প্রশ্ন: স্বর্ণালংকার বা যেকোনো গহনার ওপর আয়াতুল কুরসি, “আল্লাহ” বা “আল্লাহ জাল্লা জালালুহু” লেখার হুকুম কি? এছাড়াও ঘরের দেয়ালে, মসজিদে, অফিস আদালতে কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি বা ফ্রেম ঝুলানো কি জায়েজ?
▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর জমহুর ওলামাদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী স্বর্ণালংকারের ওপর আয়াতুল কুরসি কিংবা আল্লাহ তাআলার নাম খোদাই করা অতঃপর সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়ত করা যেমন-বরকত হাসিল করা, জ্বিন এবং মানুষ শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করা ইত্যাদি শরঈভাবে জায়েজ নয়। এর অন্যতম কারণ হলো—আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নাম ও কুরআনের আয়াত এই উদ্দেশ্যে দেননি যে, সেগুলো সোনা-রুপার গহনায় খোদাই করে গলায় ঝুলিয়ে রাখা হবে, এর মাধ্যমে বিভিন্ন কল্যাণ বরকত প্রত্যাশা করবে কিংবা ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য ওয়ালম্যাট বানানো হবে, বরং তিনি এগুলো দিয়েছেন, যেন আমরা নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করি, তা বুঝে পড়ি, প্রয়োজনীয় দোয়া ও যিকির যথাসময়ে আদায় করি, আল্লাহর নামসমূহ মুখস্থ করি, সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করি এবং সেই অনুযায়ী আমাদের জীবন গড়ে তুলি।এছাড়াও সোনা-রুপার অলংকারে আল্লাহ তাআলার নাম খোদাই করার ফলে তাঁর পবিত্র নাম অবমানিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। তদুপরি এতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে সাদৃশ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে; কারণ তারাও ক্রুশ বা তাদের নিকট মহিমান্বিত বিভিন্ন প্রতীক ঝুলিয়ে রাখে।অথচ ইসলামি শরীয়ত মুসলিমদেরকে কাফেরদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “কেউ যদি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে তাহলে সে তাদের দলভুক্ত।”[হাদীসটি আবু দাউদ হা/৩৫১২) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে (২৬৯১) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন] শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘এ হাদিসের সর্বনিম্ন অবস্থার দাবি হচ্ছে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম; যদিও এর বাহ্যিক মর্মের দাবি হচ্ছে অনুকরণকারীরা কাফের।”(ইকতিদাউস সীরাতিল মুস্তাকীম পৃষ্ঠা: ২৩৭)
.
তবে আংটির ওপর নাম লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, এমনকি তাতে আল্লাহর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও। একইভাবে আংটির ওপর কোনো অর্থবোধক বাক্য লেখাতেও কোনো অসুবিধা নেই যাতে আল্লাহর নাম রয়েছে (যেমন: আলহামদুলিল্লাহ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ ইত্যাদি)। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীদের থেকে এ ধরনের অনেক উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম প্রখ্যাত সাহাবী আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চিঠি লিখলেন কিংবা লিখতে চাইলেন। তখন তাঁকে বলা হল: তারা সীলমোহর বিহীন কোন চিঠি পড়ে না। সে প্রেক্ষিতে তিনি একটি রুপার আংটি বানালেন। তাতে লেখা ছিল, ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (অর্থ- মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। আমি যেন তাঁর হাতে সে আংটির শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি।”(ইমাম বুখারি হা/৬৫) ও মুসলিম হা/২০৯২) অপর বর্ননা এসেছে প্রখ্যাত সাহাবী আনাস ইবনূ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃনবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুপার একটি আংটি তৈরি করলেন এবং তাতে ‘মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ’ কথাটি খোদাই করলেন। তিনি লোকদের বললেন, আমি একটি রুপার আংটি তৈরি করেছি এবং তাতে ‘মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ’ কথাটি খোদাই করেছি। সুতরাং কেউ যেন অনুরুপ খোদাই না করে।”(সহীহ মুসলিম হা/৫৩৭১)
.
এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, সাধারণভাবে আংটি ব্যবহার করা (নারীদের জন্য সোনা রুপা পুরুষের জন্য রুপার আংটি) এবং তাতে নকশা করা—যেমন আল্লাহর নাম খোদাই করা বৈধ। তবে নবী (ﷺ) তাঁর ব্যবহৃত আংটির অনুরূপ নকশা করতে যে নিষেধ করেছিলেন, তার মূল কারণ ছিল সেই আংটিতে খোদাইকৃত তাঁর পবিত্র নাম ও পদবি। তিনি মূলত এটি তৈরি করেছিলেন সরকারি মোহর বা সিল হিসেবে ব্যবহারের জন্য, যাতে এটি তাঁর একান্ত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়। যদি অন্য কাউকেও একই নকশার আংটি তৈরির অনুমতি দেওয়া হতো, তবে তাঁর সেই বিশেষ উদ্দেশ্যটি ব্যাহত হতো। হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন। এমনকি সালাফে সালেহীনদের অনেকের পক্ষ থেকেই এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তাঁরা নিজেদের আংটিতে মহান আল্লাহর নাম সংবলিত বিভিন্ন জিকির বা বাক্য খোদাই করতেন। হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’তে এর বেশ কিছু উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন—أَخْرَجَ اِبْن أَبِي شَيْبَة فِي ” الْمُصَنَّف ” عَنْ اِبْن عُمَر أَنَّهُ نَقَشَ عَلَى خَاتَمه عَبْد اللَّه بْن عُمَر . . . وَأَخْرَجَ اِبْن أَبِي شَيْبَة عَنْ حُذَيْفَة وَأَبِي عُبَيْدَة أَنَّهُ كَانَ نَقْش خَاتَم كُلّ وَاحِد مِنْهُمَا ” الْحَمْد لِلَّهِ ” وَعَنْ عَلِيّ ” اللَّه الْمَلِك ” وَعَنْ إِبْرَاهِيم النَّخَعِيِّ ” بِاَللَّهِ ” وَعَنْ مَسْرُوق ” بِسْمِ اللَّه ” وَعَنْ أَبِي جَعْفَر الْبَاقِر ” الْعِزَّة لِلَّهِ ” وَعَنْ الْحَسَن وَالْحُسَيْن لا بَأْس بِنَقْشِ ذِكْر اللَّه عَلَى الْخَاتَم”ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর আংটির পাথরে ‘আবদুল্লাহ ইবনে উমর’ খোদাই করেছিলেন। ইবনে আবি শাইবাহ হুযায়ফা এবং আবু উবাইদাহ (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের প্রত্যেকের আংটির নকশা বা খোদাই ছিল ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। আর আলী (রা.)-এর আংটিতে খোদাই করা ছিল ‘আল্লাহুল মালিক’ (আল্লাহই একমাত্র সম্রাট/অধিপতি)। ইবরাহিম নাখয়ীর আংটিতে ছিল ‘বিল্লাহ’ (আল্লাহর ওপর ভরসা), মাসরুকের আংটিতে ছিল ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে) এবং আবু জাফর আল-বাকিরের আংটিতে ছিল ‘আল-ইজ্জাতু লিল্লাহ’ (সকল সম্মান ও প্রতাপ আল্লাহর জন্য)। হাসান ও হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, আংটিতে আল্লাহর জিকির (স্মরণমূলক বাক্য) খোদাই করাতে কোনো বাধা নেই।”(ফাতহুল বারী; খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ৩৪০; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৬৮৮০৫)
.
পক্ষান্তরে স্বর্ণালংকারে আয়াতুল কুরসি বা ‘আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু জাল্লা জালালুহু’ সূরা নাস ফালাক্ক লেখা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। উলামাদের মতে এটি মাখরূহ (অপছন্দনীয়), কারণ সালাফে সালিহীনদের রীতিতে এমন কোনো প্রথা ছিল না।ইমাম আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হি:) বলেন:ومِن حرمته ألاَّ يُكتب على الأرض ولا على حائط كما يُفعل به في المساجد الْمُحدَثة، حدثنا محمد بن علي الشقيقي عن أبيه عن عبد الله بن المبارك عن سفيان عن محمد بن الزبير قال: سمعت عمر بن عبد العزيز يُحدِّث قال: «مرَّ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بكتاب في أرض فقال لشاب من هذيل: ما هذا، قال: من كتاب الله كتبه يهودي، فقال: لعنَ الله من فعل هذا، لا تضعوا كتاب الله إلاَّ موضعه» قال محمد بن الزبير: رأى عمر بن عبد العزيز ابناً له يكتب القرآن على حائط فضربه) “কুরআনের মর্যাদার দাবি হলো— এটি যেন মাটিতে বা দেয়ালে লেখা না হয়, যেমনটি বর্তমানে নতুন নির্মিত মসজিদগুলোতে করতে দেখা যায়। মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-শাকিকি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি সুফিয়ান আস সাওরি থেকে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবনুয যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ মাটিতে পড়ে থাকা একটি লেখার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি হুযাইল গোত্রের এক যুবককে জিজ্ঞেস করলেন— এটি কী? যুবকটি উত্তর দিল— এটি আল্লাহর কিতাবের অংশ, যা একজন ইহুদি লিখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: যে ব্যক্তি এটি করেছে তার ওপর আল্লাহর লানত (অভিসম্পাত)। তোমরা আল্লাহর কিতাবকে তার উপযুক্ত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও রেখো না।” বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুয যুবায়ের আরও বলেন: (পরবর্তীতে) উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর নিজের এক ছেলেকে দেয়ালে কুরআন লিখতে দেখে তাকে প্রহার করেছিলেন।”(আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন (কুরতুবীর তাফসীর), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০; এবং আল-তিযকার ফি আফদালিল আযকার, পৃষ্ঠা ১২০)
.
শায়খ মুহাম্মদ বিন আলিশ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
وينبغي حُرمة) نقش القرآن، وأسماء الله تعالى مطلقاً، لتأديته إلى الامتهان، وكذا نقشها على الحيطان)
“কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর নামসমূহ (কোনো কিছুতে) খোদাই করা বা নকশা করাকে সাধারণভাবে হারাম (নিষিদ্ধ) হওয়া উচিত।কারণ এটি (পরবর্তীতে কোনো না কোনোভাবে) অবমাননার দিকে ধাবিত করে।অনুরূপভাবে,দেয়ালের ওপর এসব নকশা করাও (হারামের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত)।”(মানহুল জলিল আলা মুখতাসারিল আল্লামা খলিল, খণ্ড: ১,পৃষ্ঠা: ৫১৭-৫১৮)
.
আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দারদীর (মৃত. ১২০১ হি.) বলেছেন:(وظاهره أن النقش مكروه ولو قرآناً، وينبغي الحرمة، لأنه يُؤدِّي إلى امتهانه كذا ذكروا، ومثله نقش القرآن، وأسماء الله في الجدران) “বাহ্যিক দৃষ্টিতে বোঝা যায় যে,(কবর বা অন্য কোথাও) নকশা করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়),এমনকি তা যদি কুরআনের আয়াতও হয়। তবে এটি হারাম হওয়া উচিত; কারণ এটি অবমাননার পথ তৈরি করে যেমনটি ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন।দেয়ালের ওপর কুরআন এবং আল্লাহর নাম খোদাই করার বিষয়টিও একই হুকুমের (হারাম হওয়ার) অন্তর্ভুক্ত।”(আশ-শারহুল কবির আলা মুখতাসারিল খলিল, খণ্ড: ১,পৃষ্ঠা: ৪২৫)
.
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:(مذهبنا أنه يُكره نقش الحيطان والثياب بالقرآن، وبأسماء الله تعالى)”আমাদের মাযহাব (শাফেয়ী) অনুযায়ী: দেয়াল এবং পোশাকে কুরআন বা আল্লাহর নাম খোদাই করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন, পৃষ্ঠা: ৮৯ ও ৯৭; এবং ইব্রাহিম আল-বাজুরীর হাশিয়াহ আলা শারহি ইবনে কাসিম আল-গাজ্জি, ১/১৯৮) তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন:(ويكره كتابته على الحيطان سواء المسجد وغيره)”মসজিদ হোক বা অন্য কিছু, দেয়ালের ওপর কুরআন লেখা মাকরূহ।”
(ইমাম নববী;রওদাতুত তালিবিন, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৮০)
.
শাইখ মুহাম্মদ আশ-শিরবিনী (রহিমাহুল্লাহ),[মৃত: ৯৭৭ হি.] বলেছেন:(ويُكره كتبُ القرآن على حائط ولو لمسجد، وثياب، وطعام، ونحو ذلك، ويجوزُ هدم الحائط، ولبس الثوب، وأكل الطعام، ولا تضرُّ ملاقاته ما في المعدة، بخلاف ابتلاع قرطاس عليه اسم الله تعالى فإنه يحرمُ عليه)“দেয়ালে কুরআন লেখা মাকরূহ এমনকি তা যদি মসজিদের দেয়ালও হয় ,একইভাবে কাপড়, খাবার এবং এই জাতীয় বস্তুর ওপর (কুরআন লেখা) মাকরূহ। (তবে এই নির্দেশনার পর) সেই দেয়াল ভেঙে ফেলা,সেই কাপড় পরিধান করা এবং সেই খাবার খাওয়া বৈধ। আর পাকস্থলীর ভেতরে যা (নাপাকি) আছে, তার সাথে ওই খাবারের স্পর্শ হওয়া কোনো দোষের বিষয় নয়। কিন্তু এর বিপরীতে, এমন কাগজ গিলে ফেলা যাতে আল্লাহ তাআলার নাম রয়েছে, তা হারাম।”(আল-ইকনা’ ফী হাল্লি আলফাযি আবি শুজা’, খণ্ড: ১,পৃষ্ঠা: ১০৪; মুগনী আল-মুহতাজ, খণ্ড: ১,পৃষ্ঠা: ৩৮)
.
এ বিষয়ে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:”আমাদের কাছে হৃদপিণ্ড সদৃশ কিছু লকেট রয়েছে যাতে ‘আল্লাহ’ শব্দ খোদাই করা আছে। আরব এবং অনারব সব ধরনের মানুষই এগুলো ক্রয় করে। আমরা অনেক সময় আরবদের বলি যে, এগুলো নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা হারাম। এখন এগুলো বিক্রির বিধান কী, তা আমাদের জানান।” উত্তরে স্থায়ী কমিটির আলেমগন বলেছেন: بيع الحلي المكتوب عليها لفظ الجلالة لا يجوز ، إلا إذا رفعت منه .
“যেসব অলঙ্কারে ‘আল্লাহ’ শব্দ লেখা থাকে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেই লেখাটি মুছে ফেলা হয়।”
.
ইতিপূর্বে স্থায়ী কমিটির কাছে একই ধরনের একটি প্রশ্ন এসেছিল (ফতোয়া নং ২০৭৭), যার উত্তর ছিল নিম্নরূপ:’আমরা আমাদের চিঠির সাথে একটি স্বর্ণের অলঙ্কার পাঠাচ্ছি যাতে ‘আল্লাহ’ শব্দটি লেখা আছে। এটি আমাদের মুসলিম মহিলারা শুধুমাত্র সৌন্দর্য ও অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করেন। কিছুকাল আগে আমব বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার (সদুপদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী সংস্থা) এর ভাইয়েরা আমাদের জানিয়েছেন যে, এই অলঙ্কার ব্যবহার করা হারাম; কারণ এতে আল্লাহর নাম লেখা আছে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এটি কেবল মুসলিম মহিলারাই শোভাবর্ধনের জন্য ব্যবহার করেন এবং এটি খ্রিস্টান ও ইহুদি মহিলাদের থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে করা হয়। কারণ খ্রিস্টানরা ক্রুশ বা মূর্তির ছবিযুক্ত অলঙ্কার পরে এবং ইহুদিরা দাউদ নক্ষত্র (Star of David) খোদাই করা অলঙ্কার পরে। অতএব, এ বিষয়ে আপনাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।’ উত্তরে স্থায়ী কমিটির আলেমগন বলেছেন:
نظرا لأن هذه الحلية كتب عليها لفظ الجلالة لغرض تعليق نساء المسلمين لها على الصدر، كما يعلق النصارى حلية رسم عليها الصليب، ونساء اليهود حلية رسمت عليها نجمة داود ، ونظرا لأن ما فيه اسم الله قد يعلق للتعلق به في دفع ضر أو جلب نفع ، وقد يعلق لغير ذلك، ويفضي تعليقه إلى امتهانه ، كأن ينام عليه ، أو يدخل به في أماكن يكره دخولها بشيء فيه كلام الله أو كتب عليه اسم الله ؛ ترى اللجنة أنه لا يجوز استعمال هذه الحلية التي كتب عليها اسم الجلالة؛ ابتعادا عن التشبه بالنصارى واليهود الذين نهي المسلمون عن التشبه بهم، وسدا للذريعة، وحفاظا على اسم الله من الامتهان، ولعموم النهي عن تعليق التمائم “
“যেহেতু এই অলংকারটির উপর লফযুল জালালাহ (আল্লাহর নাম) লেখা হয়েছে—এই উদ্দেশ্যে যে মুসলিম নারীরা তা বুকে ঝুলিয়ে পরবে; যেমনিভাবে খ্রিস্টানরা ক্রুশ আঁকা অলংকার ঝুলিয়ে রাখে এবং ইহুদিরা দাউদ নক্ষত্র অঙ্কিত অলংকার ঝুলিয়ে রাখে।এবং যেহেতু আল্লাহর নাম সম্বলিত কোনো বস্তু ঝুলানো কখনো তাতে ভরসা করে ক্ষতি দূর করা বা উপকার লাভের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, আবার কখনো অন্য উদ্দেশ্যেও হয়ে থাকে; কিন্তু এভাবে ঝুলানো শেষ পর্যন্ত তার অবমাননার দিকে নিয়ে যায়—যেমন: তা পরিহিত অবস্থায় ঘুমানো, অথবা তা সঙ্গে নিয়ে এমন স্থানে প্রবেশ করা যেখানে আল্লাহর কালাম বা আল্লাহর নাম লেখা বস্তু নিয়ে প্রবেশ করা অপছন্দনীয়।এই সব দিক বিবেচনায় স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এ অভিমত পোষণ করে যে, আল্লাহর নাম খোদাই করা এই অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ নয়।এর কারণ হলো খ্রিস্টান ও ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন থেকে দূরে থাকা (যাদের অনুকরণ করতে মুসলিমদের নিষেধ করা হয়েছে),গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন মাধ্যম ও পথ বন্ধ করা (সাদ্দুয-যারাঈ‘),আল্লাহর নামকে অবমাননা থেকে সংরক্ষণ করা, এবং তামীমা (তাবিজ/কবচ) ঝুলানোর ব্যাপারে যে সাধারণ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে।” (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৩; পৃষ্ঠা: ৪৭৩; ফাতওয়া নং ২০৭৭)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: আলজেরিয়া প্রজাতন্ত্র থেকে হাম্মাদ এবং খাদিজা নামক দুই ভাই-বোন এই প্রশ্নটি পাঠিয়েছেন। প্রথম প্রশ্নে (সম্ভবত বোনটি) বলছেন: আমার কাছে একটি স্বর্ণের চেইন আছে যাতে ‘আল্লাহ’ নাম খোদাই করা আছে। আমার জন্য কি এটি ব্যবহার করা জায়েজ হবে নাকি তা হারাম?
উত্তরে শাইখ বলেন:
هذه السلسلة من الذهب التي فيها اسم الله أو فيها آية من القرآن ينبغي تركها؛ لأنه قد يدخل بها الخلاء، تركها أولى، وقد توضع في محل يمتهن، فالأولى بك أن تغيري هذه السلسلة بأن يزال منها ما فيها من أسماء الله حتى لا تمتهن؛ لأن أسماء الله عظيمة، والسلسلة قد توضع في بعض المتاع قد تلقى في الغرفة، قد تلقى في الصندوق فلا يبالى بها، قد تلمس بشيء لا يناسب، فالحاصل: أن تركها أولى وأحوط تعظيمًا لأسماء الله عز وجل، فتحك أو تسبك سبكًا جديدًا ليس فيها ذكر الله سبحانه وتعالى، هذا هو الأولى والأحوط احتياطًا لأسماء الله وحماية لها من الامتهان. وهكذا الثياب التي يكون فيها أسماء الله أو آيات لا يجوز لبسها؛ لأنها وسيلة إلى أن تمتهن أو يصيبها النجاسة من حيض أو غيره، أو تلقى فيطأ عليها الناس أو يجلس عليها الناس؛ فلهذا حرم لبسها وحرم جعلها وسائد أو بسط؛ لأن هذا يفضي إلى امتهانها بالقعود عليها والوطء عليها ونحو ذلك. نعم.
“এই স্বর্ণের চেইন যাতে আল্লাহর নাম বা কুরআনের কোনো আয়াত রয়েছে, তা বর্জন করা উচিত; কারণ এটি পরিধান করে টয়লেটে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে, তাই এটি ব্যবহার না করাই উত্তম। আবার অনেক সময় এটি এমন জায়গায় রাখা হতে পারে যেখানে এর অবমাননা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।অতএব, আপনার জন্য উত্তম হলো এই চেইনটি পরিবর্তন করে ফেলা অথবা সেখান থেকে আল্লাহর নাম সম্বলিত অংশটুকু মুছে ফেলা, যাতে এর কোনো অবমাননা না হয়। কারণ আল্লাহর নাম অত্যন্ত মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ। তাছাড়া চেইনটি হয়তো আসবাবপত্রের মধ্যে রাখা হতে পারে, ঘরের কোথাও ফেলে রাখা হতে পারে, অথবা বাক্সের ভেতর অবহেলায় পড়ে থাকতে পারে। আবার কখনও অনুপযুক্ত কোনো কিছুর সংস্পর্শেও আসতে পারে যা এর মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।সারকথা হলো:আল্লাহর নামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন স্বরূপ এটি বর্জন করাই হচ্ছে অধিকতর উত্তম এবং সতর্কতা অবলম্বনকারী পদক্ষেপ। আপনি চাইলে নামটি ঘষে মুছে ফেলতে পারেন অথবা চেইনটি গলিয়ে নতুন করে তৈরি করতে পারেন যেখানে আল্লাহর নাম থাকবে না।আল্লাহর নামের মর্যাদা রক্ষা এবং অবমাননা থেকে বাঁচানোর জন্য এটিই হলো সবচেয়ে উত্তম ও সতর্কতামূলক পন্থা।একইভাবে,যেসব পোশাকে আল্লাহর নাম বা কোরআনের আয়াত থাকে, সেগুলো পরিধান করা জায়েয নেই। কারণ এটি অবমাননার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়; যেমন এতে ঋতুস্রাব বা অন্য কোনো কারণে তাতে অপবিত্রতা লাগার সম্ভাবনা থাকে,আবার এই পোশাক কোথাও পড়ে থাকলে মানুষ তার ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারে বা তার ওপর বসতে পারে।এই কারণেই এ জাতীয় পোশাক পরিধান হারাম করা হয়েছে এবং এগুলোকে বালিশ বা কার্পেট হিসেবে ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ; যেহেতু এর ওপর বসা বা পা রাখার ফলে আল্লাহর নামের অবমাননা ঘটে।”(বিন বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-৭০০৫)
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.]-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল:সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ঘরে কুরআনের আয়াত লেখা কোনো বোর্ড বা ফ্রেম ঝুলানো কি জায়েজ?
উত্তরে শাইখ বলেন:
الله سبحانه وتعالى أنزل القرآن هدى ونورًا وشفاء لما في الصدور، وأنزله ليتلى ويتدبر ويعمل به ويستنار بهديه ويتخذ إمامًا وقائدًا إلى الله جل وعلا وإلى جنته، فهو حجة الله على خلقه كما قال النبي صلى الله عليه وسلم : ( والقرآن حجة لك أو عليك ) [ انظر ” صحيح مسلم ” ( 1/203 ) من حديث أبي مالك الأشعري رضي الله عنه ] إن تمسكت به وعملت به صار حجة لك، وهو دليل لك إلى الجنة، وإن أعرضت عنه صار حجة عليك، يدفعك إلى النار لمخالفته وعدم العمل به، فهذا هو الواجب نحو القرآن .الواجب نحو القرآن أن نتلوه حق تلاوته، وأن نهتدي بهديه، ونستنير بنوره، وأن نعظمه ونجله ونحترمه ونصونه عن العبث والامتهان؛ لأنه كتاب الله عز وجل الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد، وأن نعمل به وأن نحكمه فيما اختلفنا فيه كما قال تعالى : { فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً } [ سورة النساء : آية 59 ] .أما كتابته حجبًا أو رقاعًا أو على لوحات، ويعلق على الجدران، فهذا لا ينبغي ويحرم كتابته حجبًا وحروزًا يعلق على الصبيان أو على الرقاب أو على النساء أو الرجال هذا لا يجوز على الصحيح من قولي العلماء؛ لأن فيه امتهانًا للقرآن وتعريضًا لإهانته، وربما يكون سببًا للاعتقاد في الشفاء من غير الله عز وجل ويكون فتحًا لباب تعليق ما لا يجوز تعليقه من العوذ الشيطانية والألفاظ الشركية .فالصحيح من قولي العلماء أنه لا يجوز اتخاذ القرآن حروزًا وتعاويذ تكتب وتعلق على الرقاب أو على الأجسام، وكذلك كتابته على لوحات وتعليقه على الجدران هذا لا يجوز، لأنه ربما يهان القرآن، ربما أن المكان الذي علقت فيه هذه اللوحة التي فيها آية من كتاب الله، أنه يكون فيه شيء من المعاصي، ويكون فيه شيء من الفسوق، ويكون في هذا إهانة للقرآن العظيم، وربما تسقط هذه اللوحة وتداس وتمتهن أو تؤول هذه اللوحة إلى سكان لا يعبئون بالقرآن، وينزلون هذا المنزل فيهينون هذا القرآن المعلق، ففي تعليقه على الجدران تعريض له للامتهان، ولم يكن هذا من هدي السلف الصالح، لم يعلم أنهم كانوا يكتبون القرآن على لوحات أو براويز ويعلقونه على الجدران وإنما كان القرآن يكتب في القلوب، ويعمل به ظاهرًا وباطنًا، ويحفظ ويتلى ويدرس، أما كتابته في لوحات وبراويز وما أشبه ذلك فهذا لم يكن معروفًا عن السلف، ولا فائدة من وراء ذلك، وإنما يخشى من المضرة والإهانة للقرآن الكريم
“আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআন নাযিল করেছেন হেদায়েত, নূর (আলো) এবং অন্তরের রোগের আরোগ্য হিসেবে। তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যেন তা তিলাওয়াত করা হয়, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা হয়, সে অনুযায়ী আমল করা হয়, তার হেদায়েত দ্বারা আলো গ্রহণ করা হয় এবং তাকে মহান আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পথনির্দেশক ও নেতা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির ওপর এক অকাট্য দলিল। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:“কুরআন তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে দলিল।”(সহিহ মুসলিম) অতএব, কেউ যদি কুরআনকে আঁকড়ে ধরে এবং তার ওপর আমল করে, তবে কুরআন তার পক্ষে দলিল হবে এবং তাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করে না, কুরআন তার বিপক্ষে দলিল হবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেবে। এটিই কুরআনের প্রতি আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব।সুতরাং কুরআনের প্রতি আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো আমরা যেন তা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করি, তার হেদায়েত অনুসরণ করি, তার নূরের দ্বারা আলোকিত হই, তাকে সম্মান করি, মর্যাদা দিই এবং যেকোনো রকম অবমাননা ও অসম্মান থেকে রক্ষা করি। কারণ এটি আল্লাহ তা‘আলার কিতাব—যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।এছাড়া আমাদের মতবিরোধের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণতির দিক থেকে শ্রেষ্ঠ।”(সূরা নিসা: ৫৯) কিন্তু কুরআনকে তাবিজ, কবচ বা রক্ষাকবচ হিসেবে লেখা হোক তা কাগজে, কাপড়ে বা বোর্ডে এবং তা শিশুদের গলায়, নারী-পুরুষের শরীরে বা ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা সমীচীন নয়। বরং আলেমদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি নাজায়েজ ও হারাম। এর কারণ হলো এতে কুরআনের অবমাননা ও অসম্মানের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এটি এমন বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে আরোগ্য বা উপকার পাওয়া যায়। ফলে এতে শয়তানি তাবিজ, শিরকপূর্ণ মন্ত্র বা অবৈধ ঝোলানো জিনিসের পথ খুলে যায়।সুতরাং আলেমদের সঠিক মত অনুযায়ী কুরআনকে তাবিজ বা কবচ বানিয়ে গলায়, শরীরে বা ঘরে ঝুলানো জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে কুরআনের আয়াত বোর্ড বা ফ্রেমে লিখে দেয়ালে ঝুলানোও জায়েজ নয়। কারণ এতে কুরআন অবমাননার ঝুঁকিতে পড়ে। হয়তো সেই ঘরে গুনাহ ও পাপাচার সংঘটিত হচ্ছে, যা আল্লাহর কিতাবের জন্য অসম্মানজনক। আবার এমনও হতে পারে যে বোর্ডটি পড়ে গিয়ে পদদলিত হবে ও লাঞ্ছিত হবে।কিংবা এমন লোকদের হাতে যেতে পারে যারা কুরআনের কোনো মর্যাদা দেয় না এবং একে হেয় প্রতিপন্ন করে।এটি সালাফে সালেহীনের আমল ছিল না। তারা কখনো কুরআন বোর্ড বা ফ্রেমে লিখে দেয়ালে ঝুলাননি। বরং কুরআন তাদের অন্তরে সংরক্ষিত থাকত—তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে তার ওপর আমল করতেন, তা মুখস্থ করতেন, তিলাওয়াত করতেন এবং শিক্ষা দিতেন।কিন্তু কুরআনকে সাজসজ্জার বস্তু বানানো বা দেয়ালে ঝুলানো তাদের যুগে পরিচিত ছিল না। এতে কোনো উপকার নেই; বরং ক্ষতি ও অবমাননার আশঙ্কাই প্রবল।”(আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়াস শাইখ সালিহ আল-ফাওযান: ৩৪/৩৯)
.
এছাড়াও অনেক মানুষ ঘরের দেয়ালে কুরআনের আয়াত, দুআ, আল্লাহর নাম ইত্যাদি লিখে বা ফ্রেম করে ঝুলিয়ে রাখে—এই নিয়তে যে এতে ঘরে বরকত নাযিল হবে অথবা জিন, শয়তান ও যাদু-টোনা থেকে ঘর সুরক্ষিত থাকবে। অথচ এই উদ্দেশ্যে এ ধরনের লেখা ঝুলিয়ে রাখা দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত বিদআত। কারণ কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোথাও এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, ঘরে আয়াত বা দুআ ঝুলিয়ে রাখলে তাতে বরকত নাযিল হয় বা তা জিন-শয়তান ও যাদু-টোনা থেকে রক্ষা করে।বরং এসব থেকে হেফাজতের জন্য রাসূল ﷺ যে শরঈ পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো—কুরআনের নির্দিষ্ট আয়াত ও সূরা (যেমন: সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস, সূরা বাকারা, আলে ইমরান, আয়াতুল কুরসি ইত্যাদি) এবং হাদিসে বর্ণিত দুআসমূহ যথানিয়মে পাঠ করা। সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন; সম্মানিত শায়খের নিকট বিনীত জিজ্ঞাসা: আমরা লক্ষ্য করি যে, অনেক সময় কাগজ, কাপড় বা কাঠের বোর্ডে কুরআনের আয়াত লিখে মসজিদের প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন ভবন কিংবা সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে আল্লাহর কালাম অবমাননার একটি আশঙ্কা থেকে যায় (আল্লাহ না করুন); কারণ এসব বোর্ড প্রায়ই ছিঁড়ে বা ভেঙে নিচে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমতাবস্থায়, আল্লাহর কালামের মর্যাদা রক্ষা এবং এ ধরনের অসম্মানজনক পরিস্থিতি রোধকল্পে আপনার মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও ফতোয়া প্রত্যাশা করছি।
জবাবে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন;
تعليق الآيات القرآنية على الجدران وأبواب المساجد وما أشبهها- هو من الأمور المحدثة التي لم تكن معروفة في عهد السلف الصالح الذين هم خير القرون، كما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام أنه قال: (خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم)، ولو كان هذا من الأمور المحبوبة لله عز وجل لشرعه الله تعالى على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم؛ لأن كل ما ينفع الناس في دينهم ودنياهم فهو مشروع على لسان الرسول صلى الله عليه وسلم، ولو كان هذا من الخير لكان أولئك السلف الصالح أسبق إليه منا، ومع هذا فإننا نقول لهؤلاء الذين يعلقون هذه الآيات: ماذا تقصدون من هذا التعليق؟ أتقصدون بذلك احترام كلام الله عز وجل؟ فإن قالوا: نعم. قلنا: لسنا والله أشد احتراما لكتاب الله سبحانه وتعالى من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، ومع ذلك لم يعلقوا شيئا من آيات الله على جدرانهم أو جدران مساجدهم، وإن قالوا: نريد بذلك التذكير والموعظة. قلنا: لننظر إلى الواقع، فهل أحد من الناس الذين يشاهدون هذه الآيات المعلقة يتعظ بما فيها؟ قد يكون ذلك ولكنه نادر جدا، وأكثر ما يلفت النظر في هذه الآيات المكتوبة حسن الخط، أو ما يحيط بها من البراويز والزخارف، أو ما أشبه ذلك وهو نادر جدا أن يرفع الإنسان رأسه إليها ليقرأها فيتعظ بما فيها، وإن قالوا: نريد التبرك بها. فيقال: ليس هذا طريق التبرك، والقرآن كله مبارك، لكنه بتلاوته وتفقد معانيه والعمل به، لا بأن يعلق على الجدران ويكون كالمتاحف، وإن قالوا: أردنا بذلك الحماية والورد، قلنا: ليس هذا طريق الحماية والورد، فإن الأوراد التي تكون من القرآن إنما تنفع صاحبها إذا قرأها، كما في قوله صلى الله عليه وسلم فيمن قرأ آية الكرسي في ليلة: (لم يزل عليه من الله حافظ، ولا يقربه شيطان حتى يصبح)، ومع هذا فإن بعض المجالس ـ أو كثيرا من المجالس ـ التي تكتب فيها الآيات قد يكون فيها اللغو، بل قد يكون فيها الكلام المحرم، أو الأغاني المحرمة، وفي ذلك من امتهان القرآن المعنوي ما هو ظاهر، ثم إن الامتهان الحسي الذي أشار إليه السائل ـ بأن هذه الأوراق قد تتساقط في الأسواق وعلى القاذورات، وتوطأ بالأقدام ـ هو أمر آخر أيضا مما ينبغي أن ينزه عنه، بل مما يجب أن ينزه عنه كلام الله عز وجل، والخلاصة: أن تعليق هذه الآيات إلى الإثم أقرب منه إلى الأجر، وسلوك طريق السلامة أولى بالمؤمن وأجدر، على أنني أيضا رأيت بعض الناس يكتب هذه الآيات بحروف أشبه ما تكون مزخرفة، حتى إني رأيت من كتب بعض الآيات على صورة طائر أو حيوان، أو رجل جالس جلوس التشهد في الصلاة أو ما أشبه ذلك، فيكتبون هذه الآيات على وجه محرم، على وجه التصوير الذي لعن النبي صلى الله عليه وسلم فالدرب
“কুরআনের আয়াত ঘরের দেয়াল, মসজিদের দরজা বা এ জাতীয় স্থানে লাগানো দ্বীনের মধ্যে নব আবিস্কৃত বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত যা সালাফে-সালেহীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি হওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনদের খাইরুল কুরুন বা শ্রেষ্ঠ যুগে পরিচিত ছিলো না। অথচ তারাই ছিলেন সর্বোত্তম প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেছেন: ‘সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।”(সহীহ বুখারী হা/২৬৫২) যদি এই কাজটি মহান আল্লাহর নিকট প্রিয় হতো,তবে তিনি তাঁর রাসূলের (ﷺ) মাধ্যমে অবশ্যই তা বিধিবদ্ধ করে দিতেন। কারণ মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য যা কিছু কল্যাণকর, তার সবই রাসূল (ﷺ)-এর জবানিতে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি এতে কোনো মঙ্গল থাকত, তবে সালাফে সালেহীনগণ এটি পালনে আমাদের চেয়ে অবশ্যই অগ্রগামী হতেন। এতদসত্ত্বেও, যারা এসব আয়াত ঝুলিয়ে রাখেন, আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করি আপনাদের উদ্দেশ্য কী? আপনারা কি এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে চান? তারা যদি বলে: ‘হ্যাঁ’, তবে আমরা বলব: আল্লাহর কসম! আমরা আল্লাহর কিতাবের প্রতি রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীদের চেয়ে বেশি সম্মানকারী নই। তা সত্ত্বেও তারা তাদের দেয়ালে বা মসজিদের দেয়ালে আল্লাহর কোনো আয়াত ঝুলিয়ে রাখেননি।আর যদি তারা বলে: ‘আমরা এর মাধ্যমে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে এবং উপদেশ দিতে চাই’, তবে আমরা বলব: বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে দেখুন, যারা এই ঝুলানো আয়াতগুলো দেখে তারা কি কেউ তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে? এমনটা হতে পারে, কিন্তু তা খুবই বিরল; এই লিখিত আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো সুন্দর হাতের লেখা অথবা এর চারপাশের ফ্রেম ও কারুকাজ বা এ জাতীয় অন্যান্য সাজসজ্জার দিকে। কেউ মাথা উঁচু করে আয়াতটি পড়ে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে—এমনটা খুবই কম ঘটে।তারা যদি বলে: ‘আমরা এর মাধ্যমে বরকত পেতে চাই’, তবে বলা হবে: এটি বরকত লাভের সঠিক পদ্ধতি নয়। কুরআন অবশ্যই বরকতময়, কিন্তু সেই বরকত আসে তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে; দেয়ালে ঝুলিয়ে মিউজিয়ামের সামগ্রীর মতো সাজিয়ে রাখার মাধ্যমে নয়।আর তারা যদি বলে: ‘আমরা এর মাধ্যমে সুরক্ষা এবং জিকির (আযকার) চাই’, তবে আমরা বলব: এটি সুরক্ষা বা জিকিরের পথ নয়।কেননা কুরআনের আমল বা যিকরসমূহ তখনই পাঠকারীর উপকারে আসে যখন সে তা নিজে পড়ে।যেমনটি নবী (ﷺ) এর বাণীতে এসেছে যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে: “আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক (ফেরেস্তা) সবসময় তার সাথে থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।এছাড়া, অনেক মজলিস যেখানে এসব আয়াত লেখা থাকে, সেখানে অহেতুক আড্ডা, এমনকি হারাম কথাবার্তা বা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারও হতে পারে। এতে কুরআনের এক প্রকার চরম ‘মানসিক বা অর্থগত অবমাননা’ প্রকাশ পায়। পাশাপাশি এর একটি ‘শারীরিক বা বস্তুগত অবমাননার’ দিকও রয়েছে— যা প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন। যেমন এসব কাগজ এক সময় ছিঁড়ে নোংরা স্থানে পড়তে পারে বা পদদলিত হতে পারে। আল্লাহর কালামকে এসব থেকে পবিত্র রাখা অপরিহার্য।সারকথা হলো: এই আয়াতগুলো ঝুলানো সওয়াবের চেয়ে গুনাহের বেশি নিকটবর্তী, আর নিরাপদ পথ অনুসরণ করাই মুমিনের জন্য অধিক উত্তম ও সংগত।তাছাড়া আমি কিছু মানুষকে দেখেছি যারা এই আয়াতগুলোকে এমন বর্ণমালায় লেখে যা অনেকটা কারুকাজের মতো, এমনকি আমি এমনও দেখেছি যেখানে আয়াতগুলোকে পাখি বা প্রাণীর আকৃতিতে লেখা হয়েছে।অথবা নামাজে তাশাহহুদে বসা ব্যক্তির আকৃতিতে বা এই জাতীয় কিছু; এভাবে তারা এই আয়াতগুলোকে হারাম পন্থায় লেখে, যা সেই ছবি বা প্রতিকৃতির অন্তর্ভুক্ত যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন।”(ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, পৃষ্ঠা: ৬/৪৮)
.
উল্লেখযোগ্য যে, যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো কুরআনের আয়াত, হাদিসের দুআ বা আল্লাহ তা‘আলার নাম মুখস্থ করা, শেখা বা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ঘরে, বৈঠকখানায় কিংবা পড়ার টেবিলের সামনে সাময়িকভাবে ঝুলিয়ে রাখে, তাহলে কিছু আলেমের মতে এতে কোনো আপত্তি নেই। তবে শর্ত হলো, যখন সেই শিক্ষাগত উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তা নামিয়ে ফেলা উচিত, যেন তা অলংকার বা স্থায়ী প্রদর্শনের রূপ না নেয়। এ বিষয়ে বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-জিজ্ঞেস করা হলে জবাবে তিনি বলেছেন:لا مانع من تعليق الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية في المجالس والمكاتب كل ذلك لا بأس به؛ للتذكير والعظة والفائدة، لا اتخاذها حروزا تمنع من الجن”বৈঠকখানা, অফিস ইত্যাদিতে কুরআনের আয়াত ও হাদিস টাঙ্গিয়ে রাখতে বাধা নেই। এগুলোতে কোন অসুবিধা নেই যদি স্বরণ, উপদেশ ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে হয়। তবে জিন-শয়তান ইত্যাদি থেকে থেকে বাঁচার রক্ষাকববজ হিসেেব হলে জায়েজ নাই।”(বিন বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-১৩২৪৮)
.
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার এবং প্রতিটি পদক্ষেপে এর সঠিক অনুসরণের তৌফিক দান করুন। (তিনিই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
No comments:
Post a Comment