October 26, 2026

কাবা ঘরে ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ইসাফ ও নায়েলার ঘটনাটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য

 প্রশ্ন: ইসাফ ও নায়েলার ঘটনাটির বর্ণনা কি সহিহ বা নির্ভরযোগ্য?

উত্তর: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। একটি ঘটনা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসাফ ও নায়েলা (মূর্তিদ্বয়) মূলত দুজন মানুষ ছিল। কাবার ভেতরে অনৈতিক ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ায় আল্লাহ তাদের পাথরে রূপান্তরিত করে দেন। ইতিহাস ও সিরাতবিশারদগণ এই ঘটনাটি বর্ণনা করার সময় এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা দিয়ে এর সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তারা সাধারণত “বর্ণিত আছে” বা “বলা হয়ে থাকে” এ ধরনের অনিশ্চয়তাসূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায় ইমাম ইবনে কাসির (র.)-এর ‘আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে:
“পরবর্তীকালে জুরহুম গোত্র মক্কায় সীমালঙ্ঘন ও ব্যাপক অন্যায়-অনাচারে লিপ্ত হয় এবং মসজিদে হারামের পবিত্রতা নষ্ট করে। এমনও বলা হয় যে, এই গোত্রের ‘ইসাফ ইবনে বাগী’ নামের এক পুরুষ এবং ‘নায়েলা বিনতে ওয়াইল’ নামের এক নারী কাবার ভেতরে একান্তে মিলিত হয় এবং পাপে লিপ্ত হয়। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদের দুজনকেই পাথরে পরিণত করেন। মানুষ যেন এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য পাথর দুটি কাবার কাছে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর, খুজাআ গোত্রের আমলে লোকজন আল্লাহকে ছেড়ে এই পাথর দুটিকেই পূজা করতে শুরু করে।…”
◈ ইমাম ইবনে ইসহাক (র.) উল্লেখ করেছেন:
তারা জমজমের স্থানে ইসাফ ও নায়েলার মূর্তি দুটি স্থাপন করেছিল এবং সেগুলোর সামনে বলিদানের পশু জবাই করত। এরপর তিনি বর্ণনা করেন যে, এরা ছিল এক পুরুষ ও নারী, যারা কাবার ভেতর অনৈতিক কাজ করায় পাথরে পরিণত হয়েছিল।
◈ এরপর ইবনে ইসহাক আরও বলেন:
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজম (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি আমরাহ (র.) সূত্রে বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছি—
“আমরা সবসময় শুনে আসছি যে ইসাফ ও নায়েলা ছিল জুরহুম গোত্রের এক পুরুষ ও নারী। তারা কাবার ভেতরে অপকর্ম করেছিল, যার শাস্তিস্বরূপ মহান আল্লাহ তাদের পাথরে রূপান্তরিত করে দেন।” [ইবনে হিসাম]
❑ ঘটনার পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ:
হাদিসটিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আম্মাজান আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই কথাটি সরাসরি মহান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেননি। বরং তিনি বলেছেন, “আমরা সবসময় শুনে আসছি”। এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি তখনকার যুগে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত একটি লোককথা ছিল, যা জাহেলি আমল থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আল্লাহু আলাম-আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। [সূত্র: ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নম্বর: ১৫৬৩৪৩ (১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২ হিজরী / ১৪ মে ২০১১)]
উল্লেখ্য যে, মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবা প্রাঙ্গণ ও সাফা-মারওয়ায় বিদ্যমান ‘ইসাফ’ ও ‘নায়েলা’ সহ সমস্ত পৌত্তলিক মূর্তি ভেঙে সম্পূর্ণরূপে অপসারণের নির্দেশ দেন। [ইমাম আল-আজরাকি তাঁর ‘আখবারু মাক্কাহ’ (পৃ. ৫০)]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

সৌদি আরবকে কেন তাওহিদের দেশ বলা হয়

 পৃথিবীর মানচিত্রে সৌদি আরব কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড নয়; এটি ইসলামের উৎসভূমি, মক্কা ও মদিনার দেশ। অষ্টাদশ শতকে সৌদি শাসকগোষ্ঠী এবং সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহ.)-এর তাওহিদভিত্তিক দাওয়াতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ভূখণ্ডে শিরক ও বিদআতের প্রকাশ্য চর্চার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ, এর ফলে এখানে তাওহিদ-চর্চার একটি স্বতন্ত্র পরিবেশ গড়ে উঠেছে।

❑ নিচে এই ভূখণ্ডের তাওহিদভিত্তিক কতিপয় বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সৌদি আরবের জাতীয় পতাকার মাঝখানে কালিমাতুত তাওহিদ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” লেখা রয়েছে। এটি তাওহিদভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রকাশ্য ঘোষণা।
২. সৌদি আরবে অমুসলিমদের প্রকাশ্য উপাসনালয় নেই। প্রকাশ্যে মূর্তিপূজা, ক্রুশপূজা বা অন্য ধর্মের গণ-উপাসনাও অনুমোদিত নয়।
৩. পিরপূজা, মাজার ও কবরপূজা, গাছ, মাছ ও খুঁটিপূজা বা এ জাতীয় কুসংস্কারের প্রকাশ্য চর্চা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
৪. কবর পাকা করা, কবরের ওপর ভবন নির্মাণ, তাতে চুনকাম করা, কবর সুসজ্জিত করা ও আলোকসজ্জা করা, কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণ এবং কবরকে কেন্দ্র করে সব ধরনের শিরকি কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
৫. একইভাবে লালসালুর ভণ্ডামি, জটধারী বাউলের আড্ডা ও গাঁজার আসর কিংবা ন্যাংটা বাবা, খাজা বাবা, পাগলা বাবা, কালুশাহ ও গোবিন্দ বাবার মতো তথাকথিত পীর-ফকিরদের আস্তানায় ওরশের নামে চলা শিরক, কুফর ও শয়তানি উৎসবের কোনো অস্তিত্ব তাওহিদের এই পবিত্র ভূমিতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
৬. তাবিজ-কবচের ব্যবসা, গণকগিরি, রাস্তাঘাটে টিয়াপাখির মাধ্যমে ভাগ্য গণনা, কথিত সাধুবাবাদের অলৌকিক ক্ষমতার দাবি এবং হাত বা চেহারা দেখে অতীত-ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার মতো কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয়।
৭. জাদুবিদ্যা, তন্ত্রমন্ত্র, তাবিজ-তুমার ইত্যাদি সংক্রান্ত বইপত্রের বেচাকেনা রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোরভাবে দমন করা হয়। এটি তাওহিদ সুরক্ষার একটি শক্ত প্রাচীর।
৮. রাষ্ট্র তার সংবিধান ও শাসনব্যবস্থায় কুরআন ও সুন্নাহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে (আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার) রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি মৌলিক স্তম্ভ করেছে। ১৯৯২ সালের মৌলিক শাসনব্যবস্থা আইনে কুরআন ও সুন্নাহকে দেশের সংবিধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৯. বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তি শরিয়ত। অর্থাৎ বিচারব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে আলেম-উলামার হাতে ন্যস্ত। এটি ইসলামি অনুশাসন ও তাওহিদ ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
১০. বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ইসলামি শিক্ষা এবং তাওহিদ ও আকিদার পাঠ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়েও ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক বাধ্যতামূলক বিভিন্ন কোর্স আছে। ফলে নতুন প্রজন্ম শৈশব থেকেই তাওহিদ ও বিশুদ্ধ আকিদার শিক্ষা পায়।
১১. মসজিদগুলো ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও খতিব নিয়োগে এবং খুতবার বিষয়বস্তুতে তাওহিদ ও সুন্নাহর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদআতি কার্যক্রম, মনগড়া আমল ও বাড়াবাড়িমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্কতামূলক খুতবা, দরস ইত্যাদি অগ্রাধিকার পায়। তাই কুসংস্কার ও শরিয়তবিরোধী রসম-রেওয়াজ মসজিদে স্থান পায় না।
এর মানে এই নয় যে তাওহিদের এই দেশে কোনো গুনাহের কাজ হয় না। নিশ্চয়ই ছোট-বড় পাপ সেখানেও ঘটে। তবে পার্থক্য হলো, আলেম-উলামা বসে নেই। তাঁরা এসব পাপের পথ বন্ধ করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শাসকের দরবারে গিয়ে, বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং আলেম ও শাসকদের যৌথ বৈঠকে স্পষ্ট ও জোরালো নসিহত পেশ করার মাধ্যমে তাঁরা সমাজকে পাপমুক্ত রাখতে নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন। আলহামদুলিল্লাহ।মহান আল্লাহ এ দেশকে তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং সব ধরণের ষড়যন্ত্র ও ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
– আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি –

সন্তান যদি মৃত বাবার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী-পরিবারের জন্য খরচ করে তাহলে কি তিনি কবরে সওয়াব পাবেন

 প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি মৃত বাবার জন্য সাধারণ সদকা করার পাশাপাশি তার স্ত্রী-পরিবারের পেছনে মাসে ১০,০০০ টাকা খরচ করেন। এই খরচকে বাবার পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে নিয়ত করা কি জায়েজ? বাবা কি এর সওয়াব পাবেন?

উত্তর: মৃত মা-বাবা কিংবা অন্য যেকোনো মুসলিম ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা শরিয়তসম্মত। এর মাধ্যমে কবরে অবস্থানরত ব্যক্তি উপকৃত হন। এ বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “আমার বাবা মারা গেছেন। তিনি সম্পদ রেখে গেছেন, কিন্তু কোনো অসিয়ত করেননি। আমি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করলে কি তা তাঁর গুনাহের কাফফারা হবে?” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ।”
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالًا وَلَمْ يُوصِ، فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ».
[সহিহ মুসলিম হাদিস নং ১৬৩০]
আরেকটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, “আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। আমার ধারণা, কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি সদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করলে কি তিনি সওয়াব পাবেন?”
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ।”
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا، وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ».
[সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৮৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০০৪]
অন্যদিকে, স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের জন্য খরচ করা সওয়াবের আশায় করলে তা সদকা হিসেবে গণ্য হওয়ার বিষয়টিও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কেউ সওয়াবের আশায় পরিবারের পেছনে খরচ করলে তা তার জন্য সদকা হয়।”
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَنْفَقَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ».
[সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০০২]
▪️মৃতের পক্ষ থেকে কোন সদকার সওয়াব পৌঁছে?
মৃত মা-বাবার পক্ষ থেকে সন্তানের নফল দান-সদকার সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। তবে ফরজ দানের সওয়াব পৌঁছে কি না (যেমন: ফরজ জাকাত, ফিতরা, সম্পদের মানত ইত্যাদি)।
অনেক আলেমের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাধারণ নফল দান-সদকার সওয়াব পৌঁছে; কিন্তু ফরজ বিষয়ের সওয়াব পৌঁছে না। কারণ জাকাত এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় খরচ প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের পক্ষ থেকেই আদায় করা আবশ্যক। আবার অন্য কোনো কোনো আলেমের মতে, ফরজ ও নফল উভয় ধরনের দানই মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে করা যেতে পারে।
▪️পরিবারের খরচ মৃত বাবার নিয়তে করার বিধান:
এই মতভেদের ভিত্তিতে আমরা বলব, একজন ব্যক্তির ওপর তার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও পরিবারের প্রয়োজনে অর্থ খরচ করা ফরজ দায়িত্ব। সুতরাং পারিবারিক এই খরচকে মৃত বাবার পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে নিয়ত করা সঠিক নয়। পরিবারের খরচ নিজের ফরজ দায়িত্ব হিসেবেই করা উচিত। আর মৃত বাবার জন্য আলাদাভাবে নফল দান-সদকা করা উচিত। তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার বাবা বা মা সেই সদকার সওয়াবের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

ধনীর সম্পদ আত্মসাৎ কি বৈধ

 ধনীর সম্পদ আত্মসাৎ কি বৈধ? (তথাকথিত সাম্যবাদী ও মার্কসবাদীদের প্রতিবাদ)

প্রশ্ন: কুরআন ও হাদিসে কি এমন কোনো কথা আছে যে, ধনীদের সম্পদ আত্মসাৎ করা বা ধনী ব্যক্তিকে তার হক থেকে বঞ্চিত করা দোষনীয় নয়?
উত্তর: না, এমন কোনো কথা কুরআন বা হাদিসে নেই। বরং ইসলামে ধনী হোক বা দরিদ্র, যে কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা এবং কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ হারাম ও কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
❑ কারা এ ধরণের কথা বলে?
মূলতঃ উগ্র সাম্যবাদী ও চরমপন্থী মার্কসবাদীদের একটি অংশ মনে করে, ধনীদের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কার্ল মার্কসের ’উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব’ (Theory of Surplus Value)-কে তারা যুক্তি হিসেবে সামনে আনে। তাদের দাবি, ধনীদের বিপুল সম্পত্তি মূলত শ্রমিকদের রক্তঝরা পরিশ্রমের ফসল, যা তাদের ঠকিয়ে ও শোষণ করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের মতে, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধনীদের হাতে থাকায় তারা সমাজকে বৈষম্যের জালে আটকে রাখে। এই যুক্তিতে চরমপন্থীরা মনে করে, যেভাবেই হোক ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ কেড়ে নেওয়া অপরাধ নয়; বরং শোষিত মানুষের হাতছাড়া হওয়া হক ফিরিয়ে আনার এক বিপ্লব! কিন্তু বাস্তব দুনিয়া এই অরাজকতাকে প্রশ্রয় দেয় না। আধুনিক আইন, মানবাধিকার সংস্থা এবং ইসলামসহ পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যের সম্পদ দখল সমর্থন করে না। কারও বৈধ উপার্জনে থাবা বসানো বা কাউকে জোর করে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা মারাত্মক অন্যায় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ। গরিবের জন্য ধনীদের সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার বিধান অবশ্যই আছে, যেমন জাকাত কিংবা সরকারি কর। কিন্তু এর বাইরে গায়ের জোরে কারও অর্জিত সম্পত্তিতে হাত দেওয়া স্পষ্টতই অবৈধ, অনৈতিক ও অপরাধ।
❑ ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি:
কুরআন-হাদিসের আলোকে ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে জবর-দখল করা বা কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা হারাম, কবিরা গুনাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নিম্নে এ বিষয়ে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
আল্লাহ তাআলা অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বলেন,
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
“আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং জেনেশুনে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে (ঘুষ হিসেবে বা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে) নিয়ে যেয়ো না।” [সূরা বাকারা: ১৮৮]
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজের ভাষণে বলেন:
إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا
“নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্মান পরস্পরের জন্য তেমনই পবিত্র, যেমন পবিত্র আজকের এই দিন, এই মাস ও তোমাদের এই শহর।” [সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]
❑ ইসলামি আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র সবাই সমান:
এক সম্ভ্রান্ত বংশের নারীর চুরির শাস্তি মওকুফের জন্য উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) সুপারিশ করলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হয়ে বলেন:
إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا
“তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিত, আর কোনো দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তার ওপর শাস্তি কার্যকর করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।” [সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫; সহিহ মুসলিম]
❑ অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগের পরিণতি:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে। কিয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।” [সহিহ বুখারি: ৩১১৮]
মোটকথা, কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা একবারে স্পষ্ট যে, সম্পদের মালিক ধনী হোন কিংবা দরিদ্র তাঁর স্পষ্ট অনুমতি বা শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া তাঁর সম্পদ হস্তগত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ঠিক একইভাবে, কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও চরম জুলুম। আর ইসলামে জুলুম শুধু অপরাধই নয়, বরং এটি দুনিয়ায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং আখিরাতে ধ্বংসের কারণ। তথাকথিত সাম্যবাদ ও মার্কসবাদের মতো বস্তাপচা মতবাদগুলো মূলত ইসলাম, আধুনিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং যুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারাকে বর্জন ও প্রতিবাদ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

নারীদের অলংকার ও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিধান

 প্রশ্ন: আমরা জানি, মেয়েরা বিভিন্ন প্রকার অলংকার পরে বাইরে চলাচল করে। এ ক্ষেত্রে অলংকার বিক্রি করা কি হারাম?

উত্তর: কোনো নারী যদি প্রসাধনসামগ্রী বা অলংকার কিনতে আসেন তবে সাধারণ অবস্থায় বিক্রেতার জন্য তা বিক্রি করা বৈধ। ক্রেতা এটি ঘরে নাকি বাইরে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে বিক্রেতার ঘাঁটাঘাঁটি বা সন্দেহ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, নারী ক্রেতা এসব অলংকার পরে বেপর্দা অবস্থায় বাইরে ঘোরাফেরা করবে কিংবা রাস্তাঘাটে তা প্রদর্শন করে বেড়াবে তবে তার কাছে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এটি তাকে হারাম ও গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার শামিল। অথচ আল্লাহ তাআলা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন [সূরা মায়েদা: ২]।
তবে কোনো মুসলিম নারীর ব্যাপারে যদি এমন কিছু জানা না থাকে অথবা আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, তিনি এগুলো হারাম ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না তাহলে তার কাছে বিক্রি করতে কোনো বাধা নেই। কেননা হতে পারে তিনি এগুলো কেবল স্বামীর জন্য কিংবা নারীদের মজলিসে ব্যবহার করবেন। আর একজন মুসলিমের প্রতি সুধারণা পোষণ করাই ইসলামের শিক্ষা।
❑ সৌদি আরবের ফতওয়া ও গবেষণা বিষয় স্থায়ী কমিটিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
নারীদের অলংকার ও প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা করার এবং এমন নারীর কাছে তা বিক্রি করার বিধান কী, যার সম্পর্কে বিক্রেতা জানেন যে, সে এসব পরে রাস্তাঘাটে পরপুরুষের সামনে বেপর্দা অবস্থায় প্রদর্শনী করে বেড়াবে যেমনটি তার বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝা যায় এবং যেমনটি বর্তমানে কিছু অঞ্চলে ব্যাপক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে?
উত্তরে তাঁরা বলেন:
«لَا يَجُوزُ بَيْعُهَا إِذَا عَلِمَ التَّاجِرُ أَنَّ مَنْ يَشْتَرِيهَا سَيَسْتَعْمِلُهَا فِيمَا حَرَّمَ اللهُ؛ لِمَا فِي ذَلِكَ مِنَ التَّعَاوُنِ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ، أَمَّا إِذَا عَلِمَ أَنَّ الْمُشْتَرِيَةَ سَتَتَزَيَّنُ بِهِ لِزَوْجِهَا أَوْ لَمْ يَعْلَمْ شَيْئًا فَيَجُوزُ لَهُ الِاتِّجَارُ فِيهَا» انتهى
“ব্যবসায়ী যদি জানেন যে ক্রেতা এগুলো আল্লাহর হারামকৃত কাজে ব্যবহার করবে তবে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এতে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা রয়েছে। তবে যদি তিনি জানেন যে ক্রেতা এগুলো তার স্বামীর জন্য পরিধান করবে অথবা এ বিষয়ে তিনি কিছুই না জানেন তাহলে এর ব্যবসা করা জায়েজ।” (সমাপ্ত) [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমা লিল-বুহূসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা: ১৩/৬৭]
❑ স্থায়ী কমিটিকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
“নারীদের বিশেষ প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির বিধান কী? অথচ এর ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই বেপর্দা, পাপাচারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য নারী, যারা স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষদের জন্য সাজসজ্জায় এসব ব্যবহার করে থাকে নাউজুবিল্লাহ!”
উত্তরে তাঁরা বলেন:
«إِذَا كَانَ الْأَمْرُ كَمَا ذُكِرَ فَلَا يَجُوزُ لَهُ الْبَيْعُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَانَ يَعْلَمُ حَالَهُنَّ؛ لِأَنَّهُ مِنَ التَّعَاوُنِ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ، وَقَدْ نَهَى اللهُ تَعَالَى عَنْهُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾ [المائدة: 2]» انتهى.
“পরিস্থিতি যদি আপনার বর্ণনা অনুযায়ী হয় এবং আপনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন, তবে তাদের কাছে বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ এটি পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা তা নিষেধ করে ইরশাদ করেছেন: ‘আর তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না’ [সূরা মায়েদা: ২]।” (সমাপ্ত) [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমা লিল-বুহূসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা: ১৩/১০৫]
❑ অলংকার ও কসমেটিকস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কতিপয় শর্তাবলী:
অলংকার ও কসমেটিকস ব্যবসার ক্ষেত্রে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:
• কসমেটিকস বা প্রসাধনসামগ্রী তৈরিতে যেন কোনো ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান বা ইসলামে নিষিদ্ধ কোনো জিনিস (যেমন: শুকরের চর্বি বা অ্যালকোহল যা অপবিত্র উৎস থেকে প্রাপ্ত) না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
• নকল বা নিম্নমানের প্রসাধনসামগ্রী আসল বলে বিক্রি করা যাবে না। অলংকারের ক্ষেত্রে সোনার ক্যারেট বা ওজনে কোনো প্রকার কারচুপি করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা তা ধোঁকা ও প্রতারণার অন্তর্ভূক্ত। ইসলামে ধোঁকাবাজি কবিরা গুনাহ।
• মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ক্রেতাকে বিশ্বাযোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। সুতরাং পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে অতিরিক্ত অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা কথা বলে ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করা যাবে না।
• ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়র জন্যই পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শরিয়তের বিধিবিধান মেনে চলার তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

মানুষকে গালি দেওয়ার ইসলামী বিধান ও পরকালীন পরিণতি

 মানুষকে গালি দেওয়া: ইসলামের বিধান ও পরকালীন পরিণতি

প্রশ্ন: মানুষকে গালি দেওয়ার বিধান কী? ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসতর্কতাবশত কাউকে গালি দিলে পরকালে তার পরিণতি ও শাস্তি কী?
উত্তর: ইসলাম মানুষকে ভদ্রতা, শালীনতা, উত্তম চরিত্র এবং মুখ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। তাই তো ইসলামে গালাগালি করা ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ হারাম। রাগের বশে হোক কিংবা ঠাট্টাচ্ছলে কোনো অবস্থাতেই এটি বৈধ নয়। এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি পাপ এবং ক্ষতিকর সামাজিক ব্যাধি। গালির মাধ্যমে অন্যের মান সম্মান ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষ মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যা বান্দার হক নষ্ট করার শামিল। আর আলেমদের প্রসিদ্ধ অভিমত হলো, বান্দার হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে মাফ না চেয়ে নিলে কেবল আল্লাহর কাছে তাওবা করলেই তা মাফ হয় না। নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
⚖️ ইসলামের দৃষ্টিতে গালি দেওয়ার বিধান:
প্রকৃত মুমিনের চরিত্রে গালাগালি, অশ্লীলতা ও কটুভাষার কোনো স্থান নেই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيءِ»
“মুমিন ব্যক্তি কখনো খোঁটাখুঁটি বা গালমন্দকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীল ও কটুভাষী হয় না।” [সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৭]
💥 গালি দেওয়ার পরিণতি:
১. গালি দেওয়া ফাসেকের পরিচয়:
মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার। গালিদাতা এর মাধ্যমে ফাসেক বা পাপিষ্ঠদের কাতারে শামিল হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ»
“মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার আর তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪]
২. গালিদাতাকে আখিরাতে বিচারের কাঠগড়ায় গালির বদলা নেওয়া হবে:
গালির সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো, কিয়ামতের দিন গালিদাতার নেক আমল দুনিয়াতে সে যাকে গালি দিয়েছিল সেই মজলুমকে দিয়ে দেওয়া হবে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে মজলুমের পাপ গালিদাতার ওপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন:
«أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟» قَالُوا: الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ. فَقَالَ: «إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا… فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ»
“তোমরা কি জানো, দেউলিয়া কে?” তাঁরা বললেন, “আমাদের মধ্যে যার কোনো দিরহাম ও আসবাবপত্র নেই, সে-ই দেউলিয়া।” তখন তিনি বললেন, “আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া সে, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে…। তখন তার নেক আমল থেকে এদের পাওনা মেটানো হবে। পাওনা মেটানোর আগেই তার নেক আমল শেষ হয়ে গেলে পাওনাদারদের পাপ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮১]
৩. গালির জবাবে গালি: উভয়কেই শয়তানের সাথে তুলনা:
একজন সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর গোত্রের এক লোক তাঁকে গালি দিলে তিনি কি প্রতিশোধ নিতে পারেন? ইয়াজ ইবনে হিমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ»
“পরস্পর গালাগালকারী দুজন ব্যক্তি হলো দুটি শয়তান; তারা একে অপরকে অপদস্থ করে ও মিথ্যাচার করে।” [সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৭২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৭৪৮৭]
৪. গালির মাধ্যমে মুমিনকে কষ্ট দেওয়া অত্যন্ত গুনাহের কাজ:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا»
“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে তাদের কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” [সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৮]
▪️উল্লেখ্য যে, ইসলামে কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কারো মান-সম্মান নষ্ট করা, কাউকে খারাপ উপনামে সম্বোধন করা, নোংরা উপাধি দেওয়া, বংশপরিচয়ে আঘাত দেওয়া, অতীতের পাপ টেনে তাকে কলঙ্কিত করা, অপবাদ দেওয়া ইত্যাদি ভয়াবহ গুনাহ।‌ এসব বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে যথেষ্ট আলোচনা এসেছে। তাই সার্বিকভাবে এসব বিষয়ে আমাদের সাবধান হওয়া জরুরি।
🔸 মুখ ফসকে বা অসতর্কতাবশত গালি দিয়ে ফেললে করণীয়:
অসতর্কতাবশত গালি দিলেও অন্যের হক নষ্ট হয়। তাই দ্রুত দুটি কাজ করা আবশ্যক:
১. লজ্জিত অন্তরে আল্লাহর কাছে তাওবা করা:
আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন:
«وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ»
“যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের ওপর জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে—আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করতে পারে?এবং তারা জেনেশুনে নিজেদের কৃতকর্মের ওপর অটল থাকে না।” [সুরা আলে ইমরান: ১৩৫]
২. যাকে গালি দেওয়া হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া:
গালি দেওয়া কারো ইজ্জত-সম্মানের ওপর জুলুম করার শামিল। এর ক্ষতিপূরণ কিয়ামতের কঠিন সময়ের আগেই দুনিয়াতেই চুকিয়ে নিতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ، فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلِمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ»
“কারও ওপর তার ভাইয়ের ইজ্জত-সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুমের দায় থাকলে সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয় সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। (সেদিন) তার নেক আমল থাকলে জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নেওয়া হবে। আর নেক আমল না থাকলে তার (মজলুম) সঙ্গীর পাপ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯, ৬৫৩৪]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমাদের পাপাচার থেকে জবানকে রক্ষা করার এবং মানুষের সাথে সুন্দর আচরণের তৌফিক দান করুন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

নিজেকে ও অন্যকে গালি দেওয়ার বিধান

 নিজেকে ও অন্যকে গালি দেওয়ার বিধান: মুখে না বলে মনে মনে গালি দিলেও কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন: আমি কোনো ভুল করলে নিজেকে তিরস্কার করে “পাগল”, “মূর্খ”, “অপদার্থ” বলে গালি দিই। ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান কী? আমি কাউকে সামনাসামনি বা মুখের ওপর গালি দেই না। কিন্তু কয়েক মাস আগে আমার একজন বিশ্বস্ত মানুষ আমার আমানতের খেয়ানত করেছে এবং আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তার কথা মনে পড়লে আমার প্রচণ্ড রাগ হয় এবং আমি তাকে মনে মনে গালি দিই। এটা কি আমার জন্য বৈধ হবে?
উত্তর: নিম্নে সংক্ষেপে আপনার দুটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:
▪️১. নিজেকে গালি দেওয়া:
নিজেকে “মূর্খ”, “পাগল” বা “অপদার্থ” বলা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী, তাই এটি বর্জন করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং সর্বোত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছেন। নিজের প্রতি কটু ভাষা ব্যবহার করলে এই মর্যাদার প্রতি অবহেলা প্রকাশ পায়। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সম্পর্কেও অশোভন শব্দ বলতে নিষেধ করেছেন:
«لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ: خَبُثَتْ نَفْسِي، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: لَقِسَتْ نَفْسِي»
“তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘আমার আত্মা খবিস (নিকৃষ্ট) হয়ে গেছে’; বরং সে বলুক, ‘আমার মন বিষণ্ন হয়ে গেছে’।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৫০]
ভুল হয়ে গেলে নিজেকে তিরস্কার না করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, তারপর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।
চাইলে নিচের এই কথাটি বলতে পারেন, যা সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে:
«قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ»
“আল্লাহর নির্ধারণই হয়েছে, আর তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৪]
এটি নিজের সম্পর্কে করা একধরনের নেতিবাচক ভাবনা, যা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মনের ভেতরের শক্তি কমিয়ে দেয়।
▪️২. অন্যকে মনে মনে গালি দেওয়া:
কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া গর্হিত কাজ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
«سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ»
“মুসলিমকে গালি দেওয়া ফিসক (গুনাহ) আর তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪]
তবে এখানে গালি বলতে মুখে উচ্চারিত গালিই বোঝানো হয়েছে। যে কথা কেবল মনের ভেতরে আসে তার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে ছাড় দিয়েছেন:
«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا وَسْوَسَتْ أَوْ حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَتَكَلَّمْ»
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনে আসা ওয়াসওয়াসা ও মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে উচ্চারণ করে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২৭]
সুতরাং বিশ্বাসঘাতকের কথা মনে পড়লে অনিচ্ছায় যে রাগ বা কটু চিন্তা আসে তার জন্য গুনাহ লেখা হবে না যতক্ষণ তা মুখে বা কাজে প্রকাশ না পায়। আপনার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তাই এই ক্ষোভ স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি।
আল্লাহ তাআলা মজলুমকে অন্যায়ের কথা বলার অনুমতিও দিয়েছেন:
﴿لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ﴾
“আল্লাহ মন্দ কথার প্রকাশ্য উচ্চারণ পছন্দ করেন না তবে যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (সে ছাড়া)।” [সুরা নিসা: ১৪৮]
এর অর্থ হলো, আপনি আইনি ও শরিয়তসম্মত পথে নিজের অধিকার আদায় করতে পারেন আর আল্লাহর কাছে বিচারও চাইতে পারেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার মনে মনে গালি দেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করা ঠিক নয়। এতে অন্তরে ঘৃণা ও অস্থিরতা জমে থাকে আর কখনো অসতর্কভাবে মুখেও বেরিয়ে যেতে পারে।
রাগের মুহূর্তে বিষয়টি আল্লাহর ওপর সঁপে দিয়ে বলুন:
﴿حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ﴾
“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।” [সুরা আলে ইমরান: ১৭৩]
সম্ভব হলে ক্ষমা করে দেওয়া সর্বোত্তম এবং এর প্রতিদান আল্লাহর কাছে আছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
﴿فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ﴾
“অতএব যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধন করে তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।” [সুরা শুরা: ৪০]
নিজেকে গালি দেওয়া পরিহার করা উচিত। অন্যকে মুখে গালি দেওয়া নাজায়েজ। মনের ভেতরে অনিচ্ছাকৃতভাবে আসা কথার জন্য পাকড়াও হবে না, তবে তা অভ্যাসে পরিণত না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করা ও সম্ভব হলে ক্ষমা করাই উত্তম। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

Translate