সম্প্রতি বাংলাদেশে কতিপয় উগ্রপন্থী দেওবন্দী ও ব্রেলভি (কথিত সুন্নি) গোষ্ঠীর সম্মিলিত আক্রমণে আহলে হাদিস বা সালাফি মতাদর্শের মসজিদ, মাদরাসা, লাইব্রেরি ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, এবং প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনে বাধা প্রদান বা তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে, নিজেদের জান-মাল এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ হেফাজতের জন্য আহলে হাদিস অনুসারীদের জরুরি ভিত্তিতে চিন্তাভাবনা এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সময়ের দাবি। নিম্নে উগ্রপন্থী আক্রমণের মুখে নিজেদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং দাওয়াতের মানোন্নয়নের জন্য কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেশ করা হলো:
❑ এক. চরম ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা:
তাওহিদ ও সুন্নাহর পথে চিরকালই বাধা এসেছে। নবি-রসুলগণ এবং তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারীরা সর্বদা কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়েছেন। তাই তাওহিদ ও সুন্নাহর বিরোধীরা এর বিরোধিতা করবে। এটাই স্বাভাবিক।
• এই অবস্থায় মাথা গরম না করে চরম ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাহায্য করেন।
• ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। আবেগতাড়িত হয়ে প্রতিশোধ বা পাল্টা সহিংসতার পথে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
❑ দুই. নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ:
১. মসজিদ, মাদরাসা ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করুন। প্রয়োজনে গার্ড নিয়োগ বা বিশ্বাসী স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পাহারা টিম গঠন করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করুন।
২. যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্বোধন, ওয়াজ মাহফিল বা বড় অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় প্রশাসনকে (যেমন: থানা, ইউএনও অফিস) বিস্তারিত অবহিত করুন এবং অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।
❑ তিন. আইনি ও প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ:
১. কোথাও হামলা বা গণ্ডগোল হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখুন।
২. যেকোনো হামলার ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে খবর দিন। এটি নিরাপত্তার জন্য সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।
৩. লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ে সেই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণসহ এজাহার (FIR) দায়ের করুন।
৪. স্থানীয় জেলা প্রশাসন (ডিসি, এসপি) ও উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও)-এর কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লিখিত আবেদন পেশ করুন।
৫. আক্রমণের ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে রাখুন। এগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।
৬. মসজিদ, মাদরাসা বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আইনি কাগজপত্র, ট্রাস্ট ডিড এবং ভূমির মালিকানার নথি সবসময় হালনাগাদ ও নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন।
❑ চার. সাংগঠনিক ও সামাজিক উদ্যোগ:
১. আহলে হাদিস সংগঠনগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করুন। বিচ্ছিন্নতা বা ‘একলা চলো’ নীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।
২. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মসজিদ-মাদরাসার দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি ‘নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করুন। এই কমিটি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করবে।
৩. স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং শান্তিকামী আলেমদের সাথে আলোচনা বৈঠক বা সংলাপের উদ্যোগ নিন। ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য তাঁদের সামনে নিজেদের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন।
৪. এলাকার সাধারণ জনগণ এবং ভিন্ন মতাদর্শের শান্তিকামী আলেমদের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। তাঁদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান, আলোচনা করুন এবং সম্মান প্রদর্শন করুন।
৫. প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব শিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান ও সচেতন দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দিন, যেন তাঁরা যেকোনো পরিস্থিতি বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
❑ পাঁচ. শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি:
১. প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে আক্রমণের ঘটনার সঠিক ও বাস্তবসম্মত বিবরণ তুলে ধরুন, যাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জনমত গড়ে ওঠে।
২. সভা, সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করুন।
৩. যেকোনো পরিস্থিতিতে সহিংসতা বা প্রতিশোধের পথ পরিহার করতে হবে। একমাত্র শান্তিপূর্ণ, আইনি এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতিই জান-মাল ও প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।
৪. আক্রমণের ঘটনা ঘটলে ভিডিও বার্তা বা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বাস্তবতা তুলে ধরুন এবং আইনি প্রতিকার দাবি করুন। তবে কারো প্রতি উসকানিমূলক বা আক্রমণাত্মক কথা বলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন।
❑ ছয়. দাওয়াত ও বক্তৃতা পদ্ধতির পরামর্শ:
১. জুমার খুতবা, বক্তৃতা বা ওয়াজ মাহফিলগুলোতে উসকানিমূলক ও উগ্রতাপূর্ণ বক্তব্য পরিহার করা জরুরি। শিরক, বিদআত বা ইসলাম বিরোধিতার কথা বললেও কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি হয় এমন কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় কেবল দলিল ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন করুন। বিরোধী পক্ষের কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. উগ্র মেজাজ ও আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তৃতা প্রদানে পরিচিত এবং ইলমের দিক থেকে দুর্বল বক্তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে মিষ্টভাষী, যোগ্য ও অভিজ্ঞ বক্তা বা আলেমদেরকে আমন্ত্রণ জানান।
৪. মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে উত্তম চরিত্র সম্পন্ন, মিষ্টভাষী ও যোগ্য আলেমকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৫. সমাজসেবা ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম (যেমন: বৃক্ষরোপণ, মাদক প্রতিরোধ, যৌতুক, সন্ত্রাস, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সেমিনার ইত্যাদি) বাস্তবায়ন করুন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আপনাদেরকে তাদের শত্রু না ভেবে বরং দেশপ্রেমিক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে গণ্য করবে এবং কোনো গুপ্ত সংগঠন বলে ভুল করবে না।
৬. দাওয়াতের ক্ষেত্রে যেটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ সেটিকে প্রাধান্য দিন। তাওহিদ ও সুন্নাহর প্রচার এবং শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত। সুন্নত, নফল, মাকরুহ বা ঐচ্ছিক বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে ঝগড়া ও মারামারির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. সমাজ সংস্কার ও শিরক-বিদআত মূলোৎপাটনে তাড়াহুড়ো করবেন না। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবর্জনা সরাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই ফলাফল লাভের ব্যাপারে ধীর স্থিরতা অবলম্বন করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করুন।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দাওয়াতের পদ্ধতি শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন,
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“তোমার পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান কর হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উপদেশপূর্ণ কথার মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সুন্দরতম পন্থায়।” [সূরা আন-নাহল: ১২৫]
৮. মসজিদ, মাদরাসা ও দাওয়াহ প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দায়িত্বশীল এবং দাঈগণ তাঁদের পোশাক-আশাক, আচার-আচরণ ও কথাবার্তা ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজাবেন। ইলম, আখলাক ও তাকওয়ায় তাঁরা হবেন অন্যদের জন্য আদর্শ। যেন তাঁরা আল্লাহর প্রিয় পাত্র হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কাছেও অনুসরণীয় মানুষ হিসেবে পরিগণিত হন।
৯. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণে ইখলাসের সাথে সত্যের দাওয়াত অব্যাহত রাখুন। যত বাধাই আসুক, দাওয়াত থামিয়ে দেওয়া যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ সাহায্যকারী।
❑ সাত. আল্লাহর নিকট অধিক পরিমাণে দু‘আ করা:
ভুলে গেলে চলবে না যে, মজলুমের দু‘আ এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা নিপীড়িত মানুষের দু‘আ দ্রুত কবুল করেন।
আল্লাহর সাহায্যের জন্য এবং জালিমদের জুলুম থেকে পরিত্রাণের জন্য অসহায় হৃদয়ের দু‘আ আল্লাহর সাহায্য নাজিলকে তরান্বিত করবে এবং জালেমের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিবে।
❖ সংকটকালে পঠিত দু’আসমূহ:
◆ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
(উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল)।
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট আর তিনি কতই না উত্তম কর্ম বিধায়ক।
◆ যখন কাফেররা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবিদেরকে শত্রু বাহিনী জমায়েত হয়েছে বলে তাদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করছিল, তখন তিনিও বলেছিলেন: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
(উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল)।
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট আর তিনি কতই না উত্তম কর্ম বিধায়ক।” [দেখুন: আলে ইমরান-এর ১৭৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা]
◆ আবু মূসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করতেন, তখন বলতেন:
اَللّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া না‘ঊযুবিকা মিন শুরূরিহিম)।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমরা আপনাকে তাদের কণ্ঠনালীতে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
➧ শেষকথা: এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, তাওহিদ ও সুন্নাহর শত্রুরা এবং জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা দাওয়াত ও দাঈদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেই। এটাই চিরন্তন সত্য। কারণ নবি-রসুলগণ এবং তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারীরা দাওয়াতের ময়দানে অজ্ঞ, হিংসুক ও ইসলামের দুশমনদের দ্বারা যুগে যুগে নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কখনো হতাশ হননি কিংবা থেমে যাননি। সুতরাং পথে যত বাধাই আসুক, আল্লাহর পথে দাওয়াত থামিয়ে দেওয়া যাবে না। অবুঝ মানুষগুলো হয়তো আজ সত্যের আলোর সন্ধান পাচ্ছে না তবে মহান আল্লাহ চাইলে একদিন এই আলোর বিকিরণে আলোকিত হবে প্রতিটি ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র। নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment