প্রশ্ন: লাইলাতুল ক্বদর কি বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রাতে সংঘটিত হয়? আর একজন মানুষের পক্ষে কি একই বছরে দুটি লাইলাতুল ক্বদর পাওয়া সম্ভব?
▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর:
এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়। বাস্তবে বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে রমযান শুরু হওয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে, ফলে তারিখেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তবে লাইলাতুল ক্বদর মূলত একই রাত। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সময়ের ব্যবধান থাকার কারণে যখন যে স্থানে রাত নেমে আসে, তখনই সেখানে লাইলাতুল ক্বদর সংঘটিত হয়। এ ধরনের গায়েবি বিষয়কে মানুষের সীমিত হিসাবের মধ্যে নির্ধারণ করা সঠিক নয়। কারণ মানুষের দৃষ্টি, শ্রবণ ও চিন্তাশক্তি—সবকিছুরই একটি সীমা আছে; কিন্তু গায়েবের বিষয়গুলো সেই সীমার বাইরে। এগুলো মহান আল্লাহ তাআলাই তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী পরিচালনা করেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে রমযানের শেষ দশকে বিশেষ করে বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ বলে যাননি যে, ঠিক কোন রাতটি লাইলাতুল ক্বদর হবে। বরং তিনি একাধিক হাদীসে বলেছেন,”তোমরা রমযানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোড় রাত্রিতে ক্বদর রাত্রি তালাশ করো”(সহীহ বুখারী, হা/২০১৭) অতএব, আপনি আমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি বা থাকুন, বিশুদ্ধ নিয়তসহ রমযানের শেষ দশক বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলো অর্থাৎ আরাবী মাসের হিসাব যেহেতু রাত আগে আসে সে হিসাবে ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রাতগুলোতে যথাসাধ্য আল্লাহর ইবাদতে লেগে থাকুন। তবে বছরের ভিন্নতায় শেষ দশকের বিভিন্ন রাতে তা হতে পারে। এতে আশা করা যায় যে, মাহরুম হবেন না। কিন্তু সারা পৃথিবীতে একসাথে কেমন করে ক্বদর হবে? লাইলাতুল ক্বদর তো একটাই, এক দেশে রাত থাকা অবস্থায় তা হয়ে গেলে অন্যস্থানে কিভাবে হবে, এরকম অনর্থক চিন্তা ভাবনা করে সময় পার করে দিলে মাহরুম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আসুন সবাই মিলে যুক্তি তর্ক না করে কুরআন সুন্নার আলোকে সালফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ করি।
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন:
حَدِيث أُبَيّ بْن كَعْب أَنَّهُ كَانَ يَحْلِف أَنَّهَا لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ , وَهَذَا أَحَد الْمَذَاهِب فِيهَا , وَأَكْثَر الْعُلَمَاء عَلَى أَنَّهَا لَيْلَة مُبْهَمَة مِنْ الْعَشْر الْأَوَاخِر مِنْ رَمَضَان , وَأَرْجَاهَا أَوْتَارُهَا , وَأَرْجَاهَا لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ وَثَلَاث وَعِشْرِينَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ , وَأَكْثَرهمْ أَنَّهَا لَيْلَة مُعَيَّنَة لَا تَنْتَقِل ، وَقَالَ الْمُحَقِّقُونَ : إِنَّهَا تَنْتَقِل فَتَكُون فِي سَنَة : لَيْلَة سَبْع وَعِشْرِينَ , وَفِي سَنَة : لَيْلَة ثَلَاث , وَسَنَة : لَيْلَة إِحْدَى , وَلَيْلَة أُخْرَى وَهَذَا أَظْهَر ، وَفِيهِ جَمْع بَيْن الْأَحَادِيث الْمُخْتَلِفَة فِيهَا “
“উবাই বিন কাব (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে যে, তিনি হলফ করে বলতেন: লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে— সাতাশে রমযান”। এ মাসয়ালার অনেক অভিমতের মধ্যে এটিও একটি। তবে, অধিকাংশ আলেমের অভিমত হচ্ছে— এটি রমযানের শেষ দশরাতের অজ্ঞাত কোন এক রাত। এ দশরাতের মধ্যে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক হচ্ছে— বেজোড় রাতগুলো। বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে অধিক আশাব্যঞ্জক হচ্ছে— ২৭ রমযান, ২৩ রমযান ও ২১ রমযান। অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি নির্দিষ্ট কোন একটি রাত; আবর্তিত হয় না। কিন্তু, সুক্ষ্মদর্শী আলেমদের মতে, লাইলাতুল ক্বদর আবর্তিত হয়। কোন বছর ২৭ শে রমযান, কোন বছর ২৩ রমযান এবং কোন বছর ২১ শে রমযান কিংবা অন্য কোন রাত। এ মতটির মাধ্যমে বিপরীতমুখী সবগুলো হাদিসের মাঝে সমন্বয় করা যায়।”(ইমাম নববীর ‘শারহু সহিহ মুসলিম’ খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৪৫)
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: লাইলাতুল ক্বদর কি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একই রাত্রি? নাকি দেশভেদে এটি আলাদা আলাদা হতে পারে?
জবাবে তিনি বলেছেন,
تكون ليلة واحدة ولو اختلف دخولها بالنسبة للبلدان،فتدخل في البلاد العربية عند غروب شمس نهارهم وتدخل عند البلاد الإفريقية أيضا عند غروب شمس نهارهم وغيرها من البلاد، فكلما غربت عند قوم دخلت عندهم ولو استغرق ذلك أكثر من 20 ساعة فتحسب لهؤلاء ليلتهم،ولهؤلاء ليلتهم،ولا مانع من أن تنزل الملائكة عند هؤلاء ، وهؤلاء أيضا.
“লাইলাতুল ক্বদরের রাত একটিই। যদিও দেশভেদে এটি প্রবেশের সময় ফারাক (ভিন্ন) হতে পারে। যেমন আরব দেশগুলোতে এটি প্রবেশ করবে তাদের দেশের দিনের বেলার সূর্য ডোবার মাধ্যমে। আফ্রিকার দেশ ও অন্যান্য দেশগুলোতে প্রবেশ করবে তাদের দেশের দিনের বেলার সূর্য ডোবার মাধ্যমে।তাই যেই দেশে সূর্য ডুবেছে সেই দেশে লাইলাতুল ক্বদর প্রবেশ করেছে; এমনকি সেটা যদি ২০ ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় লাগে তবুও। এ সকল ব্যক্তিদের জন্য তাদের রাতকে হিসাব করা হবে। ঐ সকল ব্যক্তিদের জন্য তাদের রাতকে হিসাব কর হবে।এতেও কোন বাধা নেই যে, ফেরেশতারা এদের নিকটেও অবতীর্ণ হবে এবং ওদের নিকটেও অবতীর্ণ হবে। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ”(ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং ১২৯৬৮৮)
.
.
যদি বিভিন্ন দেশে রমযান মাস শুরু হওয়ার সময় ভিন্ন হয়, তাহলে কোনো দেশে যে রাতটি বেজোড়, অন্য দেশে তা জোড় হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লাইলাতুল কদর দুটি রাত—যাতে কেউ নিজের দেশে একটি পেয়ে আবার অন্য দেশে ভ্রমণ করে আরেকটি লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে লাইলাতুল কদর একটিমাত্র রাত।উদাহরণস্বরূপ, যদি লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখে হয়, তাহলে মাস শুরু হওয়ার ভিন্নতার কারণে কোনো দেশে সেই ২৭ তারিখ মঙ্গলবার হতে পারে এবং অন্য দেশে বুধবার। কিন্তু বাস্তবে লাইলাতুল কদর এই দুই রাতের মধ্যে একটিই হবে। যদি তা মঙ্গলবার হয়, তবে বুধবার নয়; আর যদি বুধবার হয়, তবে মঙ্গলবার নয়।এমনও হতে পারে যে কোনো অঞ্চলের মানুষের কাছে সেই রাতটি ২৭ তারিখ, আর অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে ২৬ তারিখ। এখান থেকেই বোঝা যায়—জোড় রাতগুলোকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ কোনো অঞ্চলে সেটি জোড় হলেও অন্য অঞ্চলের জন্য তা বেজোড় হতে পারে, বিশেষত যখন রমজানের শুরু নির্ধারণে পার্থক্য থাকে।তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ একই রাতের কিছু অংশ দুবার পেতে পারে। যেমন—যদি লাইলাতুল কদর মঙ্গলবার রাতে হয়, কেউ সেই রাতের একটি অংশ নিজের দেশে কাটানোর পর পশ্চিম দিকে সফর করলে সময়ের পার্থক্যের কারণে আবারও সেই রাতের অবশিষ্ট অংশ পেতে পারে। কারণ পৃথিবীতে রাত পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।
.
শাইখ সুলেমান বিন ওয়াইল আল-তাওয়িজরি (হাফিজাহুল্লাহ) [জন্ম:১৩৬৭ হি:]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:রাসূল (ﷺ) লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিভিন্ন ইসলামী দেশে রমযান মাসের সূচনায় পার্থক্য থাকে। ফলে এক দেশে যে রাত বেজোড় হিসেবে গণ্য হয়, অন্য দেশে তা জোড় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোনো বছরে মিশর এবং সৌদি আরব এর মধ্যে রমযানের শুরুতে পার্থক্য দেখা যায়। এ কারণে মিশরে যে রাতগুলো বেজোড় হিসেবে ধরা হয়, সেগুলো সৌদি আরবে বেজোড় নাও হতে পারে। এ অবস্থায় লাইলাতুল ক্বদর নির্ধারণের ব্যাপারে কীভাবে বিষয়টি বোঝা উচিত? আর লাইলাতুল ক্বদর কি প্রকৃতপক্ষে একটি নির্দিষ্ট রাতই, নাকি দেশভেদে তা ভিন্ন হতে পারে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই উত্তরের সওয়াব আপনাদের আমলনামায় যুক্ত করুন।” উত্তরে শাইখ (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
الذي يظهر لي أنها لا تتكرر، وإنما هي ليلة واحدة في السنة، والنبي صلى الله عليه وسلم قال: “التمسوها في العشر الأواخر في الوتر” [رواه البخاري (2016)، ومسلم (1167) من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه]، فكل العشر محل لأن تقع فيها ليلة القدر من وتر وغيره، وهو لما قال: “في الوتر”، لم يلغ الالتماس في غير الوتر، كما أنه قال: “التمسوها ليلة سبع وعشرين” [انظر ما رواه مسلم (762) من حديث أُبي بن كعب رضي الله عنه]، أو: “أرى رؤياكم قد تواطأت في السبع الأواخر فمن كان متحريها فليتحرها في السبع الأواخر” [رواه البخاري (2015)، ومسلم (1165) من حديث ابن عمر رضي الله عنهما]، وقال: “التمسوها في سبع يمضين، أو سبع يبقين” [انظر ما رواه البخاري (2021)، وهذا اللفظ عند أحمد (2539)، من حديث ابن عباس رضي الله عنهما]، وهذا يختلف من الشهر كونه تسع وعشرين أو ثلاثين، وعلى هذا فهي ليلة واحدة، فإذا كانت مثلا ليلة السبع وعشرين في السعودية فهي ليلة ثمان وعشرين في مصر، أو إذا كانت ليلة سبع وعشرين في مصر فهي ليلة ست وعشرين في السعودية بالنسبة لرمضان هذه السنة، والإنسان مطلوب منه أن يجتهد في العشر كلها، وهي ليلة خفية لم يعلم ما هي بالتحديد، ولهذا كان عليه الصلاة والسلام يعتكف في العشر الأواخر؛ طلباً لثوابها وإدراكها، وهو على حال يكون فيها أحسن ما يكون من التقرب إلى الله تعالى وحسن المناجاة له. والله ولي التوفيق. سليمان بن وائل التويجري
“যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো লাইলাতুল ক্বদর পুনরাবৃত্তি হয় না; বরং এটি বছরে একটি রাতই। নবী ﷺ বলেছেন: এটি রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে খুঁজে দেখো” [সহীহ বুখারী হা/২০১৬, সহীহ মুসলিম হা/১১৬৭ আবু সাঈদ আল-খুদরীর রাওয়ায়াত]। সুতরাং শেষ দশকের প্রতিটি রাতই সম্ভাব্য লাইলাতুল ক্বদর হতে পারে, বেজোড় হোক বা অন্য কোনো রাত। কারণ নবী (সঃ)বেজোড়ে খুঁজে দেখো বললেও এটি অন্য রাতগুলোতে খোঁজা বাতিল করে না। এছাড়াও তিনি বলেছেন: এটি ২৭ তারিখের রাতেই খুঁজো।[সহীহ মুসলিম হা/৭৬২), উবাই ইবন কাবের রাওয়ায়াত] অথবা: আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্ন শেষ সাত রাতে মিলেছে, যারা খুঁজতে চায় তারা শেষ সাত রাতে খুঁজুক। [সহীহ বুখারী (২০২৫), মুসলিম হা/১১৬৫), ইবন উমারের রাওয়ায়াত]। তিনি আরও বলেছেন: এটি শেষ সাত দিনের মধ্যেই খুঁজো, আগের সাত বা বাকি সাত দিন।[সহীহ বুখারী হা/২০২১), এই উক্তি আহমদের হাদিসে হা/২৫৩৯) ইবনু আব্বাসের রাওয়ায়াত]।মাসটি ২৯ বা ৩০ দিন হতে পারে, তাই অবস্থান অনুযায়ী রাতগুলো ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি লাইলাতুল ক্বদর সৌদি আরবে ২৭ তারিখ হয়, তবে মিশরে এটি ২৮ তারিখ হতে পারে; অথবা মিশরে ২৭ হলে সৌদি আরবে ২৬ তারিখ হতে পারে। মানুষের জন্য প্রয়োজন, শেষ দশক জুড়ে চেষ্টা করা, কারণ লাইলাতুল ক্বদর একটি গোপন রাত; কোনটা তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, লাইলাতুল ক্বদরের সওয়াব লাভ এবং আল্লাহর নিকট সেরা উপায়ে নিকটতা অর্জনের জন্য। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক। (শাইখ সুলেমান বিন ওয়াইল আল-তাওয়িজরি।)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: অনুগ্রহ করে আমাদের লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে কিছু বলুন। এটি কি সব মানুষের জন্যই একরকম, নাকি প্রতিজন ব্যক্তির জন্য আলাদা? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান।
.
উত্তরে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
:ليلة القدر ليلة عظيمة، بين الله شرفها سبحانه في كتابه العظيم، حيث قال : لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ [القدر:3]، وقال سبحانه في سورة الدخان: إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ [الدخان:3-4] هي ليلة عظيمة، وأخبر النبي ﷺ أنها تكون في العشر الأواخر من رمضان، وكان يعتني بها ﷺ وكان يقوم العشر الأواخر من رمضان، يتحرى هذه الليلة، ويقول: التمسوها في العشر الأواخر، والتمسوها في كل وتر يعني الأوتار أرجى وأحرى، إحدى وعشرين، ثلاث وعشرين، خمس وعشرين، سبع وعشرين، تسع وعشرين، مع أنها تلتمس في الليالي كلها، لكنها في الأوتار أحرى، وأحراها ليلة سبع وعشرين.
والسنة للمسلمين رجالًا ونساء أن يتحروها في العشر كلها، وأن يجتهدوا في قيام هذه الليالي بالصلاة، والقراءة، والدعاء؛ تأسيًا بالنبي -عليه الصلاة والسلام- وطلبًا لهذه الليلة، والله يقول فيها سبحانه: لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ [القدر:3] يعني العمل فيها، والاجتهاد فيها بالأعمال الصالحات أفضل من العمل في ألف شهر مما سواها، وهذا فضل عظيم، نعم.
المقدم: جزاكم الله خيرًا، وأحسن إليكم، هل هي للناس كلهم أم لأشخاص دون أشخاص؟
الشيخ: للناس كلهم من تقبل الله منه، ووفقه للعمل فيها؛ حصل له هذا الأجر، سواء كان عربيًا، أو عجميًا، حضريًا، أو بدويًا، رجلًا، أو امرأة في أي مكان من الأرض، إذا اجتهد في هذه الليالي، وهو مسلم، ويرغب في الخير، اجتهد، وعمل الصالحات، فالله يعطيه أجره، سبحانه وتعالى، نعم.
المقدم: جزاكم الله خيرًا، كيف يعرف المرء أنه أصاب ليلة القدر؟
الشيخ: أخبر النبي ﷺ أنها تطلع الشمس في صباحها لا شعاع لها، وكان أبي بن كعب الصحابي الجليل قد راقب ذلك سنوات كثيرة، فرآها تطلع صباح يوم سبع وعشرين، ليس لها شعاع، وكان يحلف على أنها ليلة سبع وعشرين بسبب هذه العلامة.
ولكن الصواب أنها قد تكون في غيرها، قد تكون عدة سنوات في ليلة سبع وعشرين، وقد تكون في سنوات أخرى في إحدى وعشرين، أو في ثلاث وعشرين، أو في خمس وعشرين أو في غيرها، فالاحتياط، والحزم، الاجتهاد في الليالي كلها، نعم.
المقدم: جزاكم الله خيرًا، وأحسن إليكم.
“লাইলাতুল ক্বদর একটি মহান রাত। আল্লাহ তায়ালা তাঁর মহৎ কিতাবে এর মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: লাইলাতুল ক্বদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।[সূরা আল-কদর: ৩] এবং সূরা দুখানেও বলেন: আমরা এটি একটি বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আমরা সতর্কীকরণকারী ছিলাম। সেই রাতে প্রতিটি বিচক্ষণ বিষয় নির্ধারিত হয় [সূরা দুখান: ৩–৪]এটি সত্যিই একটি মহান রাত। নবী (ﷺ) জানিয়েছেন যে এটি রমযানের শেষ দশকে ঘটে। তিনি এই রাতের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং শেষ দশকের রাতগুলো জেগে ইবাদত করতেন। তিনি বলেন: এটি খুঁজে দেখো শেষ দশকের রাতগুলোতে, বিশেষ করে বেজোড় রাতে।অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯। যদিও এটি শেষ দশকের সব রাতে খুঁজে পাওয়া যায়, তবে বেজোড় রাতগুলোই সবচেয়ে সম্ভাব্য, আর সবচেয়ে সম্ভাব্য রাত হলো ২৭ তারিখ। ইসলামে মুসলিমদের জন্য পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই সুন্নত হলো শেষ দশকের সব রাতেই লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করা এবং এই রাতগুলোতে বিশেষ প্রচেষ্টা করা। অর্থাৎ সালাত আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া করা, সব কিছুতে জ্ঞান ও ত্যাগের সঙ্গে চেষ্টা করা। এটি নবী (ﷺ)-এর অনুকরণে এবং লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়।আল্লাহ এই রাতের মর্যাদা বলেছেন: লাইলাতুল ক্বদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।[সূরা আল-কদর: ৩] অর্থাৎ এই রাতে যে কোনো কাজ বা ইবাদত করা এবং সৎকর্মে পরিশ্রম করা, তা অন্য যে কোনো সময় এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এটি একটি বিশাল বরকতের বিষয়।
প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এটি কি সকল মানুষের জন্য, নাকি কেবল কিছু ব্যক্তির জন্য?
শায়েখ: এটি সকল মানুষের জন্য, যারা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ও সক্ষম হয় এই রাতে ইবাদত করার জন্য। যে কেউ এই রাতগুলোতে চেষ্টা করে, তার জন্য সওয়াব আছে,চাই সে আরব হোক বা অনারব, শহুরে হোক বা মরুভূমির বাসিন্দা,পুরুষ হোক বা নারী, পৃথিবীর যে কোনো স্থানে থাকুক। যদি সে মুসলিম হয়, ভালোর আকাঙ্ক্ষা রাখে, চেষ্টা করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে তার প্রতিদান দান করবেন।
প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। মানুষ কীভাবে জানতে পারে যে সে লাইলাতুল ক্বদর পেয়েছে?
শায়েখ: নবী (ﷺ) জানিয়েছেন যে সেই সকালে সূর্য উঠবে, কিন্তু তার কোনো রশ্মি থাকবে না। সম্মানিত সাহাবি উবাই ইবন কাব অনেক বছর এই রাতটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, ২৭ তারিখের সকালে সূর্য ওঠে, কিন্তু কোনো রশ্মি নেই। এই লক্ষণ দেখে তিনি দৃঢ়ভাবে শপথ করতেন যে লাইলাতুল কদর ২৭ তারিখের রাতই। কিন্তু সঠিক হলো, এটি অন্য রাতেও হতে পারে। কিছু বছরে লাইলাতুল ক্বদর ২৭ তারিখে হতে পারে, আবার অন্য বছরে এটি ২১, ২৩, ২৫ বা অন্য কোনো রাতে হতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ হলো শেষ দশকের সব রাতেই চেষ্টা ও পরিশ্রম করা।
প্রশ্নকর্তা: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাকে ভালো রাখুক।”(শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-১৫৪৬৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
No comments:
Post a Comment