Sunday, February 22, 2026

হাজত বা বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্তি লাভ এবং প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়া কি সুন্নাহ সম্মত আমল

 আমাদের সমাজের কিছু আলেম বিশেষ কোনও প্রয়োজন বা হাজত পূরণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত (যেমন: ১০০ বা ১০০০ রাকাত) নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন অথচ প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু জরুরি বিষয়ে আলোচনা করা হল:

❑ ১. নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়া:
কোনও হাজত পূরণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় নামাজ পড়ার ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনও বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়নি। এমনকি সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়িগণের আমল থেকেও এমন কোনও নজির পাওয়া যায় না। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে এমন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা বিদআত-এর অন্তর্ভুক্ত।
❑ ২. যৌথভাবে নামাজ ভাগ করে পড়া:
অনেকে মিলে ভাগ করে (যেমন: ৫০ জন মিলে ১০০০ রাকাত) নামাজ আদায় করা আরেকটি নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি বা বিদআত। ইবাদতের মূল কাঠামো পরিবর্তন করে এমন মনগড়া পদ্ধতির আবিষ্কারক এবং প্রচারক মূলত তারাই, যারা সুন্নাহর চেয়ে প্রচলিত প্রথাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। না জেনে এসব অন্ধভাবে অনুসরণ করা দ্বীনি মূর্খতারই বহিঃপ্রকাশ।
৩. নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোনও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ
“আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।” [সূরা বাকারা: ৪৫]
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও বিশেষ কোনও সংখ্যা নির্ধারণ করেননি। তাই আমাদের কর্তব্য হল ফরজ, সুন্নত ও সাধারণ নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
◯ নামাজের মধ্যে আল্লাহর অতি নিকটবর্তী হয়ে দোয়া করার দুটি বিশেষ জায়গা রয়েছে:
◈ ক. সিজদা অবস্থায়:
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সেজদা অবস্থায় নিজের হাজতগুলো তুলে ধরে অধিক পরিমাণে দুআ করলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
◈ খ. শেষ তাশাহুদে:
সালাম ফেরানোর আগেও দুআ করার কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং এখানেও অধিক পরিমাণে দুআ করা যায়। উভয় ক্ষেত্রে হাদিসে বর্ণিত মাসনুন দুআগুলো পাঠ করা হোক অথবা নিজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দুআ করা হোক-উভয়টিই শরিয়ত সম্মত। এছাড়াও যেকোনো নামাজ ও অন্যান্য নেক আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে ইনশাআল্লাহ তিনি মনোবাসনা পূর্ণ করবেন। উল্লেখ্য যে, প্রচলিত ‘সালাতুল হাজত’ সংক্রান্ত হাদিসগুলোও সনদের বিচারে বিশুদ্ধ নয়।
✪ সৌদি আরবের ফতওয়া বোর্ড-এর ফতওয়া:
“أما ما يسمى بصلاة الحاجة: فقد جاءت بأحاديث ضعيفة ومنكرة -فيما نعلم- لا تقوم بها حجة، ولا تصلح لبناء العمل عليها.
“আর যাকে সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ) বলা হয়: আমাদের জানামতে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো দুর্বল ও আপত্তিকর—যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে আমল করাও সঠিক নয়।” [ফাতাওয়া লাজনা দায়িমাহ্, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৬১]
সুতরাং দ্বীনের মধ্যে নিত্য-নতুন পদ্ধতি বা সংখ্যা আবিষ্কার না করে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করাই নাজাতের পথ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহর ওপর অটল থাকার এবং সকল প্রকার বিদআত থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

এক নজরে সিয়াম বা রোজার জরুরি মাসআলা-মাসায়েল

 ❑ ১. সিয়ামের সংজ্ঞা:

সিয়াম (الصيام) আরবি শব্দ। বহুবচন। একবচন সওম (الصوم)। বাংলায় রোজা যা মূলত ফারসি ভাষায় থেকে আগত। সওম-এর শাব্দিক অর্থ, বিরত থাকা।
শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক (ফজর) থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিব) পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকাই হল সিয়াম বা রোজা।
❑ ২. রোজা রাখার বিধান:
নিম্নে বর্ণিত কতিপয় শর্ত সাপেক্ষ প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ।
❖ আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” [সূরা আল-বাকারা: ১৮৩]
❖ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ
“ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা রাখা।” [সহিহ বুখারী: ৮ ও সহিহ মুসলিম: ১৬]
❑ ৩. রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলি:
রোজা ফরজ হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই━
১. মুসলিম হতে হবে। অমুসলিমের জন্য এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে তাদেরকে অভ্যস্ত করার জন্য রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে। পাগলের উপর রোজা ফরজ নয়।
৪. রোজা রাখার শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোজা রাখতে অক্ষম বা যার জন্য কষ্টসাধ্য তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। যেমন: বয়োবৃদ্ধ, দীর্ঘ মেয়াদী রোগী কিংবা শয্যাশায়ী ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বা গরমে ভারী কাজ করার কারণে রোজা রাখতে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। এ ক্ষেত্রে হয় কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিবে অথবা রাত্রিকালীন কাজ করবে।
৫. শরিয়তের বাধামুক্ত থাকতে হবে। (যেমন: ঋতুস্রাব, সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব নির্গত হওয়া ইত্যাদি)
❑ ৪. রোজার নিয়ত:
ক. মনে মনে রোজা রাখার নিয়ত থাকা আবশ্যক। মুখে উচ্চারণ করে আরবিতে ‘নাওয়াইতু আন আসুমা..” অথবা বাংলায় নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত।
খ. ফজরের পূর্বেই নিয়ত করা আবশ্যক।
গ. পুরো মাসের জন্য মাসের শুরুতে একবার নিয়ত করাই যথেষ্ট। তবে প্রতি রাতে আলাদা আলাদা নিয়ত করা উত্তম।
উল্লেখ্য যে, কোনও কারণে রোজা ভাঙলে পুনরায় শুরু করার সময় আবার নিয়ত করতে হবে।
❑ ৪. রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ:
◈ ক. যেকারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয় তা হল, রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা:
যদি কোনও ব্যক্তি রমজান মাসে ইচ্ছাকৃত ভাবে স্ত্রী সহবাস করে তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং এর বদলে একটি রোজা কাজা করার পাশাপাশি কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) আদায় করতে হবে। তাও সম্ভব না হলে একটি রোজার বিনিময়ে ৬০ জন গরিব-অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে বা খাদ্যদ্রব্য প্রদান করতে হবে। (জনপ্রতি সোয়া কেজি চাল)। টাকা দেওয়া শরিয়ত সম্মত নয়।
◈ খ. যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় কিন্তু শুধু কাজা আবশ্যক হয় (কাফফারা নয়):
নিচের কারণগুলোর কোনও একটি ঘটলে রোজা ভেঙে যাবে এবং রমজানের পর সেই রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রেখে দিলেই হবে (কাফফারা আবশ্যক নয়):
➧ (১). ইচ্ছাকৃত ভাবে পানাহার করা: সুবহে সাদিক বা ফরজ উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও খাবার, পানীয়, ওষুধ ইত্যাদি গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য যে, এমন কিছু যা সাধারণত খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না তা ইচ্ছাকৃত ভাবে গিলে ফেললেও রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন: পাথর, মাটি বা অখাদ্য অন্য কিছু।
➧ (২) ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করা: যদি কেউ আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে মুখ ভরে ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে। রোগ বা অন্য কোনও কারণে অনিচ্ছা বশতঃ বমি হলে রোজা ভঙ্গ হবে না।
➧ (৩) নাক বা কানে ওষুধ প্রবেশ করানো: যদি এমন কোনও তরল ওষুধ ব্যবহার করা হয় যা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়।
– রোজা অবস্থায় রক্ত দান করলে বা হিজামা (সিঙ্গা) লাগালে রোজা ভঙ্গ হওয়ার বিষয়টি দ্বিমতপূর্ণ। অধিক বিশুদ্ধ মতে, রোজা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যেহেতু অনেক আলেমের মতে রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই সতর্কতা এবং মতবিরোধ থেকে বাঁচার স্বার্থে সম্ভব হলে তা দিনে না করে রাতে করাই ভালো।
➧ (৪) ভুলবশত ইফতার বা সেহরি করা: সময় শেষ হওয়ার পর সেহরি খাওয়া অথবা সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেলা (যদিও ব্যক্তি মনে করেছিল সময় আছে)।
উল্লেখ্য যে, উক্ত রোজা কাজা করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে তা কাজা করে নিবে। এটাই অধিক সতর্কতামূলক অবস্থান।
➧ (৫) রোজা অবস্থায় অসতর্কতা বশত কোনও কিছু খেলে বা পান করলে রাজা ভঙ্গ হয় না। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে। এমনকি মুখে থাকলেও তা ফেলে দিতে হবে।
➧ (৬) নারীদের পিরিয়ড বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব: রোজা থাকা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
❑ ৫. যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে (৫টি শ্রেণি):
✪ ১. অসুস্থ ব্যক্তি: যদি রোজা রাখার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সুস্থ হলে তা কাজা করবেন।
✪ ২. মুসাফির: সফরের কারণে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। তবে কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। ভাঙ্গলে পরবর্তীতে তা কাজা করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআালা বলেন,
وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
“আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা সফরে আছে (সে অন্য সময়ে কাজা করবে)।” [সূরা আল বাকারা: ১৮৫
✪ ৩. ঋতুমতী ও প্রসূতি নারী:
মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্রাব চলাকালীন সময় (সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন) রোজা রাখা আবশ্যক নয়। রোজা অবস্থায় স্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে স্বয়ংক্রিয় রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে রমজানের পরে আগামী রমজানের পূর্বে তা কাজা করে নিতে হবে।
✪ ৪. গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী মা: যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তার তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করবেন। তবে যদি কোনও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে তবে রোজা রাখা মুস্তাহাব।
✪ ৫. অতিবৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী রোগী: যারা একেবারেই রোজা রাখতে সক্ষম নন তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদ্রব্য (ফিদিয়া যার পরিমাণ সোয়া কেজি চাল) দিতে হবে।
❑ ৬. রোজার মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্য:
❍ ১. তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জন:
রোজার প্রধান এবং মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মনে আল্লাহর ভয় বা সচেতনতা সৃষ্টি করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” [সূরা বাকারা: ১৮৩]
❍ ২. নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ (আত্মশুদ্ধি):
সারাদিন নিজের বৈধ চাহিদা (খাবার ও পানীয়) পরিহার করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
❍ ৩. ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা:
ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে রোজাদার ধৈর্যের গুণ অর্জন করে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে “ধৈর্যের মাস” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
❍ ৪. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ:
অনাহারে থাকার যন্ত্রণা অনুভবের মাধ্যমে সমাজের অভাবী ও দরিদ্র মানুষের কষ্টের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। এটি দান-সদকা ও মানুষের সেবায় উৎসাহিত করে।
❍ ৫. আখলাক বা চরিত্রের সংশোধন:
রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা, গিবত করা বা ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক।
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনও প্রয়োজন নেই।” [সহিহ বুখারী: ১৯০৩]
❍ ৬. শারীরিক সুস্থতা:
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা সুস্থতার জন্য সহায়ক। এ ছাড়াও অনেক উপকার আছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
“আর তোমাদের রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পারো।” [সূরা বাকারা: ১৮৪]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতির আলোকে সিয়াম পালনের তওফিক দান করুন এবং তা কবুল করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

যে আইডি দ্বারা বিভিন্ন ধরণের হারাম বিষয় পোস্ট করা হয় জেনে বুঝে ওই আইডি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করা নাজায়েজ

 প্রশ্ন: আমি আমেরিকান এক খ্রিস্টান এর কাজ পেয়েছি। তার কাজটা হলো তার ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেছে এগুলো পুনরুদ্ধার করে দিতে হবে। সে পেশায় একজন বাড়ি বিক্রি করার দালাল। তার ফেইসবুক একাউন্ট এ বাড়ি বিক্রির ছবি সহ গড, যীশু সম্পর্কে পোস্ট শেয়ার করে কারণ সে একজন খ্রিস্টান। এখন আমি যদি তার একাউন্ট উদ্ধার করে দেই আর সে যদি যীশু সম্পর্কে পোস্ট করে তাহলে আমার কি ইমান চলে যেতে পারে? দয়া করে আমাকে এগুলোর সঠিক উওর দিয়ে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ।

উত্তর: যে আইডি দ্বারা বিভিন্ন ধরণের হারাম বিষয় যথা: শিরক, বিদআত, অপসংস্কৃতি বা ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় বিষয় ইত্যাদি পোস্ট করা হয় জেনে-বুঝে ওই আইডি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করা জায়েজ নেই। কেননা তা হারাম কাজে সহায়তার শামিল যা ইসলামে নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম। তবে শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যদি এমনটি করা হয় কিন্তু অন্তরে ইসলামের প্রতি পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস অটুট থাকে তাহলে এই কাজটি কুফরি বা ঈমান চলে যাওয়ার কারণ হবে না।
তবে যেহেতু কাজটি হারাম এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম সেহেতু এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

সলামের দৃষ্টিতে ঘরজামাই থাকার বিধান

 প্রশ্ন: আমার বাবা,ভাই বোন কেউ নেই। আমি আমার মাকে নিয়ে থাকি। মৃত্যুর আগে আমার বাবা বলে গিয়েছিলেন যাতে বিয়ের পর আমি এখানেই থাকি। আমার পরিবারের নানা রকমের সমস্যার কারণে যদি বিয়ে করে আমি চলে যাই তাহলে আমার মায়ের থাকার জায়গা টা অন্যায় ভাবে কেড়ে নেয়া হবে। আমার স্বামীর ভাই বোন একাধিক এবং মা বাবা রয়েছেন। এখন আমি যদি বিয়ের পর আমার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি থাকতে চাই এটা কি অন্যায় হবে যেহেতু আমার মা একা? এবং ঘরজামাই থাকলে সেটা কি গুনাহ এর মধ্যে পরে কিনা জানতে চাই?

উত্তর: বিশেষ প্রয়োজনে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বামী যদি শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করে কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে স্বামীকে যদি শ্বশুর বাড়িতে থাকতে হয় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তাতে কোন সমস্যা নেই। তা সাময়িক হতে পারে, স্থায়ীও হতে পারে। এটি আমাদের সমাজে ঘরজামাই হিসেবে পরিচিত। এই অবস্থায় পারস্পরিক সহায়তার কারণে সওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ। তবে শর্ত হলো, এই ক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি থাকা‌ অপরিহার্য এবং এ কারণে যেন কারো হক নষ্ট না হয় বা হারাম কোন কিছু না ঘটে।
সুতরাং আপনার উল্লেখিত পারিবারিক প্রয়োজনে যদি আপনার স্বামীকে আপনার বাড়িতে রাখার আবশ্যকতা দেখা যায় এবং তিনি তাতে সম্মত হন তাহলে এতে কোন বাধা নেই আলহামদুলিল্লাহ। উল্লেখ্য যে, কোন স্বামী যদি অলসতা বা অকর্মণ্যতার কারণে তার পক্ষ থেকে জোরপূর্বক শ্বশুরবাড়িতে থাকে তাহলে তা জায়েজ নেই। তা যৌতুক হিসেবে পরিগণিত হবে।
অনুরূপভাবে তার এখানে থাকার কারণে যদি তার বাবা-মা বা অন্য কারো হক নষ্ট হয় কিংবা হারাম কিছু ঘটে তাহলে অবশ্যই তা জায়েজ নয়‌। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

রমজানের শেষে মৃত্যু এবং মানুষের সুসাক্ষ্য কি উত্তম পরিণতির লক্ষণ

 প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি ৩০শে রমজান মৃত্যুবরণ করেছেন, যার নিয়তে ঈদের নামাজ ছিল, যার সততা ও সদাচরণের ব্যাপারে মানুষ সাক্ষ্য দিয়েছে এবং যিনি কোনো প্রকার কষ্ট বা দীর্ঘ অসুস্থতা ছাড়াই আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন—তার ব্যাপারে শরয়ি বিধান কী?”

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অত:পর—
আপনি এই ব্যক্তির ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কল্যাণের ব্যাপারে মানুষের যে সাক্ষ্যের কথা বলেছেন তা নিঃসন্দেহে কল্যাণের একটি শুভ লক্ষণ ও সুসংবাদ। ইনশাআল্লাহ এটি “হুসনুল খাতিমা” বা উত্তম পরিণতিরই দলিল।
কেননা—
✪ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং লোকেরা সেটির প্রশংসা করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ওয়াজিব হয়ে গেল।”
এরপর অন্য একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো এবং লোকেরা সেটির নিন্দা করল। তিনি বললেন, “ওয়াজিব হয়ে গেল।”
ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ওয়াজিব হয়ে গেল?”
তিনি বললেন:
هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ
“এই ব্যক্তির তোমরা প্রশংসা করেছ। তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর ওই ব্যক্তির তোমরা নিন্দা করেছ। তাই তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরাই হলে জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
✪ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ
“আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাকে (নেক কাজে) নিয়োজিত করেন।”
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, “তাকে কীভাবে নিয়োজিত করেন?”
তিনি বললেন:
يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ مَوْتِهِ
“মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমল করার তৌফিক দান করেন।” [তিরমিজি, হাদিসটি হাসান সহিহ; হাকেম একে সহিহ বলেছেন এবং আলবানিও একে সত্যায়ন করেছেন]
✪ অন্য এক বর্ণনায় এসেছে:
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ، قِيلَ: كَيْفَ يَسْتَعْمَلُهُ؟ قَالَ: يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ الْمَوْتِ ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ
“আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাকে নিয়োজিত করেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে নিয়োজিত করেন?
তিনি বললেন: মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের তৌফিক দেন। এরপর সেই অবস্থাতেই তার প্রাণ হরণ করেন।”
[মুসনাদে আহমাদ। আলবানি একে সহিহ বলেছেন]
✪ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-এ জাফর বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ আমাকে তালহা ইয়ামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (তালহা) বলতেন:
مَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَإِذَا انْقَضَى الشَّهْرُ مَاتَ، وَمَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَإِذَا قَدِمَ مِنْ حِجَّتِهِ مَاتَ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَإِذَا قَدِمَ مِنْ عُمْرَتِهِ مَاتَ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ أَوْ بَرِئَ مِنَ النَّارِ.
“আমরা বলাবলি করতাম যে, যার মৃত্যু তিনটি অবস্থার কোনো একটিতে হয় তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয় অথবা সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়: ১. যে ব্যক্তি রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখল এবং মাস শেষ হতেই মৃত্যুবরণ করল, ২. যে ব্যক্তি হজে বের হলো এবং হজ পালন শেষে মৃত্যুবরণ করল, ৩. যে ব্যক্তি ওমরাহ করতে বের হলো এবং ওমরাহ শেষে মৃত্যুবরণ করল।” [মুসনাদুল বাজ্জার: ২৯৫৩, হিলয়াতুল আউলিয়া: ১০/২৩১]
[হাদিসটি ইমাম বাজ্জার তার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে এবং আবু নুআইম আল আসফাহানি তার ‘হিলয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসের সনদে আবু ইয়াহইয়া আত তাইমি নামক একজন রাবি (বর্ণনাকারী) আছেন, যিনি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল (যঈফ) হিসেবে পরিচিত।
ইমাম হাইসামি ‘মাজমাউজ যাওয়াইদ’ গ্রন্থে বলেছেন যে, এই বর্ণনাকারী দুর্বল। তবে হাদিসের মূল বিষয়বস্তু (রমজান, হজ বা উমরা অবস্থায় মৃত্যু) অন্যান্য সহিহ হাদিসের ব্যাপক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ-যা নেক আমলরত অবস্থায় মৃত্যুর ফজিলত প্রমাণ করে।-অনুবাদক]
✪ হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আমার বুকের সাথে হেলান দিয়ে রাখা অবস্থায় ছিলাম তখন তিনি বললেন:
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোনো সদকা করল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল এবং এরই ওপর তার সমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমদ: ২৩৩২৪; আলবানি একে সহিহ বলেছেন] আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সর্বোজ্ঞ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
সোর্স: islamweb
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

Translate