Saturday, February 21, 2026

হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফকালীন কাবার বিভিন্ন কোণ স্পর্শ করার বিধান এবং কাবায় লাগানো সুগন্ধি যদি ইহরামকারীর শরীরে লেগে যায় তবে তার শরয়ী হুকুম কী

 প্রশ্ন: হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফকালীন কাবার বিভিন্ন কোণ স্পর্শ করার বিধান কী? এছাড়া কাবায় লাগানো সুগন্ধি যদি ইহরামকারীর শরীরে লেগে যায় তবে তার শরয়ী হুকুম বা করণীয় কী?

▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর হজ্জ বা উমরাহর ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফকালীন কা’বার বিভিন্ন কোণে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করা এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি স্পর্শ করার বিষয়টি আমারা তিনটি অংশে বিভক্ত করার চেষ্টা করব।
প্রথম অংশ: হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফকালীন কাবার বিভিন্ন কোণে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করার বিধান:
.
রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফের সময় কা‘বার সর্বমোট তিনটি স্থানে স্পর্শ/চুমু। বুক লাগবে দোয়া করা সুন্নত হিসেবে প্রমাণিত। এর মধ্যে দুটি স্থান যথা: হাজারে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী শুধুমাত্র চুমু/স্পর্শ করা সরাসরি রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত এবং অপর একটি স্থান যাকে শারঈ পরিভাষায় “মুলতাযাম” বলা হয়। মুলতাযাম হলো কাবার সেই অংশ, যা হাজারে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝখানে অবস্থিত (প্রায় ২ মিটার জায়গা)। এখানে মানুষ বুক, গাল, হাত লাগিয়ে দোয়া করে। এটি সরাসরি রাসূল (ﷺ) থেকে প্রমাণিত না হলেও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
দলিল হচ্ছে:
.
(১). হাজারে আসওয়াদ: হাজারে আসওয়াদে ‘চুমু দেওয়ার দলিল হচ্ছে; যুবায়র ইবনু ‘আরাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) কে হাজারে আসওয়াদে ‘চুমু দেয়া’ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলো। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) জবাবে বললেন,رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ.”আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা স্পর্শ করতে ও চুমু দিতে দেখেছি।”(সহীহ বুখারী হা/১৬১১) হাজারে আসওয়া চুমুর পদ্ধতি হচ্ছে তাওয়াফকারী তওয়াফ শুরু করার জন্য হাজারে আসওয়াদের দিকে এগিয়ে যাবে। ডান হাত দিয়ে হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করবে ও চুমু খাবে। যদি হাজারে আসওয়াদে চুমু খেতে না পারে হাত দিয়ে স্পর্শ করবে ও হাতে চুমু খাবে (স্পর্শ করার মানে হচ্ছে- হাত দিয়ে ছোঁয়া)। যদি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে না পারে তাহলে হাজারে আসওয়াদের দিকে মুখ করে হাত দিয়ে ইশারা করবে এবং তাকবির (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর) বলবে; কিন্তু হাতে চুমু খাবে না। হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করার ফজিলত অনেক। দলিল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “আল্লাহ তাআলা হাজার আসওয়াদকে পুনরুত্থিত করবেন। তার দুইটি চোখ থাকবে যে চোখ দিয়ে পাথরটি দেখতে পাবে।তার একটি জিহ্বা থাকবে যে জিহ্বা দিয়ে পাথরটি কথা বলতে পারবে। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে পাথরটিকে স্পর্শ করেছে পাথরটি তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।[আলবানী আল-তারগীব ও আল-তারহীব হা/১১৪৪) গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন] তবে সেখানে অনেক মানুষ থাকলে উত্তম হচ্ছে- ভিড় না করা। মানুষকে কষ্ট না দেয়া এবং নিজেও কষ্ট না পাওয়া। যেহেতু হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি উমরকে লক্ষ্য করে বলেছেন- “হে উমর! তুমি শক্তিশালী মানুষ। হাজারে আসওয়াদের নিকট ভিড় করে দুর্বল মানুষকে কষ্ট দিও না। যদি ফাঁকা পাও তবে স্পর্শ করবে; নচেৎ হাজারে আসওয়াদমুখি হয়ে তাকবীর বলবে।[মুসনাদে আহমাদ (১৯১), আলবানী তাঁর ‘মানাসিকুল হাজ্জ ও উমরা’ গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘কাওয়ি’ (শক্তিশালী) মন্তব্য করেছেন
.
(২). রুকনে ইয়ামানী: কাবা’ ঘরের হাজারে আসওয়াদ যে কোণে অবস্থিত, তার ঠিক আগের কোণটিই হলো রুকনে ইয়ামানী। এটি স্পর্শ করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী, সম্ভব হলে এই কোণটি কেবল ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করতে হয়। তবে হাজারে আসওয়াদের মতো এখানে চুমু খাওয়ার বা কপালে ঠেকানোর কোনো বিধান নেই, এমনকি স্পর্শ করার পর নিজের হাতে চুমু খাওয়াও সুন্নাহ পরিপন্থী। যদি ভিড়ের কারণে স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তবে হাজারে আসওয়াদের মতো দূর থেকে ইশারা করারও প্রয়োজন নেই। এই কোণে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ নেই, তবে এখান থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত যাওয়ার পথে ‘রাব্বানা আতিনা…’ দুআটি পড়া সুন্নাত।” রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার দলিল হচ্ছে,প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেবল ইয়ামানী দু’ রুকনকে ইস্তিলাম করতে দেখেছি।” (সহীহ বুখারী হা/১৬০৯)
.
(৩). এবং তৃতীয় একটি স্থান যাকে শারঈ পরিভাষায় “মুলতাযাম” বলা হয়, মুলতাযাম হলো কা‘বার সেই অংশ, যা হাজারে আসওয়াদ ও কা‘বার দরজার মাঝখানে অবস্থিত (প্রায় ২ মিটার জায়গা)। এখানে দোয়াকারী তার বুক, মুখমণ্ডল, দুই বাহু এবং দুই হাতের তালু এই অংশের ওপর রেখে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারে। তবে এই আমল সরাসরি রাসূল (ﷺ) থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত না হলেও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। মুলতাজামে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। যদি সুযোগ হয় তবে কাবা ঘরে প্রবেশের সময়, বিদায়ী তাওয়াফের আগে অথবা যেকোনো সময় এটি করা যেতে পারে। তবে দোয়াকারীর উচিত অন্যকে কষ্ট না দেওয়া বা দীর্ঘ সময় নিয়ে ভিড় তৈরি না করা। যদি খালি জায়গা পাওয়া যায় তবেই সেখানে গিয়ে দোয়া করবে, নতুবা তাওয়াফরত অবস্থায় বা নামাজের সিজদায় দোয়া করাই যথেষ্ট। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) থেকে মুলতাজাম আঁকড়ে ধরার বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। দলিল হচ্ছে,আবদুর রহমান ইবনে সাফওয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কা বিজয় করলেন, আমি বললাম: আমি কাপড় পরিধান করে দেখি রাসূল (সা.) কী করেন। আমি গিয়ে দেখলাম তিনি এবং তাঁর সাহাবীরা কাবা থেকে বের হয়েছেন এবং তাঁরা দরজা থেকে হাতিম পর্যন্ত কাবা শরীফ স্পর্শ করছেন। তাঁরা কাবার দেয়ালে গাল লাগিয়ে রেখেছেন এবং রাসূল (ﷺ) ছিলেন তাদের মাঝে।” (আবু দাউদ:হা/১৮৯৮, মুসনাদে আহমদ: ১৫১২৪)। এই বর্ননাটি দুর্বল কারণ এই বর্ণনায় ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ রয়েছেন, যাকে ইবনে মাঈন ও আবু হাতিমসহ অনেকেই দুর্বল বলেছেন। অপর এক বর্ননায় আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি আবদুল্লাহর সাথে তাওয়াফ করলাম। যখন আমরা কাবার পেছনের দিকে পৌঁছলাম, আমি বললাম: আপনি কি আশ্রয় চাইবেন না? তিনি বললেন: আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এরপর তিনি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেন এবং রুকন ও দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের বুক, মুখমণ্ডল, বাহু ও হাতের তালু এভাবে বিছিয়ে দিলেন এবং বললেন: আমি রাসূল (ﷺ)-কে এভাবেই করতে দেখেছি।” (আবু দাউদ: ১৮৯৯, ইবনে মাজাহ: ২৯৬২)। এই বর্ণনায় মুসান্না বিন সাবাহ রয়েছেন, যাকে ইমাম আহমদ ও নাসায়িসহ অনেকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘সিলসিলা সহীহা’তে হা/২১৩৮) হাদীস দুটিকে একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে সহীহ বলেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: “মুলতাজাম হলো রুকন (হাজরে আসওয়াদ) ও দরজার মধ্যবর্তী স্থান।”
.
এ বিষয়ে হিজরী ৮ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম তাক্বিউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ বিন ‘আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হার্রানী আন-নুমাইরি, (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেন:وإنْ أحبَّ أنْ يأتيَ الملتزم – وهو ما بين الحجر الأسود والباب – فيضع عليه صدره ووجهه وذراعيه وكفيه ويدعو ويسأل الله تعالى حاجته فعل ذلك ، وله أنْ يفعل ذلك قبل طواف الوداع فإنَّ هذا الالتزام لا فرق بين أنْ يكون حالَ الوداع أو غيره ، والصحابة كانوا يفعلون ذلك حين دخول مكة ، وإنْ شاء قال في دعائه الدعاء المأثور عن ابن عباس : اللهمَّ إني عبدك وابن عبدك وابن أمتك حملتني على ما سخرتَ لي مِن خلقك وسيرتَني في بلادك حتى بلغتَني بنعمتِك إلى بيتِك وأعنتَني على أداء نسكي فإنْ كنتَ رضيتَ عني فازدَدْ عني رضا وإلا فمِن الآن فارضَ عني قبل أنْ تنآى عن بيتك داري فهذا أوان انصرافي إنْ أذنتَ لي غير مستبدلٍ بك ولا ببيتِك ولا راغبٍ عنك ولا عن بيتِك اللهمَّ فأصحبني العافيةَ في بدني والصحةَ في جسمي والعصمة في ديني وأحسن منقلبي وارزقني طاعتك ما أبقيتَني واجمع لي بين خيري الدنيا والآخرة إنك على كل شيء قدير .ولو وقف عند الباب ودعا هناك من غير التزام للبيت كان حسناً
“যদি কেউ ‘মুলতাজাম’-এ (হাজরে আসওয়াদ এবং কাবার দরজার মধ্যবর্তী স্থান) আসতে চায়—তবে সে সেখানে নিজের বুক, মুখমণ্ডল, দুই হাত ও হাতের তালু রেখে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারে এবং নিজের হাজত (প্রয়োজন) পূরণের প্রার্থনা করতে পারে।সে চাইলে বিদায়ী তওয়াফের (তাওয়াফ আল-ওয়াদা) আগেও এটি করতে পারে। কারণ, এই ‘ইলতিজাম’ (কাবার দেয়াল জড়িয়ে ধরে দোয়া করা) বিদায়ের সময় বা অন্য যেকোনো সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মক্কায় প্রবেশের সময়ও এটি করতেন।ব্যক্তি চাইলে দোয়ার ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে পারে: “হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার এক বান্দা ও এক বাঁদীর পুত্র।আপনি আপনার সৃষ্ট যে বাহন আমার জন্য অনুগত করে দিয়েছেন, তার ওপর সওয়ার করে এবং আপনার জনপদসমূহের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করিয়ে আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার ঘর পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আমার হজের আহকাম পালনে আপনি আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আপনি যদি আমার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে আমার প্রতি আপনার সন্তুষ্টি আরও বাড়িয়ে দিন। আর যদি সন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন, তবে আপনার ঘর থেকে আমার আবাসস্থল দূরে সরে যাওয়ার আগেই এখন থেকে আমার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। এটাই আমার বিদায়ের সময়, যদি আপনি আমাকে অনুমতি দেন। আমি আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে গ্রহণ করছি না এবং আপনার ঘরের বদলে অন্য ঘরকে প্রাধান্য দিচ্ছি না; আপনার প্রতি বা আপনার ঘরের প্রতি আমি বিমুখ নই। হে আল্লাহ! আপনি আমার শরীরে নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন, আমার দ্বীনকে হিফাজত করুন, আমার প্রত্যাবর্তনকে উত্তম করুন এবং যতদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন আপনার আনুগত্য করার রিজিক দান করুন। আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে একত্রিত করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” আর যদি কেউ কাবা স্পর্শ (জড়িয়ে ধরা) না করে শুধু দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করে, তবে সেটিও উত্তম।”(সূত্র: মাজমু আল-ফাতাওয়া: ২৬/১৪২-১৪৩)
.
​অপরদিকে সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]- বলেন:وهذه مسألة اختلف فيها العلماء مع أنها لم ترد عن النبي صلى الله عليه وسلم ( يعني لم ترد في حديث صحيح ، بناءً على تضعيف الأحاديث الواردة في هذا ) ، وإنما عن بعض الصحابة رضي الله عنهم ، فهل الالتزام سنة ؟ ومتى وقته ؟ وهل هو عند القدوم ، أو عند المغادرة ، أو في كل وقت ؟ .وسبب الخلاف بين العلماء في هذا : أنه لم ترد فيه سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم ، لكن الصحابة – رضي الله عنهم – كانوا يفعلون ذلك عند القدوم .والفقهاء قالوا : يفعله عند المغادرة فيلتزم في الملتزم ، وهو ما بين الركن الذي فيه الحجر والباب …وعلى هذا : فالالتزام لا بأس به ما لم يكن فيه أذية وضيق .”এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যদিও এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি (অর্থাৎ এই সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করার কারণে এটি কোনো সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়)। তবে এটি কয়েকজন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো: এই ‘ইলতিজাম’ (কা’বা শরীফের দেয়াল আঁকড়ে ধরে দোয়া করা) কি সুন্নাত? এর সময় কখন? এটি কি আসার সময়, নাকি বিদায়ের সময়, নাকি যেকোনো সময় করা যাবে? আলেমদের মধ্যে এই মতভেদের কারণ হলো: এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো সুন্নাত (সহীহ হাদিস) প্রমাণিত নেই। তবে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মক্কায় আসার সময় এটি করতেন।অন্যদিকে ফুকাহায়ে কেরাম (ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ) বলেছেন: এটি বিদায়ের সময় করতে হয়। তখন ‘মুলতাজাম’-এ (হাজরে আসওয়াদ ও কা’বার দরজার মধ্যবর্তী দেয়াল) বুক ও পেট লাগিয়ে দোয়া করা হয়।এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়: ইলতিজাম করাতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ না এটি অন্যের জন্য কষ্টদায়ক হয় বা ভিড় সৃষ্টি করে।”(ইবনু ইমাম উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘, আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৪০২, ৪০৩)
.
সম্মানিত পাঠক! কাবা ঘরের উল্লেখিত তিনটি স্থান ব্যতীত অন্য কোনো কোণ, দেয়াল, গিলাফ কিংবা মাকামে ইবরাহিম স্পর্শ করা বা চুমু দেওয়া সুন্নাহর পরিপন্থী। ইবাদত মনে করে এমন কাজ করা শরিয়তসম্মত নয়; বরং অতি আবেগের বশবর্তী হয়ে এসব করা ‘বিদআত’ বা মাকরূহের অন্তর্ভুক্ত। মনে রাখতে হবে, যেকোনো ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো তা নবীজি (ﷺ)-এর দেখানো পদ্ধতিতে হওয়া।” কারন এমন সকল কাজ,যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য চাওয়া হয় ও ইবাদত হিসেবে করা হয়, কিন্তু যার শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই তা বিদ‘আত।এর প্রমাণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা নেই (আমাদের শরিয়তে নেই) সেটা প্রত্যাখ্যাত।”(সহিহ মুসলিম হা/১৭১৮) সুতরাং ইবাদতের বিষয়াদির ব্যাপারে কেবল কুরআন-সুন্নাহ থেকেই নিতে হবে; এক্ষেত্রে স্বপ্ন, কাশফ, ইলহাম, মনগড়া যুক্তি অথবা ব্যক্তি পূজার কোনো স্থান নেই। এগুলো কস্মিনকালেও গ্রহণ করা হবে না। বরং এগুলো প্রত্যাখ্যান করা হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:الْأُمُورُ التَّعَبُّدِيَّةُ لَا تُؤْخَذُ إِلَّا مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَلَا تُؤْخَذُ بِالرَّأْيِ وَلَا بِعَمَلِ النَّاسِ لِأَنَّ الْأَصْلَ فِي الْعِبَادَاتِ التَّحْرِيمُ حَتَّى يَقُومَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهَا عِبَادَةٌ مَشْرُوعَةٌ “‘ইবাদাত সংক্রান্ত বিষয়াদি কিতাব (কুর‘আন) ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে গ্রহণ করা যাবে না এবং তা ব্যক্তিগত মতামত কিংবা মানুষের ‘আমল দ্বারাও গ্রহণ করা যাবে না। কারণ ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা হারাম, যতক্ষণ না কোনো শার‘ঈ দলীল দ্বারা তা (‘ইবাদাতটি) শরী‘আতসম্মত প্রমাণিত হয়।”(ইবনু উসাইমীন; ফাতাওয়া নূরূন ‘আলাদ দারব, খণ্ড নং ৪, পৃষ্ঠা নং ৫৫৮)
.
হিজরী ৮ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম তাক্বিউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ বিন ‘আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হার্রানী আন-নুমাইরি, (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] তাঁর “ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,المنع من تقبيل جوانب الكعبة، غير الركنين اليمانيين، عن عامة السلف، وإجماع الأئمة الأربعة، فقال: قد ثبت باتفاق أهل العلم أن النبي صلى الله عليه وسلم لما حج البيت، لم يستلم من الأركان، إلا الركنين اليمانيين، فلم يستلم الركنين الشاميين، ولا غيرهما من جوانب البيت، ولا مقام إبراهيم، ولا غيره من المشاعر، وأما التقبيل، فلم يقبل إلا الحجر الأسود. وقد اختلف في الركن اليماني: فقيل: يقبله. وقيل: يستلمه ويقبل يده، وقيل: لا يقبله ولا يقبل يده. والأقوال الثلاثة مشهورة في مذهب أحمد، وغيره.والصواب: أنه لا يقبله، ولا يقبل يده، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل هذا ولا هذا، كما تنطق به الأحاديث الصحيحة، ثم هذه مسألة نزاع.
“কাবাঘরের দুই ইয়ামানি রুকন (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ) ছাড়া অন্য দিক বা কোণ চুম্বন করা নিষিদ্ধ এ বিষয়ে অধিকাংশ সালাফ এবং চার মাজহাবের ইমামদের ঐকমত্য রয়েছে। তিনি বলেন: আলেমদের সর্বসম্মত মত হলো নবী (ﷺ) যখন হজ পালন করেন, তখন তিনি কাবার কোণগুলোর মধ্যে কেবল দুই ইয়ামানি রুকনই স্পর্শ (ইস্তিলাম) করেছেন। তিনি শাম দিকের দুই রুকন স্পর্শ করেননি, কাবার অন্য কোনো অংশও স্পর্শ করেননি মাকামে ইবরাহীম বা অন্য কোনো মাশাআর (পবিত্র স্থান) স্পর্শ করেননি। আর চুম্বনের ব্যাপারে তিনি কেবল হাজরে আসওয়াদকেই চুম্বন করেছেন। রুকনে ইয়ামানি সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে: কেউ বলেছেন এটিও চুম্বন করা হবে। কেউ বলেছেন হাত দিয়ে স্পর্শ করে, পরে সেই হাত চুম্বন করবে। কেউ বলেছেন না এটিকে চুম্বন করবে, না হাত চুম্বন করবে।
এই তিনটি মতই ইমাম আহমাদের মাযহাবসহ অন্যদের মধ্যেও প্রসিদ্ধ। কিন্তু সঠিক মত হলো: রুকনে ইয়ামানি চুম্বন করা হবে না এবং হাত চুম্বনও করা হবে না। কারণ নবী (ﷺ) এ দুটির কোনোটিই করেননি সহিহ হাদিসসমূহ এ কথাই প্রমাণ করে। তবে এটি একটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:কাবা শরীফের গিলাফ, হাজারে আসওয়াদ ও মুসহাফ চুম্বন করার হুকুম কি?
জবাবে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:تقبيل أي مكان في الأرض بدعة إلا الحجر الأسود ولولا الإتباع لكان تقبيل الحجر الأسود بدعة وكان عمر رضي الله عنه الله عنه يقول ( إني أعلم أنك حجر لا تضر ولا تنفع ولولا النبي صلى الله عليه وسلم قبلّك ما قبلتك ) لذلك لا يجوز تقبيل أستار الكعبة أو الحجرات أو الركن اليماني أو المصحف وكذلك التمّسح به إذا كان من أجل التبرك به إذ أن مسحه للتعبد فقط”কেবল হাজারে আসওয়াদ ছাড়া পৃথিবীর যে কোন স্থান চুম্বন করা বিদাত। যদি না হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করা নিছক অনুসরণ না হত তাহলে এটাকে চুম্বন করাও বিদাত হত। উমর (রাঃ) বলতেন: “নিশ্চয় আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর ছাড়া আর কিছু নও; তুমি ক্ষতি বা উপকার কিছুই করতে পার না। যদি না আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমাকে চুমু খেতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমাকে চুমু খেতাম না।” এ কারণে কাবা শরীফের গিলাফগুলোকে চুম্বন করা কিংবা অন্যান্য পাথর কিংবা রুকনে ইয়ামেনীকে কিংবা মুসহাফকে চুম্বন করা নাজায়েয। অনুরূপভাবে বরকত নেয়ার জন্য মোছন করাও নাজায়েয; যদি সেটি নিছক ইবাদত হিসেবে করা হয়।”(মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উছাইমীন (রহঃ), গৃহীত ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-২১৩৯২)
.
ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন; সন্মানিত শাইখ তওয়াফ করার সময় দেখা যায় কিছু মানুষ কাবার দেয়াল, কাবার গিলাফ, মকামে ইব্রাহিম এবং হিজর-এ-ইসমাইল (হাতীম) স্পর্শ বা মাসেহ করে বরকত হাসিল করার চেষ্টা করছেন।শরীয়তের দৃষ্টিতে এই কাজের বিধান কী?
জবাব শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
هذا العمل يفعله الناس ، يريدون به التقرب إلى الله عز وجل والتعبد له ، وكل عمل تريد به التقرب إلى الله والتعبد له ، وليس له أصل في الشرع فإنه بدعة ، حذر منه النبي صلى الله عليه وسلم فقال : ” إياكم ومحدثات الأمور ، فإن كل بدعة ضلالة ” رواه الترمذي (2676) وأبو داوود (4607) .
ولم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه مسح سوى الركن اليماني والحجر الأسود .وعليه فإذا مسح الإنسان أي ركن من أركان الكعبة أو جهة من جهاتها ، غير الركن اليماني والحجر الأسود ، فإنه يعتبر مبتدعا ، ولما رأى عبد الله بن عباس رضي الله عنهما معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما يمسح الركنين الشماليين ، نهاه ، فقال له معاوية رضي الله عنه : ليس شيء من البيت مهجورا ، فقال ابن عباس رضي الله عنهما : ( لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة ) الأحزاب / 21 وقد رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يمسح الركنين اليمانيين ، يعني الركن اليماني والحجر الأسود ، فرجع معاوية رضي الله عنه إلى قول ابن عباس .ومن باب أولى في البدعة ، ما يفعله بعض الناس من التمسح بمقام إبراهيم ، فإن ذلك لم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه تمسح في أي جهة من جهات المقام .وكذلك ما يفعله بعض الناس من التمسح بزمزم ، والتمسح بأعمدة الرواق – وهي أعمدة المبنى العثماني القديمة – ، وكل ذلك مما لم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم فكله بدعة ، وكل بدعة ضلالة
“এই কাজটি মানুষ করে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যে। অথচ যে কোনো কাজ, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য চাওয়া হয় ও ইবাদত হিসেবে করা হয়, কিন্তু যার শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই তা বিদ‘আত। আর নবী সা. এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: “তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।'(সুনানে তিরমিজি (২৬৭৬) ও আবু দাউদ (৪৬০৭)। নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত নয় যে, তিনি রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ ছাড়া অন্য কিছু স্পর্শ করেছেন। সুতরাং কেউ যদি কাবার অন্য কোনো রুকন বা দিক স্পর্শ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ ছাড়া তবে সে বিদ‘আতে লিপ্ত বলে গণ্য হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) -কে কাবার উত্তর দিকের দুই কোণ স্পর্শ (মাসেহ) করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে বাধা দিলেন।মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন:বাইতুল্লাহর (আল্লাহর ঘরের) কোনো অংশই পরিত্যক্ত নয় অর্থাৎ(সবই বরকতময়)। তখন ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ [সূরা আহজাব: ২১] এবং তিনি আরও বললেন: আমি নবী (ﷺ)-কে শুধুমাত্র দুই ইয়ামানি রুকন অর্থাৎ (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করতে দেখেছি। এরপর মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইবনু আব্বাসের মতের দিকে ফিরে এলেন (অর্থাৎ নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা গ্রহণ করলেন)।এর চেয়েও স্পষ্ট বিদ‘আত হলো কিছু মানুষ যা করে,যেমন মাকামে ইবরাহীমে গা ঘষা বা স্পর্শ করা। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত নয় যে তিনি মাকামের কোনো দিক স্পর্শ করেছেন।একইভাবে, কেউ কেউ জমজম কূপ, কিংবা রিওয়াকের স্তম্ভসমূহ স্পর্শ করে বরকত নেওয়ার চেষ্টা করে এগুলোর কোনো কিছুই নবী ﷺ) থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং সবই বিদ‘আত,আর প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা”।(ইবনু উসাইমীন; হজ উমরা পালনকারীদের ভুলভ্রান্তি নির্দেশিকা থেকে সমাপ্ত গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৩৬৬৪৪)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
উত্তর:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ)-এর প্রতি।অতঃপর;হজ্জ বা উমরাহর ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফকালীন কা’বার বিভিন্ন কোণে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করা এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি স্পর্শ করার বিষয়টি ইতিপূর্বে আমরা তিনটি অংশে বিভক্ত করার কথা উল্লেখ করেছিলাম যার একটি অংশ গত পর্বে পোস্ট করা হয়েছিল আজ দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশ নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
.
▪️দ্বিতীয় অংশ: হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান:
.
ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা;সেটা কাপড়ে হোক কিংবা শরীরে হোক; খাবার-দাবারে হোক কিংবা গোসলের সামগ্রীতে হোক কিংবা অন্য যে কোন কিছুতে হোক ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। দলিল হচ্ছে- এর প্রমাণ আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা.)-এর বর্ণিত হাদীস, রাসূল (ﷺ) মুহরিম (ইহরামকারী ব্যক্তি) সম্পর্কে বলেন:لَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ وَلَا الْعِمَامَةَ وَلَا السَّرَاوِيلَ وَلَا الْبُرْنُسَ وَلَا ثَوْبًا مَسَّهُ زَعْفَرَانٌ وَلَا وَرْس”মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, পাজামা, বুরনুস (মাথা ঢাকা জামা) পরিধান করবে না এবং এমন কাপড় যাতে জা’ফরান বা ওয়ার্স নামক সুগন্ধিযুক্ত ঘাস স্পর্শ করেছে।”(সহীহ বুখারী ৫৭৯৪, সহীহ মুসলিম ১১১৭)
.
​এই হাদিসের ব্যাখ্যায় শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন,قوله صلى الله عليه وسلم: ( وَلَا تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ، وَلَا الْوَرْسُ ):أجمعت الأمة على تحريم لباسهما، لكونهما طيبا. وألحقوا بهما جميع أنواع ما يقصد به الطيب.وسبب تحريم الطيب: أنه داعية إلى الجماع، ولأنه ينافي تذلل الحاج؛ فإن الحاج أشعث أغبر، وسواء في تحريم الطيب الرجل والمرأة “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: “আর তোমরা জাফরান বা ওয়ারস মাখা কোনো কাপড় পরিধান করো না” প্রসঙ্গে:”উম্মত (ওলামায়ে কেরাম) এই দুটি পরিধান করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, কারণ এগুলো সুগন্ধি। আর যা কিছু সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এমন সকল প্রকার বস্তুকে এই দুটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।সুগন্ধি হারাম হওয়ার কারণ হলো: এটি যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগ্রতকারী এবং এটি হজের বিনম্রতা ও মলিনতার পরিপন্থী। কেননা একজন হাজি হবে উস্কোখুস্কো চুলধারী ও ধূলিমলিন। আর সুগন্ধি হারামের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান।”(নববী; শারহু সহীহ মুসলিম: খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ৭৫)।
.
এছাড়াও রাসূল (ﷺ) আরাফায় অবস্থানকালে যেই মুহরিম সাহাবীকে একটি উট পায়ের নীচে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও। দুই কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তার মাথা ঢাকবে না। তাকে হানুত দিবে না”। হানুত হচ্ছে- এক জাতীয় সুগন্ধির মিশ্রণ যা মৃত ব্যক্তির গায়ে লাগানো হয়।”(সহীহ বুখারী) আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ’ গ্রন্থে এসেছে:”ويلتحق بالثياب الجلوس على فراش مزعفر أو مطيب بزعفران. ولا يضع عليه ثوبا مزعفرا، ولو علق بنعاله زعفران أو طيب وجب أن يبادر إلى نزعه “পোশাকের মতোই জাফরান রঙে রাঙানো বা জাফরান দিয়ে সুগন্ধিযুক্ত করা বিছানায় বসা (নিষেধের) অন্তর্ভুক্ত হবে। জাফরান রঙে রাঙানো কোনো কাপড়ও তার ওপর রাখা যাবে না। আর যদি তার জুতোয় জাফরান বা সুগন্ধি লেগে যায়, তবে তা দ্রুত খুলে ফেলা বা দূর করা ওয়াজিব (আবশ্যক)।”(আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ’ (২৩/২২৫) এর দ্বারা প্রমাণিত হল যে, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি লাগানো নিষেধ।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]- বলেন:
المحظور الخامس من المحظورات وهو الطيب، وليس كل ما كان زكي الرائحة يكون طيبا، فالطيب ما أعد للتطيب به عادة، وعلى هذا فالتفاح والنعناع وما أشبه ذلك مما له رائحة زكية تميل إليها النفس لا يكون طيباً، إنما الطيب ما يستعمل للتطيب به، كدهن العود والمسك والريحان والورد وما أشبه ذلك، هذا لا يجوز للمحرم استعماله.والدليل على ذلك: أن النبي صلّى الله عليه وسلّم قال: ( لَا تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ، أَوِ الْوَرْسُ )، والزعفران طيب.لكن قد يقول قائل: الزعفران أخص من كونه طيباً؛ لأنه طيبٌ ولون، ونحن نقول إن الطيب بأي نوع كان يحرم على المحرم. وجوابه: أن النبي صلّى الله عليه وسلّم قال في الذي وقصته ناقته في عرفة ( لَا تُحَنِّطُوهُ )، وتحنيط الميت أطياب مجموعة تجعل في مواضع من جسمه، وهذا عام لكل طيب، وقال: ( فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ القِيَامَةِ مُلَبِّيًا )، وهذا دليل على أن المحرم لا يجوز استعماله للطيب…والطيب هنا يشمل الطيب في رأسه، وفي لحيته، وفي صدره، وفي ظهره، وفي أي مكان من بدنه، وفي ثوبه أيضاً…
“ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর পঞ্চমটি হলো সুগন্ধি। তবে যেকোনো সুগন্ধযুক্ত জিনিসই ‘সুগন্ধি’ হিসেবে গণ্য হবে না।সুগন্ধি বলতে বুঝায় যা সাধারণত সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সুতরাং আপেল, পুদিনা ইত্যাদি যেগুলোর সুন্দর গন্ধ আছে এবং মন সেদিকে আকৃষ্ট হয় সেগুলো ‘সুগন্ধি’ নয়। বরং সুগন্ধি হলো যা সুগন্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যেমন: আগর তেল, মিশক, রাইহান, গোলাপ ইত্যাদি। এগুলো ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা জায়েয নয়। এর দলিল হলো— নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমরা এমন কোনো কাপড় পরবে না, যা জাফরান বা ওয়ার্স দ্বারা স্পর্শ করা হয়েছে। জাফরান একটি সুগন্ধি। কেউ বলতে পারে: জাফরান কেবল সুগন্ধি নয়, এতে রঙও আছে। আমরা বলি: যে কোনো প্রকার সুগন্ধিই ইহরাম অবস্থায় হারাম। এর প্রমাণ নবী (ﷺ) সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন, যাকে আরাফায় তার উট ফেলে দিয়েছিল (মৃত্যুবরণ করেছিল): তাকে সুগন্ধি দিও না (তাহনিত করো না)।মৃতদেহে তাহনিত মানে বিভিন্ন সুগন্ধি একত্র করে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে লাগানো। এটি সব ধরনের সুগন্ধির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন: কারণ সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া বলতে বলতে উঠবে। এটি প্রমাণ করে যে, ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে না। এখানে সুগন্ধি বলতে বোঝায়‌ মাথা, দাড়ি, বুক, পিঠ শরীরের যে কোনো অংশে সুগন্ধি লাগানো, এমনকি কাপড়েও।”(ইবনু ইমাম উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘, আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ১৩৭)
.
▪️তৃতীয় অংশ: ইহরাম অবস্থায় কাবার বিভিন্ন কোণ যেখানে সুগন্ধি লাগানো আছে তা স্পর্শ করার বিধান এবং কাফফারার বিধান:
.
ইহরাম অবস্থায় এমন কোনো স্থান স্পর্শ করা জায়েজ নেই যেখানে সুগন্ধি (যেমন: আতর বা উদ) লাগানো আছে। যদি কাবা ঘরের কোনো কোণে (যেমন: রুকনে ইয়ামানি বা হাজরে আসওয়াদ) সুগন্ধি মাখানো থাকে, তবে তা সরাসরি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি কাবার গিলাফেও প্রায়ই সুগন্ধি ছিটানো থাকে। তাই ইহরাম অবস্থায় গিলাফ ধরা বা মুলতাজামে (কাবা শরীফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান) বুক ও মুখ লাগিয়ে দোয়া করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন সুগন্ধি তার শরীরে না লাগে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভিড়ের চাপে তাওয়াফকারীর শরীরে বা ইহরামের কাপড়ে কাবা’র সুগন্ধি লেগে যায়, তবে দ্রুত তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।তবে কোনো কাফফারা বা জরিমানা (দম) দিতে হবে না। কারন এ ক্ষেত্রে সাধারণ নীতি হল: কোন মানুষ যদি ভুলবশতঃ কিংবা অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা জবরদস্তির শিকার হয়ে ইহরাম অবস্থায় কোন নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “হে আমাদের রব্ব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬] আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সেটাই করব। আরও দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “আর এ ব্যাপারে তোমরা কোন অনিচ্ছাকৃত ভুল করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তর যা স্বেচ্ছায় করেছে (তা অপরাধ), আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৫] পক্ষান্তরে কেউ যদি ইহরাম অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ভাবে সুগন্ধি যুক্ত স্থান স্পর্শ করে এবং সুগন্ধি তাওয়াফকারীর হাতে বা কাপড়ে লেগে যায় তাহলে তার ওপরে দম দেওয়া ওয়াজিব হবে। আর এই ফিদিয়ার ক্ষেত্রে তিনটি অপশন রয়েছে (যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যায়): (১).একটি ছাগল যবেহ করা,(২).অথবা তিন দিন রোজা রাখা,(৩).অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো।
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক,আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি যদি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে বা চুম্বন করে, অথচ সেখানে সুগন্ধি (আতর) লাগানো থাকে এর হুকুম কী? সুগন্ধি শুকনো হলে আর ভেজা হলে কি হুকুমে পার্থক্য আছে? আর হাজরে আসওয়াদ বা কাবার অন্যান্য রুকনে যেগুলো ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি স্পর্শ করে সেখানে সুগন্ধি লাগানো কি শরিয়তসম্মত?
উত্তরে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
الحمد لله وحده، وصلى الله وسلم على من لا نبي بعده؛ أما بعد:
فإنَّ مِن محظورات الإحرام الطِّيبَ في البدن والثياب[1]، والأصل في ذلك قوله -صلى الله عليه وسلم- في المتفق عليه: ولا تلبسوا من الثياب شيئا مسَّه زعفران، ولا الورس[2]، وقوله -صلى الله عليه وسلم- لصاحب الجُبَّة: اخلع عنك الجُبَّة، واغسل أثر الخَلوق عنك رواه الشيخان[3].
واتفق العلماء على تحريم تعمد المُحْرِم لابتداء الطيب[4]، أمَّا استدامته فقد اختُلف فيها، والصواب جواز استدامته[5]؛ فإنه يستحب للمحرم الطِّيبُ قبل الإحرام، ثم لا يضرُّه استدامته، كما في حديث عائشة -رضي الله عنها- في الصحيحين قالت: “كنت أطيِّب رسول الله -صلى الله عليه وسلم- لإحرامه قبل أن يحرم، ولحله قبل أن يطوف بالبيت”[6]، فإذا جاز للمحرم التطيب قبل الإحرام جاز له استدامته؛ وقد ثبت أنه -صلى الله عليه وسلم- كان يُرى وبيص الطيب في مَفارِقه وهو مُحْرِم[7]، ولعل أمر النبي -صلى الله عليه وسلم- لصاحب الجُبَّة أن يغسل عنه الخلوق لأنه وضعه بعد إحرامه[8]، فمن تطيَّب ناسيًا أو جاهلًا في ثوبه أو بدنه وجب عليه غسله، والمشهور عند الفقهاء قياس الطيب على حلق الشعر في وجوب الفدية[9].
أمَّا مسألة تطييب الحجر الأسود فأقول: إنه مستحبٌّ، وليس بسنَّة، وما جاء عن ابن عمر -رضي الله عنهما- أنه رؤي خارجًا من الكعبة، وقد تلطَّخ صدرُه من طيبها[10]، وما جاء عن سعيد بن جبير أنه قال: أصابني من خَلوق الكعبة فسألتُ ابن عباس: أغسله؟ قال: لا[11].فهذان الأثران يدلَّان على أن الكعبة تُطيَّب في عهد الصحابة، والأحرى بذلك منها الحجر الأسود، وتطييب الحجر يراعى فيه اعتباران:الأول: تقبيل الناس له قبل تطييبه؛ فإنَّ لذلك أثرًا في وجود شيء من الرائحة الكريهة في الحجر.
والاعتبار الآخر: تقبيل الناس بعد تطييبه من أجلهم، فكان تطييبُه بسببهم ولأجلهم، ولكن ينبغي أن يكون الطِّيب الموضوع على الحجر خفيفًا، سريع الجفاف، حتى لا يَعْلَق بِيَدِّ مَن يستلمه وهو مُحْرِم، فإن استلم الحجر وفيه طيب رطب علِق بيده منه شيء، فلا شيء عليه، أي: لا فدية عليه، والأولى غسله[12].ومن فروع هذه المسألة أنه لا يجوز للمحرم أن يستلم الحجر، وهو يعلم أن الطِّيب سيعلق به؛ فإن استلامه مستحبٌّ، ومباشرة الطيب محظور، وبناءً على ما تقدم فإنه يصح أن يقال: لا يصح تطييب الحجر الأسود بطيبٍ رطبٍ يعلق بكفِّ مَن يستلمه، أمَّا إذا كان الطِّيب يابسًا لا يعلق بالكفِّ فلا يضر استلامه ولا تقبيله[13]، والله أعلم.
“সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম সেই নবীর উপর, যার পরে আর কোনো নবী নেই।ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর একটি হলো শরীর ও কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। এর প্রমাণ নবী (ﷺ)–এর বাণী: যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত): “তোমরা এমন কোনো পোশাক পরিধান করো না যাতে জাফরান বা ওয়ারস (এক প্রকার সুগন্ধি ঘাস) লেগে আছে।”(বুখারী (৫৮০৩; মুসলিম (১১৭৭) এবং জুব্বা পরিহিত সাহাবীর প্রতি তাঁর নির্দেশ: “তোমার জুব্বাটি খুলে ফেলো এবং তোমার শরীর থেকে সুগন্ধির (খালুক) চিহ্ন ধুয়ে ফেলো।”(এটিও শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।” (বুখারী হা/১৭৮৯; মুসলিম হা/ ১১৮০) আলেমগণ একমত যে, ইহরাম অবস্থায় নতুন করে সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। তবে ইহরামের আগে লাগানো সুগন্ধির গন্ধ বা প্রভাব (ইহরামের পর) অব্যাহত থাকা বিষয়ে মতভেদ আছে। সঠিক মত হলো এটি জায়েজ। কারণ, ইহরাম বাঁধার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা মুহরিম ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব, অতঃপর তা স্থায়ী থাকলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। যেমন সহিহাইন-এ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন:ইহরাম বাঁধার সময় আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম।”(বুখারী ২৬৭, মুসলিম ১১৮৯) সুতরাং যদি ইহরামের আগে সুগন্ধি মাখা জায়েজ হয়, তবে তা অবশিষ্ট থাকাও জায়েজ। আর এটিও প্রমাণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তাঁর সিথিতে সুগন্ধির উজ্জ্বল আভা দেখা যেত।”(বুখারী হা/২৭১; এবং মুসলিম হা/১১৯০) সম্ভবত জুব্বা পরিহিত ব্যক্তিকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুগন্ধি ধুয়ে ফেলার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা এ কারণে ছিল যে তিনি সেটি ইহরাম বাঁধার পরে ব্যবহার করেছিলেন। (নববী আল-মাজমু’ শারহুল মুহাযযাব;৭/২২২)। অতএব, যে ব্যক্তি ভুলে বা না জেনে তার পোশাকে বা শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করবে, তার ওপর তা ধুয়ে ফেলা ওয়াজিব। আর ফকিহদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো, ফিদইয়া ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সুগন্ধি ব্যবহার করাকে চুল কাটার ওপর কিয়াস (তুলনা) করা হয়।”(দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন;২/ ৫৪৪), আল-মাজমু’ শারহুল মুহাযযাব (৭/২৬৯), এবং আল-মুগনি (৫/৩৮৯) হাজরে আসওয়াদে সুগন্ধি মাখানোর মাসআলা সম্পর্কে আমি বলব: এটি মুস্তাহাব, সুন্নাত নয়। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে কাবার ভেতর থেকে বের হতে দেখা গেছে এমতাবস্থায় যে তাঁর বুক কাবার সুগন্ধিতে মাখামাখি ছিল।”(ইবনে আবি শায়বা তাঁর ‘মুসান্নাফ’ হা/১৪০১৬) সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: “কাবার সুগন্ধি (খালুক) আমার গায়ে লেগে গিয়েছিল, তখন আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমি কি এটি ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেন: না।”(আল-ফাকিহি তাঁর ‘আখবারু মক্কা’ (৭১৪)-এ সংকলন করেছেন) এই দুটি বর্ণনা প্রমাণ করে যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগে কাবা ঘরে সুগন্ধি লাগানো হতো আর কাবার অংশগুলোর মধ্যে হাজরে আসওয়াদ এ পন্থার জন্য অধিক উপযোগী। হাজরে আসওয়াদে সুগন্ধি লাগানোর ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়: প্রথমত: সুগন্ধি লাগানোর আগে মানুষের তা চুম্বন করা; কারণ এর ফলে হাজরে আসওয়াদে কিছুটা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার প্রভাব থাকে। দ্বিতীয়ত: সুগন্ধি লাগানোর পর মানুষের সুবিধার্থে তা চুম্বন করা; ফলে এটি মানুষের কারণেই এবং তাদের উদ্দেশেই সুগন্ধিময় করা হয়েছে। তবে হাজরে আসওয়াদে যে সুগন্ধি লাগানো হবে তা হালকা এবং দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন হওয়া উচিত, যেন তা ইহরামকারীর হাতে লেগে না যায়। যদি কেউ হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে এবং তাতে থাকা কাঁচা (ভেজা) সুগন্ধি তার হাতে লেগে যায়, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ বা ফিদইয়া নেই, তবে তা ধুয়ে ফেলা উত্তম।”(দেখুন: আল-মাওয়ার্দীর ‘আল-হাউয়ি’;৪/১১৩) এই মাসআলার শাখা হিসেবে বলা যায় যে, মুহরিম ব্যক্তির জন্য হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা জায়েজ নয় যদি সে জানে যে সুগন্ধি তার গায়ে লেগে যাবে; কারণ হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা মুস্তাহাব আর সুগন্ধির সংস্পর্শে আসা নিষিদ্ধ। উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়: হাজরে আসওয়াদকে এমন কাঁচা বা তরল সুগন্ধি দ্বারা সুবাসিত করা সঠিক নয় যা স্পর্শকারীর হাতে লেগে যায়। তবে সুগন্ধি যদি শুকনো হয় যা হাতে লাগে না, তাহলে তা স্পর্শ করা বা চুম্বন করা ক্ষতিকর নয়।”(দেখুন: আল-মুগনি (৫/১৪২) আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।”(ইমাম আব্দুর রহমান বিন নাসের আল-বাররাক; সম্পাদিত: ২০ যিলকদ ১৪৪৬ হিজরি দেখুন; শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-৩৩৩৫২)
.
কাতার ভিত্তিক বিখ্যাত ফতোয়াবোর্ড ইসলাম ওয়েব-এর আলেমদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় তওয়াফ করার সময় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেছেন। আমরা জানি যে হাজরে আসওয়াদে সুগন্ধি লাগানো থাকে। কেউ কেউ তাকে ফতোয়া দিয়েছেন যে, সুগন্ধি স্পর্শ করার কারণে তার তওয়াফ বাতিল হয়ে গেছে এবং তাকে পুনরায় তওয়াফ করতে হবে। এই বিষয়ে সঠিক বিধান কী?
জবাবে তারা বলেছেন;الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد: فقد اتفق العلماء على أن المحرم يحظر عليه مس الطيب، وذلك لما في الصحيحين من حديث ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال عن المحرم: “ولا يلبس ثوبا مسه ورس ولا زعفران” ولما في الصحيحين أيضا من حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في المحرم الذي وقصته ناقته فمات: “ولا تحنطوه”. ومن ارتكب هذا المحظور عالما عامدا لزمه الفدية، وهي على التخيير: ذبح شاة أو صيام ثلاثة أيام أو إطعام ستة مساكين، وأما القول بأنه يلزمه إعادة الطواف فلا يصح، بل لا قائل به من أهل العلم فيما نعلم. وأما من مس الطيب الموجود على الحجر الأسود أو غيره ناسيا إحرامه أو جاهلا أنه طيب فلا شيء عليه، لكن يلزمه إزالته عند تذكره وعلمه، فإن استدامه حينئذ لزمته الفدية، لأن استدامة المحظور كفعله ابتداء. وعلى كل حال فنقول للسائل الكريم: إنه لا تلزمه إعادة الطواف، ولو استعمل الطيب لأن استعمال الطيب يلزم منه دم فقط، والذي يظهر أن السائل علقت به رائحة الطيب من خلال لمسه للحجر الأسود، وهذا لا شيء فيه، وإنما عليه أن يزيل هذه الرائحة بغسل أو مسح ونحو ذلك.”সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাথীদের ওপর। এরপর:উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, ইহরামকারী ব্যক্তির জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত ইবনে উমর (রা.)-এর হাদীস, যেখানে নবী করীম ( ﷺ) ইহরামকারী সম্পর্কে বলেছেন:”সে এমন কোনো পোশাক পরবে না যাতে ওয়ারাস (এক ধরণের সুগন্ধি ঘাস) বা জাফরানের স্পর্শ লেগেছে।’ এছাড়া বুখারী ও মুসলিমের অন্য একটি হাদীসে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় উটের পিঠ থেকে পড়ে মারা গেলে নবী (ﷺ) বলেছিলেন: ‘তোমরা তাকে সুগন্ধি দিও না।”যদি কেউ এই নিষিদ্ধ কাজটি (সুগন্ধি ব্যবহার) জেনে-বুঝে এবং স্বেচ্ছায় করে ফেলে, তবে তার ওপর ‘ফিদিয়া’ ওয়াজিব হবে। এই ফিদিয়ার ক্ষেত্রে তিনটি অপশন রয়েছে (যেকোনো একটি বেছে নেওয়া যায়):(১).একটি ছাগল যবেহ করা,(২).অথবা তিন দিন রোজা রাখা,(৩).অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো।তবে কেউ যদি বলে যে, এর কারণে তাকে আবারও তওয়াফ করতে হবে, তবে সেই কথা সঠিক নয়। বরং আমাদের জানামতে কোনো আলেম এমন কথা বলেননি। আর যদি কেউ ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে কিংবা সুগন্ধি হওয়ার বিষয়টি না জেনে হাজরে আসওয়াদ বা অন্য কোথাও থাকা সুগন্ধি স্পর্শ করে ফেলে, তবে তার কোনো গুনাহ বা ফিদিয়া হবে না। কিন্তু মনে পড়ার সাথে সাথে বা জানার সাথে সাথেই সেটি মুছে ফেলা বা ধুয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক। যদি জানার পরেও সে সুগন্ধি মাখা অবস্থায় অবস্থান করতে থাকে, তবে তার ওপর ফিদিয়া ওয়াজিব হবে। কারণ, কোনো নিষিদ্ধ কাজ চালিয়ে যাওয়া বা বজায় রাখা তা নতুন করে শুরু করার মতোই।পরিশেষে প্রশ্নকারীকে আমরা বলছি: আপনার ওপর তওয়াফ পুনরায় করা আবশ্যক নয়, এমনকি আপনি সুগন্ধি ব্যবহার করলেও। কারণ সুগন্ধি ব্যবহারের ফলে কেবল ‘দম’ (ফিদিয়া) ওয়াজিব হয় (তওয়াফ বাতিল হয় না)। তবে দৃশ্যত যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার কারণে আপনার শরীরে সুগন্ধি লেগেছে। এতে আপনার কোনো দোষ নেই। আপনার দায়িত্ব হলো শুধু ধুয়ে ফেলে বা মুছে ফেলে এই সুগন্ধ দূর করা।”(দেখুন; ইসলাম ওয়েব ফাতওয়া নং-১৩৪৩৯)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]- কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:ইহরামকারী যদি ভুলবশতঃ কিংবা অজ্ঞতাবশতঃ কোন একটি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় যাতে লিপ্ত হওয়ার হারাম; তখন এর হুকুম কি?
জবাবে শাইখ ইবনু উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
إذا فعل شيئاً من محظورات الإحرام ناسياً أو جاهلاً فلا شيء عليه ، ولكن يجب عليه بمجرد ما يزول العذر أن يتخلى عن ذلك المحظور والواجب تذكير الناسي ، وتعليم الجاهل .مثال هذا : لو أن رجلاً نسي فلبس ثوباً وهو محرم فلا شيء عليه ، ولكن من حين ما يذكر يجب عليه أن يخلع هذا الثوب ، وكذلك لو نسي فأبقى سرواله عليه ، ثم تذكر بعد أن عقد النيّة ولبى ، فإنه يجب عليه أن يخلع سرواله فوراً ولا شيء عليه ، وكذلك لو كان جاهلاً فإنه لا شيء عليه مثل أن يلبس فنيلة ليس فيها خياطة ، ظناً منه أن المُحَرَّم لبس ما فيه خياطة فإنه لا شيء عليه ، ولكن إذا تبيّن له أن الفنيلة وإن لم يكن بها خياطة فإنها من اللباس الممنوع فإنه يجب عليه أن يخلعها .والقاعدة العامة في هذا أن جميع محظورات الإحرام إذا فعلها الإنسان ناسياً أو جاهلاً أو مكرها فلا شيء عليه لقوله تعالى : ( رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ) البقرة /286. فقال الله تعالى : قد فعلت . ولقوله تعالى : ( وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً) الأحزاب /5. ولقوله تعالى في خصوص الصيد ، هو من محظورات الإحرام : ( وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّداً ) المائدة /95. ولا فرق في ذلك بين أن يكون محظور الإحرام من اللباس ، والطيب ونحوهما ، أو من قتل الصيد وحلق شعر الرأس ونحوهما ، وإن كان بعض العلماء فرّق بين هذا وهذا ، ولكن الصحيح عدم التفريق ، لأن هذا من المحظور الذي يعذر فيه الإنسان بالجهل والنسيان والإكراه .
“যদি ভুলবশতঃ কিংবা অজ্ঞতাবশতঃ কোন একটি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। কিন্তু, তার ওজর দূর হওয়ার সাথে সাথে সে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত হওয়া কর্তব্য। ওয়াজিব হচ্ছে- ভুলকারীকে মনে করিয়ে দেয়া ও অজ্ঞ লোককে জ্ঞানদান করা।ঊদাহরণতঃ- কোন ইহরামকারী যদি ভুলবশতঃ জামা পরে ফেলে তাহলে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। কিন্তু, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে জামাটি খুলে ফেলতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি ভুলবশতঃ পায়জামা পরে থাকে, নিয়ত বাঁধা ও তালবিয়া পড়ার পর স্মরণে আসে তাহলে সাথে সাথে পায়জামা খুলে ফেলতে হবে এবং তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। অনুরূপ বিধান অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অজ্ঞের উপরেও কোন কিছু বর্তাবে না। ঊদাহরণতঃ গেঞ্জিতে সেলাই না থাকায় কেউ যদি এই মনে করে গেঞ্জি পরে যে, নিষিদ্ধ হচ্ছে- সেলাইযুক্ত পোশাক পরা; তাহলে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। কিন্তু, যখনই সে জানতে পারবে যে, গেঞ্জির মধ্যে সেলাই না থাকলেও ইহরাম অবস্থায় গেঞ্জি পরা নিষিদ্ধ পোশাকের অন্তর্ভুক্ত তাহলে সাথে সাথে গেঞ্জি খুলে ফেলা কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নীতি হল: কোন মানুষ যদি ভুলবশতঃ কিংবা অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা জবরদস্তির শিকার হয়ে ইহরাম অবস্থায় কোন নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “হে আমাদের রব্ব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬] আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সেটাই করব। আরও দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “আর এ ব্যাপারে তোমরা কোন অনিচ্ছাকৃত ভুল করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তর যা স্বেচ্ছায় করেছে (তা অপরাধ), আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৫] ‘শিকার-করা’ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন; যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ: “তোমাদের মধ্যে কেউ ইচ্ছে করে সেটাকে হত্যা করলে…।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ৯৫] এ ক্ষেত্রে ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয় পোশাক, সুগন্ধি ও এ জাতীয় অন্য কিছু হোক কিংবা শিকার করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা ও এ জাতীয় অন্য কোন নিষিদ্ধ বিষয় হোক— হুকুমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যদিও কোন কোন আলেম এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তবে, বিশুদ্ধ মত হচ্ছে- পার্থক্য নেই। কারণ এটি এমন নিষিদ্ধ কর্ম; অজ্ঞতা, ভুল ও জবরদস্তির কারণে যে ক্ষেত্রে মানুষের ওজর গ্রহণযোগ্য।”(ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম (পৃষ্ঠা ৫৩৬-৫৩৭; গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৩৬৫২২)
.
ইমাম ইবনু উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ সালেহ আল মুয়াজ্জিদ হাফিজাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:”কিছু মানুষ মনে করে সে যদি ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেলে তখন তার উপর একটা পশু যবাই অথবা তিনদিন রোযা রাখা কিংবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান আবশ্যক। তিনটির মাঝে যে কোনো একটি বাছাইয়ের সুযোগ তার আছে।
উত্তরে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:يحرم على المحرم بحج أو عمرة حلق الشعر ، وقلم الأظفار ، وتغطية الرأس بما يلاصقها ، ولبس المخيط للرجل ، والبرقع والقفازين للمرأة ، والطيب في البدن أو الثوب ، وقتل الصيد ، وعقد النكاح ، والجماع ومقدماته .فإذا وقع المحرم في شيء من هذه المحظورات ، فإنه لا يخلو من أحوال: الأولى : أن يفعله ناسيا ، أو جاهلا ، أو مكرها ، أو نائما ، فلا شيء عليه .الثانية : أن يفعله عمدا ، ولكن لعذر يبيح فعل المحظور ، فلا إثم عليه ، ويلزمه فدية ذلك المحظور ، ويأتي بيانها .الثالثة : أن يفعله عمدا بلا عذر ، فهو آثم ، وفديته على أقسام :القسم الأول : ما ليس فيه فدية ، وهو عقد النكاح .القسم الثاني : ما فديته بَدَنة ( بعير ) ، وهو الجماع في الحج قبل التحلل الأول .القسم الثالث : ما فديته صيام ثلاثة أيام ، إن شاء متوالية ، وإن شاء متفرقة ، أو ذبح شاة مما يجزئ في الأضحية ، أو ما يقوم مقامه من سُبع بدنة ، أو سُبع بقرة ، ويفرق اللحم على الفقراء ، ولا يأكل منه شيئا ، أو إطعام ستة مساكين ، لكل مسكين نصف صاع مما يطعم . فهو مخير بين هذه الأشياء الثلاثة في إزالة الشعر والظفر ، والطيب ، والمباشرة لشهوة [ يعني مباشرة المرأة من غير جماع ] ، ولبس القفازين ، وانتقاب المرأة ، ولبس الذكر المخيطَ ، وتغطية رأسه .القسم الرابع : ما فديته جزاؤه ، أو ما يقوم مقامه ، وهو قتل الصيد ؛ فإن كان للصيد مثل خير بين ثلاثة أشياء :1- إما ذبح المثل ، وتفريق لحمه على فقراء الحرم .2- أن ينظر كم يساوي المثل ، ويخرج ما يقابل قيمته طعاما يفرق على المساكين ، لكل مسكين نصف صاع .3- أن يصوم عن إطعام كل مسكين يوما .أما إذا لم يكن للصيد مثل ، فإنه يخير بين شيئين :1- أن ينظر كم يساوي الصيد المقتول ، ويخرج ما يقابلها طعاما ، يفرقه على المساكين ، لكل مسكين نصف صاع .2- أن يصوم عن إطعام كل مسكين يوما )
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় মাথা মুণ্ডানো, নখ কাটা, মাথার সাথে লেগে থাকে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা, পুরুষের জন্য সেলাই করা কাপড় পরা, মহিলাদের জন্য নিকাব ও হাত-মোজা পরা, শরীরে বা কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো, শিকারী পশু হত্যা করা, বিবাহের চুক্তি করা, সহবাস বা তার অগ্রবর্তী কাজগুলো করা হারাম।ইহরামকারী ব্যক্তি যদি নিষিদ্ধ কাজগুলোর কোনটায় লিপ্ত হয় তাহলে তার অবস্থা নিম্নের কোনো একটি: প্রথমত: সে ভুলে বা অজ্ঞতাবশতঃ বা বাধ্য হয়ে কিংবা ঘুমন্ত অবস্থায় তাতে লিপ্ত হলো; এতে করে তার উপর কোন কিছু আবশ্যক হবে না। দ্বিতীয়ত: সে ইচ্ছাকৃত এতে লিপ্ত হলো; তবে এমন কোন ওজর থাকার কারণে যেটা নিষিদ্ধ কাজকে বৈধ করে দেয়। এক্ষেত্রে তার কোনো পাপ হবে না। তবে তাকে নিষিদ্ধ কাজের ফিদিয়া দিতে হবে। ফিদিয়ার বিবরণ আসবে।তৃতীয়ত: সে কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত তাতে লিপ্ত হলো। তাহলে সে পাপী হবে। এর ফিদিয়া কয়েক প্রকার: প্রথম প্রকার: যাতে কোনো ফিদিয়া নেই। যেমন: বিবাহের চুক্তি করা।দ্বিতীয় প্রকার: যে নিষিদ্ধ কাজের ফিদিয়া হলো উট। হজ্জের মধ্যে প্রথম হালাল হওয়ার আগে সহবাস করা। তৃতীয় প্রকার: যে নিষিদ্ধ কাজের ফিদিয়া হলো তিনদিন রোযা রাখা। তিনি চাইলে টানা তিনদিন রাখবেন, আর চাইলে আলাদা আলাদাভাবে রাখবেন।অথবা কুরবানী করার উপযুক্ত একটি ভেড়া (বা ছাগল) জবাই করা কিংবা ভেড়ার স্থলাভিষিক্ত তথা উট বা গরুর এক-সপ্তমাংশ। যবাইকৃত পশুর গোশত দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিবে। এর থেকে নিজে কিছু খাবে না।অথবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান। প্রত্যেক মিসকীনকে অর্ধ সা পরিমাণ খাদ্য দিবে। এই তিনটির যে কোনো একটি করার এখতিয়ার তার থাকবে—যদি সে চুল উপড়ে ফেলে, নখ কাটে, সুগন্ধি লাগায়, যৌন উত্তেজনাসহ শৃঙ্গার করে (অর্থাৎ সহবাস ছাড়া স্ত্রীর সাথে অন্য যৌনাচার), হাত-মোজা পরে, মহিলা নিকাব পরে, পুরুষ সেলাই করা কাপড় পরে কিংবা মাথা ঢাকে। চতুর্থ প্রকার: যে নিষিদ্ধ কাজের ফিদিয়া হলো নিষিদ্ধ জিনিসটির সমকক্ষ বা সমমূল্য কিছু দেওয়া। এই নিষিদ্ধ কাজটি হলো পশু শিকার করা। যদি শিকারকৃত পশুর অনুরূপ পশু থাকে তাহলে তিনটি বিষয়ের মাঝে এখতিয়ার দেওয়া হবে: (১)- অনুরূপ পশু যবাই করে হারামের দরিদ্রদের মাঝে গোশত বিতরণ করা। (২)- অনুরূপের পশুর মূল্য কত সেটি নির্ধারণ করে সমান মূল্যের খাদ্য মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করা। প্রত্যেক মিসকীনের জন্য অর্ধ সা করে। (৩)- প্রত্যেক মিসকীনকে খাদ্য দেওয়ার পরিবর্তে একদিন করে রোযা রাখা। আর যদি শিকারকৃত পশুর অনুরূপ পশু না থাকে তাহলে দুটি বিষয়ের মাঝে এখতিয়ার দেওয়া হবে: (১)- নিহত পশুর মূল্য নির্ধারণ করে মূল্যের সমান খাদ্য মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করে দেয়া। প্রত্যেক মিসকীনকে অর্ধ সা করে দেয়া। (২)- প্রত্যেক মিসকীনকে খাওয়ানোর পরিবর্তে একদিন করে রোযা রাখা।'(ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উসাইমীন (২২/২০৫-২০৬ গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৪৯০২৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate