প্রশ্ন: কুরআন খতম করার দীর্ঘতম সময় কত?
উত্তর: এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে এক্ষেত্রে সর্বোত্তম পদ্ধতি সেটিই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য বর্ণনা করেছেন। যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে কুরআন পাঠের নিয়ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিদিন কুরআন খতম করেন এবং সর্বদা রোজা রাখেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে রোজা রাখতে ও ইফতার করতে (মাঝে মাঝে রোজা ছেড়ে দিতে), ঘুমাতে ও রাতে ইবাদতে দাঁড়াতে এবং প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করতে নির্দেশ দিলেন।
তিনি বললেন:
إِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأَعْطِ كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ
“নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে এবং তোমার ওপর তোমার মেহমানের হক রয়েছে। অতএব, প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য হক দিয়ে দাও।” [সহিহ বুখারি: ১৯৭৫]
এরপর আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আরও বাড়ানোর অনুমতি চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে এক সপ্তাহের সীমায় এসে শেষ করলেন।
তিনি বললেন, তুমি প্রতি সপ্তাহে অর্থাৎ সাত দিনে একবার কুরআন পাঠ করো। অতএব কুরআন পাঠের সর্বোত্তম সময় হলো সাত দিন। তবে কেউ যদি এর চেয়ে বেশি সময় নেয়, যেমন—এক মাস, বিশ দিন বা তার বেশি, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর কুরআন খতমের সর্বনিম্ন সময় হলো তিন দিন। যেমনটি হাদিসে এসেছে:
لاَ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَهُ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلاَثٍ
“যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করে, সে তা বুঝতে পারে না।” [সহিহ আবু দাউদ: ১৩৯০]
মানুষ যদি সাত দিনে খতম করতে অভ্যস্ত হয় তবে তা উত্তম। যেমনটি অনেক সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) করতেন। তারা কুরআনকে সাতটি হিজবে (অংশে) বিভক্ত করে নিতেন এবং প্রতি সপ্তাহে একবার খতম করতেন। সাহাবিদের একটি দল এভাবেই করতেন। যেমন: প্রথম দিন—সূরা আল-বাকারা, আল-ইমরান ও আন নিসা। দ্বিতীয় দিন—সূরা আল-মায়েদাহ, আল-আনআম, আল-আরাফ, আল আনফাল ও আত তাওবাহ। এভাবে সাত দিনে তারা ৩, ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩টি সূরা করে এবং সপ্তম দিনে ‘হিযবুল মুফাসসাল’ (সূরা ক্বাফ থেকে শেষ পর্যন্ত) পড়তেন। এটি সাহাবিদের একটি বড় দলের আমল এবং এটি অত্যন্ত উত্তম আমল। এতে সহজসাধ্যতা রয়েছে এবং কোনো কষ্ট নেই। আর যদি কেউ এক মাসে, বিশ দিনে বা তার বেশি সময়ে খতম করে তবে তাতেও প্রশস্ততা রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।”
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
ফতওয়া প্রদানে: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. (সাবেক সৌদি আরবের প্রধান মুফতি)।
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment