Monday, April 13, 2026

সমাজে প্রচলিত প্রকাশ্য পাপাচার ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ

 বর্তমানে আমাদের সমাজে নানা ধরনের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, শিরক, বিদআত এবং পাপাচার ছড়িয়ে পড়েছে। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে এই বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা এবং সমাজকে সচেতন করা ঈমানি দায়িত্ব। নিচে কতিপয় প্রধান পাপাচার ও বর্জনীয় কাজ ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো:

১. প্রকাশ্যে ধূমপান করা: এটি স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং পরিবেশকে দূষিত করার পাশাপাশি অন্যের কষ্টের কারণ হয়। তামাক ও তামাকাজাত সর্বপ্রকার বস্তুই (জর্দা, গুল, হুক্কা, শীশা ইত্যাদি) ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।
২. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা: পুরুষদের জন্য প্যান্ট, লুঙ্গি বা পায়জামা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা শরিয়তে নিষিদ্ধ।
৩. দাড়ি মুণ্ডন করা: দাড়ি কামানো বা এক মুষ্টির কম রাখা সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ।
৪. অশালীন পোশাক পরিধান: নারীদের ক্ষেত্রে এমন টাইট-ফিট বা পাতলা পোশাক পরা যা শরীরের গঠন প্রকাশ করে এবং পুরুষদের সদৃশ পোশাক পরে পরপুরুষের সামনে আসা।
৫. সুগন্ধি মেখে বাইরে বের হওয়া: নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার করে পরপুরুষের সামনে দিয়ে চলাফেরা করা নিষিদ্ধ।
৬. নিষিদ্ধ পোশাক ও অলঙ্কার: পুরুষদের জন্য স্বর্ণের অলঙ্কার বা রেশমি পোশাক পরিধান করা হারাম।
৭. বাদ্যযন্ত্র ও মিউজিক: উচ্চৈঃস্বরে গান-বাজনা করা, মিউজিক শোনা বা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার।
৮. বেপর্দা চলাফেরা: মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে হারাম) ব্যতীত পর নারী বা পুরুষের সাথে একাকী বাইরে বের হওয়া বা আড্ডা দেওয়া।
৯. বিজাতীয় ও বিদআতপূর্ণ উৎসব পালন: পহেলা বৈশাখ, ভালোবাসা দিবস, বড়দিন, থার্টি ফার্স্ট নাইট, জন্মদিন, মৃত্যু দিবস কিংবা ঈদে মিলাদুন্নবির মতো উৎসব পালন করা।
১০. সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার: ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে গান, অশ্লীল ছবি, সিনেমা কিংবা কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করা।
১১. দৃষ্টির হিফাজত না করা: রাস্তাঘাটে বা জনসমাগম স্থলে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং দৃষ্টি সংযত না রাখা।
১২. ছবি ও মূর্তির প্রদর্শন: ঘরবাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রাণীর ছবি টাঙানো কিংবা শো-পিস হিসেবে মূর্তি বা প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা।
১৩. জুয়া ও লটারি: সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লটারি, বাজি ধরা কিংবা বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন অনলাইন গ্যাম্বলিং-এ লিপ্ত হওয়া।
১৪. সুদ ও ঘুষের কারবার: ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সুদি লেনদেন এবং কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ আদান-প্রদান করা।
১৫. মিথ্যা কসম ও ওজনে কম দেওয়া: পণ্য বিক্রির সময় মিথ্যা কসম খাওয়া কিংবা মাপে ও ওজনে কম দেওয়া।
১৬. গিবত ও চোগলখোরি: মজলিসে বসে অন্যের অনুপস্থিতিতে তার দোষ চর্চা করা এবং বিবাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনকে বলা।
১৭. অনৈসলামিক পদ্ধতিতে অভিবাদন: সুন্নাহসম্মত সালামের পরিবর্তে হাই-হ্যালো বা বিভিন্ন বিজাতীয় কায়দায় সম্ভাষণ জানানো।
১৮. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া: উচ্চ শব্দে মিউজিক বা চিৎকার করা, প্রতিবেশীর পথে ময়লা ফেলা এবং তাদের শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কাজ করা।
১৯. তাকদির বা ভাগ্য গণনা: জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করা কিংবা রাশিফলে বিশ্বাস রাখা।
২০. অপচয় ও বিলাসিতা: বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে লোকদেখানো খরচ, অপব্যয় এবং খাবার নষ্ট করা।
উপরে উল্লিখিত পাপাচার ছাড়াও বর্তমানে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মব জাস্টিস বা গণপিটুনি এবং প্রকাশ্যে কবর ও মাজারকেন্দ্রিক শিরকি কর্মকাণ্ড ও নানাবিধ বিদআত সমাজকে কলুষিত করছে। এই ভয়াবহ পাপাচারগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

No comments:

Post a Comment

Translate