Friday, March 27, 2026

ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার সালাতের আগে বা পরে অতিরিক্ত কোনো সালাত আছে কি

 প্রশ্ন: ঈদুল ফিতর/ঈদুল আযহার সালাতের আগে বা পরে অতিরিক্ত কোনো সালাত আছে কি?

▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর ঈদের দিন ইমাম মুসল্লিদেরকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। উমর (রাঃ) বলেন: ঈদুল ফিতর এর সালাত হচ্ছে- দুই রাকাত এবং ঈদুল আযহার সালাত হচ্ছে- দুই রাকাত। আপনাদের নবীর বাণী অনুযায়ী এটাই পরিপূর্ণ সালাত ; কসর (রাকাত-সংখ্যা হ্রাসকৃত) নয়। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলবে সে ব্যর্থ হবে।”(সুনানে নাসাঈ হা/১৪২০), সহিহ ইবনে খুযাইমা এবং আলবানী ‘সহিহুন নাসাঈ’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন) আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্য বের হতেন। তিনি সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করতেন সেটা হচ্ছে সালাত ।(সহিহ বুখারী হা/৯৫৬) সুতরাং ঈদগাহ ময়দানে ঈদের সালাতের পূর্বে অথবা পরে কোন নফল সালাত নেই। প্রখ্যাত সাহাবী ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযি.)-কে সঙ্গে নিয়ে ‘ঈদুল ফিতরের দিন বের হয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।'(সহীহ বুখারী হা/৯৮৯; সহীহ মুসলিম হা/৮৮৪)
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল;যে ব্যক্তি ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়তে এসেছে তার জন্যে কি তাহিয়্যাতুল মাসজিদের দুই রাকাত সালাত পড়া জায়েয আছে?
জবাবে স্থায়ী কমিটির আলেমগন বলেছেন;لا يصلي من دخل المصلى لصلاة العيد ركعتين تحية قبل أن يجلس ؛ لأن صلاة التحية بالمصلى مخالف لما كان عليه العمل من النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم .وبالله التوفيق وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم .”যে ব্যক্তি ঈদের সালাত আদায় করার জন্য ঈদগাহে এসেছেন তিনি বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত পড়বেন না। কেননা ঈদগাহে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের আমলের বিপরীত।আল্লাহ্‌ই তাওফিকদাতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীবর্গের উপর আল্লাহ্‌র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ২৭৪)
.
তবে ঈদের সালাত শরীয়ত সম্মত কোন কারনে মসজিদে আদায় করা হলে সেখানে বসার পূর্বে দুই রাকাআত তাহিয়াতুল মসজিদ পড়তে হবে। কেননা আবূ ক্বাতাদা সালামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ”তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন বসার পূর্বে দুই রাকআত সালাত আদায় করবে”।(সহীহ বুখারী, হা/৪৩৩; সহীহ মুসলিম,হা/৭১৪; মিশকাত, হা/৭০৪)। ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই হাদীসে মসজিদে প্রবেশকারীকে বসার আগে দুই রাকা‘আত পড়ার নির্দেশ আছে। তবে এই নির্দেশ সর্বসম্মতভাবে সুন্নাতের জন্য, ওয়াজিব নয়। শুধু কিছু যাহিরির থেকে ওয়াজিব বলার কথা এসেছে।(ফাৎহুল বারী; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৪৬২-৪৬৩) ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,”তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা মুস্তাহাব (সুন্নাত) হওয়ার ব্যাপারে আলিমদের সর্বসম্মতি রয়েছে। কোন ওজর ছাড়া তা আদায় না করে বসে পড়া অপসন্দনী। “(নববী; আল-মাজমূঊ: খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৫৪৪)
.
পাশাপাশি এ কথা জেনে রাখা ভালো যে, ঈদের সালাতের আগে বা পরে কোনো নফল সালাত নেই—এ বিধানটি মূলত ঈদগাহ ময়দানের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে ঈদের সালাত আদায় করে বাড়িতে ফিরে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করা জায়েজ। কারণ, যে হাদিসে ঈদের সালাতের আগে-পরে নফল সালাত না থাকার কথা বলা হয়েছে, সেখানে ঘরে বা ঈদগাহ থেকে দূরে অন্য কোথাও নফল নামাজ আদায়ের নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করা হয়নি (অর্থাৎ তা নিষিদ্ধ নয়)। বরং এ বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে—আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল, আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি প্রখ্যাত সাহাবী আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবী আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, كَانَ- رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لاَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعِيدِ شَيْئًا فَإِذَا رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ‏.‏”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতের আগে কোন সালাত আদায় করতে না। তবে তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন।” (মুসনাদে আহমেদ হা/১০৮৪২, ১০৯৬২; ইবনু মাজাহ হা/১২৯৩; সহীহুল জামে হা/৪৮৫৯) তাহক্কীক; হাদিস সহিহ জয়ীফ হওয়া নিয়ে আলেমগনের মাঝে মতানৈক রয়েছে।একদল আলেম এর সনদ যঈফ বলেছেন কারণ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল রয়েছে যিনি বিতর্কিত যাকে ইমাম মালেক বিন আনাস এবং ইমাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান যঈফ বলেছেন,অপরদিকে ইমাম আলবানী,ইমাম হাকেম,ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ বলেছেন।
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী আদ-দিমাশক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন, أخرجه ابن ماجه (1293)، وأحمد (3/28 و40) نحوه ، والحاكم (1/297) وعنه البيهقي الشطر الثاني منه، وقال الحاكم: ” صحيح الإسناد ” ووافقه الذهبي.قلت: إنما هو حسن فقط، فإن ابن عقيل فيه كلام من قبل حفظه؛ ولذلك قال الحافظ في ” بلوغ المرام ” والبوصيري في ” الزوائد “: ” هذا إسناد حسن”.والتوفيق بين هذا الحديث ، وبين الأحاديث المتقدمة النافية للصلاة بعد العيد، بأن النفي إنما وقع على الصلاة في المصلي، كما أفاد الحافظ في “التلخيص”. والله أعلم”এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১২৯৩), আহমাদ (৩/২৮ ও ৪০) এবং হাকেম (১/২৯৭); আর হাকেম থেকে বর্ণনা করেছেন বায়হাকী—এর শেষাংশটুকু। ইমাম হাকেম বলেছেন: ‘এটির সনদ সহীহ এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমি (আলবানী) বলছি: এটি বড়জোর ‘হাসান’ (স্তরের হাদিস)। কারণ (রাবী) ইবনে আকীলের হেফজ বা স্মরণশক্তির বিষয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে। আর একারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘বুলুগুল মারাম’-এ এবং বুসিরী ‘আয-যাওয়ায়েদ’-এ বলেছেন: ‘এই সনদটি হাসান’। এই হাদিস এবং পূর্বোক্ত সেই হাদিসগুলো—যেগুলোতে ঈদের পরে সালাত নেই বলে নফি (অস্বীকৃতি) এসেছে—এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় হলো: এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ঈদগাহে (সালাত আদায়ের) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।”(ইমাম আলবানী; ইরওয়াউল গালীল, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১০০ হা/৩৯৯ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
.
ইমাম ইবনু রজব আল-হাম্বালী আল-বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত:৭৯৫ হি:] বলেছেন,فأما الإمام: فلا نعلم في كراهة الصلاة له خلافاً ، قبلها وبعدها.وكل هذا في الصلاة في موضع صلاة العيد.فأما الصلاة في غير موضع صلاة العيد، كالصلاة في البيت أو في المسجد، إذا صليت العيد في المصلى، فقال أكثرهم: لا تكره الصلاة فيه قبلها وبعدها.روي ذلك عن بريدة، ورافع بن خديج. وذكره عباس بن سهل، عن أصحاب النبي صلَّى اللهُ عليه وسلَّم، أنهم كانوا يفعلونه. “ইমামের ব্যাপারে ঈদের সালাতের আগে ও পরে (নফল) সালাত পড়া মাকরূহ এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আমরা জানি না। এ সমস্ত আলোচনা ঈদের সালাতের স্থানে সালাত আদায় করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যদি ঈদের সালাত মুসাল্লায় আদায় করা হয়, আর অন্য কোনো স্থানে যেমন ঘরে বা মসজিদে সালাত পড়া হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে সেখানে ঈদের আগে বা পরে সালাত পড়া অপছন্দনীয় নয়। এ মতটি বর্ণিত হয়েছে বুরাইদা ইবনুল হুসাইব এবং রাফি ইবন খুদাইজ রা. থেকে। আর আব্বাস ইবনে সাহল রহ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা এভাবেই আমল করতেন।”(ফাতহুল বারী; খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ৯৩)।
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলি ইবনু হাজার আল-আসকালানি, (রাহিমাহুল্লাহ) [জন্ম: ৭৭৩ হি: মৃত: ৮৫২ হি:] বলেন:أن النفي إنما وقع على الصلاة في المصلى “নিষেধাজ্ঞার (নফল সালাত না পড়ার) বিষয়টি কেবল মুসাল্লায় সালাত পড়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”(আত তালখীসুল হাবীর; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১০৮৩) ঈদের দিনের সকালে (সুবহে সাদিকের পর) নফল সালাত পড়ার মূল বিষয়টি এ ব্যাপারে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা জানা যায় না।
.
ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:الصلاة مباحة في كل يوم وفي كل وقت إلا في الأوقات التي نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة فيها وهي وقت طلوع الشمس، ووقت غروبها، ووقت الزوال، وقد كان تطوع رسول الله صلى الله عليه وسلم في عامة الأوقات في بيته، ولم يزل الناس يتطوعون في مساجدهم، فالصلاة جائزة قبل صلاة العيد وبعده، ليس لأحد أن يحظر منه شيئا.وليس في ترك النبي صلى الله عليه وسلم أن يصلي قبلها وبعدها : دليل على كراهية الصلاة في ذلك الوقت؛ لأن ما هو مباح لا يجوز حظره إلا بنهي يأتي عنه، ولا نعلم خبرا يدل على النهي عن الصلاة قبل صلاة العيد وبعده، وصلاة التطوع في يوم العيد ، وفي سائر الأيام ، في البيوت : أحب إلينا للأخبار الدالة على ذلك “প্রতিদিন এবং প্রতিটি সময়ে সালাত পড়া বৈধ, তবে সে সময়গুলো ছাড়া যেগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়তে নিষেধ করেছেন। আর সেগুলো হলো সূর্যোদয়ের সময়, সূর্যাস্তের সময় এবং সূর্য ঠিক মাথার উপরে অবস্থায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় তাঁর ঘরে নফল সালাত আদায় করতেন। আর মানুষও সর্বদা তাদের মসজিদগুলোতে নফল সালাত আদায় করে আসছে। অতএব, ঈদের সালাতের আগে ও পরে সালাত পড়া বৈধ। এ ব্যাপারে কাউকে নিষেধ করার অধিকার কারো নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের আগে বা পরে সালাত পড়েননি এটা এ সময়ে সালাত পড়া মাকরূহ হওয়ার প্রমাণ নয়। কারণ, যা বৈধ তা নিষিদ্ধ করা যায় না, যতক্ষণ না এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আসে। আমরা এমন কোনো হাদিস জানি না যা ঈদের সালাতের আগে বা পরে সালাত পড়া নিষিদ্ধ করে। আর ঈদের দিনসহ অন্যান্য দিনগুলোতে নফল সালাত ঘরে আদায় করা আমাদের কাছে বেশি পছন্দনীয় কারণ এ ব্যাপারে প্রমাণসমূহ রয়েছে।”(আল আওসাত; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২৭০)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।

No comments:

Post a Comment

Translate