Sunday, February 22, 2026

রমজানের শেষে মৃত্যু এবং মানুষের সুসাক্ষ্য কি উত্তম পরিণতির লক্ষণ

 প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি ৩০শে রমজান মৃত্যুবরণ করেছেন, যার নিয়তে ঈদের নামাজ ছিল, যার সততা ও সদাচরণের ব্যাপারে মানুষ সাক্ষ্য দিয়েছে এবং যিনি কোনো প্রকার কষ্ট বা দীর্ঘ অসুস্থতা ছাড়াই আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন—তার ব্যাপারে শরয়ি বিধান কী?”

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অত:পর—
আপনি এই ব্যক্তির ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কল্যাণের ব্যাপারে মানুষের যে সাক্ষ্যের কথা বলেছেন তা নিঃসন্দেহে কল্যাণের একটি শুভ লক্ষণ ও সুসংবাদ। ইনশাআল্লাহ এটি “হুসনুল খাতিমা” বা উত্তম পরিণতিরই দলিল।
কেননা—
✪ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং লোকেরা সেটির প্রশংসা করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ওয়াজিব হয়ে গেল।”
এরপর অন্য একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং লোকেরা সেটির নিন্দা করল। তিনি বললেন, “ওয়াজিব হয়ে গেল।”
ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ওয়াজিব হয়ে গেল?”
তিনি বললেন:
هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ
“এই ব্যক্তির তোমরা প্রশংসা করেছ। তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর ওই ব্যক্তির তোমরা নিন্দা করেছ। তাই তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরাই হলে জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
✪ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ
“আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাকে (নেক কাজে) নিয়োজিত করেন।”
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, “তাকে কীভাবে নিয়োজিত করেন?”
তিনি বললেন:
يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ مَوْتِهِ
“মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমল করার তৌফিক দান করেন।” [তিরমিজি, হাদিসটি হাসান সহিহ; হাকেম একে সহিহ বলেছেন এবং আলবানিও একে সত্যায়ন করেছেন]
✪ অন্য এক বর্ণনায় এসেছে:
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ، قِيلَ: كَيْفَ يَسْتَعْمَلُهُ؟ قَالَ: يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ الْمَوْتِ ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ
“আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাকে নিয়োজিত করেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে নিয়োজিত করেন?
তিনি বললেন: মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের তৌফিক দেন। এরপর সেই অবস্থাতেই তার প্রাণ হরণ করেন।”
[মুসনাদে আহমাদ। আলবানি একে সহিহ বলেছেন]
✪ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-এ জাফর বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ আমাকে তালহা ইয়ামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (তালহা) বলতেন:
مَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَإِذَا انْقَضَى الشَّهْرُ مَاتَ، وَمَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَإِذَا قَدِمَ مِنْ حِجَّتِهِ مَاتَ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَإِذَا قَدِمَ مِنْ عُمْرَتِهِ مَاتَ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ أَوْ بَرِئَ مِنَ النَّارِ.
“আমরা বলাবলি করতাম যে, যার মৃত্যু তিনটি অবস্থার কোনো একটিতে হয় তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয় অথবা সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়: ১. যে ব্যক্তি রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখল এবং মাস শেষ হতেই মৃত্যুবরণ করল, ২. যে ব্যক্তি হজে বের হলো এবং হজ পালন শেষে মৃত্যুবরণ করল, ৩. যে ব্যক্তি ওমরাহ করতে বের হলো এবং ওমরাহ শেষে মৃত্যুবরণ করল।” [মুসনাদুল বাজ্জার: ২৯৫৩, হিলয়াতুল আউলিয়া: ১০/২৩১]
[হাদিসটি ইমাম বাজ্জার তার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে এবং আবু নুআইম আল আসফাহানি তার ‘হিলয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসের সনদে আবু ইয়াহইয়া আত তাইমি নামক একজন রাবি (বর্ণনাকারী) আছেন, যিনি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল (যঈফ) হিসেবে পরিচিত।
ইমাম হাইসামি ‘মাজমাউজ যাওয়াইদ’ গ্রন্থে বলেছেন যে, এই বর্ণনাকারী দুর্বল। তবে হাদিসের মূল বিষয়বস্তু (রমজান, হজ বা উমরা অবস্থায় মৃত্যু) অন্যান্য সহিহ হাদিসের ব্যাপক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ-যা নেক আমলরত অবস্থায় মৃত্যুর ফজিলত প্রমাণ করে।-অনুবাদক]
✪ হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আমার বুকের সাথে হেলান দিয়ে রাখা অবস্থায় ছিলাম তখন তিনি বললেন:
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোনো সদকা করল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমদ: ২৩৩২৪; আলবানি একে সহিহ বলেছেন] আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সর্বোজ্ঞ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
সোর্স: islamweb
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate