প্রশ্ন: কাউকে সম্মান দেখানোর জন্য উঠে দাঁড়ানো কি জায়েজ? অথবা আমি যদি বসা থাকি এবং কেউ রুমে প্রবেশ করেন তবে কি আমি বসা অবস্থাতেই তাকে সালাম দেব? নাকি তাকে সম্মান জানিয়ে সালাম দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ানো জায়েজ হবে?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবিদের ওপর। অতঃপর এতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং এটি উত্তম চরিত্রের অংশ যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার উদ্দেশ্য হয় আগন্তুকের প্রতি সৌজন্য, সদাচরণ এবং সম্মান প্রদর্শন করা।
এ বিষয়ে শায়খ ইবনে বাজ (রহ.) বলেছেন:
لا يلزم القيام للقادم، وإنما هو من مكارم الأخلاق، من قام إليه ليصافحه ويأخذ بيده، ولا سيما صاحب البيت والأعيان، فهذا من مكارم الأخلاق، وقد قام النبي صلى الله عليه وسلم لفاطمة، وقامت له رضي الله عنها، وقام الصحابة رضي الله عنهم بأمره لسعد بن معاذ رضي الله عنه لما قدم ليحكم في بني قريظة، وقام طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه من بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم لما جاء كعب بن مالك رضي الله عنه حين تاب الله عليه فصافحه وهنأه ثم جلس، وهذا من باب مكارم الأخلاق والأمر فيه واسع، وإنما المنكر أن يقوم واقفا للتعظيم، أما كونه يقوم ليقابل الضيف لإكرامه أو مصافحته أو تحيته فهذا أمر مشروع، وأما كونه يقف والناس جلوس للتعظيم، أو يقف عند الدخول من دون مقابلة أو مصافحة، فهذا ما لا ينبغي، وأشد من ذلك الوقوف تعظيما له وهو قاعد لا من أجل الحراسة بل من أجل التعظيم فقط. اهـ.
“আগন্তুকের জন্য দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক কিছু নয় তবে এটি উত্তম শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি আগন্তুকের সাথে মুসাফাহা বা করমর্দন করতে কিংবা তাকে এগিয়ে নিতে দাঁড়ায়—বিশেষ করে ঘরের মালিক বা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—তবে তা সচ্চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কন্যা ফাতেমা (রা.) এর জন্য দাঁড়িয়েছেন এবং ফাতেমা (রা.)ও নবীজির জন্য দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া বনু কুরাইজা গোত্রের বিচার করার জন্য যখন সাদ বিন মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে সাহাবিগণ তাঁর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। আবার কাব বিন মালিক (রা.)-এর তওবা কবুল হওয়ার পর তিনি যখন আসলেন তখন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে থেকে উঠে গিয়ে তাঁর সাথে মুসাফাহা করেন এবং অভিনন্দন জানান। এরপর বসেন। এটি সচ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং এ বিষয়টি প্রশস্ত। তবে কেবল কারো তাজিমের উদ্দেশ্যে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা নিন্দনীয়। পক্ষান্তরে মেহমানকে সম্মান জানাতে, তার সাথে মুসাফাহা করতে বা তাকে বরণ করতে উঠে দাঁড়ানো শরিয়তসম্মত কাজ। কিন্তু মানুষজন বসা থাকা অবস্থায় কেবল কারো শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে দাঁড়িয়ে থাকা অথবা মুসাফাহা বা অভ্যর্থনা ছাড়া শুধু দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়। আর এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো—কেউ বসে আছে আর অন্যরা স্রেফ তাকে মহান হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে (নিরাপত্তা বা পাহারার উদ্দেশ্য ছাড়া) তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা।”
কখন নিষিদ্ধ, কখন অপছন্দনীয় এবং কখন বৈধ?
আলেমগণ আগন্তুকের জন্য দাঁড়ানোকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন:
যদি এমন ব্যক্তির জন্য দাঁড়ানো হয় যে, অহংকারবশত চায় যে তাকে দেখলে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকুক।
এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“من سره أن يتمثل له الرجال قياما فليتبوأ مقعده من النار”
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে মানুষ তার সম্মানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকুক সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” [সুনানে তিরমিজি: ২৭৫৫]
যদি আগন্তুক ব্যক্তি অহংকারী নাও হয় কিন্তু ভয় থাকে যে, এভাবে বারবার দাঁড়ালে তার মনে অহংকার চলে আসতে পারে। এছাড়া এটি অনেক সময় স্বৈরাচারী শাসক বা জবরদস্তিকারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়।
যদি আগন্তুকের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করতে তাকে হাত ধরে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বসিয়ে দিতে বা তাকে এগিয়ে নিতে দাঁড়ানো হয় তবে এতে কোনো দোষ নেই। বরং এটি সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আবু দাউদে বর্ণিত আছে:
“أن النبي صلى الله عليه وسلم قام لفاطمة وقامت له”
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমা (রা.)-এর জন্য দাঁড়িয়েছেন এবং ফাতেমা (রা.)ও তাঁর জন্য দাঁড়িয়েছেন।” [আবু দাউদ: ৫২১৭]
এছাড়া বনু কুরাইজার বিচারের সময় সাদ বিন মুয়াজ (রা.) আসলে নবীজি সাহাবিদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। [সহিহ বুখারি: ৩৮০৪]
মোটকথা, আগন্তুক ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা করা বা হাসিমুখে বরণ করার উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো জায়েজ, এমনকি এটি সুন্নত ও উন্নত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু কেবল তার প্রতি তাজিম প্রকাশ বা তাকে মহান হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো জায়েজ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন। [সোর্স: ইসলাম ওয়েব]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ এবং গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদি বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment