ইসলামের দৃষ্টিতে আদব তথা শিষ্টাচার, ভদ্রতা এবং সুন্দর আচার-আচরণ বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের জ্ঞানের বহর কম থাকলেও যদি তার মধ্যে থাকে, বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, মানবতাবোধ, পরোপকার এবং সুন্দর আচার-আচরণ তাহলে তার মধ্যে বেশি কল্যাণ রয়েছে—ওই ব্যক্তির চেয়ে, যার উচ্চ শিক্ষার সনদ এবং বিশাল জ্ঞানের বহর আছে কিন্তু সে বেয়াদব ও চরিত্রহীন। এইজন্যেই বলা হয়,“দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।” প্রকৃতপক্ষে যে শিক্ষা মানুষকে সহনশীলতা, ধৈর্যশীলতা, ক্ষমা, ভদ্রতা ও ন্যায়পরায়নতা ইত্যাদি মানবিক গুণে অলংকৃত করে না তা কোন শিক্ষা নয়। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষের প্রতি মানুষের সম্মানবোধ, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং মানবতা শেখায় না তা কোন শিক্ষা নয়। যে শিক্ষা মানুষকে অহংকারী, অসভ্য ও বেয়াদব করে তোলে তা হল, শিক্ষার নামে কুশিক্ষা।
Saturday, November 8, 2025
জ্ঞান শেখার আগে আদব বা শিষ্টাচার শেখার গুরুত্ব
তাই জ্ঞান শেখার চেয়ে ভালো ব্যবহার ও চরিত্র গঠনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিম্নে জ্ঞানের পাহাড় জমানোর চেয়ে আদব-কায়দা এবং ভদ্রতা ও চরিত্র শেখার প্রতি আমাদের সালাফ বা পূর্বসূরিগণ কতটা গুরুত্ব দিতেন তার কিছু চিত্র তুলে ধরা হল:
✪ ১. ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন:
طلبت الأدب ثلاثين سنةً, وطلبت العلم عشرين سنةً, وكانوا يطلبون الأدب قبل العلم
“আমি ত্রিশ বছর ধরে আদব শিখেছি, আর বিশ বছর জ্ঞান (ইলম) শিখেছি। সালাফগণ তথা পূর্বসূরিগণ জ্ঞানের আগে আদব শিখতেন।”
[ইবনু জাযারী, গায়াতুন নিহায়া, ১/৪৪৬]
✪ ২. তিনি আরও বলেন:
“نحن إلى قليل من الأدب أحوج منا إلى كثير من العلم
“আমাদের বেশি জ্ঞানের চেয়ে অল্প আদবের বেশি প্রয়োজন।”
[ইবনুল কায়্যিম, মাদারিজুস সালিকীন, ২/৩৫৬]
✪ ৩. খতিব আল বাগদাদী তাঁর ‘আল জামে’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, ইবনু সিরিন বলেছেন:
“সালাফগণ যেমন জ্ঞান শিখতেন, তেমনি সুন্দর চালচলন ও উত্তম চরিত্র শিখতেন। ইবনে সিরিন একজনকে পাঠিয়েছিলেন যেন সে বিশিষ্ট তাবেয়ী কাসেম (মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক রা.) এর চালচলন ও অবস্থা দেখে আসে।”
[খতিব আল বাগদাদি, আল জামে, ১/৭৯]
✪ ৪. ইবরাহিম ইবনে হাবিব ইবনুশ শহিদ বলেন, তাঁর পিতা তাঁকে বলেছিলেন:
يا بنيَّ، ايتِ الفقهاءَ والعلماء، وتعلم منهم، وخُذْ مِن أدبهم وأخلاقهم وهَدْيِهم؛ فإن ذاك أحبُّ إليَّ لك من كثير من الحديث
“হে আমার সন্তান, তুমি ফকিহ ও উলামাদের কাছে যাও, তাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করো এবং তাদের আদব, নৈতিকতা ও চালচলন থেকে শিক্ষা নাও। কারণ আমার কাছে, এটি তোমার জন্য প্রচুর পরিমাণ হাদিস শেখার চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।”
[খতিব আল বাগদাদী, আল জামে, ১/৮০]
✪ ৫. ইমাম ইবনু মুফলিহ আল মাকদিসি রাহ. এই মহান আদবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইলমের অলঙ্কার পরার আগে আদবের অলঙ্কার পরিধান করা উচিত।
এবং প্রত্যেক মুমিনের উচিত, সকল অবস্থায় এই আদবগুলো (শিষ্টাচার/নিয়মগুলো) মেনে চলা/অনুসরণ করা।
✪ ৬. উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,
تأدبوا ثم تعلموا
“তোমরা প্রথমে আদব শিখো, তারপর জ্ঞান (ইলম) অর্জন করো।”
✪ ৭. আবু আব্দুল্লাহ আল বালখি বলেছেন:
أدبُ العلم أكثرُ من العلم
“জ্ঞানের আদব জ্ঞানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
✪ ৮. আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন:
إذا وُصِف لي رجلٌ له علم الأولين والآخِرين لا أتأسَّف على فَوْت لقائه، وإذا سمعت رجلاً له أدب القسِّ أتمنى لقاءَه وأتأسَّف على فَوته
“যদি আমাকে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়, যার পূর্বাপর সকল জ্ঞান আছে, তার সাথে দেখা না হলেও আমি দুঃখ করি না। কিন্তু যদি শুনি কারো উত্তম আদব আছে, তাহলে তার দেখা পেতে ইচ্ছা করি এবং সাক্ষাৎ না হলে আফসোস করি।”
[আল-মাকদিসী, আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ, ৪/২০৭]
✪ ৯. আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূরা তাহরিম-এর নিমোক্ত ৬ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো”) অর্থাৎ তাদেরকে আদব (শিষ্টাচার) শিক্ষা দাও এবং তাদেরকে জ্ঞান (ইলম) শিক্ষা দাও।”
[আল-মাকদিসী, আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ, ৪/২০৮-২০৯]
তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত, জ্ঞানের চেয়ে সন্তানদের আদব ও নৈতিকতার ওপর বেশি জোর দেওয়া, যাতে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হয় যারা জ্ঞান অর্জনের আগেই জ্ঞানী ও জ্ঞানের মূল্য বুঝতে পারে।
মূল উৎস: alukah
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদ আরব।
তাসবিহ দানা ও কাউন্টার মেশিন ইত্যাদি দ্বারা তাসবিহ গণনা করা কি বিদআত
প্রশ্ন: পুঁথির মালা, কাউন্টার মেশিন, নুড়ি পাথর, খেজুর বা তেঁতুলের বীজ ইত্যাদি দ্বারা তাসবিহ গণনা করা কি বিদআত?
উত্তর: তাসবিহ দানা বা পুঁথির মালা দ্বারা তাসবিহ গণনা করাকে সরাসরি বিদআত বলা ঠিক নয়। তবে এভাবে বলা যায় যে, আঙ্গুলের কর দ্বারা গণনা ভালো। বরং এটাই সুন্নত। কিন্তু প্রয়োজনবোধে তাসবিহ দানা, কাউন্টার মেশিন কিংবা নুড়ি পাথর, খেজুর বা তেঁতুলের বীজ ইত্যাদি দ্বারা তাসবিহ গণনা করা জায়েজ আছে। যেমন: বয়োবৃদ্ধ বা অসুস্থ হওয়ার কারণে আঙ্গুল দ্বারা তাসবি গণনা করা কষ্ট হয় বা সংখ্যা মনে রাখতে না পারে ইত্যাদি। তবে শর্ত হল, মনকে রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব থেকে দূরে রাখবে। এ ব্যাপারে সাহাবিদের আমল পাওয়া যায়। অন্যথায় তাসবিহ দানা বা কাউন্টার মেশিন ইত্যাদি ব্যবহার না করাই ভালো। এতে রিয়া বা লোক দেখানোর মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
❖❖ এ বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ব বরেণ্য কয়েকজন আলেমের ফতোয়া:
❑ ১. সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ.
প্রশ্ন: পূঁথির মালা দ্বারা তাসবিহ পাঠ করার হুকুম কী? এটা কি বিদআত?
উত্তর:
الراجح أنه لا حرج في ذلك؛ لأنه ورد عن بعض الصحابيات وعن بعض السلف التسبيح بالحصى، وبالنوى، والعقد لا بأس، لكن الأصابع أفضل، كونه يسبح بأصابعه كما كان النبي ﷺ يسبح بأصابعه، هذا هو الأفضل، هذا هو السنة بالأصابع.
وإن سبح بالسبحة، أو بالحصى، أو بالنواة بعض الأحيان في بيته؛ فلا بأس؛ لكن في المساجد عند الناس الأفضل بالأصابع كما كان النبي يفعل، عليه الصلاة والسلام.
“অগ্রগণ্য মতানুসারে এতে কোনও দোষ নেই। কারণ কিছু মহিলা সাহাবি এবং কিছু সালাফ থেকে পাথর, খেজুরের আঁটি এবং সুতায় গিঁটের তাসবিহ পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং এতে কোনও সমস্যা নেই। তবে আঙ্গুল উত্তম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন আঙ্গুল দিয়ে তসবিহ গণনা করতেন, তেমনি আঙ্গুল দিয়ে তসবিহ গণনা করা। এটাই সবচেয়ে উত্তম-এটাই সুন্নাহ। আর যদি কেউ মাঝে মাঝে নিজের ঘরে পুঁথির মালা, পাথর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে তসবিহ গণনা করে তাহলে কোনও দোষ নেই। কিন্তু মসজিদে লোকদের মাঝে আঙ্গুল দিয়ে তসবিহ গণনা করাই উত্তম—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন।”
❑ ২. আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ.
বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রহ. বলেন,
التسبيح بالمسبحة لا نقول إنه بدعة لأن التسبيح بالمسبحة لا يقصد به االتعبد إنما يقصد به ضبط العدد فهو وسيلةٌ وليس بغاية فعلى هذا لا نقول إنه بدعة ولكننا نقول إن التسبيح بالأصابع أفضل لأن هذا هو الذي أرشد إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله (اعقدن بالأنامل فإنهن مستنطقات) وهذا يدل على أن الأفضل العقد بالأنامل لأنها سوف تشهد يوم القيامة بالعمل الذي حركت فيه والتسبيح بالمسبحة فيه شيء.
أولاً أنه خلاف ما أرشد إليه النبي صلى الله عليه وسلم.
وثانياً أنه قد يجر إلى الرياء كما يشاهد بعض الناس الذين يتقلدون مسابح في أعناقهم في المسبحة ألف خرزة كأنما يقول للناس انظروا فإننا نسبح ألف مرة فهو يحمل على الرياء.
ثالثاً أن من يسبح بالمسبحة تجد قلبه غافلاً يفرغ هذا الخرز وعيناه تدوران يميناً وشمالاً أويتجول يميناً وشمالاً فاستعمال المسبحة أقرب للغفلة من استعمال الأصابع ولهذا ينبغي للإنسان أن يعقد التسبيح بأصابعه والأفضل أن يكون ذلك باليد اليمنى وإن عقد باليدين جميعاً فلا بأس.
“তাসবিহ দানা বা পুঁথির মালা দিয়ে তাসবিহ গণনা করাকে আমরা বিদআত বলব না। কারণ তাসবি দানা দিয়ে তাসবিহের উদ্দেশ্য ইবাদত নয় বরং এটি শুধুমাত্র সংখ্যা গণনার একটি উপায়।
এটি একটি মাধ্যম মাত্র; মূল লক্ষ্য নয়। তাই এটিকে বিদআত বলা যায় না। কিন্তু আমরা বলব যে, আঙ্গুল দিয়ে তাসবিহ গণনা করা অধিক উত্তম। কারণ এটিই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশিত পথ। তিনি বলেছেন: “আঙ্গুল দিয়ে গণনা করো। কারণ আঙ্গুলগুলো সাক্ষ্যদানকারী।” এটা প্রমাণ করে যে, আঙ্গুল দিয়ে গণনা করা উত্তম। কারণ কিয়ামতের দিন এই আঙ্গুলগুলো সাক্ষ্য দেবে যে, তাদের মাধ্যমে কী কাজ করা হয়েছে।
কিন্তু তাসবি দানা ব্যবহারে কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন:
◆ প্রথমত: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথ থেকে বিচ্যুতি।
◆ দ্বিতীয়ত: এটি রিয়া বা লোক দেখানোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আমরা দেখি, কিছু লোক গলায় হাজার দানার মতো বড় তাসবিহ দানা ঝুলিয়ে রাখে, যেন লোকদের বলছে: “দেখো, আমি হাজার বার তাসবিহ পাঠ করি!” এটি রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাবের সৃষ্টি করে।
◆ তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি তাসবিহ দানা দিয়ে তাসবিহ পড়ে কিন্তু তার অন্তর উদাসীন থাকে। এ অবস্থায় সে এদিক-সেদিক তাকায় আর ঘোরাঘুরি করে।
তাই আঙ্গুল ব্যবহারের থেকে তাসবিহ দানা ব্যবহার বেশি উদাসীনতার দিকে নিয়ে যায়।
অতএব, মানুষের উচিত আঙ্গুল দিয়ে তাসবিহ গণনা করা। এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হল, ডান হাত দিয়ে তাসবিহ গণনা করা। যদি দুই হাতেই করে তাতেও কোনও সমস্যা নেই।”
[উৎস: কিতাবুল আজকার/ ফাতাওয়া নূর আলাদ দারব, ২৪র্থ খণ্ড/২য় পৃষ্ঠা]
❑ ৩. সৌদি আরবের বর্তমান প্রধান মুফতি আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ):
প্রশ্ন: আল্লাহর জিকির স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাসবিহ দানা (পুঁথির মালা) ব্যবহার করার হুকুম কী?
উত্তর: যদি কোনও ব্যক্তি এই বিশ্বাসে তাসবিহ দানা ব্যবহার করে যে, এটি ব্যবহার করায় কোনও ফজিলত রয়েছে এবং এটি আল্লাহ তাআলার জিকিরের অন্যতম মাধ্যম, তাহলে এটি বিদ’আত।
কিন্তু যদি কেউ এটিকে মুবাহ (বৈধ) কাজ হিসেবে ব্যবহার করে অথবা যে সংখ্যা গণনা করা তার জন্য জরুরি, তা গণনা করার জন্য ব্যবহার করে তাহলে এটি বৈধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু এটিকে যদি দ্বীন (ধর্ম) বা নৈকট্যের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাহলে এটি নব-আবিষ্কৃত বিদ’আত বলে গণ্য হবে।
যখন কোনও ব্যক্তি তাসবিহ করতে চায়, তখন তার উচিত হল, তা আঙুল গুনে (আঙুলের গিঁট বা কর গুনে) আল্লাহর তাসবিহ গণনা করা। এটাই করা উচিত।
কিন্তু তাসবিহকে এই বিশ্বাসে গ্রহণ করা যে, এটির মধ্যে কোনও ফজিলত রয়েছে, যেমনটা কিছু সুফি এবং তাদের অনুসারীরা বিশ্বাস করে—যার ফলে আপনি তাদের অনেককে বিশাল বিশাল পুঁথির দানা বহন করতে এবং গলায় ঝুলিয়ে রাখতে দেখবেন—এটি এমন একটি ভিত্তিহীন বিদ’আত । এটি রিয়া (লোক দেখানো)-এর অন্তর্ভুক্তও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।
❑ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেছেন:
عد التسبيح بالأصابع سنة… وأما عده بالنوى والحصى ونحو ذلك فحسن، وكان من الصحابة رضي الله عنهم من يفعل ذلك، وقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم أم المؤمنين تسبح بالحصى، وأقرها على ذلك. وروي أن أبا هريرة كان يسبح به. وأما التسبيح بما يجعل في نظام الخرز ونحوه، فمن الناس من كرهه، ومنهم من لم يكرهه، وإذا أحسنت فيه النية فهو حسن غير مكروه، وأما اتخاذه من غير حاجة، أو إظهاره للناس مثل: تعليقه في العنق، أو جعله كالسوار في اليد، أو نحو ذلك، فهذا إما رياء للناس، أو مظنة المراءاة ومشابهة المرائين من غير حاجة، والأول محرم، والثاني أقل أحواله الكراهة…) انتهى من مجموع الفتوى ( 22/506
“আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা সুন্নত…। আর বীজ, পাথর ইত্যাদি দিয়ে তাসবিহ গণনা করা ভালো।
সাহাবায়ে কেরামের রা. মধ্যে কেউ কেউ এটি করতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মুমিনিনকে পাথর দিয়ে তাসবিহ গণনা করতে দেখেছিলেন এবং তিনি তাকে সে ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন।
আরও বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) পাথর দিয়ে তাসবিহ গণনা করতেন। আর দানা/পুঁতি গেঁথে তৈরি করা জিনিস (যেমন: বর্তমানের তাসবিহ) দিয়ে তাসবিহ গণনার বিষয়ে কথা হল, কিছু মানুষ এটিকে অপছন্দ করেছেন, আবার কিছু মানুষ এটিকে অপছন্দ করেননি। তাদের মতে যদি এতে সৎ নিয়ত থাকে তবে তা ভালো; অপছন্দনীয় নয়। কিন্তু এটি প্রয়োজন ছাড়া গ্রহণ করা অথবা মানুষের কাছে প্রকাশ করা, যেমন: গলায় ঝুলিয়ে রাখা বা হাতে চুড়ির মতো পরে থাকা অথবা এ জাতীয় কিছু তাহলে এটি হয় মানুষকে দেখানোর জন্য (রিয়া), অথবা রিয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজন ছাড়া রিয়াকারীর সাথে সাদৃশ্য তৈরি করা। প্রথমটি (রিয়া) হারাম আর দ্বিতীয়টি (রিয়ার সুযোগ তৈরি করা) অন্ততপক্ষে মকরুহ (অপছন্দনীয়)।” [মাজমু’উল ফাতাওয়া ২২/৫০৬ থেকে]
তাসবিহ গণনার জন্য আঙ্গুল ব্যবহার করাই সর্বোত্তম সুন্নাহ হলেও, প্রয়োজন হলে (যেমন—অসুস্থতা বা সংখ্যা মনে রাখতে না পারা) পুঁথির মালা, কাউন্টার মেশিন বা নুড়ি পাথর, খেজুর বা তেঁতুল বীজ ইত্যাদি ব্যবহার করা জায়েজ আছে। তবে রিয়া (লোক দেখানো মনোভাব) থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং সাধারণ অবস্থায় এটি ব্যবহার না করাই উত্তম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
তথাকথিত প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসার গল্প পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদ
তথাকথিত প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসার গল্প: পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদ।
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা প্রায়শই খবরের শিরোনামে দেখি, “বিদেশ থেকে প্রেমের টানে ছুটে এলেন…।” আপাতদৃষ্টিতে চমকপ্রদ মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথাকথিত ‘প্রেমের গল্প’-এর অধিকাংশই নিছক প্রতারণা, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক চক্রের সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফসল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার বা আপনার পরিবারের জন্য মারাত্মক বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চক্রগুলো সাধারণত নিম্নোক্ত ভয়াবহ উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় থাকে:
✪ ১. ধর্মীয় মিশন ও স্থায়ী বসবাসের কৌশল:
বিদেশী মিশনারি সংস্থা বা ব্যক্তিরা কূটনীতির মাধ্যমে সরাসরি ভিসা বা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হলে, তারা এই ‘প্রেমের কৌশল’ ব্যবহার করে।
তারা স্থানীয় কোনো ব্যক্তির (ছেলে বা মেয়ে) সাথে তথাকথিত প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এদেশে এসে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
তারপর একবার বসবাস নিশ্চিত হলে, তারা ধীরে ধীরে তাদের ধর্ম প্রচারের আসল মিশন শুরু করে। তারা সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে, এমনকি পুরো পরিবারকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করে। এই মিশনে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশী খৃষ্টান মিশনারী ও এনজিওগুলোর যোগসাজশ থাকে।
✪ ২. বিদেশে নারী পাচার ও অবৈধ কাজে বাধ্য করা:
অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত এই প্রেম ব্যবহৃত হয় দেশ থেকে নারীদের পাচারের মাধ্যম হিসেবে।
বিদেশী প্রতারকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পাতে এবং উন্নত জীবন, চাকরি বা ভালো ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে দেশ থেকে নারীদের বিদেশে নিয়ে যায়।
বিদেশে নেওয়ার পর তাদেরকে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় অথবা নানা ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
✪ ৩. সাময়িক উপভোগ ও প্রতারণামূলক বিবাহ:
অনেক বিদেশী কেবল সাময়িক মনোরঞ্জন বা উপভোগের জন্য এদেশে আসে।
তথাকথিত প্রেম এবং দ্রুত বিয়ের মাধ্যমে তারা এদেশে ‘জামাই আদরে’ কিছুদিনের জন্য বিলাসী জীবনযাপন করে।
অতঃপর কিছুদিন সেই নারীকে উপভোগ করার পর, তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ না রেখেই হঠাৎ নিজ দেশে ফিরে যায়। ফলে স্থানীয় মেয়েটি চরম হতাশা ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
✪ ৪. অর্থ আত্মসাৎ ও উন্নত জীবনের লোভ:
অনেক সময় এই চক্রগুলো প্রেমের নাটক করে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রেমিক/প্রেমিকা বা তাদের পরিবারের সদস্যদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া, সেখানে উন্নত জীবন, চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিশ্বাস অর্জন করে।
অতঃপর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হওয়ার পর তারা বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায় এবং ভুক্তভোগীরা সর্বস্বান্ত হন।
❑ ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সতর্কতা:
বিশেষজ্ঞগণ তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশীদের সাথে এই ধরনের সম্পর্ক গড়ার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ এর পেছনে কেবল প্রতারণাই নয়, জীবনের বড় ধরনের ঝুঁকিও থাকে।
মনে রাখতে হবে, ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে বিবাহের বন্ধন ছাড়া তথাকথিত প্রেম, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতি সম্পূর্ণরূপে হারাম। প্রেমের নামে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া ইসলামে এক ভয়ানক কবিরা গুনাহ (গুরুতর পাপ), যা পার্থিব ও পরকালে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তাই কোনো প্রকার প্রলোভন বা আবেগের বশে না গিয়ে, অপরিচিত বিদেশী বা আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক থাকুন এবং ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলুন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
টাক মাথা সম্পর্কে সঠিক ইসলামি দৃষ্টিভ্ঙ্গী
টাক পড়া একটি স্বাভাবিক বিষয় যা কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার কারণে অথবা কোনো রোগ বা অন্য কোনো কারণে ঘটে থাকে। এটি তাদের মর্যাদাকে একটুও কমিয়ে দেয় না।
বরং আরববাসীরা এটিকে নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করতেন। তাদের একজন কবি বলেছেন:
بنى لنا المجد آباء لنا سلفوا صلع الرؤوس وسيما السادة الصلع
“আমাদের টাক মাথার পূর্বপুরুষেরা আমাদের জন্য গৌরব ও মহিমা প্রতিষ্ঠা করেছেন। টাক পড়া ছিল সম্মানিত নেতাদের নিদর্শন।”
অনেক বিশিষ্ট সাহাবা ও তাবেয়িও ছিলেন টাক মাথার অধিকারী। অথচ তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ইসলামের ইমাম। ইতিহাস গ্রন্থ, জীবনী গ্রন্থ এবং জীবনচরিতসমূহে যে সকল সাহবির মাথায় টাক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১. উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। তাঁর টাক খুব বেশি ছিল।
২. তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ( রা.)।
৩. উসমান ইবনে আফফান (রা.)।
৪. আলি ইবনে আবি তালিব (রা.)।
৫. আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)।
৬. মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রা.)।
৭. আল আহনাফ ইবনে কায়েস (রা.) এ ছাড়াও সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই।
অনুরূপভাবে বিশিষ্ট তাবেয়িদের মধ্যেও অনেকে ছিলেন টাক মাথার অধিকারী। তাবে তাবেয়ি এবং অন্যান্য হেদায়েতের ইমামগণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
যেমন: ইমাম মালিক ইবনে আনাস রাহ.। তাঁর জীবনীর বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী, বিশাল মস্তকবিশিষ্ট, টাক মাথার অধিকারী। তার মাথা ও দাড়িতে সাদা চুল ছিল। এমন আরও অনেকেই ছিলেন।
তাঁরা টাককে কোনো ত্রুটি বা দোষ হিসেবে গণ্য করতেন না। এমনকি টাক বলে কাউকে ডাকাও অপমান বা হেয় করা মনে করা হতো না। অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বড় মাপের তাবেয়ি, যির ইবনে হুবাইশ রাহ. বলেন: আমি প্রখ্যাত সাহাবি হুযাইফা রাহ.-এর কাছে এলাম। তিনি বললেন: “হে টাক মাথা, তুমি কার লোক?” আমি বললাম: “আমি যির ইবনে হুবাইশ।” সহিহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আমি টাক মাথার ব্যক্তিকে অর্থাৎ উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে হাজরে আসওয়োদে চুম্বন করতে দেখেছি। তখন তিনি বলছিলেন: “আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে চুম্বন করছি যদিও আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র-যা কোনো ক্ষতিও করতে পারে না-কোনো উপকারও করতে পারে না। যদি আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।” [সূত্র: ইসলাম ওয়েব]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
আল্লাহর দিকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে নারীর ঘর থেকে বের হওয়ার বিধান
প্রশ্ন: মুসলিম নারীর জন্য কি আল্লাহর দিকে দাওয়াতের (ইসলাম প্রচারের) উদ্দেশ্যে বেশি বেশি ঘর থেকে বের হওয়া বৈধ?
উত্তর: এটি একটি সৎকর্ম বা নেকির কাজ। দাওয়াতের জন্য নারীর ঘর থেকে বের হওয়া একটি ভালো কাজ। তবে যে আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ
“আর তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান করো।” [সূরা আল আহযাব: ৩৩]
সেখানে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন কোনও প্রয়োজন না থাকে তখনই ঘরে থাকা উচিত। কিন্তু যদি প্রয়োজন থাকে তবে তা ভিন্ন কথা। যেমন: অন্য নারীদের মাঝে ওয়াজ-নসিহত করার জন্য বের হওয়া। অথবা: কোনও (শরিয়ত সম্মত) কল্যাণের স্বার্থে পুরুষদের সাথে সালাতে অংশ নেওয়ার জন্য বের হওয়া। (যেমন: ঈদের সালাত)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে সাহাবায়ে কেরামের স্ত্রীগণ পর্দা ও আব্রু রক্ষা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মসজিদে তাঁর সাথে সালাত আদায় করতেন।
অনুরূপভাবে নিম্নোক্ত ভালো কাজগুলোর জন্য বের হওয়াও বৈধ:
✪ পর্দা রক্ষা করে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করতে যাওয়া।
✪ অসুস্থ ব্যক্তিকে (অন্য মহিলা বা যে পুরুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা-সাক্ষাত করা জায়েজ) দেখতে যাওয়া।
✪ বিপদগ্রস্থ মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে।
✪ আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া কিংবা এই ধরনের অন্যান্য সৎ উদ্দেশ্য।
তবে শর্ত হল: অবশ্যই আল্লাহ তাআলা যেভাবে পর্দা রক্ষার আদেশ দিয়েছেন তা মেনে চলতে হবে। রূপসজ্জা ও প্রদর্শন করা যাবে না এবং ফিতনার কারণ হতে পারে এমন কোনও কাজ করা যাবে না।
পুরুষদের যেমন দাওয়াতের প্রয়োজন, তেমনি নারীদেরও দাওয়াতের প্রয়োজন। সবাই দাওয়াতের মুখাপেক্ষী।
আর যদি (দাওয়াত দেওয়ার সময়) নারীরা পুরুষদেরকেও ওয়াজ-নসিহত করেন তাতেও কোনও ক্ষতি নেই। পূর্বে বলা হয়েছে যে, নারীর কণ্ঠস্বর সতর (আওরাহ) নয়। আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বা কল্যাণের পথে ডাকার ক্ষেত্রে এবং অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে নারীর কণ্ঠস্বর সতর নয়। সতর হল, কেবল কোমলতা পূর্ণ নরম কণ্ঠস্বর এবং মোহনীয়তা পূর্ণ ভাবভঙ্গী যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে (যা ফিতনার কারণ হতে পারে)। মূল কথা, শরিয়ত সম্মত প্রয়োজন এবং পূর্ণ পর্দা পালনের শর্তে নারীর দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া বৈধ ও উত্তম কাজ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
ফতোয়া প্রদানে: সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদনি।
Subscribe to:
Posts (Atom)