ভূমিকা: পরম করুণাময়,অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। অগণিত দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর “মেন্সট্রুয়াল কাপ” হলো চিকিৎসা গ্রেডের সিলিকন বা নরম উপাদানে তৈরি একটি ছোট কাপ, যা নারীদের হায়েজ চলাকালীন রক্ত প্রবাহ সংগ্রহ করার জন্য যোনিপথের ভিতরে ব্যবহার করা হয়। এটি স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পনের মতো রক্ত শোষণ না করে বরং রক্ত সংগ্রহ করে রাখে, ফলে কোনো প্রকার নিঃসরণের ভয় থাকে না। অতঃপর নির্দিষ্ট সময় পর পর কাপটি বের করে খালি করা হয়, এবং পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। এখন প্রশ্ন হলো মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা জায়েজ নাকি জায়েজ নয়!—এ বিষয়ে কথা হচ্ছে,এটি মূলত একটি ইজতিহাদী বিষয়। কারণ শরীয়তে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট নস (দলিল) পাওয়া যায় না। তবে সমসাময়িক কিছু আলিম ও গবেষক শরীয়তের সাধারণ নীতিমালা, প্রয়োজন ও উপকারিতার দিক বিবেচনা করে এর বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন—বিশেষত বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে। তাদের বক্তব্য হলো, রক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাইরে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করার অবকাশ শরীয়তে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা ইস্তিহাযায় আক্রান্ত নারীদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু নির্দেশনাকেও দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের অন্যতম দলিল হলো, হামনা বিনতে জাহাশ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:“হে আল্লাহর রাসূল! আমার দীর্ঘসময় ধরে প্রচুর ইস্তিহাযার রক্তপাত হয়। এটি কি আমাকে সালাত ও সাওম থেকে বিরত রাখবে?” তখন নবী ﷺ বলেনঃ“আমি তোমাকে কাপড় ব্যবহারের একটি পদ্ধতি বলে দিচ্ছি। তুমি কাপড়টিকে গুপ্তাঙ্গের উপর স্থাপন করবে; এটি রক্তপাত কমাতে সহায়তা করবে। তিনি বললেন, “রক্তপাত এর চেয়েও বেশি।তখন নবী ﷺ বলেনঃ “এটি শয়তানের একটি আঘাত…”(সুনানে ইবনু মাজাহ, হা/৬২২; সুনানে তিরমিযি, হা/১২৮; সুনানে আবু দাউদ, হা/২৮৭) ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম আহমদ থেকেও এর সহীহ হওয়ার বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী এটিকে হাসান বলেছেন। আর ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) “ইরওয়াউল গালীল” (১/২০২)-এ হাদিসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়াও উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে:«ثُمَّ اغْتَسِلِي وَاسْتَثْفِرِي وَصَلِّي» “অতঃপর তুমি গোসল করবে, কাপড়ের বিশেষ পট্টি (ইস্তিসফার) ব্যবহার করবে এবং সালাত আদায় করবে।”(সুনানে নাসায়ী, হা/৩৫৪)
Sunday, June 14, 2026
নারীদের মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা যাবে কি
.
হাদিসটির ব্যাখায় ইমাম মুহাম্মাদ শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
فتلجمي) قال في الصحاح والقاموس: اللجام ما تشد به الحائض ، قال الخليل : معناه افعلي فعلا يمنع سيلان الدم ، واسترساله ، كما يمنع اللجام استرسال الدابة .وأما الاستثفار: فهو أن تشد فرجها بخرقة عريضة ، تُوثِق طرفيها في حقب تشده في وسطها، بعد أن تحتشي كرسفا، فيمنع ذلك الدم “
“ফাতালজামি শব্দ সম্পর্কে আস সিহাহ ও আল কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: লিজাম হলো এমন একটি বাঁধন যা ঋতুমতী নারী ব্যবহার করে। খলীল বলেছেন: এর অর্থ হলো এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যা রক্তের প্রবাহ ও ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করে দেয়, যেমন লাগাম পশুর চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর ইস্তিসফার হলো,নারী তার লজ্জাস্থানে একটি চওড়া কাপড় বেঁধে নেবে। কাপড়ের দুই প্রান্ত কোমরে বাঁধা একটি বেল্ট বা ফিতার সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখবে। এর আগে সে তুলা ব্যবহার করবে। এতে রক্ত বের হওয়া বন্ধ বা কমে যাবে।”(শাওকানী;নায়লুল আওতার ১/৩৪৩)
.
ইমাম খাত্ত্বাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
” وفيه من الفقه أن المستحاضة يجب عليها أن تستثفر، وأن تعالج نفسها بما يسد المسلك ويرد الدم، من قطن ونحوه ، كما قال في حديث حمنة : (أنعت لك الكرسف) وقال لها : (تلجمي واستثفري) .
“এই হাদিস থেকে একটি ফিকহি বিধান জানা যায় যে, ইস্তিহাযা আক্রান্ত নারীর জন্য ইস্তিসফার করা আবশ্যক। অর্থাৎ সে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যা রক্ত বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখে এবং রক্তকে প্রতিহত করে। যেমন: তুলা বা অনুরূপ কোনো বস্তু ব্যবহার করা। যেমন হামনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর হাদিসে নবী (ﷺ) তাকে বলেছিলেন: আমি তোমাকে তুলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি এবং আরও বলেছিলেন: লাগামের মতো বেঁধে নাও এবং ইস্তিসফার করো।”(মাআলিমুস সুনান: ১/৭৪]
.
উপরোক্ত হাদীসসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যার আলোকে একদল আলেম এ মূলনীতি গ্রহণ করেছেন যে, ঋতুস্রাবের রক্ত নিয়ন্ত্রণ করা বা বাইরে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা বৈধ। এ দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু আলেম—বিশেষত বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে—“মেন্সট্রুয়াল কাপ” ব্যবহারেরও অবকাশ উল্লেখ করেছেন; তবে শর্ত হলো, এতে যেন কোনো শারীরিক ক্ষতি, চিকিৎসাগত জটিলতা বা শরীয়তবিরোধী বিষয় না থাকে। ঋতুস্রাবের রক্ত বাইরে নির্গত হওয়া বা উপচে পড়া প্রতিরোধে উপযুক্ত মাধ্যম ব্যবহার করে সেই স্থান সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ বাণীর অন্তর্ভুক্ত বলেও বিবেচিত হতে পারে: “তোমরা তোমাদের দুনিয়াবী বিষয়গুলো সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।” —(সহীহ মুসলিম, হা/২৩৬৩)। তাই এ ধরনের বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ, মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রচলিত ব্যবহার এবং উদ্দেশ্য পূরণে যে মাধ্যম অধিক কার্যকর, নিরাপদ ও উপযোগী বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে অপর একদল আলেমের মতে, যেহেতু মেন্সট্রুয়াল কাপ লজ্জাস্থানের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে ব্যবহার করতে হয়, তাই নারীদের জন্য তা ব্যবহার করা মাকরূহ; কারণ এতে হস্তমৈথুন সদৃশ অনুভূতি বা যৌন উত্তেজনার আশঙ্কা থাকতে পারে। পাশাপাশি বাস্তব দিক থেকেও এ উপকরণ কতটুকু নিরাপদ এবং এতে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না—তা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা, চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের মাঝেও মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসক সম্ভাব্য কয়েকটি ক্ষতির দিক উল্লেখ করেছেন; যেমন—এটি কুমারী মেয়েদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে, প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্যান্য প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় জীবাণু ও দূষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। অন্যদিকে অধিকাংশ নারী মাসিক চলাকালীন সময়ে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে থাকেন এবং চিকিৎসকদের মতে এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তাই অনেক আলেমের মতে, যখন নিরাপদ ও সহজ বিকল্প হিসেবে স্যানিটারি প্যাড বিদ্যমান রয়েছে, তখন মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই অধিক সতর্কতাপূর্ণ ও উত্তম; বিশেষত এতে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি বা কুমারিত্বের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে।(এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৩১৩২২৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জার্সি ক্রয়- বিক্রয় এবং পরিধানের বিধান
প্রশ্ন: মুসলিমদের জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জার্সি ক্রয়- বিক্রয় এবং পরিধানের বিধান কি? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। অগণিত দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের জার্সি পরিধান সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা কয়েকটি পয়েন্টে উল্লেখ করার চেষ্টা করব।
.
প্রথমত: আমাদের এই যুগে ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষের—এমনকি অনেক মুসলমানের মধ্যেও—যে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, খেলোয়াড়দের প্রতি যে অস্বাভাবিক মোহ এবং বিভিন্ন ক্লাবের প্রতি যে অন্ধ সমর্থন ও ভক্তি গড়ে উঠেছে, তা কোনো বিবেকবান মানুষের কাছেই অজানা নয়। খেলোয়াড়দের ছবি সর্বত্র প্রদর্শন করা, তাদের নামে নামকরণ করা, তাদের জার্সি ও নম্বরসংবলিত পোশাক পরিধান করা, এমনকি তাদের চালচলন, খেলার ধরন ও ব্যক্তিগত আচরণ পর্যন্ত অনুকরণ করা—এসবই এই আসক্তি ও মোহের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।ফুটবলের এ বাস্তবতা, এর নানামুখী কুফল এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে শাইখ যিয়াব আল-গামদি (হাফিজাহুল্লাহ) তাঁর
“হাকিকাতু কুরুতিল কদম” (ফুটবলের বাস্তবতা) নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি সেখানে এই খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি নিষিদ্ধ ও আপত্তিকর বিষয় প্রমাণসহ উল্লেখ করেছেন। অতএব, যারা ফুটবলের প্রকৃত বাস্তবতা ও এর বহুবিধ নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য উক্ত গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা বিশেষভাবে উপকারী হবে।
.
দ্বিতীয়ত: প্রশ্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত পূর্বে আলোচিত বাস্তবতারই একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, বহু মুসলিম অন্যান্য নির্বোধ ও গাফেল মানুষের অনুসরণে এ খেলাধুলার সঙ্গে কতটা গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এটি খেলোয়াড় ও তাদের ক্লাবগুলোর প্রতি অন্ধ অনুরাগ ও অতিরঞ্জিত ভক্তিরও বহিঃপ্রকাশ। অথচ তারা এ বিষয়টি উপেক্ষা করে যে, এসব খেলোয়াড়ের অনেকেই প্রকাশ্যে শরিয়তবিরোধী কাজ করে, মানুষের সামনে নিজেদের সতর (আবৃত রাখার আবশ্যক অঙ্গ) উন্মুক্ত করে এবং নানাবিধ পাপাচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকে। তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনৈতিকতা ও অসচ্চরিত্রতার সংবাদ সর্বত্র প্রচারিত হলেও অনেকে সেদিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, এ বিষয়টিকেও তারা গুরুত্বহীন মনে করে উপেক্ষা করে।
.
তৃতীয়ত: ইসলামে একজন মুমিনের পরিচয়, ভালোবাসা ও আনুগত্য কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং বিশ্বাসীদের প্রতি নিবদ্ধ থাকা আবশ্যক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, ফুটবল বিশ্বকাপ বা বিভিন্ন লিগ উপলক্ষে অনেক মুসলিমকেই অমুসলিম খেলোয়াড়, দল কিংবা ক্লাবের জার্সি পরিধান করতে দেখা যায়—যা পরোক্ষভাবে তাদের প্রতি অন্ধভক্তি, ভালোবাসা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এসব জার্সিতে থাকা নির্দিষ্ট লোগো বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম অনেক সময় ব্যক্তিপূজা ও অতি-ভক্তির রূপ নেয়, যা একজন মুসলিমের নিজস্ব ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শকে ম্লান করে দেয়। তাই ওলামায়ে কেরামের গবেষণালব্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, যে পোশাক কাফের বা অমুসলিম সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে এবং ইসলামী পরিচয়ের পরিপন্থী, তা পরিধান করা জায়েজ নয়; বরং একজন সচেতন মুসলিমের উচিত এমন প্রতীক ও চিহ্ন থেকে দূরে থেকে নিজের পোশাক, আচরণ ও ভালোবাসাকে ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। আহালুল আলেমগন এসব বিষয়ে গবেষণা করে বেশ কয়েকটি ফাতওয়া দিয়েছেন। আমরা এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফাতওয়া পেশ করছি।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: অমুসলিম কাফিরদের বিশেষ প্রতীকযুক্ত খেলাধুলার পোশাক যেমন ইতালি, জার্মানি বা অ্যামেরিকার প্রতীক সংবলিত জার্সি অথবা যেগুলোতে কিছু অমুসলিম খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকে, তা পরিধানের হুকুম কী?
জবাবে তারা বলেছেন:
الملابس التي تحمل شعارات الكفار فيها تفصيل كما يلي :
1. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى ديانات الكفار كالصليب ، ونحوه : ففي هذه الحالة لا يجوز استيراد هذه الملابس ، ولا بيعها ، ولا لبسها .
2. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى تعظيم أحدٍ من الكفار ، بوضع صورته ، أو كتابة اسمه ، ونحو ذلك : فهي أيضاً حرام ، كما سبق .
3. إذا كانت هذه الشعارات لا ترمز إلى عبادة ، ولا تعظيم شخص ، وإنما هي علامات تجارية مباحة ، وهي ما يسمى بـ ” الماركات ” : فلا بأس بها .
الشيخ عبد العزيز بن باز ، الشيخ عبد الله بن غديان ، الشيخ صالح الفوزان ، الشيخ عبد العزيز آل الشيخ ، الشيخ بكر أبو زيد
“কাফিরদের প্রতীক বহনকারী পোশাকের ক্ষেত্রে বিস্তারিত হুকুম নিম্নরূপ:
১.যদি এসব প্রতীক অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় প্রতীক হয়, যেমন ক্রুশ (খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক) বা এ জাতীয় কিছুর প্রতীক হয়; তাহলে এমন পোশাক আমদানি করা, বিক্রি করা এবং পরিধান করা—সবই না-জায়েজ।
.
২. যদি এসব প্রতীক কোনো অমুসলিম ব্যক্তিকে সম্মান ও মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়; যেমন তার ছবি, নাম বা অনুরূপ কিছু সংযুক্ত করা হয়। তাহলে এটিও হারাম,যেমনটি আগে বলা হয়েছে।
.
৩. তবে যদি এসব প্রতীক কোনো ইবাদত বা ব্যক্তি বিশেষকে ভক্তি প্রদর্শনের জন্য না হয়ে, বরং সাধারণ ব্যবসায়িক চিহ্ন অর্থাৎ ব্র্যান্ড বা ট্রেডমার্ক হয়,তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।”(ফতোয়াটিতে স্বাক্ষর করেছেন সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বিশিষ্ট আলেমবৃন্দ—সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি,ইমাম আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ),পরবর্তী গ্র্যান্ড মুফতি,শাইখ আব্দুল আযীয আলে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি,শাইখ সালিহ বিন ফাওযান আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং শাইখ বকর আবু যায়েদ (রাহিমাহুল্লাহ)।[ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ২৪; পৃষ্ঠা: ২৪-২৫]
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক,আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:কোনো অমুসলিম খেলোয়াড়কে তার ধর্মের কারণে নয়, বরং তার খেলার দক্ষতার কারণে ভালোবাসার বিধান কী? এবং কাফেরদের ধর্মীয় প্রতীক বা ক্রুশবিহীন বিদেশি ক্লাবের নাম বা লোগো যুক্ত খেলাধুলার পোশাক (জার্সি) পরিধান করার বিধান কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে শাইখ (হাফিজাহুল্লাহ) বিস্তারিত আলোচনা শেষে বলেন:
فعُلِم مما تقدم أنّه لا يجوز الإعجاب باللاعب الكافر ومحبته لمهارته في اللعب، وكذلك لا يجوز لبس الملابس الرياضية التي عليها أسماء وشعارات لأندية البلدان الكافرة، ولو كانت خالية من الصلبان وغيرها من شعاراتهم الدّينية؛ لأن لبس هذه الملابس يتضمن قدرًا مِن الولاء والإعجاب بأصحاب تلك الأندية.
والواجب على المسلم أن يرتفع بما أكرمه الله به مِن الإسلام عن التعلّق بالتافه والإعجاب بالكافرين، وعليه أن يحمد الله على نعمه، ويقول: الحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. والله أعلم، وصلّى الله وسلم على نبينا محمّد وعلى آله وصحبه أجمعين.
“অতএব, পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি জানা গেল যে, কোনো কাফির খেলোয়াড়কে তার খেলার দক্ষতার কারণে পছন্দ করা (তার প্রতি মুগ্ধ হওয়া) এবং তাকে ভালোবাসা জায়েজ (বৈধ) নয়। একইভাবে, কাফির দেশগুলোর ক্লাবগুলোর নাম ও লোগো সম্বলিত খেলাধুলার পোশাক (জার্সি) পরিধান করাও জায়েজ নয়;যদিও সেগুলো ক্রুশ বা তাদের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক থেকে মুক্ত হয়।কারণ,এসব পোশাক পরিধান করার মধ্যে ওইসব ক্লাবের সদস্যদের প্রতি এক ধরনের আনুগত্য, সমর্থন ও মুগ্ধতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।আর একজন মুসলমানের জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক) হলো—আল্লাহ তাআলা তাকে ইসলামের যে মর্যাদা ও গৌরব দ্বারা সম্মানিত করেছেন, তার মাধ্যমে নিজেকে এই সমস্ত তুচ্ছ বিষয়ের প্রতি আসক্তি এবং কাফিরদের প্রতি মুগ্ধতা থেকে ঊর্ধ্বে রাখা। তার উচিত আল্লাহর নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করা এবং বলা: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কখনোই হিদায়াত পেতাম না।’ আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।আর সালাত ও সালাম (রহমত ও শান্তি) বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ),তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।”(শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফাতওয়া নং-২৩৯২; ফাতওয়া লিপিবদ্ধকরণের তারিখ: ১৫-৮-১৪৩৫ হিজরি)
.
চতুর্থত: দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমানে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি কিংবা বিভিন্ন ক্লাবের লোগো সংবলিত পোশাকের ক্রয়-বিক্রয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কোনো বিষয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচলিত হয়ে যাওয়াই তার বৈধতার প্রমাণ নয়। বরং এ ধরনের পোশাকের বাণিজ্য কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও পরিহার করা উচিত; কারণ এর মাধ্যমে মুসলিমদের আকীদা, ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইসলাম মানুষের দ্বীন ও চরিত্র সংরক্ষণের জন্য এসেছে, সেগুলোকে দুর্বল করার জন্য নয়। মুসলিমকে কুফর ও তার অনুসারীদের প্রতি অন্তরগত অনুরাগ ও ভক্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে তাদের ভালোবাসে, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা নিকটাত্মীয়ই হোক।” (সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২)। তদুপরি, বহু আন্তর্জাতিক কোম্পানি খেলোয়াড়দের ছবি, নাম ও ক্লাবের প্রতীক ব্যবহার করে বিপুল অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করছে, আর মুসলমানরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে সেই প্রচার ও প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছে। তাই পাইকারি বা খুচরা—যে পর্যায়ের ব্যবসাই হোক না কেন, এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা সমীচীন নয়; বরং মুসলিমের উচিত দ্বীনি সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে এসব বিষয় থেকে দূরে থাকা।
.
আমাদের ইমাম সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:আজকের মুসলিম যুবকদের কিছু খেলাধুলার পোশাক সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যেগুলোতে কাফির দেশ, খেলোয়াড় বা কোনো কাফির দলের সমর্থনের চিহ্ন বা প্রতীক থাকে—এটি কি কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব (মুওয়ালাহ) করা?
তিনি উত্তরে বলেন:
قد يكون هذا ليس من موالاة الكفار ظاهراً ، لكن من فعله : فإن في قلبه من تعظيم الكفار ما ينافي الإيمان ، أو كمال الإيمان ، والواجب علينا نحن المسلمين أن نقاطع مثل هذه الألبسة وألا نشتريها ؛ وفيما أحل الله لنا من الألبسة شيء كثير ؛ لأننا إذا أخذنا بهذه الألبسة : صار فيها عزٌّ للكفار ، حيث أصبحنا نفتخر أن تكون صورهم ، أو أسماؤهم ، ملبوساً لنا ، هم يفتخرون بهذا ، ويرون أن هذا من إعزازهم وإكرامهم .
ثانياً : هم يسلبون أموالنا بهذه الألبسة ، مصانعهم حامية ، وجيوبنا منفتحة لبذل الدراهم لهم ، وهذا خطأ .
الآن لو أنك ذهبت إلى بعض البيوت : لوجدت المرأة عندها أكثر من عشرين ثوباً كلما ظهرت موضة اشترتها ، وكذلك بالنسبة للاعبين ، والذي أشير به على إخواننا هؤلاء أن يقاطعوا هذه الألبسة نهائيّاً ، وأن يكتفوا بالألبسة التي تفصَّل هنا على الطراز الإسلامي الموافق لهدي النبي صلى الله عليه وسلم . “
“বাহ্যিকভাবে এটি হয়তো কাফেরদের বন্ধুত্বের (বা আনুগত্যের) অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি এটি করবে: তার অন্তরে কাফেরদের প্রতি এমন এক সম্মান ও ভক্তি থাকে যা ঈমান বা ঈমানের পূর্ণতার পরিপন্থী। আর আমাদের মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব (কর্তব্য) হলো এই ধরনের পোশাক বর্জন (বয়কট) করা এবং তা ক্রয় না করা। আল্লাহ আমাদের জন্য যেসব পোশাক হালাল করেছেন, তার মধ্যে প্রচুর বিকল্প রয়েছে। কারণ, আমরা যখন এই পোশাকগুলো গ্রহণ করি, তখন এতে কাফিরদের প্রতি একধরনের সম্মান বৃদ্ধি পায়। তারা মনে করে যে আমরা তাদের ছবি বা নামযুক্ত পোশাক পরিধান করতে পেরে গর্ব বোধ করছি। অথচ তারা নিজেরাও এটি নিয়ে গর্ব করে এবং মনে করে যে এটি তাদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন।
পঞ্চমত: তারা এই পোশাকগুলোর মাধ্যমে আমাদের সম্পদ (টাকা) কেড়ে নিচ্ছে। তাদের কলকারখানাগুলো সচল ও লাভবান হচ্ছে, আর আমাদের পকেটগুলো তাদের পেছনে দিরহাম (টাকা) খরচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে; আর এটি একটি মস্ত বড় ভুল।বর্তমানে আপনি যদি কিছু বাড়িতে যান, তবে দেখতে পাবেন যে একজন নারীর কাছে বিশটিরও বেশি পোশাক রয়েছে—যখনই নতুন কোনো ফ্যাশন বা ‘মডেল’ আসে, তখনই সে তা কিনে নেয়। খেলোয়াড়দের (জার্সি বা পোশাকের) ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। তাই আমি আমাদের ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এই পোশাকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে বয়কট করে এবং নবী ﷺ-এর আদর্শ অনুযায়ী আমাদের দেশে তৈরি পোশাক পরিধান করে।” (ইবনু উসাইমীন; আল-লিকা আশ-শহরি; ২/প্রশ্ন ১১)
.
এছাড়াও আমাদের ইমাম, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:সম্প্রতি বাজারে খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত কিছু পণ্য এসেছে, এর হুকুম কী? আর যদি এই ছবিগুলো স্টিকার আকারে থাকে এবং ক্রেতা তা সরিয়ে ফেলে নিচে কোনো পুরস্কার পায়, তবে তার হুকুম কী?
.
জবাবে তিনি বলেন:
أرى أن هذه البضاعة التي عليها صور اللاعبين : تُهجر ، وتقاطع ؛ لأننا نسأل : ما فائدة الإسلام والمسلمين من بروز هذا اللاعب وظهوره على غيره ؟ أعتقد أن كل إنسان سيكون جوابه بالنفي : لا فائدة من ذلك ، فكيف نعلن عن أسماء هؤلاء ، وننشر صورهم ، وما أشبه ذلك ؟! وكان الذي ينبغي أن يعدل عن هذا إلى مناصحة اللاعبين بالتزام الآداب الإسلامية : من ستر العورة ، والمحافظة على الصلاة في الجماعة ، وعدم التنافر فيما بينهم ، وعدم التشاتم ، وألا يستولي عليهم تعظيم الكافر إذا نجح في هذه اللعبة على غيره ، هذا الذي ينفع .فأرى أن تهجر هذه البضاعة ، وتقاطع ، ثم إن الغالب أن هذه الشركة لم تضع الجوائز إلا لأنها تعرف أنها ستربح أضعافاً مضاعفة بالنسبة لما وضعت .فنسأل الله تعالى أن يجعلنا وإياكم من أهل البصيرة في دين الله عز وجل ، وأن يحمي بلادنا ، وشبابنا ، وديننا من كل مكروه وسوء ، إنه على كل شيء قدير .
“আমার অভিমত হচ্ছে, খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত এই পণ্যগুলোকে বর্জন ও বয়কট করা উচিত। কারণ আমরা যদি প্রশ্ন করি: এই খেলোয়াড়কে বিশিষ্ট করে তোলা এবং অন্যদের চেয়ে তাকে এভাবে জাহির করার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের কী ফায়দা রয়েছে? আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষের উত্তর একটাই হবে—’কোনো ফায়দা নেই।’ তাহলে আমরা কেন এদের নাম এভাবে প্রচার করছি, এদের ছবি ছড়াচ্ছি এবং এই জাতীয় কাজ করছি?! বরং উচিত ছিল—এর পরিবর্তে খেলোয়াড়দেরকে ইসলামী আদব-কায়দা মেনে চলার নসীহত করা; যেমন: সতর ঢেকে রাখা, জামা‘আতের সাথে সালাত আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া, পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ পোষণ না করা, একে অপরকে গালিগালাজ না করা এবং কোনো কাফির এই খেলায় অন্যদের চেয়ে সফল হলে তার প্রতি যেন ভক্তি-সম্মান উথলে না ওঠে। এগুলোই মূলত উপকারী হতো।অতএব, আমি মনে করি এই পণ্যগুলো বর্জন ও বয়কট করা উচিত। তাছাড়া, সাধারণত এই কোম্পানিগুলো যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে, তা কেবল এ কারণেই করে যে তারা ভালো করেই জানে—তারা যে পরিমাণ পুরস্কার দিচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মুনাফা তারা (এর মাধ্যমে) লুটে নেবে।আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের সকলকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে প্রজ্ঞাসম্পন্ন (বসীরতওয়ালা) করেন; এবং আমাদের দেশ, আমাদের যুবসমাজ ও আমাদের দ্বীনকে প্রতিটি ক্ষতিকর ও অনিষ্টকর বিষয় থেকে হেফাজত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।”(ইবনু উসাইমীন,মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল (১২/প্রশ্ন ২৫৮; এবং ইবনু উসাইমীন, লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৫৭/প্রশ্ন ৩৩)
.
পরিশেষে, প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত প্রাজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের দলীলভিত্তিক ফাতওয়া এবং সামগ্রিক পর্যালোচনার আলোকে চূড়ান্তভাবে বলা যায় যে, মুসলিমদের জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন অমুসলিম দেশ, ক্লাব বা খেলোয়াড়দের নাম, ছবি ও লোগো সংবলিত জার্সি ক্রয়, বিক্রয় এবং পরিধান করা শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ না-জায়েজ; কারণ এটি একদিকে যেমন কাফির ও ফাসিকদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য, ভালোবাসা ও অপসংস্কৃতির অনুকরণের মাধ্যমে একজন মুমিনের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য ও ঈমানী চেতনাকে কলুষিত করে, অন্যদিকে অনেক জার্সিতে ক্রুশের মতো কুফরি প্রতীক থাকায় কিংবা কোনো ব্যক্তিকে অতি-ভক্তি করার কারণে তা আকিদাগত ঝুঁকির সৃষ্টি করে এবং এর বাণিজ্যিক প্রসারের ফলে মুসলিমদের বিপুল অর্থ অপচয় হয়ে ইসলাম-বিরোধী কোম্পানিগুলোই লাভবান হয়। অতএব, প্রতিটি দ্বীনদার মুসলিমের আবশ্যক কর্তব্য হলো এই সমস্ত আত্মমর্যাদাহীন আসক্তি ও পোশাক সম্পূর্ণরূপে বর্জন (বয়কট) করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশিত আদর্শ ও শালীন পোশাকের মাধ্যমে নিজের ইসলামি পরিচয় ফুটিয়ে তোলা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
টেলিভিশনে কিংবা সরাসরি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ
প্রশ্ন: টেলিভিশনে কিংবা সরাসরি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। অগণিত দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর যেসব ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ সেটা বিশ্বকাপ হোক কিংবা পাড়ার মহল্লায় আয়োজিত কোনো ম্যাচ যেখানে শরীয়তবিরোধী আর্থিক লেনদেন, অবৈধ পুরস্কারব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য হারাম উপাদানের ভিত্তিতে পরিচালিত ও আয়োজন করা হয়। তাতে অংশগ্রহণ করা, সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখা কিংবা টেলিভিশনে উপভোগ করা কোনোটিই জায়েজ নয়; কারণ এমন আয়োজন দেখা মানেই হলো পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ কাজকে সমর্থন, প্রচার ও উৎসাহিত করা। ইসলামের স্পষ্ট নীতি অনুযায়ী যেকোনো পাপকাজে সহযোগিতা বা সহমত পোষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মায়েদাহর ২ নম্বর আয়াতে বলেন,وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ“তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়ার বিষয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করো; কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।”[সূরা আল-মায়েদাহ: ২] সুতরাং,একজন সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব শরীয়তবিরোধী বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা, বিশেষ করে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটবল ম্যাচগুলোর সঙ্গে এমন কিছু নিষিদ্ধ ও সতর্কতামূলক বিষয় জড়িত থাকে, যেগুলো একজন সচেতন মুসলিমের বিবেচনায় রাখা জরুরি:
(১).বর্তমান যুগে ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেবল মাঠের সাধারণ বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্পন্সরশিপ, কর্পোরেট পুঁজি এবং বিভিন্ন বেটিং অ্যাপের সমন্বয়ে তা আজ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল জুয়া ও অনৈতিক বাণিজ্যের শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্রীড়াজগতের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও বৈশ্বিক আবেদনকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা বাজির সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাপী জুয়ার বাজারকে আরও বিস্তৃত, সক্রিয় এবং শক্তিশালী করে তুলছে।
.
(২).বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ম্যাচ সম্প্রচারে এমন বহু বিষয় দেখা যায়, যা ইসলামী শালীনতা ও শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী। যেমন—খেলোয়াড়দের সতর (নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ) উন্মুক্ত থাকা, গ্যালারিতে নারী-পুরুষের অবাধ ও বেপর্দা মেলামেশা প্রদর্শন, খেলা চলাকালীন বা বিরতির সময় বাদ্যযন্ত্র, কুরুচিপূর্ণ সঙ্গীত এবং বিভিন্ন শরীয়তবিরোধী পণ্যের বিজ্ঞাপনের ব্যাপক প্রচার। এসব বিষয় ইসলামের নৈতিকতা, লজ্জাশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
.
(৩).বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা নাজায়েজ হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, এটি অনেক মানুষের অন্তরে খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা, অন্ধ ভক্তি ও গভীর আসক্তির জন্ম দেয়। একপর্যায়ে এসব খেলোয়াড়ই তাদের কাছে আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়। অথচ একজন মুসলমানের সর্বোচ্চ আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ অমুসলিম কিংবা ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত খেলোয়াড়দের পোশাক-পরিচ্ছদ, চুলের ধরন, অঙ্গভঙ্গি, উদযাপনের পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রাকে গর্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে শুরু করে। এর ফলে তাদের অন্তরে ধীরে ধীরে ইসলামি মূল্যবোধের পরিবর্তে খেলোয়াড় ও তারকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হয়। তদুপরি, তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরঞ্জিত ভালোবাসা ও আবেগ অনেক সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তা ব্যক্তিপূজাসদৃশ মানসিকতার রূপ ধারণ করে এবং ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা’ (মিত্রতা ও বৈরিতার আকিদা)-এর ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের আকিদাগত বিচ্যুতি, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতির আশঙ্কার কারণেই অনেক আলেম বর্তমান বিশ্বকাপ খেলা না-জায়েজ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
.
(৪).এর পাশাপাশি, দ্বীনি কিংবা প্রকৃত দুনিয়াবী কল্যাণহীন দেড়-দুই ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ এসব ম্যাচ মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় করার পাশাপাশি বিশেষত তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের মারাত্মক আসক্তির জন্ম দিচ্ছে। এই আসক্তির প্রভাবে অনেকেই জামায়াতে সালাত আদায়ে অবহেলা করছে, রাত জাগার কারণে ফজরের সালাত ছুটে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে।
.
সুতরাং বাস্তবতা যখন এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তখন একজন মুসলিমের জন্য এসব অনর্থক ও ক্ষতিকর কাজে সময় ও মনোযোগ ব্যয় করা শোভনীয় নয়। বরং ক্ষণিকের বিনোদন ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে আনে—এমন হালাল ও উপকারী কাজে আত্মনিয়োগ করাই একজন প্রজ্ঞাবান মুমিনের পথ। এ বিষয়ে আমাদের সম্মানিত আলেমদের ফাতওয়াগুলো লক্ষ্য করুন।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা দেখার হুকুম কী? জবাবে তারা বলেছেন:
مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام ؛ لكون ذلك قمارا ؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع ، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية ، وعلى هذا فحضور المباريات حرام ، ومشاهدتها كذلك ، لمن علم أنها على عوض ؛ لأن في حضوره لها إقرارا لها .أما إذا كانت المباراة على غير عوض ، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها ، ولم تشتمل على محظور : ككشف العورات ، أو اختلاط النساء بالرجال ، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها”
“যেসব ফুটবল ম্যাচ অর্থ বা অনুরূপ কোনো পুরস্কারের বিনিময়ে অনুষ্ঠিত হয়, তা হারাম; কারণ তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। শরিয়ত যে প্রতিযোগিতাগুলোতে সাবাক্ব’ (السَّبَق) (প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা বিনিময়) গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে, তা হলো ঘোড়দৌড়, উটদৌড়, তীরন্দাজির প্রতিযোগিতা। অতএব এ ধরনের ম্যাচে উপস্থিত হওয়া হারাম। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি জানে যে এগুলো পুরস্কার বা বিনিময়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার জন্য সেগুলো দেখা-ও হারাম। কারণ তার উপস্থিতি এর প্রতি সমর্থন ও অনুমোদন প্রকাশ করার শামিল।তবে যদি প্রতিযোগিতাটি কোনো পুরস্কার বা বিনিময় ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়, এবং তা আল্লাহ কর্তৃক ওয়াজিবকৃত বিষয়—যেমন সালাত বা অন্যান্য দায়িত্ব থেকে বিরত না রাখে, এবং তার সাথে কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ও যুক্ত না হয়; যেমন আওরাহ (লজ্জাস্থান) উন্মুক্ত হওয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অথবা বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদের উপকরণের উপস্থিতি—তাহলে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় কোনো অসুবিধা নেই এবং তা দেখাতেও কোনো অসুবিধা নেই।”—[“ফতোয়াটিতে স্বাক্ষর করেছেন সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বিশিষ্ট আলেমবৃন্দ—সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, ইমাম আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ), পরবর্তী গ্র্যান্ড মুফতি, শাইখ আব্দুল আযীয আলে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি, শাইখ সালিহ বিন ফাওযান আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং শাইখ বকর আবু যায়েদ (রাহিমাহুল্লাহ)।[ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৫; পৃষ্ঠা: ২৩৮; ফতোয়া নং-২০২৪৯]
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “একজন নারীর জন্য বিনোদন বা কোনো দলের সমর্থনের উদ্দেশ্যে খেলার ম্যাচ দেখা কি বৈধ?”
শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তরে বলেন:
“لا يجوز مشاهدة المباريات ، حيث إن اللاعبين رجال متجردون غالبًا عن اللباس الساتر ، وقد يبدو بعض الفخذ ، وقد تتمثل العورة وراء اللباس ، وذلك فتنة للنساء ، ولو كان القصد التسلية ففي الإمكان التسلي بالذكر والقرآن وكتب الحديث والفقه والأحكام”
“ম্যাচ দেখা জায়েজ নয়। কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত এমন পোশাক পরিধান করে থাকে যা শরীর পুরোপুরি আবৃত করে না। অনেক সময় উরুর কিছু অংশ প্রকাশিত হয়ে যায়। আবার কখনো পোশাক পরিহিত থাকা সত্ত্বেও শরীরের গঠন ও অবয়ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এসব বিষয় নারীদের জন্য ফিতনা ও প্রলোভনের কারণ হতে পারে। আর যদি উদ্দেশ্য কেবল বিনোদন হয়ে থাকে, তাহলে যিকির, কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস, ফিকহ ও শরিয়তের বিধিবিধান সম্পর্কিত গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে বৈধভাবে বিনোদন ও সময় কাটানো সম্ভব।”—(শাইখ ইবনু জিবরীনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়া; গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৪৬৮৪৪)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী? তিনি রাহিমাহুল্লাহ উত্তরে বলেন:
الذي أرى أن مشاهدة الألعاب التي تعرض في التلفاز أو في غيره من المشاهدات ، أنها مضيعة للوقت ، وأن الإنسان العاقل الحازم لا يضيع وقته بمثل هذه الأمور التي لا تعود عليه بفائدة إطلاقا .هذا إن سلمت من شر آخر ، فإن اقترن بها شر آخر بحيث يقوم في قلب المتفرج تعظيم اللاعب الكافر مثلا ، فإن هذا حرام بلا شك ، لأنه لا يجوز لنا أن نعظم الكفار أبدا مهما حصل لهم من التقدم فإنه لا يجوز لنا أن نعظمهم ، أو كانت هذه المباراة قد ظهرت فيها أفخاذ شباب يحصل بها فتنة ، فإن الراجح عندي أنه لا يجوز للشباب حين لعبهم بالكرة أن يخرجوا أفخاذهم ؛ لما في ذلك من الفتنة ، حتى على القول بأن الفخذ ليس بعورة ، فلا أرى أن الشاب يخرج فخذه أبدا ، أما إذا قلنا بأن الفخذ عورة كما هو المشهور من مذهب الإمام أحمد ، فالأمر في هذا واضح : أنه لا يجوز على كل حال .فالذي أنصح به إخواننا أن يحرصوا على أوقاتهم فإن الأوقات أغلى من الأموال
“আমার মতে,টেলিভিশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে খেলাধুলা দেখা সময়ের অপচয়। একজন বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চেতা মানুষের উচিত নয় এমন কাজে সময় ব্যয় করা, যা তার কোনো উপকারে আসে না। এটাও তখন, যখন এর সঙ্গে অন্য কোনো অনিষ্ট যুক্ত না থাকে। কিন্তু যদি এর সঙ্গে অন্য কোনো অনিষ্ট যুক্ত হয় যেমন দর্শকের মনে কোনো কাফির খেলোয়াড়ের প্রতি অতিরিক্ত শ্রদ্ধা ও মহত্ত্ববোধ জন্মায় তাহলে তা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ আমরা কোনো অবস্থাতেই কাফিরদের মহিমান্বিত করতে পারি না।এছাড়া যদি খেলায় তরুণদের উরু প্রকাশ পায় এবং তা ফিতনার কারণ হয়, তাহলে আমার মতে তাদের জন্য উরু খোলা রাখা বৈধ নয়। এমনকি যারা বলেন উরু আওরাহ নয়, তাদের মত অনুযায়ীও আমি মনে করি না যে কোনো যুবকের উরু প্রকাশ করা উচিত।সুতরাং আমি আমার মুসলিম ভাইদের উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন নিজেদের সময়ের মূল্য দেয়। কারণ সময় সম্পদের চেয়েও অধিক মূল্যবান।”(http://www.awda-dawa.com/pages.php?ID=3047
গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৪৬৮৪৪)
.
এছাড়াও শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “ছোট প্যান্ট (হাফপ্যান্ট) পরে খেলাধুলা করার এবং যারা এমনটি করে তাদের খেলা দেখার বিধান কী? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
” ممارسة الرياضة جائزة إذا لم تله عن شيء واجب ، فإن ألهت عن شيء واجب فإنها تكون حراماً ، وإن كانت ديدن الإنسان بحيث تكون غالب وقته فإنها مضيعة للوقت ، وأقل أحوالها في هذه الحال الكراهة . أما إذا كان الممارس للرياضة ليس عليه إلا سروال قصير يبدو منه فخذه أو أكثره فإنه لا يجوز ، فإن الصحيح أنه يجب على الشباب ستر أفخاذهم ، وأنه لا يجوز مشاهدة اللاعبين وهم بهذه الحالة من الكشف عن أفخاذهم ” ا
“খেলাধুলা করা জায়েয (বৈধ), যদি তা কোনো ওয়াজিব (আবশ্যিক) দায়িত্ব থেকে বিমুখ বা গাফেল না করে। আর যদি তা কোনো ওয়াজিব কাজ থেকে বিমুখ করে, তবে তা হারাম (নিষিদ্ধ)। আর যদি এটি মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়—যার ফলে তার সময়ের সিংহভাগ এতেই ব্যয় হয়—তবে তা সময়ের অপচয়; আর এই পরিস্থিতিতে এর সর্বনিম্ন বিধান হলো এটি ‘মাকরূহ’ (অপছন্দনীয়)।
পক্ষান্তরে, খেলাধুলাকারী ব্যক্তি যদি এমন ছোট প্যান্ট পরিহিত থাকে যার কারণে তার উরু বা উরুর অধিকাংশ অংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তা জায়েয নয়। কারণ সঠিক মতানুযায়ী, যুবকদের জন্য তাদের উরু ঢেকে রাখা ওয়াজিব (আবশ্যিক)। আর খেলোয়াড়রা উরু উন্মুক্ত রাখা অবস্থায় তাদের খেলা দেখাও জায়েয নয়।”(সমাপ্ত—উদ্ধৃত: ‘ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ’, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৩১)
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক,আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল;প্রশ্ন: অমুসলিম বা কাফের দেশগুলোর ফুটবল ম্যাচ দেখার বিধান (হুকুম) কী?
জবাবে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
نظّمة؛ كمباراة كأس العالم، أو كأس كذا، أو المبارايات التي تُقام بين البلدان والدول، كلّ هذه من الباطل، مشتمل على أنواع من الباطل، والله تعالى يقول في عباد الرحمن: وَٱلَّذِينَ لَا يَشهَدُونَ ٱلزُّورَ [الفرقان:72] هذا زور، نفْس اللعب، فاللعب اسمه “لعب”، اللعب للصبيان، هذا الأصل في لعب الكرة أنّها مِن أعمال الصبيان، ولكن تطوّرت حتى صارت علمًا وصارت عملًا معظّمًا !يكفي العاقل ما يجري من الغوغاء واللغو والصّياح والصّفير والتّصفيق والأعمال الجنونيّة عند الهزيمة أو النّصر، أيُّ نصر وأي هزيمة ! ولاسيما بالنسبة لعمل المسلمين مهزلة، كيف يمارسون هذه الأعمال ويفرحون بالنّصر في اللعب وتنكسر نفوسهم! أضف إلى هذا ما يُنفق عليها من الأموال الهائلة، هؤلاء اللاعبون من الكفار أو من المسلمين يتقاضون الأموال الطائلة، هذا عمل مناقض لموجب العقل والشرع، كيف تشاهدها أنت يا إنسان، يا رجل عاقل، ألّا تشمئز نفسكّ من مشاهدة هذا اللغو، سبحان الله، عجب!
“আমার মতে এটি জায়েয নয়। এই পরিচিত ও সংগঠিত খেলাগুলো দেখা জায়েয নয় যেমন বিশ্বকাপের খেলা, অমুক কাপের খেলা, কিংবা দেশ ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচসমূহ। এগুলো সবই বাতিল কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং বিভিন্ন ধরনের অসত্য ও অনর্থে পরিপূর্ণ।আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের গুণ বর্ণনা করে বলেছেন:”আর তারা মিথ্যা ও অসার কাজে উপস্থিত থাকে না।”(সূরা ফুরকান ৭২) এটাও (খেলাধুলাও) এক ধরনের অসত্য ও অনর্থক। কারণ এটি মূলত খেলা, আর খেলা তো শিশুদের কাজ। বল খেলা মূলত শিশুদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একে এক ধরনের বিদ্যা ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, একজন বিবেকবান মানুষের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে এসব খেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের হইচই, অর্থহীন কথাবার্তা, চিৎকার-চেঁচামেচি, বাঁশি বাজানো, হাততালি দেওয়া এবং জয়-পরাজয়ের সময় উন্মত্ত আচরণগুলো দেখে। এটা কেমন বিজয়? আর কেমন পরাজয়? বিশেষ করে মুসলমানদের অবস্থা তো এক ধরনের প্রহসন। তারা এসব কাজে মেতে ওঠে, খেলায় জিতলে আনন্দে আত্মহারা হয়, আর হারলে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে, এর সঙ্গে আরও যোগ করুন যে, এসবের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব খেলোয়াড় তারা কাফির হোক বা মুসলিম অত্যন্ত বিপুল অর্থ গ্রহণ করে। এটি এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক ও শরীয়তের দাবির পরিপন্থী। হে মানুষ হে বিবেকবান ব্যক্তি তুমি কীভাবে এসব খেলা দেখো? এসব অর্থহীন কর্মকাণ্ড দেখতে কি তোমার অন্তর বিরক্ত হয় না? সুবহানাল্লাহ সত্যিই বিস্ময়কর।”(https://shalbarrak.com/fatwas/3051)
(https://sh-albarrak.com/fatwas/13810)
.
সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি,যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: টিভিতে ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী? উত্তরে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন: «
يعني عندك فراغ! ما لك شغل إلا متابعة القدم ومدري وايش! المسلم وقته ثمين ما ينبغي أن يضيعه في المباريات والمسلسلات والأشياء الهابطة التي لا تفيده في دينه ولا في دنياه. يحفظ وقته فيما ينفعه وما يفيده. كونك تنام أحسن من كونك تشاهد المبارايات. تنام، ترتاح، تقوم تصلي آخر الليل، أحسن لك من أنك تشاهد شيىء ما فيه فائدة، ويؤخر عليك النوم، ويكسلك عن صلاة الفجر، نعم»
“এর মানে হচ্ছে আপনার হাতে (অতিরিক্ত) অবসর সময় আছে! ফুটবল খেলা বা এই জাতীয় জিনিসপত্র নিয়ে পড়ে থাকা ছাড়া যেন আপনার আর কোনো কাজই নেই! একজন মুসলমানের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। ফুটবল খেলা, নাটক-সিরিয়াল বা এই ধরনের অহেতুক বিষয়ে সময় নষ্ট করা তার মোটেও সমচীন নয়, যা তার দ্বীন (ধর্ম) কিংবা দুনিয়া—কোনোটারই উপকারে আসে না।বরং তার উচিত নিজের সময়কে এমন কাজে নিয়োজিত রাখা যা তার জন্য কল্যাণকর এবং উপকারী।আপনার জন্য খেলা দেখার চেয়ে ঘুমিয়ে থাকাটাও অনেক ভালো। আপনি ঘুমাবেন, বিশ্রাম নেবেন, তারপর রাতের শেষভাগে (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায়ের জন্য উঠবেন—এটি আপনার জন্য এমন কিছু দেখার চেয়ে অনেক উত্তম যাতে কোনো কল্যাণ নেই, যা আপনার ঘুমাতে দেরি করিয়ে দেয় এবং ফজরের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে আপনাকে অলস করে তোলে।”(শাইখের অডিও ফতোয়া থেকে অনূদিত)
.
অপর এক ফাতওয়ায় শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:প্রশ্ন: আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন, হে সম্মানিত শাইখ! এক প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—যেসব মানুষ কাফির রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন ক্রীড়া দলকে সমর্থন করে, তাদের ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তারা ঐ দলগুলোর পরাজয়ে গভীরভাবে মর্মাহত হয় এবং বিজয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। শুধু তাই নয়, তাদের কেউ কেউ ঐসব কাফির দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে নিজেদের মুসলিম ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে, এমনকি শত্রুতায়ও জড়িয়ে পড়ে।আর যখন তাদেরকে নসীহত করা হয়, তখন তারা বলে, “আমরা তো কেবল খেলাকে এবং খেলোয়াড়দেরই সমর্থন করি।”এমন লোকদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কী?
.
উত্তরে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন;
«واللعب واللاعبين ايش الفائدة منه؟ هذا كله من العبث! أنك تشجع العبث وتشجع الهزل.ما يليق بالمؤمن أنه يشجع الهزل والعبث من المسلم فكيف بالكافر. هذا ترهات لا تجوز. نعم».
”খেলাধুলা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কী ফায়দা (উপকার) আছে? এর পুরোটাই তো অনর্থক কাজের অন্তর্ভুক্ত!(খেলোয়াড়দের সমর্থন করা মানে) আপনি অনর্থক কাজকে সমর্থন করছেন এবং তামাশাকে উৎসাহিত করছেন। মুমিনের জন্য সংগত নয় যে সে কোনো মুসলমানের তামাশা ও অনর্থক কাজকে সমর্থন করবে, তাহলে কাফিরের ব্যাপারটা কেমন করে (বৈধ) হতে পারে? এগুলো অসার বিষয়, যা জায়েয নয়। হ্যাঁ।”(শাইখের অডিও ফতোয়া থেকে অনূদিত)
.
পরিশেষে বলা যায়, টেলিভিশনে বা সরাসরি মাঠে গিয়ে ফিফা বিশ্বকাপসহ যেকোনো ফুটবল ম্যাচ দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে পরিহারযোগ্য। কারণ, আধুনিক যুগের এসব জমকালো ফুটবল আয়োজন কেবল সাধারণ বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর সাথে বিলিয়ন ডলারের জুয়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থ, খেলোয়াড়দের সতর (নাভি থেকে হাঁটু) উন্মুক্ত থাকা, বাদ্যযন্ত্র ও বেপর্দা পরিবেশের মতো একাধিক শরীয়তবিরোধী উপাদান জড়িত। এছাড়া এটি মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় করে এবং ফরজ সালাত ও দ্বীনি দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতা ও আসক্তি তৈরি করে। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন ও শাইখ ইবনে জিবরীনের মতো শীর্ষস্থানীয় ফক্বীহ ও উলামাগণের ফতোয়া অনুযায়ী—যে খেলায় শরীয়ত নিষিদ্ধ বিষয় ও ফিতনার উপাদান বিদ্যমান থাকে, তা দেখা ও তাতে উপস্থিত হওয়া গুনাহের কাজ। সুতরাং, একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব অনর্থক ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকা এবং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণকর কাজে নিজের সময়কে নিয়োজিত করা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়ল: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।
নির্জনতা ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত
প্রশ্ন: নির্জনতা (খালওয়াহ) ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া, নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সমস্যা শোনা, তাকে দেখা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত?
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর প্রথমেই প্রশ্নকারী ডাক্তার ভাইকে ধন্যবাদ জানাই—বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলার শরয়ি বিধান জানার আগ্রহ প্রকাশ করার জন্য। আল্লাহ আমাদের সকলকে কথা ও কাজে সঠিক পথ ও তাওফিক দান করুন। ইসলাম মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজনসমূহের অন্যতম হিসেবে চিকিৎসার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা অপরিহার্যও হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও শরীয়ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে; যেমন—খালওয়াহ (নারী-পুরুষের নির্জন অবস্থান) পরিহার করা, দৃষ্টি ও স্পর্শকে প্রয়োজনের সীমায় আবদ্ধ রাখা এবং ফিতনার সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন,”কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্র হলে শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়।” অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে না থাকে, তবে তার সাথে মাহরাম থাকতে হবে।” (সহীহ মুসলিম, হা/২৫১৩)। আরও এসেছে,“আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে যাইনি।” (সহীহ বুখারী হা/৪৮০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৬৮৮১)।আমাদের সালাফগনও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সম্ভাব্য ফিতনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই মূলনীতি হলো—নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তার এবং পুরুষদের চিকিৎসা পুরুষ ডাক্তার কর্তৃক সম্পন্ন হওয়া। তবে জরুরি প্রয়োজন,অক্ষমতা বা বিকল্পের অভাবে ভিন্ন লিঙ্গের ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া কখন অনুমোদিত সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য নিচে পুরো মাসআলাটি নিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা করা হলো:
.
প্রথমত: মূলনীতি হলো কোনো পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা জায়েজ নয়। কারণ চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং কখনো কখনো সংবেদনশীল বিষয় অবলোকন এবং রোগীকে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে।তাই নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তারাই করবেন।তবে যদি কোনো মুসলিম বা অমুসলিম নারী চিকিৎসক পাওয়া না যায়, কিংবা জরুরি ও বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন: পুরুষ চিকিৎসক অধিক অভিজ্ঞ বা দক্ষ হলে) পুরুষ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে—তবে শরীয়তের শর্ত ও সীমারেখা মেনে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুর জন্য পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ নেই।কারন আলেমগণের নিকট স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে- ইসলামী শরিয়ত কল্যাণ সাধন কিংবা কল্যাণকে পরিপূর্ণতা দিতে এসেছে এবং অকল্যাণকে প্রতিহত করা কিংবা হ্রাস করার জন্য এসেছে। তাই বড় অকল্যাণকে দূর করার জন্য ছোট অকল্যাণে লিপ্ত হওয়া জায়েয।যেসব পেশায় চাকুরী করা নিষিদ্ধ কোন কোন আলেম সাধ্যানুযায়ী মন্দকে হ্রাস করার জন্য সেসব পেশায় চাকুরী করা জায়েয ফতোয়া দিয়ে থাকেন।যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:فيمن يتولى الولايات ، ويُلزم بأخذ المكوس المحرمة من الناس ، لكنه يجتهد في العدل ورفع الظلم بحسب إمكانه ، ويخفف من المكوس ما استطاع ، ولو ترك الولاية لحل محله من يزيد معه الظلم ، فأفتى رحمه الله بأنه يجوز له البقاء في ولايته ، بل بقاؤه على ذلك أفضل من تركه ، إذا لم يشتغل بما هو أفضل منه ،”যে ব্যক্তিকে সরকারী কোন পদে নিয়োগ দিয়ে জনগণ থেকে মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায়ে তাকে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সে ব্যক্তি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলমকে প্রতিহত করার ও যতদূর সম্ভব মুকুস (হারাম ট্যাক্স) কমানোর সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে। যদি তিনি এ পদ ছেড়ে দেন তাহলে এমন ব্যক্তি পদটি দখল করবে যে মানুষের উপর আরও বেশি যুলুম করবে। সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনি ফতোয়া দেন যে, এমন ব্যক্তির জন্য এ পদে বহাল থাকা জায়েয। বরঞ্চ তার চেয়ে উত্তম কোন ব্যক্তি যদি পদটি গ্রহণ না করে তাহলে তার জন্য এ পদে বহাল থাকা পদ ছেড়ে দেয়ার চেয়ে উত্তম। তিনি বলেন:وقد يكون ذلك واجبا عليه إذا لم يقم به غيره قادرا عليه . فنشر العدل بحسب الإمكان ، ورفع الظلم بحسب الإمكان فرض على الكفاية ، يقوم كل إنسان بما يقدر عليه من ذلك إذا لم يقم غيره في ذلك مقامه …“কখনো কখনো এ পদে বহাল থাকা তার উপর ফরজও হতে পারে; যদি অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম না হয়। কারণ সাধ্যানুযায়ী ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলুমকে প্রতিহত করা ফরজে কিফায়া। প্রত্যেক ব্যক্তি তার সক্ষমতা অনুযায়ী এ ফরজিয়ত আদায়ের চেষ্টা করবে; যদি তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ সে দায়িত্ব পালন না করে।”(ইবনু তাইমিয়া; মাজমুউল ফাতাওয়া; খণ্ড: ৩০; পৃষ্ঠা: ৩৫৬-৩৬০; থেকে সংকলিত] জ্ঞাতব্য হচ্ছে- মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায় করা মারাত্মক হারাম। এটি কবিরা গুনাহ। কিন্তু একজন নেককার মুসলিমের এ পদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যে যেহেতু সাধ্যমত অকল্যাণকে হ্রাস করা ও সীমিত করার সুযোগ রয়েছে তাই তার জন্য এটি জায়েয হবে।
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখুল ইসলাম (রহঃ) এর একটি বাণীর উপর সংযোজন করতে গিয়ে বলেন: “والمصالح العامة يجب مراعاتها ، لو مثلا تركنا مسألة الطب ، وصار أهل الخير لا يتعلمون الطب ، قال : كيف أتعلم الطب وإلى جانبنا نساء ممرضات ومتعلمات ومطبقات لمعلومات؟ نقول : هل أنت إذا امتنعت عن هذا هل سيبقى الجو فارغا ؟ سيأتي أناس خبثاء يفسدون في الأرض بعد إصلاحها ، وأنت ربما إذا اجتمعت أنت والثاني والثالث والرابع ، ربما في يوم من الأيام يهدي الله ولاة الأمور ويجعلون النساء على حدة والرجال على حدة“সাধারণ কল্যাণকে রক্ষা করতে হবে। উদাহরণত: আমরা যদি ডাক্তারিবিদ্যা ছেড়ে দিতে বলি এবং ভাল লোকেরা ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন না করে; বলে যে, আমরা কিভাবে চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন করব; আমাদের পাশে থাকে মহিলা নার্স, শিক্ষার্থী, ইন্টার্নী ডাক্তার? আমরা বলব: আপনি যদি এ ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন করা থেকে বিরত থাকেন তাহলে এ বিদ্যার ময়দান কি খালি থাকবে? অচিরেই খারাপ লোকগুলো এ ময়দান দখল করে নিবে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিবে। বরং আপনারা একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন যদি একত্রিত হন আশা করি এমন একদিন আসবে যেদিন আল্লাহ তাআলা রাষ্ট্রপ্রধানকে হেদায়েত দিবেন এবং তিনি মহিলাদের জন্য আলাদা ও পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন।”(শারহ কিতাবুস-সিয়াসা আল-শারইয়্যা, পৃষ্ঠা-১৪৯)
.
সুতরাং যেহেতু বাংলাদেশের হাসপাতালসমূহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মিশ্রিত চিকিৎসা-পরিবেশ বিরাজমান এবং পৃথক চিকিৎসা-ব্যবস্থা খুবই সীমিত; তাই এ বাস্তবতায় পুরুষ চিকিৎসকের জন্য শরীয়তসম্মত নীতিমালা, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও বৈধতার শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক।যেন চিকিৎসার প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীয়তের বিধিবিধানও সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না হয়। অতএব, প্রয়োজন বা জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধের অধীনে পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা বৈধ হতে পারে।
যেমন—
.
(১).নারী রোগীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করা: নারী রোগী দেখার ক্ষেত্রে পুরুষ ডাক্তারের জন্য নির্জনে অবস্থান করা বৈধ নয়। তাই রোগীর সাথে তাঁর কোনো মাহরাম—যেমন: স্বামী, বাবা বা ভাই—উপস্থিত থাকতে হবে। আর যদি মাহরাম উপস্থিত না থাকেন, তবে এমন কোনো বিশ্বস্ত নারী উপস্থিত থাকলেও যথেষ্ট, যার উপস্থিতিতে শালীনতা ও পর্দার পরিবেশ বজায় থাকে; যেমন রোগীর মা বা অন্য কোনো নারী সহকারী। কারণ এতে খলওয়াহ (নির্জন অবস্থান) দূর হয়ে যায়।
.
(২).পুরুষ ডাক্তারের সামনে নারী রোগীর পূর্ণাঙ্গ পর্দা বজায় রাখা:অর্থাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলেও নন-মাহরাম নারী ও পুরুষের মাঝে শরীয়ত নির্ধারিত পর্দার বিধান যথাসম্ভব বজায় রাখা আবশ্যক। নারী রোগীর জন্য পুরুষ ডাক্তারের সামনে শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও পরিপূর্ণ পর্দার নীতিমালা অনুসরণ করা ফরজ। চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনের কারণে যতটুকু ছাড় অনুমোদিত, তা কেবল প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; এর বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর প্রকাশ, সৌন্দর্য প্রদর্শন বা পর্দার বিধান শিথিল করা বৈধ নয়। সুতরাং চিকিৎসার সময়ও নারী ও পুরুষ উভয়ের কর্তব্য হলো—আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মাত্রায় পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা।
.
(৩).রোগীর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশই দেখা:পুরুষ ডাক্তারের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজনে যতটুকু দেখা অপরিহার্য, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে; এর অতিরিক্ত কোনো অংশের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের উচিত আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা, সর্বদা এ বিশ্বাস হৃদয়ে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং তাঁর সকল কর্মের হিসাব সংরক্ষণ করছেন।
.
(৪).রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনেই ডাক্তার রোগীর শরীরের যে অংশ পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কেবল সেই পরিমাণই স্পর্শ করা বৈধ; এর বাইরে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। আর যদি সরাসরি স্পর্শ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়—যেমন কোনো মহিলা রোগীকে অন্য কোনো মহিলার সহায়তায় পরীক্ষা করা, অথবা পুরুষ ডাক্তার দস্তানা (গ্লাভস), কাপড় কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত আবরণ ব্যবহার করে পরীক্ষা করতে পারেন—তাহলে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা আবশ্যক। কেননা, এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রয়োজনকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা এবং যথাসম্ভব সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে চলা।
.
(৫).নারী রোগীর সাথে কথাবার্তা কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা:অর্থাৎ,পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সাথে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও কথাবার্তা শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য জানার পরিমাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে। চিকিৎসাগত প্রয়োজন ব্যতীত অপ্রয়োজনীয়, দীর্ঘ, ব্যক্তিগত, হাসি-তামাশাপূর্ণ বা অতিরিক্ত আলাপচারিতা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। শরয়ি শালীনতা, পেশাগত সৌজন্য ও প্রয়োজনের নীতিমালা বজায় রেখেই যোগাযোগ করতে হবে। অতএব কোনো ডাক্তার যদি এই বিষয়গুলো মেনে চলেন, তবে প্রয়োজনবশত তাঁর জন্য নারী রোগীদের চিকিৎসা করায় কোনো অসুবিধা নেই।
.
এ বিষয়ে ‘ইসলামী ফিকাহ একাডেমি’ থেকে একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে:” الأصل أنه إذا توافرت طبيبة متخصصة يجب أن تقوم بالكشف على المريضة ، وإذا لم يتوافر ذلك فتقوم بذلك طبيبة غير مسلمة ثقة ، فإن لم يتوافر ذلك يقوم به طبيب مسلم ، وإن لم يتوافر طبيب مسلم يمكن أن يقوم مقامه طبيب غير مسلم ، على أن يطّلع من جسم المرأة على قدر الحاجة في تشخيص المرض ومداواته وألا يزيد عن ذلك وأن يغض الطرف قدر استطاعته ، وأن تتم معالجة الطبيب للمرأة هذه بحضور محرم أو زوج أو امرأة ثقة خشية الخلوة. “শরিয়তের মূল বিধান হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় তাহলে বিশ্বস্ত অমুসলিম মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি অমুসলিম মহিলা ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে মুসলিম পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে অমুসলিম পুরুষ ডাক্তার সে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে শর্ত হল, পুরুষ ডাক্তার রোগিনীর শরীরের ততটুকু দেখবেন যতটুকু দেখা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার স্বার্থে প্রয়োজন; এর বেশি দেখবে না এবং সাধ্যমত দৃষ্টি অবনত রাখবে। পুরুষ ডাক্তারকে রোগিনীর চিকিৎসা করতে হবে রোগিনীর মোহরেম কিংবা স্বামী কিংবা কোন বিশ্বস্ত নারীর উপস্থিতিতে; যাতে করে নিষিদ্ধ নির্জনবাস না ঘটে।”(একাডেমীর জার্নাল থেকে সংকলিত (৮/১/৪৯)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন:الواجب أن تكون الطبيبات مختصات للنساء ، والأطباء مختصين للرجال إلا عند الضرورة القصوى إذا وجد مرض في الرجال ليس له طبيب رجل ، فهذا لا بأس به ، والله يقول : ( وقد فصل لكم ما حرم عليكم إلا ما اضطررتم إليه ) الأنعام / 119“আবশ্যক (ওয়াজিব) হলো—নারী চিকিৎসকরা নারীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন এবং পুরুষ চিকিৎসকরা পুরুষদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন। তবে চরম অপরিহার্যতার পরিস্থিতি হলে ভিন্ন কথা; যেমন, পুরুষদের মধ্যে এমন কোনো রোগ দেখা দিল, যার জন্য কোনো পুরুষ চিকিৎসক পাওয়া যায় না—তাহলে সে ক্ষেত্রে (নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণে) কোনো অসুবিধা বা গুনাহ নেই। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:”তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন, কোন কোন বিষয় তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে; তবে সেই অবস্থা ব্যতীত, যখন তোমরা বাধ্য বা নিরুপায় হয়ে পড়ো।”(সূরা আল-আন‘আম: ১১৯; ফাতাওয়া আজিলা লি-মানসুবিস সিহহাহ; পৃষ্ঠা: ২৯)।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, “আমরা একদল ডাক্তার রিয়াদে চাকুরী করি। আমাদের ডিউটিকালে পুরুষ ও মহিলা রোগী আসে। কখনো কখনো কোন মহিলা রোগী মাথা ব্যথা বা পেটে ব্যথার কথা বলেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসার দাবী হচ্ছে- রোগিনীকে পরীক্ষা করে দেখা। পরীক্ষার মাধ্যমে মাথা ব্যথার কারণ নির্ণয় করা। রোগের কারণ নির্ণয় করতে গেলে রোগীর পেট কিংবা মাথা কিংবা অন্য কোন অঙ্গ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়; যাতে করে ডাক্তারের উপর কোন দায় না আসে। আর যদি রোগিনীকে পরীক্ষা করা না হয় হতে পারে এতে করে রোগিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পরীক্ষা না করারও সুযোগ আছে। তবে যথাযথ কনসালটেন্সির করতে গেলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন…। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেন:”الواجب على إدارة المستشفى أن تلاحظ هذا وأن تجعل المناوبة بين الرجال والنساء حتى إذا احتاج النساء المرضى أن يُعالجن أو يفحصن أُرسل إليهن النساء ، فإذا لم تقم الإدارة بهذا الواجب عليها ولم تبال فأنتم لا حرج أن تفحصوا النساء ، لكن بشرط ألا يكون هناك خلوة أو شهوة ، وأيضا يكون هناك حاجة إلى الفحص ، فإن لم يكن حاجة وأمكن تأخير الفحص الدقيق إلى وقت تحضر فيه النساء فأخروه ، وإذا كان لا يمكن فهذه حاجة ولا بأس بها”হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হচ্ছে- পুরুষ ডাক্তার ও মহিলা ডাক্তারের মাঝে এমনভাবে ডিউটি ভাগ করে দেয়া যাতে করে মহিলা রোগী আসলে তাদের চেক-আপ করা ও পরীক্ষা করার জন্য মহিলা ডাক্তারের কাছে পাঠানো যায়। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ কর্তব্য পালন না করে, এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ না করে তাহলে মহিলাদের চিকিৎসা করায় আপনারা গুনাহগার হবেন না। তবে শর্ত হচ্ছে- চিকিৎসাকালে কোন মহিলা রোগীর সাথে নির্জনবাস না ঘটা এবং যৌন উত্তেজনা না আসা এবং প্রকৃতপক্ষে রোগীকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন থাকা। যদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন না থাকে, কিংবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা পরবর্তীতে মহিলা ডাক্তার আসার পর করলেও চলে তাহলে সে পরীক্ষা পরবর্তীতেই করতে হবে। আর যদি দেরী করার সুযোগ না থাকে; তাহলে এটি প্রয়োজন। এমতাবস্থায় পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চিকিৎসা করলে গুনাহ হবে না।”(ইবনু উসাইমীন; লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ (১/২০৬)
.
আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও মুসলমানদের পরিবেশ-পরিস্থিতি শোধরে দেন। আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী ও দোয়াতে সাড়াদানকারী। আল্লাহই ভাল জানেন।
▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী
প্রশ্ন: নারীদের জন্য টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ?
উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার মধ্যে শরিয়তের দৃষ্টিতে বেশ কিছু আপত্তিকর বিষয় রয়েছে।
– প্রথমত: প্রায় সব খেলাতেই কোনো না কোনোভাবে হারাম বাজি বা জুয়ার সম্পর্ক থাকে।
– দ্বিতীয়ত: এসব খেলায় সতর ঢাকা থাকে না।
আরো থাকে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং গান বাজনা বা মিউজিকের উপস্থিতি। এর বাইরেও এসব খেলা দেখে অনর্থক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত, তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য উপকারী বিষয়ে সময় দেওয়া। তাই কোনো মুসলিম পুরুষ বা নারীর জন্য এই ধরনের খেলায় মগ্ন হওয়া ঠিক নয়। বরং দুনিয়া ও আখেরাতে উপকার দেবে এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।
“مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام؛ لكون ذلك قمارًا؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية، وعلى هذا فحضور المباريات حرام، ومشاهدتها كذلك، لمن علم أنها على عوض؛ لأن في حضوره لها إقرارًا لها. أما إذا كانت المباراة على غير عوض، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها، ولم تشتمل على محظور: ككشف العورات، أو اختلاط النساء بالرجال، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها”
“যেসব ফুটবল খেলায় টাকা-পয়সা বা পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকে সেগুলো হারাম। কারণ তা জুয়ার মধ্যে পড়ে। শরিয়তে শুধু ঘোড়দৌড়, উটের দৌড় এবং তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার নেওয়ার অনুমতি আছে। তাই যে খেলায় পুরস্কারের লেনদেন থাকে, তা জানা থাকলে সেখানে উপস্থিত হওয়া বা খেলা দেখা — দুই-ই হারাম। কারণ সেখানে যাওয়া মানেই হলো বিষয়টিকে সমর্থন করা। তবে খেলায় যদি কোনো পুরস্কারের শর্ত না থাকে, নামাজসহ আল্লাহর ফরজ করা কাজগুলো থেকে দূরে না রাখে, এবং সতর খুলে ফেলা, নারী-পুরুষের মেলামেশা বা গান-বাজনার মতো কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে তাহলে খেলা দেখা বা অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
[ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দায়িমাহ, ১৫/২৩৮]
“لا يجوز مشاهدة المباريات، حيث إن اللاعبين رجال متجردون غالبًا عن اللباس الساتر، وقد يبدو بعض الفخذ، وقد تتمثل العورة وراء اللباس، وذلك فتنة للنساء، ولو كان القصد التسلية ففي الإمكان التسلي بالذكر والقرآن وكتب الحديث والفقه والأحكام”
“এসব খেলা দেখা জায়েজ নয়। কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরে না। অনেক সময় তাদের উরু দেখা যায়। আবার টাইট কাপড়ের কারণেও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি নারীদের মনকে নষ্ট করার বা ফিতনার কারণ হতে পারে। আর মন ভালো করার বা বিনোদনের যদি দরকার হয় তবে জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের বিধিবিধানের বইপত্র পড়েও আনন্দ পাওয়া সম্ভব।”
[শাইখ ইবনে জিবরিনের ওয়েবসাইট]
“الذي أرى أن مشاهدة الألعاب التي تعرض في التلفاز أو في غيره من المشاهدات أنها مضيعة للوقت, وأن الإنسان العاقل الحازم لا يضيع وقته بمثل هذه الأمور التي لا تعود عليه بفائدة إطلاقًا. هذا إن سلمت من شر آخر, فإن اقترن بها شر آخر بحيث يقوم في قلب المتفرج تعظيم اللاعب الكافر مثلًا, فإن هذا حرام بلا شك, لأنه لا يجوز لنا أن نعظم الكفار أبدًا مهما حصل لهم من التقدم. أو كانت هذه المباراة قد ظهرت فيها أفخاذ شباب يحصل بها فتنة, فإن الراجح عندي أنه لا يجوز للشباب حين لعبهم بالكرة أن يخرجوا أفخاذهم; لما في ذلك من الفتنة, حتى على القول بأن الفخذ ليس بعورة. فلا أرى أن الشاب يخرج فخذه أبدًا. أما إذا قلنا بأن الفخذ عورة كما هو المشهور من مذهب الإمام أحمد, فالأمر في هذا واضح: أنه لا يجوز على كل حال. فالذي أنصح به إخواننا أن يحرصوا على أوقاتهم فإن الأوقات أغلى من الأموال”
“আমার মতে, টেলিভিশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে এই ধরনের খেলাধুলা দেখা স্রেফ সময়ের অপচয়। একজন বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষ এমন কাজে সময় নষ্ট করতে পারে না যা তার কোনো কাজে আসে না। এটা তো ওই সময়ের কথা যখন খেলায় অন্য কোনো মন্দ দিক না থাকে। কিন্তু যদি এর সাথে আরও খারাপ কিছু যোগ হয়—যেমন: দর্শকের মনে কোনো অমুসলিম খেলোয়াড়ের প্রতি ভক্তি বা সম্মান তৈরি হওয়া—তবে তা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ অমুসলিমরা দুনিয়ার কাজে যতই এগিয়ে যাক না কেন তাদের মনে স্থান দেওয়া আমাদের জন্য জায়েজ নেই। অথবা খেলায় যদি যুবকদের উরু দেখা যায় যা মানুষের মনে খারাপ চিন্তা তৈরি করে তবে আমার মতে—খেলার সময় যুবকদের উরু বের করে রাখা জায়েজ নয়। এমনকি উরুকে যারা সতর মনে করেন না, তাদের মত অনুযায়ীও যুবকদের উরু উন্মুক্ত করা ঠিক নয়। আর ইমাম আহমদের মাজহাবের বিখ্যাত মত অনুযায়ী উরু যদি সতর হয় তাহলে তো বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার যে,কোনোভাবেই এটি দেখা জায়েজ নয়। তাই আমি আমার ভাইদের বলব, সময়ের যত্ন নিন। কারণ সময় টাকা-পয়সার চেয়েও অনেক বেশি দামি।” [আল মিশকাত ফোরাম]
وَاللَّهُ أَعْلَمُ
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৩১ হি. / ০৩ এপ্রিল ২০১০ খ্রি.
প্রশ্ন নং: ১৪৬৮৪৪
সূত্র: Islamqa info
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের ইসলামি বিধান
সোশ্যাল মিডিয়া ও দৈনন্দিন জীবনে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন (
) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই চিহ্নের উৎস ও ব্যবহারের শরিয়তগত বিধান সম্পর্কে বিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতওয়া ও মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে, আমরা—বিশেষ করে মেয়েরা—যে হৃদয় আকৃতির চিহ্নটি (
) প্রচুর ব্যবহার করি। সেটি নাকি গ্রিকদের কোনো এক দেবতাকে নির্দেশ করে, যাকে তারা ‘ভালোবাসার দেবতা’ বলে থাকে। এখন সাজসজ্জা, অলংকার, ব্যাগ বা ঝুলন্ত কোনো শৌখিন বস্তুতে এই আকৃতিটি ব্যবহার করার বিধান কী?
উত্তর:
«لَا يَظْهَرُ لَنَا حَرَجٌ فِي اسْتِعْمَالِ الْأَشْكَالِ التَّعْبِيرِيَّةِ عُمُومًا، كَرَمْزِ “قَلْبِ الْحُبِّ” وَنَحْوِهِ مِنَ الْأَشْكَالِ الَّتِي تَرْمُزُ لِمَعَانٍ حَسَنَةٍ أَوْ لَا مَحْذُورَ فِيهَا، وَلَيْسَ فِي النُّصُوصِ الشَّرْعِيَّةِ مَا يَمْنَعُ مِنْ ذَلِكَ. وَالْكَلَامُ الْمَذْكُورُ عَنْ أَصْلِ هَذَا الشَّكْلِ لَا نَعْلَمُ لَهُ أَسَاسًا مِنَ الصِّحَّةِ، بَلِ الظَّاهِرُ أَنَّ هَذَا الشَّكْلَ مَأْخُوذٌ مِنْ شَكْلِ الْقَلْبِ الْحَقِيقِيِّ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.»
“আমাদের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে যেকোনো অভিব্যক্তিমূলক চিহ্ন যেমন: ‘ভালোবাসার হার্ট’ বা এ জাতীয় চিহ্ন, যা ভালো অর্থ প্রকাশ করে এবং যাতে শরিয়তবিরোধী কিছু নেই—তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। শরিয়তের কোনো দলিলে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণও নেই। এর উৎস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার কোনো সঠিক ভিত্তি আমাদের জানা নেই। বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, এটি মানুষের বাস্তব হৃদপিণ্ডের আকৃতি থেকেই নেওয়া হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।” [প্রশ্ন নম্বর: ১৫৪১৯১, তারিখ: ০৮ রবিউস সানি ১৪৩২ হি. / ১৩ মার্চ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ]
প্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির ইমোজি ব্যবহার করা কি হারাম? এ বিষয়ে কি কোনো ফতওয়া আছে? এটি কি খ্রিষ্টানদের কোনো নিষিদ্ধ প্রথা?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের উপর। অতঃপর-
فَتُوجَدُ فَتْوَى لِأَهْلِ الْعِلْمِ ظَاهِرُهَا أَنَّهَا تُحَرِّمُ اسْتِعْمَالَ هَذَا الرَّمْزِ، كَمَا أَنَّ هُنَاكَ فَتْوَى أُخْرَى مُغَايِرَةً لَهَا تَرَى جَوَازَ اسْتِعْمَالِهِ، وَالَّذِي يَظْهَرُ لَنَا الْجَوَازُ، إِلَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِي مَقْصَدٍ مُحَرَّمٍ شَأْنُهُ شَأْنُ كُلِّ الْوَسَائِلِ الْمُبَاحَةِ تُتَّخَذُ وَسِيلَةً إِلَى الْحَرَامِ، وَلَمْ نَقِفْ عَلَى كَلَامِ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَكَرَ أَنَّ رَمْزَ الْقَلْبِ الْمَوْجُودَ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْبَرَامِجِ أَنَّهُ عَادَةٌ نَصْرَانِيَّةٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
“আলেমদের একাংশের ফতওয়ার বাহ্যিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তারা এই প্রতীকটি ব্যবহার করা হারাম মনে করেন। আবার অন্য আলেমদের ফতওয়া রয়েছে যারা এটি ব্যবহার জায়েজ মনে করেন। আমাদের কাছেও এটি বৈধ বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে যদি কোনো হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা নিষিদ্ধ হবে। কারণ যেকোনো বৈধ মাধ্যম হারামের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে হারাম হয়ে যায়। এই হৃদয় আকৃতির প্রতীকটি খ্রিষ্টানদের কোনো বিশেষ ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো বক্তব্য আমরা কোনো আলেমের কাছ থেকে পাইনি। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।”
(ফতোয়া নম্বর: ২৮৪৬৬৩, তারিখ: ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৬ হি. / ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং)
প্রশ্ন: ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে হার্ট বা হৃদয়ের চিহ্ন ব্যবহার করার বিধান কী?
هَذِهِ الْعَلَامَةُ الَّتِي يَضَعُونَهَا -أَيِ الْقَلْبُ- لِأَنَّ الْمَحَبَّةَ مَحَلُّهَا الْقَلْبُ؛ مِنْ حَيْثُ الْأَصْلِ إِنْ كَانَتْ تُسْتَعْمَلُ فِيمَا يَجُوزُ، كَأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ ذَلِكَ لِزَوْجَتِهِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ، فَهَذَا جَائِزٌ وَلَا إِشْكَالَ فِيهِ. أَمَّا اسْتِعْمَالُ هَذَا الرَّمْزِ فِيمَا بَيْنَ الرِّجَالِ، أَوْ فِيمَا بَيْنَ النِّسَاءِ بَعْضِهِنَّ مَعَ بَعْضٍ، فَأَرَى -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّهُ لَا يَلِيقُ؛ لَا أَقُولُ إِنَّهُ حَرَامٌ، وَلَكِنْ أَقُولُ إِنَّهُ لَا يَلِيقُ وَلَيْسَ مِنْ شَأْنِ أَهْلِ الْمُرُوءَاتِ، وَاجْتِنَابُهُ خَيْرٌ. أَمَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِيمَا يَجُوزُ -كَمَا قُلْتُ- بِأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ لِامْرَأَتِهِ، أَوْ إِلَى أُمِّهِ، أَوْ إِلَى أُخْتِهِ، هَذِهِ الْعَلَامَةَ دَلَالَةً عَلَى الْمَحَبَّةِ؛ فَمَا يَظْهَرُ لِي -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّ فِي ذَلِكَ بَأْسًا.
“মানুষ সাধারণত এই চিহ্নটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ হৃদপিণ্ডই ভালোবাসার স্থান। মূলনীতির ভিত্তিতে যদি এটি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়—যেমন: স্বামী তার স্ত্রীকে পাঠাল—তাহলে এটি জায়েজ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পুরুষেরা একে অপরকে কিংবা নারীরা একে অপরকে এই চিহ্ন পাঠানোআমার মতে অনুচিত। আমি একে হারাম বলছি না। তবে এটি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্য শোভনীয় নয় এবং এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে যদি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেমন: স্বামী স্ত্রীকে, ছেলে মাকে বা বোনকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পাঠায়—তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা আছে বলে আমার মনে হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।”
– বিশেষ প্রেক্ষাপট: এই ফতোয়াটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ হার্ট চিহ্ন ব্যবহার সংক্রান্ত নয়। বরং এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রদান করা হয়েছে, যখন কাফের দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবমাননার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া চলছিল এবং সেই সময় চাবির রিং, গেঞ্জি ও স্টিকারে “আমি
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” লেখার একটি বিশেষ ধারা দেখা যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: জেদ্দা দাওয়াহ ও ইরশাদ সেন্টারের সদস্য শাইখ মুহাম্মদ বিন আতিয়্যাহ আল জাবিরি জানতে চেয়েছেন, বর্তমানে কিছু মানুষের মাঝে হৃদপিণ্ডের (হার্ট) আকৃতিতে তৈরি চাবির রিংয়ের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেহেতু হৃদপিণ্ড ভালোবাসার প্রতীক তাই এই রিংয়ের উপর লেখা থাকে: “আমি (হৃদপিণ্ডের চিহ্ন) রসুল” — যার অর্থ দাঁড়ায় “আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসি।” রিংয়ের উল্টো পাশে লেখা থাকে: “হে আমার প্রিয় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।” এছাড়াও গলায় ঝোলানোর লকেট এবং কোনো কোনো নারীর পোশাকে বুকের বাম পাশে একই ধরনের লেখা দেখা যাচ্ছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?
উত্তর:
وَبَعْدَ دِرَاسَةِ اللَّجْنَةِ لِلِاسْتِفْتَاءِ أَجَابَتْ بِأَنَّ عَمَلَ الشَّكْلِ الْمَذْكُورِ وَكِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ عَلَى الْمَلَابِسِ وَالْمَيْدَالِيَاتِ وَنَحْوِهَا لَيْسَ مِنْ هَدْيِ سَلَفِ الْأُمَّةِ الَّذِينَ هُمْ أَفْضَلُ الْقُرُونِ وَأَشَدُّ تَعْظِيمًا وَحُبًّا لِلرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ، كَمَا أَنَّ فِيهِ تَشَبُّهًا بِأَهْلِ الْفِسْقِ الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ مِثْلَ هَذِهِ الرُّمُوزِ دَلَالَةً عَلَى حُبِّهِمْ وَعِشْقِهِمُ الْمُحَرَّمِ لِغَيْرِهِمْ، وَيَتَفَانَوْنَ فِيهِ مِنْ غَيْرِ الْتِفَاتٍ لِحُكْمِ الشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ فِيهِ، كَمَا أَنَّ الشَّكْلَ الْمَذْكُورَ يُفْهَمُ مِنْهُ أَيْضًا: أَنَّ حُبَّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَحُبِّ غَيْرِهِ مِنَ الْمَخْلُوقِينَ، وَهَذَا غَلَطٌ كَبِيرٌ؛ لِأَنَّ مَحَبَّةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاجِبَةٌ شَرْعًا، وَلَا يَتِمُّ الْإِيمَانُ إِلَّا بِهَا، أَمَّا مَحَبَّةُ غَيْرِهِ فَقَدْ تَكُونُ مَشْرُوعَةً، وَقَدْ تَكُونُ مُحَرَّمَةً، وَبِنَاءً عَلَى مَا تَقَدَّمَ فَإِنَّ كِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ وَبَيْعَهَا وَشِرَاءَهَا وَاسْتِعْمَالَهَا لَا يَجُوزُ. وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ.
“উক্ত বিষয়টি পর্যালোচনার পর স্থায়ী কমিটি এই মর্মে উত্তর দিচ্ছে যে—পোশাক, মেডেল বা এ জাতীয় বস্তুর উপর উক্ত হার্ট আকৃতি তৈরি করা এবং তাতে নির্দিষ্ট বাক্য লিখে রাখা উম্মতের পূর্বসূরি সালাফদের আদর্শ নয়। অথচ তারা পরবর্তী সকল প্রজন্মের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের অধিকারী ছিলেন এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সর্বাধিক সম্মান ও ভালোবাসা পোষণ করতেন। এর পাশাপাশি এতে ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, যারা এই জাতীয় প্রতীককে হারাম প্রেম ও কামাবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এবং শরীআতের বিধানের পরোয়া না করেই তাতে মগ্ন থাকে। আরও একটি সমস্যা হলো, এই প্রতীক থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর প্রতি ভালোবাসা অন্য যেকোনো সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার মতোই সাধারণ একটি বিষয়। এটি এক মারাত্মক ভুল। কারণ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসা শরিয়তে ওয়াজিব এবং এটি ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। পক্ষান্তরে অন্য কারও প্রতি ভালোবাসা কখনো বৈধ, কখনো নিষিদ্ধ হতে পারে। অতএব, উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এই বাক্যগুলো লেখা, এ জাতীয় দ্রব্যাদি কেনা-বেচা করা এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।”
ইলমি গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি:
সদস্য: বকর আবু যাইদ, সালেহ আল ফাওযান, আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান।
প্রধান: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)।
সারাংশ: হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইসলাম কিউএ ও ইসলাম ওয়েবসহ অধিকাংশ আলেম মনে করেন, সাধারণ ক্ষেত্রে এই চিহ্ন ব্যবহার জায়েজ। তবে হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। শাইখ ড. রুহাইলি মনে করেন, স্বামী-স্ত্রী বা মাহরামদের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশে এটি ব্যবহার করা বৈধ। তবে সমলিঙ্গের মধ্যে ব্যবহার শোভনীয় নয়। অন্যদিকে, লাজনাহ দায়িমার ফতোয়াটি বিশেষভাবে সেই প্রচলনকে নিষিদ্ধ করেছে, যেখানে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে চাবির রিং বা পোশাকে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কারণ এতে সালাফদের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য এবং নবীপ্রেমের মর্যাদাকে সাধারণ প্রেমের স্তরে নামিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
গ্রন্থনায়:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
Subscribe to:
Posts (Atom)