Sunday, March 2, 2025

কালো টুপি পরার বিধান ও টুপি পরার মূলনীতি

 ❑ ১. কালো টুপি পরার বিধান:

শাইখ মুহাম্মাদ আলি ফারকুস (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নিকট এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন: কালো টুপি পরার বিধান কী?

তিনি উত্তরে বলেছেন,

يلبسها من يرى اننا في دار حرب وليس في دار اسلام ، وهؤلاء اغلبهم تكفيريين و يعتقدون انه لا يصلح احد الا هم ، و يتعارفون بينهم بهذه الطاقية السوداء ، كما هو حاصل للصوفية يلبسون الطاقية الخضراء و نحن لا نقول ان كل من يلبس الطاقية السوداء تكفيري ، انما الاحسن له ان يتقي لبسها ويتجنبها و له ان يلبس الطاقية البيضاء او غيره من الالوان ، والافضل والاحسن ، الطاقية البيضاء لانه كان احب اللباس الى النبي صلى الله عليه وسلم البياض و الله الموفق

“কালো টুপি তারা পরে যারা মনে করে আমরা দারুল হারবে আছি, দারুল ইসলামে নয়। এদের অধিকাংশই তাকফিরি (অন্যদের কাফির মনে করা) মনোভাব পোষণ করে এবং বিশ্বাস করে যে, কেবল তারাই সঠিক; অন্য কেউ নয়। তারা নিজেদের মধ্যে এই কালো টুপির মাধ্যমে পরিচিত হয়, যেমন সুফিরা সবুজ টুপি পরে নিজেদের মধ্যে পরিচিত হয়।

আমরা বলছি না যে, প্রত্যেক কালো টুপি পরিধানকারী তাকফিরি। তবে উত্তম হচ্ছে সে যেন এটি পরা থেকে বিরত থাকে এবং এড়িয়ে চলে। সে চাইলে সাদা টুপি বা অন্য রঙের টুপি পরতে পারে। তবে সাদা টুপি সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় পোশাক ছিল সাদা।”

আল্লাহই তাওফিকদাতা।

[আলজেরিয়ার উসুলে ফিকহ বিশেষজ্ঞ শাইখ মুহাম্মাদ আলি ফারকুস (হাফিজাহুল্লাহ)-এর দরস থেকে গৃহীত। বৃহস্পতিবার, ১৬ রবিউস সানি, ১৪৩৬ হিজরি (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)]

❑ ২. টুপি পরার মূলনীতি:

শাইখকে আরও প্রশ্ন করা হয় যে, বর্তমান সময়ে কিছু দলীয় ও আন্দোলনপন্থী গোষ্ঠী যে কালো টুপি পরে এর বিধান কী? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর:

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على من أرسله اللهُ رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدين، أمّا بعد:
فالطاقيةُ أو العِمامَةُ أو مُختلفُ أنواعِ القَلَنسوات إذا كانت مغايرةً لِجِنْسِ قُبَّعَات الكفَّار ولم تحمِلْ طابِعًا حِزبيًّا أو نزعةً قوميةً أو لم تكن معبِّرةً عن معنًى عَقَديٍّ؛ فيُرغَّبُ في اقتنائها لكونها شعارًا يتميَّز المسلم بها عن الكافر.
والعلمُ عند الله تعالى، وآخر دعوانا أنِ الحمد لله ربِّ العالمين، وصلى الله على نبيّنا محمّد وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدين، وسلّم تسليمًا

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। বিশ্বজগতের প্রতিপালক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রেরিত নবির ওপর, যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে এসেছেন এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবি ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর—

সাধারণ ছোট টুপি ( طاقية ), পাগড়ি (عمامة ) বা বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী একটু বড় বা লম্বা টুপি (قلنسوة )
– যদি তা কাফে**রদের টুপি বা ক্যাপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়,
– যদি তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হয়,
– যদি তা জাতীয়তাবাদী চিন্তা ধারণ না করে,
– এবং যদি তা বিশেষ কোনও আকিদাব-বিশ্বাসের অর্থ বহন না করে
তাহলে তা পরিধান করাকে উৎসাহিত করা হবে। কারণ এটি মুসলিমদের জন্য একটি আলাদা পরিচয়ের প্রতীক যা তাদের কাফিরদের থেকে স্বতন্ত্র রাখে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর নবি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার, সাহাবি ও অনুসারীদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

ফতোয়া প্রদানের তারিখ:

২৫ জিলহজ ১৪২৭ হিজরি, ১৫ জানুয়ারি ২০০৭ ইংরেজি, আলজেরিয়া।
ফতোয়া নং: ৬০২, বিভাগ: পোশাক সংক্রান্ত ফতোয়া
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Source: ferkous(.)app

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ

 সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির উলামাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

“আমরা কি বলতে পারি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ (খাইরুল বাশার), নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি (খাইরুল খালক)? এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এমন কোনো দলিল আছে কি, যেমনটা অনেক মানুষ বলে থাকে?”

তাঁরা উত্তরে বলেছেন:

جاء في نصوص كثيرة من الكتاب والسنة بيان عظم قـدر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ورفعة مكانته عند ربه تعالى من خلال الفضائل الجليلـة والخصائص الكريمة التي خصه الله بها ، مما يدل على أنه أفضل الخلق وأكرمهم على الله وأعظمهم جاها عنده سبحانه ، قال الله سبحانه : (وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا) النساء/113 ، وأجنـاس الفضل التي فضله الله بها يصعب استقصاؤها ؛ فمن ذلك : أن الله عز وجل اتخذه خليلا ، وجعله خاتم رسله ، وأنزل عليه أفضل كتبه ، وجعل رسالته عامة للثقلين إلى يوم القيامة ، وغفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر ، وأجرى على يديه من الآيات ما فاق به جميع الأنبياء قبله ، وهو سيد ولد آدم ، وأول من ينشق عنه القبر ، وأول شافع ، وأول مشفع ، وبيده لواء الحمد يوم القيامة ، وأول من يجوز الصراط، وأول من يقرع باب الجنة ، وأول مـن يدخلها . . . إلى غير ذلك مـن الخصائص والكرامات الواردة في الكتاب والسنة ، مما جعل العلماء يتفقون على أن النبي صلى الله عليه وسلم هو أعظم الخلق جاها عند الله تعالى ، قـال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى : “وقد اتفق المسلمون على أنه صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاها عند الله ، لا جاه لمخلوق أعظم من جاهه ، ولا شفاعة أعظم من شفاعته” .
فمما ذُكر وغيره يتبين أن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم هو أفضل الأنبياء ، بل وأفضل الخلق ، وأعظمهم منزلة عند الله تعالى ، ولكن مع هذه الفضائل والخصائص العظيمة فإنه صلى الله عليه وسلم لا يرقى عن درجة البشرية ، فلا يجـوز دعاؤه والاستغاثة به من دون الله عز وجل ، كما قـال تعالى: ( قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ) الكهف/110، وبالله التوفيق ، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم” انتهى

“কুরআন ও সুন্নাহর বহু প্রমাণ রয়েছে, যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে তাঁর উচ্চ মাকাম প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ তাঁকে অনেক মহান গুণাবলি ও সম্মানে ভূষিত করেছেন, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সর্বাধিক মর্যাদাবান।”

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا

“আর আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না। আর তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ তো অতীব মহান।” [সূরা নিসা: ১১৩]

আল্লাহ তাঁকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা গণনা করা কঠিন। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:

– আল্লাহ তাঁকে খলিল (প্রিয়তম বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

– তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যীন (শেষ নবী) বানিয়েছেন।

– তাঁর ওপর আফজালুল কুতুব (সর্বোত্তম কিতাব–আল কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন।

– তাঁর রিসালাহ (বার্তা) কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ ও জিন জাতির জন্য সর্বজনীন করেছেন।

– তাঁর সমস্ত গুনাহ (আগের ও পরের) ক্ষমা করে দিয়েছেন।

– তাঁর মাধ্যমে এমন মুজিজাহ (নির্দেশনামূলক নিদর্শন) প্রকাশ করেছেন, যা পূর্ববর্তী সকল নবীদের চেয়ে বেশি।

– তিনি সাইয়িদু ওয়ালাদে আদাম (আদম সন্তানের নেতা)।

– তিনিই আওয়ালু মান তানশাক্কু আনহুল কুবুর (প্রথম ব্যক্তি, যার কবর বিদীর্ণ হবে – কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবেন)।
– তিনিই আওয়ালুশ শাফি’ (প্রথম সুপারিশকারী) ও আওয়ালুশ মুশাফফা’ (প্রথম ব্যক্তি, যার সুপারিশ গৃহীত হবে)।

– তাঁর হাতেই লিওয়াউল হামদ (প্রশংসার পতাকা) থাকবে।

– তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সিরাত (পুলসিরাত) অতিক্রম করবেন।

– তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বেন ও প্রবেশ করবেন।

এছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহতে উল্লিখিত অসংখ্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে।

এজন্যই সমস্ত ইসলামি উলামাগণ একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“মুসলিম উম্মাহ একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মর্যাদার চেয়ে অধিক মর্যাদা আর কোনো মাখলুকের নেই এবং তাঁর সুপারিশের চেয়ে বড় সুপারিশ আর কারও নেই।”

তাহলে উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল নবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বরং সকল সৃষ্টির মধ্যেই শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান।

তবে এত বড় মর্যাদা ও সম্মান থাকার পরও তিনি মানবধর্ম থেকে উপরে ওঠে যাননি। তিনি আল্লাহর একজন বান্দা ও রসুল। তাই তাঁর নিকট দোয়া করা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা কিংবা তাঁকে আল্লাহর সমকক্ষ ভাবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আল্লাহ তা’আলা বলেন:

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

“বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার প্রতি ওহি হয় যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।” [সূরা কাহফ: ১১০]

আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকের মাধ্যমেই আমরা সঠিক পথ পাই। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন। [ফাতাওয়াল লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫]

এ ফতোয়ার উপর স্বাক্ষরকারী সম্মানিত উলামাগণ হলেন:

শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শাইখ (প্রধান মুফতি)
শাইখ আবদুল্লাহ বিন গুদাইয়ান (সদস্য)
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (সদস্য)
শাইখ বকর আবু যায়েদ (সদস্য)
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

মুসলিমদের পারস্পারিক হক ও সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্যসমূহ

 সমাজে এক মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হক (অধিকার) রয়েছে। ইসলাম নির্দেশিত এসব হক ও দায়িত্ব-কর্তব্য বাস্তাবায়ন করা হলেই একটি সুন্দর, স্থিতিশীল, কল্যাণমুখী এবং উন্নত শান্তিময় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং সমাজ থেকে জুলুম ও অন্যায়ের অবসান ঘটবে-তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ এগুলো আসমান থেকে অবতীর্ণ ওহির দিকনির্দেশনা। তাই আসুন, আমরা এগুলো নিজেরা জানার পাশাপাশি যথাসাধ্য চর্চা করি এবং সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

নিম্নে সংক্রান্ত কতিপয় বিষয় দলিলসহ উল্লেখ করা হলো:

❖ ১. বিশেষ পাঁচটি হকের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ

“একজন মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের পাঁচটি হক রয়েছে:
ক. সালামের উত্তর দেওয়া,
খ. রোগীকে দেখতে যাওয়া,
গ. জানাজায় উপস্থিত হওয়া,
ঘ. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া,
ঙ. এবং হাঁচি দিলে (আলহামদুলিল্লাহ বললে) তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা।”
[সহিহ বুখারি: ১২৪০, সহিহ মুসলিম: ২১৬২]

❖ ২. দোয়া করা:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ

“একজন মুসলিম যদি তার অনুপস্থিতিতে তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে তবে তা কবুল হয়।” [সহিহ মুসলিম: ২৭৩৩]

❖ ৩. দাফন-কাফনে অংশগ্রহণ:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ شَهِدَ الْجِنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ

“যে ব্যক্তি জানাজায় উপস্থিত হয় এবং জানাজার নামাজ পড়ে সে এক কিরাত সওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি দাফন পর্যন্ত থাকে সে দুই কিরাত সওয়াব পায়। জিজ্ঞাসা করা হলো: “দুই কিরাত (পুরস্কার) কী?” তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “দুটি বিশাল পর্বতের মতো।” [বুখারি ও মুসলিমে সম্মত, সহিহ হাদিস)” [সহিহ বুখারি: ১৩২৫, সহিহ মুসলিম: ৯৪৫]

❖ ৪. বিপদে সহানুভূতি দেখানো ও সাহায্য করা:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ

“যে ব্যক্তি কোনও মুমিনের দুনিয়ার কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার কষ্ট দূর করবেন।” [সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯]

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,

“المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ، لا يَظْلِمُهُ وَلا يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ، كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ القِيَامَةِ

“এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি জুলুম করবে না, তাকে (শত্রুর হাতে) ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনও মুসলিমের কষ্ট দূর করে আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার কষ্ট দূর করবেন।” [সহিহ বুখারি: ২৪৪২, সহিহ মুসলিম: ২৫৮০]

❖ ৫. অন্যায় কাজ করলে নিষেধ করা:

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ

“তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনও মন্দ কাজ দেখে, তাহলে সে যেন তা হাত দিয়ে পরিবর্তন করে। যদি সে এতটা সামর্থ্য না রাখে তাহলে সে যেন মুখ দিয়ে বলে। যদি এটাও না পারে তাহলে যেন অন্তরে ঘৃণা করে। আর এটি হলো ইমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।” [সহিহ মুসলিম: ৪৯]

❖ ৬. আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া এবং দ্বীন সম্পর্কে না জানলে শিক্ষা দেওয়া

আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ

“তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক যেন দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করে এবং ফিরে এসে তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করে যাতে তারা সাবধান হতে পারে।” [সূরা তওবা: ১২২]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ

“তোমার রবের পথে ডাকো প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে উত্তম পদ্ধতিতে বিতর্ক করো।” [সূরা নাহল: ১২৫]

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً

“আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।” [সহিহ বুখারি: ৩৪৬১]

❖ ৭. বিপদাপদ এবং ভালো কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করা:

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

“আর তোমরা নেকি ও তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতির কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘন (জুলুম) এর কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই তিনি কঠোর শাস্তি দাতা।” [সূরা মায়িদা: ২]

আল্লাহতালা আরো বলেন,

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

“মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের সাহায্যকারী। তারা সৎকর্মের আদেশ দেয়, অসৎকর্ম থেকে নিষেধ করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে। তাদের উপর আল্লাহ অবশ্যই দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা তওবা: ৭১]

হাদিসে এসেছে,

وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ

“যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে ততক্ষণ আল্লাহ তার সাহায্যে থাকেন।” [সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯]

❖ ৮. কল্যাণ কামনা এবং সদুপদেশ দেওয়া:

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الدِّينُ النَّصِيحَةُ

“দ্বীন হলো নসিহত বা কল্যাণ কামনার নাম।” [সহিহ মুসলিম: ৫৫]

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন:

إِذَا اسْتَنْصَحَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيَنْصَحْ لَهُ

“তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের কাছে উপদেশ চায়, তাহলে সে যেন তার জন্য উপদেশ দেয়।” [সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৭৪৫]

৯. বিশ্বাসঘাতকতা না করা, মিথ্যা না বলা ও কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করা:

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“المسلِمُ أخو المسلِمِ، لا يَخونُه ولا يَكذِبُهُ ولا يَخذُلُه، كُلُّ المسلِمِ على المسلِمِ حَرامٌ؛ عِرضُهُ ومالُهُ ودَمُهُ، التَّقوى هاهنا، بحسْبِ امرئٍ من الشرِّ أن يَحقِرَ أخاهُ المسلِمَ”.

“একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। সে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে না, মিথ্যা বলে না এবং তাকে পরিত্যাগ করে না। প্রতিটি মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ, সম্মান ও রক্ত হারাম (নিষিদ্ধ)। তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) এখানে (বুকের দিকে ইঙ্গিত করে)। কারও জন্য এতটুকুই মন্দ যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করে।” [সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪]

❖ ১০. জুলুম-অবিচার না করা:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لاَ يَظْلِمُهُ، وَلاَ يُسْلِمُهُ

“এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি জুলুম করবে না এবং তাকে শত্রুর হাতে ছেড়ে দেবে না।” [সহিহ বুখারি: ২৪৪২, সহিহ মুসলিম: ২৫৮০]

১১. দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا، سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ

“যে ব্যক্তি কোনও মুসলিমের গোপন বিষয় গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার গোপন বিষয় গোপন রাখবেন।” [সহিহ বুখারি: ২৪৪২, সহিহ মুসলিম: ২৫৮০]

এখানে মূলত] সাধারণ মুসলিমদের পারস্পারিক হক ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

এ ছাড়াও ইসলামে পিতামাতা, সন্তান-সন্তুতি, স্বামী-স্ত্রী, প্রতিবেশী, ছোটদের প্রতি বড়দের ও বড়দের প্রতি ছোটদের, পথিক, মুসাফির, অসুস্থ ব্যক্তি, আলেম, শাসক ইত্যাদির বিশেষ কিছু হক রয়েছে। এসব হক সম্পর্কে জানা ও সেগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে।

মোটকথা, একজন মুসলিমের ওপর আরেক মুসলিমের হক অনেক। এগুলো পালনের মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এই হকগুলো আদায় করা এবং ইসলামের নির্দেশিত পদ্ধতিতে জীবন পরিচালনা করা। মুসলিমগণ যদি পরস্পরের হকগুলো আদায় করে তাহলে নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার সৌহার্দ পূর্ণ সহযোগিতা মূলক সুন্দর আদর্শ সমাজ গড়ে উঠবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Saturday, February 22, 2025

শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিধান কী এবং তা কি শিরক

 প্রশ্ন: শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিধান কী? তা কি শিরক?

উত্তর: প্রথমত: আমাদের জানা জরুরি যে, ইসলামের দৃষ্টিতে কোন মুসলিম মৃত বরণ করলে (চাই স্বাভাবিক মৃত্যু হোক বা জিহাদের ময়দানে শাহাদত বরণ করুক অথবা অন্যায়ভাবে জুলুমের শিকার হয়ে মৃত্যু হোক) তার জন্য কী কী করণীয় তা নির্দিষ্ট করা আছে। যেমন: তাদের জন্য দোয়া করা, তাদের পক্ষ থেকে গরিব-অসহায় মানুষকে দান-সদকা করা ও জন কল্যাণ মূলক কাজ করা, সকদায়ে জারিয়া মূলক কার্যক্রম করা, তাদের উদ্দেশ্যে হজ-উমরা আদায় করা ইত্যাদি। এগুলোর মাধ্যমে তারা কবরে উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

পক্ষান্তরে তাদের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে তথাকথিত স্মৃতি স্তম্ভ ও শহীদ মিনার নির্মাণ করা, তাতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করা ও সেনাবাহিনী কর্তৃক স্যালুট জানানো, তাদের উদ্দেশ্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা, মোমবাতি জ্বালান, মশাল জ্বালানো, শিখা অনির্বাণ বা শিখা চিরন্তন প্রজ্বলন ইত্যাদি হল, অমুসলিমদের সংস্কৃতি- যা অমুসলিম সংস্কৃতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ মুসলিমরা অবলীলা ক্রমে তাদের অন্ধ অনুকরণ বশত: পালন করে থাকে। ইসলামের সাথে এগেুলোর দূরতম কোন সম্পর্ক নাই। ‌

অথচ ইসলামে অমুসলিমদের অনুসরণ-অনুকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ-চাই তা ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক অথবা আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, রীতি-নীতি বা কৃষ্টি-কালচারের ক্ষেত্রে হোক। কেননা হাদিসে এসেছে:

❖ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

“যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।” [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছেদ হা/৪০৩১-হাসান সহিহ]

এছাড়াও হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে অনেক মুসলিম ই*হুদি-খৃ*ষ্টানদের রীতি-নীতি অনুসরণ করবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছেন-বর্তমানে যার বাস্তব প্রতিফলন আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।

❖ সাহাবী আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حذو القذة بالقذة حَتَّى لَوْ دخلوا جُحْرَ ضَبٍّ لَدخلتتُمُوهُ قالوا: يَا رسول الله الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى. قَالَ: فَمَنْ؟»

‘‘তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী উম্মতদের অভ্যাস ও রীতি-নীতির ঠিক ঐ রকম অনুসরণ করবে, যেমন এক তীরের ফলা অন্য এক তীরের ফলার সমান হয়। অর্থাৎ তোমরা পদে পদে তাদের অনুসরণ করে চলবে। এমনকি তারা যদি ষণ্ডা (মরুভূমিতে বসবাসকারী গুই সাপের ন্যায় এক ধরণের জন্তু বিশেষ) এর গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও সেখানে প্রবেশ করবে।” সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পূর্ববর্তী উম্মত দ্বারা আপনি কি ই*হুদী ও খৃ*ষ্টানদেরকে বোঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: তবে আর কারা? [বুখারি, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: ”তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী লোকদের রীতি-নীতির অনুসরণ করবে।” তবে বুখারির বর্ণনায় حذو القذة بالقذة – এই শব্দসমূহ নেই। তার স্থলে شبرا بشبر وذراعا بذراع শব্দগুলো রয়েছে। অর্থাৎ এক হাতের বিঘত যেমন অন্য হাতের বিঘতের সমান হয় এবং এক হাতের বাহু অন্য হাতের বাহুর সমান হয়।]

এমন কি সরাসরি মৃতদের কবরেও এসব কার্যক্রম করা দীনের মধ্যে চরম গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ। আর শহিদ মিনার বা স্মৃতি সম্ভে ফুল দেয়া সরাসরি শিরক না হলেও তা শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার মাধ্যম। কা*ফেরদের অন্ধ অনুকরণ তো বটেই। সব দিক থেকেই তা পালন করা হারাম। (আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন)

অনুরূপভাবে মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে শবিনা খানি, কুলখানি, ইসালে সওয়াব, মিলাদ মাহফিল, মৃত্যু বার্ষিকী পালন, স্মরণ সভা, ওরশ মাহফিল ইত্যাদি হল দীনের মধ্যে নব সংযোজিত বিদআত। আর বিদআত হল, ভ্রষ্টতা এবং জাহান্নামের পথ। ইসলামের লেবাস পরা ‘দেখিতে সুন্দর’ প্রতিটি বেদআতই হল, শয়তানের দেখানো সুসজ্জিত পথ। কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীনের মধ্যে কোনও কমতি রেখে গেছেন তাহলে সে প্রকারান্তরে ইসলামকে অপূর্ণ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ‘রেসালাতের দায়িত্ব পালনে অবহেলা কারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করল। (নাউযুবিল্লাহ) অথচ ইসলাম পরিপূর্ণ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণাঙ্গভাবে তা উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং তাতে সামান্যতম সংযোজন ও বিয়োজনের কোনও সুযোগ নাই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই হওয়া সাল্লাম দ্বীনের ভিতর নতুন নতুন বিদআত তৈরি করার ব্যাপারে কঠিন ভাবে সতর্ক করে গেছেন। তিনি বলেন,

وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ

“দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্ট বিষয়াদি থেকে সাবধান! কারণ প্রতিটি নতুন আবিষ্কৃত বিষয়ই গোমরাহি।[মুসতাদরাক, কিতাবুল ইলম, আলবান রা. হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সিলসিলা সাহীহা (সহীহ হাদিস সিরিজ) হাদিস নং ২৭৩৫]

তিনি বিভিন্ন সময় বক্তৃতা দেয়ার শুরুতে বলতেন:

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ

“অতঃপর,সর্বোত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনা। সব চেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস হল দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত বিষয়াদি। আর প্রতিটি নতুন বিষয়ই ভ্রষ্টতা।[সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: নামায এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করা।]

প্রশ্নোত্তরের সার কথা হল, শহিদ মিনারে ফুল দেয়া সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও তাদের অন্ধ অনুকরণের কারণে হারাম। কোনও মুসলিমের জন্য কথিত শহিদদের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কোনও কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করা জায়েজ নাই। কেউ অজ্ঞতা বশত: এমনটি করে থাকলে তার উচিৎ, অনতি বিলম্বে আল্লাহর নিকট তওবা করা। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুল কারী। আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের কু সংস্কৃতি, অমুসলিমদের অন্ধ অনুকরণ এবং ইসলামের নামে সব ধরণের বিদআতি কার্যক্রম থেকে হেফাজত করুন”। আমিন।
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

যারা ভাষার জন্য নিহত হয়েছেন তাদেরকে ইসলামের দৃষ্টিতে শহিদ বলা যাবে কি

প্রশ্ন: যারা ভাষার জন্য নিহত হয়েছেন তাদেরকে ইসলামের দৃষ্টিতে ‘শহিদ’ বলা যাবে কি?
উত্তর: ‘শহিদ’ একটি ইসলামি পরিভাষা। সুতরাং এটি ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। ইসলামের শহিদের মর্যাদা অতুলনীয়। শহিদ মৃত্যুবরণ করার সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করতে থাকেন।
এটি কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিভাষা নয়। তাই ইসলামের নির্ধারিত সংজ্ঞা ছাড়া অন্য কোনো প্রসঙ্গে এই শব্দটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে তাকেই শহিদ বলা হয়, যিনি একমাত্র আল্লাহর বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে জিহাদ করতে করতে নিহত হন।

সুতরাং কেউ যদি শুধু দেশ, ভাষা, আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক স্বার্থ, বংশগত আভিজাত্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশে যুদ্ধ বা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নিহত হন, তবে তিনি শহিদ হবেন না।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের সমাজে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশেষণটি রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক যে কারও জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে!

❑ কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে শহিদের পরিচয় ও মর্যাদা:

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ

“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না।” [সূরা বাকারা: ১৫৩]

◈ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَنْ يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

“কাজেই যারা পার্থিব জীবনকে আখিরাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, তাদেরই আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা উচিত। বস্তুত যারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে বিশাল প্রতিদান দান করব।” [সূরা নিসা: ৭৪]

◈ হাদিসের ভাষায় শহিদ:

عن أبي موسى قال : جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال : الرجل يقاتل للمغنم والرجل يقاتل للذكر والرجل يقاتل ليرى مكانه فمن في سبيل الله ؟ قال : ” من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله”

আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “এক ব্যক্তি গণিমতের সম্পদ অর্জনের জন্য জিহাদ করল, একজন নিজের সুনামের জন্য জিহাদ করল, আরেকজন তার বীরত্ব দেখানোর জন্য যুদ্ধ করল। এদের মাঝে কে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করল?”

রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানকে উচ্চকিত করতে যুদ্ধ করল, সে-ই কেবল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করল।” [সহিহ বুখারি, হাদিস নং-২৬৫৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-৫০২৯]

❂ ইসলামের দৃষ্টিতে আরও যারা শহিদের অন্তর্ভুক্ত:

রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

من قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون أهله أو دون دمه أو دون دينه فهو شهيد

• যে ব্যক্তি নিজ সম্পত্তি রক্ষায় নিহত হয়, সে শহিদ।
• যে ব্যক্তি নিজ পরিবার রক্ষায় নিহত হয়, সেও শহিদ।
• যে ব্যক্তি প্রাণ রক্ষায় কিংবা দ্বীন রক্ষায় নিহত হয় সেও শহিদ।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৭৭৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং-১৬৫২)

❂ আরও কতিপয় ব্যক্তি যারা শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবেন:
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع شهيد

“আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহিদ রয়েছে। যথা:
১. প্লেগ বা মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
২. পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
৩. ফুসফুসের রোগে (প্লুরিসি) মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
৪. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
৫. অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
৬. দেয়াল বা ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহিদ।
৭. সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণকারী নারীও শহিদ।” [মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২; আল-মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০; সহিহ কুনুজুস সুন্নাহ, হাদিস নং-২৩]

❑ কাউকে নির্দিষ্টভাবে শহিদ বলা জায়েজ নাই:

আল্লাহ এবং তাঁর রসুল যাদেরকে নির্দিষ্টভাবে শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তাদেরকে ছাড়া আর কোন মানুষকে নির্দিষ্ট করে শহিদ বলা জায়েজ নাই। সে যেই হোক না কেন। এমনকি জিহাদে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে মারা গেলেও তাদেরকে নির্দিষ্টভাবে শহিদ বলা বৈধ নয় যে, উমুক, উমুক শহিদ। কারণ আমি-আপনি জানি না সে কী নিয়তে জিহাদ করেছে। আল্লাহর দ্বীনের জন্য নাকি মানুষ তাকে বীর যোদ্ধা বা সহাসী মুজাহিদ বলবে সে জন্য।

তবে কোনও ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থার প্রতি সুধারণা রেখে তা জন্য দুআ করা যাবে যে, আল্লাহ তাকে শহিদ হিসেবে কবুল করুন। অথবা আশা করা যায়, যে সে আখিরাতে শহিদি মর্যাদা লাভ করবে। অথবা আমভাবে বলা যাবে যে, যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে তারা শহিদ. যারা এই এই করবে তারা শহিদ। কিন্তু নাম ধরে নির্দিষ্টভাবে নয়। ইমাম বুখারি এভাবে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যে,

باب لا يقال: فلان شهيد

”একথা বলা যাবে না যে, অমুক ব্যক্তি শহিদ।”

ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. বলেন,

: أي على سبيل القطع بذلك إلا إن كان بالوحي، وكأنه أشار إلى حديث عمر أنه خطب فقال: تقولون في مغازيكم فلان شهيد ومات فلان شهيداً ولعله قد يكون قد أوقر راحلته. ألا لا تقولوا ذلكم ولكن قولوا كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من مات في سبيل الله أو قتل فهو شهيد. وهو حديث حسن أخرجه أحمد وسعيد بن منصور وغيرهما من طريق محمد بن سيرين … وعلى هذا فالمراد النهي عن تعيين وصف واحد بعينه بأنه شهيد، بل يجوز أن يقال ذلك على طريق الإجمال. انتهى

অর্থাৎ ওহির মাধ্যমে অবগত হওয়া ব্যতীত অকাট্য ভাবে কারও জন্য শহিদ হওয়ার ফায়সালা দেওয়া যাবে না। তিনি (ইমাম বুখারি রাহ.) সম্ভবত উমর রা. এর একটি ভাষণের দিকে ইংগিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বলে থাক, অমুক ব্যক্তি শহিদ, অমুক ব্যক্তি শহিদ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। কিন্তু হতে পারে সে তার বাহনে আরোহন করেছে, ব্যবসার উদ্দেশ্যে।

খবরদার! এভাবে বলো না বরং তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মতো বল যে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যু বরণ করল অথবা জীবন দিল সে শহিদ।” [মুসনাদ আহমদ-হাসান]

এ কথার ভিত্তিতে ইমাম বুখারির অনুচ্ছেদ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কাউকে নির্দিষ্টভাবে শহিদ উপাধিতে ভূষিত করা নিষিদ্ধ। তবে অনির্দিষ্টভাবে তা বলা জায়েজ।” [ফাতহুল বারি ৬/৯০] আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✪✪✪▬▬▬
উত্তর প্রদান করেছেন:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী।

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। 

Translate