Thursday, September 12, 2024

অহংকারের পরিণতি ও পরিচয় এবং তার ২৮টি আলামত

 অহংকার এক মারাত্মক মানসিক ব্যাধি ও নিকৃষ্ট স্বভাব। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ এবং জাহান্নামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

◆ আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

“অহংকার বশতঃ তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক-অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” [সূরা লোকমান: ১৮]
◆ হারিসা ইবনে ওয়াহাব রাহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,

“‏ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏. ‏ قَالُوا بَلَى ‏. ‏ قَالَ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعَّفٍ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ‏”‏ ‏. ‏ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ ‏”‏
قَالُوا بَلَى ‏. ‏ قَالَ ‏”‏ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ ‏

“আমি কি তোমদেরকে জান্নাতবাসীর সম্পর্কে অবহিত করব?
সাহাবিগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই।

তিনি বললেন, “তারা হবে দুর্বল এবং নম্র স্বভাবের লোক। যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন।”

অতঃপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসী সম্পর্কে অবহিত করব?
সাহাবিগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই।

তিনি বললেন, “তারা হবে অত্যাচারী, দাম্ভিক ও অহংকারী লোক।”

[সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৫৪/ জান্নাত, জান্নাতের নিয়ামত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ, পরিচ্ছেদ: ১৩. দুর্দান্ত অহংকারী প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বল লোকেরা জান্নাতে যাবে]

❑ মানুষ কেন অহংকার করে?

একজন মানুষ নানা কারণে অহংকারী হয়ে উঠতে পারে। যেমন: অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যতা, ভালো চাকরি, উচ্চ বংশ বা বংশগত আভিজাত্য, পদমর্যাদা, নেতৃত্ব, দলীয় দাপট, হিংসা, শারীরিক সৌন্দর্য, নেক আমল ইত্যাদি। তবে এর পেছনে মূল কারণ হল, জ্ঞানের স্বল্পতা বা বিচার-বুদ্ধির ঘাটতি। কারণ প্রকৃত জ্ঞানী কখনো অহংকারী হয় না। বরং একজন মানুষ যত বেশি জ্ঞানী হয় সে তত বেশি বিনয়াবনত হয়। তার আচরণ ও কথাবার্তা হয় তত শালীন। সে হয় সহিষ্ণু। মানুষ সমাজেও একজন অহংকারী ব্যক্তি হয় অত্যন্ত ঘৃণিত। অহংকারী ব্যক্তি সর্বাবস্থায় প্রত্যাখ্যান যোগ্য।

❑ মানুষের কেন অহংকার করা উচিৎ নয়?

অহংকার করা মানুষের জন্য সমীচীন নয়। এটা তার জন্য সাজে না। কারণ মানুষ নিতান্ত দুর্বল সৃষ্টি। অসুস্থ হলে সে অচল হয়ে পড়ে, ক্ষুধা-পিপাসায় সে অস্থির হয়ে যায়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম তার সহ্য ক্ষমতার বাইরে। হঠাৎ প্রচণ্ড আওয়াজে সে বেহুশ হয়ে পড়ে, শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। শরীরে প্রচণ্ড আঘাত লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে সে দুশ্চিন্তায় পতিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। প্রচণ্ড রাগের সময় তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সুতরাং এমন দুর্বল মানুষের জন্য অহংকার করা সাজে না। অহংকার হল, আল্লাহর চাদর। কারও যদি অহংকার করা সাজে তিনি হলেন, একমাত্র মহান রাজাধিরাজ, মহা শক্তিধর, মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

❑ হাদিসের ভাষায় অহংকারের দুটি মূলনীতি:

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহংকারের করুন পরিণতি বর্ণনা পূর্বক তা চেনার দুটি মূলনীতি দিয়েছেন। সে দুটা যদি কারও মধ্য থাকে তাহলে সে নিশ্চিত অহংকারী। সে দুটি হলো:
১. সত্য প্রত্যাখ্যান করা।
২. মানুষকে খাটো নজরে দেখা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।

যেমন নিম্নোক্ত হাদিসটি:

ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ فَقَالَ رَجُلٌ : إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَناً وَنَعْلُهُ حَسَنةً فَقَالَ إِنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الجَمَالَ الكِبْرُ : بَطَرُ الحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ

“যার অন্তরে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (এ কথা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, “মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড়-চোপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, (তাহলে সেটাও কি অহংকারের মধ্যে গণ্য হবে?)।
তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালবাসেন। অহংকার হল, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা মানুষকে খাটো নজরে দেখা।”
[সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১/ কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: ৩৯. অহংকারের বিবরণ ও তা হারাম হওয়া]

❑ অহংকারীর ২৮টি আলামত:

একজন মানুষ অহংকারী কিনা তার আচরণ ও কথাবার্তায় ফুটে উঠে। নিম্নে মানুষের এমন কিছু আচরণ ও স্বভাব তুলে ধরা হল যা তার অহংকারের প্রমাণ বহন করে। অর্থাৎ এগুলোর মাধ্যমেও কারো মাঝে অহংকার আছে কিনা তা সহজে নির্ণয় করা যায়।

১. ভুল করার পরও তা স্বীকার না করা। একজন অহংকারী ব্যক্তি কখনো ভুল স্বীকার করতে রাজি নয়। বরং যে কোনও মূল্যে সে নিজের কথা ও কাজকে সঠিক প্রমাণ করতে তৎপর থাকে। সে যে কোনও মূল্যে নিজের জিদের উপর অটল থাকে। কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করলেও সে কখনো তার নিকট ক্ষমা চাইবে না। দুঃখিত, সরি, ক্ষমা করবেন, ভুল হয়ে গেছে এ কথাগুলো তার অভিধানে নেই।
৩. নিজের মতটাকে সবসময় সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়ন না করা বা গুরুত্ব না দেওয়া।
৪. কথাবার্তা ও চলাফেরায় ঔদ্ধত্যভাব প্রকাশ করা।
৫. সামান্য কারণেই মানুষের প্রতি ক্রোধান্বিত হওয়া-এমনকি সম্পর্কচ্ছেদ করা।
৬. মানুষের অবদানকে খাটো করে দেখা।
৭. কেউ ভালো কাজ করলে তাকে ধন্যবাদ না দেওয়া বা কৃতজ্ঞতা না জানানো।
৮. কেউ তার উপকার করলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা। কেউ তার উপকার করলে সে মনে করে, এটা তার পাওনা ছিল।
৯. অন্যের উপদেশকে পাত্তা না দেওয়া। বরং এটাকে সে নিজের মান-সম্মানহানীকর মনে করে।

১০. সে চায়, মানুষ সবসময় তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিক। প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পেলে প্রচণ্ড ক্ষেপে যায়।
১১. অহংকারী নিজেকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য মিথ্যা কথা বলতে দ্বিধা করে না। সে অন্যদের সামনে তার নিজের এমন যোগ্যতা, অর্থ-সম্পদ, উচ্চপদস্থ লোকেদর সাথে তার সম্পর্ক ইত্যাদি তুলে ধরে যা আদতে সত্য নয়।
১২. স্ত্রী, সন্তান, কর্মচারী, কাজের মানুষ ইত্যাদি অধীনস্থদের সাথে দুর্ব্যবহার করা।
১৩. তার স্বভাবে ও আচরণে বিনয়-নম্রতা স্থান পায় না। বরং সে হয় উগ্র ও বদমেজাজি।
১৪. নিজের কার্যক্রমে খুব বেশি আত্মতৃপ্তিতে ভোগা।
১৫. অন্যের দোষত্রুটি বা দুর্বলতাকে নিয়ে হাসাহাসি করা বা তার সাথে কষ্টদায়ক আচরণ করা।
১৬. কেউ ভুল করার পর তার নিকট ক্ষমা চাইলেও সে তাকে ক্ষমা করে না।
১৭. সে তার পছন্দনীয় নয় এমন কোনও ব্যক্তির সাথে দেখা করতে চায় না বা সে তার সাথে কোথাও যাক, তার পাশে বসুক, তার বাড়িতে বেড়াতে আসুক-এটা সে চায় না।
১৮. মানুষ হিসেবে নয় বরং মানুষের পদমর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, গায়ের রং, পোশাক, মেধা ইত্যাদি বিবেচনা করে মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখা।
১৯. সে নিজেকে অভাব মুক্ত মনে করে। তার দৃষ্টিতে সে স্বয়ং সম্পূর্ণ।

২০. অহংকারী ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করতে চায় না।
২১. সে কখনো চায় না, কেউ তার সামনে দিয়ে হাঁটুক বা চলুন বা বসুক। সে চায় সে সবসময় সবার সামনে থাকবে। কোনও মাহফিলে স্টেজে সামনে চেয়ার না পেলে ক্রোধান্বিত হয়ে উঠে।
২২. পারিবারিক কাজে কাউকে সাহায্য করে না। এটা সে তার জন্য সম্মানহানি মনে করে।
২৩. সে নিজে অন্যের সেবা করতে রাজি নয় বরং সে চায়, সবসময় অন্যরা তার সেবা করুক। ফলে সে অন্যদেরকে শুধু কাজের বা সেবার আদেশ করে।
২৪. কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা এবং নিজেকে সংশোধনের পরিবর্তে উল্টা তার উপর রাগ করা।
২৫. ন্যায়-সঙ্গত, যৌক্তিক ও সত্য বিষয়কে জেনে-বুঝে প্রত্যাখ্যান করা।
২৬. মানুষের শারীরিক গঠন, দারিদ্রতা, বংশ মর্যাদা ইত্যাদি নিয়ে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।
২৭. সত্য জানার চেষ্টা না করা বা জ্ঞানার্জন করা থেকে মূখ ফিরিয়ে চলা।
২৮. তার থেকে থেকে বয়সে ছোট বা কম শিক্ষিত মানুষের পক্ষ থেকে কোন সংশধনী গ্রহণ না করা বা কোনও জ্ঞান না নেওয়া যাদিও তা উপকারী হয়।

এই লক্ষণগুলো আমাদের মধ্যে থাকলে ধ্বংস ও অধঃপতনের পূর্বে এখনই তওবা করে নিজেকে সংশোধন করা আবশ্যক। আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

একজন ইমামের যোগ্যতা ও গুণাবলী

 নিঃসন্দেহে তওহিদের পরে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হল সালাত। সুতরাং এই সালাতের ইমামতির দায়িত্বও অতি মর্যাদাপূর্ণ।

সে কারণে স্বভাবতই একজন ইমামের মধ্যে কিছু যোগ্যতা ও গুণাবলী থাকা জরুরি।
নিম্নে সেগুলো কতিপয় তুলে ধরা হল:

◈ যে ইমামতি করবে তার মধ্যে যে সকল আবশ্যকীয় যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সেগুলো হল:

● ১. বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের অনুসারী হওয়া।
● ২. ইখলাস তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত থাকা।
● ৩. বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত করতে সক্ষম হওয়া।

ইসলামের দৃষ্টিতে ইমাম হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ওই ব্যক্তি যে কুরআন তিলাওয়াতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ

“কওমের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি ভালো আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করতে পারে (যে শুদ্ধ উচ্চারণে তারতিলের সাথে সুন্দরভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে অথবা যার অধিক পরিমাণে কুরআন মুখস্থ রয়েছে) সেই ইমামতি করবে।” [সহীহ মুসলিম]

সুতরাং যার তিলাওয়াত শুদ্ধ নয় বা যার তিলাওয়াতে মারাত্মক ভুল (لحن جلي) রয়েছে তাকে ইমামতি বা খতিব হিসেবে কোথাও নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় যদিও তার আকিদা-মানহাজ সঠিক হয়, যদিও সে নামিদামি বক্তা, লেখক গবেষক বা ওয়ায়েজ হয়।

বরং আকিদা মানহাজ বিশুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি যে তিলাওয়াতে অধিক পারদর্শী কিংবা কুরআন মজবুতভাবে মুখস্থ রাখে সেই মসজিদের ইমাম হওয়ার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি।

● ৪. সুন্নাহ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখা। কমপক্ষে সালাতের মৌলিক বিধিবিধানগুলো সম্পর্কে জানা যেন সুন্নাহ ভিত্তিক সঠিক নিয়মে সালাত পড়াতে সক্ষম হয়।

◈ তার মধ্যে আরও যে সকল গুণাবলী থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: (১০টি)

১. বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা ও মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার।
২. অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও মিষ্টভাষী হওয়া।
৩. ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক ও বিশুদ্ধ জ্ঞান থাকা।
৪. তার ব্যক্তিগত জীবনে কথা ও কাজের মিল থাকা।
৫. পাপাচার থেকে দূরে থাকা।
৬. একজন ইমামের জন্য সময়ানুবর্তীতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সালাত নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পৃক্ত।
৭. আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন হওয়া। অর্থাৎ তার থেকে এমন কোন নীচ ও হীন আচরণ প্রকাশিত না হওয়া যা এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির জন্য শোভনীয় নয়।
৮. মানুষের প্রতি কল্যাণকামী মনোভাব এবং মুসল্লিদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সচেতন থাকা।
৯. ধৈর্য ও সহনশীলতা।
১০. মানুষের সম্পদের প্রতি লোভ সংবরণ করা…ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, এ সকল গুণাবলী প্রত্যেক মুসলিমের মধ্যেই থাকা উচিৎ। তবে বিশেষভাবে ইমাম, দাঈ, আলেম প্রমুখ ব্যক্তিগণ- যাদের নিকট মানুষ দ্বীন ও চরিত্র শিখবে-তাদের মধ্যে থাকাটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ সকল সুন্দর গুণাবলীর অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

শুকরিয়ার জন্য বিশেষ কোনও সালাত নেই আছে সেজদা

 যে কোনও সফলতা, বিজয়, অনন্ত দায়ক ঘটনা, সুসংবাদ লাভ কিংবা যে কোন দুশ্চিন্তা বা বিপদাপদ কেটে যাওয়ার কারণে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া হিসেবে একটি সেজদায়ে শোকর দেওয়া সুন্নত। এটি বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা সু প্রমাণিত। কিন্তু শুকরিয়া হিসেবে দুই বা ততোধিক রাকাত সালাত পড়ার ব্যাপারে ওলামাদের মাঝে কিছুটা দ্বিমত থাকলেও অধিক বিশুদ্ধ মতে তা সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়।

এ বিষয়ে দু-একটি জয়িফ বা দুর্বল হাদিস পাওয়া যায়। উক্ত হাদিসগুলোর তাহকিক বা সনদ বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

1-ما رواه الحاكم عن كعب بن عجرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر كعب بن مالك حين تيب عليه وعلى أصحابه أن يصلي ركعتين أو سجدتين . رواه الحاكم في “المستدرك على الصحيحين” (5/148).
إلا أن هذا الحديث لا يصح ؛ لأن في إسناده : يحيى بن المثنى .
قال العقيلي : “حديثه غير محفوظ ، ولا يعرف بالنقل” انتهى من “الضعفاء الكبير” (4/ 432).
2- ما رواه ابن ماجه (1391) من طريق سَلَمَة بْن رَجَاءٍ حَدَّثَتْنِي شَعْثَاءُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى يَوْمَ بُشِّرَ بِرَأْسِ أَبِي جَهْلٍ رَكْعَتَيْنِ) .
وهذا الحديث حسنه بعض العلماء كابن حجر وابن الملقن . ينظر : “البدر المنير” (9 /106) ، تلخيص الحبير (4 /107) .
ولكن قال البوصيري : ” هذا إسنادٌ فيه مقال ، شَعْثَاء بنتُ عبد الله ، لَمْ أَرَ مَنْ تَكَلَّمَ فِيهَا لَا بِجُرْحٍ وَلَا بِتَوْثِيقٍ.
وَسَلَمَة بْن رَجَاء لَيَّنَهُ اِبْن مُعِين ، وَقَالَ اِبْن عَدِّي : حَدَّثَ بِأَحَادِيث لَا يُتَابَع عَلَيْهَا ، وَقَالَ النَّسَائِيُّ : ضَعِيف ، وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ : يَنْفَرِد عَنْ الثِّقَات بِأَحَادِيث ، وَقَالَ أَبُو زُرْعَة : صَدُوق ، وَقَالَ أَبُو حَاتِم : مَا بِحَدِيثِهِ بَأْس “. انتهى من “مصباح الزجاجة ” (1 / 211) .
وكذلك ضعفه الشيخ الألباني في ضعيف سنن ابن ماجه

আর মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানি রা. এর ঘরে ৮ রাকাত নফল সালাত পড়েছিলেন। অনেক মুহাদ্দিসের মতে তা ছিল তার নিয়মিত সালাতুয যুহা বা চাশতের সালাত। কেননা সহিহ মুসলিমের বর্ণায় আছে,

ثُمَّ صَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ سُبْحَةَ الضُّحَى

“তারপর তিনি আট রাকআত চাশতের সালাত আদায় করলেন।”

আবার অনেকের মতে, তা ছিল শুকরিয়ার সালাত। কিন্তু তারা বলেন, তা কাফেরদের থেকে দেশ জয়ের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ যখন কোনও কাফের অধ্যুষিত দেশ মুসলিমদের করতলগত হবে তখন আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে দু বা ততোধিক রাকাত সালাত পড়া জায়েজ আছে। সাধারণভাবে যে কোনও সুসংবাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এ কারণে মুহাক্কিক আলেমগণ বলেন, অধিক বিশুদ্ধ মতে সাধারণ আনন্দদায়ক সংবাদে শুকরিয়ার সালাত পড়া শরিয়ত সম্মত নয়।

❑ এ বিষয়ে নিম্নে কয়েকজন বিশ্ববরেণ্য আলেমের মতামত উপস্থাপন করা হলো:

✪ রামলি (শিহাব উদ্দিন মোহাম্মদ আর রামলি, মৃত্যু ১০০৪ হি.) বলেন,

لَيْسَ لَنَا صَلَاةٌ تُسَمَّى صَلَاةَ الشُّكْرِ ” . انتهى من ” تحفة المحتاج ” (3 / 208).

“আমাদের জানামতে, সালাতুশ‌ শোকর ‌(কৃতজ্ঞতার সালাত) নামে কোন সালাত নেই।” [তুহফাতুল মুহতাজ, ৩/২০৮]

✪ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রহ. বলেন,

” لا أعلم أنه ورد شيء في صلاة الشكر ، وإنما الوارد في سجود الشكر “. انتهى “مجموع الفتاوى ” (11 /424)

“সালাতুস শোকর বা কৃতজ্ঞতার সালাত-এর ব্যাপারে কোন হাদিস এসেছে বলে জানা নেই। তবে সেজদায়ে শোকর বা কৃতজ্ঞতার সেজদার ব্যাপারে হাদিস এসেছে।” [মাজমুল ফাতাওয়া, ১/৪২৪]

✪ আল্লামা শাইখ উসাইমিন বলেন,

” لا أعلم في السنة صلاة تسمى : صلاة الشكر ، ولكن فيها سجوداً يسمى : سجود الشكر”. انتهى ” فتاوى نور على الدرب” (6 / 17)

“সুন্নায় (হাদিসে) বর্ণিত হয়েছে এমন কোন সালাতের কথা জানা নাই যাকে ‘সালাতুল শোকর বা কৃতজ্ঞতার’ সালাত বলা হয়। তবে এ জন্য সেজদা রয়েছে যাকে ‘সেজদায়ে শোকর’ বলা হয়।” [ফাতাওয়া নুরন আলাদ দারব, ৬/১৭]

✪ তিনি আরও বলেন,

” الشكر ليس له صلاة ذات ركوع وقيام ، وإنما له سجود فقط “. انتهى “فتاوى نور على الدرب” (6 / 18)

“শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার জন্য কিয়াম ও‌ রুকু সম্বলিত কোন সালাত নেই। শুধু রয়েছে সেজদা।” [ফাতাওয়া নুরন আলাদ দারব, ৬/১৮] (sauce: islamqa-সংক্ষেপেয়িত)
আল্লাহু আলম।
▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

দান-সাদকা করার ফজিলত এবং কাকে দান করা যায় ও দানের পরিমাণ সর্বোচ্চ কত হওয়া কর্তব্য

 প্রশ্ন: দান-সাদকা করার ফজিলত কী? কাকে দান করা যায় এবং দানের পরিমাণ সর্বোচ্চ কত হওয়া কর্তব্য?

উত্তর: নিম্নে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: و بالله التوفيق

▪ দান-সাদকা করার ফজিলত:

কুরআন-সুন্নায় দান-সাদকা করার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে এ প্রসঙ্গে কয়েকটি আয়াত ও হাদিস তুলে ধরা হলো:

✪ আল্লাহ তাআলা আল্লাহর রাস্তায় দানের প্রতিদান সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন:

ক. মহাগ্রন্থ কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

“যারা আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করে তার উদাহরণ হচ্ছে সেই বীজের মত যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। আর প্রতিটি শীষে একশতটি করে দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অতিরিক্ত দান করেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত সুবিজ্ঞ।” [সূরা বাকারা: ২৬১]

খ. রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ

“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।” [আহমদ, তিরমিজি, নাসাঈ-সহিহ]

অর্থাৎ যে কেউ আল্লাহর রাস্তায় অর্থ খরচ করবে, চাই তা জিহাদের প্রয়োজনে খরচ করুক, অথবা গরিব-অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কিংবা ইসলামের কোনও প্রয়োজনে খরচ করুক কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে বিনিময়ে তার দানকে সাতশো গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে প্রতিদান দিবেন।

✪ আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান-সাদকা করা আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার মত:

মহান আল্লাহ বলেন,

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّـهَ قَرْضًا حَسَنًا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّـهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ۚ

“তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত দাও এবং আল্লাহকে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিত রূপে পাবে।” [সূরা মুযযাম্মিল: ২০]

উক্ত আয়াত সমূহে উল্লেখিত ’আল্লাহকে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ’ দেওয়ার অর্থ, “আল্লাহর পথে খরচ করা।” [তাফসীর ইবনে কাসির, তাফসিরে বিন সাদি ইত্যাদি]
বিখ্যাত মুফাসসির ইবনে জায়েদ বলেন, “জাকাত দেওয়া ছাড়াও নিজের অর্থ-সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করা। এ খরচ আল্লাহর পথে জিহাদ করা, আল্লাহর বান্দাদের সাহায্য করা, জনকল্যাণমূলক কাজ করা কিংবা অন্যান্য কল্যাণকর কাজেও হতে পারে।”
এভাবে অর্থ ব্যয় করলে আল্লাহ তাকে নিজের জন্য ঋণ বলে গণ্য করেন। তাই তিনি এক্ষেত্রে কেবল আসলটি নয় বরং তার ওপর কয়েকগুণ বেশি দেওয়ার ওয়াদা করেছেন।

✪ দানকারীর জন্য ফেরেশতাদের দুআ আর ব্যয়কুণ্ঠের জন্য বদদুআ:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

– ما من يومٍ يُصبحُ العبادُ فيه إلا وملَكانِ ينزلانِ ، فيقولُ أحدُهما : اللهمَّ أعطِ مُنفقًا خلفًا ، ويقولُ الآخرُ : اللهمَّ أعطِ مُمْسكًا تَلفًا

“প্রতিদিন সকালে দু জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন দানকারীর জন্য দুআ করেন। বলেন, হে আল্লাহ দানকারীকে দানের বিনিময় দান কর। (তার সম্পদ বৃদ্ধি কর) আর দ্বিতীয়জন কৃপণের জন্য বদ দুআ করে বলেন, হে আল্লাহ কৃপণের মালে ধ্বংস দাও।” [বুখারি ও মুসলিম]

✪ ৪. দান-সাদকা করলে সম্পদ কমে না:

আবু কাবশা আল আনমারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন যে,

مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ

“সদকা করলে কোন মানুষের সম্পদ কমে না।” [সহিহ মুসলিম, হা/২৫৮৮]

✪ ৫. দান-সাদকা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মাধ্যম:

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মর্মে বলেছেন,

«اتَّقُوْا النَّارَ وَ لَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ»

‘‘তোমরা খেজুরের অর্ধেক দান করে হলেও আগুন থেকে বাঁচ।’’[বুখারী, অধ্যায়: জাকাত, অনুচ্ছেদ: খেজুরের একাংশ দান করে হলেও আগুন থেকে বাঁচ]

✪ ৬. সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

« إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ »

“মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায় তবে তিনটি ছাড়া।(সেগুলো হলো)
– সাদকায়ে জারিয়া (এমন দান যা দ্বারা মানুষ দীর্ঘদিন উপকৃত হয়),
– এমন ইলম (শরিয়ত বিষয়ক জ্ঞান) যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়
– এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে।” [সহিহ মুসলিম, হা/৪৩১০]

কুরআন-হাদিসের দান-সাদকার আরও অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

▪ কাদেরকে দান করব?

সাধারণভাবে গরিব-অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে, জন কল্যাণকর কাজে এবং দ্বীনের প্রয়োজনে সাহায্য করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে নিজ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে গরিব, এতিম ও অসহায় মানুষের উদ্দেশ্যে দান করা অধিক উত্তম। এদেরকে দান করলে দু ধরণের সওয়াবের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِيْنِ صَدَقَةٌ وَهِىَ عَلَى ذِى الْقَرَابَةِ اثْنَتَانِ صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ

“দরিদ্রকে দান করলে কেবল সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। আর আত্মীয়কে দান করলে সদকার সওয়াব এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার সওয়াব উভয়ই পাওয়া যায়।” [তিরমিজি, হা/৬৫৮ ও ইবনে মাজাহ, হা/১৮৪৪, সনদ সহীহ]

এ মর্মে আরও একাধিক হাদিস রয়েছে।

▪ কী পরিমাণ দান করা যায়?

আল্লাহ তাআলা যাকে অর্থ-সম্পদ দান করেছেন সে যত বেশি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গরিব-অসহায় মানুষ, জনকল্যাণকর কাজ অথবা দ্বীনের সেবায় অর্থ দান করবেন আল্লাহ তাআলা তাকে তত বেশি সওয়াব দান করবেন। কেউ সুস্থ-সবল ও স্বাভাবিক অবস্থায় চাইলে তার জীবন পরিচালনা এবং তার স্ত্রী-পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় খরচ ছাড়া তার সমূদয় সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে দেওয়ার অধিকার রাখে। এতটা দান উচিত নয় যে, সব কিছু দান করার পর সে নিঃস্ব হয়ে যায়। তবে যদি সে শারীরিকভাবে অর্থ-উপার্জনে সক্ষম হয় তাহলে ভিন্ন কথা।

সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. কে প্রশ্ন করা হয় যে, প্রশ্ন: এক তৃতীয়াংশ সম্পদ দান করা উত্তম নাকি সম্পূর্ণ সম্পদ?
তিনি বলেন,

لا بدّ أن يُبقي له ما ينفعه ولا يتصدّق به كله، مثلما قال ﷺ لكعبٍ: أمسك عليك بعض مالك فهو خيرٌ لك، فيتصدّق بما تيسَّر، ويُبقي ما يُعينه على طاعة الله، ويُنفق على أهله.

“যা তার উপকারে আসবে তা তাকে অবশ্যই রাখবে; সব সম্পদ দান করবে না, যেমনটি তিনি কাব রা. কে বলেছিলেন,

أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ

“তুমি তোমার মালের কিছু অংশ রেখে দাও; তা তোমার জন্য উত্তম হবে।”
[সুনানে নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৩৫/ মানত ও কসম, পরিচ্ছেদ: ৩৬. মানত হিসেবে হাদিয়া দেওয়া]

অতএব যথাটা সম্ভব দান করবে এবং এতটুকু রেখে দিবে যা দ্বারা সে আল্লাহর আনুগত্য করতে পারবে এবং তার পরিবারের জন্য ব্যয় করতে পারবে।”

তবে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে মুমূর্ষু অবস্থায় দান (ওসিয়ত) করতে চাইলে ইসলাম একটি পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। আর তা হল, সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ। এর চেয়ে বেশি দান করা জায়েজ নাই। বরং এর চেয়ে কম হলেই ভালো। মুমূর্ষু অবস্থায় দানের ক্ষেত্রে কেউ যদি তার ধন-সম্পদ সব কিছু দানের ওসিয়ত করে যায় তাহলে তার মধ্যে কেবল এক তৃতীয়াংশ কার্যকর হবে। বাকিটা তার ওয়ারিশদের মাঝে যথানিয়মে বণ্টিত হবে।

🔸 সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজের সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। পথিমধ্যে আমি প্রচণ্ড রোগে আক্রান্ত হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সেবা-শুশ্রূষা করতে এলে আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল, আমার অনেক সম্পত্তি। কিন্তু আমার ওয়ারিশ হওয়ার মত কেউ নাই একমাত্র মেয়ে ছাড়া। আমি আমার সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ ওসিয়ত করব?
তিনি বললেন, না।
আমি বললাম, অর্ধেক?
তিনি বললেন, না।
আমি বললাম, তবে তিন ভাগের একভাগ?
তিনি বললেন, “তিন ভাগের একভাগ! তিন ভাগের একভাগই তো বেশি। সাদ, তোমার উত্তরাধিকারীদেরকে দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাবে আর তারা মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে বেড়াবে এর চেয়ে তাদেরকে সম্পদশালী করে রেখে যাওয়াই উত্তম।” [বুখারী ও মুসলিম]

– এক তৃতীয়াংশের চেয়ে কম করা উত্তম। ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

لَوْ غَضَّ النَّاسُ إِلَى الرُّبْعِ ، لأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ « الثُّلُثُ ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ »

“মানুষ যদি (সম্পত্তি ওসিয়ত করার ক্ষেত্রে) এক তৃতীয়াংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নেমে আসত তবে উত্তম হত। কেননা, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন ভাগের একভাগ! তিন ভাগের একভাগই তো বেশি।” [বুখারি ও মুসলিম] আল্লাহু আলাম।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬ উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল। (লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

বন্যা-জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়-ঝঞ্ঝা এবং সর্বপ্রকার বিপাদাপদ ও ক্ষয়-ক্ষতি থেকে মুক্তির জন্য অতি জরুরি ১০টি দুআ

 নিম্নে বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-ঝঞ্ঝা এবং সর্বপ্রকার বিপাদাপদ ও ক্ষয়-ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য হাদিসে বর্ণিত অতি জরুরি ১০টি দুআর আরবি টেক্স, সেগুলোর বাংলা উচ্চারণ এবং অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

❂ ১. এমন বৃষ্টির জন্য দুআ যা হবে উপকারী; কোনও ক্ষতির কারণ হবে না:

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مَرِيئًا مَرِيعًا طَبَقًا عَاجِلاً غَيْرَ رَائِثٍ نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা আসক্বিনা গাইসান মারীআন, মারীআ’ন, তবাকান, আ-জিলান গাইরা রা-ইসিন, নাফিআন, গাইরা দ্ব-র।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে এমন বৃষ্টির পানি দান করুন যা সুপেয়, ফসল উৎপাদক, পর্যাপ্ত, শীঘ্রই; বিলম্বে নয়, উপকারী; ক্ষতিকর নয়।” [মুসনাদে আহমদ, হা/২৭৬৮৯-ইরওয়াহ, হা/১৪৫-সহীহ]

❂ ২. অতিবৃষ্টি বন্ধের জন্য দুআ:

اَللّٰهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اَللّٰهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُوْنِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা ‘আলাইনা। আল্লা-হুম্মা আলাল-আ-কা-মি ওয়ায্যিরা-বি ওয়াবুতূনিল আওদিয়াতি ওয়ামানা-বিতিশ শাজারি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি বর্ষণ করুন); আমাদের উপর নয়। এবং (বৃষ্টি বর্ষণ করুন) উঁচু ভূমিতে, পাহাড়ে, উপত্যকার কোলে ও বনাঞ্চলে। [বুখারী, হ/৯৩৩; মুসলিম, হা/৮৯৭]

❂ ৩. ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বায়ু প্রবাহের সময় দুআ:

لاللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ الرِّيحِ، وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ، وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ: “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা ফীহা ওয়া খায়রা মা উরসিলাত বিহী; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফীহা ওয়া মিন শাররি মা উরসিলাত বিহী।”

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট এই বায়ুর কল্যাণ, এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে এবং যা নিয়ে তা প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এই বায়ুর অনিষ্ট, এর মধ্যে যে অনিষ্ট নিহিত রয়েছে এবং যা নিয়ে তা প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে।”
[সুনান তিরমিজি, অনুচ্ছেদ: বাতাসকে গালি দেওয়া নিষেধ, হা/২১৭৮, সহীহ-আলবানী]

❂ ৪. আল্লাহর আজাব-গজব থেকে মুক্তির জন্য দুআ:

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ: “আল্ল-হুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাযাবিকা, ওয়া লা তুহলিকনা বিআযাবিকা ওয়া আ’ফিনা ক্ববলা যা-লিকা।”

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব (ক্রোধ) দ্বারা হত্যা করবেন না এবং আপনার আজাব (শাস্তি) দ্বারা ধ্বংস করে দেবেন না। এসবের আগেই আপনি আমাকে পরিত্রাণ দিন। [তিরমিজি, হা/৩৪৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী], আল কালিমুত তাইয়্যিব ১৫৮/১১১, সিলসিলা যঈফা, হা/১০৪২।

উল্লেখ্য যে, মেঘের ও বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দুআ পড়ার হাদিসটি দুর্বল হলেও সাধারণভাবে আল্লাহর আজাব-গজব থেকে মুক্তির জন্য পড়তে বাধা নেই ইনশাআল্লাহ।

❑ সাধারণভাবে আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা এবং সবধরনের ক্ষয়-ক্ষতি ও বিপদাপদ থেকে মুক্তির জন্য কতিপয় দুআ:

❂ ৫. দুআ:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহী, আ’-জিলিহি ওয়া আ-জিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম। ওয়া আউযুবিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহী আ’-জিলিহি ওয়া আ-জিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম।

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সব ধরণের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। বর্তমানের কল্যাণ চাই ও ভবিষ্যতের কল্যাণ চাই। যে কল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি তা চাই এবং যে কল্যাণ সম্পর্কে আমি জানি না সেটাও চাই। আপনার কাছে সব ধরনের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।” [সুনান ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: ২৮/ দুআ, পরিচ্ছেদ: ২৮/৪. দুআর সমষ্টি, আল-আদাবুল মুফরাদ দুআ-দরুদ-পরিচ্ছেদ: ২৭৯- বিবিধ। সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৫৪২]

❂ ৬. দুআ:

«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّيْ وَالْهَدْمِ وَالْغَرَقِ وَالْحَرِيْقِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَمُوْتَ فِيْ سَبِيْلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَمُوْتَ لَدِيْغًا».

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাত তারাদ্দি ওয়াল হাদমি ওয়াল গারাক্বি ওয়াল হারীক্বি। ওয়া আউযুবিকা আইঁ ইয়াতাখাব্বাত্বানিয়াশ শায়ত্বানু ইংদাল মাওতি, ওয়া আউযুবিকা আন আমূতা ফী সাবীলিকা মুদবিরা। ওয়া আ’উযুবিকা আন আমুতা লাদীগা।

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, উঁচু স্থান থেকে পতিত হওয়া, কোনও কিছুর নিচে চাপা পড়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং পানি ডুবে যাওয়া থেকে। আর আপনার কাছে আশ্রয় চাই, মৃত্যুকালে শয়তান যেন আমাকে বিপথগামী করতে না পারে।
এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার পথে জিহাদ করার সময় যেন পালিয়ে মৃত্যুবরণ না করি। এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই, যেন সাপ-বিচ্ছুর দংশনে মৃত্যুবরণ না করি।
[আবু দাউদ ১৫৫২, নাসায়ী ৫৫৩৩, আহমদ ১৫৫২৩, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৩৮১, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯৪৮, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩০৯-সহিহ]

❂ ৭. দুআ:

اللَّهُمَّ إنّي أعُوذُ بِكَ مِنْ يَوْمِ السُّوءِ، وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوءِ، وَمِنْ سَاعَةِ السُّوءِ، وَمِنْ صَاحِبِ السُّوءِ، وَمِنْ جَارِ السُّوءِ في دَارِ الْمُقامَةِ

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন ইয়াউমিস সূ, ওয়া মিন লাইলাতিস সূ, ওয়া মিন সা-আতিস সূ, ওয়া মিন স্বা-হিবিস সূ, ওয়া মিন জা-রিস সূ, ফী দা-রিল মুক্বা-মাহ।

অর্থ: হে আল্লাহ, অবশ্যই আমি তোমার নিকট মন্দ দিন, মন্দ রাত, মন্দ সময়, অসৎ সঙ্গী এবং স্থায়ী আবাসস্থলে অসৎ প্রতিবেশী হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১৪৪, সহিহুল জামে, হা/১২৯৯]

❂ ৮. দুআ:

‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ‏.‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ، وَأَهْلِي وَمَالِي‏.‏ اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي‏.‏ اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ مِنْ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي‏.‏

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফী দ্বীনী ওয়া দুনয়ায়া ওয়া আহলী ওয়া মালী।
আল্ল-হুম্মাসতুর আওরাতী ওয়া ওয়া মিন রাওআতী। আল্ল-হুম্মাহ ফাযনী মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফী, ওয়া আন ইয়ামীনী ওয়া আন শিমালী ওয়া মিন ফাওক্বী।
ওয়া আউযু বিআযামাতিকা মিন আন উগতালা মিন তাহতী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপত্তা চাই।
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং আমার দ্বীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার-পরিজন এবং আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ, আমার সব গোপন দোষগুলোকে তুমি ঢেকে রাখ এবং আমার সব ভয়ের স্থানে তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর। হে আল্লাহ, তুমি আমাকে সামনে-পেছনে, ডানে-বামে ও উপরে সর্বদিক দিয়ে রক্ষা কর। হে আল্লাহ, তোমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের ওসিলায় আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি যেন আমার নিচের দিক দিয়ে মাটিতে দেবে না যাই। [আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আল-আদাবুল মুফরাদ, অধ্যায়: ঘুমানোর আদব-কায়দা, পরিচ্ছেদ: ৫৭৪- ভোরে উপনীত হয়ে যে দুআ পড়বে-সহিহ]

❂ ৯. দুআ:

«اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ»

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া দারাকিশ শাক্বা-ই, ওয়া সু-ইল ক্বদা-ই, ওয়া শামাতাতিল আ’দা-ই।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, কঠিন বিপদ, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দিত হওয়া থেকে। [বুখারি, হা/৬৩৪৭]

❂ ১০. দুআ:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيْعِ سَخَطِكَ

উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন যাওয়ালি নি’মাতিকা ওয়া তাহাওউলি আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজআতি নিক্বমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখত্বিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, তোমার নিয়ামত চলে যাওয়া যাওয়া থেকে, তোমার দেওয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার পক্ষ থেকে হঠাৎ শাস্তি আসা থেকে এবং তোমার কাছে সব ধরণে অসন্তুষ্টি থেকে। [মুসলিম, হা/ ২৭৩৯]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নিয়ামতরাজি দ্বারা সিক্ত করুন, তাঁর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখুন এবং সব ধরণের বিপদাপদ, ক্ষয়-ক্ষতি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার। সৌদি আরব।

Translate