Thursday, January 8, 2026

নাস্তিকতা কেন মানবজাতির জন্য একটি ভ্রান্ত ও ব্যর্থ মতাদর্শ

 ◈ নাস্তিক হলে নীতি-নৈতিকতা ও ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু থাকা সম্ভব নয়। কারণ কোনটা নৈতিক আর কোনটা অনৈতিক, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় এই মানদণ্ড কে নির্ধারণ করবে? যেটা আপনার কাছে নৈতিক সেটা আরেকজনের কাছে নাও হতে পারে।

যেমন: একজনের সম্পদ জোর করে কেড়ে নেওয়া।
নাস্তিক্যবাদের দৃষ্টিতে কেউ একে ‘বিবর্তনীয় টিকে থাকার লড়াই’ (Evolutionary Struggle for Survival) বলে বৈধতা দিতে পারে-যেভাবে পশু-পাখিরা একজনের খাবার আরেকজন কেড়ে খায়। কারণ তাদের নীতি-নৈতিকতা ও ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নাই। অথচ আরেকজনের কাছে, অন্য মানুষের সম্পদ কেড়ে নেওয়া অন্যায় ও অনৈতিক।
◈ নাস্তিক হলে যুক্তির উপর নির্ভরশীল থাকার সুযোগ নাই। কারণ একজনের কাছে যেটা যৌক্তিক অন্য জনের কাছে সেটাই অযৌক্তিক। যেহেতু মানুষের বুদ্ধি ও যুক্তি তার পারিপার্শ্বিকতা, আবেগ এবং সীমিত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। তাই একজনের কাছে যা যুক্তিযুক্ত, অন্যজনের কাছে তা পাগলামি মনে হতে পারে।
যেমন: সুদ। একজন নাস্তিক পুঁজিবাদীর যুক্তিতে সুদ হল, অর্থ উপার্জনের সেরা মাধ্যম। কিন্তু অন্য জনের যুক্তিতে এটি ‘শোষণের হাতিয়ার।’
◈ নাস্তিক হলে বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে থাকার সুযোগ নাই। কারণ বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বৈজ্ঞানিক অনেক তথ্যই পরিবর্তিত হচ্ছে। এক বিজ্ঞানী এক কথা বলেন। কিন্তু অন্য বিজ্ঞানী তার বিপরীত বলেন। যেমন: সূর্য ও পৃথিবী ঘোরা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক মতবাদ, বিবর্তন সংক্রান্ত মতবাদ ইত্যাদি।
◈ এছাড়া বিজ্ঞানে মানব জীবনের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া লক্ষ লক্ষ সমস্যার কোন সমাধান নেই। যেমন: বিজ্ঞান ক্যান্সার নিরাময় বা রকেট ইঞ্জিনের ফর্মুলা দিতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের বলতে পারে না, কেন পিতামাতার সেবা করা উচিত, কেন বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করা উচিত। পারিবারিক কলহ, একাকীত্ব বা আত্মিক প্রশান্তির সমাধান ল্যাবরেটরিতে পাওয়া সম্ভব নয়;
সুতরাং বিজ্ঞান কখনো ‘জীবন বিধান’ হতে পারে না।
➧ তাহলে সমাধান কী?
এসব কিছুর একমাত্র ও চূড়ান্ত সমাধান, এই বিশ্বচরাচরের একচ্ছত্র স্রষ্টা মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর নির্দেশিত পন্থা বা তাঁর দেওয়া জীবন বিধান অনুযায়ী জীবনের সব কিছু পরিচালনা করা। কারণ তিনি যেহেতু সব কিছু সৃষ্টি করেছেন সেহেতু তাঁর সৃষ্টির জন্য কোনটা কল্যাণকর আর কোনটা ক্ষতিকর, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়, কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল ইত্যাদি তিনিই সবচেয়ে বেশি জানেন। সুতরাং সন্দেহাতীতভাবে তাঁর দেওয়া জীবন বিধানই মানব জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং কল্যাণকর। আল হামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate