Saturday, February 21, 2026

মসজিদে কিংবা মসজিদের বাহিরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করার শারয়ি হুকুম

 প্রশ্ন: মসজিদে কিংবা মসজিদের বাহিরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করার শারয়ি হুকুম কী? উভয় ক্ষেত্রে বিধান কি একই, নাকি ভিন্নতা রয়েছে? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।

▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর মসজিদে কিংবা মসজিদের বাহিরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করার শারয়ি হুকুম কী? আমরা এই বিষয়টি দুটি পয়েন্টে জানার চেষ্টা করব। যার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে: (১). মসজিদে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ এবং (২). সালাতের বাইরে ও মসজিদের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপের বিধান।
.
(১). মসজিদে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করার বিধান:
.
মসজিদ মহান আল্লাহর ঘর, আর এর পবিত্রতা বজায় রাখা প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। মসজিদে অবস্থানকালীন কিবলার দিকে থুতু ফেলা কেবল শিষ্টাচারবিরোধী নয়, বরং শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি গর্হিত ও নিষিদ্ধ কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সহীহ হাদিসে এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আমাদের সালাফে সালেহীনদের মতে, কিবলার দিকে থুতু নিক্ষেপ করা মসজিদের পবিত্রতা ও কিবলার মর্যাদাহানির শামিল। তাই ইবাদতের এই পবিত্র স্থানে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আদব বজায় রাখা অপরিহার্য।মসজিদে অবস্থানকালে কিবলার দিকে থুতু ফেলা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘সহীহ বুখারী’ গ্রন্থে (হাদীস নং ৪১৬) প্রখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاَةِ، فَلاَ يَبْصُقْ أَمَامَهُ، فَإِنَّمَا يُنَاجِي اللَّهَ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، فَإِنَّ عَنْ يَمِينِهِ مَلَكًا، وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ، فَيَدْفِنُهَا “তোমাদের কেউ যখন সালাতে (নামাজে) দাঁড়ায়, সে যেন তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে। কারণ, যতক্ষণ সে তার (মুসল্লায়) সালাতের জায়গায় থাকে, ততক্ষণ সে মূলত আল্লাহর সাথে গোপনে কথা বলে (মুনাজাত করে)। আর সে যেন তার ডান দিকেও থুতু না ফেলে, কারণ তার ডান দিকে ফেরেশতা থাকেন। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে থুতু ফেলে এবং পরে তা মিটিয়ে (মাটি দিয়ে ঢেকে) দেয়।”(সহিহ বুখারী, হা/৪১৬)
.
একইভাবে, মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়া বা বিরক্তি সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আলেমগণ এই বিধান থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, নামাজের বাইরে থাকা ব্যক্তিও (অর্থাৎ যে নামাজ পড়ছে না) মসজিদের ভেতরে কিবলার দিকে থুতু ফেলতে পারবে না; ঠিক যেমন একজন মুসল্লির জন্য তা নিষিদ্ধ।নবী (ﷺ) এর বাণী:مَنْ ‌تَفَلَ ‌تُجَاهَ ‌القبلةِ جاءَ يومَ القيامة تَفَلُهُ بين عينيه”যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার সেই থুথুই তার দুই চোখের মাঝখানে পতিত অবস্থায় উপস্থিত হবে’ (আবু দাউদ হা/৩৮২৪; সিলসিলা হীহাহ হা/২২২)। তিনি (ﷺ) আরো বলেন,”ক্বিবলার দিকে যে কফ ফেলে তার চেহারায় ঐ কফ থাকা অবস্থায় সে ব্যক্তিকে ক্বিয়ামতের দিন উঠানো হবে (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/১৩১৩;সিলসিলা সহীহাহ হা/২২৩)। তিনি আরো বলেন,মসজিদে থুথু নিক্ষেপ করা গুনাহ ও তা দাফন করা ছওয়াবের কাজ।(সহীহুত তারগীব হা/২৮৭)। এমনকি জনৈক ইমাম মসজিদে ক্বিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করলে পরবর্তীতে রাসূল (ﷺ) তাকে ইমামতি করতে নিষেধ করতে দেননি।(আবু দাউদ হা/৪৮১; মিশকাত হা/৭৪৭)।
.
রাসূল (ﷺ)-এর বানী: “যে ব্যক্তি ক্বিবলার দিকে থুথু ফেলে ক্বিয়ামতের দিন তার ঐ থুথু দু’চোখের মধ্যখানে পতিত অবস্থায় উপস্থিত হবে” এ হাদিসের ব্যাখ্যায়, আল্লামা সাহারানপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:من تَفَلَ تجاه القبلة» أي: جهة القبلة، «جاء» أي: يجيء، «يوم القيامة»، وإنما عبَّره بصيغة الماضي؛ لتحقق وقوعه، «تَفَلُهُ» أي: بصاقه، «بين عينيه»، واستدل بهذا على احترام جهة القبلة، والاحتراز عن البول والغائط والاستنجاء إليها مطلقًا في الصحراء كان أو في البنيان. “যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে অর্থাৎ কিবলার দিক বা অভিমুখে। সে (থুথু) এসে পড়বে অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আসবে। এখানে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে ঘটনার নিশ্চিত সংঘটন বোঝানোর জন্য। তার থুথু অর্থাৎ তার নিক্ষিপ্ত থুথু। তার দুই চোখের মাঝখানে এ দ্বারা বোঝানো হয়েছে কিবলার দিকের সম্মান রক্ষা করা আবশ্যক।এই হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খোলা জায়গা হোক বা ঘরের ভিতর সর্বাবস্থায় কিবলার দিকে পেশাব-পায়খানা করা ও সেদিকে ইস্তিঞ্জা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।‌
.
ইমাম বাহুতি (রাহিমাহুল্লাহ) কাশাফুল ক্বিনা গন্থে বলেন:
وإن بدره)، أي المصلي: (مخاط أو بزاق) – ويقال: بالسين والصاد أيضا – (ونحوه) كنخامة، (في المسجد: بصق في ثوبه، و) حك بعضه ببعض، إذهابا لصورته. لحديث أنس أن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال إذا قام أحدكم في صلاته: فإنه يناجي ربه؛ فلا يبزُقنَّ قبل قبلته لكن عن يساره أو تحت قدمه، ثم أخذ طرف ردائه فبزق فيه، ثم رد بعضه على بعض رواه البخاري، ولمسلم معناه من حديث أبي هريرة؛ لما فيه من صيانة المسجد عن البصاق فيه.ويبصق ونحوه (في غيره [أي: في غير المسجد] عن يساره، وتحت قدمه)، وفي أكثر النسخ: عن يساره تحت قدمه، ولعل فيه سقط الواو، أو: ليوافق الخبر. وكلام الأصحاب (اليسرى) لأن بعض الأحاديث مقيد بذلك، والمطلق يحمل على المقيد، وإكراما للقدم اليمنى (للحديث الصحيح) وتقدم.(و) بصقه (في ثوبه أولى، إن كان في صلاة) …(ويكره) بصقه ونحوه، (أمامَه، وعن يمينه)؛ لخبر أبي هريرة وليبصق عن يساره، أو تحت قدمه؛ فيدفنها رواه البخاري.ولأبي داود بإسناد جيد عن حذيفة مرفوعا: من تفل تجاه القبلة جاء يوم القيامة وتفله بين عينيه”
“আর যদি তার (অর্থাৎ সালাতরত ব্যক্তির) নাকের শ্লেষ্মা বা থুথু (এবং এই জাতীয় কিছু যেমন কফ) নির্গত হওয়ার উপক্রম হয় এবং সে মসজিদে থাকে তাহলে সে যেন তার কাপড়ে থুথু ফেলে এবং কাপড়ের এক অংশ অন্য অংশের সাথে ঘষে নেয়, যাতে সেটির দৃশ্যমান চিহ্ন দূর হয়ে যায়। আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে নবী (ﷺ) বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, সে মূলত তার রবের সাথে কথোপকথন করে; সুতরাং সে যেন তার কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। বরং তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে (ফেলে)।’ এরপর তিনি (ﷺ) তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরলেন এবং তাতে থুথু ফেললেন, তারপর চাদরের এক অংশ অন্য অংশের ওপর ভাঁজ করে দিলেন।(সহীহ বুখারি)। ইমাম মুসলিমও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে অনুরূপ অর্থ বর্ণনা করেছেন। এটি করা হয় মসজিদকে থুথু থেকে পবিত্র রাখার জন্য। ​আর মসজিদের বাইরে (অন্য কোথাও) থাকলে সে তার বাম দিকে বা পায়ের নিচে ফেলবে। অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘তার বাম দিকে পায়ের নিচে’ (عن يساره تحت قدمه); সম্ভবত এখানে ‘ওয়াও’ (ও) বর্ণটি বাদ পড়ে গিয়েছে অথবা এটি বর্ণনার সাথে মিল রাখার জন্য এমন হয়েছে। ফকিহগণের বক্তব্য হলো—’বাম পা’; কারণ কিছু হাদিসে এটি সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আর সাধারণ বিধানকে (যদি সীমাবদ্ধ না করা হয়) সীমাবদ্ধ বিধানের ওপর প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া এটি ডান পায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যও (সহিহ হাদিসের কারণে)। আর নামাজের মধ্যে হলে কাপড়ে থুথু ফেলা অধিক উত্তম। সামনে এবং ডান দিকে থুথু ফেলা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়। আবু হুরায়রা (রা.) এর হাদিসের কারণে—’সে যেন বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নিচে ফেলে এবং তা মাটি চাপা দেয়’ যেমনটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ)‌ হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাসান (উত্তম) সনদে বর্ণিত হয়েছে—”যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে (ললাটে) থাকবে।”(বাহুতি কাশাফুল ক্বিনা; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৮১)
.
শাইখ আব্দুল মুহসিন আল আব্বাদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:قوله: «‌من ‌تَفَلَ ‌تجاه ‌القبلة جاء يوم القيامة تَفَلُه بين عينيه» هذا يدل على تحريم التَفَلَ إلى القبلة أو باتجاه القبلة، وأن على الإنسان أن يتْفَلَ إلى غير تلك الجهة، وهو عام في الصلاة وفي غير الصلاة، وفي المسجد أو في غيره. .”এই হাদিস প্রমাণ করে যে, কিবলার দিকে বা কিবলার অভিমুখে থুথু নিক্ষেপ করা হারাম। মানুষের উচিত অন্য দিকে থুথু নিক্ষেপ করা। এই বিধানটি সাধারণ‌ সালাতে হোক বা সালাতের বাইরে, মসজিদে হোক বা মসজিদের বাইরে সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
.
ইবনু রাসলান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:جاء» في «يوم القيامة» و«تَفَلُه» ظاهر «بين عينيه»؛ لأجل الموقف يذمه من رآه على فعله. .”কিয়ামতের দিন আসবে’ এবং ‘তার থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে থাকবে’ এটি কিয়ামতের ময়দানে প্রকাশ্য লাঞ্ছনার জন্য যাতে মানুষ তাকে তার কৃতকর্মের কারণে ঘৃণা ও নিন্দা করে।”
.
ইমাম ইরাকী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:يدل على تحريم البصاق في القبلة: ما رواه أبو داود بإسناد جيد من حديث السائب بن خلاد «أن رجلًا أمَّ قومًا فبصق في القبلة، ورسول الله -صلى الله عليه وسلم- ينظر إليه، فقال حين فرغ: لا يصلي لكم» الحديث، وفيه: أنه قال له: «إنك آذيتَ الله ورسوله». .”কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ হারাম হওয়ার প্রমাণ হলো আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) সনদসহ হাসান সূত্রে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাহাবি সায়িব ইবনু খাল্লাদ (রাঃ) থেকে: এক ব্যক্তি একদল লোকের ইমামতি করছিল। সে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করল, আর রাসূলুল্লাহ নবী ﷺ) তা দেখছিলেন। সালাত শেষ হলে তিনি বললেন: সে যেন আর তোমাদের ইমামতি না করে।হাদিসের এক বর্ণনায় আছে, তিনি তাকে বলেছিলেন: তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছ।”
.
ইমাম ইবনুল আরাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
إنَّ حُرمة الصلاة تتعلق بمحلين: مسجد وقبلة، ثم ثبت أن المسجد يُحترم؛ لأنه بقعة مخصوصة بالصلاة، فكذلك ينبغي أن تُحترم القبلة؛ لأنها جهة مخصوصة بالصلاة، وهذا هو مذهب مالك -رحمه الله-؛ لأنه عقَّب الباب بقوله: باب النهي عن البُصاق في القبلة، فأفهمك أنها إذا احتُرِمَتْ عن البصاق إلى جهتها، فأوْلى وأَحْرى أن تُحترم عن البول والغائط، وهما نجسان.
“সালাতের পবিত্রতা দুইটি স্থানের সাথে সম্পর্কিত:
১) মসজিদ
২) কিবলা।
অতঃপর যেহেতু মসজিদকে সম্মান করা অপরিহার্য কারণ এটি সালাতের জন্য নির্ধারিত স্থান ঠিক তেমনি কিবলাকেও সম্মান করা জরুরি কারণ এটি সালাতের জন্য নির্ধারিত দিক। এটাই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব। কারণ তিনি অধ্যায়ের শিরোনাম রেখেছেন: ‘কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ নিষেধ’ এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, যদি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করাও নিষিদ্ধ হয়, তাহলে তার চেয়েও অধিকভাবে কিবলার দিকে পেশাব ও পায়খানা করা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত কারণ এগুলো নাপাক।
.
ফখরুল ইসলাম শাশী বলেনقال لنا أبو إسحاق الشيرازي: لو كانت الحرمة للقبلة لما جاز الفصد إليها، ولا الحجامة؛ لأنها نجاسة تستقبل بها، قلنا: هذه الأمور الضرورية كالفصد والحجامة والقيء والرعاف التي تأتي العبد بغير اختياره، لا يتعلق بها هذا التكليف كما لم يتعلق بالبنيان. .”আমাদেরকে আবু ইসহাক শিরাজী বলেছেন: যদি কিবলার নিজস্ব পবিত্রতার কারণেই নিষেধাজ্ঞা হতো, তাহলে কিবলার দিকে শিরা কাটা করা কিংবা হিজামা করা বৈধ হতো না কারণ এসবের মাধ্যমেও নাপাক বের হয়। আমরা বললাম: এগুলো জরুরি বিষয় যেমন ফাসদ, হিজামা, বমি ও নাক থেকে রক্তপাত যেগুলো অনেক সময় মানুষের ইচ্ছার বাইরে ঘটে। তাই এসব ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় যেমনটি ঘরের নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়।
.
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وإنما يُكره البصاق إلى القبلة في الصلاة أو المسجد، فأمّا مَن بصق إلى القبلة في غير مسجد فلا يكره له ذلك. “সালাতের সময় বা মসজিদের ভেতরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা মাকরূহ। আর যে ব্যক্তি মসজিদের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে তার জন্য তা মাকরূহ নয়।
.
ইমাম সানআনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وقد جزم ‌النووي ‌بالمنع ‌في ‌كُل ‌حالة ‌داخل الصلاة، وخارجها، سواء كان في المسجد أو غيره، وقد أفاده حديث (أنس) في حقِّ المصلي، إلا أنَّ غيرهُ من الأحاديث قد أَفادت تحريم البُصاق إلى القبلة مطلقًا في المسجد وفي غيره، وعلى المُصلي وغيره؛ ففي صحيح ابن خزيمة وابن حبان من حديث (حذيفة) مرفوعًا: «مَن تَفل تجاه القِبلة جاء يوم القيامة وتَفلته بين عينيه» ولابن خزيمة من حديث (ابن عمر) مرفوعًا: «يُبعث صاحب النُّخامة في القِبلة يوم القيامة وهي في وجهه».”ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সুস্পষ্টভাবে বলেছেন সালাতের ভেতরে ও বাইরে, সব অবস্থাতেই কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা নিষিদ্ধ চাই তা মসজিদে হোক বা মসজিদের বাইরে। আনাস (রাঃ) এর হাদিস সালাতরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রমাণ করে।‌ আর অন্যান্য হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা সর্বাবস্থায় হারাম মসজিদে হোক বা বাইরে, সালাতরত হোক বা না হোক। এর প্রমাণ হিসেবে সহিহ ইবনু খুযাইমা ও ইবনু হিব্বানে হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদিসে আছে: যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে থাকবে। আর ইবনু খুযাইমা (রহ.) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে মারফূ বর্ণনায় এনেছেন: যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তাকে উঠানো হবে, আর সেই থুথু তার মুখে থাকবে।”(সানআনি; সুবুলুস সালাম; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৩২)
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী আদ-দিমাশক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন:وفي الحديث دلالة على تحريم البُصاق إلى القبلة مطلقًا، سواء ذلك في المسجد أو في غيره، وعلى المصلي وغيره، كما قال الصنعاني في (سبل السلام) (1/230)، قال: “وقد جزم النووي بالمنع في كل حالة داخل الصلاة وخارجها وفي المسجد أو غيره”.قلت: وهو الصواب، والأحاديث الواردة في النهي عن البصق في الصلاة تجاه القبلة كثيرة مشهورة في الصحيحين وغيرها، وإنما آثرت هذا دون غيره، لعزته, وقلة من أحاط علمه به. ولأن فيه أدبا رفيعا مع الكعبة المشرفة، طالما غفل عنه كثير من الخاصة، فضلا عن العامة، فكم رأيت في أئمة المساجد من يبصق إلى القبلة من نافذة المسجد! “এই হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা সর্বাবস্থায় হারাম চাই তা মসজিদের ভেতরে হোক বা বাইরে, সালাতরত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক বা সালাতে না থাকা ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক। যেমনটি ইমাম সানআনি (রহ.) তাঁর সুবুলুস সালাম-এ বলেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: ইমাম নববী (রহ.) নিশ্চিতভাবে বলেছেন সালাতের ভেতরে ও বাইরে, মসজিদে হোক বা মসজিদের বাইরে সব অবস্থাতেই কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা নিষিদ্ধ। আমি (আলবানী) বলছি: আমার মতে এটাই সঠিক মত। সালাতের সময় কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ নিষিদ্ধ এ বিষয়ে সহিহ বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য কিতাবে বহু প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। আমি এই হাদিসটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি অন্যগুলোর পরিবর্তে কারণ এটি তুলনামূলকভাবে বিরল এবং খুব কম মানুষই এর ব্যাপারে অবগত। এ ছাড়া এতে কাবা ঘরের প্রতি এক উচ্চমানের আদবের শিক্ষা রয়েছে, যা বহু বিশেষজ্ঞ আলেম তো বটেই সাধারণ মানুষের কথা তো বাদই দিলাম অনেকেই অবহেলা করে থাকেন। আমি নিজ চোখে বহু মসজিদের ইমামকেও দেখেছি যারা মসজিদের জানালা দিয়ে কিবলার দিকেই থুথু নিক্ষেপ করেন।”
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি,(রাহিমাহুল্লাহ) [জন্ম:৭৭৩ হি: মৃত:৮৫২ হি:] তার ফাতহুল বারী গন্থে বলেন:قوله: (ما دام في مصلاه) يقتضي تخصيص المنع بما إذا كان في الصلاة، لكن التعليل المتقدم بأذى المسلم يقتضي المنع في جدار المسجد مطلقا، ولو لم يكن في صلاة، فيجمع بأن يقال : كونه في الصلاة أشد إثما مطلقا، وكونه في جدار القبلة أشد إثما من كونه في غيرها من جدر المسجد، فهي مراتب متفاوتة مع الاشتراك في المنع”হাদিসে নবী (ﷺ) এর বাণী “যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে থাকে” এটি আপাতদৃষ্টিতে বোঝায় যে, নিষেধাজ্ঞাটি শুধু সালাতরত  অবস্থার সাথেই সম্পর্কিত। কিন্তু এর পূর্বে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়া তা প্রমাণ করে যে, মসজিদের দেয়ালে থুথু নিক্ষেপ করা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ, চাই সে সালাতে থাকুক বা না থাকুক। এ দু’টি দিকের মধ্যে সমন্বয় এভাবে করা যায় সালাতরত অবস্থায় এটি করা হলে গুনাহ আরো বেশি, আর মসজিদের অন্যান্য দেয়ালের তুলনায় কিবলার দেয়ালে এটি করা আরো গুরুতর অপরাধ। অতএব, নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে সবার মধ্যে মিল রয়েছে কিন্তু গুনাহের মাত্রা অবস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন এটি গুনাহের স্তরভেদমাত্র, নিষেধাজ্ঞার ভিন্নতা নয়।”(ফাতহুল বারী ফী শারহিল বুখারী; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৫১২)
.
(২). সালাতের বাইরে ও মসজিদের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপের বিধান:
.
সালাতের বাইরে এবং মসজিদের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ বিষয়ে ফিকহে মতভেদ রয়েছে। কিছু আলেম এটি অনুমোদন করেছেন এবং মনে করেছেন যে, নিষেধ শুধুমাত্র সালাতের সময় প্রযোজ্য, তাই সালাতের বাইরে থুথু নিক্ষেপ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু আলেম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং সর্বাবস্থায় কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ হারাম বলে বলেছেন। নিষেধের সর্বজনীন প্রমাণ হিসেবে বর্ণিত আছে আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা এবং ইবনু হিব্বান এর হাদিসে হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদিস:مَنْ تَفَلَ تُجَاهَ الْقِبْلَةِ : جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَفْلُهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ” যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে এসে পড়বে।‌”(ইবনু খুযাইমা হা/ ১৬৬৩;এবং ইবনু হিব্বান হা/১৬৩৯) এই হাদিসকে শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সহিহ বলেছেন। সামান্য সতর্কতা হিসেবে অনেকে সাহাবা ও তাবেঈনদের মধ্যে থেকে ডান দিকে থুথু না নিক্ষেপ করার পরামর্শ এসেছে।
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি,(রাহিমাহুল্লাহ) [জন্ম:৭৭৩ হি: মৃত:৮৫২ হি:] ফাতহুল বারী –এ বলেন: “وقد جزم النووي بالمنع في كل حالة، داخل الصلاة وخارجها، سواء كان في المسجد أم غيره.وقد نقل عن مالك أنه قال: لا بأس به يعني خارج الصلاة.ويشهد للمنع ما رواه عبد الرزاق وغيره عن ابن مسعود أنه كره أن يبصق عن يمينه وليس في صلاة.وعن معاذ بن جبل قال: ما بصقت عن يميني منذ أسلمت. وعن عمر بن عبد العزيز أنه نهى ابنه عنه مطلقا. وكأن الذي خصه بحالة الصلاة أخذه من علة النهي المذكورة في رواية همام عن أبي هريرة، حيث قال: (فإن عن يمينه ملكا) .هذا إذا قلنا: إن المراد بالملك غير الكاتب والحافظ ؛ فيظهر حينئذ اختصاصه بحالة الصلاة “
“ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সর্ব অবস্থাতেই (ডান দিকে থুথু ফেলা) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন চাই তা সালাতের ভেতরে হোক বা বাইরে, মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও।‌ পক্ষান্তরে ইমাম মালিকের মতানুসারে সালাতের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা (বৈধ) অনুমোদনযোগ্য।তবে (সকল অবস্থায় কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ) নিষেধের পক্ষে আরও প্রমাণ আব্দুর রাজাক ও অন্যদের বর্ণনা অনুযায়ী,তারা ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি সালাতের বাইরে থাকা অবস্থায়ও ডান দিকে থুথু ফেলা অপছন্দ করতেন। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেছেন:‌ আমি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে কখনোই ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ করিনি। উমার ইবনু আব্দুল আজিজ থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর ছেলেকে সবক্ষেত্রে (সালাতে বা বাইরে) ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছিলেন। আর যারা এই নিষেধাজ্ঞাটিকে কেবল সালাতের অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট করেছেন, তারা সম্ভবত এই নিষেধাজ্ঞার কারণটি গ্রহণ করেছেন, হুমাম-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে, যেখানে বলা হয়েছে:”(কেননা সে যখন সালাতে দাঁড়ায়) তখন তার ডান দিকে ফেরেশতা থাকেন”। এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন আমরা বলব যে: (এই হাদিসে) ‘ফেরেশতা’ বলতে আমল লেখক (কিরামান কাতিবিন) বা রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা ব্যতীত অন্য কোনো ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে। এমতাবস্থায় এই নিষেধাজ্ঞাটি সালাতের অবস্থার সাথেই সীমাবদ্ধ হওয়া স্পষ্ট হয়ে যায়।”(ফাতহুল বারী ফী শারহিল বুখারী; খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৫১০)
.
সর্বাধিক সমর্থিত মত, আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন, হলো কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা প্রধানত নামাজের ভেতরে নিষিদ্ধ বা হারাম। তবে সালাতের বাইরেও কিবলার সম্মান রক্ষার্থে এটি এড়িয়েচলাই অধিকতর উত্তম ও নিরাপদ; কারণ একদল আলেমের মতে এটি সব অবস্থাতেই নিষিদ্ধ। এছাড়া সালাতের বাইরেও ডান দিকে থুথু না ফেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ডান দিকে থুথু ফেলা অনুচিত এবং একজন মানুষের পক্ষে কিবলা চেনার চেয়ে নিজের ডান দিক চেনা অনেক বেশি সহজ। কেননা কিবলা চিহ্নিত করা সব সময় সহজ নয়।
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল: ইবনু খুযাইমার বর্ণনা অনুযায়ী যে ব্যক্তি কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তার থুথু তার দুই চোখের মাঝখানে এসে পড়বে। এটি কি সালাতের জন্য প্রযোজ্য?
তিনি উত্তর দিয়েছেন:
هذا محتمل، وهذا مما يؤيد كونه يتفل عن يساره أحسن.أما في الصلاة : فيتعيّن ، مثل ما قال صلى الله عليه وسلم : (فلا يبصقن) ؛ نهي، والأصل منه التحريم، فلا يبصق أمامه في الصلاة أبدًا، لا في النفل، ولا في الفرض، لا في المسجد، ولا في غيره.أما في خارج الصلاة : فهذا محل نظر، الأمر فيه سهل، لكن إذا كان عن يساره حتى في خارج الصلاة ، يكون أكمل وأحوط”
“এটি সম্ভাব্য (হতে পারে); আর এটি সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা তার (ব্যক্তির) বাম দিকে থুথু ফেলা উত্তম হওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে। তবে সালাতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও (স্পষ্ট) সুনির্ধারিত, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সে যেন অবশ্যই (সামনে) থুথু নিক্ষেপ না করে); এটি একটি নিষেধাজ্ঞা, আর নিষেধাজ্ঞার মূল বিধান হলো কোনো কাজ নিষিদ্ধ বা হারাম হওয়া। অতএব, সালাতে থাকা অবস্থায় সে কখনোই নিজের সামনের দিকে থুতু ফেলবে না—তা নফল নামায হোক বা ফরয, আর মসজিদ হোক বা অন্য কোনো স্থান। তবে সালাতের বাইরে বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে এবং এ ব্যাপারে নিয়ম কিছুটা শিথিল। কিন্তু সালাতের বাইরে থাকলেও যদি সম্ভব হয় বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা, তবে এটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং সতর্কতা অবলম্বনকারী (উত্তম)।”(ইমাম ইবনু বায; এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সমাপ্ত; ফাতওয়া নং-২৩৬০৪)
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক, আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল: সালাতের বাইরে কিবলার দিকে থুথু নিক্ষেপ করা কেমন?
তিনি উত্তর দিয়েছেন:
لا إله إلا الله، يظهرُ أنَّهُ لا يَنْبَغِي تعمُّدُ هذا مِن غيرِ حاجة، يظهر، وإلَّا الذي وردَ: (إذا قامَ أحدُكُم في الصَّلاةِ فإنَّه يُنَاجِي ربَّهُ فلا يَبْصُقَنَّ قِبَلَهُ) ؛ فالأحاديثُ ظاهرُها أنَّ ذلكَ خاصٌّ بالصَّلاةِ، لكن القبلةَ لها يعني حُرمةٌ، ولهذا جاءَ النَّهيُ عَن استقبالِها واستدبارِها في قضاءِ الحاجةِ، فالأولى أنْ يبصقَ عَن يمينِه أو عَن يسارِه ، ولا يبصقَ إلى جهةِ القِبلةِ. الذي وردَ في النّصوصِ هو فِعْلُ ذلكَ في الصَّلاةِ ، لأنَّهُ عَلَّلَهُ بقولِهِ: (فإنَّ اللهَ قِبَلَ وجهِهِ) . وذِكْرُ القبلةِ؛ لأنَّ الرَّسولَ -عليه الصَّلاة والسَّلام- رأى نُخَامةً في قبلةِ المسجدِ، في قبلةِ المسجدِ، يظهر مِن ذلكَ أنَّ الذي فعلَها كانَ يصلّي، فبصقَ قِبَلَ وجهِهِ وهو يُصلّي، فكانَتْ في جدارِ المسجدِ القِبْلِي، في جدارِ المسجِد القِبْلِي
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,(আল্লাহ ছাড়া হক কোনো উপাস্য নেই) এটি স্পষ্ট যে, প্রয়োজন ছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই কাজটি করা সমীচীন নয়; এটাই স্পষ্ট।অন্যথায় হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: (তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে নিভৃতে কথা বলে; সুতরাং সে যেন তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে)। এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, মূলত এটি (সামনের দিকে থুতু না ফেলা) সালাতের জন্য (খাস) বিশেষ বিধান। তবুও কিবলার নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে। আর একারণেই মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দিয়ে বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”সর্বোত্তম হলো বাম বা ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ করা, কিন্তু কিবলার দিকে না। মূল দলীলসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা মূলত সালাত অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ তিনি (রাসূল ﷺ)-এর কারণ হিসেবে বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন)।”আর কিবলার কথা একারণে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের কিবলার দিকে (সামনের দেওয়ালে শ্লেষ্মা) থুথু দেখতে পেয়েছিলেন; এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যিনি এটি করেছিলেন তিনি সালাত পড়ছিলেন; এমতাবস্থায় তিনি তার সামনের দিকে থুতু ফেলেছিলেন যেহেতু তিনি সালাতরত ছিলেন, ফলে তা মসজিদের কিবলার দিকের দেওয়ালে গিয়ে লেগেছিল”।(ইমাম আব্দুর রহমান আল-বাররাক (হাফিজাহুল্লাহ)-এর ওয়েবসাইট থেকে সমাপ্ত; গৃহীত,ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৩৫৪৩৭৩)
.
পরিশেষে বলা যায়, কিবলার দিকে থুথু ফেলার নিষেধাজ্ঞা মূলত মসজিদ এবং সালাত আদায়কালীন অবস্থার সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত। তবে একদল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা সর্বাবস্থায় কার্যকর এবং তা হারাম। তাই মতভেদ এড়িয়ে কিবলার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও পবিত্রতা বজায় রাখার স্বার্থে, সর্বাবস্থায় সেদিকে থুথু নিক্ষেপ না করাই হবে প্রকৃত তাকওয়া ও উন্নত শিষ্টাচারের পরিচয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। (আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন: ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৩৫৪৩৭৩)।
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate