Friday, March 27, 2026

শাশুড়িকে ফিতরা দেওয়ার বিধান কী এবং ফিতরা গ্রহণের পর তাঁর ঘরে মেহমান হিসেবে খাবার গ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি

 প্রশ্ন: শরীয়তের দৃষ্টিতে শাশুড়িকে ফিতরা দেওয়ার বিধান কী? এবং ফিতরা গ্রহণের পর তাঁর ঘরে মেহমান হিসেবে খাবার গ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ আছে কি?

▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
▪️প্রথমত: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর প্রথমত আমাদের জানা উচিত; যাকাতুল ফিতরের প্রকৃত হকদার কারা এটি শুধুমাত্র ফকির-মিসকীনকে দিতে হবে নাকি কুরআনে সূরা তওবায় উল্লেখিত আট শ্রেণীর মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে, এই মাসালায় আলেমের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, ফিতরা গ্রহণের যোগ্য একমাত্র ফকির ও মিসকীন। অর্থাৎ, এটি যাকাতের মতো আট শ্রেণিতে বিভক্ত হবে না। কারণ, ফিতরা যাকাতের অনুরূপ নয়; বরং এটি ফরজ করা হয়েছে মূলত মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে। সুতরাং এটি গরীব-মিসকীনদের জন্য খাস। দলিলের আলোকে এটিই বিশুদ্ধ মত। এই মতের পক্ষে রয়েছেন,মালেকি মাযহাবের ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বলের দুটি মতের একটি মত, শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া ও প্রিয় ছাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম,বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম বিন বায,ইবনু উসাইমীন, ইমাম আলবানী, শাইখ সালেহ আল ফাওযানসহ বহু বিশিষ্ট ফকিহ এ মতকে সমর্থন করেছেন। এই মতটি গ্রহণযোগ্য তার কারন হচ্ছে, রাসূল ﷺ মিসকীনদের খাদ্যস্বরূপ ফিতরাকে ফরজ করেছেন। তিনি অন্য কোনো খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য ফিতরাকে ফরজ করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন,فَرَضَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَكَاةَ الفِطرِ طُهرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغوِ وَالرَّفَثِ، وَطُعمَةً لِلمَسَاكِينِ.“আল্লাহ’র রাসূল ﷺ রোজা অবস্থায় কৃত অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচরণ থেকে রোজাদারকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং মিসকীনদের আহারের সংস্থান করার জন্য ফিতরাকে ফরজ করেছেন।”(আবূ দাঊদ, হা/১৬০৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮২৭; হাদিসটি হাসান) সুতরাং এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফিতরা কেবল ফকির-মিসকীনকে দিতে হবে, অন্য কোনো খাতে দেওয়া যাবে না।
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন,ومصرفها الفقراء والمساكين. لما ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «فرض رسول الله ﷺ زكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين». “ফিতরা বণ্টনের খাত হচ্ছে গরীব, মিসকীন। যেহেতু ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা ফরয করেছেন অনর্থক কথা-কাজ ও যৌনালাপ থেকে রোযাদারকে পবিত্র করাস্বরূপ এবং মিসকীনদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থাস্বরূপ।”(মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুম মুতানাওয়্যা‘আহ, খণ্ড;১৪ পৃষ্ঠা: ২০২) বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] কে ফিতরা বণ্টনের খাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,ليس لها إلا مصرف واحد وهم الفقراء، كما في حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: «فرض رسول الله ﷺ زكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين».”ফিতরার কেবল একটি মাত্র খাত রয়েছে, আর তা হচ্ছে,ফকির ব্যক্তিবর্গ। যেমন ইবনু ‘আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-এর হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন:‘আল্লাহর রাসূল ﷺ রোজাদারের অনর্থক কথা ও অশালীন আচরণ থেকে তাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং অভাবগ্রস্তদের খাদ্যের সংস্থান করার জন্য ফিতরা সদকা ফরজ করেছেন।’”(আবু দাউদ,হা/১৬০৯; ইমাম ইবনু ‘উসাইমীন, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল; খণ্ড: ১৮; পৃষ্ঠা: ২৫৯)
.
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা একথা পরিস্কার যে, ফিতরা শুধুমাত্র ফকির মিসকিন এই দুই শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের জন্য। অতএব, স্ত্রীর পরিবার যদি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তাদেরকে যাকাতুল ফিতর প্রদান করতে কোনো বাধা নেই; বরং অন্যদের তুলনায় তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক উত্তম। কেননা, শ্বশুরালয়ের আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সহমর্মিতা ও যত্ন প্রদর্শন করা একদিকে যেমন সাদাকাহর সওয়াব অর্জনের মাধ্যম, তেমনি তা স্ত্রীর সম্মান রক্ষা এবং তার প্রতি উত্তম আচরণেরও।
.
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:ولا شك أن الأصهار لهم حق ليس لأحد سواهم ممن ليس بصهر “নিশ্চয়ই শ্বশুরালয়ের আত্মীয়দের এমন একটি অধিকার রয়েছে, যা অন্য কারো নেই,যারা শ্বশুরালয়ের আত্মীয় নয়।”(ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব,পৃষ্ঠা: ৬৮২) সুতরাং আমরা আশা করি, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আপনাকে সদকার সওয়াব এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও স্ত্রীর পরিবারের প্রতি সদাচরণের সওয়াব দান করবেন। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
.
▪️দ্বিতীয়ত: শাশুড়িকে ফিতরা প্রদান করার পর, তাঁর ঘরে অতিথি হিসেবে খাবার গ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি?
.
ফিতরা গ্রহণ করা ব্যক্তির উপর কোনো বিশেষ বিধিনিষেধ নেই। একবার শাশুড়ি ফিতরা গ্রহণ করলে, তার সাধারণভাবে খাওয়া-দাওয়া বা অতিথি আপ্যায়ন করার স্বাধীনতা থাকে। অতএব, আপনি যদি আপনার শ্বশুরবাড়িতে অতিথি হিসেবে যান, তাহলে তারা ফিতরা গ্রহণ করেছেন—এ কারণে তাদের ঘরে আহার গ্রহণে কোনো ধরনের হালাল-হারামের বাধা নেই। সুতরাং সেখানে স্বাভাবিকভাবেই খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। কারণ আলেমগণের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি মৌলিক (কায়দা) মূলনীতি হলো:أن الشيء يتغير حُكْمُه بتغير سبب مُلكه “কোনো বস্তুর মালিকানার কারণ পরিবর্তিত হলে, তার বিধান (হুকুম) ও সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে যায়।”
.
এর সপক্ষে অন্যতম দলিল হচ্ছে, বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন: রাসূল ﷺ) ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন একটি হাঁড়িতে গোশত ফুটছিল। এরপর তাঁর সামনে রুটি এবং ঘরের সাধারণ কিছু তরকারি পেশ করা হলো। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “আমি কি হাঁড়িতে গোশত ফুটতে দেখিনি? তাঁরা বললেন: “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! কিন্তু এই গোশত বারীরাহকে সদকা হিসেবে দেওয়া হয়েছে, আর আপনি তো সদকা খান না। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন:(هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ ) “এটি তার (বারীরার) জন্য সদকা, কিন্তু আমাদের জন্য উপহার (হাদিয়া)।”(সহীহ বুখারী হ/৫২৭৯;ও মুসলিম হা/১০৭৪) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এখানে মালিকানার কারণ পরিবর্তন হওয়াকে খোদ বস্তুটি পরিবর্তন হওয়ার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। অর্থাৎ, সদকা যখন কোনো গরিব ব্যক্তি গ্রহণ করে, তখন সেটি তার মালিকানায় চলে আসে এবং তা থেকে ‘সদকা’ হওয়ার বৈশিষ্ট্য দূর হয়ে যায়।এরপর সে ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারে, বিক্রি করতে পারে কিংবা কাউকে (হিবা) উপহার দিতে পারে।
.
উপরোক্ত হাদিসের আলোকে শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন,فيه دَلِيل عَلَى أَنَّهُ إِذَا تَغَيَّرَتْ الصِّفَة تَغَيَّرَ حُكْمُهَا ، فَيَجُوز لِلْغَنِيِّ شِرَاؤُهَا مِنْ الْفَقِير ، وَأَكْلهَا إِذَا أَهْدَاهَا إِلَيْهِ ، وَلِلْهَاشِمِيِّ ، وَلِغَيْرِهِ مِمَّنْ لَا تَحِلّ لَهُ الزَّكَاة اِبْتِدَاءً “এতে প্রমাণ রয়েছে যে, যখন কোনো বস্তুর গুণাবলি (অবস্থা) পরিবর্তিত হয়, তখন তার হুকুমও পরিবর্তিত হয়। সুতরাং ধনী ব্যক্তির জন্য গরিবের কাছ থেকে তা ক্রয় করা বৈধ, এবং যদি গরিব ব্যক্তি তা তাকে উপহার দেয় তবে তা খাওয়াও বৈধ। একইভাবে হাশেমী এবং অন্য যাদের জন্য শুরুতেই যাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়, তাদের জন্যও (এই অবস্থায়) তা বৈধ।”(ইমাম নববী, শারহু সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ২৭৪)
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি,(রাহিমাহুল্লাহ) [জন্ম: ৭৭৩ হি: মৃত: ৮৫২ হি:] বলেন:فيؤخذ منه أن التحريم إنما هو على الصفة ، لا على العين “এ থেকে বোঝা যায় যে নিষেধাজ্ঞা মূলত বস্তুর উপর নয়, বরং তার গুণ (অবস্থা)-এর উপর।”(ফাতহুল বারী; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ২০৪)
.
আশ-শাইখ, আল-‘আল্লামাহ, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুফাসসির, আল-ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,وفى أكله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِن اللحم الذي تُصدِّقَ به على برَيرة .. دليلٌ على جواز أكل الغني ، وبني هاشم ، وكل من تحرم عليه الصدقة مما يُهديه إليه الفقير من الصدقة ؛ لاختلاف جهة المأكول ” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বারীরাহ (রাঃ)-এর উপর সদকা করা গোশত থেকে খাওয়ার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, ধনী ব্যক্তি, বানী হাশেম এবং যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম, তাদের জন্যও গরিব ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত (সদকার বস্তু) উপহার হিসেবে পেলে তা খাওয়া বৈধ; কারণ ভক্ষণ করার দিক (উৎস/প্রেক্ষাপট) ভিন্ন হয়ে গেছে।”(ইবনু ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ১৭৫)
.
বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও উসূলবিদ আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:دل ذلك على أن الإنسان إذا قبض الشيء بحق ، فإنه لا يَحرم على غيره ممن لو قبضه من المعطي الأول لم يحل.ونظير ذلك الفقير يأخذ الزكاة ، ويجوز أن يصنع به طعاماً يدعو إليه الأغنياء ، فيأكلون منها ؛ لأن الغني لم ينتفع به على أنه زكاة ، بل على أنه من هذا الفقير الذي ملكه بحق “এটি প্রমাণ করে যে, কোনো ব্যক্তি যখন কোনো বস্তু বৈধভাবে গ্রহণ করে, তখন তা অন্য কারো জন্য হারাম হয় না,যদিও সে ব্যক্তি যদি প্রথম দাতার কাছ থেকে সরাসরি তা গ্রহণ করত, তবে তার জন্য তা বৈধ হতো না। এর উদাহরণ হলো: গরিব ব্যক্তি যাকাত গ্রহণ করে, তারপর সে তা দিয়ে খাবার তৈরি করে এবং ধনীদের দাওয়াত দেয়, তারা তা খেতে পারে; কারণ ধনী ব্যক্তি তা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করছে না, বরং সেই গরিব ব্যক্তির পক্ষ থেকে, যে তা বৈধভাবে মালিক হয়েছে।”(ইবনু উসাইমীন, ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, পৃষ্ঠা: ২৩৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

No comments:

Post a Comment

Translate