পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে ইবলীস হয়তো শুরুতে ফেরেশতা ছিল এবং পরে অভিশপ্ত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইবলীস আল্লাহ তার ওপর লানত বর্ষণ করুন—ছিল জিনদের একজন। সে কখনোই ফেরেশতা কিংবা ফেরেশতাদের সর্দার ছিল না; এক দিনের জন্যও নয়, এমনকি এক মুহূর্তের জন্যও নয়। ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর (আলো) থেকে, তাঁরা সৃষ্টিগতভাবেই নিষ্পাপ এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই। অন্যদিকে, ইবলীস ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। ইবলিশ তার ইবাদত ও আনুগত্যের কারণে সে ফেরেশতাদের সাথে থাকার অনুমতি পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সত্তাগতভাবে সে কখনোই ফেরেশতা ছিল না। ইবলীস শয়তান কি জিন ছিল, না-কি ফেরেশতা ছিল? এর উত্তরে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীটি যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ۠ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ١ؕ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ اَمْرِ رَبِّهٖ “যখন আমরা ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল’ (সূরা আল-কাহ্ফ: ৫০) হাদিসে এসেছে,আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,خُلِقَتِ المَلَائِكَةُ مِنْ نُوْرٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ”ফিরিশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ মাটি থেকে”। (সহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৬)। ইবলীস শয়তান ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে
বলেছে, قَالَ اَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ١ؕ خَلَقْتَنِيْ مِنْ نَّارٍ وَّ خَلَقْتَهٗ مِنْ طِيْنٍ
“সে (ইবলীস) বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা”।(সূরা সোয়াদ: ৭৬)।
.
শাইখ মুহাম্মদ আল-আমীন আস-শানক্বিতী (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা কাহাফের ৫০ নং আয়াত সম্পর্কে বলেন:
وقوله في هذه الآية الكريمة : ( كان من الجن ففسق عن أمر ربه ) الكهف/50 ، ظاهر في أن سبب فسقه عن أمر ربه كونه من الجن وقد تقرر في الأصول في مسلك النص ، وفي مسلك الإيماء والتنبيه : أن الفاء من الحروف الدالة على التعليل كقولهم : سرق فقطت يده ، أي : لأجل سرقته ، وسها فسجد ، أي لأجل سهوه ، ومن هذا القبيل قوله تعالى : ( والسارق والسارقة فاقطعوا أيديهما ) المائدة/38 ، أي لعلة سرقتهما وكذلك قوله هنا : ( كان من الجن ففسق ) ، أي : لعلة كينونته من الجن ؛ لأن هذا الوصف فرق بينه وبين الملائكة ؛ لأنهم امتثلوا الأمر وعصى هو ، ولأجل ظاهر هذه الآية الكريمة ذهبت جماعة من العلماء إلى أن إبليس ليس من الملائكة في الأصل بل من الجن ، وأنه كان يتعبد معهم فأطلق عليهم اسمهم لأنه تبع لهم كالحليف في القبيلة يطلق عليه اسمها ، والخلاف في إبليس هل هو ملك في الأصل فمسخه الله شيطاناً ، أو ليس في الأصل بملك ، وإنما شمله لفظ الملائكة لدخوله فيهم وتعبده معهم ، مشهور عند أهل العلم ، وحجة من قال : إن أصله ليس من الملائكة أمران :
أحدهما : عصمة الملائكة من ارتكاب الكفر الذي ارتكبه إبليس ، كما قال تعالى عنهم : ( لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ) التحريم/6 ، وقال تعالى : ( لا يسبقونه بالقول وهم بأمره يعملون ) الأنبياء/27 .
والثاني : أن الله صرح في هذه الآية الكريمة بأنه من الجن ، والجن غير الملائكة ، قالوا : وهذا نص قرآني في محل النزاع .
…
وممن جزم بأنه ليس من الملائكة في الأصل لظاهر هذه الآية الكريمة :الحسن البصري ، ونصره الزمخشري في تفسيره .
وقال القرطبي في تفسير سورة ” البقرة ” : ” كونه من الملائكة هو قول الجمهور : ابن عباس وابن مسعود وابن جريج وبن المسيب وقتادة وغيرهم ، وهو اختيار الشيخ أبي الحسن ورجحه الطبري وهو ظاهر قوله : ( إلا إبليس ) . اهـ .
وما يذكره المفسرون عن جماعة من السلف كابن عباس وغيره ، من أنه كان من أشراف الملائكة ، ومن خزان الجنة ، وأنه كان يدبر أمر السماء الدنيا ، وأنه كان اسمه عزازيل ، كله من الإسرائيليات التي لا معول عليها .
وأظهر الحجج في المسألة ، حجة من قال : إنه غير ملك لأن قوله تعالى : ( إلا إبليس كان من الجن ففسق …) ، وهو أظهر شئ في الموضوع من نصوص الوحي ، والعلم عند الله تعالى
আল্লাহ তাআলার বাণী: “সে ছিল জিনদের একজন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল” (সূরা আল-কাহাফ: ৫০)। এই আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ হলো—সে যে তার রবের আদেশ অমান্য করেছিল তার কারণ হলো সে ‘জিন’ জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া। উসূলুল ফিকহে নসের পদ্ধতি ও ইমা ও তানবীহের পদ্ধতি (কথার ভেতরে লুকানো কারণের দিকে ইশারা করাকে বলে ইমা ও তানবীহ) তে প্রতিষ্ঠিত আছে যে ‘ফা’ হরফটি অনেক সময় কারণ বা যুক্তি বোঝায়। যেমন বলা হয়: সে চুরি করল, ফলে তার হাত কাটা হলো অর্থাৎ চুরির কারণেই হাত কাটা হলো। সে ভুল করল, ফলে সিজদা দিল অর্থাৎ ভুলের কারণেই সিজদা দিল।একইভাবে আল্লাহর বাণী: “চোর পুরুষ ও চোর নারী, তবে তাদের হাত কেটে দাও” (সূরা মায়িদা: ৩৮), এখানেও চুরির কারণেই হাত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক তেমনি বর্তমান আয়াতে বলা হয়েছে: “সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত,ফলে (ফা) সে অবাধ্য হলো।” অর্থাৎ তার জিন হওয়াই ছিল অবাধ্যতার কারণ। কেননা এই বৈশিষ্ট্যই তাকে ফেরেশতাদের থেকে পৃথক করেছে; ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ পালন করেছেন আর সে অবাধ্য হয়েছে। এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে একদল আলেম মত দিয়েছেন যে ইবলিস মূলত ফেরেশতা ছিল না বরং সে জিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে ফেরেশতাদের সাথে ইবাদত করত, তাই তাদের অনুসারী হওয়ার কারণে তার ওপরও তাদের নাম প্রয়োগ করা হয়েছিল যেমন কোনো গোত্রে মিত্র ব্যক্তিকেও সেই গোত্রের নামেই ডাকা হয়। ইবলিস মূলত ফেরেশতা ছিল কি না তারপর আল্লাহ তাকে শয়তানে রূপান্তর করেছেন, নাকি সে মূলত ফেরেশতা ছিল না, বরং ফেরেশতাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে তাদের নামের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এ মতভেদ আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ।যারা বলেন তার আসল সত্তা ফেরেশতা নয়, তাদের দুটি দলিল আছে:
প্রথমত: ফেরেশতারা কুফরি কাজ করা থেকে নিষ্পাপ। অথচ ইবলীস যে কুফরি কাজ করেছে তা তারা করে না। আল্লাহ বলেন:”আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়।”(সূরা তাহরীম: ৬),অপর আয়াতে বলেন: “তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে।”(সূরা আম্বিয়া: ২৭)
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে সে জিনদের অন্তর্ভুক্ত। আর জিন ফেরেশতা নয়। তাঁরা বলেন, এটি বিরোধের বিষয়ে কুরআনের সুস্পষ্ট দলিল।আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।
এই আয়াতের স্পষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে যে আলেমরা দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে ইবলিস মূলত ফেরেশতা ছিল না, তাদের মধ্যে আছেন হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ).আর যামাখশারী তার তাফসীরে এ মতকে সমর্থন করেছেন।অন্যদিকে ইমাম কুরতুবী সূরা বাকারা’র তাফসীরে বলেন: ইবলিস ফেরেশতা ছিল এটাই অধিকাংশ আলেমের মত। ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসঊদ, ইবনে জুরাইয, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ক্বতাদা প্রমুখ এ মত পোষণ করেছেন। শাইখ আবুল হাসানও এ মত গ্রহণ করেছেন, ইমাম তাবারী এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং (আয়াতে) ‘ইল্লা ইবলিস’ (ইবলিস ছাড়া) বাক্যটিও বাহ্যিকভাবে এ কথাই বোঝায়। আর ইবলিশ ফিরিস্তা ছিল মর্মে মুফাসসিরগণ যে সব বর্ণনা উল্লেখ করেন যেমন ইবনে আব্বাস (রা.) প্রমুখ থেকে বর্ণিত যে ইবলিস ফেরেশতাদের অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, জান্নাতের রক্ষক ছিল, নিকটবর্তী আসমানের ব্যবস্থাপনা করত, তার নাম ছিল আযাযীল, এসবই বনি ইসরাঈল সূত্রের বর্ণনা, যেগুলোর ওপর নির্ভরযোগ্যতা নেই। এ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল তাদের, যারা বলেন সে ফেরেশতা ছিল না। কারণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী:সে ছিল জিনদের একজন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল” (সূরা আল-কাহাফ: ৫০) এ আয়াতটি ওহীর দলিলসমূহের মধ্যে এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার কাছেই।”
(আযওয়াউল বায়ান; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ১৩০-১৩২)
.
ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) তার তাফসীরে বলেন:قال الحسن البصري : ” ما كان إبليس من الملائكة طرفة عين ، وإنه لأصل الجن ، كما أن آدم عليه السلام أصل البشر ” رواه الطبري بإسناد صحيح ) “হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইবলীস কখনো এক মুহূর্তের জন্যও ফেরেশতা ছিল না। সে জিন জাতির মূল, যেমন আদম (আলাইহিস সালাম) মানবজাতির মূল। ইমাম তাবারী এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।”(তাফসীর ইবনে কাসীর; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৮৯)
.
যেসকল আলেম বলেছেন, ইবলিস ফেরেশতাদেরই একজন ছিল, তাকে ফেরেশতাদের ময়ূর বলা হতো, এবং সে ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং ইবাদতগুজার। তবে এ ধরনের অধিকাংশ বর্ণনাই ইসরাঈলিয়াত থেকে আগত, যার মধ্যে অনেক কিছু কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ব্যাপারে ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাখ্যা করে বলেন:وقد روي في هذا آثار كثيرة عن السلف ، وغالبها من الإسرائيليات – التي تُنْقَلُ لِيُنْظَرَ فيها – والله أعلم بحال كثير منها ، ومنها ما قد يُقْطَعُ بكذِبِهِ لمُخَالَفَتِهِ للحقّ الذي بأيدينا ، وفي القرآن أخبار غنية عن كل ما عداه من الأخبار المتقدمة ؛ لأنها لا تكاد تخلو من تبديل وزيادة ونقصان ، وقد وضع فيها أشياء كثيرة ، وليس لهم من الحفاظ المتقنين الذي ينفون عنها تحريف الغالين وانتحال المبطلين كما لهذه الأمة من الأئمة والعلماء والسادة والأتقياء والبررة والنجباء من الجهابذة النقاد والحفاظ الجياد الذين دَوّنوا الحديث وحرروه وبينوا صحيحه من حسنه من ضعيفه من منكره وموضوعه ومتروكه ومكذوبه وعرفوا الوضاعين والكذابين والمجهولين وغير ذلك من أصناف الرجال كل ذلك صيانة للجناب النبوي والمقام المحمدي خاتم الرسل وسيد البشر صلى الله عليه وسلم أن ينسب إليه كذب أو يحدث عنه بما ليس منه فرضي الله عنهم وأرضاهم وجعل جنات الفردوس مأواهم ” تفسير القرآن العظيم ج 3/90 . والله تعالى أعلم”এ বিষয়ে সালাফদের থেকে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়; কিন্তু সেগুলোর অধিকাংশই ইসরাঈলিয়াত—যেগুলো কেবল যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য নকল করা হয়েছে। এসব বর্ণনার অনেকগুলোর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন। আবার কিছু বর্ণনা এমনও রয়েছে, যেগুলোর মিথ্যা হওয়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, কারণ সেগুলো আমাদের হাতে থাকা অকাট্য সত্য—কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বিরোধী। ইবনে কাসীর আরও বলেন, কুরআন এমন পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করেছে যে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহের এসব বর্ণনার প্রতি আমাদের কোনো প্রয়োজনই থাকে না। কারণ সেসব বর্ণনা প্রায়ই বিকৃতি, সংযোজন ও বিয়োজন থেকে মুক্ত নয়; বরং তাতে বহু মনগড়া বিষয় প্রবেশ করানো হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন কোনো শক্তিশালী ও নির্ভুল সংরক্ষণব্যবস্থা ছিল না, যা বিকৃতিকারীদের বিকৃতি ও বাতিলপন্থীদের সংযোজন প্রতিহত করতে পারত। এর বিপরীতে, এ উম্মতকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন—ইমাম, মুহাদ্দিস, হাদীসবিশারদ সমালোচক ও দক্ষ হিফযকারীদের মাধ্যমে। তারা হাদীস সংকলন করেছেন, বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ করেছেন, সহীহ ও যঈফ আলাদা করেছেন, মিথ্যাবাদী, জাল হাদীস রচয়িতা ও অজ্ঞাত রাবীদের চিহ্নিত করেছেন—এসবই নববী মর্যাদা ও মুহাম্মাদী রিসালাতের সম্মান রক্ষার্থে, যেন তাঁর নামে কোনো মিথ্যা আরোপ না হয় বা তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা না হয় যা তিনি বলেননি। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁদের আবাসস্থল করুন।”(তাফসীরুল কুরআনিল আযীম: খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৯০)
.
অতএব, ইবলিস সম্পর্কিত যেসব কাহিনি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর স্পষ্ট বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়; বরং এ ক্ষেত্রে কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা—“ইবলিস ছিল জিনদের একজন” (সূরা আল-কাহফ: ৫০) এটাই চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
আপনাদের দ্বীনি ভাই: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment