কুকুর হত্যার ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত বিধান হল, কুকুর হত্যা সংক্রান্ত ইসলামি বিধানকে নিম্নোক্ত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
◆ ১. আক্রমণকারী, পাগলা বা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কুকুরকে হত্যা করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। এ ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নাই। কারণ এ ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
◆ ২. কালো রঙের (বিশেষত চোখের উপরে দুটি ফোঁটাযুক্ত) কুকুরকে হত্যা করার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অর্থাৎ তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে তাও নিষিদ্ধ যদি তা আক্রমণাত্মক বা ক্ষতিকর না হয়।
◆ ৩. এ ছাড়া সাধারণভাবে কুকুর হত্যা করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজন বশত এক সময় সাধারণ ভাবে কুকুর হত্যার নির্দেশ জারি করার পরে তা মনসুখ বা রহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের বিধান বাতিল।
সুতরাং সর্বশেষ বিধান অনুযায়ী হিংস্র আক্রমণকারী ও ক্ষতি সাধন করে এমন কুকুর ছাড়া সকল প্রকার কুকুর হত্যা করা হারাম।
মোটকথা, ইসলামি শরিয়তের সর্বশেষ ও প্রাধান্য প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, আক্রমণকারী বা মারাত্মক ক্ষতিকর কুকুর ছাড়া অন্য কোনও সাধারণ কুকুরকে বিনা কারণে হত্যা করা নিষিদ্ধ (হারাম)।
╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾╾
✪ নিম্নে কুকুর হত্যা সম্পর্কে আলেমদের মতামত সহ দলিল ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করা হল:
কুকুর হত্যা সংক্রান্ত ইসলামি বিধানকে নিম্নোক্ত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
❑ ১. আক্রমণকারী বা ক্ষতিকর কুকুর হত্যা: সর্বসম্মত অনুমতি।
আক্রমণকারী, পাগলা বা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কুকুরকে হত্যা করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, জাপান সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আক্রমণকারী বা ক্ষতিকর কুকুর হত্যা অনুমোদিত। এই অনুমতি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষতিকর প্রাণীদের মধ্যে ‘আক্রমণকারী কুকুরকে চিহ্নিত করেছেন, যা মক্কার হারাম এলাকা এবং তার বাইরে উভয় স্থানেই হত্যা করা যায়। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ يُقْتَلْنَ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ – فَذَكَرَ مِنْهَا الْكَلْبَ الْعَقُورَ
“পাঁচ প্রকার ক্ষতিকর প্রাণী রয়েছে, সেগুলোকে মক্কার হারাম এলাকা কিংবা এর বাইরে অন্যত্র সবজায়গাতেই হত্যা করা যাবে। সেগুলোর মধ্যে একটি হল, আক্রমণকারী কুকুর।” [বুখারি, হাদিস নং ৩১৩৬; মুসলিম, হাদিস নং ১১৯৮] ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “যা কিছু মানুষকে আক্রমণ করে বা তাদের উপর চড়াও হয় এবং তাদের ভীত করে— যেমন: সিংহ, চিতাবাঘ, বাঘ, নেকড়ে—এই সবই ‘আক্রমণকারী কুকুর’-প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।” [উৎস: আল-মুয়াত্তা, ১/৪৪৬]
❑ ২. কালো কুকুর হত্যা: মতবিরোধ ও রহিত করণের বিধান।
কালো রঙের (বিশেষত চোখের উপরে দুটি ফোঁটাযুক্ত) কুকুরকে হত্যা করার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এই মতবিরোধের কারণ হল, কিছু হাদিসে কালো রঙ্গের কুকুর হত্যার নির্দেশ এসেছে। যেমন:
১. আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَوْلاَ أَنَّ الكِلاَبَ أمَّةٌ مِنَ الأمَمِ لأمَرْتُ بِقَتْلِهَا فَاقْتُلُوا كُلَّ أسْوَدَ بَهِيمٍ
“যদি কুকুরগুলো আল্লাহর সৃষ্ট একটি জাতি না হতো তবে আমি সেগুলোকে হত্যা করার নির্দেশ দিতাম। সুতরাং তোমরা কেবল কালো রঙের নির্বিশেষ কুকুরগুলোকে হত্যা করো।” [হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: তিরমিজি হাদিস নং ১৪৮৬; আবু দাউদ, হাদিস নং ২৮৪৫; নাসাঈ, হাদিস নং ৪২৮০; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২০৫, আলবানি সহিহ তিরমিজি গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন]
২. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
“রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে কোনও নারী তার কুকুর নিয়ে গ্রাম থেকে আসলে আমরা তাকেও হত্যা করতাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেগুলোকে হত্যা করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন:
عَلَيْكُمْ بِالأسْوَدِ البَهِيمِ ذِي النُّقْطَتَيْنِ فَإنَّهُ شَيْطَانٌ
‘তোমরা কালো রঙের নির্বিশেষ কুকুর যার চোখের উপরে দুটি সাদা ফোঁটা আছে সেটার দিকে মনোযোগী হও। কেননা এটি হল শয়তান’।” [মুসলিম, হাদিস নং ১৫৭২] (অর্থাৎ এগুলো কুকুর রূপী শয়তান বা ক্ষতিকর)
➧ কুকুর হত্যা সম্পর্কে ইবনে কুতাইবা (রহিমাহুল্লাহ) মুখতালাফুল হাদিস গ্রন্থে বলেন, আমরা সাধারণত কুকুরকে যেমন দেখি, এর বাইরেও কুকুর হয়তো হিংস্র প্রাণীদের একটি অংশ অথবা তারা জিনদের একটি অংশ হতে পারে। আমাদের বিবেক বা বুদ্ধি দিয়ে এটি জানা যাবে না। বরং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন, সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। তিনি কালো কুকুর হত্যার নির্দেশ সম্পর্কিত হাদিসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল কালো কুকুর মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেটিকে “শয়তান” বলেছেন।
ইবনে কুতাইবা এর কয়েকটি কারণ দেখিয়েছেন। যেমন:
❖ ১. ক্ষতিকর স্বভাবের কারণে:
ক. কালো নির্বিশেষ কুকুরগুলো অন্যান্য কুকুরের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক।
খ. জলাতঙ্ক রোগ তাদের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়।
গ. এগুলো কম কাজের— ভালো পাহারা দিতে পারে না, শিকারেও ভালো নয় এবং বেশি ঘুমায়।
❖ ২. শয়তান বলার কারণ:
কালো কুকুরকে “শয়তান” বলার অর্থ হল, এটি তার জাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুষ্ট (খবিস)। যেমন আমরা বলি, “অমুক লোকটা শয়তান”, যার মানে সে লোকটির স্বভাব খুব খারাপ। এখানেও সেটিকে স্বভাবের দিক থেকে শয়তানের মতো বলা হয়েছে।
❖ ৩. যদি তারা জিন হয়ে থাকে:
যদি কুকুর জিন বা জিন থেকে রূপান্তরিত প্রাণীও হয় তাহলেও কালো কুকুরগুলো তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর বা উগ্র শয়তান। তাই তাদের ক্ষতি থেকে বাঁচতে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোটকথা, ইবনে কুতাইবা (রহ.)-এর মতে, কালো কুকুর স্বভাবে সবচেয়ে খারাপ, বেশি আক্রমণাত্মক এবং বেশি রোগ ছড়ায়— এই কারণেই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেগুলোকে মারার নির্দেশ দিয়েছেন।
➧ ইবনে আব্দুল বার রাহ. তার আল ইস্তিযকার গ্রন্থে বলেন, আলিমদের একটি দল বলেছেন:
কুকুর হত্যার নির্দেশটি মনসুখ (রহিত বা বাতিল) হয়ে গেছে। তবে কালো নির্বিশেষ কুকুর ব্যতীত। সুতরাং তা হত্যা করতে হবে।
এই মতের অনুসারী কেউ কেউ বলেছেন: কালো রঙের নির্বিশেষ কুকুর হল অন্যান্য কুকুরের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং উপকার নেওয়ার অনুপযোগী।
তাঁরা বলেন যে, হাদিসে এসেছে, কালো কুকুর হল ‘শয়তান’। এর অর্থ হল: এটি কল্যাণ ও উপকার থেকে অনেক দূরে এবং ক্ষতি ও কষ্ট দেওয়ার দিক থেকে খুবই কাছাকাছি।মানুষ এবং জিনের মধ্যেকার শয়তানদেরও একই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে অন্য একদল আলেমের মতে কালো কুকুর হত্যার প্রাথমিক নির্দেশটি পরবর্তী নির্দেশনা দ্বারা মনসুখ (রহিত বা বাতিল) হয়ে গেছে। অর্থাৎ আক্রমণকারী ও ক্ষতিকর না হলে কালো বা অন্য কোনও রঙের কুকুরকে হত্যা করা যাবে না।
✪ এই মতের পক্ষে দলিল সমূহ নিম্নরূপ:
◆ ১. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا تَتَّخِذُوا شَيْئًا فِيهِ الرُّوحُ غَرَضًا
“তোমরা আত্মা বিশিষ্ট কোনও কিছুকে (অস্ত্রের) লক্ষ্যবস্তু বানাবে না।” [সহীহ মুসলিম, ১৯৫৭] এই নিষেধাজ্ঞা কুকুরসহ সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কুকুরের রং যেমনই হোক না কেন।
◆ ২. তাছাড়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাত্র পাঁচ প্রকারের ক্ষতিকর প্রাণীকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন। যার মধ্যে একটি হল, “আক্রমণকারী কুকুর”।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ يُقْتَلْنَ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ – فَذَكَرَ مِنْهَا الْكَلْبَ الْعَقُورَ
“পাঁচ প্রকারের প্রাণী হিল্ল এবং হারাম তথা মক্কার হারাম এলাকা এবং তার বাইরে উভয় স্থানেই হত্যা করা যায়”। এর মধ্যে তিনি কেবল আক্রমণকারী কুকুরের কথা উল্লেখ করেছেন। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম] এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র ক্ষতিকর কুকুরকেই হত্যা করা যাবে। কুকুরের গায়ের রঙ্গের উপর ভিত্তি করে কুকুর হত্যা করা যাবে না।
◆ ৩. হাদিসে এসেছে যে, একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর মাধ্যমে একজন বেশ্যা নারী আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
فِي كُلِّ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ
“প্রতিটি তাজা প্রাণেই (অর্থাৎ প্রাণীর প্রতি দয়া করার মধ্যে) প্রতিদান রয়েছে।” [সহিহ বুখারি] এ হাদিসের আলোকে এই মতের আলেমদের যুক্তি হল, যার প্রতি দয়া করলে পুরস্কার পাওয়া যায় তাকে হত্যা করা যায় না।
◆ ৫. কালো কুকুরকে ‘শয়তান’ বলা হয়েছে। তাই বলে কি তাকে হত্যা করা যায়?
এ মতের আলেমদের মতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী “কালো রঙের কুকুর শয়তান” দ্বারা সেটিকে হত্যা করার নির্দেশ আসে না। কারণ আল্লাহ তাআলা কিছু জিন এবং কিছু মানুষকেও ‘শয়তান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু তাই বলে মানুষরূপী শয়তানদেরকে হত্যা করার নির্দেশ নেই। কালো কুকুর কে শয়তান বলার উদ্দেশ্য হল, এ প্রজাতির কুকুর স্বভাবগতভাবে বেশি হিংস্র ও ক্ষতিকর।
ইমাম ইবনে আব্দুল বার রাহ, তাঁর ‘কিতাবুত তামহীদ’ গ্রন্থে এই প্রসঙ্গে আরও বলেন: “এই বিষয়ে আমি যা পছন্দ করি তা হল, কুকুর যদি কারো ক্ষতি না করে এবং কাউকে আক্রমণ না করে তাহলে সেগুলোর কোনটিই হত্যা করা যাবে না।” মোটকথা, এই মত অনুযায়ী, যদি কোনও কালো কুকুর আক্রমণাত্মক বা ক্ষতিকর না হয় তবে তাকেও হত্যা করা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ রঙের ভিত্তিতে হত্যা করার বিধানটি আর কার্যকর নয়।
দলিল ও যুক্তির নিরিখে এটি অধিক বিশুদ্ধ ও প্রাধান্য প্রাপ্ত মত বলে বিবেচিত হয়। আল্লাহু আলাম-আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
❑ ৩. সাধারণ কুকুর হত্যা: সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা:
আক্রমণকারী বা ক্ষতিকর নয়— এমন যেকোনো সাধারণ কুকুরকে (তা যে রঙেরই হোক না কেন) হত্যা করা হারাম। মদিনায় একবার কুকুর হত্যার যে সাধারণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যাহার করে নেন (মনসুখ)। এছাড়াও শিকারি কুকুর, গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামার পাহারার জন্য প্রশিক্ষিত কুকুর ছাড়া সব ধরণের কুকুর হত্যার নির্দেশ সংক্রান্ত হাদিসগুলো এখানে উল্লেখ্য। কিন্তু হত্যার বিধান সম্বলিত হাদিসগুলো মনসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। যেমনটি পূর্বে এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও পূর্বোল্লিখিত, সৃষ্টির প্রতি দয়া বা পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর মর্যাদা এবং সব ধরণের প্রাণীকে অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু বানানোর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসগুলো প্রযোজ্য। আরেকটা যুক্তি হল, যদি কুকুর হত্যার নির্দেশ রহিত না হতো তাহলে হত্যা করা ওয়াজিব হত।
কিন্তু যুগে যুগে বিভিন্ন মুসলিম দেশে এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায় না যে, মানুষ কুকুর হত্যা না করার কারণে তৎকালীন কাজি বা বিচারকগণ তাদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এ কারণে যে, তারা কুকুর হত্যার ব্যাপারে আল্লাহর রসুলের নির্দেশ মানেনি। মোটকথা, সর্বশেষ ও প্রাধান্য প্রাপ্ত মত অনুযায়ী, হিংস্র, আক্রমণকারী ও ক্ষতি সাধন করে এমন কুকুর ছাড়া অন্য সব ধরনের সাধারণ কুকুর বিনা কারণে হত্যা করা ইসলামে নিষিদ্ধ। কেননা ইসলামি নীতি অনুসারে, প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া ও করুণা প্রদর্শন করার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহু আলাম (আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন)।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment