Thursday, January 8, 2026

এক বা দুই তালাকের সঠিক নিয়ম এবং খুলা তালাক হলে পুনরায় একত্র হওয়া বা নতুন করে বিবাহের নিয়ম

 প্রশ্ন: স্বামী এক বা দুই তালাক দিলে ইদ্দতের মধ্যে এবং ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে ফিরিয়ে নেওয়ার সঠিক নিয়ম কী? আর খুলা হলে তাদের পুনরায় একত্র হওয়া বা নতুন করে বিবাহের নিয়ম কী?

▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
▪️প্রথমত: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি। অতঃপর স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না; তালাকের অধিকার শরিয়তে কেবল স্বামীর জন্যই নির্ধারিত। এ কারণেই কুরআনে তালাক সম্পর্কিত সকল নির্দেশ ও বিধান সরাসরি স্বামীদের উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে নয়। সুতরাং কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে একই সঙ্গে তিন বা ততোধিক বার অথবা একবার তালাক দিলে তা এক তালাক (রিজয়ী) কার্যকর হয়। তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর উপস্থিতি ও সম্মতি কিংবা সাক্ষী যরূরী নয়। বরং স্বামী তার স্ত্রীর অজ্ঞাতসারে ও অনুপস্থিতিতেও তালাক দিতে পারে। অতঃপর স্ত্রী সেই তালাকে রাজি থাকুক বা না থাকুক, তালাক প্রতিষ্ঠিত হবে। তালাক দেওয়া হলে স্ত্রী তার স্বামীর বাড়িতে তিনটি হায়েয ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত চলাকালীন সময় উক্ত নারীর জন্য স্বাভাবিক ভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়া জায়েয নয়। স্বামীর জন্যও ইদ্দত শেষ হয়ে বেগানা হওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া জায়েয নয়। ইদ্দতের সময় স্বামীর বাড়িতে থাকার মাঝে নিহিত গূঢ় রহস্য হল হয়তো এতে করে স্বামী স্ত্রীর প্রতি ঝুঁকে পড়বে এবং তাকে ফিরিয়ে নিবে। ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর জন্য স্বামীর সামনে নিজেকে উন্মোচন করা, স্বামীর জন্য সাজগোজ করা, কথাবার্তা বলা বা একা তার কাছে থাকা জায়েয। কিন্তু স্বামীর জন্য তাকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া তার সাথে সহবাস করা জায়েয নয় কিংবা সহবাস করলে ফিরিয়ে আনার নিয়তে করতে হবে। ইসলামি শরীয়ত ফিরিয়ে নেয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। পাশাপাশি জেনে রাখা ভাল যে, তিনটি হায়েজ ইদ্দত পালনের সময় উক্ত নারী অন্য কোথাও কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ বসতে পারবে না। যদি বিবাহ হয়ে যায় তাহলে সেই বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সাথে সাথে তাদের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে।
.
পক্ষান্তরে ইদ্দতের মেয়াদ চলাকালীন যে কোনো সময় তালাক দেওয়া স্বামী চাইলে তাকে পুনরায় বিবাহ ছাড়াই ফিরিয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন বিবাহের প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট। কিন্তু ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে না নিলে আর ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে স্ত্রী তার জন্য নন মাহরাম (বেগানা) নারীতে পরিনত হয়ে যায়। তখন তার সাথে একাকী হওয়া, তাকে স্পর্শ করা ও তার দিকে তাকানো বৈধ হবে না। অতঃপর এক বা দুই তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে পেতে চাইলে নতুন করে অভিভাবকের সম্মতিতে নতুন মহর নির্ধারণ ও নতুন আকদসহ পুনরায় বিয়ে করতে হবে। দলিল হচ্ছে, হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মা‘কীল ইবনু ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বোন এক ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। সে তাকে ত্বালাক্ব দিয়েছিল। অতঃপর তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে তার থেকে দূরে অবস্থান করতে থাকে, আর এভাবেই তার ইদ্দতকাল অতিবাহিত হয়ে গেল, পরক্ষণেই সে আবার তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল। মা‘কীল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এতে খুবই রাগান্বিত হলেন এবং তিনি বললেন, সময় থাকতে ফিরিয়ে নিল না, এখন আবার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে! তিনি বিয়ের ব্যাপারে তাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন, ‘আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে ত্বালাক্ব দাও এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, অতঃপর তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তাহলে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে পুনর্বিবাহ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না”।(সূরা আল-বাক্বারাহ:২৩২)। এরপর রাসূল (ﷺ) মা‘কীল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাকলেন এবং তাঁর সম্মুখে আয়াতটি পাঠ করলেন। তিনি তার অহমিকা পরিত্যাগ করে আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করেন”।(সহীহ বুখারী, হা/৫৩৩১, আবূ দাঊদ, হা/২০৮৭; তিরমিযী, হা/২৯৮১)
.
পক্ষান্তরে স্বামী যদি স্ত্রীকে পূর্ণ তিন তালাক প্রদান করে ফেলে, তাহলে আর সে পূর্ব স্বামীর জন্য বৈধ থাকে না—যতক্ষণ না সে অন্য একজন স্বামীর সঙ্গে প্রকৃত বৈধ বিবাহে আবদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে সেই স্বামী স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দেয় অথবা তার মৃত্যু ঘটে। এরপর ইদ্দত শেষ হলে আগের স্বামী চাইলে তাকে পুনরায় বিয়ে করতে পারে। জ্ঞাতব্য যে, এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে ‘হালালা-বিবাহ’ দিয়ে স্ত্রী হালাল করা বৈধ নয়। যেহেতু তাতে স্ত্রী হালাল হয় না। দলিল মহান আল্লাহ বলেছেন, فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّـهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّـهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ “অতঃপর উক্ত স্ত্রীকে যদি সে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তবে সে পর্যন্ত না ঐ স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করবে, তার পক্ষে সে বৈধ হবে না। অতঃপর ঐ দ্বিতীয় স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় এবং যদি উভয় মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে, তাহলে তাদের (পুনর্বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে) ফিরে আসায় কোন দোষ নেই। এ সব আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ ঐগুলি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।”(সূরা বাকারাহ: ২৩০) এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন; আল-ইনসাফ, খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ২০৪; তিরমিযী, ৩/৪৮৩; আল-ইশরাফ, ৫/৩৬০; ইবনু কুদামাহ,আল-মুগনী, ৮/৯৭; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৩/৭-১২ পৃ; ইবনু কাইয়ুম, ই‘লামুল মাওক্বিঈন, ৩/৩৪ পৃ.; আল-ফুরূঊ, ৯/১৯; আল-ইনসাফ, ৮/৩৩৪; সুবুলুস সালাম, ২/২৫৬; নাইনুল আওত্বার, ৬/২৯০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৩০৫; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব ইবনু বায, ২১/৪৭৭; তাফসীরুল উসাইমীন, ৩/১১৫ পৃ.)।
.
▪️দ্বিতীয়ত: খুলা হলে তাদের পুনরায় একত্র হওয়া বা নতুন করে বিবাহের নিয়ম কী?
.
খুলা হচ্ছে কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী সে বিনিময়টি গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে; এ বিনিময়টি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহরানা হোক কিংবা এর চেয়ে বেশি সম্পদ হোক কিংবা এর চেয়ে কম হোক। কুরআন ও সহীহ হাদীসে খুলা করার বৈধতা রয়েছে। এ বিধানের দলিল হচ্ছে, আল্লাহ্‌র বাণী: “আর তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো (বিদায় করার সময়) তা থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। তবে এটা স্বতন্ত্র, স্বামী-স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না বলে আশংকা করে, তাহলে এমতাবস্থায় যদি তোমরা আশংকা করো, তারা উভয়ে আল্লাহ্‌ নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রীর কিছু বিনিময় দিয়ে তার স্বামী থেকে বিচ্ছেদ লাভ করায় উভয়ের কোন গুনাহ নেই।”[সূরা বাক্বারা: ২২৯] সুন্নাহ্‌ থেকে এর দলিল হচ্ছে, সাবেত বিন ক্বাইস বিন শাম্‌মাস এর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি সাবেত বিন ক্বাইসের উপর চারিত্রিক বা দ্বীনদারির কোন দোষ দিবো না। কিন্তু, আমি মুসলিম হয়ে কুফরিতে লিপ্ত হতে অপছন্দ করি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দিবে? সাবেত মোহরানা হিসেবে তাকে বাগান দিয়েছিল। সে বলল: জ্বি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: বাগানটি গ্রহণ করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দাও”(সহিহ বুখারী হা/৫২৭৩) এই ঘটনা থেকে আলেমগণ গ্রহণ করেন যে, কোন নারী যদি তার স্বামীর সাথে অবস্থান করতে না পারে সেক্ষেত্রে বিচারক স্বামীকে বলবেন তাকে তালাক দিয়ে দিতে; বরং স্বামীকে তালাক দেয়ার নির্দেশ দিবেন। এর পদ্ধতি হচ্ছে- স্বামী বিনিময় গ্রহণ করবেন কিংবা তারা দুইজন এ বিষয়ে একমত হবেন; এরপর স্বামী তার স্ত্রীকে বলবেন: আমি তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম কিংবা আমি তোমাকে খুলা তালাক দিলাম, কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন শব্দ। খুলা: এটি বিবাহ বিচ্ছেদ। এটি তিন তালাক্বের সংখ্যার মধ্যে গণ্য নয়। খুলা হয়ে যাওয়ার পরপরই স্ত্রী স্বামীর কাছে বেগানা নারীতে পরিণত হবে। তার সাথে একাকী অবস্থান করা বৈধ হবে না। নতুন আকদ (বৈবাহিক চুক্তি) ও মোহারানা ছাড়া তাকে ফিরিয়ে আনাও যাবে না। এর মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়ে যায়। খোলা গ্রহণকারী মহিলা কতদিন ইদ্দত পালন করতে হবে এই মাসালায় আহালুল আলেমগনের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। চার খলীফাসহ সাহাবী ও বিদ্বানগণের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী, খুলা গ্রহণকারী স্ত্রীর উপর একটি হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) ইদ্দত (অপেক্ষাকাল) পালন করা ওয়াজিব। তবে যদি সে গর্ভবতী হয়, তাহলে তার ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত। দলিল হচ্ছে, ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। ছাবিত ইবনু ক্বায়স রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী তার কাছ থেকে খোলা তালাক নিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইদ্দাতকাল নির্ধারণ করলেন এক হায়েয। (আবূ দাঊদ, হা/২২২৯)।সুতরাং একবার হায়েয শেষ হলে তার ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে। ইদ্দত শেষ হওয়া পর সে মহিলা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে; এর আগে নয়। সুতরাং তার ইদ্দত তথা এক হায়েয শেষ হয়ে যাওয়ার পর কিংবা সে গর্ভবতী হলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শরীয়তের শর্তাবলি তথা অভিভাবকের অনুমতি ও দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি সাপেক্ষে যে কোনো পুরুষের সাথে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তবে স্ত্রী খোলা গ্রহণ করার পরে প্রথম স্বামী যদি পুনরায় তাকে বিবাহ করতে চায় তাহলে ঐ মহিলার অভিভাবক এবং তার নিজের সম্মতিক্রমে দুজন সাক্ষী, নতুন আকদ এবং নতুন মোহর নির্ধারণের মাধ্যমে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ইদ্দত পালন করা জরুরি নয়। এ ব্যাপারে ফকীহদের মাঝে কোন দ্বিমত নাই। তবে যেহেতু নতুন বিবাহ তাই প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হলেও ওয়ালী বা অভিভাবকের অনুমতি নেয়া অপরিহার্য। অনুরূপভাবে ইদ্দত পালন শেষে যদি সে অন্যত্র বিবাহ করতে চায় তবুও ওয়ালী বা অভিভাবকের অনুমতি নেয়া আবশ্যক। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: لا نكاح إلا بولي “অভিভাবক ব্যতীত বিবাহ হবে না।”(সুনানে তিরমিযী হা/১১০১)।
.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] “আল-মুগনি” গ্রন্থে বলেছেন:”وإذا خالع الرجل زوجته، أو فسخ نكاحه، فله أن يتزوجها في عدتها، في قول جمهور الفقهاء. وبه قال سعيد بن المسيب، وعطاء، وطاوس، والزهري، والحسن، وقتادة، ومالك، والشافعي، وأصحاب الرأي.وشذ بعض المتأخرين، فقال: لا يحل له نكاحها، ولا خطبتها; لأنها معتدة.ولنا: أن العدة لحفظ نسبه، وصيانة مائه، ولا يصان ماؤه عن مائه، إذا كانا من نكاح صحيح”যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে খুলা দেয় কিংবা তাদের বিবাহ ফাসখ (বাতিল) হয়ে যায়, তাহলে জুমহুর ফুকাহা (অধিকাংশ আলেম)-এর মতে স্বামী ইদ্দত চলাকালীনই তাকে পুনরায় বিবাহ করতে পারে। এ–মত পোষণ করেছেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আতা, তাউস, আয-যুহরি, হাসান আল-বাসরি, কাতাদাহ, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং আহলুর রায় (হানাফি মাযহাবের ফুকাহাগন)। আর পরবর্তী যুগের কিছু ফকিহ ব্যতিক্রমী (শায) মত প্রকাশ করে বলেছেন: “সে যেহেতু ইদ্দত পালনকারিণী, তার সঙ্গে বিবাহ করা বা তাকে প্রস্তাব দেওয়া কোনোটিই বৈধ নয়।” কিন্তু আমাদের দলিল হলো—ইদ্দত নির্ধারণ করা হয়েছে বংশরক্ষা (নসব সংরক্ষণ) এবং নারীর গর্ভে থাকা বীর্যের পরিচয়–নিশ্চয়তার জন্য। আর যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগেরটিও বৈধ বিবাহ ছিল, তাই স্বামীর নিজের বীর্য থেকেই আবার নিজের বীর্যকে রক্ষা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই; অর্থাৎ তাদের ক্ষেত্রে ইদ্দতের এই নিষেধাজ্ঞার কারণ প্রযোজ্য নয়।”(ইবনু কুদামাহ আল মুগনি; খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ১২৭)
.
হাফিয ​ইবনু কাছির (রাহিমাহুল্লাহ) তার তাফসীরে বলেছেন:واتفق الجميع على أن للمختلع أن يتزوجها في العدة. وحكى الشيخ أبو عمر ابن عبد البر، عن فرقة: أنه لا يجوز له ذلك، كما لا يجوز لغيره، وهو قول شاذ مردود”সম্মিলিতভাবে সকল (উলামা) একমত যে, খুলা গ্রহণকারী নারীকে তার স্বামী ইদ্দতের মধ্যেই পুনরায় বিবাহ করতে পারে। আর শায়খ আবূ উমর ইবনু আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) একদল ফকিহ’র মত উল্লেখ করেছেন যে, তার (স্বামীর) জন্য ইদ্দতের মধ্যে তাকে বিবাহ করা বৈধ নয়—যেমন অন্য কারো জন্যও বৈধ নয়। তবে এ মতটি একটি শায (ব্যতিক্রমী ও অগ্রহণযোগ্য) মত এবং তা প্রত্যাখ্যাত।”
(তাফসীরে ইবনু কাসীর; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৬২০)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

No comments:

Post a Comment

Translate