Sunday, March 2, 2025

ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদেরকে হত্যা করার বিধান

 ▪️ ফতোয়া-১:

প্রশ্ন: যদি আমি কোথাও সফর করি এবং সেখানে শত্রুদের দেখি, যারা পথ অবরোধ করে সম্পদ লুণ্ঠন করছে, আমি কি তাদেরকে আমার সম্পদ দিয়ে দেব, নাকি তাদের সাথে লড়াই করব? আর যদি আমি তাদের হত্যা করি বা তারা আমাকে হত্যা করে তাহলে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল:
يا رسول الله، يأتيني الرجل يريد مالي؟ قال: لا تعطه مالك، قال: فإن قاتلني؟ قال: قاتله. قال: فإن قتلته؟ قال: فهو في النار. قال: فإن قتلني؟ قال: فأنت شهيد
“হে আল্লাহর রসুল, যদি কোনও ব্যক্তি আমার সম্পদ নেওয়ার জন্য আসে?” তিনি বললেন: “তাকে তোমার সম্পদ দিও না।” লোকটি বলল: “যদি সে আমার সাথে লড়াই করে?” তিনি বললেন: “তুমিও তার সাথে লড়াই করো।” লোকটি বলল: “যদি আমি তাকে হত্যা করি?”
তিনি বললেন: “সে জাহান্নামে যাবে।” লোকটি বলল: “যদি সে আমাকে হত্যা করে?”
তিনি বললেন: “তুমি শাহিদ হবে।” [মুসলিম, সহিহ]।

সুতরাং তোমার এখতিয়ার আছে। যদি লড়াই ছাড়া তাকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তাহলে তুমিও তার সাথে লড়াই করতে পারো। কিন্তু তাকে তোমার সম্পদ দেবে না।

তবে যদি তুমি তোমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে চাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। কারণ প্রাণ সম্পদের চেয়ে মূল্যবান।

কিন্তু যদি তুমি লড়াই করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।

আর যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে সে জাহান্নামে যাবে (আল্লাহর আশ্রয় চাই) এবং তার রক্ত বৃথা যাবে [অর্থাৎ এর জন্য তোমার উপরে কিসাস (হত্যার বদলে হত্যার বিধান) বাস্তবায়িত হবে না]।

আর যদি সে তোমাকে হত্যা করে তাহলে তুমি শাহিদ হবে। কারণ তুমি অত্যাচারিত হয়েছো।

যদি তুমি তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে শান্ত করতে পারো এবং পরে কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়ে অভিযোগ করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।

অর্থাৎ তোমাকে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়নি। যদি তুমি লড়াই করো তাহলে কোনও সমস্যা নেই। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও এবং তার খারাপ ইচ্ছা মেটানোর জন্য তাকে কিছু দিয়ে নিজের প্রাণ ও রক্ত বাঁচাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। পরে তুমি তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারো।” [আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.]

▪️ ফতোয়া-২:

ইসলাম ওয়েব-এর ফতোয়া:

ডাকাত এবং অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা লুটতরাজকারীরা (মুহারিব) যদি তারা আত্মসমর্পণ না করে এবং অস্ত্রের সাহায্যে লড়াই করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং প্রয়োজনে তাদের সবাইকে হত্যা করা জায়েজ এ বিষয়ে কোনও মতবিরোধ নেই। এছাড়াও যারা তাদের সাহায্য করে, আশ্রয় দেয় বা তাদের পক্ষে সমর্থন যোগায় তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই করা জায়েজ। তাদের মধ্যে যাকে হত্যা করা হবে তার রক্ত বৃথা যাবে (অর্থাৎ তার জন্য কোনও কিসাস বা হত্যার বিনিময়ে হত্যার বিধান প্রয়োগ করা হবে না)। আর যদি তারা কাউকে হত্যা করে, তাহলে সে শহিদ হবে।

– শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন:

“মুসলিমরা এই বিষয়ে একমত যে, ডাকাতের বিরুদ্ধে লড়াই করা জায়েজ।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
منْ قُتِل دُونَ مالِهِ فهُو شَهيدٌ
“যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার জন্য লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ।” [আবু দাউদ, তিরমিজি, ‌সহিহ]

সুতরাং ডাকাতরা যদি কোনও নিরপরাধ ব্যক্তির সম্পদ দাবি করে তাহলে ইমামদের ঐকমত্য অনুযায়ী সেই ব্যক্তির জন্য তাদের কিছু দেওয়া আবশ্যক নয়। বরং সে সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করবে।

যদি সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয় এবং লড়াই ছাড়া কোনও বিকল্প না থাকে তাহলে সে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। যদি সে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয় তাহলে সে শহিদ হবে। আর যদি সে এই অবস্থায় তাদের কাউকে হত্যা করে তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে। (অর্থাৎ তার ওপরে হত্যার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না) (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য সমাপ্ত)।

▪️ ফতোয়া-৩:

আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

প্রশ্ন: সম্মানিত শাইখ (আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন), যদি কোনও মুসলিম চোর বা ডাকাতের সম্মুখীন হয়, যে তার সম্পদ লুটে নিতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাকে হত্যা করা কি জায়েজ?
উত্তর: সে তাকে প্রতিহত করতে প্রথমে সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করবে। যদি সহজ পদ্ধতিতে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয় এবং তাকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় না থাকে তাহলে হত্যা করা জায়েজ।” (শাইখের ভিডিও থেকে অনুবাদ)

✅ সারসংক্ষেপ:

১. সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য লড়াই করা জায়েজ।
২. প্রথমে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
৩. যদি লড়াই করা ছাড়া কোনও উপায় না থাকে তাহলে লড়াই করা জায়েজ।
৪. যদি আক্রমণকারীকে হত্যা করা হয় তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে। (অর্থাৎ আদালতে তার উপরে হত্যার সাজা কার্যকর হবে না)
৫. যদি প্রতিরোধকারী নিহত হয় তাহলে সে শহিদ হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক যুগে সিসি ক্যামেরা কিংবা মোবাইল ক্যামেরা বা অন্য কোন মাধ্যমে অপরাধীর অপরাধের প্রমাণ রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করার উচিত। এটি পরবর্তীতে আইন-আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাহায্য করবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান

 নিম্নে নিম্নে প্রথমে ক্রেডিট কার্ড-এর পরিচয়, অতঃপর কুরআন, সুন্নাহ এবং বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়ার আলোকে এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

❑ ১. ক্রেডিট কার্ড কী?

ক্রেডিট কার্ড হলো, একটি আর্থিক সরঞ্জাম, যা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রদত্ত হয়। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন এবং পরে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। যদি ব্যবহারকারী সময়মত পরিশোধ না করেন তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) প্রদান করতে হয়।

অন্য কথায়, ক্রেডিট কার্ড মূলত ঋণ গ্রহণের কার্ড। কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক তার গ্রাহককে এ কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্ধারিত পরিমাণ ঋণ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এরপর এ কার্ডধারী বিভিন্ন দোকান থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে পারে। যার মূল্য কার্ডধারীর ব্যাংক পরিশোধ করে থাকে। এখানে শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্ডধারী হলো ঋণ গ্রহীতা। আর কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক হলো ঋণদাতা।

❑ ২. ইসলামে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নাকি হারাম তা নির্ভর করে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের উদ্দেশ্য, শর্তাবলি এবং এর সাথে জড়িত লেনদেনের প্রকৃতির উপর।

❑ ৩. ক্রেডিট কার্ডের বাস্তবতা ও সমস্যা:

ক্রেডিট কার্ড এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একজন গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়, যা পরবর্তীতে ফেরত দিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হয়, তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) গুনতে হয়। যেমনটি আমরা এর সংজ্ঞা থেকে জেনেছি।

মূল সমস্যা:

◆ অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ড চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে সুদ (রিবা) দিতে হবে।
◆ যদিও কেউ সময়মত পরিশোধ করে তবুও সে একটি সুদ ভিত্তিক চুক্তিতে প্রবেশ করছে যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

❑. ৪. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ব্যাপারে সৌদি আরবের গবেষণা-ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ডের ফতোয়া:

সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড (আল-লাজনাতুত দায়িমা লিল বুহুসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা) তাদের এক ফতোয়ায় লিখেছে, (প্রশ্ন ছিল, মিনিমাম ডিউ-এর আগে বিল পরিশোধ করে দিলে কোনও ফি নেই আর না হয় অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে হয়)

إذا كان حال بطاقة (سامبا فيزا) كما ذكر فهو إصدار جديد من أعمال المرابين، وأكل لأموال الناس بالباطل، وتأثيمهم وتلويث مكاسبهم وتعاملهم، وهو لا يخرج عن حكم ربا الجاهلية المحرم في الشرع المطهر (إما أن تقضي، وإما أن تربي)؛ لهذا فلا يجوز إصدار هذه البطاقة ولا التعامل بها.
وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

‘বিষয়টি বাস্তবে এমনি হয়ে থাকলে সেটা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাসের নামান্তর। এটি জাহেলি রিবা যা শরিয়তে হারামের অধীনে পড়ে যায়। জাহেলি রিবা হলো, এখন আদায় করো। নতুবা অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে সময় নাও। সুতরাং এ ধরনের ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা বা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

ওই ফতোয়ায় যারা সম্মতি প্রকাশ করেছেন তারা হলেন সদস্য: বকর আবু যায়েদ, আবদুল আজিজ আলে শাইখ, সালেহ ফাওজান, আবদুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান। প্রধান: আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.)। [ফাতাওয়া লাজনাতুত দায়িমা, প্রকাশ: চতুর্থ প্রকাশ, ২০০২ইং, ফতোয়া নং ১৭৬১১]

– এ বিষয়ে তাদের আরেকটি ফতোয়া:

প্রশ্নকারী বলেন: পশ্চিমা দেশগুলোতে আর্থিক লেনদেন সহজ করার জন্য কিছু কার্ড রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে নগদ অর্থ বহন করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত রাখে। এই কার্ডের মাধ্যমে তিনি যে কোনও কিছু ক্রয় করতে পারেন, এবং মাসের শেষে তার খরচের হিসাবসংবলিত একটি বিল আসে, যা তিনি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করেন এতে কোনও সুদ (রিবা) সংযুক্ত থাকে না। এই পদ্ধতি একজন ব্যক্তির অর্থ চুরির ঝুঁকি থেকে তাকে রক্ষা করে। তবে এই কার্ড পাওয়ার শর্ত হলো: যদি বিল পরিশোধে ২৫ দিনের বেশি দেরি হয়, তাহলে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করা হবে। সেক্ষেত্রে, যদি কেউ এই কার্ড নেয় এবং নির্ধারিত ২৫ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করে, তাহলে সে সুদের ফাঁদে পড়বে না। তাহলে কি এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ?

উত্তর:

إذا كان الواقع كما ذكر فلا يجوز التعامل المذكور؛ لما فيه من التعاقد على الربا والدخول عليه باشتراط فوائد تدفع زيادة على المبلغ الذي سدده عنه معطي البطاقة في حالة التأخير.
وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

যদি বাস্তব পরিস্থিতি এমন হয়, তবে এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এটি একটি সুদ-সংযুক্ত চুক্তি, যেখানে দেরিতে পরিশোধের শর্ত হিসেবে সুদ নির্ধারিত রয়েছে। যদিও কেউ ২৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও মূল চুক্তিটিই সুদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়ায় এটি গ্রহণ করা অনুমোদিত নয়।

আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। [সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড]

আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিকহ একাডেমি সহ বিশ্বের প্রায় সকল ফতোয়া বোর্ড সুদ যুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

❑ ৫. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মূলনীতি:

◆ যদি কোনও কার্ড এমন হয় যেখানে সুদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই তাহলে তা ব্যবহার করা বৈধ। কিন্তু সাধারণত প্রচলিত ব্যাংকিং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সুদ প্রদানের শর্ত থাকে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

◆ তাই সুদের শর্তযুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বৈধ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এতে সুদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে রাখা আবশ্যক যে, ইসলামে সুদ হারাম এবং কবিরা গুনাহ। দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণতি অত্যন্ত খারাপ।

❑ ৬. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা:

ইসলামে সুদ (রিবা) আদান-প্রদান করা হারাম ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কুরআন-হাদিসে এ ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যেমন:

❖ মহান আল্লাহ বলেন,

اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ

“যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” [সূরা বাকারা: ২৭৫]

❖ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ – فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর তাকাওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোন” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯]”

❖ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ

“আল্লাহ সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষী— সবার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।” [সহিহ মুসলিম, ১৫৯৮]

❑ ৭. ক্রেডিট কার্ড-এর বিকল্প ব্যবস্থা:

→ ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কিছু ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড বা “শরিয়াহ কমপ্লায়েন্ট” কার্ড রয়েছে, যেখানে সুদের ঝুঁকি নেই।
→ সরাসরি ডেবিট কার্ড বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে সুদের লেনদেনের ঝুঁকি থাকে না।

পরিশেষে বলবো, প্রচলিত সুদ ভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হারাম। কারণ এটি রিবা (সুদ) ভিত্তিক লেনদেনের শর্ত বহন করে।
☞ শুধুমাত্র এমন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বৈধ যেখানে সুদের কোনও শর্ত নেই এবং ইসলামি ব্যাংকিং নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
☞ উত্তম হয়, যদি আমরা বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করি, যেমন: ডেবিট কার্ড, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড বা নগদ লেনদেন।

والله أعلم بالصواب

▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

হবু মায়ের মনে নানা ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ১২ উপায়

 প্রশ্ন: মনে হয় আমি কনসিভ করেছি। কিন্তু সব সময়ই আমার ভিতরে একটা ভয় কাজ করে। যেমন: বাচ্চা কীরকম হবে, বাচ্চা যদি প্রতিবন্ধী হয়, কথা বলতে না পারে, খাটো বা অসুন্দর হয় এই সব বিষয় নিয়ে খুবই ভয় পাই। এই ভয় দূর করতে আমি কী করতে পারি?

উত্তর: আপনি গর্ভ ধারণ করেছেন এ জন্য আপনাকে অভিনন্দন। দুআ করি, আল্লাহ তাআলা যেন, আপনাকে এবং আপনার নবগত অতিথীকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন। আমিন।
অতপর আপনার অনুভূতিগুলো একেবারেই স্বাভাবিক। মা হওয়ার আগে ও পরে অনেকের মধ্যেই এই ধরনের দুশ্চিন্তা আসে। তবে এই ভয়কে দূরে সরিয়ে রেখে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে কয়েকটি উপায় উল্লেখ করা হলো যা আপনার মনের ভয়ও দুশ্চিন্তা দূর করে সেখানে অনাবিল প্রশান্তি সৃষ্টিতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ:

১. ইতিবাচক চিন্তা চর্চা করুন:

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় বেশির ভাগ হবু মায়েদের মনে কিছুটা ভয় দানা বাঁধে। সেখান থেকে নানা রকম প্যানিক বা উদ্বেগও তৈরি হয়। এ সময় শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তাই এই ভয়কে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে।

প্রতৃতপক্ষে সব শিশুই সুন্দর এবং অনন্য। আপনার শিশুকে ভালোবাসা ও যত্ন দিলে সে তার নিজস্ব সৌন্দর্য এবং সম্ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠবে। শিশুর গুণাগুণ বা চেহারা নিয়ে আগে থেকেই দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই বরং তাকে সুস্থভাবে জন্ম দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিন।

২. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন:

আপনার গর্ভাবস্থার সময় পুষ্টিকর খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেকআপ করান। এতে আপনার বাচ্চার সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

৩. অতিরিক্ত ভয় দূর করার জন্য বাস্তবসম্মত তথ্য জানুন:

গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরে, নয় মাসের অভিজ্ঞতা যা ঘটে তা জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। এমন সময় যখন গর্ভবতী মায়েরা এবং পিতারা তাদের অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যকে তাদের অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে রাখেন।

অনাগত শিশুর বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা এবং তার সমস্ত অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করছে তা নিশ্চিত করা পিতা-মাতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তবে আপনি চাইলে গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট সময়ে কিছু পরীক্ষার (যেমন আলট্রাসাউন্ড, এনআইপিটি, অ্যামনিওসেন্টেসিস) মাধ্যমে ডাক্তার আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারেন।

বিশেষ করে এনআইপিটি (নন-ইনভেসিভ প্রিনাটাল টেস্টিং) পরীক্ষার মাধ্যমে যদি গর্ভস্ত সন্তানের মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু পাওয়া যায় তাহলে পিতামাতা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাহায্যে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।

৪. মানসিক চাপ কমান:

– পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটান।
– আপনার অনুভূতিগুলো বিশ্বাসযোগ্য কারও সাথে শেয়ার করুন।
– খুব বেশি চিন্তা করলে গর্ভকালীন কাউন্সিলিং বা থেরাপি নিতে পারেন।

৫. জন্মের পরের বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না:

আপনার সন্তান কেমন হবে বা ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি যে ভালোবাসাময় একটি পরিবেশে তাকে বড় করবেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিশুকে যত্ন ও ভালোবাসা দিলে সে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠবে।

৬. আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন:

আপনি একজন মা হতে যাচ্ছেন এবং এটি আপনার জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হবে। সব শিশুই আলাদা। আর আপনি যে সন্তানই জন্ম দিন সে আপনার জন্য মূল্যবান ও ভালোবাসার অধিকারী।

৭. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন:

আপনার ভয় যদি অতিরিক্ত হয় এবং মানসিক শান্তি ব্যাহত হয় তাহলে গাইনোকোলজিস্ট বা থেরাপিস্টের সাথে কথা বলুন।

আপনি একা নন, অনেক হবু মা-ই এ ধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে যান। ধীরে ধীরে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে, শুধু নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকুন।

৮. আল্লাহর তকদিরের উপর বিশ্বাস রাখুন:

সন্তান আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর মধ্যে একটি। তিনি আমাদের যা কিছু দেন, তার পিছনে একটি বিশেষ হিকমত রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, আমাদের জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটে সে ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালার উপর বিশ্বাস রাখা ইমানের একটি রোকন এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা ইমানের দৃঢ়তার পরিচয় বহন করে। তাই একজন ইমানদার ব্যক্তির জন্য সর্বাবস্থায় আল্লাহর তকদিরের উপর বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো, আল্লাহর ফয়সালার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে যে সন্তান তিনি দান করবেন তাকে ভালোবাসা এবং তার প্রতি যত্ন নেওয়া।

৯. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন:

আপনার সন্তান কেমন হবে তা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। আল্লাহ আমাদের কল্যাণের জন্য যা ঠিক তাই নির্ধারণ করেন। তাই ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

“মুমিনদের কর্তব্য, আল্লাহর উপর ভরসা রাখা।” [সূরা আলে ইমরান: ১২২]

১০. আল্লাহর কাছে সুসন্তানের জন্য দুআ করুন:

আল্লাহ আমাদেরকে সুস্থ, নেককার ও দ্বীনদার সন্তান দান করুন—এমন দুআ করতে পারেন।

কুরআনে এসেছে:

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: Rabbanaa hab lanaa min azwaajinaa wa dhurriyyatinaa qurrata a’yunin waj‘alnaa lil-muttaqeena imamaa.

অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্ততিদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দাও।” [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪]

১১. অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন:

আপনার সন্তান যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-সবল হয় এবং কোনও পরীক্ষায় না পড়ে সে জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়ে দুআ করুন। আল্লাহর কাছে চাইতে পারেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: Allahumma inni a‘udhu bika minal-hammi wal-hazan, wa a‘udhu bika minal-‘ajzi wal-kasal, wa a‘udhu bika minal-jubni wal-bukhl, wa a‘udhu bika min ghalabatid-dayni wa qahrir-rijal.

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের আধিপত্য থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।” [সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯]

১২. যদি সন্তান প্রতিবন্ধী হয় তবে ধৈর্য ধারণ করুন এবং এটিকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করুন:

যদি আল্লাহ আপনাকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান দান করেন, তাহলে এটিকে ধৈর্য ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে গ্রহণ করুন। এটি হতে পারে আপনার জন্য একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে আল্লাহ আপনার ইমানের পরীক্ষা নিচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে তিনি পরকালের আপনার মর্যাদাকে উন্নীত করার ব্যবস্থা করছেন।

❂ মুমিনের অবস্থা কতই না বিস্ময়কর!

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ! إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ؛ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
(رواه مسلم عن صهيب بن سنان رضي الله عنه)

“মুমিনের অবস্থা কতই না বিস্ময়কর! তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর, আর এই গুণ কেবল মুমিনের মধ্যেই রয়েছে। যদি তার জীবনে আনন্দ (কল্যাণ) আসে, সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এতে তার জন্য কল্যাণ থাকে। আর যদি সে কোনও বিপদে পড়ে, সে ধৈর্য ধরে এতে তার জন্য কল্যাণ থাকে।” [সহিহ মুসলিম]

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা:

✅ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা: সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সবকিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তের অংশ।
✅ শুকরিয়া আদায় করা: যখন ভালো কিছু হয়, তখন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা।
✅ ধৈর্য ধারণ করা: বিপদ-মুসিবত এলে ধৈর্য ধরে আল্লাহর রহমতের অপেক্ষা করা।
✅ মুমিনের জন্য সব পরিস্থিতিই কল্যাণকর: কারণ সে সব অবস্থায়ই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।

❂ ধৈর্যের পরীক্ষায় সফলদের জন্য সুসংবাদ:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন—

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۝ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ۝
أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۝ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

“আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, জান-মালের ক্ষতি ও ফল-ফসলের ঘাটতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও যারা কোনও বিপদে পড়লে বলে: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই ফিরে যাব।’
এদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে দয়া ও অনুগ্রহ, আর তারাই সঠিক পথপ্রান্ত।” [সূরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭]

❂ ধৈর্যধারণকারীদের জন্য অসীম প্রতিদান:

আল্লাহ আরও বলেন:

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ

“নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের প্রতিদান দেওয়া হবে গণনা ছাড়াই।” [সূরা আজ-জুমার: ১০]

আপনার যদি কোনও ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে এ সকল প্রতিদানের কথা স্মরণ করুন। এতে ইনশাআল্লাহ মনে প্রশান্তি আসবে।

সর্বোপরি বিশ্বাস রাখুন, মহান আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী এবং তিনি তাঁর বান্দার জন্য সর্বদা কল্যাণ চান। সুতরাং সন্তান যেমনই হোক, তাকে ভালোবাসা, যত্ন এবং ইসলামি শিক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রতিটি শিশু আল্লাহর দান এবং তার প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করলে আখিরাতে আমরা পুরস্কৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও নেককার সন্তান দান করুন এবং আপনার অন্তরে প্রশান্তি দান করুন। আমিন!

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি। দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

কালো টুপি পরার বিধান ও টুপি পরার মূলনীতি

 ❑ ১. কালো টুপি পরার বিধান:

শাইখ মুহাম্মাদ আলি ফারকুস (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নিকট এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন: কালো টুপি পরার বিধান কী?

তিনি উত্তরে বলেছেন,

يلبسها من يرى اننا في دار حرب وليس في دار اسلام ، وهؤلاء اغلبهم تكفيريين و يعتقدون انه لا يصلح احد الا هم ، و يتعارفون بينهم بهذه الطاقية السوداء ، كما هو حاصل للصوفية يلبسون الطاقية الخضراء و نحن لا نقول ان كل من يلبس الطاقية السوداء تكفيري ، انما الاحسن له ان يتقي لبسها ويتجنبها و له ان يلبس الطاقية البيضاء او غيره من الالوان ، والافضل والاحسن ، الطاقية البيضاء لانه كان احب اللباس الى النبي صلى الله عليه وسلم البياض و الله الموفق

“কালো টুপি তারা পরে যারা মনে করে আমরা দারুল হারবে আছি, দারুল ইসলামে নয়। এদের অধিকাংশই তাকফিরি (অন্যদের কাফির মনে করা) মনোভাব পোষণ করে এবং বিশ্বাস করে যে, কেবল তারাই সঠিক; অন্য কেউ নয়। তারা নিজেদের মধ্যে এই কালো টুপির মাধ্যমে পরিচিত হয়, যেমন সুফিরা সবুজ টুপি পরে নিজেদের মধ্যে পরিচিত হয়।

আমরা বলছি না যে, প্রত্যেক কালো টুপি পরিধানকারী তাকফিরি। তবে উত্তম হচ্ছে সে যেন এটি পরা থেকে বিরত থাকে এবং এড়িয়ে চলে। সে চাইলে সাদা টুপি বা অন্য রঙের টুপি পরতে পারে। তবে সাদা টুপি সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় পোশাক ছিল সাদা।”

আল্লাহই তাওফিকদাতা।

[আলজেরিয়ার উসুলে ফিকহ বিশেষজ্ঞ শাইখ মুহাম্মাদ আলি ফারকুস (হাফিজাহুল্লাহ)-এর দরস থেকে গৃহীত। বৃহস্পতিবার, ১৬ রবিউস সানি, ১৪৩৬ হিজরি (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)]

❑ ২. টুপি পরার মূলনীতি:

শাইখকে আরও প্রশ্ন করা হয় যে, বর্তমান সময়ে কিছু দলীয় ও আন্দোলনপন্থী গোষ্ঠী যে কালো টুপি পরে এর বিধান কী? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর:

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على من أرسله اللهُ رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدين، أمّا بعد:
فالطاقيةُ أو العِمامَةُ أو مُختلفُ أنواعِ القَلَنسوات إذا كانت مغايرةً لِجِنْسِ قُبَّعَات الكفَّار ولم تحمِلْ طابِعًا حِزبيًّا أو نزعةً قوميةً أو لم تكن معبِّرةً عن معنًى عَقَديٍّ؛ فيُرغَّبُ في اقتنائها لكونها شعارًا يتميَّز المسلم بها عن الكافر.
والعلمُ عند الله تعالى، وآخر دعوانا أنِ الحمد لله ربِّ العالمين، وصلى الله على نبيّنا محمّد وعلى آله وصحبه وإخوانه إلى يوم الدين، وسلّم تسليمًا

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। বিশ্বজগতের প্রতিপালক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রেরিত নবির ওপর, যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে এসেছেন এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবি ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর—

সাধারণ ছোট টুপি ( طاقية ), পাগড়ি (عمامة ) বা বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী একটু বড় বা লম্বা টুপি (قلنسوة )
– যদি তা কাফে**রদের টুপি বা ক্যাপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়,
– যদি তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হয়,
– যদি তা জাতীয়তাবাদী চিন্তা ধারণ না করে,
– এবং যদি তা বিশেষ কোনও আকিদাব-বিশ্বাসের অর্থ বহন না করে
তাহলে তা পরিধান করাকে উৎসাহিত করা হবে। কারণ এটি মুসলিমদের জন্য একটি আলাদা পরিচয়ের প্রতীক যা তাদের কাফিরদের থেকে স্বতন্ত্র রাখে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর নবি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার, সাহাবি ও অনুসারীদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

ফতোয়া প্রদানের তারিখ:

২৫ জিলহজ ১৪২৭ হিজরি, ১৫ জানুয়ারি ২০০৭ ইংরেজি, আলজেরিয়া।
ফতোয়া নং: ৬০২, বিভাগ: পোশাক সংক্রান্ত ফতোয়া
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Source: ferkous(.)app

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ

 সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির উলামাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

“আমরা কি বলতে পারি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ (খাইরুল বাশার), নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি (খাইরুল খালক)? এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এমন কোনো দলিল আছে কি, যেমনটা অনেক মানুষ বলে থাকে?”

তাঁরা উত্তরে বলেছেন:

جاء في نصوص كثيرة من الكتاب والسنة بيان عظم قـدر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ورفعة مكانته عند ربه تعالى من خلال الفضائل الجليلـة والخصائص الكريمة التي خصه الله بها ، مما يدل على أنه أفضل الخلق وأكرمهم على الله وأعظمهم جاها عنده سبحانه ، قال الله سبحانه : (وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا) النساء/113 ، وأجنـاس الفضل التي فضله الله بها يصعب استقصاؤها ؛ فمن ذلك : أن الله عز وجل اتخذه خليلا ، وجعله خاتم رسله ، وأنزل عليه أفضل كتبه ، وجعل رسالته عامة للثقلين إلى يوم القيامة ، وغفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر ، وأجرى على يديه من الآيات ما فاق به جميع الأنبياء قبله ، وهو سيد ولد آدم ، وأول من ينشق عنه القبر ، وأول شافع ، وأول مشفع ، وبيده لواء الحمد يوم القيامة ، وأول من يجوز الصراط، وأول من يقرع باب الجنة ، وأول مـن يدخلها . . . إلى غير ذلك مـن الخصائص والكرامات الواردة في الكتاب والسنة ، مما جعل العلماء يتفقون على أن النبي صلى الله عليه وسلم هو أعظم الخلق جاها عند الله تعالى ، قـال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى : “وقد اتفق المسلمون على أنه صلى الله عليه وسلم أعظم الخلق جاها عند الله ، لا جاه لمخلوق أعظم من جاهه ، ولا شفاعة أعظم من شفاعته” .
فمما ذُكر وغيره يتبين أن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم هو أفضل الأنبياء ، بل وأفضل الخلق ، وأعظمهم منزلة عند الله تعالى ، ولكن مع هذه الفضائل والخصائص العظيمة فإنه صلى الله عليه وسلم لا يرقى عن درجة البشرية ، فلا يجـوز دعاؤه والاستغاثة به من دون الله عز وجل ، كما قـال تعالى: ( قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ) الكهف/110، وبالله التوفيق ، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم” انتهى

“কুরআন ও সুন্নাহর বহু প্রমাণ রয়েছে, যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা ও আল্লাহর কাছে তাঁর উচ্চ মাকাম প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ তাঁকে অনেক মহান গুণাবলি ও সম্মানে ভূষিত করেছেন, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সর্বাধিক মর্যাদাবান।”

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا

“আর আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না। আর তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ তো অতীব মহান।” [সূরা নিসা: ১১৩]

আল্লাহ তাঁকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা গণনা করা কঠিন। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:

– আল্লাহ তাঁকে খলিল (প্রিয়তম বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

– তাঁকে খাতামুন নাবিয়্যীন (শেষ নবী) বানিয়েছেন।

– তাঁর ওপর আফজালুল কুতুব (সর্বোত্তম কিতাব–আল কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন।

– তাঁর রিসালাহ (বার্তা) কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ ও জিন জাতির জন্য সর্বজনীন করেছেন।

– তাঁর সমস্ত গুনাহ (আগের ও পরের) ক্ষমা করে দিয়েছেন।

– তাঁর মাধ্যমে এমন মুজিজাহ (নির্দেশনামূলক নিদর্শন) প্রকাশ করেছেন, যা পূর্ববর্তী সকল নবীদের চেয়ে বেশি।

– তিনি সাইয়িদু ওয়ালাদে আদাম (আদম সন্তানের নেতা)।

– তিনিই আওয়ালু মান তানশাক্কু আনহুল কুবুর (প্রথম ব্যক্তি, যার কবর বিদীর্ণ হবে – কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবেন)।
– তিনিই আওয়ালুশ শাফি’ (প্রথম সুপারিশকারী) ও আওয়ালুশ মুশাফফা’ (প্রথম ব্যক্তি, যার সুপারিশ গৃহীত হবে)।

– তাঁর হাতেই লিওয়াউল হামদ (প্রশংসার পতাকা) থাকবে।

– তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সিরাত (পুলসিরাত) অতিক্রম করবেন।

– তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বেন ও প্রবেশ করবেন।

এছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহতে উল্লিখিত অসংখ্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে।

এজন্যই সমস্ত ইসলামি উলামাগণ একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“মুসলিম উম্মাহ একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মর্যাদার চেয়ে অধিক মর্যাদা আর কোনো মাখলুকের নেই এবং তাঁর সুপারিশের চেয়ে বড় সুপারিশ আর কারও নেই।”

তাহলে উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল নবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বরং সকল সৃষ্টির মধ্যেই শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান।

তবে এত বড় মর্যাদা ও সম্মান থাকার পরও তিনি মানবধর্ম থেকে উপরে ওঠে যাননি। তিনি আল্লাহর একজন বান্দা ও রসুল। তাই তাঁর নিকট দোয়া করা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা কিংবা তাঁকে আল্লাহর সমকক্ষ ভাবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আল্লাহ তা’আলা বলেন:

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

“বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার প্রতি ওহি হয় যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।” [সূরা কাহফ: ১১০]

আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকের মাধ্যমেই আমরা সঠিক পথ পাই। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর দয়া ও শান্তি বর্ষণ করুন। [ফাতাওয়াল লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫]

এ ফতোয়ার উপর স্বাক্ষরকারী সম্মানিত উলামাগণ হলেন:

শাইখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শাইখ (প্রধান মুফতি)
শাইখ আবদুল্লাহ বিন গুদাইয়ান (সদস্য)
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (সদস্য)
শাইখ বকর আবু যায়েদ (সদস্য)
অনুবাদক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

Translate