Monday, April 13, 2026

মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে সাদৃশ্য

 আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ ۚ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ
“আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনও প্রাণী নেই এবং এমন কোনও পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতোই একেকটি জাতি নয়।
আমি কিতাবে (লওহে মাহফুজে) কোনও কিছুই বাদ দিইনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের পালনকর্তার কাছে একত্রিত করা হবে।” [সূরা আনআম: ৩৮]
❑ প্রখ্যাত তাবে তাবেয়ি সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ (রাহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:
“পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষ নেই যার মধ্যে পশুর কোনও না কোনও সাদৃশ্য নেই।
তাদের মধ্যে━
– কেউ সিংহের মতো আক্রমণাত্মক।
– কেউ নেকড়ের মতো হিংস্র ও আগ্রাসী।
– কেউ কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে।
– কেউ ময়ূরের মতো অহংকার প্রদর্শন করে।
– আবার কেউ শূকরের মতো—যাকে ভালো খাবার দিলে সে তা অপছন্দ করে। কিন্তু মানুষ যখন তার মল ত্যাগ করে ওঠে তখন সে তাতে মুখ দেয়। ঠিক তেমনি মানুষের মধ্যেও এমন কাউকে পাবেন, সে যদি পঞ্চাশটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা শোনে তবে তার একটিও মনে রাখে না‌। কিন্তু কোনও মানুষ যদি সামান্য ভুল করে তবে সে তা লুফে নেয় এবং মুখস্থ করে ফেলে।”
❑ ইমাম খাত্তাবি (রাহ.) বলেন:
“সুফিয়ান (রাহ.) এই আয়াতের কী চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন এবং তা থেকে কী গভীর প্রজ্ঞা আহরণ করেছেন! কারণ, কোনও কথার বাহ্যিক অর্থ যখন যুক্তিযুক্ত হয় না তখন তার অন্তর্নিহিত অর্থের দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক হয়। আল্লাহ তাআলা এখানে মানুষ এবং প্রতিটি পাখি ও প্রাণীর মধ্যে ‘সাদৃশ্য’ থাকার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু দৈহিক গঠন ও আকৃতির দিক থেকে এই সাদৃশ্য থাকা অসম্ভব। আবার কথা বলা ও জ্ঞানের দিক থেকেও তাদের মধ্যে মিল নেই। তাই এই সাদৃশ্যকে অবশ্যই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং চরিত্রের সাদৃশ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।” (সমাপ্ত)
➧ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিছু প্রাণীকে বানিয়েছেন পরিশ্রমী ও কৌশলী (যারা নিজের খাবারের জন্য চেষ্টা করে)।
– আবার কিছু প্রাণীকে বানিয়েছেন পুরোপুরি নির্ভরশীল (তাওয়াক্কুলকারী) যারা কোনও কৌশল জানে না।
– কিছু পতঙ্গ নিজের জন্য পুরো বছরের খাবার জমা করে রাখে (যেমন: পিঁপড়া), – আবার কিছু পতঙ্গ আল্লাহর ওপর এই ভরসায় থাকে যে, প্রতিদিন তার জন্য নির্ধারিত ও নিশ্চিত রিজিক পৌঁছে যাবে (তাই সে জমা করে না)।
– কিছু প্রাণী নিজের আহার সংগ্রহে সচেষ্ট থাকে।
– আবার কিছু প্রাণীর নিজের উপার্জনের কোনও ক্ষমতাই নেই।
– কোনও কোনও প্রাণী (দয়াশীল হয়ে) নিজের চেয়ে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়।
– আবার কিছু প্রাণী এমন আছে যে, যদি সে একাই একটি পুরো জাতির সমান খাবার পেয়ে যায় তবুও সে (লোভ ও হিংসার কারণে) কাউকে তার ধারে-কাছেও ঘেঁষতে দেয় না।”
অর্থাৎ প্রাণীকুলের মধ্যে যেমন পরোপকার, কৃপণতা, অলসতা বা সঞ্চয় করার মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় মানুষের মধ্যেও ঠিক সেই বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। মানুষও কেউ দানশীল হয়। কেউ কৃপণ হয়। কেউ আগামীকালের জন্য অস্থির হয়ে সম্পদ জমায়।‌ আবার কেউ অল্পতে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে। [উৎস: ইসলাম ওয়েব]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate