়া পদ্ধতির আবিষ্কারক এবং প্রচারক মূলত তারাই, যারা সুন্নাহর চেয়ে প্রচলিত প্রথাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। না জেনে এসব অন্ধভাবে অনুসরণ করা দ্বীনি মূর্খতারই বহিঃপ্রকাশ।
৩. নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোনও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ
“আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।” [সূরা বাকারা: ৪৫]
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও বিশেষ কোনও সংখ্যা নির্ধারণ করেননি। তাই আমাদের কর্তব্য হল ফরজ, সুন্নত ও সাধারণ নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
◯ নামাজের মধ্যে আল্লাহর অতি নিকটবর্তী হয়ে দোয়া করার দুটি বিশেষ জায়গা রয়েছে:
◈ ক. সিজদা অবস্থায়:
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সেজদা অবস্থায় নিজের হাজতগুলো তুলে ধরে অধিক পরিমাণে দুআ করলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
◈ খ. শেষ তাশাহুদে:
সালাম ফেরানোর আগেও দুআ করার কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং এখানেও অধিক পরিমাণে দুআ করা যায়। উভয় ক্ষেত্রে হাদিসে বর্ণিত মাসনুন দুআগুলো পাঠ করা হোক অথবা নিজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দুআ করা হোক-উভয়টিই শরিয়ত সম্মত। এছাড়াও যেকোনো নামাজ ও অন্যান্য নেক আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে ইনশাআল্লাহ তিনি মনোবাসনা পূর্ণ করবেন। উল্লেখ্য যে, প্রচলিত ‘সালাতুল হাজত’ সংক্রান্ত হাদিসগুলোও সনদের বিচারে বিশুদ্ধ নয়।
✪ সৌদি আরবের ফতওয়া বোর্ড-এর ফতওয়া:
“أما ما يسمى بصلاة الحاجة: فقد جاءت بأحاديث ضعيفة ومنكرة -فيما نعلم- لا تقوم بها حجة، ولا تصلح لبناء العمل عليها.
“আর যাকে সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ) বলা হয়: আমাদের জানামতে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো দুর্বল ও আপত্তিকর—যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে আমল করাও সঠিক নয়।” [ফাতাওয়া লাজনা দায়িমাহ্, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৬১]
সুতরাং দ্বীনের মধ্যে নিত্য-নতুন পদ্ধতি বা সংখ্যা আবিষ্কার না করে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করাই নাজাতের পথ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহর ওপর অটল থাকার এবং সকল প্রকার বিদআত থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment