উমরা আদায় করা একটি অত্যন্ত আধ্যাত্মিক সফর, যার জন্য মানসিক ও শারীরিক দুই দিক থেকেই প্রস্তুতির প্রয়োজন। আমি একটি পূর্ণাঙ্গ উমরা নির্দেশিকা (গাইড) তৈরি করেছি, যেখানে আমি অন্তর্ভুক্ত করেছি ইহরাম অবস্থায় কী কী নিষিদ্ধ এবং কী কী নিষিদ্ধ নয়, উমরা ও যিয়ারত সম্পর্কিত বিদআত সমূহ, উমরা চেকলিস্ট (কি কি জিনিসপত্র সাথে করে নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ) এবং মক্কা ও মদিনায় জিয়ারতের স্থানগুলোর বর্ণনা যা এই প্রবন্ধের শেষ অংশে পাবেন।
উমরার রুকন ও ওয়াজিব সমূহ
উমরার রুকন তিনটি:
১. ইহরাম (নিয়ত): এটি শুধুমাত্র ইহরামের কাপড় পরিধান করা নয়; বরং উমরা শুরু করার জন্য আন্তরিক নিয়ত করাও।
২.তাওয়াফ: ৭ বার কাবা প্রদক্ষিণ করা।
৩. সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝ দিয়ে ৭ চক্কর দেওয়া।
উমরার ওয়াজিব দুটি:
১. মিকাত থেকে ইহরামে প্রবেশ করা: মিকাত সীমা অতিক্রমের আগে বা সীমায় পৌঁছে নিয়ত করতে হবে। যদি কেউ মিকাত পেরিয়ে পরে নিয়ত করে, তবে তার উপর একটি দম (কুরবানি) ওয়াজিব হবে।
২. মাথার চুল মুন্ডন বা কাটা:
- পুরুষদের জন্য: পুরো মাথা মুন্ডন করা বা সব চুল সমানভাবে ছোট করে কাটা। মুন্ডন করা ছোট করার চেয়ে উত্তম ও বেশী সওয়াবের।
- নারীদের জন্য: নারীরা মাথা মুন্ডন করবে না; তারা চুল একসাথে গুছিয়ে আঙুলের ডগার পরিমাণ (প্রায় ১ ইঞ্চি) শেষ দিক থেকে কাটবে।
উমরার মিকাতসমূহ
মিকাত বলতে নির্দিষ্ট সে সব স্থানকে বা সীমানাকে বোঝায়, যেখানে পৌঁছানোর আগে হজ্ব বা উমরাকারীদের ইহরামে প্রবেশ করতে হয়। মক্কার চারপাশে পাঁচটি প্রধান মিকাত রয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হজ্ব ও উমরাকারীদের জন্য এগুলো নির্ধারিত। ৫টির মধ্যে ৪টি মিকাত হাদিসে বর্ণিত, আর একটি নির্ধারণ করা হয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)–এর খিলাফতের সময়।
[৪টি মিকাতের হাদিস: সহিহ আল‑বুখারি: ১৫২৬]
১. যুল হুলাইফাহ (আবিয়ার আলী):
- যুল হুলাইফাহ মসজিদ মক্কা থেকে প্রায় ৪৫০ কিমি দূরে এবং মদিনা থেকে প্রায় ৯ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
- মদিনা থেকে আগত বা মদিনার মধ্য দিয়ে আসা হাজীদের জন্য এটি মিকাত।
২. আল‑জুহফা (রাবিগের নিকটে):
- আল‑জুহফা মক্কার উত্তর‑পশ্চিম দিকে প্রায় ১৯০ কিমি দূরে অবস্থিত।
- (শাম) অঞ্চল—সিরিয়া, মিশর, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, মরক্কো, তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন, সুদান, আলজেরিয়া ও বিভিন্ন আফ্রিকা অঞ্চলের হাজীদের জন্য মিকাত।
৩. কারনুল মানাজিল (আস‑সাইলুল কাবির):
- কারনুল মানাজিল মক্কার পূর্বদিকে প্রায় ৮০ কিমি দূরে, তাইফের কাছে অবস্থিত।
- (নাজদ) অঞ্চল—রিয়াদ, মধ্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও অনুরূপ অঞ্চলের হাজীদের জন্য মিকাত।
৪. ইয়ালামলাম:
- ইয়ালামলাম মক্কার দক্ষিণ দিকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে অবস্থিত।
- ইয়েমেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর হাজীদের জন্য মিকাত।
৫. যাতু ইরক:
- যাতু ইরক মক্কার উত্তর‑পূর্ব দিকে প্রায় ৯৪ কিমি দূরে অবস্থিত।
- ইরাক, ইরান, চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে আগত হাজীদের জন্য মিকাত।
- যাতু ইরক মিকাতটি উমর (রা.)–এর খিলাফতের সময় নির্ধারিত হয় এবং এলাকার বৃহত্তম পর্বত ‘ইরক আসওয়াদ’-এর নামে নামকরণ করা হয়। যখন বসরা ও কুফা নগরী মুসলমানদের দখলে আসে, তখন ওই অঞ্চল থেকে আগত মানুষ কারনুল মানাজিল (রাসুল ﷺ যে মিকাত নাজদের লোকদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন) পর্যন্ত পৌঁছতে কষ্টের কথা প্রকাশ করেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) প্রস্তাব দেন, কারনুল মানাজিলের সমান্তরাল ও তাদের স্বাভাবিক পথের বিপরীত পাশে একটি নতুন মিকাত নির্ধারণের। অতঃপর তিনি যাতু ইরককে নতুন মিকাত হিসেবে নির্ধারণ করেন।
উমরা শুরু করার পদ্ধতি
১. ইহরামের অবস্থায় প্রবেশ:
মিকাতে পৌঁছানোর আগে (যে সীমানায় ইহরাম বাধ্যতামূলক হয়ে যায়) কিছু শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নাহ:
গোসল: সুন্নাহ পদ্ধতিতে গোসল করা।
পরিচ্ছন্নতা: নখ কাটা এবং অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা।
সুগন্ধি (শুধু পুরুষদের জন্য): মাথা ও দাড়িতে সুগন্ধি লাগানো, তবে ইহরামের কাপড়ে লাগানো যাবে না।
পোশাক: পুরুষরা দুই টুকরা সাদা সেলাই বিহীন কাপড় (ইযার ও রিদা) পরবে; নারীরা তাদের স্বাভাবিক শালীন পোশাকই পরবে (হাত ও মুখ খোলা থাকবে)। নারীদের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ পোশাক বাধ্যতামূলক নয়। পুরুষেরা মিকাতে পৌঁছার আগে ইহরামের কাপড় পরতে পারে, তবে তারা মিকাতে পৌঁছার আগে ইহরামের নিয়ত করবে না [এবং তালবিয়া পড়বে না]।
২. মিকাতে পৌঁছে নিয়ত করা:
মিকাতে পৌঁছার পর ইহরামে প্রবেশ করা ওয়াজিব। এই সময় ইহরামের কাপড় পরিধানের পাশাপাশি জোরে উচ্চারণ করে নিয়ত করতে হবে। শুধু মনে মনে উমরার নিয়ত করলেই যথেষ্ট নয়; ইহরামের অবস্থায় প্রবেশের জন্য শারীরিক (কাপড়) ও মৌখিক (উচ্চারণ) দুইটিই করতে হবে। সুতরাং, পুরুষ ও নারী উভয়ে মিকাতে পৌঁছে এই নিয়ত পাঠ করবে:
لَبَّيْكَ اللَّهمَّ بِعُمْرَةٍ
লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা বি’উমরাহ।
“হে আল্লাহ, আমি উমরাহ পালনের জন্য উপস্থিত।”
ঐচ্ছিক শর্ত: যদি আপনি আশঙ্কা করেন যে অসুস্থতা/ভ্রমণ ইত্যাদির কারণে উমরা শেষ করতে নাও পারেন, তাহলে বলবেন:
اللَّهُمَّ مَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي
আল্লাহুম্মা মাহিল্লি হাইসু হাবাস্তানি।
“হে আল্লাহ! আপনি যেখানে আমাকে থামিয়ে দেবেন, সেখানেই আমার ইহরাম ভাঙার স্থান।”
৩. মিকাত থেকে তালবিয়া পাঠ:
মিকাত থেকে কাবায় পৌঁছা পর্যন্ত পথ চলার পুরো সময় তালবিয়া বেশি বেশি পড়তে হবে।
পুরুষরা উচ্চ স্বরে তালবিয়া পড়বে।
নারীরা নিরবে পড়বে।
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
“হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনি ছাড়া কোনো অংশীদার নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, সব অনুগ্রহ ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।”
৪. মসজিদুল হারামে প্রবেশ:
মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় ডান পা আগে রেখে এ দোয়া পড়বেন:
بِسْمِ اللَّهِ، اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، اَللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, আল্লা-হুম্মাফ্ তা’হ্ লী আবওয়া-বা রাহ্মাতিক।
“আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি রহমত ও শান্তি প্রেরণ করুন। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।”
তারপর কাবার দিকে যাবেন, যেন কালো পাথর (হাজরে আসওয়াদ)–এর কোণা থেকে তাওয়াফ শুরু করতে পারেন। “আমি তাওয়াফের নিয়ত করলাম…” এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ করবেন না। এভাবে উচ্চারণ করে তাওয়াফের নিয়ত করা রাসুল ﷺ থেকে বর্ণিত নয়। নিয়ত হৃদয়ের আমল। শুধু মাত্র মিকাতে ইহরামে প্রবেশ করার সময় ইহরামের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়তে হয়। তাওয়াফের জন্য উযু করা অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী ওয়াজিব; তবে সাঈর জন্য উযু করা শর্ত নয়।
৫. তাওয়াফ (৭ চক্কার):
হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথরের) কাছে পৌঁছালে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবেন।
শুরু:
হাজরে আসওয়াদের সামনে এসে সম্ভব হলে হাত দিয়ে তা স্পর্শ করবেন এবং চুমু দেবেন।
যদি চুমু দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে শুধু হাতে দিয়ে স্পর্শ করে সেই হাতকেই চুমু দেবেন।
যদি হাত দিয়েও স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তবে হাত উঁচু করে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইশারা করে বলবেন:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَر
বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার।
“আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
পুরুষদের জন্য:
ইত্তিবা: তাওয়াফের পুরো সময় ডান কাঁধ খোলা রাখবেন। উপরের কাপড় ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে রাখবেন।
প্রথম তিন চক্করে রমল: একটু দ্রুত হাঁটা/হালকা দৌড়ানো সুন্নাহ, বাকি চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
নারীদের জন্য:
তাওয়াফে দৌড়ানো বা দ্রুত হাঁটার কোনো বিধান নেই; স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
সাধারণ দোয়া/যিকির:
প্রতিটি চক্করের জন্য নির্দিষ্ট কোন দোয়া নেই। আপনি কুরআন পড়তে পারেন, কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিভিন্ন দোয়া ও জিকির করতে পারেন। এ সব দোয়া ও জিকির একত্রে সম্মিলিতভাবে না পড়ে, প্রত্যেকে নিজ নিজ ভাবে পড়বেন।
রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে:
প্রতিবার রুকনে ইয়ামানি অতিক্রমের সময় হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন, তবে চুমু দেবেন না। যদি স্পর্শ করা না যায়, তাহলে দূর থেকে ইশারা করবেন না। বাকি দুই কোণা স্পর্শ বা ইশারা করা সুন্নাহ নয়। রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে এই দোয়া পড়বেন:
رَبَّنَا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
“হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।”
প্রতিবার হাজরে আসওয়াদে পৌঁছালে:
হাজরে আসওয়াদের সামনে এসে তা স্পর্শ বা ইশারা করে বলবেন:
اللهُ أَكْبَر
আল্লাহু আকবার।
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
৬. তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের নিকটে যাওয়া:
সাত চক্কর শেষ হলে পুরুষরা ডান কাঁধ ঢেকে নেবেন। এরপর মাকামে ইবরাহিমের দিকে অগ্রসর হবেন। এটি একটি ছোট কাচ ও পিতলের গম্বুজ/ঘেরা স্থাপনা, যা হাজরে আসওয়াদের কাছে অবস্থিত। মাকামে ইবরাহিমকে সামনে রেখে এই দোয়া পাঠ করবেন:
وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى
ওয়াত্তাখিযূ মিন-মাক্বামি ইবরাহীমা মুসাল্লা।
“এবং মাক্বামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করুন।”
- দুই রাকাত সালাত আদায়: সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে (বা ভিড় হলে মসজিদের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সূরা আল‑কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল‑ইখলাস পড়া উত্তম।
- জমজম পানি পান: দুই রাকাত সালাত শেষ করে জমজম পানির স্থানে গিয়ে পানি পান করবেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢালবেন। জমজম পান করার সময় আপনি নিজের যেকোনো দোয়া করতে পারেন।
- আবার হাজরে আসওয়াদের নিকটে ফিরে আসা: এরপর সম্ভব হলে আবার হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করবেন। যদি তা সম্ভব না হয়, দূর থেকে ইশারা করার প্রয়োজন নেই; সেক্ষেত্রে সরাসরি সাফা পাহাড়ের দিকে রওনা হবেন।
৭. সাঈ (সাফা ও মারওয়ার মাঝের ৭ চক্কর):
- সাফার দিকে আগমন: সাফা পাহাড়ের নিকটে পৌঁছালে এ আয়াতসহ দোয়া পড়বেন:
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ. أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ
ইন্নাস্সাফা ওয়াল-মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লা-হ। আবদাউ বিমা বাদা-আল্লাহু বিহি।
“নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি সেই দিক থেকেই শুরু করছি, যেখান থেকে আল্লাহ শুরু করেছেন।”
এই দোআ কেবল সাফার পাদদেশে প্রথমবারই পড়বেন, পরে আর পুনরাবৃত্তি করবেন না।
- সাফা পাহাড়ের উপরে: যতটা সম্ভব কাবা দেখা যায়, ততটুকু উঁচুতে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে এই দোয়া পড়বেন:
এই দোয়া তিনবার পাঠ করবেন এবং প্রতিবার পাঠের পরে কল্যাণের জন্য প্রচুর দুআ করবেন (কিন্তু তৃতীয়বারের পর আর দোয়া করবেন না)।
- সাফা থেকে মারওয়ার দিকে যাত্রা: সাফা থেকে নেমে মারওয়ার দিকে হাঁটতে থাকুন। মাঝপথে সবুজ বাতির অংশে পৌঁছলে পুরুষরা সবুজ বাতির মাঝের অংশে যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড়াবেন, তবে কারো ক্ষতি না করে। নারীরা দৌড়াবেন না, স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
- মারওয়া পাহাড়ে: মারওয়ার দিকে গিয়ে কিছুটা উঁচুতে উঠে কাবার দিকে মুখ করে ঠিক সাফার মতোই তিনবার তাকবির ও দোয়া পড়বেন এবং মাঝখানে দোয়া করবেন। এরপর মারওয়া থেকে সাফার দিকে ফিরে যাবেন, সবুজ বাতির মাঝে পুরুষেরা আবার যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড়াবেন এবং নারীরা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
- ৭ চক্করের হিসাব: সাফা থেকে মারওয়া = ১ম চক্কর। মারওয়া থেকে সাফা = ২য় চক্কর। আবার সাফা থেকে মারওয়া = ৩য়, এভাবে চলতে থাকবে। ৭ম চক্কর মারওয়ায় শেষ হবে। ৭ম চক্কর শেষে মারওয়ায় পৌঁছে আর আগের মতো দোয়া/তাকবির পুনরায় পড়া জরুরি নয়। সেখানে পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই সাঈ সম্পন্ন হয়।
সাফা-মারওয়ার মাঝের পথে হাঁটার সময় আপনি কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও যিকির যা ইচ্ছা করতে পারেন। আপনার সাথে ছোট দোয়া/যিকিরের বুকলেট, বই বা কাগজ রাখতে পারেন, তাওয়াফ ও সাঈ করার সময় সেগুলো থেকে পড়া জায়েজ।
৮. চুল মুন্ডন করে বা কেটে উমরা সম্পূর্ণ করা:
- পুরুষদের জন্য: সাঈ শেষ করে মারওয়ায় পৌঁছার পর পুরুষরা মাথার সব চুল সম্পূর্ণভাবে মুন্ডন করবে বা সমানভাবে ছোট করে কাটবে। মুন্ডন (হালক্ব) করা উত্তম, যদিও ছোট করে কাটা (তাক্বসির)ও বৈধ।
- নারীদের জন্য: নারীরা সব চুল একত্র করে গুছিয়ে ধরে শেষ দিক থেকে আঙুলের ডগার পরিমাণ (প্রায় ১ ইঞ্চি) কাটবে।
এটি সম্পন্ন হলে আপনার উমরা শেষ হয়ে যাবে এবং আপনি আর ইহরামের অবস্থায় থাকবেন না। ইহরামে প্রবেশের সময় যা যা নিষিদ্ধ হয়েছিল, সব আবার জায়েজ হয়ে যাবে।
কিছু টিপস:
পুরুষ: তাওয়াফের ৭ চক্করের সময়েই শুধু ডান কাঁধ খোলা থাকবে।
পুরুষ: তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে শুধু (রমল করা) দ্রুত হাঁটা/হালকা দৌড়ানো সুন্নত।
নারীরা: তাওয়াফ এবং সাঈ দুই ক্ষেত্রেই দৌড়ানো/দ্রুত হাঁটবেন না।
ইহরামে প্রবেশের পর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
ইহরামের নিয়ত করার পর কিছু নির্দিষ্ট কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এগুলো ইচ্ছাকৃত করলে সাধারণত ফিদিয়া (শাস্তিস্বরূপ কাফফারা) লাগতে পারে।
১. সাধারণ নিষেধাজ্ঞা (পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য):
চুল বা নখ কাটা: শরীরের কোনও অংশ থেকে চুল ছাঁটাই, শেভ করা বা উপড়ে ফেলা যাবে না। নখ কাটা যাবে না।
সুগন্ধি ব্যবহার: শরীর বা ইহরামের কাপড়ে কোনো সুগন্ধি লাগানো যাবে না। (নিয়তের আগে লেগে থাকা সুগন্ধির গন্ধ ইহরাম অবস্থায় টিকে থাকলে সমস্যা নেই।) ইহরাম অবস্থায় কাবার সুগন্ধি স্পর্শ করা ইহরামের বিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। কারণ কাবার গিলাফ (কিসওয়া)-তে প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা হয়। ইহরাম অবস্থায় আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধিযুক্ত ওই কাপড় স্পর্শ করেন অথবা সুগন্ধি আপনার ত্বক বা কাপড়ে লেগে যায়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং আপনাকে দম (জরিমানা) আদায় করতে হবে।
যৌন আচরণ: দাম্পত্য মিলন, তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব কথা, ইশারা, প্রস্তাব ও উত্তেজক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
বিয়ে: ইহরাম অবস্থায় কেউ নিজে বিয়ে করতে পারবে না, কিংবা অন্য কারো বিয়ের আকদও করাতে পারবে না।
শিকার: স্থলজ প্রাণী শিকার করা বা হত্যা করা নিষিদ্ধ (তবে ক্ষতিকর পোকামাকড় যেমন মশা, সাপ ইত্যাদি নষ্ট করা বৈধ)।
গুনাহ/ঝগড়া: ঝগড়া-বিবাদ, অশালীন ও গালমন্দপূর্ণ কথাবার্তা থেকে দূরে থাকতে হবে।
২. পুরুষদের জন্য বিশেষ নিষেধাজ্ঞা:
মাথা ঢেকে রাখা: টুপি, পাগড়ি, হুড ইত্যাদি এমনভাবে মাথায় পরা যাবে না, যা মাথাকে স্পর্শ করে ঢেকে রাখে। তবে ছাতা দিয়ে রোদ থেকে আশ্রয় নেওয়া জায়েজ, যতক্ষণ তা মাথায় লাগিয়ে পরা হয় না।
সেলাই করা পোশাক: অর্থাৎ এমন পোশাক, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার অনুযায়ী তৈরি (শার্ট, প্যান্ট, পায়জামা, আন্ডারওয়্যার, মোজা ইত্যাদি)। পুরুষদের শুধু দুইখানা সেলাই বিহীন কাপড় (রিদা ও ইযার) পরে থাকতে হবে।
টাখনু ঢেকে রাখা: পায়ের এমন জুতা পরা যাবে না যা টাখনু ও পায়ের উপরের অংশ ঢেকে ফেলে। স্যান্ডেল জাতীয় জুতা উত্তম।
৩. নারীদের জন্য বিশেষ নিষেধাজ্ঞা:
নেকাব ও গ্লাভস: রাসুল ﷺ স্পষ্টভাবে ইহরাম অবস্থায় নারীদের নেকাব (মুখের সাথে লাগানো পর্দা) এবং হাতমোজা পরা নিষিদ্ধ করেছেন।
তবে: যদি পুরুষেরা পাশে দিয়ে হেঁটে যায় বা সামনে থাকে, নারীরা তাদের খিমারের (ওড়না/স্কার্ফ) অংশ নিচে টেনে মুখ ঢেকে নিতে পারে; তবে মুখের সাথে লাগানো আঁটসাঁট পর্দা (নেকাব) পরবে না।
কোন ভুল করলে কী করবেন?
ভুলে গেলে/না জানলে: ভুলে বা অজ্ঞতার কারণে কেউ নিষিদ্ধ কাজ করে ফেললে (যেমন অসাবধানতাবশত সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করা), সাধারণত তার ওপর গোনাহ ও ফিদিয়া নেই। বিষয়টি বুঝে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে।
ইচ্ছাকৃত/অত্যাবশ্যক: কোনো বৈধ প্রয়োজন বা চিকিৎসাজনিত কারণে কিছু করতে হলে (যেমন মাথায় ব্যান্ডেজ বাধা, বিশেষ ধরনের টুপি পরা) তখন ফিদিয়া দিতে হয়—সাধারণত ৩ দিন রোজা রাখা, ৬ জন গরিবকে খাওয়ানো বা একটি ছাগল/ভেড়া কোরবানি করা—এর কোন একটি।
কিছু জায়েজ কাজ (যেগুলো নিয়ে সন্দেহ হয়):
গোসল: ইহরাম অবস্থায় গোসল করা, মাথা ও শরীর ধোয়া জায়েজ, তবে সুগন্ধিমুক্ত সাবান ব্যবহার করা উত্তম।
চুলকানো: মাথা বা শরীর চুলকাতে পারবেন; এতে যদি হঠাৎ কিছু চুল পড়ে যায়, তবু অসুবিধা নেই।
ইহরামের কাপড় বদলানো: নোংরা/ভেজা হয়ে গেলে ইহরামের কাপড় বদলানো যাবে।
বেল্ট পরা: কোমরে মানি-বেল্ট বা পাউচ ব্যবহার করা জায়েজ, যাতে টাকা/ডকুমেন্ট রাখা যায়।
জুতা/স্যান্ডেল: পুরুষ ইহরাম অবস্থায় এমন স্যান্ডেল পরতে পারবে, যা টাখনু ঢেকে রাখে না।
অন্যান্য বৈধ জিনিস: ঘড়ি, সানগ্লাস, কনট্যাক্ট লেন্স, হিয়ারিং এইড, লাঠি, ছাতা ও ব্যাকপ্যাক ব্যবহার করা জায়েজ। ইহরামের পুরো সময় স্যান্ডেল পরে থাকা জায়েজ; কষ্ট কমানোর জন্য এটি করা যেতে পারে। বয়স্ক, অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির জন্য হুইলচেয়ারে বসা ও অন্য কারও দ্বারা হুইলচেয়ার ঠেলে নেওয়া উভয়েরই উমরা সহিহ হবে।
উমরা সম্পর্কিত বিদআত সমূহ
ইহরাম সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- উচ্চৈঃস্বরে নিয়ত পড়া।
- তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সময় ইহরাম অবস্থায় ডান কাঁধ খালি রেখে ডান বগলের নীচ দিয়ে ইহরামের কাপড় পরিধান করা। যা শুধুমাত্র তাওয়াফের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সময় তা করা বিদআত। এমনকি বর্তমানে অনেকেই ডান কাঁধ খোলা রাখা অবস্থাতেই সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ কাঁধ খোলা রাখা অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত শুদ্ধ হবে না।
- দলবদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করা। মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধে স্ব স্ব তালবিয়া পাঠ করতে হয়। কিন্তু অনেকেই দলবদ্ধভাবে সম্মিলিতভাবে তালবিয়া পাঠ করে থাকেন যা বিদআত।
- পুরুষের নিম্নস্বরে তালবিয়া পাঠ। পুরুষের উচ্চৈঃস্বরে এবং মহিলাদের নিম্নস্বরে স্ব স্ব তালবিয়া পাঠ করাই হল সুন্নাত।
- মসজিদ আয়েশা বা তানীম মসজিদ থেকে ইহরাম বেঁধে বার বার উমরা পালন করা।
তাওয়াফ সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- তাওয়াফের উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করা।
- মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক ও শরীআতের বিধান মনে করা।
- তাওয়াফ শুরুর সময় উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করা। শুধু মাত্র মিকাতে ইহরামে প্রবেশ করার সময় ইহরামের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়তে হয়।
- মনগড়া দোয়া পড়া।
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় রাফউল ইয়াদায়েন করা।
- রুকনে ইয়ামানতে চুম্বন করা।
- মাকামে ইবরাহিমে হাত বুলানো বা চুম্বন করা।
- কাবার গিলাফ, দেয়াল, দরজা প্রভৃতি স্থানে হাত দিয়ে ধরে বা মুখ-বুক লাগিয়ে বরকত কামনা করা বা দোয়া বা কান্নাকাটি করা। ইহরাম অবস্থায় কাবার সুগন্ধি স্পর্শ করা ইহরামের বিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। কারণ কাবার গিলাফ (কিসওয়া)-তে প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা হয়। ইহরাম অবস্থায় আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধিযুক্ত ওই কাপড় স্পর্শ করেন অথবা সুগন্ধি আপনার ত্বক বা কাপড়ে লেগে যায়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং আপনাকে দম (জরিমানা) আদায় করতে হবে।
- তাওয়াফের সময় দলব্ধভাবে সম্মিলিত দোয়া পাঠ করা।
- হাতীমের মধ্যে দিয়ে তাওয়াফ করা। কাবার উত্তর পার্শ্বে স্বল্প উচ্চ দেওয়াল ঘেরা হাতীেমের বাহির দিয়ে তাওয়াফ করতে হবে। ভিতর দিয়ে গেলে ঐ তাওয়াফ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় আরেকটি তাওয়াফ করতে হবে।
- প্রতিটি চক্করে আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা।
- তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ না করা অথবা প্রতি চক্করেই রমল করা।
- রমলের সময় নির্দিষ্ট কোন দো‘আ পাঠ
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বনের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা।
- রুকনে ইরাক্বী ও রুকনে শামী স্পর্শ করা।
- রুকনে ইয়ামানির দিকে ইশারা করা ও তাকবীর বলা। রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা সুন্নাত। কিন্তু কোন কারণে স্পর্শ করতে না পারলে ইশারা করার এবং তাকবীর বলার কোন বিধান নেই।
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে দু’হাত উঁচু করে সগর্বে আল্লাহু আকবার বলা। অনেকেই হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করাকে অনেক গর্ব মনে করেন। তাই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করে দু’হাত উঁচু করে সগর্বে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে সকলকে জানিয়ে দেন যে আমি পেরেছি।
সাঈ সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- সাঈ শুরুর পূর্বে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করা।
- অধিক সওয়াবের প্রত্যাশায় সাঈ শুরুর পূর্বে ওযূ করা।
- মনগড়া দোয়া পড়া।
- কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত সা‘ঈর নির্দিষ্ট দোয়ার সাথে অন্য দোয়া নির্দিষ্ট করা।
- সাঈ করার সময় প্রত্যেক চক্করে নির্দিষ্ট দোয়া করা।
- মহিলাদের সাফা-মারওয়ার মাঝখানে সবুজ লাইট চিহ্নিত স্থানে দ্রুত চলা বা দৌড়ানো।
- সাঈ শেষে সালাত আদায় করা।
যমযম সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- যমযম পানি পানের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়া।
- বরকত লাভের উদ্দেশে শরীরে যমযম পানি ঢালা।
- যমযমের পানি দ্বারা ইহরামের কাপড় ধৌত করা।
মক্কা ও মদিনায় যিয়ারত সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- নির্দিষ্ট পাহাড় বা স্থানে গিয়ে বিশেষ ইবাদত আবশ্যক মনে করা। যেমন জাবালে নূর (হেরা গুহা) বা জাবালে সাওরে গিয়ে সালাত আদায় করাকে সওয়াবের কাজ বা উমরার অংশ মনে করা।
- নির্দিষ্ট পাহাড় বা স্থান বা গুহায় গিয়ে সালাত আদায় করা বা দোয়া করা।
- জাবালে রহমত (আরাফার ময়দান) বা অন্য কোনো পাহাড়ে পাথর নিক্ষেপ করা বা সেখানে নাম লিখে রাখাকে সওয়াবের কাজ মনে করা।
- মক্কা বা মদিনার বা সেখানের পাহাড়ের মাটি বা পাথর বা গাছের পাতা বরকতের জন্য নিয়ে আসা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের উদ্দেশ্যেই শুধু সফর করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতকে হজ বা উমরার অংশ মনে করা।
- মদীনায় প্রবেশের পূর্বে সুন্নাহ মনে করে গোসল করা, নির্দিষ্ট আয়াত বা দোয়া পড়া যা কুরআন-হাদিসে নেই।
- মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে কোন সালাত আদায়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের জন্যে যাওয়া।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের সামনে সালাতে দাঁড়ানোর মত ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে হাত বেঁধে দাঁড়ানো।
- দোয়া করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে ফিরে দোয়া করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা দরুদ বানানো, যা হাদিসে বর্ণিত হয়নি।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে ফিরে দোয়া করলে কবুল হবে মনে করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্ত্বা ও তাঁর সম্মানের অসীলা দিয়ে দু’আ করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সুপারিশ চাওয়া।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কোনো কিছু চাওয়া। আল্লাহ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রার্থনা করা। এরূপ করা নিঃসন্দেহে বড় শিরক।
- এটা মনে করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবস্থা জানেন। এরূপ মনে করা সুস্পষ্ট শিরক।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরকে সেজদা করা বা রুকু করা। যা সুস্পষ্ট শিরক।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের ছোট ছিদ্র পথে বরকত লাভের আশায় হাত ঢুকানো। এটাও শিরক।
- বরকত লাভের আশায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর চুম্বন করা অথবা স্পর্শ করা এবং কবরের সাথে লাগোয়া কোন কাঠ স্পর্শ করা বা চুব্বন করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের কাছে বসে কুরআন পাঠ বা যিকর করা।
- প্রতি সালাতের পরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতের জন্য কবরের কাছে যাওয়া।
- মসজিদে নববীতে প্রবেশ করার সময় এবং বের হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের দিকে মুখ করে থাকা।
- দূর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরকে উদ্দেশ্য করে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করা।
- সালাতের পর পর আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা।
- মসজিদের প্রথম অংশ বাদ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরে সালাত পড়া উত্তম মনে করা।
- মসজিদে নববীর মিম্বার, মেহরাব, স্তম্ভ, দরজা, রেলিং, সবুজ গম্বুজ থেকে পড়া পানি ইত্যাদি দিয়ে “তাবারুক” নেওয়া।
- মসজিদ নববী এবং কুবা মসজিদ ছাড়া অন্য মসজিদে সওয়াবের উদ্দেশ্যে গমন করা।
- মসজিদ নববী থেকে বের হওয়ার সময় পেছন দিকে উল্টো হেঁটে বের হওয়া।
- জান্নাতুল বাকী বা উহুদের শহীদদের কবরে অতিরিক্ত আচার। যেমন: কবরের উপর হাত রাখা, চুম্বন করা, বরকতের আশায় মাটি নেওয়া, তাদের কাছে কিছু চাওয়া, তাদের দিকে ফিরে দোয়া করা।
- প্রতিদিন বাকী কবরস্থান যিয়ারত করা বা যিয়ারতকে আবশ্যিক বা বিশেষ ফজিলতের মনে করা।
উমরা চেকলিস্ট
১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
এগুলো একটি গলার ব্যাগ অথবা একটি ছোট ক্রস-বডি ব্যাগে রাখুন যা সর্বদা আপনার সাথে থাকে।
পাসপোর্ট: ভ্রমণের তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাসের মেয়াদ থাকা আবশ্যক।
উমরা ভিসা: ই-ভিসা বা স্ট্যান্ডার্ড ভিসার প্রিন্ট কপি।
টিকা সনদ: বিশেষ করে Meningococcal ACYW135 (যদি তা বাধ্যতামূলক হয়)।
ফ্লাইট টিকিট ও হোটেল কনফার্মেশন: প্রিন্ট ও ডিজিটাল কপি; এজেন্টের প্যাকেজ নিলে তার প্রিন্ট কপি।
সম্পর্কের প্রমাণ: স্বামী-স্ত্রী একসাথে গেলে বিবাহ সনদ ইত্যাদি।
Nusuk অ্যাপ: অ্যাপ ইনস্টল করে রাখুন, এবং প্রয়োজনীয় পারমিট বুক করা আছে কিনা দেখুন।
নগদ (সৌদি রিয়াল) + ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড।
জরুরি যোগাযোগ: বাড়ির নম্বর, হোটেল নম্বর, স্থানীয় এজেন্ট (যদি থাকে)।
লাগেজ ওয়েট স্কেল: ব্যাগের ওজন আগেভাগে চেকের জন্য।
কলম/মার্কার: লাগেজ বা জমজমের প্যাকেজে নিজের তথ্য লিখতে।
২. ইহরাম ও সালাতের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস:
পুরুষদের জন্য:
ইহরামের কাপড়: অন্তত ২ সেট সাদা সেলাই বিহীন কাপড় (একটি নষ্ট/নোংরা হলে অন্যটি ব্যবহার করতে পারবেন)।
ইহরাম বেল্ট: নিচের কাপড় মজবুত করার জন্য এবং মোবাইল/টাকা রাখার জন্য।
সেফটি পিন: উপরের কাপড় ঠিক রাখতে সহায়ক।
স্যান্ডেল: টাখনু ও পায়ের উপরের অংশ খুলা থাকে এমন স্যান্ডেল।
জুতা রাখার ব্যাগ: মসজিদের ভেতরে জুতা বহনের জন্য ছোট পিঠে বহনের ব্যাগ।
নারীদের জন্য:
আবায়া: ২–৩টি হালকা ও ঢিলেঢালা আবায়া।
হিজাব: বাতাস চলাচল করে এমন কটন স্কার্ফ; সাধারণত গাঢ় রঙ হলে ভাল কারন তাতে দাগ কম লাগে।
স্কার্ফের নিচে পরার ক্যাপ: চুল ও হিজাব ঠিক রাখতে।
সালাতের জন্য জিনিস:
পকেট কুরআন ও দোয়া বই।
হালকা জায়নামাজ।
জুতা রাখার ছোট ব্যাগ।
৩. টয়লেট্রিজ (সুগন্ধিবিহীন):
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না।
সুগন্ধিবিহীন সাবান ও শ্যাম্পু (Fragrance-Free লেখা থাকে এমন)।
সুগন্ধিবিহীন ডিওডোরেন্ট (স্টিক বা রোল‑অন)।
সুগন্ধিবিহীন সানস্ক্রিন ও লিপ বাম।
টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট, অথবা মিসওয়াক।
ছোট তোয়ালে।
নেইল কাটার ও ছোট কাঁচি (ইহরামের আগে বা উমরা শেষে ব্যবহার করার জন্য)।
সুগন্ধিবিহীন টিস্যু ও ওয়েট ওয়াইপ।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার (সুগন্ধিহীন)।
৪. স্বাস্থ্য ও ওষুধপত্র:
প্রেসক্রিপশন ওষুধ: যেগুলো নিয়মিত খান, পুরো সফরের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে, কয়েক দিন অতিরিক্তসহ।
প্রাথমিক চিকিৎসা: প্লাস্টার, ব্লিস্টার প্লাস্টার, ছোট ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম/অয়েন্টমেন্ট, পায়ের/মাংসপেশির ব্যথার জন্য ক্রিম/জেল, চাইলে সামান্য সানবার্ন রিলিফ জেল।
ব্যথা ও জ্বর: প্যারাসিটামল/আইবুপ্রোফেন।
পেটের সমস্যা: ডায়রিয়া প্রতিরোধক ট্যাবলেট, গ্যাস/অম্বল/হার্টবার্নের ওষুধ।
সর্দি‑কাশি: ভিড় ও এসি–এর কারণে “উমরা কাশি” খুবই সাধারণ; এজন্য ঠান্ডা, সর্দি/কাশির ট্যাবলেট ও লজেন্স।
অ্যালার্জি: নন‑ড্রাউজি অ্যান্টিহিস্টামিন।
বমি: বমিনাশক ট্যাবলেট।
ভ্যাসেলিন: উরুর ঘষা থেকে বাঁচতে (বিশেষত ইহরামের কাপড় পরা পুরুষদের জন্য)।
৫. ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য:
ইউনিভার্সাল ট্রাভেল অ্যাডাপ্টার: সৌদি আরবে সাধারণত টাইপ G (৩ পিন) এবং কখনও টাইপ C ব্যবহৃত হয়।
পাওয়ার ব্যাংক: হারামে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য খুব প্রয়োজনীয়।
সৌদি সিম: বিমানবন্দরে STC, Zain, Mobily ইত্যাদির সিম, বা ই‑সিম নিতে পারেন।
রিইউজেবল পানির বোতল: জমজমসহ পানি পান করার জন্য সবসময় সঙ্গে রাখুন।
ছোট ছাতা বা ক্যাপ: সাদা বা হালকা রঙের হলে তাপ কম লাগে।
সানগ্লাস।
ছোট পোর্টেবল ফ্যান: তাওয়াফ/সাঈর সময় গরম লাগলে কাজে দেবে।
কিছু টিপস:
হাঁটার অনুশীলন: ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিদিন ৩–৫ কিমি হাঁটার অভ্যাস করলে সহনশক্তি বাড়বে।
কাপড় ধোয়া: মক্কা-মদিনায় লন্ড্রি সার্ভিস সাধারণত সস্তা ও দ্রুত, তাই বেশি কাপড় প্যাক করার প্রয়োজন নেই।
ডকুমেন্টের কপি: সব কাগজপত্রের ছবি ফোনে/ক্লাউডে সংরক্ষণ করে রাখুন।
মক্কা ও মদিনায় জিয়ারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান
মক্কায়:
জাবাল আন‑নূর (হেরা গুহা): এখানে রাসুল ﷺ প্রথম ওয়াহি গ্রহণ করেন। পাহাড়টি উঁচু, তাই ভোরে বা সন্ধ্যার পর গেলে গরম কম লাগে।
জাবাল সাওর: হিজরতের সময় রাসুল ﷺ ও আবু বকর (রা.) এ গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
জান্নাতুল মু‘আল্লা: মক্কার ঐতিহাসিক কবরস্থান; এখানে নবীজির স্ত্রী খাদিজা (রা.)সহ পরিবারের অনেক সদস্য সমাহিত।
মিনা: এখানে ইবরাহিম (আ.)–কে তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)–কে কুরবানি করার হুকুম দেওয়া হয়েছিল। তিনি আনুগত্য দেখালে আল্লাহ তাআলা ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি করার ব্যবস্থা করেন। হজে কুরবানি/উযিয়ার এই রীতি তারই স্মরণ। হাজীরা ৮ জিলহজ্জ মিনাতে অবস্থান করে, এরপর ১০, ১১, ১২ (কখনও ১৩) জিলহজ্জ পর্যন্ত এখানকার জামারাতগুলোকে পাথর মারেন এবং কুরবানি করেন।
আরাফাহ: জাবাল আরাফাহ/জাবাল রাহমাহ ছোট একটি পাহাড় ও বিস্তৃত প্রান্তর, যেখানে ৯ জিলহজ্জ মূল ওয়ুকুফে আরাফাহ অনুষ্ঠিত হয়, যা হজের কেন্দ্রীয় রুকন।
মসজিদে নামিরাহ: আরাফাহতে জাবাল রাহমাহর কাছে অবস্থিত; এখানেই রাসুল ﷺ বিদায় হজের ঐতিহাসিক খুৎবা প্রদান করেন।
মুযদালিফা: ৯ জিলহজ্জ আরাফাহ থেকে ফিরে রাসুল ﷺ এই স্থানে রাত কাটিয়েছেন।
নবীজি ﷺ এর জন্মস্থান: হারামের নিকটে অবস্থিত, বর্তমানে মক্কা লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মসজিদে তানীম (মসজিদ আইশা): রাসুল ﷺ তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রা.)–কে এখান থেকে অতিরিক্ত উমরার জন্য ইহরামে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে বর্ণিত।
মসজিদে জিন: যেখানে কিছু জিন রাসুল ﷺ–এর কুরআন তিলাওয়াত শুনে ইসলাম কবুল করেছিল, সেই স্থানে নির্মিত মসজিদ।
মদিনায়:
মসজিদে নববী: মদিনার কেন্দ্রবিন্দু; ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র মসজিদ, যেখানে নবীজি ﷺ এর কবর (রাওদাহ) অবস্থিত।
মসজিদে কুবা: ইসলামের প্রথম মসজিদ। রাসুল ﷺ বলেছেন, এখানে দুই রাকাত সালাতের সওয়াব এক উমরার সমান।
জান্নাতুল বাকি: মসজিদে নববীর পাশে অবস্থিত কবরস্থান; এখানে বহু সাহাবি ও আহলে বাইতের সদস্য সমাহিত।
উহুদের পাহাড় ও শহীদদের কবরস্থান: ইসলামের দ্বিতীয় বড় যুদ্ধের স্থান। এখানে ছোট তীরন্দাজ পাহাড় (জাবালুর রুমাত) এবং ৭০ শহীদের কবর, যার মধ্যে হামজা (রা.)–ও অন্তর্ভুক্ত।
মসজিদে ক্বিবলাতাইন: যে মসজিদে ক্বিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তনের আদেশ নাজিল হয়।
সাত মসজিদ (সাবাআ মসাজিদ): খন্দকের যুদ্ধে ব্যবহৃত স্থানসমূহের নিকটে ছোট কয়েকটি ঐতিহাসিক মসজিদের সমষ্টি।
দারুল মদিনাহ মিউজিয়াম: প্রদর্শনীর মাধ্যমে নবীজি ﷺ এর যুগ ও মদিনার ইতিহাস জানতে চমৎকার একটি জাদুঘর।
জিয়ারতের জন্য কিছু পরামর্শ:
সময় নির্বাচন: প্রচণ্ড গরম ও ভিড় এড়াতে ফজরের পরপর বা বিকেল/আসর–মাগরিবের মাঝামাঝি সময়ে জিয়ারত করা উত্তম।
যাতায়াত: অধিকাংশ হোটেল থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি বা বাস–ভিত্তিক “জিয়ারত ট্যুর” পাওয়া যায়। ট্যাক্সি তুলনামূলক বেশি নমনীয়; আপনি নির্দিষ্ট স্থানে বেশি সময় কাটাতে পারবেন।
Nusuk অ্যাপ: মদিনায় রাওদাহ জিয়ারত এবং উমরার জন্য প্রবেশাধিকার—দুটোরই জন্য Nusuk অ্যাপে পারমিট বুক করা জরুরি।
পানি পান: সবসময় সাথে পানির বোতল রাখুন। অধিকাংশ স্থানের কাছে জমজম বা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে।
No comments:
Post a Comment