Thursday, January 8, 2026

জিন ও ভূত-পরী ও দৈত্য-দানব ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী জিন জাতির অস্তিত্বে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। পবিত্র কুরআন ও হাদিস দ্বারা তাদের অস্তিত্ব অকাট্যভাবে প্রমাণিত। জিনদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা ঈমান-পরিপন্থী কাজ। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জিনদের নিয়ে বহু আয়াত নাজিল করেছেন এবং তাদের নামে ‘সূরা জিন’ নামক একটি স্বতন্ত্র সূরাও রয়েছে। (সূরা নম্বর: ৭২)
✪ জিন জাতির সৃষ্টি ও প্রকৃতি:
মানবজাতি সৃষ্টির বহু আগে থেকেই আল্লাহ তাআলা জিনদের সৃষ্টি করেছেন। মানুষের যেমন স্বাধীন ইচ্ছা ও বিবেক আছে, জিনদেরও তেমনি রয়েছে। তারা প্রধানত আগুন থেকে সৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন:
وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ
“এবং তিনি এর আগে জিনকে সৃষ্টি করেছেন প্রখর অগ্নিশিখা থেকে।” [সূরা হিজর: ২৭]
মানুষের মতো জিনদের মধ্যেও নারী-পুরুষের বিভাজন রয়েছে এবং তারা বংশবৃদ্ধি করে। তাদের মধ্যে ভালো ও মন্দ—উভয় প্রকারেরই জিন রয়েছে। কেউ অত্যন্ত পরহেজগার। আবার কেউ পাপাচারী। আল্লাহ তাআলা জিনদের বিভিন্ন জড় পদার্থ বা জীবজন্তুর রূপ ধারণ করার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছেন। তবে দুষ্ট প্রকৃতির জিনদের কুরআন ও হাদিসে ‘শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা মানুষের প্রকাশ্য শত্রু এবং নানাভাবে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করে।
✪ জিন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা বনাম বাস্তবতা:
আমাদের সমাজে দুষ্ট পুরুষ জিনদের ‘ভূত’ বা ‘দৈত্য’ এবং দুষ্ট নারী জিনদের ‘পেত্নী’ বা ‘শাকচুন্নি’ বলে ডাকার প্রচলন আছে। লোককাহিনি বা সিনেমা-নাটকে তাদের বিশাল দেহ, শিং বা ভয়ঙ্কর কুৎসিত অবয়বে কল্পনা করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে নারী জিনদের ডানাওয়ালা সুন্দরী ‘পরী’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। মূলত এগুলো মানুষের কল্পনাপ্রসূত ধারণা, যার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।
✪ জিন সম্পর্কে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি:
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জিনদের নিজস্ব আসল আকৃতিতে দেখার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ
“নিশ্চয়ই সে (শয়তান) এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না।” [সূরা আরাফ: ২৭]
যেহেতু জিন জাতি মানুষের চোখের আড়ালে (গায়েব) থাকে তাই নিছক কল্পনার ওপর ভিত্তি করে নাটক, সিনেমা বা কার্টুনে তাদের ছবি আঁকা বা কাল্পনিক দৃশ্যে উপস্থাপন করা নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী শরিয়তসম্মত নয়। এ ধরণের অলীক চিত্রায়ন মানুষের মনে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি করে এবং আকিদাগত বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাই একজন মুমিনের উচিত, এসব রূপকথা বা কাল্পনিক চরিত্রে বিশ্বাস না করে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান রাখা। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল। 

No comments:

Post a Comment

Translate