Sunday, February 22, 2026

তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা

 ভূমিকা: আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর—যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” [সূরা নিসা: ৫৯]
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
“আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা সে সময় আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহি বা ভ্রষ্টতা।” [আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ]। কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসের অনুরূপ অর্থে আরও অনেক আয়াত ও সহিহ হাদিস রয়েছে, যার তাৎপর্য হচ্ছে মুসলমানদের উপর আবশ্যক হচ্ছে তারা ফরজ, সুন্নাত ও নফলসহ সকল প্রকার এবাদত আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের নির্দেশিত তরিকা অনুযায়ী সম্পাদন করবে এবং তাতে সকল প্রকার বিদআত থেকে বিরত থাকবে। রমজান মাসে তারাবির নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত এবাদত। তাই আমাদেরকে এক্ষেত্রেও সুন্নাতের অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে তারাবির নামাজের রাকাতের ক্ষেত্রে। আসুন আমরা সহিহ হাদিসের আলোকে তারাবির নামাজের সঠিক রাকাত সংখ্যা জেনে নেই।

◈ তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা:
রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবির নামাজের সঠিক রাকাত সংখ্যা হচ্ছে বিতরসহ ১১। রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা রাতের নামাজ বা তারাবির নামাজ এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রা.) থেকে ১১ রাকাত পড়ার কথাই বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁকে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাতের নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন:
مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا
“রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামাজ এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি প্রথমে (দু রাকাত দু রাকাত করে) চার রাকাত পড়তেন। তুমি তার দীর্ঘ কিয়াম ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। তিনি পুনরায় চার রাকাত (দুই রাকাত দুই রাকাত করে) পড়তেন। তুমি তার দীর্ঘ কিয়াম ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি ৩ রাকাত বিতর পড়তেন।” [বুখারি ও মুসলিম]। সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা.) বলেন:
أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً
“উমর বিন খাত্তাব (রা.) উবাই বিন কাব এবং তামীম দারীকে এগার রাকাত তারাবির নামাজ পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।” [মুআত্তা ইমাম মালিক]
এটিই আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের দাবী। এটিই ছিল অধিকাংশ সাহাবি, তাবেঈ এবং ইমামদের আমল। তারা এগার রাকাতের বেশি তারাবির নামাজ পড়তেন না।

◆ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ:) তারাবির নামাজের রাকাতের ব্যাপারে সকল মত এক স্থানে একত্রিত করেছেন:
১) তিন রাকাত বিতরসহ ১১ রাকাত।
২) তিন রাকাত বিতরসহ ১৩ রাকাত।
৩) তিন রাকাত বিতরসহ ২১ রাকাত।
৪) তিন রাকাত বিতরসহ ২৩ রাকাত।
৫) তিন রাকাত বিতরসহ ৩৯ রাকাত।
৬) তিন রাকাত বিতরসহ ৪১ রাকাত।
৭) তিন রাকাত বিতরসহ ৪৯ রাকাত।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি উপরের সবগুলো মত উল্লেখ করার পর বলেন: “তবে তারাবির নামাজের রাকাতের ব্যাপারে আয়েশা (রা.) এর হাদিস ব্যতীত অন্য কোন হাদিস সহিহ সনদে প্রমাণিত হয়নি। আর তা হচ্ছে তাঁর কথা: রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামাজ এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি আরও বলেন:
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ার হাদিসের সনদ দুর্বল এবং বুখারি ও মুসলিম শরিফে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসের বিরোধী। আর বাকি বর্ণনাগুলো সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী যুগের আলেমগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা যদি কিরাত দীর্ঘ করতেন তাহলে রাকাত সংখ্যা কম করতেন। আর সংক্ষিপ্ত কিরাত পাঠ করলে রাকাত সংখ্যা বাড়াতেন।

সার সংক্ষেপ:
সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও উত্তম হচ্ছে, কিরাত দীর্ঘ করে বিতরসহ ১১ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া। তবে কতিপয় আলেম বলেছেন, তারাবির নামাজ ১১ রাকাতের চেয়ে বেশি পড়তে চাইলে কোন অসুবিধা নেই। লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানি।

❑ শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী (রাহ.) এর সংযোজন:
মূলতঃ ১১ রাকাত বা ২০ রাকাত বলে কথা নয়। যে কোন সংখ্যায় মানুষ রাতের নফল নামাজ পড়তে পারে। যেটা রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাওলি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু যদি নির্ধারণ করা হয় যে ৮ রাকাত পড়া সুন্নত। তাহলে দলিল দরকার। এক্ষেত্রে আমরা রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফে’লী হাদিস পাই, যাতে প্রমাণ হয় তিনি ৮ রাকাতই পড়েছেন। সুতরাং ৮ রাকাতই সুন্নাত। কিন্তু বেশি পড়তে চাইলে তার অনুমতি আছে। তাকে বাধা দেয়া যাবে না। এই কারণেই মক্কা-মদিনায় ২০ রাকাত পড়া হয় এবং শেষ দশকে ৩৩ রাকাত পড়া হয়। (অবশ্য বর্তমানে মক্কা-মদিনায় রমজানের ১ম রাতেই তিন রাকাত বিতর সহ ১৩ রাকাত করে পড়া হয়-সম্পাদক)। কিন্তু কথা হচ্ছে যদি বলা হয় ২০ রাকাতই সুন্নাত- ৮ রাকাত নয়, তাহলে ২০ রাকাত সুন্নাত বলার পক্ষে সহিহ দলিল দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো নয়ই, সাহাবায়ে কেরাম থেকেও কোন সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ওমার (রা.) এর ব্যাপারে যে বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা হয় তা জঈফ। দলিলের অনুপযুক্ত। বরং ওমর (রা.) থেকে মুআত্তা মালেকে ৮ রাকাতের পক্ষেই সহিহ বর্ণনা পাওয়া যায়।
ওমার (রা.) থেকে তারাবির বিষয়ে ৩ রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়:
◈ ১) ৩৬ রাকাত। কিন্তু বর্ণনাটি জঈফ। এটি রয়েছে কিয়ামুল্লায়ল মারওয়াযীতে।
◈ ২) ২৩ রাকাত। এ বর্ণনাটিও জঈফ। এটি মুআত্তায় আছে। কারণ যার বরাতে বর্ণনাটি এসেছে তিনি ওমার (রা.) এর যুগে জন্ম গ্রহণই করেননি।
◈ ৩) ১১ রাকাত। এটি মুআত্তা মালেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি সহিহ বর্ণনা। যেমন আলবানি সাহেব তা সহিহ বলেছেন।
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মারফূ সূত্রে ২০ রাকাতের পক্ষে যে হাদিস উল্লেখ করা হয় তা খুবই দুর্বল বা জাল। বর্ণনাটি বাইহাকি, তবারানি ও ইবনে আবি শায়বায় উল্লেখ হয়েছে। সে সম্পর্কে বাইহাকি নিজেই বলেন উহা জঈফ। তাছাড়া হানাফি মাজহাবের আলেমগণও হাদিসটি জঈফ হওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। যেমন: আল্লামা যাইলাঈ নসবুর রায়া গ্রন্থে, মোল্লা আলী কারী, বদরুদ্দিন আইনি, আনোয়ার শাহ কাশমিরি (রহ:) প্রমূখগণ উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দিন আইনি বলেন, তবারানি ও ইবনে আবি শায়বা বর্ণিত হাদিসটি জঈফ হওয়ার সাথে সাথে বুখারি ও মুসলিমের বর্ণিত আয়েশা (রা.) এর হাদিসের বিরোধী হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। [উমদাতুল কারী-বদরুদ্দীন আইনী]।আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানি হাদিসটিকে জাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

❑ একটি সংশয় ও তার অবসান: তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?

প্রশ্ন: সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা কাউন্সিলের সাবেক প্রধান মুফতী সম্মানিত শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (র:)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারাবিহ, কিয়ামুল লাইল এবং তাহাজ্জুদের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সম্মানিত শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (র:) বলেন:
الصلاة في الليل تسمى تهجداً، وتسمى قيام الليل، كما قال الله سبحانه: {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ} الآية، وقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ * قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا}، وقال سبحانه في وصف عباده الأبرار: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجعُونَ}. أما التراويح فهي تطلق عند العلماء على قيام الليل في رمضان أول الليل، مع التخفيف وعدم الإطالة، ويجوز أن تسمى تهجداً، وأن تسمى قياماً لليل، ولا مشاحة في ذلك.
“রাতের নামাজকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। একে কিয়ামও বলা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ
‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়, ওটা তোমার জন্য নফল।’ [সূরা বনী ইসরাঈল: ৭৯]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا
‘ওহে চাদরে আবৃত (ব্যক্তি), রাতে নামাজে দাড়াও, রাতের কিছু অংশ বাদে।’ [সূরা মুজাম্মেল: ১-২]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجعُونَ
‘তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন, তা তারা ভোগ করবে, কারণ তারা পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) ছিল সৎ কর্মশীল। তারা রাত্রিকালে খুব কমই শয়ন করত।’ [সূরা যারিয়াত: ১৬-১৭]
আর মানুষের উপর সহজ করে এবং বেশি দীর্ঘ না করে রমজান মাসে রাতের প্রথম ভাগে কিয়ামুল লাইল করাকে আলেমদের পরিভাষায় তারাবিহ হিসেবে নামকরণ করা হয়। একে তাহাজ্জুদ এবং কিয়ামুল লাইল হিসেবে নামকরণ করাও জায়েজ আছে। এতে কোন অসুবিধা নেই। আল্লাহই তাওফিক দাতা।”

❑ উপরাক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ:
✪ রাকাত সংখ্যা: রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানে বা রমজানের বাইরে সর্বদা বিতরসহ ১১ রাকাত নামাজ পড়তেন, যা সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
✪ উমর (রা.)-এর আমল: উমর (রা.) উবাই বিন কাব (রা.)-কে যখন জামাতে নামাজ পড়ানোর নির্দেশ দেন, তখন রাকাত সংখ্যা ছিল ১১ রাকাত (মুআত্তা ইমাম মালিক)।
✪ রাকাতের ভিন্নতা: হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর মতে, ২০ রাকাত বা তার বেশি পড়ার যেসব বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো সনদের দিক থেকে দুর্বল অথবা সহিহ হাদিসের পরিপন্থী। মূলত সাহাবি ও তাবেইগণ কিরাত দীর্ঘ করলে রাকাত কম পড়তেন এবং কিরাত সংক্ষিপ্ত করলে রাকাত বাড়িয়ে নিতেন।
✪ তারাবিহর জন্য সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও উত্তম পদ্ধতি হলো, কিরাত দীর্ঘ করে ১১ রাকাত পড়া। তবে কেউ চাইলে এর চেয়ে বেশিও পড়তে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই।
✪ নামকরণ: রাতের নামাজকে তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইল (রাতের নফল সালাত) বলা হয়। রমজান মাসে রাতের প্রথম ভাগে কিছুটা সহজভাবে এই নামাজ পড়া হয় বলে একে ‘তারাবিহ’ বলা হয়। মূলত তাহাজ্জুদ ও তারাবিহ একই নামাজ।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

No comments:

Post a Comment

Translate