Thursday, January 8, 2026

মহিলারা কোথায় ঈদের সালাত আদায় করবে

 প্রশ্ন: মহিলারা কোথায় ঈদের সালাত আদায় করবে? তাদের জন্য কি গৃহে একাকীভাবে অথবা জামাআতের সঙ্গে ঈদের সালাত আদায় করার অনুমতি রয়েছে?

▬▬▬▬▬▬▬▬◆◯◆▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর নারীরা যদি মুসলিমদের সঙ্গে ঈদের জামাতে ঈদগাহে গিয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম হয়,তাহলে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদে পূর্ণভাবে ইসলামী অনুশাসন মেনে, ফিতনার উদ্রেককারী এবং দুর্বল ঈমানদারদের অন্তরে আকর্ষণ সৃষ্টি করে এমন সব ধরনের সৌন্দর্যপ্রদর্শন থেকে বিরত থেকে ঈদের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে গমন করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিম নারীদের এমনকি হায়েযগ্রস্ত নারী, অন্তঃপুরবাসিনী কিশোরী, অবিবাহিত তরুণী এবং যারা সাধারণত বাইরে বের হন না তাদেরকেও ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট ও জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হায়েযগ্রস্ত নারীরা সালাতের স্থান থেকে পৃথক স্থানে অবস্থান করবেন। দলিল হচ্ছে, জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি ঈদের দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাতে উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম তিনি খুৎবার পূর্বে ছালাত আরম্ভ করলেন আযান ও ইক্বামত ছাড়া এবং যখন ছালাত শেষ করলেন বেলালের গায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর মহিমা ও তাঁর প্রশন্তি বর্ণনা করলেন। তৎপর লোকদেরকে উপদেশ দিলেন। তাদেরকে (পরকালের কথা) স্মরণ করালেন এবং আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর মহিলাদের দিকে অগ্রসর হলেন আর তখন তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল, তাদেরকে তিনি আল্লাহভীতির উপদেশ দিলেন। কিছু নছীহত করলেন এবং (আখেরাতের কথা) স্মরণ করালেন”।(সহীহ নাসাঈ হা/১৫৭৫; ইবনু খুযায়মা হা/১৪৬০; মিশকাত হা/১৪৪৬)। অপর বর্ননায় উম্মে আতিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো, আমরা যেন ঋতুবতী ও পর্দানশীন মহিলাদেরও দুই ঈদের দিনে (ঈদগাহে) বের করি, যাতে তারা মুসলিমদের জামাআতে এবং তাদের দু‘আয় শামিল হতে পারে; কিন্তু ঋতুবতীগণ যেন তাদের ছালাতের স্থান হতে একদিকে সরে বসে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের কারও (শরীর ঢাকবার) বড় চাদর নেই। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার সাথী তাকে আপন চাদর পরাবে”।(সহীহ বুখারী, হা/৩৫১; সহীহ মুসলিম, হা/৮৯০)
.
উম্মে আতিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহার) হাদিসটির আলোকে শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি, (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৮৫২ হি:] বলেন:”فِيهِ اِسْتِحْبَابُ خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى شُهُودِ الْعِيدَيْنِ سَوَاءٌ كُنَّ شَوَابَّ أَمْ لا وَذَوَاتِ هَيْئَاتٍ أَمْ لا.” ا “এই হাদিসটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দুই ঈদের সালাতে নারীদের বের হওয়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়); তারা যুবতী হোক বা না হোক, আর তারা উচ্চমর্যাদা বা বিশেষ সামাজিক অবস্থানের অধিকারী হোক বা না হোক।”(ফাতহুল বারী ফী শারহিল বুখারী; খন্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৫৪৫)
.
​ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وَالْحَدِيثُ وَمَا فِي مَعْنَاهُ مِنْ الأَحَادِيثِ قَاضِيَةٌ بِمَشْرُوعِيَّةِ خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْنِ إلَى الْمُصَلَّى مِنْ غَيْرِ فَرْقٍ بَيْنَ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ وَالشَّابَّةِ وَالْعَجُوزِ وَالْحَائِضِ وَغَيْرِهَا مَا لَمْ تَكُنْ مُعْتَدَّةً أَوْ كَانَ خُرُوجُهَا فِتْنَةً أَوْ كَانَ لَهَا عُذْرٌ.”এই হাদিস এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, দুই ঈদে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া শরীয়তসম্মত। এক্ষেত্রে কুমারী, বিবাহিতা (বা বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা), যুবতী, বৃদ্ধা, ঋতুমতী বা অন্য কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে শর্ত হলো— নারী যেন ইদ্দত পালনরত না থাকে, তার বের হওয়া যেন ফিতনার (বিশৃঙ্খলা বা পাপের) কারণ না হয় অথবা তার অন্য কোনো সঙ্গত ওজর (অপারগতা) না থাকে।” (শাওকানী; নায়লুল আওত্বার; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৩৪২)।
.
সুতরাং প্রিয় পাঠক! উক্ত হাদীসদ্বয় থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের জন্য ঈদের মাঠে উপস্থিত হওয়া শরীয়তসম্মত; যাতে তারা ঈদের সালাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে ঋতুবতী নারীরা সালাত আদায় করবে না; বরং তারা খুৎবা শ্রবণ ও তাকবীরের সঙ্গে শরীক হবে।স্মরণ রাখা জরুরি যে, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী নারীদের জন্য ঈদের সালাত আদায় করা সুন্নাত; এটি তাদের জন্য ওয়াজিব নয়। কিন্তু এই সুন্নাত আদায়ের উদ্দেশ্যে নারীদের নিজেদের মধ্যে একজনকে ইমাম বানিয়ে গৃহে ঈদের সালাত আদায় করা শরীয়তসম্মত নয়।অনুরূপভাবে,নারীদের জন্য আলাদা কোনো স্থান নির্ধারণ করে সেখানে একান্তভাবে কোনো মহিলার ইমামতিতে ঈদের সালাত আদায়ের ব্যবস্থা করাও শরীয়তসম্মত নয়; বরং এটি বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ কিংবা তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে এ ধরনের কোনো প্রচলন ছিল না।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:”মহিলাদের উপর ঈদের সালাত পড়া কি ওয়াজিব? যদি ওয়াজিব হয় তাহলে তারা কি বাসায় পড়বে; নাকি ঈদগাহে? উত্তরে স্থায়ী কমিটির আলেমগন বলেছেন:
حكم صلاة العيد للمرأة أنها ليست واجبة ولكنها سنة في حقها، وتصليها في المصلى مع المسلمين؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهن بذلك .ففي الصحيحين وغيرهما عن أم عطية رضي الله عنها قالت: (أُمِرنَا – وفي رواية أمَرَنا؛ تعني النبي صلى الله عليه وسلم – أن نخرج في العيدين العواتق وذوات الخدور، وأمر الحيض أن يعتزلن مصلى المسلمين.” رواه البخاري 1/93 ومسلم (890) وفي رواية أخرى: (أمرنا أن نخرج ونخرج العواتق وذوات الخدور)، وفي رواية الترمذي: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُخرج الأبكار والعواتق وذوات الخدور والحيض في العيدين، فأما الحيض فيعتزلن المصلى ويشهدن دعوة المسلمين، قالت إحداهن: يا رسول الله، إن لم يكن لها جلباب، قال: فلتعرها أختها من جلابيبها متفق عليه،. وفي رواية النسائي: قالت حفصة بنت سيرين: كانت أم عطية لا تذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا قالت: بأبي، فقلت: أسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر كذا وكذا؟ قالت نعم بأبي، قال: لتخرج العواتق وذوات الخدور والحيض فيشهدن العيد، ودعوة المسلمين، وليعتزل الحيض المصلى. رواه البخاري 1/84 وبناء على ما سبق يتضح أن خروج النساء لصلاة العيدين سنة مؤكدة ، لكن بشرط أن يخرجن متسترات، لا متبرجات كما يعلم ذلك من الأدلة الأخرى .وأما خروج الصبيان المميزين لصلاة العيد والجمعة وغيرهما من الصلوات فهو أمر معروف ومشروع للأدلة الكثيرة في ذلك .والله أعلم.
“মহিলাদের উপর ঈদের সালাত ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নত। মহিলারা মুসলমানদের সাথে ঈদগাহে ঈদের সালাত আদায় করবেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: “আমাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল” অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে “তিনি আমাদেরকে আদেশ দিয়েছিলেন (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়ে, অন্তপুরবাসিনী তরুনীদেরকে দুই ঈদের সময় (ঈদগাহে) নিয়ে যেতে এবং ঋতুবতী নারীদেরকে সালাতের জায়গা থেকে দূরে থাকতে।”(সহিহ বুখারী (১/৯৩) ও সহিহ মুসলিম (৮৯০)] অন্য এক রেওয়ায়েতে এসেছে‑ “আমাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে আমরা যেন ঈদগাহে যাই এবং প্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়ে ও অন্তপুরবাসিনী তরুনীদেরকেও সাথে নিয়ে যাই।” তিরমিযির বর্ণনায় এসেছে- “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবিবাহিত নারী, প্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়ে, অন্তপুরবাসিনী তরুনী, ঋতুবতী নারীদেরকে দুই ঈদের সময় ঈদগাহে হাজির হতে বলতেন। তবে, ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকত এবং সবার সাথে দোয়ায় শরীক হতো। জনৈক নারী বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! যদি কোন নারীর জিলবাব (বোরকা) না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে তার কোন বোন যেন তাকে নিজের কোন একটি জিলবাব ধার দেয়।”(সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম)। নাসাঈ-এর রেওয়ায়েতে এসেছে‑ হাফসা বিনতে সিরিন বলেন: “উম্মে আতিয়্যা যখনি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উল্লেখ করতেন তখনি বলতেন: ‘আমার পিতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক’। আমি বললাম: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন এমন বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার পিতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক। তিনি বলেছেন: প্রাপ্ত বয়স্ক কুমারী মেয়ে, অন্তপুরবাসিনী তরুনী ও ঋতুবতী নারীরা যেন বের হয় এবং ঈদের নামাযে ও মুসলমানদের দোয়াতে হাযির হয়। ঋতুবতী নারীরা যেন নামাযের জায়গা থেকে দূরে থাকে।”(সহিহ বুখারী (১/৮৪) পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে পরিষ্কার যে, নারীদের জন্য দুই ঈদের সালাতে গমন করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তবে শর্ত হচ্ছে তারা পর্দাসহকারে বের হবেন; বেপর্দা নয়­‑ যেমনটি অন্যান্য দলিল থেকে জানা যায়।আর বুঝবান বাচ্চাদের ঈদের সালাতে, জুমার সালাতে ও অন্যান্য সালাতে যাওয়ার বিধান সুবিদিত এবং অনেক দলিল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ই উত্তম তাওফিকদাতা।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ: খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ২৮৪-২৮৬; গৃহীত ইসলাম সাওয়াল জবাব ফাতওয়া-২৬৯৮৩)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]–কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:”নারীরা কি ঈদের সালাত তাদের বাড়িতে পড়তে পারবে?
শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তরে বলেন:
المشروع في حق النساء أن يصلين صلاة العيد في مصلى العيد مع الرجال ، لحديث أم عطية رضي الله عنها ، فالسنة أن يخرج النساء إلى مصلى العيد مع الرجال ، أما صلاة النساء في البيوت فلا أعلم في ذلك سنة”
“নারীদের জন্য শরীয়তের নির্দেশ হলো—তারা পুরুষদের সঙ্গে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের সালাত আদায় করবে। কারণ উম্মু আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীসে এমনটাই এসেছে। তাই সুন্নাত হলো, নারীরা পুরুষদের সঙ্গে ঈদগাহে যাবে। আর নারীরা বাড়িতে ঈদের সালাত পড়বে—এ বিষয়ে আমি কোনো সুন্নাতের কথা জানি না।”(ইবনু উসাইমীন; ফাতাওয়া নূরুল আলাদ দুরাব: ১৮৯/৮)
.
তাঁকে (শাইখ ইবনে উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ-কে) আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “একজন নারী জানতে চেয়েছেন, আমাদের এলাকায় নারীদের জন্য কোনো ঈদগাহ নেই। তাই আমি কিছু নারীকে আমার বাসায় একত্র করি এবং তাদের নিয়ে ঈদের সালাত আদায় করি। এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী?জেনে রাখুন, আমার বাসা পর্দাপূর্ণ এবং পুরুষদের থেকে দূরে।
তিনি উত্তর দিয়েছেন:
الحكم في ذلك أن هذا من البدعة ؛ فصلاة العيد إنما تكون جماعة في الرجال ، والمرأة مأمورة بأن تخرج إلى مصلى العيد فتصلى مع الرجال وتكون خلفهم بعيدة عن الاختلاط بهم .
وأما أن تكون صلاة العيد في بيتها فغلط عظيم ؛ فلم يعهد عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ولا عن أصحابه أن النساء يقمن صلاة العيد في البيوت “
“এই কাজটি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত; কারণ ঈদের সালাত জামাতে আদায় করা হয় পুরুষদের সঙ্গে। নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঈদগাহে গিয়ে পুরুষদের পেছনে থেকে সালাত পড়তে এবং পুরুষদের থেকে দূরে থাকতে। আর যদি নারী তার বাসায় ঈদের সালাত আদায় করে, তাহলে তা গুরুতর ভুল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের থেকে এমন কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না যে, নারীরা ঈদের সালাত বাড়িতে আদায় করেছেন। “(ইবনু উসাইমীন; ফাতাওয়া নূরুল আলাদ দুরাব: ১৮৯/৮)
.
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নারীরা যদি সক্ষম হন, তবে শারঈ পর্দা ও অন্যান্য বিধান পূর্ণভাবে মেনে ঈদগাহে গিয়ে পুরুষ ইমামের নেতৃত্বে ঈদের সালাত আদায় করাই সুন্নত ও উত্তম পদ্ধতি। ইসলামী শরীয়তে নারীদের জন্য পৃথকভাবে একাকী কিংবা বাড়িতে জামাআতের মাধ্যমে ঈদের সালাত আদায় করার কোনো স্বতন্ত্র বিধান প্রমাণিত নয়। যদিও ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) সহ কেউ কেউ অনুমতি দিয়েছেন কিন্তু বিশুদ্ধ মতানুসারে, ঈদের সালাত পুরুষদের জন্য ওয়াজিব হলেও নারীদের জন্য তা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। সুতরাং সুন্নত হচ্ছে—পুরুষদের সঙ্গে নারীরাও খোলা ময়দানে ঈদের সালাতে অংশগ্রহণ করবে। তবে ঈদগাহ বা ঈদের সালাত আদায়ের স্থান অধিক দূরে হওয়ার কারণে যাতায়াতের অসুবিধা থাকলে,অথবা সেখানে নারীদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে, কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য শারঈ কারণে কোনো নারী ঈদের সালাতে অংশ নিতে না পারলে এতে ইনশাআল্লাহ তার ওপর কোনো গুনাহ বর্তাবে না।অন্যদিকে, যদি কোনো পুরুষ ব্যক্তি শরীয়তসম্মত ওজরের কারণে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের দুই রাকাআত সালাত আদায় করতে অক্ষম হন, তাহলে একদল আলেমদের মতে তিনি বাড়িতে একাকী অথবা পরিবার-পরিজনসহ জামাআতের সঙ্গে ঈদের সালাত আদায় করতে পারবেন—এর প্রমাণ হিসেবে প্রখ্যাত সাহাবী আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমল উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘যাবিরা’ নামক স্থানে তাঁর মুক্তকৃত গোলাম ইবনু আবূ উতবাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন তাঁর পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের নিয়ে শহরের অধিবাসীদের ন্যায় তাকবীরসহ ঈদের সালাত আদায় করেন।(সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈদাইন, অনুচ্ছেদ: ২৫)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬◆◯◆▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

No comments:

Post a Comment

Translate