Saturday, July 19, 2025

সকল শিয়ারা কি কাফের এ বিষয়ে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ

 প্রশ্ন: সকল শিয়ারা কি কাফের? এ বিষয়ে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ কি?

▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি। অতঃপর যে সকল ভ্রান্ত ফের্কা সম্পর্কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, সেগুলোর মধ্যে একটি হল শিয়া।শিয়া শব্দের অর্থ অনুসারী, গোষ্ঠী ইত্যাদি। অভিশপ্ত ই-হু-দীদের ষড়যন্ত্রের ফসল হিসাবে প্রখ্যাত সাহাবী আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) [মৃত: ৪০ হি.] এবং প্রখ্যাত সাহাবী মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফইয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) [মৃত: ৬০ হি.]-এর মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করেই এই পথভ্রষ্ট শিয়া সম্প্রদায়ের জন্ম।শিয়ারা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত: তাদের একদল এমন আছে যারা আলী, হাসান, হুসাইন ও ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের উপাস্য বলে জানে এবং তাদের ইবাদত করে। তারা ইয়া আলী, ইয়া হাসান, ইয়া হুসাইন ইত্যাদি বলে তাদেরকে ডাকে। তাদের অপর একদল রয়েছে যারা বলে,জিবরীল (মুহাম্মদের নিকট অহী নিয়ে এসে) খিয়ানত করেছে, নবুওয়াতের হকদার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়।তাদের একদল ইমামীয়া, তাদের অপর নাম রাফেযী, আবার তাদেরকে ইসনা ‘আশারিয়্যাও বলা হয়। তারা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইবাদতকারী। তারা তাদের ইমামগণকে ফিরিশতা ও নবীদের থেকেও উত্তম বলে দাবী করে। এভাবে শিয়াদের বিভক্তি অসংখ্য। তাদের কতক কাফির আবার কতক কাফির নয়।ইমাম শাহরাস্তানী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ২২টি উপদল রয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্নতা রয়েছে। তাদের কারও বিদ‘আত তাকে কা-ফির করে দেয়, আবার কারও বিদ‘আত তাকে কা-ফির করে না। এতৎসত্ত্বেও তারা সবাই বিদ‘আতী। শিয়ারা সবাই বিদ‘আতী। এদের যে উপদলটির আক্বীদা (বিশ্বাস) অপেক্ষাকৃত হালকা ত্রুটিপূর্ণ তারা বলে: আলী (রাঃ) অপর তিন খলিফা– আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) এর চেয়ে উত্তম। এ দলটি কাফের নয়; তবে এটি সুস্পষ্ট ভুল। কারণ আলী (রাঃ) চার খলিফার মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ), উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) তাঁর চেয়ে উত্তম। যদি কেউ আলী (রাঃ) কে এ তিনজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয় তাহলে সে ভুল করল এবং সাহাবীদের ইজমা বা ঐকমত্যের বিরোধিতা করল। তবে সে এই আক্বীদা পোষণের জন্য কা-ফের হবে না; তবে তারা অবশ্যই ভ্রান্ত ও গোমরাহ।
.
শিয়া সম্প্রদায়ের সকল ব্যক্তি কাফের নয়। আমাদের সালাফগণও এ বিষয়ে কোন সাধারণ ও ব্যাপক ফতোয়া দেননি যে—সব শিয়াই কাফের। কারণ শিয়ারা একটিমাত্র শ্রেণি নয়; বরং তাদের বিভিন্ন উপদল রয়েছে এবং এদের মাঝে আক্বীদাগত গুরুতর পার্থক্যও রয়েছে। ইমাম শাহরাস্তানী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন—শিয়াদের অন্তত ২২টি ভিন্ন মতবাদ ও উপদল রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু উপদলের আকীদা এমন যা স্পষ্ট কুফরি এবং ইসলামের মূলনীতির বিপরীত, ফলে তারা কাফের সাব্যস্ত হয়। আবার কিছু উপদলের বিদ‘আত কুফরের পর্যায়ে পৌঁছায় না, যদিও তা মারাত্মক বিভ্রান্তিকর ও পথভ্রষ্টতা।তবে একটি বিষয়ে উলামায়ে সালাফের ঐকমত্য রয়েছে—শিয়ারা সকলেই বিদ‘আতী। তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের বিদ‘আতী সেই ব্যক্তি, যে ‘আলী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে আবু বকর ও ‘উমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-এর উপর অগ্রাধিকার দেয়।নিঃসন্দেহে সে ভুল করেছে এবং সাহাবায়ে কিরামের ব্যাপারে সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমালার বিরোধিতা করেছে। শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল ইরানের রাফেযী শিয়া। এরা বর্তমান ধর্মীয় প্রধান নেতা খোমেনীর সাঙ্গপাঙ্গ, এরাই সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বিপজ্জনক শিয়া। অনুরূপভাবে নুসাইরিয়াহ সম্প্রদায়, যারা হলো সিরিয়ার হাফিজ আসাদের সাঙ্গপাঙ্গ ও তার দলের ব্যক্তিবর্গ। আর সিরিয়া, ইরান ও ভারতের বাত্বিনী সম্প্রদায়, যারা হলো ইসমা‘ঈলী সম্প্রদায়। শিয়াদের এই তিনটি উপদল সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর। তারা কা-ফি-র সম্প্রদায়। কারন তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কা-ফে-রদের চেয়েও বেশী ভয়ানক কেননা তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অনিষ্টকে লুকিয়ে রাখে এবং নিজেদের ওপর মুসলিমদেরকে কা-ফি-রদের চেয়েও বিপজ্জনক মনে করে। তারা কা-ফি-রদের চেয়ে মুসলিমদেরকে বেশি ঘৃণা করে। তারা আহলুস সুন্নাহ’র জান ও মাল নিজেদের জন্য হালাল মনে করে। যদিও তারা কিছু ক্ষেত্রে মোসাহেবি করে থাকে। তারা মনে করে, তাদের ইমামরা গায়েব (অদৃশ্য) জানে, তাদের ইমামরা নিষ্পাপ, আল্লাহকে ব্যতিরেকে ইমামদেরও ইবাদত করা যায় ফরিয়াদ, জবেহ ও মানত করার মাধ্যমে (নাউজুবিল্লাহ)। তাদের ইমামদের ব্যাপারে এই হলো তাদের অবস্থান। আর রাফিদ্বীরা হলো ইসনা ‘আশারিয়াহ তথা বারো ইমামিয়াহ নামক উপদল। তাদেরকে ‘জা‘ফারিয়্যাহ’-ও বলা হয়। অবশ্য এখন তাদেরকে ‘খুমাইনিয়্যাহ’ (খোমেনীর মতাদর্শের লোকজন) বলা হয়, যারা এখনও মানুষকে বাতিলের দিকে আহ্বান করে। তারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপদল। এজন্য আমাদের সালাফগন তাদেরকে কাফির ফাতওয়া দিয়েছেন।
.
সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, বিগত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বিস্তারিত আলোচনা করে শেষে বলেন: وإنما الكفار منهم الرافضة والنصيرية والإسماعيلية الذين يغلون في أهل البيت ويعبدونهم من دون الله ويرون أن عبادتهم جائزة وأن أئمتهم يعلمون الغيب إلى غير هذا مما يقولون نسأل الله السلامة. فالحاصل: أنهم ينظر في عقائدهم بالتفصيل ولا يقال الشيعة كلهم كفار لا، بل فيهم تفصيل وهم أقسام كثيرة. শিয়াদের মধ্যে শুধু কা-ফি-র হলো রাফিদ্বী, নুসাইরিয়াহ ও ইসমা‘ঈলিয়্যাহ সম্প্রদায়। যারা আহলে বাইতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে, আল্লাহকে ব্যতিরেকে তাদের ইবাদত করে, তাদের ইবাদত করা জায়েজ মনে করে, তাদের ইমামরা গায়েব জানে বলে মনে করে ইত্যাদি আরও কথাবার্তা তারা বলে থাকে। আমরা আল্লাহ’র কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করছি। মোটকথা তাদের ‘আক্বীদাহর দিকে বিশদভাবে নজর দিতে হবে। একথা বলা যাবে না যে, শিয়ারা সবাই কা-ফি-র। না, বরং তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রয়েছে। তাদের অনেকগুলো শ্রেণি রয়েছে।”(বিস্তারিত দেখুন শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-৩১২৯)
.
শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে আরো জিজ্ঞেস হরা হয়: প্রশ্ন:শিয়া ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের মধ্যে পার্থক্য কী, বিষয়টি জানা আমার খুব প্রয়োজন। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করলে খুব খুশি হবো। জবাবে শাইখ বলেন,
الشيعة فرق كثيرة و فيهم الكافر الذي يعبد علياً ويقول: يا على، ويعبد فاطمة والحسين وغيرهم.ومنهم من يقول: جبريل عليه الصلاة والسلام خان الأمانة وأن النبوة عند على وليست عند محمد.وفيهم أناس آخرون، منهم الإمامية ـ وهم الرافضة الاثنا عشريةـ عُبَّاد علي ويقولون: إن أئمتهم أفضل من الملائكة والأنبياء.ومنهم أقسام كثيرة وفيهم الكافر وفيهم غير الكافر، وأسهلهم وأيسرهم من يقول علي أفضل من الثلاثة ( أبوبكر وعمر وعثمان ) وهذا ليس بكافر لكن مخطئ، فإن علياً هو الرابع، والصدّيق وعمر وعثمان هم أفضل منه، إذا فضله على أولئك الثلاثة فإنه قد أخطأ وخالف إجماع الصحابة ولكن لا يكون كافراً، وهم طبقات وأقسام ومن أراد ذلك فليراجع كلام الأئمة، مثل الخطوط العريضة لمحب الدين الخطيب، و”منهاج السنة” لشيخ الإسلام ابن تيمية، وكتب أخرى أٌلفت في ذلك “كالشيعة والسنة “لإحسان إلهي ظهير، وغير ذلك كتب كثيرة فى مثل هذا الباب نوعت وبينت أغلاطهم وشرهم نسأل الله العافية.ومن أخبثهم الإمامية الاثنا عشرية والنصيرية ويقال لهم الرافضة، لأنهم رفضوا زيد بن علي لما أبى أن يتبرأ من الشيخين أبى بكر وعمر وخالفوه ورفضوه، فما كل من ادعى الإسلام يسلم له بأنه أصبح مسلماً، من ادعى الإسلام ينظر في دعواه ، فمن عبد الله وحده ، وصدّق رسوله ، وتابع ما جاء به فإن هذا هو المسلم، وأما إذا ادعى الإسلام وهو يعبد فاطمة ويعبد البدوي ويعبد العيدروس وغيرهم فهو ليس بمسلم، نسأل الله السلامة والعافية وهكذا من سبًّ الدين أو ترك الصلاة ولو قال : إنه مسلم ما يكون مسلماً، أو استهزأ بالدين أو استهزأ بالصلاة أو بالزكاة أو بالصيام أو بمحمد عليه الصلاة والسلام أو كذبه، أو قال : إنه جاهل أو قال : إنه ما أتم الرسالة ولا بلغ البلاغ المبين، كل هؤلاء كفرة، نسأل الله العافية”
“শিয়ারা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত: তাদের একদল এমন আছে যারা আলী, হাসান, হুসাইন ও ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের উপাস্য বলে জানে এবং তাদের ইবাদত করে। তারা ইয়া আলী, ইয়া হাসান, ইয়া হুসাইন ইত্যাদি বলে তাদেরকে ডাকে। এ ধরনের শিয়ারা অবশ্যই কা-ফি-র।তাদের অপর একদল বলে, জিবরীল (মুহাম্মদের নিকট অহী নিয়ে এসে) খিয়ানত করেছে, নবুওয়াতের হকদার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয়।তাদের অপর দল ইমামীয়া, তাদের অপর নাম রাফেযী, আবার তাদেরকে ইসনা ‘আশারিয়্যাও বলা হয়। তারা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুএর ইবাদতকারী। তারা তাদের ইমামগণকে ফিরিশতা ও নবীদের থেকেও উত্তম বলে দাবী করে। এভাবে শিয়াদের বিভক্তি অসংখ্য। কতক কা-ফির আবার কতক কা-ফির নয়। একদল আছে যারা বলে, আবু বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তম। এরা অনেকটা নমনীয় ও সহনশীল দল। তারা কা-ফির নয়, তবে তারা অবশ্যই ভ্রান্ত ও গোমরাহ। কারণ, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু চতুর্থ আর আবু বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম এরা তিনজন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগে তিন খলিফা। এ তিন খলিফা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অবশ্যই উত্তম। যখন কেউ তাকে তাদের তিনজনের উপর প্রাধান্য দেয়, সে অবশ্যই ভুল করল এবং সাহাবীদের ঐকমত্যর বিরুদ্ধাচরণ করল তবে সে কা-ফির হবে না। এ ছাড়াও শিয়াদের বিভিন্ন শ্রেণী, দল ও উপদল রয়েছে। যদি কেউ আরও বিস্তারিত জানতে চায় সে যেন ইমামদের লিখিত কিতাবগুলি অধ্যয়ন করে। যেমন মুহিব্বুদ্দিন আল-খতীব রহ.-এর ‘আল-খুতুতুল আরিদ্বা, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ.-এর ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’, এহসান এলাহী যহীর এর ‘শিয়া ও সুন্নাহ’ ইত্যাদি কিতাবসমূহ পড়ে। , যাতে শিয়াদের দল উপদল, তাদের ভুল-ভ্রান্তি ও তাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা তাদের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি হলো, ইমামীয়া-ইসনা আশারিয়া ও নুসাইরিয়া ফের্কাদ্বয় এদেরকে রাফেযা বলা হয়। কারণ, তারা যায়েদ ইবনে আলীকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যখন তিনি শাইখাইন -আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকার করেন, তখন তারা তার বিরোধিতা করে এবং তাকে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং , যে কেউ ইসলামের দাবি করলেই মুসলিম হবে না। ইসলামের দাবি করলে তার দাবিকে কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে যাচাই করতে হবে। যে এক আল্লাহর ইবাদত করে, রাসূলকে বিশ্বাস করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করে, সেই কেবল মুসলিম। আর যে নিজেকে মুসলিম দাবি করে; কিন্তু সে ফাতেমা, বাদাবী ও ‘ঈদুরুস প্রমুখদের ইবাদাত করে সে মুসলিম নয়। অনুরূপভাবে যারা দীনকে গালি দেয়, দীন সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে, সালাত ছেড়ে দেয়, তাকে মুসলিম বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে সে মুসলিম নয় অথবা কেউ যদি দীনে ইসলাম নিয়ে উপহাস- বিদ্রূপ করে, সালাত, যাকাত, সাওম অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে বিদ্রূপ বা তাকে অস্বীকার করে অথবা বলে, মুহাম্মদ মূর্খ বা সে তার রিসালাতকে পূর্ণ করে নি, মানুষের নিকট পৌঁছায় নি, এরা সবাই কা-ফির। আল্লাহ আমাদের হিফাযত করুন”।(বিন বায; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুম মুতানাওয়্যা‘আহ, খণ্ড/২৮; পৃষ্ঠা: ২৫৭)
.
ইমাম লালাকায়ী (রাহিমাহুল্লাহ) শু’বা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ননা করেছেন,তিনি (শু’বা) বলেন,
وفضلت اليهود والنصارى على الرافضة بخصلتين:
سئلت اليهود من خير أهل ملتكم؟ قالوا: أصحاب موسى، وسئلت النصارى من خير أهل ملتكم؟ قالوا: حواري عيسى. وسئلت الرافضة من شر أهل ملتكم؟ قالوا: أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، أمروا بالاستغفار فسبوهم
“আমি ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে রাফিদীদের উপর দুটি বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাধান্য দিয়েছি। ইয়া’হু’দীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লোক কারা? তারা বললঃ মূসা (আ.) এর সাথীগণ।খ্রিস্টানদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লোক কারা? তারা বললঃ ঈসা (আ.) এর হাওয়ারিগণ।আর (রাফেদী) শিয়াদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তোমাদের উম্মাহর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক কারা?তারা বললঃ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ!ফলে যখন তাদেরকে ইস্তেগফার করার আদেশ করা হলো, তখন তারা তাদেরকে গালি দেওয়া শুরু করলো।(ইমাম লালাকায়ি: শারহু উসুলি ই’তিক্বাদি আহলিস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআত; খন্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ১৫৫১; আরো দেখুন ইবনু তাইমিয়া; মিনহাজুস সুন্নাহ; খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৭)
.
হিজরী ৮ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম তাক্বিউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ বিন ‘আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হার্রানী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন:
: “هؤلاء القوم المسمَّون بالنصيرية ـ هم وسائر الأصناف الباطنية ـ أكفر من اليهود والنصارى ، بل وأكفر من كثير من المشركين ، وضررهم أعظم من ضرر الكفار المحاربين مثل التتار والفرنج وغيرهم .. وهم دائماً مع كل عدو للمسلمين ، فهم مع النصارى على المسلمين ، ومن أعظم المصائب عندهم انتصار المسلمين على التتار ، ثم إن التتار ما دخلوا بلاد الإسلام وقتلوا خليفة بغداد وغيره من ملوك المسلمين إلا بمعاونتهم ومؤازرتهم” ا
“এই সম্প্রদায় যাদেরকে নুসাইরিয়্যাহ নামে নামকরণ করা হয়েছে, (নুসাইরিয়্যাহ সম্প্রদায়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এই যে, এটি একটি সীমালঙ্ঘনকারী শিয়া সম্প্রদায়), তারা মূলত সকল বাতেনী সম্প্রদায়- এরা ই-য়া-হুদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের থেকে ভয়ানক কা-ফের। বরং এমনকি তারা মুশ-রিকদের মধ্য হতে অনেকের চাইতে তারা অধিক ভয়ানক কা-ফের। আর তাদের ক্ষতিসাধন অনেক যুদ্ধ-কারী কা-ফে-রদের ক্ষতিসাধনের চেয়েও বড় ও ভয়ানক। যেমন তাতারী সম্প্রদায়, ফিরিঙ্গী জাতি/ইউরোপীয় জাতি ইত্যাদি। অথচ তারা সদা সর্বদাই মুসলিমদের সকল শত্রুদের সাথে রয়েছে। আর তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নাসারাদের সাথে রয়েছে।তাদের নিকট সবচেয়ে বড় বিপদ হল মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাতারী সম্প্রদায়কে সহায়তা করা। অতঃপর তাতারী সম্প্রদায় শুধু তাদের সহায়তায় মুসলিম শহরে প্রবেশ করে বাগদাদ শহরের খলিফা ও আরো মুসলিম রাজাদের হত্যা করে।(আল-মাওসুআতুল মাইসারাহ ফিল-আদয়্যান ওয়াল-মাযাহেব ওয়াল-আহযাবিল মুয়া’সারাহ: খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৯৩-৩৯৯)।
.
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] রাফিদ্বী শিয়াদের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,
أن كفرهم أغلظ من كفر اليهود والنصارى، لأن أولئك عندهم كفار أصليون وهؤلاء مرتدون وكفر الردة أغلظ بالإجماع من الكفر الأصلي، ولهذا السبب يعاونون الكفار على الجمهور من المسلمين فيعاونون التتار على الجمهور
“তাদের কুফর ই-হুদি-নাসা-রাদের কুফরের চেয়েও গুরুতর। কেননা ইহুদি-খ্রি-ষ্টান-রা হলো সত্ত্বাগত কাফির। পক্ষান্তরে তারা (রাফিদ্বীরা) হলো দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়া মুরতাদ। আর মুরতাদ হওয়ার কুফর ইজমা‘র (মতৈক্য) ভিত্তিতে সত্ত্বাগত কুফরের চেয়েও গুরুতর। এজন্যই তারা মুসলিম জনসাধারণের বিরুদ্ধে কা-ফি-রদের সহযোগিতা করে। যেমন তারা মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে (মুসলিম জনপদে গণহত্যা পরিচালনাকারী) তাতার সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করছে।”(ইবনু তাইমিয়া; মাজমূ‘উ ফাতাওয়া; খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৪২১)
.
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন:
قال الإمام ابن تيمية: مذهب الرافضة شر من مذهب الخوارج المارقين فإن الخوارج غايتهم تكفير عثمان وعلي وشيعتهما، والرافضة تكفير أبي بكر وعمر وعثمان وجمهور السابقين الأولين، وتجحد من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم أعظم مما جحد به الخوارج، وفيهم من الكذب والافتراء والغلو والإلحاد ما ليس في الخوارج، وفيهم من معاونة الكفار على المسلمين ما ليس في الخوارج. والرافضة تحب التتار ودولتهم؛ لأنه يحصل لهم بها من العز مالا يحصل بدولة المسلمين، والرافضة هم معاونون للمشركين واليهود والنصارى على قتال المسلمين، وهم كانوا من أعظم الأسباب في دخول التتار قبل إسلامهم إلى أرض المشرق بخراسان والعراق والشام، وكانوا من أعظم الناس معاونة لهم على أخذهم لبلاد الإسلام وقتل المسلمين وسبي حريمهم. وقضية ابن العلقمي وأمثاله مع الخليفة وقضيتهم في حلب مع صاحب حلب مشهورة يعرفها عموم الناس، وكذلك في الحروب التي بين المسلمين وبين النصارى بسواحل الشام قد عرف أهل الخبرة أن الرافضة تكون مع النصارى على المسلمين، وأنهم عاونوهم على أخذ البلاد لما جاء التتار وعز على الرافضة فتح عكا وغيرها من السواحل، وإذا غلب المسلمون النصارى والمشركين كان ذلك غصة عند الرافضة، وإذا غلب المشركون والنصارى المسلمين كان ذلك عيدا ومسرة عند الرافضة. ودخل في الرافضة أهل الزندقة والإلحاد من النصيرية والإسماعيلية وأمثالهم من الملاحدة القرامطة وغيرهم ممن كان بخراسان والعراق والشام وغير ذلك. والرافضة جهمية قدرية وفيهم من الكذب والبدع والافتراء على الله ورسوله أعظم مما في الخوارج المارقين الذين قاتلهم أمير المؤمنين علي وسائر الصحابة بأمر رسول الله بل فيهم من الردة عن شرائع الدين أعظم مما في مانعي الزكاة الذين قاتلهم أبو بكر الصديق والصحابة. (مجموع
“রাফিজীদের মাজহাব ধর্মত্যাগী (দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়া মুরতাদ) খারেজীদের মাজহাবের চেয়েও নিকৃষ্ট , কারণ খাওয়ারিজদের লক্ষ্য হল উসমান ও আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) এবং তাঁদের ভক্তদের কাফের ঘোষণা করা, আর রাফিজীদের লক্ষ্য হল আবু বকর, ওমর, উসমান এবং প্রথম পর্যায়ের সাহাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-দেরকে কা-ফের ঘোষণা করা। তারা খারেজিদের চেয়েও বেশি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নতকে অস্বীকার করে । তাদের মধ্যে রয়েছে মিথ্যা , অপবাদ ,বাড়াবাড়ি এবং নাস্তিকতা যা খারেজিদের মধ্যে নাই। মুসলমানদের বিরুদ্ধে কা-ফের-দেরকে সহযোগিতা করার বিষয়টি তাদের মধ্যে রয়েছে যা খারেজিদের মধ্যে নাই। রাফিজিরা তাতার এবং তাদের রাষ্ট্রকে ভালোবাসে। কারণ এটি তাদের গৌরব নিয়ে আসে যা একটি মুসলিম রাষ্ট্রে ঘটে না এবং তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশ-রিক, ই-হু-দি এবং খ্রি-স্টান-দের সহযোগিতা করে। খোরাসান ইরাক এবং শামের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাতারদের প্রবেশের বিষয়ে তারা ছিল সবচেয়ে বড় মাধ্যম। যার ফলে ইসলামী রাষ্ট্রগুলো ছিনিয়ে নিতে, মুসলিমদের হত্যা করতে, বন্দী করতে তারা ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেছিল। ইবনে আলকামা এবং তার তার সহযোগিদের সাথে যা ঘটেছিল এবং দুধওয়ালার সাথে দুধের বিষয়ে যা ঘটেছিল তা সাধারণ মানুষের জানা। ঠিক তেমনিভাবে মুসলিম এবং নাসারাদের যুদ্ধের মাঝেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাফিজিদের সহযোগিতা থাকবে এটা মানুষ জানতো। তারা দেশ কেড়ে নিতে তাদেরকে সহযোগিতা করেছিল। যখন তাতার রা আসবে আর রাফিজিদের অপদস্ত করবে তখন আক্কা এবং অন্যান্য গোত্রগুলো বিজয় লাভ করবে। যখন নাসারা এবং মু-শ-রিকদের উপরে মুসলিমরা বিজয় লাভ করবে তখন রাফিজিরা চরম অপমান হবে। মুসলমানদের উপরে নাছার এবং মু-শ-রি-করা যখন বিজয় লাভ করবে তখন রাফিজিদের নিকটে সেই দিনটি হবে খুব আনন্দের উল্লাসের । আর রাফিজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল নুসাইরি এবং ইসমাইলীদের নাস্তিক ও বিধর্মীরা, খোরাসান, শাম এবং ইরাকদের থেকে তাদের মতই অকট্য নাস্তি-করা। রাফিজিরা হল জাহমি কাদরিয়্যাহ । যাদের মাঝে ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যা অপবাদ যা খারেজিদের চেয়েও অনেক ভয়ানক। যাদের সাথে আল্লাহর অনুমতি ক্রমে আমিরুল মুমিনিন আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং অন্যান্য সাহাবীগণ যুদ্ধ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তারা শরীয়তের বিধি-বিধানগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছিল যেটা ছিল তাদের চেয়েও বেশি ভয়াবহ যারা যাকাত অস্বীকার করেছিল। আর যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আবুবকর এবং অন্যান্য সাহাবীগণ যু-দ্ধ করেছিলেন”।(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া; খণ্ড: ১৩; পৃষ্ঠা: ৫২৭)
.
ইমাম ইবনু হাযম আন্দালুসী রাহিমাহুল্লাহ [মৃ:৪৫৬ হি.] বলেন,وأما قولهم في دعوى الروافض تبديل القراءات : فإن الروافض ليسوا من المسلمين ! إنما هي فرَق ، حدث أولُّها بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم بخمس وعشرين سنة ، وكان مبدؤها إجابة من خذله الله تعالى لدعوة من كاد الإسلام ، وهي طائفة تجري مجرى اليهود ، والنصارى ، في الكذب ، والكفر .
“রাফেযীদের দাবী সমূহের অন্যতম হল, কুরআনের ইবারতের পরিবর্তন। কারণ তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা নতুন একটি ফের্কা। এটি এমন একটি দল যারা মিথ্যাচার ও কু-ফ-রীর দিক থেকে ই-হু-দী-খ্রী-ষ্টান-দের স্রোতে পরিচালিত হয়’ (আল-ফিছাল ফিল মিলাল; ২য় খণ্ড; পৃষ্ঠা: ৬৫)।
.
বিশিষ্ট তাবেঈ শাইখুল ইসলাম ইমাম ত্বালহা বিন মুসাররিফ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১১২ হি.] বলেন;
, الرافضة لاتنكح نساؤهم ولاتؤكل ذبائحهم؛ لأنهم أهل ردة “
“রাফেযী সম্প্রদায়ের মহিলাদেরকে বিয়ে করা যাবে না এবং তাদের যবহেকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না। কারণ তারা মুর-তাদ বা ধর্ম-ত্যাগী সম্প্রদায়”।(আল-ইবানাতুস সুগরা; পৃষ্ঠা: ১৬১)
.
ইমাম আবূ হানীফাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃ.১৮২ হি.] বলেন,, لا أصلي خلف جهمي، ولا رافضي، ولا قدري”আমি কোন জাহমী, রাফেযী শী‘আ ও তাক্বদীর অস্বীকারকারী ক্বাদারিয়াদের পিছনে সালাত আদায় করি না”(শারহু উছূলিল ই‘তিক্বাদ; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৭৩৩)।
.
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ২৫৬ হি.] তাঁর খালকু আফ‘আলিল ‘ইবাদ গ্রন্থে বলেন;ما أبالي صليت خلف الجهمي والرافضي أم صليت خلف اليهود والنصارى ولا يسلم عليهم ولا يعادون ولا يناكحون ولا يشهدون ولا تؤكل ذبائحهم”আমি কোন পরওয়া করি না, আমি জাহমী ও রাফেযীর পিছনে সালাত পড়লাম, নাকি ই-হু-দী ও খ্রী-ষ্টা-নের পিছনে সালাত পড়লাম। তাদেরকে সালাম দেয়া যাবে না, তারা অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া যাবে না, তাদেরকে বিয়ে করা যাবে না, তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় শরীক হওয়া যাবে না এবং তাদের যবহেকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না’ (খালকু আফ‘আলিল ইবাদ, পৃষ্ঠা; ১২৫)।আব্দুল করীম শহরাস্তানী [মৃ:৫৪৮ হি.] বলেন,”শী‘আদের দাবীসমূহ কুরআনের উপরও দলীল নির্ভর নয়, মুসলিমদের উপরও নয়। কারণ শী‘আরা মুসলিমদের অন্তর্ভুুক্ত নয়”।(আল-মিলাল ওয়ান নিহাল; খন্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৭৮)।
.
পরিশেষে প্রিয় পাঠক! শী‘আদের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে এবং তাদের আক্বীদা ও কর্মকা- সম্পর্কে মুসলিম জনসাধারণকে সতর্ক-সাবধান করতে হবে। কারণ ইতিহাস এবং বাস্তবতা সাক্ষ্য দেয় যে, তারা কেবলমাত্র একটি ভিন্ন মতবাদ প্রচার করেই থেমে থাকেনি, বরং বহু দেশে সুন্নী মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে। সিরিয়া, ইয়ামান, ইরাক, লেবানন, আফগানিস্তান, মিশর ও ফিলিস্তীনসহ বিভিন্ন দেশে তাদের দ্বারা মসজিদ, মাদরাসা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে; নিরীহ সুন্নী মুসলমানদের হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পাশাপাশি তারা আল্লাহ তা‘আলা, রাসূলুল্লাহ ﷺ, কুরআন ও সহীহ হাদীস সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়িয়ে দেয় যা ইসলামের মৌলিক আক্বীদার পরিপন্থী। সেজন্য মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ‘উলামাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে ইরানের রাফিযী শিয়ারা হলো কাফির, যাদের সাথে কাফিরদের মতো আচরণ করতে হবে। বলাই বাহুল্য যে তাদেরকে ‘মুসলিম’ বলে বিশ্বাস করাও কুফর। তাই ইরানের রাফেযী শী‘আদের প্রতি কোন প্রকার সমর্থন, সহানুভূতি প্রদর্শন, তারা হকের উপর আছে বিশ্বাস করলে ঈমানও থাকবে না, কেউ শিয়াদের বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে বড় বড় আলেমগণের লেখনী পড়তে পারেন; যেমন মুহিব্বুদ্দীন খতীব এর “আল-খুতুত আল-আরিদা” কিংবা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-এর “মিনহাজুস সুন্নাহ”। অথবা শিয়াদের উপর লিখিত অন্যান্য গ্রন্থও পড়তে পারেন। যেমন ইহসান ইলাহি জহির লিখিত “আস-শিয়া ওয়াস সুন্নাহ”। শিয়াদের সম্পর্কে এবং তাদের ভ্রান্তিগুলো অপনোদনমূলক অনেক গ্রন্থ রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম উম্মাহকে শী‘আদের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে হেফাযত করুন এবং তাঁর পক্ষ থেকে মুসলিমদের প্রতি বিশেষ নিরাপত্তা ও সাহায্য নাযিল করুন। আমীন! (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
আপনাদের দ্বীনি ভাই।
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

ইহুদি এবং রাফেযি শিয়াদের মধ্যে কোথায় কোথায় মিল রয়েছে

 প্রশ্ন: শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদি এবং বিদ্বেষপূর্ণ বিভ্রান্তি ছড়ানো রাফেযি শিয়াদের মধ্যে কোথায় কোথায় মিল রয়েছে?

▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি। অতঃপর রাফেযী শিয়ারা ও ইহুদি জাতির মধ্যে ইসলামি উলামারা বহু যুগ থেকে কিছু আশ্চর্যজনক সদৃশ্যতা (تشابه) তুলে ধরেছেন যা আকীদা, শরীআহ, নীতি ও রাজনৈতিক আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। নিচে শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) সহ আহলে সুন্নাহর বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। যেমন:
.
▪️(১). ইহুদি ও রাফেযী শিয়া উভয় দল নিজেদের “মনোনীত জাতি” মনে করে:
ইহুদি নিজেদেরকে “আল্লাহর প্রিয় জাতি” বলে বিশ্বাস করে। আল্লাহ বলেন: “আর ইয়াহুদী ও নাসাররা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়জন।(সূরা মায়েদাহ: ১৮) অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারা নিজেদেরকে আহলে বায়ত প্রেমিক,  নাজাতপ্রাপ্ত দল,শ রীয়তের প্রকৃত ধারক হিসেবে দাবি করে।”(আল-খাসায়িস,পৃষ্ঠা: ২৩; আল-কাফী, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১৮৫)
.
▪️(২). ইমামত ও নেতৃত্ব সম্পর্কে উভয়ের আক্বীদা:
ইহুদীদের দাবি নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর ব্যতীত রাজত্ব করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। আর রাফেযী শিয়াদের দাবি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর সন্তানগণ ব্যতীত কারো জন্য ইমামত বৈধ নয়।
.
▪️(৩). জিহাদের ব্যাপারে উভয়ের অবস্থান:
ইহুদীরা বলে মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ও তরবারী অবতীর্ণ ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই। আর রাফেযী শিয়ারা বলে মাহদীর আগমন ও আসমানী আহব্বান ছাড়া জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ নেই।
.
▪️(৪). মাগরিব নামাজ বিলম্বে আদায়:
ইহুদীরা আসমানে তারকারাজী উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করে। অনুরূপভাবে রাফেযীরা মাগরিবের সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট ও উজ্জল না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অথচ হাদীসের ভাষ্য এর বিপরীত। রাসূল ﷺ বলেছেন:لا تزال أمتي على الفطرة ما لم يخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم. “আমার উম্মত ইসলামী ফিতরাতের উপরই বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা মাগরিব সালাত আসমানে তারকারাজী স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব না করবে।”(আবু দাউদ হা/৪৪৪ মিশকাত হা/৬০৯) আউনুল মাবুদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “تشتبك النجوم” অর্থ: আকাশে অসংখ্য তারা একত্রে জ্বলজ্বল করতে থাকে যা গভীর অন্ধকার হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, মাগরিব নামায দ্রুত আদায় করাই সুন্নাহ। কিন্তু রাফেযি শিয়ারা এর বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা বিলম্বে পড়াকে উত্তম মনে করে, অথচ এই হাদীসেই তাদের মতের খণ্ডন রয়েছে।ইমাম নাবাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তার শারহে মুসলিম গ্রন্থে লিখেছেন, ‘‘এ ব্যাপারে ইজমা (ঐকমত্য) হয়েছে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তাড়াতাড়িই মাগরিবের সালাত আদায় করতে হবে’’। শী‘আদের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ এ মত ভিত্তিহীন। শাফাক্ব (সূর্য অস্ত যাওয়ার পর পশ্চিমাকাশে দৃশ্যমান লাল আভা) বিলীন হওয়ার সময় পর্যন্ত মাগরিবের সালাত আদায় দ্বারা মাগরিবের শেষ সময় বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। কেননা এটা ছিল প্রশ্নকারীর উত্তরে বলা কথা। সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পরপরই দ্রুত তা আদায় করাই ছিল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস। শার‘ঈ ওযর (অযুহাত) ছাড়া এর ব্যতিক্রম ঠিক নয়।(শারহু মিশকাতুল মাসাবিহ হা/৬০৯ এর ব্যাখ্যা দষ্টব্য)
.
▪️(৫).কিবলা এবং সালাতের ভিতরে উভয়ের সাদৃশ্য:
ইহুদি সম্প্রদায় কিবলার দিক থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ায়। একইভাবে রাফেযি শিয়ারাও তাই করে। ইহুদি নামাজে দুলতে থাকে (দেহ নাড়ায়), রাফেযিরাও তাই করে। ইহুদিরা নামাজে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়, রাফেযিরাও একই রকম করে। ইহুদিরা বলে আল্লাহ আমাদের ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন, রাফেযিরাও এমন কথাই বলে।
.
▪️(৬). ধর্মগ্রন্থ বিকৃতি:
ইহুদিরা যেমন তাওরাতের বিকৃতি করে নিজেদের মত অনুযায়ী ধর্ম গঠন করে নিয়েছে, তেমনি রাফেযীরাও কুরআনের আয়াত বিকৃত হয়েছে বলে বিশ্বাস করে, এমনকি “আসল কুরআন” ইমাম মাহদী নিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করে।
.
▪️(৭). মোজার ওপর মাসাহ অস্বীকার:
ইহুদীরা মোজার উপরে মাসাহ করা বৈধ মনে করে না। বরং তারা শরয়ী এই পদ্ধতি অস্বীকার করে। অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারাও মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ মনে করে না।
.
▪️(৮).জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি বিদ্বেষ:
ইহুদীরা ফেরেশতাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে বলে ফেরেশতাদের মধ্যে আমাদের শত্রু হচ্ছে জিবরীল। অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারাও বলে জিবরীল ভুল করে ওহী নাযিল করেছে মুহাম্মাদের উপর। অথচ তা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর কাছে যাওয়ার কথা ছিল।
.
গুরাবিয়া নামক আরেকটি দল আছে তারা বলে যে জিবরীল হচ্ছে খেয়ানতকারী সে ওহী নাযিল করে মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর অথচ রেসালাত পাওয়ার অধিক হকদার ছিল আলী ইবনে আবি তালেব (রদিয়াল্লহু আনহু)। এ জন্যই তারা বলে “খেয়ানত করেছে আমীন তথা জিবরীল আর হায়দার তথা আলীকে রেসালাত থেকে বঞ্চিত করেছে”।
.
▪️(৯).তাকিয়া বা মিথ্যার বৈধতা:
ইহুদিরা ধর্ম রক্ষার জন্য মিথ্যা বৈধ মনে করে। মহান আল্লাহ বলেন:” আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে।”(সূরা আলে ইমরান: ৭৫) অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারা তাকিয়াকে ‘ইবাদত’ মনে করে। রাফেযী শিয়াদের ধর্মগ্রন্থে আল-কুলাইনি বলেন: “التَّقِيَّةُ دِينِي وَدِينُ آبَائِي“তাকিয়া হল আমার ও আমার পিতৃপুরুষদের দ্বীন।”(আল-কাফি ২/২১৭; আল-আলিম আল-হুদা, আল-ইতকাদ, পৃষ্ঠা: ১১০)
.
▪️(১০).উভয়ে ধর্মীয় নেতাকে (ইমাম বা রবাইত) এক-প্রকার অমর ও অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করে এবং তাদের আহবার ও রাহিবদের অন্ধ অনুসরণ করে:
ইহুদিদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে “(তারা তাদের আলেম ও পাদরিদের আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে নিয়েছে) (সূরা তাওবা ৯: ৩১) তারা তাদের আলেমদের ‘হালাল-হারাম’ নির্ধারকরূপে মানে। আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তারা তাকে হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বীনকে তাদের দীন হিসাবে গ্রহণ করে না”।(সূরা আত-তাওবাহ: ২৯) অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারা বলে ইমামগণ গায়েবের খবর জানেন, তাদের মুজতাহিদ ও আয়াতুল্লাহদের আল্লাহর চেয়ে বড় মানে। তারা বলে ইমাম ভুল করে না, গায়েব জানেন, হালাল-হারামের মূল উৎস।(আল-কাফি; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৫৭)
.
▪️(১১).সাধারণ মানুষদের কাছে সঠিক জ্ঞান গোপন রাখা:
রাফেযী শিয়া ও ইহুদিরা উভয়ে ধর্মীয় জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে গোপন রাখাকে প্রথা হিসেবে মানে। ইহুদিদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:(হে নবী) বলুন, কে নাযিল করেছে মূসার আনীত কিতাব যা মানুষের জন্য আলো ও হিদায়াতস্বরূপ, যা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করে কিছু প্রকাশ কর ও অনেকাংশ গোপন রাখো(সূরা আনআম: ৯১) অনুরূপভাবে রাফেযী শিয়ারা ইমামিয়া মতবাদে “বাতিনী ইলম” গুরুত্বপূর্ণ, যা শুধু ইমামগণ জানেন। ইহুদিদের কাব্বালাহ ও তালমুদও গোপনীয় জ্ঞান।
.
▪️(১২). ইহুদিরা এবং রাফেযী শিয়া উভয় দলই সালামের ক্ষেত্রে বিকৃত এনেছে:
মু’মিনদের মধ্যে প্রচলিত সালামের রীতি হলো “আস্‌সালামু ‘আলাইকুম” যার অর্থ: ‘আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। অথচ ইহুদিরা এই সালাম বিকৃত করে বলে “আস্‌সামু ‘আলাইকুম” যেখানে “সাম” অর্থাৎ মৃত্যু কামনা করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় রাফেযি শিয়ারাও ঠিক একই ভঙ্গিতে সালাম করে থাকে।
.
▪️(১৩).সমুদ্রের কিছু হালাল মাছ নিজেদের উপর হারাম করেছে:
ইহুদিরা নির্দিষ্ট কিছু হালাল মাছ যেমন জির্রি মাছ, আল মারমাহা মাছ ,(এটির আকৃতি সাপের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সাপ নয়) ও লেজওয়ালা মাছ ভক্ষণে বিরত থাকে। তেমনি রাফেযি শিয়ারাও এজাতীয় মাছ গ্রহণে বিরত থাকে। তাদের বিশ্বাস ও চর্চায় একরকম মিল বিদ্যমান। তারা বিশ্বাস করে আল-জির্রি এমন এক ধরনের মাছ পূর্বে এটি মানবগোষ্ঠী ছিল,পরে আল্লাহ তাদেরকে বিকৃত করে মাছের রূপে পরিণত করেন। ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ তালবীস ইবলিস-এ আল-মুরতাদা ফীমা ইনফারাদাত বিহিল ইমামিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন যে ইমামিয়া শিয়ারা এই ‘আল-জির্রি’ মাছকে হারাম মনে করে।(তালবীস ইবলিস; পৃষ্ঠা: ১০০)
.
▪️(১৪).নিজেদের ধর্মের অনুসারী ছাড়া বাকিদের সম্পদ হালাল মনে করে:
ইহুদিরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নিজেদের ধর্মের অনুসারী নয় এমন লোকদের সম্পদ ভোগকে বৈধ মনে করে এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করাকেও তারা পাপ মনে করে না। অনুরূপভাবে রাফেযি শিয়ারা সুন্নি মুসলিমদের সম্পদ নিজেদের জন্য হালাল মনে করে এবং তাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতেও দ্বিধা করে না। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর মানসিকতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনে পূর্বেই সতর্ক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: قَالُوۡا لَیۡسَ عَلَیۡنَا فِی الۡاُمِّیّٖنَ سَبِیۡلٌ “তারা (ইহুদিরা) বলে,”উম্মীদের (ইহুদি ধর্মাবলম্বী নয় এমনদের) ব্যাপারে আমাদের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।”(সূরা আলে ইমরান;৭৫) রাফেযি শিয়ারাও এই ধারণাকেই বাস্তবে বিশ্বাস ও আচরণে প্রকাশ করে থাকে।
.
▪️(১৫).উভয় মহিলাদের ইদ্দতের বিধান প্রত্যাখ্যান করে:
ইহুদিরা নারীদের ওপর ইদ্দত (অপেক্ষা করার বিধান) মানে না। অনুরূপভাবে রাফেযি শিয়ারাও তা মানে না।
.
▪️(১৬).রাফেযী শিয়ারা খৃষ্টানদের সাথেও বেশ কিছু বিষয়ে মিল রাখে:
যেমন খৃষ্টানদের মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর নেই বরং যা দেয় তা ব্যবহারের বিনিময় হিসেবে দেয়। অর্থাৎ স্ত্রীর নিকট হতে যে ফায়েদা গ্রহণ করে তারই বিনিময় হিসেবে গণ্য। অনুরূপ রাফেযী শিয়ারা মুত’আহ্ বিবাহ (Contract marriage) বৈধ মনে করে এবং প্রদত্ত অর্থ বিনিময় মূল্য হিসেবে গণ্য করে, মোহর হিসেবে নয়।(উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন; ইবনু তাইমিয়া; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৪-২৯; আল সুন্নাহ লিল খাল্লাল খন্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪৯৬; বর্ণণা নাম্বার: ৭৯১)
.
▪️ইহুদী ও খৃষ্টান জাতি রাফেযীদের থেকে দুটি বিষয়ে উৎকৃষ্ট।
.
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ আল-হার্রানী আন-নুমাইরি, (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন:
سُئلت اليهود: من خير أهل ملتكم؟ قالوا: أصحاب موسى.
وسئلت النصارى: من خير أهل ملتكم؟ قالوا: حواري عيسى.
وسئلت الشيعة الاثنا عشرية: من شر أهل ملتكم؟ قالوا: أصحاب محمد – صلى الله عليه وآله وسلم -.
ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল মূসা আলাইহিস্ সালাম)-এর সাথীরা।
অনুরূপভাবে নাসারাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কে উত্তম? তারা বলেছিল: ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর হাওয়ারিগণ।(অর্থাৎ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঘনিষ্ঠ সাহায্যকারী ও অনুসারীগন। এ বিষয়ে সূরা আলে ইমরানের ৫২ নং আয়াতে আলোচনা রয়েছে) আর রাফেযী শিয়াদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তোমাদের ধর্মে কারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট? তারা বলেছিল “মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ।”(ইবনু তাইমিয়া; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৭)।
.
শায়খ আব্দুল্লাহ্ আল-জুমাইলী “বাযলুল মাজহুদ ফী মুশাবিহাতির রাফেযাতে লিল ইহুদ” গ্রন্থে রাফেযী শিয়া ও ইহুদীদের মধ্যে কতিপয় সাদৃশ্য উল্লেখ করেন, যেমন ইহুদী ও রাফেযীরা নিজেদের ছাড়া অন্যদের কাফের বলে এবং তাদের রক্ত ও সম্পদ তথা জান ও মাল হালাল মনে করে। অতঃপর তিনি বলেন ইহুদীরা মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করে। যথা: ইয়াহুদ ও উমামি। উমামিরা হচ্ছে ঐ সমস্ত লোক যারা ইহুদী নয়। ইহুদীরা আরো বিশ্বাস করে যে শুধুমাত্র তারাই মু’মিন। আর তাদের নিকট উমামিরা হচ্ছে কাফের মূর্তিপূজক আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।
.
তালমুদ গ্রন্থে এসেছে যে, ইহুদীরা ব্যতীত সকল জাতি-ই মূর্তিপূজক। এমনকি ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাদের এ কুফরী সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। তালমুদে তারা বলেছে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) কাফের, সে আল্লাহকে চেনে না।’ রাফেযীরা বলে মু’মিন তথা ইহুদী ও তারা ব্যতীত অবশিষ্ট সকলে কাফের ও মুরতাদ। ইসলামে তাদের কোন অংশ নেই। আল-বারকী আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমরা ও আমাদের শিয়ারা ব্যতীত আর কেউ মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই অর্থাৎ শুধুমাত্র আমরাই মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর সব মানুষ তা থেকে মুক্ত।” আবু আব্দুল্লাহ সূত্রে তাফসীরে কুম্মীতে রয়েছে, তিনি বলেন,ما من أحد من هذه الأمة يدين بدين إبراهيم غيرنا وشيعتنا “আমরা ও ইহুদীরা ব্যতীত কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের উপর আর কেউ নেই।”(আল-হার আল-‘আমালী; খণ্ড: ২৭; পৃষ্ঠা: ১১৯)
.
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত:৭২৮ হি.] বলেন: “إن أصل كل فتنة وبلية هم الشيعة، ومن انضوى إليهم، وكثير من السيوف التي سلت في الإسلام إنما كان من جهتهم، وبهم تسترت الزنادقة”নিশ্চয়ই প্রতিটি ফেতনা ও বিপদের মূল হলো শিয়া এবং যারা তাদের সাথে যুক্ত হয়। ইসলামের মধ্যে যেসব তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে, তার অধিকাংশই তাদের পক্ষ থেকে ছিল এবং তাদের মাধ্যমেই নাস্তিকরা নিজেদের আড়াল করেছে।(মিনহাজুস সুন্নাহ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ২৪৩)
.
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] আরো বলেছেন:(إذا اقتتل المجوس والرافضة واليهود، فاحمد الله أن أراح المسلمين من بأسهم، وادع الله أن لا تكون فتنتك في أحدهما) “যখন মজুস (অগ্নিপূজক), রাফেযী (চরমপন্থী শিয়া) এবং ইহুদিরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করে তখন আল্লাহর প্রশংসা করো যিনি মুসলিমদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। আর আল্লাহর কাছে দু’আ করো যেন তুমি তাদের কারো দ্বারা ফিতনা (পরীক্ষার) শিকার না হও।”(ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ, ফাতাওয়া আল-কুবরা, খন্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ১৩)।
.
বর্তমান ইসনা ‘আশারিয়া শী‘আদের ইমাম ও ইরানী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী বলেন আমাদের ইমামদের মর্যাদা এত উচ্চস্তরের যে আল্লাহর কোন নিকটবর্তী ফেরেশতা বা প্রেরিত নবী উক্ত মর্যাদায় পৌঁছতে পারেনি’ (আল-হুকূমাতুল ইসলামিয়াহ; পৃষ্ঠা: ৭৫) (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

শিয়াদের উৎপত্তি কখন এবং কিভাবে হয়েছিল

 পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি। অতঃপর আরবি (الشيعة) শী‘আ শব্দের অর্থ অনুসারী, গোষ্ঠী, সাহায্যকারী ইত্যাদি। কুরআনেও এই শব্দটি অনুগামী অর্থে এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন: وَ اِنَّ مِنۡ شِیۡعَتِهٖ لَاِبۡرٰهِیۡمَ”আর ইবরাহীম তো তার অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত।”(সূরা আস-সাফফাত, ৩৭: ৮৩) এখানে “শিয়া” মানে ‘নূহ (আঃ)-এর অনুগামী’ দল বা মতের অনুসারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনু মানযুর (রাহিমাহুল্লাহ) শিয়াদের পরিচয় দিয়ে গিয়ে বলেন: “যারা কোনো মত বা আদর্শে একত্রিত হয়, তারা একে অপরের শিয়া বা অনুসারী গোষ্ঠী।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্বেই ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে বহু ভ্রান্ত দল জন্ম নেবে। এই বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর একটি হলো ‘শীআ’ যারা স্বয়ং নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিবারকে কেন্দ্র করেও গোমরাহিতে লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও বিকৃতি সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত সাহাবী উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর মৃত্যুর পর ইহু-দীদের ষড়যন্ত্রের ফসল হিসাবে আলী এবং মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শী‘আ সম্প্রদায়ের জন্ম হয়। মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় আপোস করার জন্য যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানায়। ফলে মীমাংসার জন্য আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে আবু মূসা আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আর মু‘আবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শালিস নিযুক্ত করা হয়। এতে একশ্রেণীর লোক আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ ত্যাগ করে। তারা ইতিহাসে ‘খারেজী’ বলে পরিচিত। আরেক শ্রেণী এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। কিন্তু তারা নিষ্ক্রিয় থাকে। তাদেরকেই ‘শী‘আ বলা হয়।(বিস্তারিত জানতে দেখুন আত-তারীখুল ইসলামী, পৃষ্ঠা: ২৭৪-২৭৭) পরবর্তীতে শী‘আ ফিতনার বিকাশ হয়েছে ইসলাম ও মুসলিমের শত্রু ইহুদী আব্দুল্লাহ ইবনু সাবা ও তার অনুসারী যুরারা, আবূ বাসীর, আব্দুল্লাহ ইবনু ই‘য়াফুর, আবূ মিখনাফ লূত ইবনু ইয়াহইয়া প্রমুখ মিথ্যাবাদীদের দ্বারা।

.
আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ছিলেন এক ইহু-দি যার ইসলাম গ্রহণ ছিল মুনাফেকি ও ষড়যন্ত্রের ঢাল। সে চরমপন্থী মুনাফিক হয়েও মুসলিম হওয়ার ভান করেছিলেন। সে মূলত ইয়েমেনের বাসিন্দা ছিলেন এবং হিজাজ, তারপর বাসরা ও কুফায় তাঁর ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) ছড়াতে ভ্রমণ করেছিলেন। সে ‘উসমান ইবনে ‘আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর খিলাফতের সময় দামেস্কে গিয়েছিলেন এবং সেখানকার লোকেরা তাকে বহিষ্কার করে, এরপর সে মিশরে যায় এবং প্রকাশ্যে তাঁর বিদ‘আত (নতুনত্ব) প্রচার করতে শুরু করে। প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগের আলিমগণ তাঁর ষড়যন্ত্র, মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি-প্রচেষ্টা এবং তাঁর অনুসারীদের কার্যক্রম বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।ইবনু সাবাʾ ছিল তথাকথিত “সাবাই্যায়া” নামে কুখ্যাত একটি ভ্রান্ত ফির্কার নেতা। এই ফিরকার লোকেরা আলি (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে ঈশ্বরস্বরূপ মনে করত।(নাঊযু বিল্লাহ) ইবনু সাবাʾই সর্বপ্রথম খিলাফতে আলি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর জন্য আল্লাহ-প্রদত্ত “নস” (সরাসরি নিযুক্তির দাবী), তাঁর ‘ঈসমাহ্ (পাপ-অপরাধ থেকে পূর্ণ পবিত্রতা) এবং কিয়ামতের পূর্বে তাঁর প্রত্যাবর্তন (রাজ‘আত)-এর আকীদা ছড়িয়ে দেয়। তিনিই প্রথম সাহাবায় কিরাম ও পূর্ববর্তী খলিফাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা শুরু করেন। তাঁর এই বিকৃত মতবাদই পরে রাফেযি চিন্তাধারার ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “وأول من ابتدع القول بالعصمة لعلي وبالنص عليه في الخلافة : هو رأس هؤلاء المنافقين عبد الله بن سبأ ، الذي كان يهوديا فأظهر الإسلام وأراد إفساد دين الإسلام كما أفسد بولص دين النصارى “যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম আলি (রাঃ)-এর জন্য নস (সরাসরি নির্দিষ্টকরণ) ও ঈসমাহ’ (নিষ্পাপতা)-এর ভিত্তি স্থাপন করে, সে ছিল এই মুনাফিকদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবনু সাবা’। সে একজন ইহু-দি ছিল, অতঃপর ইসলাম গ্রহণের ভান করে এবং ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালায় যেমন খ্রিস্টানদের ধর্ম বিকৃত করেছিল ‘পল’ (Paul)।”(ইবনু তাইমিয়া; মাজমু‘উল ফাতাওয়া: খণ্ড; ৪: পৃষ্ঠা: ৫১৮) এ বিষয়ে সুন্নি ও শিয়া উভয় লেখকের সাম্প্রদায়িকতা, ইতিহাস ও জীবনী নিয়ে লেখা বইগুলিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।(বিস্তারিত জানতে দেখুন;আবু আল-হাসান আল-আশ‘আরীর মাকালাত আল-ইসলামিয়ীন; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩২); আশ-শাহরাস্তানির আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৭৪); তারিখ আত-তাবারি; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৩৪০; শিয়া আল-কুম্মীর আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক; পৃষ্ঠা: ২০; আত-নওবাখতির ফিরাক আশ-শিয়া পৃষ্ঠা: ২২)।
.
শিয়াদের উৎপত্তি সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
ففي خلافة أبي بكر وعمر وعثمان لم يكن أحد يسمى من الشيعة، ولا تضاف الشيعة إلى أحد، لا عثمان ولا علي ولا غيرهما، فلما قتل عثمان تفرق المسلمون، فمال قوم إلى عثمان، ومال قوم إلى علي، واقتتلت الطائفتان، وقتل حينئذ شيعة عثمان شيعة علي…وكانت الشيعة أصحاب علي يقدمون عليه أبا بكر وعمر، وإنما كان النزاع في تقدمه على عثمان.ولم يكن حينئذ يسمى أحد لا إماميا ولا رافضيا، وإنما سموا رافضة، وصاروا رافضة، لما خرج زيد بن علي بن الحسين بالكوفة في خلافة هشام، فسألته الشيعة عن أبي بكر وعمر، فترحم عليهما، فرفضه قوم، فقال: رفضتموني رفضتموني فسموا رافضة، وتولاه قوم فسموا زيدية لانتسابهم إليه. ومن حينئذ انقسمت الشيعة إلى رافضة إمامية وزيدية، وكلما زادوا في البدعة زادوا في الشر…”
“আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম)-এর খেলাফতের সময়ে কাউকে ‘শিয়া’ বলা হতো না। ‘শিয়া’ শব্দটি কারও সাথেই (না উসমান, না আলি, আর না অন্য কাউকে) সম্পৃক্ত করে বলা হতো না। কিন্তু যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) শহীদ হন, তখন মুসলিমরা বিভক্ত হয়ে পড়ে একদল উসমানের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, আরেকদল আলির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। অতঃপর উভয় দল একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করে। সে সময় উসমানপন্থী শিয়ারা আলীপন্থী শিয়াদের হত্যা করে। আলি (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর অনুসারী শিয়ারা তাঁকে আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর উপর অগ্রাধিকার দিত না; বরং তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল কেবল উসমান (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর অগ্রাধিকারের ব্যাপারে। সে সময় কাউকে ইমামিয়া’ বা ‘রাফেযী’ বলে ডাকা হতো না। ‘রাফেযী’ নামটি প্রথম চালু হয় তখন, যখন যায়েদ ইবনু আলী ইবনুল হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) খলিফা হিশামের আমলে কুফায় বিদ্রোহ করেন। সে সময় শিয়ারা তাঁকে আবু বকর ও উমরের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। তিনি তাঁদের জন্য দো‘আ করেন (তাদের প্রতি দয়া প্রার্থনা করেন)। তখন একদল তাকে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বললেন, “তোমরা তো আমাকে প্রত্যাখ্যান করলে! তোমরাই তো ‘রাফেযী’ (বর্জনকারী)।আর যাঁরা তাঁকে সমর্থন করলেন, তাঁদের বলা হলো ‘যায়েদিয়া’ কারণ তাঁরা “যায়েদিয়া”(যায়দের অনুসারী ছিলেন)। তখন থেকেই শিয়ারা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় রাফেযী ইমামিয়া ও যায়েদিয়া। এবং তারা যতই বিদআতের প্রতি অগ্রসর হলো, ততই তারা অকল্যাণ ও বিপথগামিতিতে অগ্রসর হতে থাকল…(ইবনু তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৯৪-৯৫)
.
ইমাম ইবনু হাজম আন্দালুসী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত:৪৫৬ হি.) বলেন:
ومات رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسلمون كذلك ليس بينهم اختلاف في شيء أصلا، بل كلهم أمة واحدة، ودين واحد، ومقالة واحدة، ثم ولي أبو بكر رضي الله عنه سنتين وستة أشهر، فغزا فارس والروم وفتح اليمامة… ثم مات رضي الله عنه والمسلمون كما كانوا لا اختلاف بينهم في شيء أصلا، أمة واحدة، ومقالة واحدة…ثم مات أبو بكر وولي عمر رضي الله عنهما، ففتحت بلاد الفرس طولا وعرضا، وفتحت الشام كلها، والجزيرة، ومصر كلها… ثم ولي عثمان رضي الله عنه، فزادت الفتوح، واتسع الأمر… وبقي كذلك اثني عشر عاما حتى مات، وبموته حصل الاختلاف، وابتداء أمر الروافض ”
“রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তিকাল করেন, মুসলিমরা তখন একই জাতি, একই দ্বীন এবং একই আক্বীদার ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন; কোনো মতভেদ ছিল না। এরপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) খেলাফত গ্রহণ করেন এবং দুই বছর ছয় মাস শাসন করেন। তিনি পারস্য ও রোমের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন, ইয়ামামা বিজয় করেন…এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন, আর মুসলিমরা তখনও পূর্বের মতোই মতভেদহীন এক ও অখণ্ড ছিলেন এরপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তিকাল করলে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খেলাফত গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে পারস্যের বিস্তৃত অঞ্চলসমূহ বিজিত হয়, সমগ্র শাম, জাযীরাহ এবং মিসর জয় করা হয়…এরপর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খেলাফত গ্রহণ করেন, আর বিজয় আরও বিস্তৃত হয়, ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে…তিনি বারো বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন অবশেষে তিনি শাহাদত বরণ করেন। আর তাঁর শাহাদতের পরেই মতভেদ সৃষ্টি হয় এবং রাফেযী সম্প্রদায়ের (শিয়া চরমপন্থার) আবির্ভাব ঘটে।”(ইবন হাযম; আল-ফাসল ফি মিলাল ওয়া আহওয়া’ঈ ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২১৩-২১৬)
.
সুতরাং ইতিহাস, দলিল ও গবেষণার আলোকে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ‘আব্দুল্লাহ ইবন সাবা’ ছিল এক ইহু-দি ষড়যন্ত্রকারী, যার মাধ্যমে রাফেযী মতবাদের বীজ রোপিত হয়। সে ইসলামের ভিতর থেকে ভাঙনের সূচনা করে। এই বিষয়ে প্রাচীন সুন্নি-শিয়া উভয় মতের গ্রন্থেই তার অস্তিত্ব, কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ বিদ্যমান।যারা তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন, তারা মূলত প্রমাণিত সত্যকে অস্বীকার করার ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছেন, যা তাদের মতাদর্শিক পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। অথচ ইতিহাস স্বয়ং সাক্ষ্য দেয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনু সাবা শুধু একটি ব্যক্তি নয়, বরং এক গভীর ষড়যন্ত্রের সূচনা যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। শী‘আরা বহু দলে বিভক্ত। আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

মুমিন মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আল্লাহ তার কষ্ট বা ক্ষতি অপছন্দ করেন এর বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা

 প্রশ্ন: রাসূল (ﷺ) থেকে বর্নিত, আল্লাহ বলেন, يَكْرَهُ المَوْتَ، وَأَنَا) أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ) সে (মুমিন) মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট/ক্ষতি অপছন্দ করি।”(সহীহ বুখারী হা/ ৬৫০২, সিলসিলা সহীহাহ হা/১৬৪০) এর বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা কি?

▬▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন; يَكْرَهُ المَوْتَ، وَأَنَا) أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ) “মুমিন মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার কষ্ট/ক্ষতি অপছন্দ করি।”(বুখারী হা/৬৫০২) এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের শেষের অংশ,পুরো হাদিসটিতে খাঁটি মুমিন বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে যার দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ্‌র আদেশ ও নির্দেশনার বাইরে বিন্দুমাত্র অগ্রসর হয় না। মৃত্যু এটি একজন মু’মিনের জন্য স্বভাবতই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়।কারণ এর মাধ্যমেই তাকে বিদায় নিতে হয় পরিচিত মানুষদের মায়া থেকে, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য থেকে এবং এই চেনা পৃথিবীর শান্ত আবরণ ও নির্ভরতার ছায়া থেকে। তাকে অজানার দিকে পা বাড়াতে হয় এক এমন জগতে, যার পরিবেশ, অনুভব, সঙ্গ ও অভিজ্ঞতা তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তাই মুমিন মৃত্যুকে সহজে আলিঙ্গন করতে পারেন না। তবে মুমিনের এই মৃত্যুকে অপছন্দ করা দুনিয়ার মোহ থেকে নয়; বরং এটি আসে এক গভীর আত্মিক তাড়না থেকে—আরও বেশি নেক আমল করার, আরও অধিক আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের, এবং পরকালীন জীবনের জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার বাসনা থেকে। দুনিয়াতে বেঁচে থাকা তাঁর কাছে ইবাদত ও সৎকর্মের সুযোগ। অন্যদিকে অমুসলিমরাও মৃত্যুকে অপছন্দ করে; কিন্তু তাদের এ অপছন্দ মূলত দুনিয়ার ভোগ-বিলাস হারানোর ভয় থেকে উৎসারিত। তারা চান না এ জাগতিক সুখ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে। কিন্তু একজন মু’মিনের মৃত্যু-ভীতি, একেবারেই ভিন্ন মু‘মিনের অপছন্দ মূলত পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি ও নেক আমল বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা থেকে আসে।
.
অন্যদিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যিনি পরম দয়ালু, অবারিত করুণার আধার তিনিও ভালোবাসেন তাঁর মু’মিন বান্দাকে। তাই তাঁর বান্দার যেকোন কষ্ট হোক তা দুনিয়ার পরীক্ষায়, কিংবা মৃত্যুর সময়কার বেদনায় তিনিও তা অপছন্দ করেন।কিন্তু মৃত্যু এমন এক অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা, যার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। এই মৃত্যু-ই, যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে মু’মিনের জন্য অফুরন্ত রহমত, চিরস্থায়ী পুরস্কার এবং আল্লাহর পরম হিকমতের দরজা। মৃত্যুর মাধ্যমেই বান্দা ফিরে আসে তার রবের দিকে, প্রবেশ করে অনন্ত শান্তির আবাস জান্নাতে। এই দ্বিমুখী বাস্তবতাই হাদীসে বর্ণিত “তরাদ্দুদ” অর্থাৎ “দ্বিধা” বা “দ্বিমুখিতা”-এর প্রকৃত তাৎপর্য। আল্লাহর তরফ থেকে এটি কোনো অক্ষমতা নয় বরং তাঁর অসীম দয়ার এক অপার্থিব, অতুলনীয় বহিঃপ্রকাশ। বান্দার কষ্টকে তিনি অপছন্দ করেন, কিন্তু সেই কষ্টের মধ্য দিয়েই বান্দাকে নিজের সান্নিধ্যে টেনে নেওয়াকেই তিনি চূড়ান্ত কল্যাণ মনে করেন।
.
হাদিসটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হিজরী ৮ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম ইমাম তাক্বিউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ বিন ‘আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হার্রানী আন-নুমাইরি, (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮ হি.] বলেছেন:
وَالرَّبُّ يَكْرَهُ أَنْ يَسُوءَ عَبْدَهُ وَمَحْبُوبَهُ، فَلَزِمَ مِنْ هَذَا أَنْ يَكْرَهَ الْمَوْتَ، لِيَزْدَادَ مِنْ محاب مَحْبُوبِهِ، وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى قَدْ قَضَى بِالْمَوْتِ، فَكُلُّ مَا قَضَى بِهِ فَهُوَ يُرِيدُهُ، وَلَا بُدَّ مِنْهُ، فَالرَّبُّ مُرِيدٌ لِمَوْتِهِ لِمَا سَبَقَ بِهِ قَضَاؤُهُ، وَهُوَ مَعَ ذَلِكَ كَارِهٌ لِمسَاءَةِ عَبْدِهِ، وَهِيَ الْمسَاءَةُ الَّتِي تَحْصُلُ لَهُ بِالْمَوْتِ، فَصَارَ الْمَوْتُ مُرَادًا لِلْحَقِّ مِنْ وَجْهٍ، مَكْرُوهًا لَهُ مِنْ وَجْهٍ، وَهَذَا حَقِيقَةُ التَّرَدُّدِ، وَهُوَ: أَنْ يَكُونَ الشَّيْءُ الْوَاحِدُ مُرَادًا مِنْ وَجْهٍ مَكْرُوهًا مِنْ وَجْهٍ، وَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ مِنْ تَرَجُّحِ أَحَدِ الْجَانِبَيْنِ كَمَا تَرَجَّحَ إرَادَةُ الْمَوْتِ؛ لَكِنْ مَعَ وُجُودِ كَرَاهَةِ مسَاءَةِ عَبْدِهِ، وَلَيْسَ إرَادَتُهُ لِمَوْتِ الْمُؤْمِنِ ، الَّذِي يُحِبُّهُ وَيَكْرَهُ مسَاءَتَهُ ، كَإِرَادَتِهِ لِمَوْتِ الْكَافِرِ الَّذِي يُبْغِضُهُ وَيُرِيدُ مُسَاءَتَهُ “
“প্রভু (আল্লাহ) অপছন্দ করেন যে, তাঁর কোনো বান্দা ও প্রিয়জনের কোনো ক্ষতি হোক। সুতরাং এখান থেকে এ কথা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় যে, (বান্দা) মৃত্যুকে অপছন্দ করবে যেন সে তার প্রিয় প্রভুর পছন্দনীয় বিষয়গুলো আরও বেশি করে অর্জন করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মৃত্যুর ফয়সালা দিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি যা ফয়সালা করেন তা-ই তিনি চান, আর তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। অতএব প্রভু বান্দার মৃত্যু কামনা করেন, কারণ তাঁর পক্ষ থেকে পূর্বেই তা নির্ধারিত হয়েছে।তবে তা সত্ত্বেও, তিনি তাঁর বান্দার কষ্ট অপছন্দ করেন। আর সেই কষ্টটি হচ্ছে যেটি মৃত্যুর মাধ্যমে যা সে ভোগ করে।ফলে মৃত্যু এমন একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক দিক দিয়ে চাওয়া হয়েছে, আবার অন্য দিক দিয়ে অপছন্দনীয়। এটাই হল ‘তরাদ্দুদ’ (দ্বিধা বা দ্বিমুখিতা) অর্থাৎ, কোনো একটি বস্তু এমন হতে পারে যা এক দিক থেকে কাম্য, আবার অন্য দিক থেকে অপছন্দনীয়। যদিও বাস্তবে একটি দিক অবশ্যই প্রাধান্য লাভ করে, যেমন এখানে মৃত্যুর প্রতি আল্লাহর ইচ্ছা প্রাধান্য পেয়েছে; তবুও বান্দার কষ্ট হওয়া এই দিক থেকেও অপছন্দ বজায় থাকে। তবে কোনো মুমিন বান্দার মৃত্যুতে যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং যার কষ্ট তিনি অপছন্দ করেন আল্লাহর ইচ্ছা এমন নয়, যেমনটি একজন কাফিরের মৃত্যুর ব্যাপারে হয়ে থাকে যাকে তিনি ঘৃণা করেন এবং যার কষ্ট তিনি কামনা করেন।”(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১৮; পৃষ্ঠা: ১৩১)
.
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)আরও বলেছেন:
فَهُوَ سُبْحَانَهُ لَمَّا كَرِهَ مسَاءَةَ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَكْرَهُ الْمَوْتَ، كَانَ هَذَا مُقْتَضِيًا أَنْ يَكْرَهَ إمَاتَتَهُ مَعَ أَنَّهُ يُرِيدُ إمَاتَتَهُ؛ لِمَا لَهُ فِي ذَلِكَ مِنْ الْحِكْمَةِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى “
আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যখন তাঁর সেই মু’মিন বান্দার কষ্ট অপছন্দ করেন যে বান্দা নিজেও মৃত্যুকে অপছন্দ করে তখন তার মৃত্যু আল্লাহর দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় হয়ে ওঠে; তবুও তিনি চূড়ান্তভাবে তার মৃত্যু চান, কেননা এর মাধ্যমে তার অসীম হিকমাহ বাস্তবায়িত হয়”।(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ৪৮৩)
.
শাইখ, ফকীহ মোল্লা আলী আল-ক্বারী হানাফি (রাহিমাহুল্লাহ [মৃত: বিশুদ্ধ মতে ১০১৪ হি:] বলেন
:(وَأَنَا أَكْرَهُ مسَاءَتَهُ) : قَالَ ابْنُ الْمَلَكِ: أَيْ: إِيذَاءهُ بِمَا يَلْحَقُهُ مِنْ صُعُوبَةِ الْمَوْتِ وَكَرْبِهِ، وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: أَيْ: أَكْرَهُ مَا يَسُوءُهُ؛ لِأَنِّي أَرْحَمُ بِهِ مِنْ وَالِدَيْهِ، لَكِنْ لَا بُدَّ لَهُ مِنْهُ لِيَنْتَقِلَ مِنْ دَارِ الْهُمُومِ وَالْكُدُورَاتِ إِلَى دَارِ النَّعِيمِ وَالْمَسَرَّاتِ “
”(আর আমি তার কষ্ট অপছন্দ করি) এ সম্পর্কে ইবনু মালিক বলেন: এর অর্থ হলো, তার সেই কষ্ট অপছন্দ করা, যা সে মৃত্যুর যন্ত্রণার মাধ্যমে ভোগ করে। আর ইবনু হাজার বলেন: এর অর্থ হলো, আমি তার কষ্ট পাওয়া অপছন্দ করি; কেননা আমি তার জন্য এমন মমতাশীল, যা তার বাবা-মায়ের মমতার চেয়েও গভীর।তবে মৃত্যু তার জন্য অপরিহার্য; কেননা তাকে দুঃখ-ক্লেশ ও বিপদের গৃহ থেকে বের করে নিয়ে সুখ-শান্তির আবাসস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই তাকে এই পথ পাড়ি দিতে হয়। “(মিরকাতুল মাফাতীহ, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ১৫৪৬)
.
আদম সন্তান যে স্বভাবতই মৃত্যুকে অপছন্দ করে—এ কথার সমর্থনে অন্যান্য হাদীসসমূহেও প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
اثْنَتَانِ يَكْرَهُهُمَا ابْنُ آدَمَ : الْمَوْتُ، وَالْمَوْتُ خَيْرٌ لِلْمُؤْمِنِ مِنَ الْفِتْنَةِ، وَيَكْرَهُ قِلَّةَ الْمَالِ، وَقِلَّةُ الْمَالِ أَقَلُّ لِلْحِسَابِ.
“আদম সন্তান স্বভাবত দুটো বিষয়কে অপছন্দ করে। একটি হলো মৃত্যু। অথচ ফেতনা থেকে তার জন্য মৃত্যুই উত্তম। আর সে স্বল্প ধন-দৌলত অপছন্দ করে। অথচ অল্প সম্পদ পরকালের হিসেবের জন্য সহজতর হবে।”(মুসনাদে আহমদ হা/২৩৬২৫)। অপর বর্ননায় আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতকে ভালবাসে আল্লাহও তার সাক্ষাতকে ভালবাসেন। যে ব্যক্তির কাছে আল্লাহর সাক্ষাত প্রিয়, আল্লাহর নিকটও তার সাক্ষাত প্রিয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি মৃত্যুর কথা বুঝাতে চাচ্ছেন? আমরা তো সবাই মৃত্যুকে অপছন্দ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: না, সেটা না। মুমিন বান্দাকে যখন আল্লাহর রহমত, তাঁর সন্তুষ্টি, তাঁর জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করাকে ভালবাসেন। আর কাফের বান্দাকে যখন আল্লাহর শাস্তি, তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাতকে অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাতকে অপছন্দ করেন।”(সহীহ বুখারী হা/৬৫০৭; এবং মুসলিম হা/২৬৮৩)
.
হাদিসটির ব্যাখ্যায় শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন,معنى الحديث أن المحبة والكراهية التي تعتبر شرعا هي التي تقع عند النزع في الحالة التي لا تقبل فيها التوبة، حيث ينكشف الحال للمحتضر ، ويظهر له ما هو صائر إليه “হাদিসের অর্থ হচ্ছে- যখন মানুষের মৃত্যুর গড়গড়া শুরু হয়ে যায়, যে অবস্থায় আর তওবা কবুল হয় না, সে অবস্থার পছন্দ-অপছন্দকে এখানে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে পড়ে, তার পরিণতি কী হতে যাচ্ছে সেটা তার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়”(ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১০৯০৩)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

স্ত্রীর অনুভূতির কথা বিবেচনা করে বহুবিবাহ পরিত্যাগের বিধান কি

 কাতার ভিত্তিক ইসলাম ওয়েবের আলেমগনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: আমি একজন পুরুষ এবং দ্বিতীয় বিয়েতে আগ্রহী। আমি আমার স্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম প্রথমে তিনি রাজি থাকলেও পরে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। আমি চাই না তার হৃদয়ে কোনো কষ্ট দেই বা তার মন ভাঙে। অথচ আমার আর্থিক, শারীরিক সামর্থ্য ও মানসিক আগ্রহ সবই রয়েছে। আমি নারীর প্রতি স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট এবং আরও সন্তান লাভেরও ইচ্ছা রাখি। এমতাবস্থায় কেবল স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে যদি আমি দ্বিতীয় বিবাহ থেকে বিরত থাকি, তাহলে কি আমি গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবো? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াসসালাতু ওয়াস্‌সালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ থেকে বিরত থাকা কোনোভাবেই গোনাহের কাজ নয়। বরং এটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যা পরিস্থিতি, প্রয়োজন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ইসলাম একাধিক বিবাহের অনুমতি দিলেও তা বাধ্যতামূলক নয়; বরং এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে যে একজন স্ত্রী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উত্তম, না কি একাধিক বিবাহ করা শ্রেয়। যদি বর্তমান স্ত্রী স্বামীকে যৌন চাহিদা থেকে যথেষ্ট পরিমাণে সংযত রাখতে সক্ষম হন এবং তার পাপমুখিতা থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হন, তাহলে দ্বিতীয় বিবাহ না করাই অনেক আলেমের দৃষ্টিতে উত্তম। কারণ এতে অন্যায়, জুলুম কিংবা অবিচারের আশঙ্কা কম থাকে। তবে যদি একজন স্ত্রী স্বামীর শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হন, যার ফলে স্বামীর পাপের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে নিজেকে গুনাহ থেকে রক্ষা করার জন্য দ্বিতীয় বিবাহই তার জন্য অধিক উপযোগী ও নিরাপদ পথ।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
وعلى هذا فنقول: الاقتصار على الواحدة أسلم، ولكن مع ذلك إذا كان الإنسان يرى من نفسه أن الواحدة لا تكفيه ولا تعفه، فإننا نأمره بأن يتزوج ثانية وثالثة ورابعة؛ حتى يحصل له الطمأنينة، وغض البصر، وراحة النفس
এই ভিত্তিতে আমরা বলি একজন স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ থাকা বেশি নিরাপদ। তবে যদি কেউ মনে করে যে, একজন স্ত্রী তার জন্য যথেষ্ট নয় এবং সে নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে সংযত রাখতে পারে না তাহলে আমরা তাকে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্ত্রী বিবাহ করতে পরামর্শ দিচ্ছি যাতে সে মানসিক প্রশান্তি, দৃষ্টিকে সংযত রাখা এবং অন্তরে স্বস্তি লাভ করতে পারে।”(ইমাম ইবনু উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘, আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ৪)
.
অতএব স্ত্রীর অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ থেকে বিরত থাকা কোনোভাবেই গোনাহ নয়; বরং কখনো কখনো তা হতে পারে এক প্রাজ্ঞ ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত যদি এর মাধ্যমে পরিবারে শান্তি, মানসিক স্বস্তি ও বৈবাহিক স্থিতি অটুট থাকে। তবে যদি আপনি মনে করেন দ্বিতীয় বিবাহ আপনার জন্য বাস্তবিক প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর, তাহলে শরিয়ত সে সুযোগ ও অনুমোদন আপনাকে দিয়েছে। আপনি নিজেই আপনার পারিবারিক বাস্তবতা, প্রয়োজন ও মসলা‌হাত সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো অবগত। তাই এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগ নয়, বরং ধৈর্য, ভারসাম্য ও প্রজ্ঞার আলোকে চিন্তা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। (কিছুটা সংযোজিত ও পরিমার্জিত; ইসলাম ওয়েব ফাতওয়া নং-২৯২৭৪১) (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Translate