Thursday, January 8, 2026

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননাকারী অপরাধীর তওবা এবং দণ্ডবিধি সংক্রান্ত আলোচনা

 রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননা: অপরাধীর তওবা এবং দণ্ডবিধি সংক্রান্ত আলোচনা।

নিম্নে কয়েকটি পয়েন্টে এ বিষয়ে আলোচনা উপাস্থাপন করা হলো:
✪ ক. যদি কোনো কাফের ইসলাম গ্রহণ করে এবং কুফরি অবস্থায় সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিয়ে থাকে তবে তার ইসলাম গ্রহণ পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেবে এবং তার ওপর থেকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিল হয়ে যাবে।
✪ খ. কিন্তু এই গালি প্রদানকারী যদি মুসলিম হয়ে থাকে এবং গালি দেওয়ার কারণে মুরতাদ হয়ে যায়। অতঃপর তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে তবে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হওয়া নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে:
– শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.-সহ একদল গবেষক আলেম যে মতটি বেছে নিয়েছেন তা হলো, তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হবে না।
❑ শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ. বলেছেন:
” إذا سب الرسول فإنه يكفر، سواء كان جاداً أو مازحاً أو مستهزئاً، فإنه يكفر لقول الله تعالى: ( قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ * لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ) [التوبة:65-66] ولكن إذا تاب تقبل توبته؛ لقوله تبارك وتعالى: (قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ) [الزمر:53].
ولكن هل يسقط عنه القتل؟ الجواب على هذا: فيه تفصيل: إن كان الذي سب الرسول صلى الله عليه وسلم سبه وهو كافر لم يسلم بعد فإنه لا يقتل؛ لعموم قوله تعالى: (قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ) . [الأنفال:38]. أما إذا كان الذي سب الرسول مسلماً وارتد بسبب سبه الرسول صلى الله عليه وسلم
فإن القول الراجح الذي اختاره شيخ الإسلام ابن تيمية أنه يقتل مع قبول توبته ؛ أخذاً بالثأر للرسول صلى الله عليه وسلم. فإن قال قائل: إنه قد وجد أناس سبوا الرسول صلى الله عليه وسلم وقبل توبتهم ولم يقتلهم. قلنا: نعم. هذا صحيح، لكن الحق في القتل لمن ؟ للرسول صلى الله عليه وسلم ، وإذا عفا عنهم في حياته فالحق له ، إن شاء قتلهم وإن شاء لم يقتلهم ، لكن بعد موته لا نستطيع معرفة إن كان الرسول سيعفو عنهم أم لا، فإذا كانوا مستحقين للقتل بسبهم الرسول صلى الله عليه وسلم وهو حق آدمي ، ولم نعلم أنه عفا عنهم ، فإن الواجب قتلهم . ثم إن في قتلهم مصلحة وهو كف ألسنة غيرهم عن سب الرسول صلى الله عليه وسلم ، أما هم فقد قبل الله توبتهم إذا كانت توبتهم نصوحاً، وأمرهم إلى الله ، وإذا لم يقتلوا اليوم ماتوا غداً، وهذا هو القول الراجح في هذه المسألة
ويرى بعض العلماء أنه إذا تاب فلا تقبل توبته ويقتل كافراً، وهو المشهور في مذهب الإمام أحمد ، قال في زاد المستقنع : “ولا تقبل توبة من سب الله أو رسوله” ، ولكن هذا القول ضعيف؛ لأن الصواب: أن التوبة مقبولة متى صدرت على الوجه الصحيح ، لكن إن كان سب الله فإنه لا يقتل ، وإن كان قد سب الرسول فإنه يقتل، ولعلكم تتعجبون فتقولون: أيهما أعظم: سب الله ، أم ؟!سب الرسول صلى الله عليه وسلم
الجواب: سب الله أعظم بلا إشكال ، إذاً.. فلماذا إذا تاب من سب الله قبلنا توبته ولم نقتله ، وإذا تاب من سب الرسول قبلنا توبته وقتلناه ؟ لأن من سب الله وتاب تاب الله عليه، وقد أخبر الله تعالى عن نفسه أنه يسقط حقه فقال: (قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ) [الزمر
:53] فنحن نعلم أن الله تعالى قد عفا عنه بتوبته من سب الله ، أما من سب الرسول فلا نعلم أن الرسول عفا عنه ، وحينئذٍ يتعين قتله . هذا وجه الفرق بينهما. وذهب بعض العلماء: إلى أن من سب الله أو رسوله ثم تاب قبلت توبته ولم يقتل، فصارت الأقوال في المسألة ثلاثة، أرجحها أن توبته تقبل ويقتل” انتهى من ” لقاءات الباب المفتوح ” (53/6) .
“যদি কেউ রসুলকে গালি দেয় তবে সে কাফের হয়ে যাবে—চাই সে তা গুরুত্বের সাথে করুন, ঠাট্টাচ্ছলে করুক কিংবা উপহাস করে করুক। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ * لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ
“বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রসুলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা ওজর পেশ করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।” [সূরা তাওবা: ৬৫-৬৬]
তবে সে যদি তওবা করে তবে তার তওবা কবুল হবে। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“বলো, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা যুমার: ৫৩]
➧ কিন্তু━তার ওপর থেকে কি মৃত্যুদণ্ড বাতিল হবে?
এর উত্তরে ব্যাখ্যা রয়েছে। তা হলো,
❖ যদি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি প্রদানকারী ব্যক্তি কাফের থাকা অবস্থায় গালি দেয় এবং তখনও ইসলাম গ্রহণ না করে থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে না। কারণ আল্লাহর সাধারণ ঘোষণা হলো:
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ
“যারা কুফরি করেছে তাদের বলো, যদি তারা বিরত হয় তবে অতীতে যা হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে।” [সূরা আনফাল: ৩৮]
❖ পক্ষান্তরে যদি গালি প্রদানকারী ব্যক্তি মুসলিম হয়ে থাকে এবং এই গালির কারণে মুরতাদ হয়ে যায় তবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী—যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ পছন্দ করেছেন—রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে প্রতিশোধ স্বরূপ তার তওবা কবুল হওয়া সত্ত্বেও তাকে হত্যা করা হবে।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে: অনেক মানুষ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিয়েছিল এবং তিনি তাদের তওবা কবুল করেছিলেন ও তাদের হত্যা করেননি। (তাহলে তওবা করার পরও এখন কেন তাকে হত্যা করা হবে?)
আমরা বলব: হ্যাঁ, এটি সঠিক। কিন্তু হত্যার অধিকারটি কার? এটি ছিল রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যখন কাউকে ক্ষমা করে দিয়েছেন সেটি তাঁর অধিকার ছিল। তিনি চাইলে তাদের হত্যা করতেন বা না করতেন। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর আমরা জানার কোনো উপায় রাখি না যে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করতেন কি না।
সুতরাং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেওয়ার কারণে যখন তারা হত্যার যোগ্য হলো এবং এটি যেহেতু একজন মানুষের (রসুলের) অধিকার আর আমরা যেহেতু জানি না যে, তিনি তাকে ক্ষমা করেছেন কি না। তাই তাদের হত্যা করা ওয়াজিব।
তাছাড়া তাদের হত্যা করার মাঝে একটি বড় সামাজিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তা হলো, অন্যদের জিহ্বাকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেওয়া থেকে সংযত রাখা।
তাদের তওবা যদি একনিষ্ঠ হয় তবে আল্লাহ তা কবুল করবেন এবং তাদের পরকালীন বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। আজ তারা নিহত না হলেও কাল তো মারা যাবেই। এই বিষয়ে এটিই অগ্রগণ্য মত।
কিছু আলেম মনে করেন, তওবা করলে তা (দুনিয়াতে) কবুল হবে না এবং তাকে কাফের হিসেবেই হত্যা করা হবে। এটি ইমাম আহমদ রহ.-এর মাজহাবে প্রসিদ্ধ।
‘যাদুল মুস্তাকনি’ কিতাবে বলা হয়েছে: ‘আল্লাহ বা তাঁর রসুলকে গালি প্রদানকারীর তওবা কবুল করা হবে না।’ কিন্তু এই মতটি দুর্বল। সঠিক হলো, তওবা সঠিক উপায়ে সম্পন্ন হলে তা গ্রহণযোগ্য। তবে কেউ যদি আল্লাহকে গালি দেয় (এবং তওবা করে) তবে তাকে হত্যা করা হবে না, কিন্তু রসুলকে গালি দিলে হত্যা করা হবে।
আপনারা হয়তো অবাক হয়ে বলবেন: আল্লাহর শান বেশি বড় নাকি রসুলের?
অবশ্যই আল্লাহর শান বেশি বড় এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাহলে কেন কেউ আল্লাহকে গালি দিয়ে তওবা করলে আমরা তাকে হত্যা করি না। কিন্তু রসুলকে গালি দিয়ে তওবা করলে হত্যা করি?
কারণ━কেউ আল্লাহকে গালি দিলে এবং তওবা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। আল্লাহ তাঁর নিজের পক্ষ থেকে তাঁর অধিকার হরণের বিষয়টি ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“বলো, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা যুমার: ৫৩]
সুতরাং আমরা জানি যে আল্লাহ তওবার মাধ্যমে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু রসুলকে গালিকারীকে তিনি (রসুল) ক্ষমা করেছেন কি না তা আমরা জানি না। তাই এমতাবস্থায় তাকে হত্যা করাই নির্ধারিত। এটিই উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের কারণ। অন্য কিছু আলেম মনে করেন, আল্লাহ বা রসুলকে গালি দেওয়ার পর কেউ তওবা করলে তা কবুল হবে এবং তাকে হত্যাও করা হবে না। ফলে এই মাসআলায় মোট তিনটি মত পাওয়া গেল, যার মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হলো: তার তওবা কবুল হবে কিন্তু তাকে হত্যা করা হবে।” [লিক্বাউল বাবিল মাফতুহ ৫৩/৬]
❑ এই দণ্ড কার্যকর করার দায়িত্ব কার?
✪ জেনে রাখা উচিত যে, এই মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিষয়টি একটি ‘হদ’ (নির্ধারিত দণ্ড) এবং হদ কায়েম করার দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্রের শাসকের। অর্থাৎ বিষয়টি বিচারালয়ে তোলা হলে মুসলিম শাসক তার ওপর এই দণ্ড কার্যকর করবেন।
✪ আর গালি প্রদানকারী ব্যক্তির বিষয়টি যদি আল্লাহ গোপন রাখেন এবং আদালতের কাছে প্রকাশ না পায় তবে তার কর্তব্য হলো, নিজের বিষয়টি গোপন রাখা এবং একনিষ্ঠভাবে তওবা ও ইস্তেগফার করা। সেই সাথে অধিক হারে সৎ কাজ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা ও সম্মান করা এবং তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা; যাতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ওপর সন্তুষ্ট করে দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
“আর নিশ্চয় আমি তার প্রতি পরম ক্ষমাশীল যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎ কাজ করে এবং সৎপথে অবিচলিত থাকে।” [সূরা ত্বহা: ৮২]
তিনি আরও বলেছেন:
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ
“অতঃপর যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে এবং পরে তওবা করে ও নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তোমার রব তাদের প্রতি এসবের পর অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আন-নাহল: ১১৯]
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
لَا يَسْتُرُ اللَّهُ عَلَى عَبْدٍ فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“আল্লাহ দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখলে কিয়ামতের দিনও আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।” [সহীহ মুসলিম: ২৫৯০]
আল্লাহই ভালো জানেন। [islamqa থেকে সংক্ষেপিত]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate