Monday, April 13, 2026

সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যে একচেটিয়া ব্যবসা বা মজুদদারি হারাম

 প্রশ্ন: মজুদদারি বা একচেটিয়া কারবার কি শুধু খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, নাকি অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও হতে পারে?

উত্তর: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর। মজুদদারি বা একচেটিয়া কারবার (যাকে আরবিতে ‘ইহতিকার’ বলা হয়) একটি হারাম কাজ। এর নিষিদ্ধতার প্রমাণ হিসেবে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মুয়াম্মার ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لا يحتكر إلا خاطئ
“পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুদদারি করে না।” [সহিহ মুসলিম: ১৬০৫]
ইমাম নওয়াবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
قال أهل اللغة الخاطئ هو العاصي الآثم وهذا الحديث صريح في تحريم الاحتكار. انتهى.
“ভাষাবিদদের মতে পাপিষ্ঠ মানে হলো, অবাধ্য ও গুনাহগার। এই হাদিসটি মজুদদারি হারাম হওয়ার ব্যাপারে একটি স্পষ্ট দলিল। মূলত মানুষের ক্ষতি হয় বলেই শরিয়তে একে হারাম করা হয়েছে।”
❑ মজুদদারি কি কেবল খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ?
মজুদদারি কোন কোন জিনিসের ক্ষেত্রে হতে পারে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
ক. একদল আলেম মনে করেন, এটি কেবল মানুষের প্রধান খাদ্যশস্যের (চাল, ডাল, গম ইত্যাদি) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
খ. অন্যদল মনে করেন, মানুষের প্রয়োজন পড়ে এমন সকল পণ্যের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য, যা আটকে রাখলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষতি হয়। এটি মালিকি মাজহাবের অভিমত এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা। হাদিসের বাহ্যিক অর্থের সাথে এই মতটিই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সঠিক।
✪ ইমাম শাওকানি (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে বলেন:
“وظاهر الأحاديث أن الاحتكار محرم من غير فرق بين قوت الآدمي والدواب وبين غيره ، والتصريح بلفظ الطعام في بعض الروايات لا يصلح لتقييد بقية الروايات المطلقة ، بل هو من التنصيص على فرد من الأفراد التي يطلق عليها المطلق” انتهى
“হাদিসের বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী মজুদদারি হারাম, তা মানুষের খাবার হোক, পশুর খাবার হোক বা অন্য কোনও পণ্য। কিছু বর্ণনায় ‘খাদ্য’ শব্দের উল্লেখ থাকলেও তা কেবল উদাহরণ হিসেবে এসেছে, এর মাধ্যমে অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যকে বাদ দেওয়া হয়নি।”
✪ ইমাম রামলি শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“ينبغي أن يجعلوه في كل ما يحتاج إليه غالباً من المطعوم والملبوس” انتهى
“সাধারণত মানুষের প্রয়োজন হয় এমন সব খাবার এবং পোশাকের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর হওয়া উচিত।”
এটিই মজুদদারি নিষিদ্ধ হওয়ার মূল হিকমত বা উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। আর উদ্দেশ্যটি হলো—মানুষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা।
✪ সৌদি আরবের ফাতাওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিও (লাজনা দায়েমা) এই মতটি প্রদান করেছেন। তাদের ফতওয়া নং (৬৩৭৪) অনুযায়ী:
“لا يجوز تخزين شيء الناس في حاجة إليه ، ويسمى الاحتكار ، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يحتكر إلا خاطئ) رواه أحمد ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه، ولما في ذلك من الإضرار بالمسلمين.
أما ما كان الناس في غنى عنه فيجوز تخزينه حتى يُحتاج إليه فيبذل لهم ، دفعاً للحرج والضرر عنهم” انتهى
“মানুষের প্রয়োজনীয় কোনও জিনিস গুদামজাত করে রাখা জায়েজ নেই, একেই ‘ইহতিকার’ বা মজুদদারি বলা হয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুদদারি করে না।’ এর ফলে মুসলমানদের ক্ষতি সাধন হয়। তবে যেসব জিনিসের প্রতি মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন নেই। সেগুলো পরবর্তীতে প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে জমা রাখা জায়েজ।” আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (উৎস: ইসলাম কিউএ)
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate