প্রশ্ন: যদি কোনো পুত্রবধূকে জোরপূর্বক তার শ্বশুরের সাথে চার পাঁচ বছর ধরে সহবাস করতে বাধ্য করা হয় তাহলে কি তার স্বামীর (অর্থাৎ ছেলের) সাথে তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রতি। অতঃপর:
.
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
الصحيح : أن الزنا بذوات المحارم فيه القتل بكل حال ؛ لحديث صحيح ورد في ذلك – وهو حديث ( مَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ ) رواه الترمذي وغيره ، واختلف في رفعه ووقفه – ، وهو رواية عن أحمد ، وهي الصحيحة ، واختار ذلك ابن القيم في كتاب ” الجواب الكافي ” أن الذي يزني بذات محرم منه : فإنه يُقتل بكل حال ، مثل : ما لو زنا بأخته – والعياذ بالله – ، أو بعمته ، أو خالته ، أو أم زوجته ، أو بنت زوجته التي دخل بها ، وما أشبه ذلك ؛ لأن هذا الفرج لا يحل بأي حال من الأحوال ، لا بعقد ، ولا بغيره ؛ ولأن هذه فاحشة عظيمة .”
“সঠিক মত হলো: মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম) নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার শাস্তি হলো তাকে যেকোনো অবস্থাতেই হত্যা করা। এ ব্যাপারে একটি সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে— আর তা হলো: ‘যে ব্যক্তি তার কোনো মাহরামের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, তাকে হত্যা করো’ (হাদীসটি তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, যদিও এ হাদীসটি মারফূ’ (রাসূল ﷺ থেকে সরাসরি) নাকি মওকূফ (সাহাবীর বক্তব্য) এ নিয়ে মতভেদ আছে।এটি ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা, যা সঠিক মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইবনুল কাইয়্যিমও তার “আল-জাওয়াবুল কাফী” গ্রন্থে এই মতকে সমর্থন করেছেন।যে ব্যক্তি নিজের কোনো মাহরাম নারীর সাথে ব্যভিচার করে,যেমন (নাউযুবিল্লাহ) নিজের বোন, ফুফু, খালা, স্ত্রীর মা, অথবা স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর তার পূর্বের ঘরের কন্যার সাথে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া কিংবা অনুরূপ কোনো গর্হিত কাজ ইত্যাদি।তাকে যেকোনো অবস্থায় হত্যা করা হবে।কারণ এই সম্পর্ক কোনো অবস্থাতেই হালাল নয়,না বিবাহের মাধ্যমে, না অন্য কোনো উপায়ে। আর এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য ও গুরুতর অশ্লীলতা।(ইমাম ইবনু উসামীন আশ-শারহুল মুমতি,আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ১৪; পৃষ্ঠা: ২৪৬-২৪৭)
.
আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুফাসসির, আল-ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] মাহরাম নারীর সাথে ব্যভিচারকারীর হত্যার শাস্তি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,وهذا الحكم على وِفق حكم الشارع ؛ فإن المحرَّمات كلما تغلظت : تغلظت عقوباتها ، ووطء من لا يباح بحال : أعظم جُرماً مِن وطء مَن يباح في بعض الأحوال ، فيكون حدُّه أغلظ
“আর এই বিধানটি শরীয়তের বিধানেরই অনুরূপ; কেননা হারাম কাজগুলো যখনই গুরুতর হয়, সেগুলোর শাস্তিও তত কঠোর হয়।আর যে নারীর সাথে কোনো অবস্থাতেই সহবাস বৈধ নয়,(যেমন: মাহরাম),তার সাথে সহবাস করা সে নারীর তুলনায় বেশি গুরুতর অপরাধ, যার সাথে কিছু অবস্থায় সহবাস বৈধ হতে পারে (যেমন: পরনারী, যাকে বিয়ের মাধ্যমে হালাল করা যায়) তাই এর (প্রথমটির অর্থাৎ মাহরমের সাথে জিনায় লিপ্ত হওয়ার) শাস্তিও অধিক কঠোর হবে”।(ইবনু ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৩৬) সুতরাং যে ব্যক্তি এ ধরনের জঘন্য পাপে পতিত হয়েছে, তার জন্য একমাত্র পথ হলো—বিলম্ব না করে আন্তরিক ও খাঁটি তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা; যেন সে এই ভয়াবহ গুনাহের বোঝা বহন করেই তাঁর রবের সামনে উপস্থিত না হয়। অতঃপর তার কর্তব্য হলো নিজের জীবনকে সংশোধনের পথে পরিচালিত করা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে সেই পাপের সব কারণ, পরিবেশ ও পথ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
.
.
(১). প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে হানাফি ও হাম্বলি মাজহাবের আলেমগণ বলেন, যদি কেউ কোনো নারীর মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করে, তাহলে ঐ নারীর মেয়ে তার জন্য হারাম হয়ে যায়। কারণ, তাদের মতে অবৈধ সহবাসও (জিনা) মুসাহারার ক্ষেত্রে বৈধ সহবাসের মতোই প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, যেমন কেউ কোনো নারীর সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহবাস করলে ঐ নারীর কন্যা তার জন্য সর্বসম্মতভাবে হারাম হয়ে যায়, তেমনি অবৈধভাবে সহবাসের মাধ্যমেও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:( وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ ) “আর তোমাদের সৎ কন্যারা যারা তোমাদের গৃহে লালিত হয়েছে, তোমাদের সেই স্ত্রীদের থেকে, যাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছ; কিন্তু যদি তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তবে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।”(সূরা আন-নিসা ৪: ২৩)
.
(২). অপরদিকে মালিকি ও শাফেয়ি মাজহাবের আলেমদের মতে, ব্যভিচারের কারণে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় না। অর্থাৎ, কেউ যদি কোনো নারীর মায়ের (শাশুড়ীর) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কেও লিপ্ত হয়, তবুও তার বৈধ স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায় না। তাদের মূলনীতি হলো—“হারাম কাজ কোনো হালাল বিষয়কে হারাম করে না।” কারণ শরিয়ত সম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত বৈধ ও দৃঢ় বিবাহবন্ধন তৃতীয় পক্ষের অপরাধের কারণে মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যেতে পারে না। ইসলামে তালাক ছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের কোনো বিধান নেই। এ মতের সমর্থনে হাদিস থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রখ্যাত সাহাবী,‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) [মৃত: ৬৮ হি.] বলেছেন:أنَّ وطءَ الحرامِ لا يُحرِّمُ”যিনা বৈবাহিক বন্ধনকে হারাম করে না”।(মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, বায়হাক্বী হা/১৩৯৯১; ইমাম আলবানী, ইরওয়াউল গালীল খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ২৮৭; হা/১৮৮১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে,”এক লোক তার শাশুড়ীর সাথে যেনা করলে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘তারা পাপী। কিন্তু এ পাপ তার স্ত্রীকে তার জন্য হারাম করে না” (ইমাম বায়হাক্বী, ইরওয়াউল গালীল; খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ২৮৮) প্রখ্যাত সাহাবী, আলী (রাঃ) বলেন,”যেনা বৈধ বিবাহ বন্ধনকে হারাম করতে পারে না।”(ইরওয়াউল গালীল খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ২৮৮, তা‘লীক্ব বুখারী) হিশাম বর্ণনা করেন, কাতাদা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন “এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে সহবাস করেছে—এ সম্পর্কে ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:تخطى حرمتين، ولا تحرم عليه امرأته.”সে দুইটি পবিত্রতার সীমা লঙ্ঘন করেছে; তবে তার (নিজ) স্ত্রী তার উপর হারাম হয়ে যাবে না।” হাফিয ইবনু হাজার এর সনদ সহীহ (বিশুদ্ধ) বলেছেন।
.
বিশিষ্ট তাফসিরকারক শাইখ মুহাম্মদ আল-আমীন আস-শানক্বিতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: الخلاف في هذه المسألة مشهور معروف ، وأرجح القولين دليلا فيما يظهر أن الزنى لا يحرُم به حلال”এই বিষয়ে মতভেদ প্রসিদ্ধ ও পরিচিত। কিন্তু প্রমাণের দিক থেকে যে মতটি অধিক শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয় তা হলো ব্যভিচার (জিনা) দ্বারা কোনো বৈধ সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় না।”(আযওয়াউল বায়ান, খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৩৪১)
.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন,”ولو وطئ أم امرأته أو بنتها حرمت عليه امرأته نص أحمد على هذا في رواية جماعةٍ ، وروي نحو ذلك عن عمران بن حصين ، وبه قال الحسن وعطاء وطاوس ومجاهد والشعبي والنخعي والثوري وإسحاق وأصحاب الرأي .وروى ابن عباس أن الوطء الحرام لا يحرِّم ، وبه قال سعيد بن المسيب ويحيى بن يعمر وعروة والزهري ومالك والشافعي وأبو ثور وابن المنذر”যদি কেউ নিজের স্ত্রীর মায়ের সঙ্গে অথবা স্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তার বর্তমান স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়; যা একাধিক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।একই মত বর্ণিত হয়েছে সাহাবি ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-এর থেকেও। এ মতের পক্ষাবলম্বন করেছেন—হাসান বাসরী,আতা, তাওস, মুজাহিদ, শা‘বী, নাখাঈ,ইমাম সাওরী, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ এবং আসহাবুর রা’য় (অর্থাৎ হানাফি ফকীহগণ)। অপরদিকে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর থেকে বর্ণিত আছে যে,“হারাম যৌন সম্পর্ক (ব্যভিচার) কোনো স্থায়ী হারামত্ব সৃষ্টি করে না।”এই মত গ্রহণ করেছেন— সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার, উরওয়া ইবনু যুবাইর,যুহরী, ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফেঈ, আবু সাওর এবং ইবনুল মুনযির (রহিমাহুমুল্লাহ)।”(ইবনু কুদামাহ আল মুগনী, খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৯০)
.
ইমাম ইবনু আবদুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:”আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে কি তার জন্য ঐ নারীর মেয়ে ও মাকে বিয়ে করা বৈধ হবে? তেমনি, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে কি তার ছেলে তাকে বিয়ে করতে পারবে, অথবা তার পিতা তাকে বিয়ে করতে পারবে? এবং এ সমস্ত ক্ষেত্রে, ব্যভিচার কি সেইসব বিষয়কে হারাম করে দেয়, যা সহীহ (বৈধ) বা ফাসিদ (অবৈধ) বিবাহ হারাম করে দেয়—নাকি করে না? ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর “মুয়াত্তা” গ্রন্থে বলেন:إن الزنى بالمرأة لا يحرم على من زنا بها نكاح ابنتها ولا نكاح أمها ، ومن زنا بأم امرأته لم تحرم عليه امرأته بل يقتل ولا يحرِّم الزنى شيئا بحرمة النكاح الحلال .وهو قول ابن شهاب الزهري وربيعة ، وإليه ذهب الليث بن سعد والشافعي وأبو ثور وداود ، وروي ذلك عن ابن عباس وقال في ذلك : ” لا يحرم الحرام الحلال ” … .وذكر ابن القاسم عن مالك خلاف ما في ” الموطأ ” ، فقال : من زنا بأم امرأته فارق امرأته وهو عنده في حكم من نكح أم امرأته ودخل بها .وهو قول أبي حنيفة وأصحابه والثوري والأوزاعي كلهم يقولون : من زنا بأم امرأته حرمت عليه امرأته .قال سحنون : أصحاب مالك كلهم يخالفون ابن القاسم فيها ويذهبون إلى ما في ” الموطأ ” …والله عز وجل إنما حرم على المسلم تزوج أم امرأته وابنتها وكذلك إذا ملكت يمينه امرأة فوطئها بملك اليمين حرمت عليه أمها وابنتها, وكذلك ما وطىء أبوه بالنكاح وملك اليمين وما وطىء ابنه بذلك فدل على المعنى في ذلك الوطء الحلال ، والله المستعان,وقد أجمع هؤلاء الفقهاء – أهل الفتوى بالأمصار المسلمين – أنه لا يحرم على الزاني نكاح المرأة التي زنا بها إذا استبرأها فنكاح أمها وابنتها أحرى ، وبالله التوفيق “কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার জন্য ঐ নারীর মেয়ে বা মাকে বিয়ে করা হারাম হবে না। আর যদি কেউ তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, তাহলে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না; বরং তাকে হত্যা করা হবে (শাস্তি হিসেবে)। অর্থাৎ, ব্যভিচার বৈধ বিবাহের মতো কোনো হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে না। এটাই ইবন শিহাব আয-যুহরী ও রাবি‘আ-এর মত। আর এ মত গ্রহণ করেছেন—লায়ছ ইবন সা‘দ, ইমাম শাফেয়ি, আবু সাওর ও দাউদ।এ মতটি ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,হারাম কাজ (ব্যভিচার) হালাল জিনিসকে হারাম করে না। তবে ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে “মুয়াত্তা”-তে যা এসেছে তার বিপরীত একটি মত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক হয়ে যাবে। ইমাম মালিকের নিকট এটি ঐ ব্যক্তির মতো, যে তার স্ত্রীর মাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে।এটাই আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীদের মত। একই মত পোষণ করেছেন সাওরী ও আওযাঈ। তারা সবাই বলেন: যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে ব্যভিচার করে, তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।সাহনূন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:ইমাম মালিকের অধিকাংশ ছাত্রই এ ব্যাপারে ইবনুল কাসিমের মতের বিরোধিতা করেছেন এবং “মুয়াত্তা”-তে যা বলা হয়েছে সেই মতকেই গ্রহণ করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমের জন্য শুধু তার স্ত্রীর মা ও মেয়েকে (স্ত্রীর কন্যা) বিবাহ করা হারাম করেছেন। তেমনি, যদি কোনো ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাসী নারীর সাথে সহবাস করে, তাহলে তার মা ও মেয়েও তার জন্য হারাম হয়ে যায়।এভাবেই, পিতা যাদের সাথে বৈধ বিবাহ বা মালিকানার মাধ্যমে সহবাস করেছেন, এবং ছেলে যাদের সাথে এভাবে সহবাস করেছে—তাদের ক্ষেত্রেও হারাম হওয়ার বিধান প্রযোজ্য।এ থেকে বোঝা যায়, এখানে নিষিদ্ধতার কারণ হলো বৈধ সহবাস (হালাল সম্পর্ক)। আল্লাহই সাহায্যকারী। আর মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফতোয়া প্রদানকারী ফকীহদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, ব্যভিচারকারী ব্যক্তি, যদি ঐ নারীকে ‘ইস্তিবরা’ (গর্ভমুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা) করে নেয়, তাহলে সে ঐ নারীকেই বিয়ে করতে পারে। সুতরাং,তার মাকে বা মেয়েকে বিয়ে করা তো আরও অধিকতর বৈধ হওয়ার কথা। আল্লাহই তাওফীক দানকারী।(ইবনু আব্দুল বার; আল-ইসতিযকার; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৪৬৩-৪৬৪)
.
আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুফাসসির, আল-ফাক্বীহ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,والقول الراجح أن ذلك لا يُحرم، كما هو قول الشافعي وإحدى الروايتين عن مالك، فإن التحريم بذلك موقوف على الدليل ولا دليل من كتاب ولا سنة ولا إجماع ولا قياس صحيح، وقياس السفاح على النكاح في ذلك لا يصح لما بينهما من الفروق، والله تعالى جعل الصهر قسيم النسب، وجعل ذلك من نعمة التي امتن بها على عباده، فكلاهما من نعمه وإحسانه، فلا يكون الصهر من آثار الحرام وموجباته كما لا يكون النسب من آثاره، بل إذا كان النسب الذي هو أصل لايحصل بوطء الحرام فالصهر الذي هو فرع عليه ومشبه به أولى ألا يحصل بوطء الحرام، وأيضا فإنه لو ثبت تحريم المصاهرة لا تثبت المحرمية التي هي من أحكامه، فإذا لم تثبت المحرمية لم تثبت الحرمة، وأيضا فإن الله تعالى إنما قال: (وحلائل أبنائكم) ومن زنا بها الابن لا تسمى حليلة لغة ولا شرعاً ولا عرفاً، وكذلك قوله: (ولا تنكحوا ما نكح آباؤكم من النساء إلا ما قد سلف) إنما المراد به النكاح الذي هو ضد السفاح، ولم يأت في القرآن النكاح المراد به الزنا قط، ولا الوطء المجرد عن عقد وقد تناظر الشافعي هو وبعض العراقيين في هذه المسألة ونحن نذكر مناظرته بلفظها” ثم ذكرها عليه رحمة الله.”সঠিক মত হলো এটি (ব্যভিচার) হুরমতে মুসাহারা’ (বৈবাহিক আত্মীয়তার কারণে বিবাহ) হারাম সাব্যস্ত করে না। এটাই ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ).-এর একটি বর্ণনাতেও এই মত পাওয়া যায়। কারণ,এ বিষয়ে হারাম হওয়ার জন্য দলিল থাকা জরুরি, অথচ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা বা সঠিক কিয়াস কোনোটিতেই এর পক্ষে কোনো দলিল নেই। আর ব্যভিচারকে বিবাহের সঙ্গে কিয়াস করা সঠিক নয়, কারণ এ দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা শ্বশুরালির সম্পর্ককে বংশগত সম্পর্কের সমপর্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে তাঁর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং, উভয়ই তাঁর অনুগ্রহ ও দান। তাই শ্বশুরালির সম্পর্ক হারাম কাজের ফল বা তার কারণে সৃষ্টি হতে পারে না যেমন বংশগত সম্পর্কও হারাম কাজের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় না। বরং যখন দেখা যায় যে, বংশগত সম্পর্ক যা মূল হারাম যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, তখন শ্বশুরালির সম্পর্ক যা তার শাখা ও অনুরূপ তা তো আরও বেশি করে হারাম কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত না হওয়াই যুক্তিযুক্ত। আরও একটি কথা হলো যদি ধরা হয় যে, শ্বশুরালির সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়, তাহলেও এর ফলে যে মাহরাম হওয়ার বিধান সৃষ্টি হয়, তা প্রমাণিত হয় না। আর যখন মাহরাম হওয়া প্রমাণিত না হয়, তখন হারাম হওয়াও প্রমাণিত হয় না। এছাড়াও, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: তোমাদের পুত্রদের স্ত্রীরা (তোমাদের জন্য হারাম) কিন্তু যে নারীর সঙ্গে পুত্র জিনা করেছে, তাকে ভাষাগতভাবে, শরিয়ত অনুযায়ী বা প্রচলিত রীতিতেও স্ত্রী বলা হয় না। তদ্রূপ, আল্লাহ বলেন: তোমাদের পিতারা যাদের সাথে বিবাহ করেছেন, তোমরা তাদের সাথে বিবাহ করো না। এখানে উদ্দেশ্য হলো বৈধ বিবাহ, যা ব্যভিচারের বিপরীত। কুরআনে কোথাও নিকাহ শব্দটি ব্যভিচারের অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, কিংবা এমন সহবাস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি যা কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়া হয়েছে। এরপর ইমাম শাফেয়ী রহ. ও ইরাকের কিছু আলেমের মধ্যে এ বিষয়ে যে বিতর্ক হয়েছে, আমরা সেই বিতর্কের বিবরণ হুবহু তাঁরই (ইমাম শাফেয়ীর) শব্দে উল্লেখ করছি আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।”(ইবনু ক্বাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ২৪৩)
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
“لو زنى رجل بامرأة فهل يحرم عليها أصله وفرعه ، وهل يحرم عليه أصلها وفرعها ؟ الجواب :لا يحرم ، لأنه لا يدخل في الآية ، قال تعالى : وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ ) قال ( مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ ) والزانية لا تدخل في هذا … ومع هذا فمذهب الحنابلة أن الزنى كالنكاح ، فإذا زنى بامرأة حرم عليه أصولها وفروعها ، وحرم عليها أصوله وفروعه تحريما مؤبدا ، بل من غرائب العلم أن يجعل السفاح كالنكاح ، بل من أغرب ما يكون ، وهو من أضعف الأقوال … والصواب أنه لا أثر في تحريم المصاهرة لغير عقد صحيح ؛ وذلك لأن العقود إذا أطلقت في الشرع حملت على الصحيح ، فالصواب في هذه المسألة أن كل ما كان طريقه محرما فإنه لا أثر له في التحريم والمصاهرة “
“যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে কি ঐ নারীর মা ও মেয়েরা তার জন্য হারাম হয়ে যাবে? অথবা ঐ পুরুষের বংশীয় নারীসমূহ (মা,দাদি মেয়ে ইত্যাদি) ঐ নারীর জন্য হারাম হয়ে যাবে?
উত্তর: না, হারাম হবে না।কারণ এ ব্যাপারটি কুরআনের ঐ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়।যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন:”তোমাদের স্ত্রীদের মায়েরা, আর তোমাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সেসব সৎকন্যারা যারা তোমাদের সেই স্ত্রীদের সন্তান যাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছ—অতএব যদি তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস না করে থাকো, তবে তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই—এবং তোমাদের পুত্রদের স্ত্রীগণ…”(সূরা আন-নিসা: ২৩) এবং তিনি আরও বলেনঃ “তোমাদের পিতারা যাদের বিবাহ করেছেন, তোমরা তাদের বিবাহ করো না।”(সূরা আন-নিসা: ২২) অতএব,ব্যভিচারিণী (যার সঙ্গে জিনা করা হয়েছে) এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে, হাম্বলি ফকীহদের মতে, ব্যভিচার (জিনা) কে বিবাহের সমতুল্য ধরা হয়।তাদের মতে,যদি কেউ কোনো নারীর সঙ্গে জিনা করে, তাহলে ঐ নারীর মা ও মেয়েরা তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে, এবং একইভাবে ঐ নারীর জন্যও ঐ পুরুষের মা, দাদি, মেয়ে ইত্যাদি হারাম হয়ে যাবে।কিন্তু এটি ‘ইলম’ বা জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় যে ব্যভিচারকে বিবাহের সমতুল্য গণ্য করা হয়েছে!বরং এটি সবচেয়ে বিস্ময়কর মতগুলোর একটি,এবং নিঃসন্দেহে এটি দুর্বলতম মতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর সঠিক কথা হলো:যে সম্পর্ক বা কাজ অবৈধ (হারাম) পথে সংঘটিত হয়েছে, তার দ্বারা মাহরাম সম্পর্ক বা হারামত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। কারণ শরীয়তে যখন কোনো চুক্তি বা সম্পর্কের কথা বলা হয়, তা কেবল সহীহ (বৈধ) চুক্তিকেই নির্দেশ করে।অতএব,এই মাস’আলায় সঠিক মত হলো যে, কোনো সম্পর্ক যদি হারাম পথে গঠিত হয় (যেমন ব্যভিচার, অবৈধ সহবাস), তবে তার দ্বারা মাহরামত্ব বা হারামত্বের কোনো প্রভাব পড়ে না।”(ইবনু উসাইমীন; আশ শারহুল মুমতি; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ২০৩)
.
অপর ফাতাওয়ায় ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] আরও বলেন;
القول الراجح : أن أم المزني بها ليست حراماً على الزاني ، وأن بنت المزني بها ليست حراماً على الزاني ؛ لأن الله تعالى قال : ( وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ ) النساء/24 ، وفي قراءة أخرى : ( وأَحَلَّ لَكُم ما وَرَاء ذَلِكُم ) بالبناء للفاعل ، ولم يذكر الله عزّ وجل أم المزني بها وبنتها في المحرمات ، وإنما قال : ( وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ ) النساء/23 ، ومعلوم أن المزني بها ليست من نسائه قطعاً ؛ لأن نساءه زوجاته ، فإذا لم تكن من نسائه فإنه لا يصح أن يلحق السفاح بالنكاح الصحيح ، فإذا تاب من الزنا جاز له أن يتزوج أم المزني بها وبنتها “
“প্রাধান্য প্রাপ্ত মত হলো, যে মেয়ের সাথে একজন পুরুষ যিনা করেছে সেই মেয়ের মা ঐ পুরুষের জন্য হারাম নয়। এবং যে মহিলার সাথে সে যিনা করেছে তার মেয়েও তার জন্য হারাম নয়। কারণ, বিবাহ হারাম এমন নারীদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন; উল্লিখিত নারীগণ ব্যতীত আর সকলকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো।”(সূরা নিসা: ২৪)।উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এমন কোন মহিলার মা বা মেয়ের কথা উল্লেখ করেননি যার সাথে যিনা করা হয়েছে অথচ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সাথে বিবাহ হারাম। আল্লাহ অপর আয়াতে বলেছেন; আর (বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে) তোমাদের শাশুড়িগণকে ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে, তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যাগণ, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাদের (কন্যাদের মাতার) সাথে সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের (বিবাহে) কোন দোষ নেই। (সূরা নিসা: ২৩)।একথা সর্বজনবিদিত যে নারীর সাথে একজন পুরুষ যিনা করেছে সে তার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেহেতু সে তার স্ত্রীদের একজন নয়, তাই বৈধ বিবাহের সাথে ব্যভিচারের তুলনা করা বৈধ নয়। যদি সে যিনা থেকে তওবা করে থাকে তবে তার জন্য এমন কোন মহিলার মা বা মেয়েকে বিয়ে করা জায়েয যার সাথে সে যিনা করেছে। (ইমাম উসামীন আল-শারহ আল-মুমতি’ খন্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৩৮-৩৯, মূল ফাতওয়া গৃহীত; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৭৮৫৯৭) অএতব এই মাসালায় অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, অবৈধ সম্পর্ক (জিনা) কখনো বৈধ বিবাহকে হারাম বা বাতিল করতে পারে না। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।
No comments:
Post a Comment