ইসলামের সরল ও সঠিক পথের দিশা পেতে হলে এবং আখিরাতে সফলতা ও মুক্তি লাভ করতে হলে কুরআন এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিকল্প নেই। এই দুটির সমন্বয়ই হচ্ছে মুমিনের জন্য প্রকৃত হেদায়েত। এটাই একমাত্র সঠিক ও নির্ভুল পথ।
কুরআন ও সুন্নাহ এর দুটি একটা অপরটা থেকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ নাই। কেননা কুরআনের প্রায়োগিক ব্যাখ্যাই মূলত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস বা সুন্নাহ। এ দুটির কোনও একটি বাদ দিলে তা নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্টতার কারণ।
তবে এ দুটি জিনিসকে ঠিক সেভাবেই বুঝতে হবে এবং মান্য করতে হবে যেভাবে সাহাবি ও তাবেয়িগণ বুঝেছিলেন, আমল করেছিলেন এবং ব্যাখ্যা প্রদান করেছিলেন। নিজের খেয়ালখুশি অনুযায়ী ব্যাখ্যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
✪ ১. পবিত্র কুরআনে বারবার আল্লাহ তাআলা তাঁর রসুলের নিঃশর্ত অনুসরণ ও আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ মেনে চলা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকাই ঈমানের দাবি।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
“রসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” [সুরা হাশর: ৭]
✪ ২. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিচার ও সিদ্ধান্তকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করা ব্যতীত কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“অতএব, তোমার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদ পূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজেদের মনে কোনও সংকীর্ণতা অনুভব করবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।” [সুরা নিসা: ৬৫]
✪ ৩. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরিয়তের বিষয়ে নিজের খেয়াল-খুশিমতো কোনও কথা বলতেন না; বরং তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজ ওহির নির্দেশনায় পরিচালিত হতো।
আল্লাহ তাআলা বলেন
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ ۞ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
“তিনি (নবী) নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।” [সুরা নাজম: ৩-৪]
✪ ৪. আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” [সুরা আহযাব: ২১]
✪ ৫. কুরআনে সাহাবিদের অনুসরণের নির্দেশ:
আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরাম এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
“আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।” [সুরা তাওবাহ: ১০০]
সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে ঈমান এনেছিলেন, আল্লাহ তাআলা পরবর্তী প্রজন্মের ঈমানকেও ঠিক সেই মানের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا
“অতঃপর তোমরা (সাহাবিরা) যেভাবে ঈমান এনেছ, তারা যদি ঠিক সেভাবেই ঈমান আনে, তবে অবশ্যই তারা সুপথ পাবে।” [সুরা বাকারা: ১৩৭]
সুতরাং কেউ যদি বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত কোনও হাদিস বা সুন্নাহকে অস্বীকার করে (তা যে কোনও যুক্তিতেই হোক না কেন), তবে সে প্রকারান্তরে পবিত্র কুরআনের নির্দেশকেই অস্বীকার করল। কারণ কুরআনের নির্দেশই হল সুন্নাহর অনুসরণ করা। আল্লাহ আমাদেরকে সালাফে-সালেহিন তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের নিষ্ঠাবান অনুসারী তাবেয়িদের নীতি ও আদর্শের আলোকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের তওফিক দান করুন এবং হাদিস অস্বীকারকারী গোষ্ঠীর অপ তৎপরতা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment