Saturday, February 21, 2026

রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা বা মূল্যবান বস্তু পাওয়ার পর একজন মুমিনের দায়িত্ব কী

 প্রশ্ন: রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা বা মূল্যবান বস্তু পাওয়ার পর একজন মুমিনের দায়িত্ব কী? এই সম্পদ কি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভোগ করা জায়েজ নাকি এর ভিন্ন কোনো ব্যবস্থাপনা রয়েছে?

▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর কেউ যদি রাস্তায় কোনো সম্পদ কুড়িয়ে পায় সেটির বিধান কী? শার’ঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রশ্নটি ‘লুক্বাতা’ (কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে) সম্পর্কে যা ইসলামী ফিকহের অন্যতম একটি অধ্যায়।
‘লুক্বাতা’ বলতে বোঝানো হয়:কোনো ব্যক্তির হারানো সম্পদ। অর্থাৎ এটি এমন সম্পদ, যা তার প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।ইসলাম এই মহৎ দ্বীনের অংশ হিসেবে সম্পদের সংরক্ষণ ও রক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।মুসলিমদের সম্পদকে সম্মান করা ও তা সুরক্ষিত রাখা শরীয়তের নির্দেশিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এরই ধারাবাহিকতায় লুক্বাতা (কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস) সম্পর্কিত বিধানাবলী প্রণীত হয়েছে। যখন কোনো সম্পদ তার মালিকের নিকট থেকে হারিয়ে যায়, তখন সেটির তিনটি সম্ভাব্য অবস্থা হতে পারে।
.
প্রথম অবস্থা: এটি এমন কিছু হওয়া যা সাধারণ মানুষের কাছে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। যেমন: চাবুক, রুটি, একটি ফল, লাঠি ইত্যাদি। এগুলো যে ব্যক্তি পায় সে-ই এগুলোর মালিক হয়ে যায় এবং কোনো ঘোষণা ছাড়াই তা ব্যবহার করতে পারে। এই মতটি বর্ণিত হয়েছে, ওমর (রা.), আলী (রা.), ইবনে ওমর (রা.) এবং আয়েশা (রা.) থেকে। এছাড়া আতা, জাবির বিন যায়েদ, তাউস, নাখয়ী, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং আহলে রায় (হানাফী আলেমগণ)-ও একই মত পোষণ করেছেন। এর সপক্ষে দলীল হচ্ছে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীস,তিনি বলেন: رخَّص رسولُ اللهِ في العصا والسَّوطِ والحَبْلِ ( وأشباهه ) يلتقطُه الرجلُ ينتفعُ به”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাঠি, চাবুক এবং দড়ি কুড়িয়ে পেলে তা মানুষের জন্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন।”(আবু দাউদ হা/১৭১৭-তে হাদীসটি বর্ণনা করেন,তবে অনেক ইমাম হাদিসটির সনদ দুর্বল বলেছেন)।
.
অপর বর্ননায় এসেছে,নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে একটি খেজুর খেতে দেখে তাকে নিষেধ করেননি, বরং বলেছিলেন: “তুমি যদি এর কাছে না যেতে, তবে এটিই তোমার কাছে আসত (অর্থাৎ তুমি না নিলেও এটি তোমার জন্য নির্ধারিত ছিল)।” সহীহ ইবনে হিব্বান হা/৩২৪০;ইমাম বায়হাকী শু’আব আল-ঈমান হা/১১৯০) এমনকি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে একবার একটি খেজুর পড়ে থাকতে দেখে বলেছিলেন: “যদি আমার এই আশঙ্কা না থাকত যে এটি সদকার খেজুর, তবে আমি নিজেই এটি খেয়ে নিতাম।”
.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন:ولا نعلم خلافا بين أهل العلم في إباحة أخذ اليسير، والانتفاع به.”সকল ইমামের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সামান্য ও মূল্যহীন হারানো জিনিস নেওয়া এবং তাতে উপকার গ্রহণ করা জায়েয।”(ইবনু কুদামাহ; আল-মুগনি; খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৭৬)
.
দ্বিতীয় অবস্থা: এমন কোনো প্রাণী হওয়া যে নিজে ছোট ছোট হিংস্র প্রাণীকে প্রতিহত করতে পারে। প্রাণীটি বিশালাকায় হওয়ার কারণে; যেমন: উট, ঘোড়া, গরু বা খচ্চর। কিংবা উড়তে পারার কারণে; যেমন: পাখি। কিংবা দ্রুত দৌড়াতে পারার কারণে; যেমন: হরিণ। অথবা দাঁত দিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারার কারণে; যেমন: চিতা। এই ধরনের প্রাণী কুড়িয়ে নেওয়া হারাম। যে এটি কুড়িয়ে নিয়েছে সে ঘোষণা দিলেও মালিকানা লাভ করবে না। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারানো উটের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, مالك ولها ؟! معها سقاؤها وحذاؤها ترد الماء ، وتأكل الشجر حتى يجدها ربها “তোমার হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজন নেই?!তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও পানির পাত্র রয়েছে, সে পানি পান করবে এবং গাছের পাতা খাবে, এক পর্যায়ে তার মালিক তাকে খুঁজে পাবে।”(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন; দেখুন সহীহ মুসলিম হা/৪৩৯০) আরেক বর্ননায় উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: (من أخذ الضالة فهو ضال )“যে ব্যক্তি হারানো উট হস্তগত করে, সে-ই পথভ্রষ্ট।”(অর্থাৎ ভুলকারী। এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিয়েছেন যেন হারানো উটকে কুড়িয়ে নেওয়া না হয়। বরং এটি পানি পান করবে, গাছপালা খেয়ে বেঁচে থাকবে। এক পর্যায়ে এর মালিক তাকে পেয়ে যাবে। এই হুকুমের অধিভুক্ত হবে বড় বড় সরঞ্জামাদি; যেমন: বিশাল পাতিল, কাঠ, লোহা ইত্যাদি, যেগুলো নিজ স্থানে সংরক্ষিত থাকে, নষ্ট হয় না এবং স্থানান্তরিত হয় না। হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর মত এসব হস্তগত করা সব না নেওয়া আরো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষিদ্ধ।
.
তৃতীয় অবস্থা: হারিয়ে যাওয়া জিনিস অন্য সব ধরনের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। যেমন: টাকা-পয়সা, মালপত্র, এবং এমন প্রাণী যেগুলো ছোট হিংস্র প্রাণীদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। যথা: ছাগল, উটের বাচ্চা, গরুর বাছুর ইত্যাদি। এই প্রকারের সম্পদ যিনি পাবেন তিনি যদি নিজেকে খেয়ানত করা থেকে নিরাপদ মনে করেন তাহলে তার জন্য এটি কুড়িয়ে নেওয়া বৈধ হবে। তবে এটি আবার তিন প্রকার:
.
প্রথম প্রকার: খাওয়ার উপযুক্ত পশু। যেমন উটের বাছুর, ছাগল, মুরগি ইত্যাদি। যে ব্যক্তি এমন কিছু কুড়িয়ে পাবে তার উপর অনিবার্য তিনটি এখতিয়ারের মধ্যে যেটি মালিকের স্বার্থ অধিক রক্ষাকারী সেটি গ্রহণ করা:-সে এটি খেয়ে ফেলবে। আর অবিলম্বে মালিককে এর মূল্য পরিশোধ করা তার উপর আবশ্যক হবে।-এর বিবরণ জেনে নিয়ে একে বিক্রি করে এর মূল্য মালিকের জন্য সংরক্ষণ করে রেখে দিবে।-এর হেফাজত করবে, নিজের সম্পদ থেকে এর লালন-পালনের জন্য খরচ করবে। তবে এটাকে নিজের মালিকানায় নিবে না। মালিক এটি নিতে আসলে তখন মালিকের কাছে খরচের অর্থ দাবী করবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: (خذها ، فإنما هي لك أو لأخيك أو للذئب ) “এটা কুড়িয়ে নাও। এটি হয়তো তোমার জন্য, নয়তো তোমার ভাইয়ের জন্য, কিংবা নেকড়ের জন্য।”(সহিহ বুখারী হা/২৪৩৬ ও সহিহ মুসলিম হা/৪৩৯৪) অর্থাৎ ছাগল দুর্বল ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে আছে। ছাগলের অবস্থা হলো হয়তো তুমি এটাকে হস্তগত করবে, নতুবা অন্য কেউ হস্তগত করবে নতুবা নেকড়ে এটাকে খেয়ে ফেলবে। ইবনে কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: ( وفيه جواز التقاط الغنم ، وأن الشاة إذا لم يأت صاحبها ، فهي ملك المتلقط ، فيخير بين أكلها في الحال وعليه قيمتها ، وبين بيعها وحفظ ثمنها ، وبين تركها والإنفاق عليها من ماله ، وأجمعوا على أنه لو جاء صاحبها قبل أن يأكلها الملتقط ، له أخذها ) “এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়: হারানো ছাগল কুড়িয়ে নেওয়া বৈধ। যদি মালিক না আসে তবে যিনি কুড়িয়ে পেলেন তিনি এর মালিক হয়ে যাবেন। কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির একাধিক এখতিয়ার থাকবে। তৎক্ষণাৎ ছাগলটি খেয়ে এর মূল্য বহন করা নতুবা বিক্রি করে দাম রেখে দিবে কিংবা ছাগলটি রেখে দিয়ে নিজের সম্পদ থেকে লালন-পালন করবে। এই তিনটির মাঝে যে কোনোটি করার ব্যাপারে সে স্বাধীন। আলেমরা একমত যে যদি সে এটি খাওয়ার আগে এর মালিক চলে আসে, তাহলে মালিক নিয়ে নিতে পারবে।”(গৃহীত: ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৫০৪৯)
.
দ্বিতীয় প্রকার: পচনশীল জিনিস। যেমন: তরমুজ, ফলমূল। এগুলো যিনি কুড়িয়ে পাবেন তিনি নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে যেটি মালিকের স্বার্থ অধিক রক্ষাকারী সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সে ব্যবস্থাগুলো হচ্ছে: এটি খেয়ে এর মূল্য মালিককে দেওয়া অথবা এটি বিক্রি করে মালিক আসা পর্যন্ত এর মূল্য সংরক্ষণ করা।
.
তৃতীয় প্রকার: প্রথম দুই প্রকার ছাড়া অন্যান্য সব সম্পদ। যেমন: নগদ অর্থ, থালা-বাসন ইত্যাদি। এগুলো আমানত হিসেবে নিজের কাছে সংরক্ষণ করা আবশ্যক।তবে এই ধরনের অর্থ-সম্পদ পাওয়ার পর জনসমাগম স্থলে এগুলোর ব্যাপারে ঘোষণা দিতে হবে।
.
কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি নিজেকে নিরাপদ মনে না করে এবং এ ব্যাপারে যে ঘোষণা দিতে হবে তা দেওয়ার মত সক্ষমতা যদি তার না থাকে, তাহলে তার জন্য কুড়িয়ে নেওয়া বৈধ হবে না। কারণ যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস আছে: তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণ বা অর্থের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন:“এর বাঁধন ও থলে চিহ্নিত করে রাখো, তারপর এক বছর ঘোষণা করো। যদি তার মালিককে জানতে না পারো, তাহলে তুমি এটি খরচ করে ফেলো। তবে এটি তোমার কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। কোনো দিন মালিক এসে চাইলে তাকে ফেরত দেবে।” আর ছাগল সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: “তুমি এটি গ্রহণ কর, এটি হয়তো তোমার জন্য, নয়তো তোমার অন্য ভাইয়ের জন্য, নয়তো নেকড়ের জন্য।” হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: “তোমার হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজন নেই?! উটের সাথে পানি আছে, উটের পা আছে। সে পানি পান করতে পারবে এবং গাছপালা খেতে পারবে যতক্ষণ না মালিক তাকে পেয়ে যায়।”(হাদীসটি বুখারী হা/২৪৩৬ ও মুসলিম হা/৪৩৯১ বর্ণনা করেন)। উক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “বাঁধন ও থলে চিহ্নিত করে রাখো” এখানে বাঁধন বলতে উদ্দেশ্য যা দিয়ে থলের মুখ বাঁধা হয়। আর থলে হচ্ছে যে পাত্রের মাঝে বস্তুটি থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “এক বছর ঘোষণা করো” বলতে বোঝানো হয়েছে: মানুষের সমাবেশ স্থলে যেমন: বাজার, মসজিদের দরজা, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে। কুড়িয়ে নেওয়ার প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ঘোষণা দিতে হবে। কারণ ঐ সপ্তাহে মালিক ফিরে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর থেকে ঘোষণার ক্ষেত্রে মানুষের প্রচলন অনুযায়ী ঘোষণা দিবে।(প্রাচীন যুগে এগুলোই ছিল ঘোষণার পদ্ধতি। বর্তমান সময়ে কুড়িয়ে নেওয়া ব্যক্তি উপযুক্ত মাধ্যম ব্যবহার করে ঘোষণা করবে। মূলকথা হলো: এর দ্বারা যেন উদ্দেশ্য হাসিল হয়। অর্থাৎ মালিককে খুঁজে পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়।) উক্ত হাদীস আরো প্রমাণ করে যে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু চিনে রাখা আবশ্যক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “এর বাঁধন ও থলে চিনে রাখো” প্রমাণ করে যে এর বৈশিষ্ট্য জেনে রাখা আবশ্যক। ফলে মালিক এসে এর যথাযথ বর্ণনা দিলেই তাকে সেটি প্রদান করা হবে। আর যদি তার বিবরণ প্রকৃত অবস্থার চেয়ে ভিন্ন হয় তাহলে তাকে দেওয়া জায়েয হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “যদি তুমি এর মালিক জানতে না পারো, তাহলে খরচ করে ফেলো” এটি প্রমাণ করে যে কুড়িয়ে নেওয়া ব্যক্তি এক বছর ঘোষণা দেওয়ার পর সে এর মালিক হয়ে যায়। কিন্তু কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের বৈশিষ্ট্যাবলি চেনার আগে তার জন্য এতে হস্তক্ষেপ করা যথাযথ হবে না। অর্থাৎ সে এর বাঁধন, থলে, পরিমাণ, ধরন এবং বৈশিষ্ট্য জেনে রাখবে; যাতে করে এক বছর পর মালিক এসে যদি যথাযথ বিবরণ দেয় তাহলে তাকে সেটি দিতে পারে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো দিন মালিক এসে চাইলে তাকে ফেরত দেবে।”
.
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় আবশ্যক; যথা:
.
এক: কেউ যদি নিজের ব্যাপারে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের আমানত রক্ষা করা ও ঘোষণা দেয়ার সক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তবেই সে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস নিতে এগিয়ে আসবে। যে নিজেকে এর ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে না তার জন্য এটি গ্রহণ করা বৈধ নয়। যদি সে এটি গ্রহণ করে তাহলে সে আত্মসাৎকারী হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সে অন্য ব্যক্তির সম্পদ এমনভাবে গ্রহণ করেছে যেভাবে গ্রহণ করা জায়েয নেই। আর যেহেতু এটি গ্রহণ করা অন্যের সম্পদ বিনষ্ট করার অন্তর্ভুক্ত।
.
দুই: কোন পাওয়া জিনিস হস্তগত করার আগে অবশ্যই এর বিবরণ নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে; এর থলে, এর বাঁধন, এর পরিমাণ, এর ধরন ও প্রকার ইত্যাদি। এর পাত্র দ্বারা উদ্দেশ্য যেটার ভেতরে জিনিসটি পাওয়া গিয়েছে; সেটা কোনো পলিথিন হতে পারে কিংবা কোন কাপড়খণ্ড হতে পারে। আর বাঁধন বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে: যা দিয়ে জিনিসটিকে বাঁধা হয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবরণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর ‘নির্দেশ’ আবশ্যক (ওয়াজিব) করাকে দাবি করে।
.
তিন: পুরো এক বছর জিনিসটি পাওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দিতে হবে। প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ঘোষণা দিতে হবে। এরপর প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী ঘোষণা দিতে হবে। ঘোষণার সময় উদাহরণস্বরূপ এভাবে বলবে: ‘এমন বস্তু কার হারানো গিয়েছে?’ কিংবা এ ধরণের অন্য কোন কথা। ঘোষণা হবে মানুষের সমাবেশ স্থলে, যেমন: বাজারে। কিংবা নামাযের সময়গুলোতে মসজিদের দরজায়। মসজিদের ভেতরে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ঘোষণা করা নিষিদ্ধ; কারণ মসজিদ এ উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়নি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কেউ যদি মসজিদের ভেতরে কোনো ব্যক্তিকে হারানো জিনিসের ঘোষণা করতে শুনে যেন সে বলে দেয়: ‘আল্লাহ তোমার জিনিসটি তোমাকে ফিরিয়ে না দিন’।”
.
চার: যদি দাবীদার এসে এর সঠিক বিবরণ দিতে পারে তবে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ বা কসমের ছাড়াই তাকে সেটা ফেরত দিতে হবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি নির্দেশ দিয়েছে। আর যেহেতু বিবরণ বলতে পারা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও কসমের স্থলাভিষিক্ত। বরং তার বিবরণ প্রদান করাটা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও কসমের চেয়ে বেশি স্পষ্ট ও সত্য হতে পারে। কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস থেকে যা কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে সেটাও ফেরত দিতে হবে; বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জিনিস সংযুক্ত হোক কিংবা আলাদা হোক। যদি দাবীদার ব্যক্তি বিবরণ দিতে না পারে তাহলে তাকে জিনিসটি দেওয়া হবে না। কারণ এই জিনিস তার হাতে একটি আমানত। সেজন্য যে ব্যক্তি এই জিনিসের মালিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি তাকে দেওয়া জায়েয হবে না।
.
পাঁচ: যদি পূর্ণ এক বছর ঘোষণা করার পরেও মালিক না আসে তখন জিনিসটির উপর কুড়িয়ে নেওয়া ব্যক্তির মালিকানা সাব্যস্ত হবে। তবে সে ব্যবহার করার আগে এর বিবরণ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে; যাতে করে পরে যে কোনো সময় মালিক আসলে জিনিসটি থাকলে তাকে ফেরত দিতে পারে কিংবা জিনিসটি না থাকলে এর বদলে অন্য কিছু তাকে ফেরত দিতে পারে। কারণ জিনিসটির মালিক ফেরত আসার মাধ্যমে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
.
দ্রষ্টব্য: হারানো বস্তু সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনা থেকে উপলব্ধি করা যায় ইসলাম সম্পদের প্রতি ও সম্পদ সংরক্ষণের প্রতি কতবেশি যত্নশীল, একজন মুসলিমের সম্পদের পবিত্রতা ও তার সম্পদ রক্ষায় কতবেশি যত্নবান। মোটকথা, এর থেকে আমরা উপলব্ধি করি ইসলাম কল্যাণের কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং আমাদেরকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করেন। (এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন; শাইখ সালিহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান রচিত ‘আল-মুলাখ্‌খাস আল-ফিকহী’; পৃষ্ঠা: ১৫০; গৃহীত: ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৫০৪৯)
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:দুইটি বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে: একটি হলো একটি ছোট ব্যাগে থাকা কিছু টাকা এবং অন্যটি হলো একটি বস্তায় থাকা কিছু কাপড়, যার উপর একটি নারীর নাম লেখা ছিল। প্রথমটি পাওয়া গেছে ‘আল-যুলফি’ শহরে, এবং দ্বিতীয়টি ‘মাদীনা’র পথে। উক্ত বিষয়ে দয়া করে জানাবেন।
উত্তরে তারা বলেছেন:روى البخاري ومسلم : (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن مثل هذه اللقطة، فقال صلى الله عليه وسلم- للسائل: اعرف عفاصها ووكاءها ثم عرفها سنة، فإن جاء صاحبها وإلا فشأنك بها) فعليك أن تحتفظ بهما وتعرف أوصافهما معرفة تامة، وأن تعرف بكل واحدة منهما سنة كاملة في مجامع الناس، مثل ما بعد صلاة الجمعة ونحوه في الزلفي والرياض والمدينة والقصيم ونحو ذلك، وإن أخبرت عنهما عن طريق الإذاعة والتلفاز فهو أكمل. فإن جاء صاحب أي واحدة منهما وعرفها فأدها إليه، وإن عرفت بهما واجتهدت ومضى حول لم تعرف فيه فهي لك، وإذا جاء صاحبها بعد الحول وعرفها فأدها إليه، أو ثمنها بالنسبة للقماش، وإن شئت أن تتصدق بهما لأصحابهما، فإن جاء أحد منهم وعرفها أخبرته بالواقع، فإن قبل فذاك، وإن لم يقبل صرفتها له، ولك من الله الأجر على عملك الطيب- فذلك حسن. وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم “ইমাম বুখারি ও মুসলিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এই জাতীয় কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (লুকাতা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তুমি এর পাত্রের মুখ ও বাঁধন (চেনার উপায়) ভালোভাবে চিনে রাখো। এরপর এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও। যদি এর মালিক আসে (তবে দিয়ে দাও), অন্যথায় তুমি তা ব্যবহার করতে পারো।’
সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো—জিনিস দুটির বৈশিষ্ট্য ও চিহ্নগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা এবং এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত জনসমাগমস্থলে (যেমন: জুমার নামাজের পর বা বড় মসজিদের সামনে) ঘোষণা দেওয়া। যদি রেডিও বা টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে তা আরও নিখুঁত হবে। যদি এর মধ্যে মালিক এসে সঠিক বর্ণনা দিয়ে তা চিনে নেয়, তবে তাকে তা দিয়ে দিন। আর যদি এক বছর যথাযথ চেষ্টার পরও কেউ না আসে, তবে তা আপনার জন্য (ব্যবহার করা) বৈধ। তবে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি মালিক আসে এবং সঠিক বর্ণনা দেয়, তবে তাকে মূল জিনিসটি অথবা (কাপড় জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে) তার সমমূল্য পরিশোধ করতে হবে। আপনি চাইলে মালিকের পক্ষ থেকে তা সদকাও করে দিতে পারেন। পরবর্তীতে মালিক আসলে তাকে বিষয়টি জানাবেন; সে যদি সদকাতে রাজি হয় তবে ভালো, আর রাজি না হলে তাকে তার জিনিসের মূল্য পরিশোধ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার এই উত্তম কাজের জন্য আল্লাহর নিকট সওয়াব পাবেন।” (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; গ্রুপ: ২; খণ্ড: ১৫; পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
.
স্থায়ী কমিটির আলেমগনকে অপর ফাতাওয়ায় আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:এক ব্যক্তি ২০ বছর আগে ৩৩০ রিয়াল পেয়েছিল, কিন্তু সেটি ঘোষণা দেয়নি বরং তা দিয়ে বিয়ের জন্য একটি উট কিনেছিল।যখন আত্মীয়রা জিজ্ঞাসা করে, সে বলে দেয় এটি তার বেতনের টাকা। পরে সে এক আলেমকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, এটি সদকা করে দাও। এখন সে জানাতে চায়,তার কী করা উচিত?
উত্তরে তারা বলেছেন:يلزمه أن يعرف عن هذا المبلغ في الجهة التي وجده فيها، فإن وجد من يدعيه وعرف أوصافه التي كان عليها يوم وجده من التقطه أعطيه، وإلا تصدق به على الفقراء عن صاحبه الذي سقط منه، فإن تبين له صاحبه في المستقبل أخبره الملتقط بأنه تصدق به عنه، فإن رضي بذلك برئت ذمة الملتقط، وإلا وجب عليه أن يدفعه له. ثم عليه أن يستغفر الله ويتوب إليه من تفريطه في تعريفه تلك المدة الطويلة، ومن كذبه على من سأله عن حصوله على ثمن الناقة التي اشتراها لزواجه، وقد يكون من بينهم من ضاع منه هذا المبلغ. وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم “”তার জন্য আবশ্যক হলো—সে যে স্থানে অর্থটি পেয়েছিল, সেখানে সেই অর্থের ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া (প্রচার করা)। যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যে সেটি দাবি করে এবং অর্থটি পাওয়ার দিন সেটি যে অবস্থায় ছিল তার সঠিক বিবরণ দিতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় (মালিককে পাওয়া না গেলে), যার কাছ থেকে এটি হারিয়েছিল তার পক্ষ থেকে এই অর্থ দরিদ্রদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।পরবর্তীতে যদি কখনো মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তাকে জানাবে যে তার পক্ষ থেকে এটি সদকা করে দেওয়া হয়েছে। যদি মালিক এতে সন্তুষ্ট হয়, তবে ওই ব্যক্তি (কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি) দায়মুক্ত হবে। আর যদি মালিক সন্তুষ্ট না হয়, তবে তাকে ওই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে দেওয়া কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক)।এর পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রচার না করে অবহেলা করার কারণে এবং যে অর্থ দিয়ে সে বিয়ের উট কিনেছিল তার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা ব্যক্তিদের কাছে মিথ্যা বলার কারণে—তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) ও তওবা করতে হবে। কারণ, যাদের কাছে সে মিথ্যা বলেছিল, তাদের মধ্যেই হয়তো প্রকৃত মালিক থেকে থাকতে পারেন।আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।”ফতোয়া প্রদানকারীগণ:শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায,শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফিফিশায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান।(ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ; গ্রুপ: ২; খণ্ড: ১৫; পৃষ্ঠা: ৪৪২)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: প্রশ্ন: অনেক সময় একজন মানুষ পথে কিছু স্বল্প পরিমাণ অর্থ পেয়ে যায়। সে তা নিয়ে নেয় এই বলে: আমি তো এটি শহরের রাস্তায় পেয়েছি, কিভাবে মালিককে খুঁজে বের করব? এই কাজ কি গুনাহ?
উত্তরে শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:إذا كان شيئًا يسيرًا لا تتبعه همة أوساط الناس، ولا يُلتفت إليه؛ فلا بأس، مثل عصا لا قيمة لها، حبل لا قيمة له، درهمين إلى عشرة دراهم، أشباه ذلك، هذه أمرها سهل، ولا حرج في أخذها.أما الشيء الذي له أهمية، وله قيمة: هذا عليه أن يعرفه لمعارفه، في مجامع الناس، من له اللقطة الفلانية؟ من له الدراهم؟ من له البشت؟ من له النعل المعروف؛ كذا يبين، يبين حتى إذا جاء من يعرف هذه اللقطة؛ سلمها له، إذا عرف صفاتها الخاصة الدقيقة؛ أعطاه إياها، أو أقام الدليل عليها، وإلا فليدعها، يأخذها غيره.أما أن يأخذ، ولا يعرف: لا، لابد أن يعرف اللقطة -إذا كانت ثمينة لها أهمية- في مجامع الناس كل شهر مرتين ثلاث، حتى يكمل السنة. فإذا تمت السنة؛ فهي له كسائر ماله. ومتى جاء صاحبها بعد ذلك أعطاه إياها، ولو بعد مدة طويلة، أو يوكل من يعرفها، إنسان … ينادي عليها كل شهر مرتين ثلاث في مجامع الناس؛ لعلها تظهر حتى يكمل السنة، نعم.”যদি কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুটি এমন সামান্য হয় যা সাধারণ মানুষ খুব একটা গুরুত্ব দেয় না বা যার পেছনে ছোটে না, তবে তা (মালিকের ঘোষণা ছাড়াই) গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই। যেমন: গুরুত্বহীন কোনো লাঠি, মূল্যহীন কোনো রশি, কিংবা ২ থেকে ১০ দিরহাম বা এই জাতীয় সামান্য কিছু। এগুলোর বিধান সহজ এবং গ্রহণে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যদি বস্তুটি এমন হয় যার গুরুত্ব ও মূল্য রয়েছে, তবে তাকে অবশ্যই লোকসমাগমস্থলে সেটির ঘোষণা দিতে হবে। সে বলবে: ‘অমুক হারানো বস্তুটি কার?’, ‘এই দিরহামগুলো কার?’, ‘এই চাদর বা পরিচিত জুতাটি কার?’—এভাবে সে বর্ণনা দেবে। সে ঘোষণা দিতে থাকবে যেন এমন কেউ আসে যে বস্তুটিকে চিনতে পারে। যদি কেউ বস্তুটির বিশেষ ও নিখুঁত বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করতে পারে কিংবা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে পারে, তবে সে তা তাকে দিয়ে দেবে। অন্যথায় (যদি ঘোষণা দেওয়ার ইচ্ছে না থাকে), সে যেন তা রেখে দেয় যাতে অন্য কেউ (ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে) সেটি তুলে নেয়।তবে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বস্তু কুড়িয়ে নিয়ে সেটির ঘোষণা না দেওয়া বৈধ নয়। বরং তাকে অবশ্যই লোকসমাগমস্থলে প্রতি মাসে দুই-তিনবার করে পুরো এক বছর ঘোষণা দিতে হবে। যখন এক বছর পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন সেটি তার অন্যান্য মালের মতোই তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। এরপর দীর্ঘ সময় পরেও যদি কখনো এর প্রকৃত মালিক আসে, তবে তাকে সেটি দিয়ে দিতে হবে। অথবা সে এমন কাউকে প্রতিনিধি (উকিল) নিয়োগ করতে পারে যে এটি ঘোষণা করবে। সেই ব্যক্তি প্রতি মাসে দুই-তিনবার করে লোকসমাগমস্থলে ঘোষণা দেবে—হয়তো মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে—এভাবে এক বছর পূর্ণ করতে হবে। হ্যাঁ।”(উৎস: মাজমূ‘ ফাতাওয়ায় ইবন বায; খণ্ড: ১৯; পৃষ্ঠা: ৪৪১) এছাড়াও এ জাতীয় আরও বহু ফাতওয়া রয়েছে। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

No comments:

Post a Comment

Translate