পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি।অতঃপর মানুষ কীভাবে উত্তম গুণাবলী অর্জন করতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমরা সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা করব।
.
.
এমনকি সচ্চরিত্র কিয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবে। কিয়ামতের দিন সচ্চরিত্রবান ব্যক্তির আসন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে বেশি নিকটে হবে।ইমাম তিরমিযি ‘হাসান’ সনদে জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:“তোমাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ও কিয়ামাতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে আসন হবে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী”(তিরমিযি হা/২০১৮;ইমাম আলবানী সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন) আরেক বর্ননায় ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম আব্দুল্লাহ্ বিন আমর (রাঃ) থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যার চরিত্র সর্বোত্তম”।(ইমাম বুখারী হা/৬০৩৫) ও ইমাম মুসলিম হা/২৩২১)
.
হাদিসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:فِيهِ الْحَثّ عَلَى حُسْن الْخُلُق , وَبَيَان فَضِيلَة صَاحِبه ، وَهُوَ صِفَة أَنْبِيَاء اللَّه تَعَالَى وَأَوْلِيَائِهِ ،قَالَ الْحَسَن الْبَصْرِيّ : حَقِيقَة حُسْن الْخُلُق بَذْل الْمَعْرُوف , وَكَفّ الْأَذَى , وَطَلَاقَة الْوَجْه .قَالَ الْقَاضِي عِيَاض : هُوَ مُخَالَطَة النَّاس بِالْجَمِيلِ وَالْبِشْر , وَالتَّوَدُّد لَهُمْ , وَالْإِشْفَاق عَلَيْهِمْ , وَاحْتِمَالهمْ , وَالْحِلْم عَنْهُمْ , وَالصَّبْر عَلَيْهِمْ فِي الْمَكَارِه , وَتَرْك الْكِبْر وَالِاسْتِطَالَة عَلَيْهِمْ ، وَمُجَانَبَة الْغِلَظ وَالْغَضَب , وَالْمُؤَاخَذَة”এ হাদিসে সচ্চরিত্রের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, সচ্চরিত্রবান লোকের মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। সচ্চরিত্র আল্লাহ্র নবী ও আল্লাহ্র ওলিদের বৈশিষ্ট্য।হাসান বসরি (রহঃ) বলেন: সচ্চরিত্রের স্বরূপ হচ্ছে– “কল্যাণ করায় এগিয়ে আসা, অনিষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকা এবং চেহারা প্রসন্ন রাখা।”কাযী ইয়ায বলেন: “সেটা হচ্ছে– মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার দিয়ে মেশা, তাদের প্রতি মমতা ও দয়া অনুভব করা, তাদেরকে সহ্য করা, ক্ষমা করে দেয়া, তাদের থেকে কষ্ট পেলে সবর করা, অহমিকা ও বড়ত্ব পরিত্যাগ করা, রুক্ষ, ক্রোধপূর্ণ ও প্রতিশোধের আচরণ বর্জন করা।”(ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৯৯০২১)
.
তাই অন্তরের রোগসমূহের চিকিৎসার নিয়মকানুন এবং উত্তম চরিত্র অর্জন করার পদ্ধতি রপ্ত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রতিটি অন্তরেরই নানান রোগ আছে। যদি সেগুলোর প্রতি অবহেলা করা হয়, তাহলে স্তূপে পরিণত হয়। প্রতিটি আত্মারই কিছু চরিত্র আছে, সেগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণহীন করে দেওয়া হয়, তাহলে দুনিয়া-আখিরাতে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।এ ধরনের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সূক্ষ্মভাবে রোগ ও কারণগুলো জানা, তারপর সেই রোগের চিকিৎসা ও সংশোধনে আন্তরিক প্রচেষ্টা; যাতে করে সফলতা অর্জন করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا“যে তাকে (আত্মাকে) পবিত্র করে সে সফলকাম হয়।”(সূরা শামস: ৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য দোয়া করে বলতেন:الَّلهُمَّ حَسَّنتَ خَلْقِي فَحَسِّن خُلُقِي “আল্লাহ! আপনি আমার আকৃতিকে সুন্দর করেছেন, অতএব আমার চরিত্রকেও সুন্দর করুন।”[হাদীসটি ইবনে হিব্বান; ৩/২৩৯) তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন এবং শাইখ আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ হা/৭৫) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন)
.
(১)। সে এমন শাইখের কাছে যাবে যে আত্মার দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে গভীর জ্ঞান রাখে এবং গোপন সমস্যাসমূহের ব্যাপারে অবহিত। তার কাছ থেকে সে জ্ঞান, প্রতিপালন ও দিক-নির্দেশনা একত্রে গ্রহণ করবে।
(২)। সে একজন সত্যবাদী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও দ্বীনদার বন্ধু খুঁজে বের করবে। তাকে নিজের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করবে যেন সে তার অবস্থাসমূহ ও কার্যাবলির দিকে নজর রাখে। তার যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি এবং প্রকাশ্য-গোপনীয় দোষ-ত্রুটিসমূহ সে অপছন্দ করে সেগুলো সে দেখিয়ে দিবে। বুদ্ধিমান ও বড় ইমামগণ এমনটি করতেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: যে ব্যক্তি আমার দোষ ধরিয়ে দেয় আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
(৩)। শত্রুদের মুখ থেকে নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে জানবে। কারণ অসন্তোষের চোখ দোষ প্রকাশ করে দেয়। যে বন্ধু তার প্রশংসা ও তোষামোদী করে এবং দোষ লুকিয়ে রাখে, তার তুলনায় হয়তো বিদ্বেষ পোষণকারী যে শত্রু তার দোষ-ত্রুটি স্মরণ করিয়ে দেয় তার দ্বারাই সে বেশি উপকৃত হবে।
(৪)। মানুষের সাথে মেলামেশা করা। এ মেলামেশার মাধ্যমে সে মানুষদের মাঝে যা কিছু নিন্দনীয় দেখতে পাবে সেগুলোর দায়ে নিজেকে অভিযুক্ত করবে। কারণ এক মুমিন অপর মুমিনের আয়নাস্বরূপ। সে অন্যের দোষ-ত্রুটির মাঝে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখতে পায়। ঈসা আলাইহিস সালামকে বলা হয়েছিল: কে আপনাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে? তিনি বলেছিলেন: কেউ আমাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়নি। আমি দেখেছি মূর্খের মূর্খতা লজ্জাস্কর। তাই আমি তা থেকে বিরত থেকেছি।
.
জ্ঞানের শক্তি, রাগের শক্তি, প্রবৃত্তির শক্তি এবং এই তিনটির মাঝে যথাযথ সমন্বয়ের (ইনসাফ করার) শক্তি।
জ্ঞানের শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে এর মাধ্যমে সত্য কথা ও মিথ্যা কথার মাঝে পার্থক্য করা, সঠিক বিশ্বাস ও অসঠিক বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করা এবং ভালো কাজ ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে। যদি এই শক্তি ঠিক থাকে তাহলে এর মাধ্যমে প্রজ্ঞার ফলাফল লাভ হয়। আর প্রজ্ঞা উত্তম গুণাবলির মূল। রাগের শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে প্রজ্ঞার চাহিদা অনুসারে রাগের বৃদ্ধি ও কমতি হবে।
প্রবৃত্তির শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে এটি প্রজ্ঞার পরামর্শের অনুগামী থাকবে। আমি বুঝাতে চাচ্ছি আকল ও শরীয়তের পরামর্শের অনুগামী থাকবে। আর ন্যায়ের শক্তি হচ্ছে: প্রবৃত্তি ও ক্রোধকে শরীয়ত ও আকলের পরামর্শের অনুগামী করা। আকল হচ্ছে পরামর্শদাতা ও উপদেশদাতার মত। ন্যায়ের শক্তি হচ্ছে সক্ষমতা। এটি আকলের পরামর্শ বাস্তবায়নকারীর মত। ক্রোধ হচ্ছে যার মাঝে পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়।
যার মাঝে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পরিপূর্ণতা পাবে ও সুষমভাবে অর্জিত হবে সেই পরম সচ্চরিত্রের অধিকারী। তার থেকে সকল উত্তম গুণাবলি উৎসারিত হবে। এই চারটি বৈশিষ্ট্যের পূর্ণমাত্রায় কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই পৌঁছতে পেরেছিলেন। তাঁর পরে এ বৈশিষ্ট্যগুলোর কাছাকাছি যেতে পারা ও দূরে থাকার ক্ষেত্রে মানুষের তারতম্য রয়েছে। এই গুণাবলির ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত কাছের সে আল্লাহর তত কাছের।
.
এক: আল্লাহর দান ও সহজাত পূর্ণতার মাধ্যমে।
দুই: প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে এগুলোকে অর্জন করা। আমি এর দ্বারা বোঝাতে চাচ্ছি নিজেকে এমন কাজে বাধ্য করা যা সচ্চরিত্রের প্রত্যাশিত দাবি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:العلم بالتعلم والحلم بالتحلم ومن يتحر الخير يعطه ومن يتوق الشر يوقه ‘শেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়। ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই ধৈর্যশীল হওয়া যায়। যে কল্যাণ অনুসন্ধান করে, তাকে তা দেওয়া হয়। যে মন্দ থেকে বিরত থাকতে চায়, তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখা হয়।’[হাদীসটি খত্বীব ও অন্যান্যরা আবুদ-দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী এটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]
তাই কেউ যদি বদান্যতার গুণ অর্জন করতে চায় তার করণীয় হলো বদান্য ব্যক্তির কাজকে নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া। তথা ব্যয় করাকে নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া। এভাবে নিয়মিত নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া ও আত্মার সাথে সংগ্রাম করার এক পর্যায়ে এটি তার স্বভাবে পরিণত হবে, তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। এভাবে সে একজন দানশীল ব্যক্তিতে পরিণত হবে।অনুরূপভাবে কারো মাঝে অহংকার থাকার কারণে সে যদি বিনয়ের চরিত্র ধারণ করতে চায় তাহলে তার উচিত হলো: নিয়মিত বিনয়ীদের কাজগুলো করার জন্য দীর্ঘদিন নিজেকে বাধ্য করা ও নিজের সাথে সংগ্রাম করা। এক পর্যায়ে বিনয় প্রকাশ তার স্বভাবে পরিণত হবে ও তার জন্য সহজ হয়ে যাবে।শরিয়ত-স্বীকৃত সকল ভালো গুণ এ প্রক্রিয়ায় অর্জিত হয়। কোনো ব্যক্তির মাঝে দ্বীনি আখলাক ততক্ষণ পর্যন্ত সুদৃঢ় হবে না যতক্ষণ না সে নিজেকে উত্তম অভ্যাসগুলোতে অভ্যস্ত করতে না পারে এবং খারাপ কাজগুলো ত্যাগ করতে না পারে। এবং যতক্ষণ না ভাল কাজগুলো সে এত নিবিঢ়ভাবে পালন করে যেন সে ভালো কাজগুলোর প্রতি আসক্ত এবং এগুলোতে সে শান্তি পায়, আর খারাপ কাজগুলোকে সে অপছন্দ করে এবং এগুলোতে সে কষ্ট পায়। একটি উদাহরণ থেকে বিষয়টি জানা যাবে:
যে ব্যক্তি চায় তার হাতের লেখার দক্ষতা একটি নিজস্ব গুণে পরিণত হোক যাতে করে সে জাত লেখক হয়ে উঠতে পারে তাহলে তার করণীয় হলো একজন দক্ষ লেখক যা করে নিজের হাত দিয়েও তা করা এবং নিয়মিত সুন্দর লেখাকে অনুকরণ করা। এক পর্যায়ে এটি তার সুদৃঢ় গুণে পরিণত হবে এবং সহজাতভাবে সুন্দর লেখা তার থেকে প্রকাশ পাবে।
আরেকটি উদাহরণ হলো: কেউ যদি ফকীহ হতে চায় তাহলে তাকে ফকীহদের কাজগুলো পুনঃপুনঃ করতে হবে। ফকীহদের কাজ হলো পুনঃপুনঃ ফিকহ চর্চা করা। এভাবে এক পর্যায়ে তার অন্তর ফিকহের বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে এবং সে ফকীহে পরিণত হয়।
একই কথা প্রযোজ্য কেউ যদি দানশীল হতে চায়, পুত চরিত্রের অধিকারী হতে চায়, সহিষ্ণু ও বিনয়ী হতে চায় তাহলে তাকে কৃত্রিমভাবে হলেও এদের কাজগুলো করতে হবে। এক পর্যায়ে সেটি তার স্বভাবে পরিণত হবে। এর বিকল্প কোনো উপায় নেই। যেমনিভাবে ফিকহ অন্বেষী (ছাত্র) এক রাত সময় দিয়ে এ মর্যাদা অর্জন থেকে হতাশ হয়ে যায় না, এমনকি কয়েক রাত পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমেও তা অর্জন করে ফেলে না; তেমনিভাবে আত্মার পরিশুদ্ধি অন্বেষী, পূর্ণতা ও উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের শোভা সন্ধানী এক দিনের ইবাদতের মাধ্যমে এটি লাভ করে না কিংবা এক দিনের গুনাহর মাধ্যমে সেটি হারিয়েও ফেলে না। কিন্তু, একদিনের বিরতি অনুরূপ অন্য আরেক দিনের বিরতি ডেকে আনে। তারপর দিনের পর দিন এমনটি ঘটতে থাকলে এক পর্যায়ে ব্যক্তির মন অলসতাকে আপন করে নেয়।
.
.
অনুরূপভাবে যে রোগ শরীরের ভারসাম্যতা পরিবর্তন করে দেয় এমন রোগের চিকিৎসা এর বিপরীত কিছু দিয়েই করতে হয়। যদি উষ্ণতার কারণে হয় তাহলে শীতলতা দিয়ে। আর শীতলতার কারণে হলে উষ্ণতা দিয়ে। ঠিক তেমনি অন্তরের রোগের চিকিৎসাও হবে এর বিপরীত বিষয় দিয়ে। অজ্ঞতা রোগের চিকিৎসা হবে ইলমের মাধ্যমে। কৃপণতা রোগের চিকিৎসা দানশীলতার মাধ্যমে। অহংকার রোগের চিকিৎসা বিনয়ের মাধ্যমে। খাদ্য-লিপ্সা রোগের চিকিৎসা কামনীয় খাবার থেকে জোরপূর্বক বিরত থাকার মাধ্যমে।অসুস্থ দেহের চিকিৎসার জন্য যেমনিভাবে ঔষধের তিক্ততা সহ্য করা ও কামনীয় খাবার থেকে কঠোর ধৈর্য ধারণ করতে হয়, তেমনিভাবে অন্তরের রোগের চিকিৎসার জন্যেও ধৈর্য ও সংগ্রামের তিক্ততা সহ্য করতে হয়। বরং অন্তরের ক্ষেত্রে এটি আরও অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ দেহের রোগ থেকে মৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তি মেলে। কিন্তু অন্তরের রোগ (আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাই) মৃত্যুর পরও অনন্তকাল বিরাজমান থাকবে। এই উদাহরণগুলো আপনাকে অন্তরের চিকিৎসার পথ চেনাবে। আপনাকে অবহিত করবে যে, অন্তরের চিকিৎসার সামগ্রিক পদ্ধতি হলো নফসের কামনা-বাসনার বিপরীতে চলা। আল্লাহ এ সব কিছু তাঁর মহান কিতাবের এক বাক্যে এভাবে উল্লেখ করেছেন:وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى . فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى“আর যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং কুপ্রবৃত্তি (নফসের কামনা) থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রেখেছে, তার বাসস্থান হবে জান্নাতে।”[সূরা নাযি’আত: ৪০-৪১]
পরিশেষে: সাধনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো: সংকল্পকে পূর্ণ করা। যদি ব্যক্তি কোনো প্রবৃত্তির কাজ পরিত্যাগের সংকল্প করে, তাহলে তাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে এবং অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সে যদি সংকল্প ত্যাগ করায় নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলে তাহলে তার নফস এটাকেই আপন করে নিবে এবং নষ্ট হয়ে যাবে। তাই যদি একবার কোনো সংকল্প লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তার উচিত নিজের উপর একটি শাস্তি আরোপ করা। সে যদি নিজের নফসকে শাস্তির ভয়-ভীতি না দেখায়, তাহলে তার নফস তাকে পরাভূত করে ফেলবে এবং কামনাকে পূরণ করা তার কাছে সুশোভিত করে তুলবে। যার ফলে সব অনুশীলন নষ্ট হয়ে যাবে। উপর্যুক্ত আলোচনাসমূহ গাযালীর; ৩/৬২-৯৮) ‘ইহয়াউ উলূমিদ্দীন’ গ্রন্থ থেকে পরিমার্জন ও সংযোজনসহ সংকলিত।গৃহীত; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১০১০২৩)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
No comments:
Post a Comment