Thursday, January 8, 2026

বিবাহের আলাপ চলাকালীন হবু স্ত্রীর সাথে কথোপকথন ও তার তিলাওয়াত শোনার বিধান

 কজন ব্যক্তি যখন কোনও মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিবাহ (আকদ) সম্পন্ন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে ওই মেয়ের জন্য একজন আজনবি বা পরপুরুষ হিসেবেই গণ্য হবে। তাই তাদের সম্পর্ক হবে অন্য যেকোনো সাধারণ পরপুরুষ ও পরনারীর সম্পর্কের মতোই। তাদের জন্য নির্জনে অবস্থান করা বা একে অপরকে স্পর্শ করা জায়েজ নয়। এমনকি কেবল আনন্দ লাভ বা কামভাব চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের সাথে কথা বলাও বৈধ নয়। কথাবার্তা হতে হবে কেবল প্রয়োজনীয় এবং শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্যে, যা হবে ভদ্রতা, শালীনতা রক্ষা করে। ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে এমন সব আচরণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এই বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর পরিণতি অনেক সময় মারাত্মক হয়ে থাকে। তবে বিবাহের কথাবার্তা চলছে এমন মেয়ের সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা করা নাজায়েজ নয়। অনুরূপভাবে দ্বীনদারিতার মান যাচাই বা তিলাওয়াত কেমন তা জানার উদ্দেশ্যে ফোন বা কোনও কলিং অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ কথাবার্তা বা তার তিলাওয়াত শোনা জায়েজ। অনুরূপভাবে নির্জনতা অবলম্বন না করে সামনাসামনিও তা জায়েজে। তবে এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখা জরুরি:

১. কেবল প্রয়োজনীয় কথা বা তিলাওয়াত শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব বা দীর্ঘ আলাপ পরিহার করা আবশ্যক।
২. হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকা: এমন কোনও আচরণ বা হাসি-তামাশা করা যাবে না যা ফিতনা বা কামভাব সৃষ্টি করতে পারে।
৩. পর্দার বিধান পুরোপুরি লঙ্ঘিত হয় এমন কোনও কাজ করা যাবে না।
মোটকথা, বিয়ের আগ পর্যন্ত এই যোগাযোগ যেন কেবল মূল উদ্দেশ্য হাসিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই যেন তা গুনাহের পথে ধাবিত না হয়, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
❑ এ বিষয়ে ফতওয়া:
প্রশ্ন: আমি কি আমার হবু স্ত্রীর তিলাওয়াতের রেকর্ড শুনতে পারি?
উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবিগণের ওপর।
বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন এমন ব্যক্তি হবু স্ত্রীর জন্য পরপুরুষ হিসেবে গণ্য হবেন যতক্ষণ না তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরনারীর কণ্ঠস্বর শোনা যদি ফিতনার কারণ না হয় তবে তা জায়েজ। ইবনে মুফলিহ (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আল মুবদি’ শারহুল মুকনি’ গ্রন্থে বলেছেন:
صوت الأجنبية ليس عورة على الأصح، ويحرم التلذذ بسماعه ولو بقراءة
“বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী পরনারীর কণ্ঠস্বর আওরাত (পর্দার অন্তর্ভুক্ত) নয়। তবে উপভোগের উদ্দেশ্যে সেই কণ্ঠস্বর শোনা হারাম এমনকি তা যদি কুরআন তিলাওয়াতও হয়।”
সুতরাং যদি তিলাওয়াতের মধ্যে কোনও কৃত্রিম টান বা কণ্ঠের কোমলতা (যা আকর্ষণ তৈরি করে) না থাকে এবং সেই তিলাওয়াত শুনলে ফিতনার আশঙ্কা না থাকে তবে তা শুনতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু যদি কণ্ঠে এমন কোমলতা বা বাচনভঙ্গি থাকে যা ফিতনার দিকে ধাবিত করে তবে তা শোনা জায়েজ হবে না।”
[উৎস: ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নম্বর: ১২০৬৪৪, ১৫৭০৬] [তারিখ: ২৭ রবিউস সানি ১৪৩০ হিজরি / ২২ এপ্রিল ২০০৯]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

No comments:

Post a Comment

Translate