প্রশ্ন: “কোন মুসলিম ব্যক্তি রমজান মাসে মারা গেলে তার কবরের আজাব মাফ বা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এ কথা কি সঠিক?
উত্তর: রমজান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বরকতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জান্নাতের দরজাগুলো খোলা থাকে, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এমনকি কেউ যদি রোজা রাখা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, হাদিসে তার জন্য বিশাল মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন হাদিসে এসেছে: প্রখ্যাত সাহাবি হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল এবং এরই ওপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটল (অর্থাৎ মৃত্যু হলো) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল এবং এরই ওপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোনো সদকা করল এবং এরই ওপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমদ: ২৩৩২৪; মাজমাউজ যাওয়ায়েদ: ১০/৩৪৭। শাইখ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
নিঃসন্দেহে রোজা থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ‘হুসনুল খাতিমা’ বা উত্তম পরিণতির একটি শুভ লক্ষণ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি আমলশূন্য অবস্থায় কেবল রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন, তবে সেক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ফজিলত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
● এ বিষয়ে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
إذا مات في رمضان ما أعلم فيه شيئًا يدل على فضل خاص، لكن يرجى له إذا مات وهو صائم مستقيم يرجى له الخير العظيم، ولكن لا أعلم شيئًا خاصًا في موت رمضان-في الموت في رمضان
“রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করার ব্যাপারে বিশেষ কোনো ফজিলত রয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ রোজা রাখা অবস্থায় এবং দ্বীনের ওপর অটল থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার জন্য বিশাল কল্যাণের আশা করা যায়। কিন্তু বিশেষ করে রমজানে মৃত্যুর আলাদা কোনো ফজিলত আছে বলে আমি জানি না।” [মাজমু’ ফাতাওয়া বিন বায: ২/৬৩৯]
● রমজানে মারা গেলে কবরের আজাব মাফ প্রসঙ্গে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. আরো বলেন:
وأما أنه إذا مات في رمضان أو مات في الجمعة، ينجو من العذاب، لا، بل هذا إلى الله ، إن مات على استقامة فله الجنة والكرامة، وإن مات على معاصي فهو على خطر، ويدعى له بالمغفرة و الرحمة
“‘আর যদি রমজান অথবা জুমার দিন মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরে আজাব থেকে মুক্তি পাবে’ এ ব্যাপারে কথা হল, না (এ কথা সঠিক নয়) বরং এটি আল্লাহর উপর সমর্পিত। যদি সে দ্বীনদারীর উপরে মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত এবং সম্মান। আর যদি আল্লাহর অবাধ্যতার উপরে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে বিপদের মুখে রয়েছে। তার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাত ও রহমতের দুআ করতে হবে।” [শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]
মোটকথা, রমজান মাস বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ হলেও এ মাসে মারা গেলেই কেউ বিশেষ সওয়াব বা জান্নাত পেয়ে যাবে—এমন সুনির্দিষ্ট কোনো দাবি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ এ কারণে সে কেয়ামতের দিন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার কোন হিসাব-নিকাশ হবে না অথবা তার কবরের আজাব মাফ হয়ে যাবে… এসব কথাবার্তা সঠিক নয়। তবে কেউ যদি রোজা রাখা অবস্থায় বা ইবাদতরত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তবে তা অবশ্যই তার জন্য কল্যাণকর সমাপ্তির আলামত। যেহেতু রমজান রহমত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস তাই এই পবিত্র মাসে কোনো মুমিন ব্যক্তি ইবাদত করা অবস্থায় মারা গেলে আল্লাহর রহমতের ওপর প্রবল আশা রাখা যায় যে, তিনি তাকে জান্নাত দান করবেন। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment