প্রশ্ন: হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর ফরজ গোসলের পূর্বে কি স্ত্রী সহবাস করা বৈধ?
▪️ইবনে কুদামা রহ. বলেন,
প্রশ্ন: হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর ফরজ গোসলের পূর্বে কি স্ত্রী সহবাস করা বৈধ?
▪️ইবনে কুদামা রহ. বলেন,
❑ ক. কোনও বিদআতি বক্তাকে কি বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো জায়েজ আছে যদি সে বিদআতের দিকে আহ্বান না করে?
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য এবং বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা ডক্টর শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ) কে প্রশ্ন করা হয়, কিছু মানুষ আছে যারা দাওয়াতি প্রোগ্রাম ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বলে, কোনও বিদআতি বক্তাকে আমন্ত্রণ করতে কোনও সমস্যা নেই যদি সে বক্তৃতায় বিদআতের দিকে আহ্বান না করে। এ বিষয়টা কি সঠিক?
উত্তরে তিনি বলেন, না, এটা ঠিক নয়। তুমি যদি কোনও বিদআতি বক্তাকে আমন্ত্রণ করো এবং সে বক্তৃতা দেয় তাহলে লোকেরা তার বিদআতকে গ্রহণ করবে। বলবে, এতে কোন সমস্যা নেই এবং তারা তাকে অনুসরণ করবে। না, এটি জায়েজ নয়।” [শাইখের অডিও প্রশ্নোত্তর থেকে নেয়া, ইউটিউব চ্যানেল: ডা. আল্লামা সালেহ আল ফাউযান]
❑ খ. বিদআতি বক্তাদের ওয়াজ বা বক্তৃতা শোনা জায়েজ নাই:
❑ গ. ওয়াজের জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া:
আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যা বা কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষে বলা হয়েছে, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, “যে ব্যক্তি ওয়াজের উপযুক্ত নয় অথবা মিথ্যা বলে তাকে বক্তৃতা থেকে বাধা দিতে হবে। কারণ এ আশঙ্কা মুক্ত নয় যে, মানুষ তার অপব্যাখ্যা ও উল্টাপাল্টা বক্তব্য দ্বারা প্রতারিত হবে।” [রাওযাতুত তালেবিন ১০/২১৮, আল মাকতাবুল ইসলামিয়া-শরিয়ী শিষ্টাচার ১/৮৯]
আরও বলা হয়েছে, “বিদআতির মাহফিলে উপস্থিত হওয়া বৈধ নয়। তবে তার প্রতিবাদ করা উদ্দেশ্য থাকলে ভিন্ন কথা। হয় বক্তাকে বাধা দিবে অথবা তার আশপাশের কিছু লোকজনকে নিষেধ করবে যদি শক্তি থাকে। শক্তি না থাকলে ঐ মাহফিলে উপস্থিত হওয়া জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
প্রশ্ন: মদপান করার বিধান কী? ধূমপান ও মদপান কি সমান অপরাধ? “ধূমপান করলে ৪০ দিনের ইবাদত কবুল হয় না” এ কথা কি সঠিক?
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ বলেন, “তামাক অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। একখানি সিগারেটে যতখানি তামাক আছে তা চিবিয়ে খেলে পুরোপুরি শরীরে যদি প্রবেশ করত তা থেকে দ্রুত মৃত্যু অনিবার্য। তবে ধূমপানের ফলেও ধীরে ধীরে আয়ু কমে আসতে থাকে-শুধু ক্যান্সারের প্রবণতার জন্যেই নয় হৃদরোগের জন্যেও বটে।” [উইকিপিডিয়া] সুতরাং যারা এ সকল ক্ষতিকর দ্রব্য গ্রহণে অভ্যস্ত তাদের জন্য ফরজ হল, অনতিবিলম্বে এগুলো বর্জন করা এবং খাঁটি অন্তরে আল্লাহর নিকট তওবা করা।
❒ মদপান করলে ৪০ দিনের সালাত কবুল হবে না:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মদ পান করে কেউ যদি নেশাগ্রস্ত হয় তথা মদের প্রভাবে মাতাল বা মস্তিষ্ক বিকৃত হয় অথবা কেবল মদ পান করে তাহলে তার ৪০ দিনের সালাত কবুল হবে না। (অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে এ কথা আসেনি।)
এ প্রসঙ্গে হাদিস হল, আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ شَرِبَ الْـخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَـلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا، فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ، وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَّسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَمَا رَدْغَةُ الْـخَبَالِ؟ قَالَ: عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ
❒ মাদকাসক্ত মূর্তিপূজারীর মত:
◆ এ হাদিসের হাদিসের অর্থ কী?
– ইবনে আব্বাস রা. বলেন,
يشبه أن يكون فيمن استحلها
“যে মদপান করাকে হালাল মনে করে সে মুর্তিপূজারীর সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (অর্থাৎ উভয়েই কাফের)। [মুনাবি-ফয়যুল কাদীর]
-সিন্ধী ইবনে মাজাহ-এর হাশিয়ায় বলেন,
هما سواء في عدم قبول الصلاة، فإن الكافر لو صلى لم تقبل صلاته
“সালাত কবুল না হওয়ার দিক দিয়ে তারা উভয়েই সমান। কেননা কা/ফের যদি সালাত আদায় করে তার সালাত কবুল হবে না।”
– শাইখ সালেহ আল ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, “সম্পর্ক রাখার দিক দিয়ে উভয়ে সমান। অর্থাৎ মূর্তিপূজারী যেমন সবসময় তার মূর্তির সাথে সম্পর্ক রাখে, সহজে সেখান থেকে সরে আসতে পারে না তেমনি যে মদ ও নেশাপানে অভ্যস্ত সে এগুলো সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। সহজে এই অন্ধকার পথ থেকে বের হয়ে আসতে পারে না।”
❑ ধূমপান ও মদপান কি সমান অপরাধ?
ধূমপান, গুল-জর্দা ইত্যাদি সেবন আর মদপান সমান অপরাধ নয়:
أن تحريم شرب الدخان قد ثبت بأدلة صحيحة ولكنها غير صريحة، وأما الخمر فثبت تحريمها بالكتاب والسنة وإجماع الأمة، وأدلتها في كل ذلك صريحة، وقد ثبت فيها الحد في الدنيا مع ما توعد به شاربها في الآخرة.
وعليه؛ فشرب الدخان أمر محرم، ولكن فاعله لا يبلغ درجة شارب الخمر
মাদখালি মতবাদ কী? শাইখ রবি বিন হাদি আল মাদখালি কে? (দূর হোক ভ্রান্তি-বন্ধ হোক প্রোপাগান্ডা)
❑ শাইখ রবি বিন হাদি আল মাদখালি-এর সংক্ষিপ্ত বায়োগ্রাফি:
❑ শিক্ষার পথে অভিযাত্রা:
তিনি জিজানের সামেতা শহরে অবস্থিত ইলমি ইন্সটিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর রাজধানী রিয়াদের শরিয়া কলেজে ভর্তি হোন। অত:পর মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে ভর্তি হোন এবং সেখানে চার বছরে পড়াশোনা করার পর এক্সিলেন্ট (মুমতাজ) রেজাল্ট সহকারে অনার্স (১৯৬৪ খৃ.) সমাপ্ত করেন। অতঃপর জেদ্দার ঐতিহ্যবাহী কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (১৯৭৬ খৃ.) এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৭৯ খৃ.)।
অত:পর মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং সময়ের ব্যবধানে তিনি সেখানে উচ্চ শিক্ষা অনুষদের আস সুন্নাহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
▪️মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে বিশ্ব বরেণ্য কয়েকজন আলেম হলেন:
❑ ‘মাদখালি’ মতবাদ কী?
আর সেই কারণেই এই প্রবৃত্তির অনুসারী এবং দল ও ব্যক্তি পূজারীরা শায়খ রবি আল মাদখালিকে নানা মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে থাকে। ফলে তিনি পৃথিবীর সকল বিদআতি, কবর পূজারী, শিয়া-রাফেজি, খারিজি-জঙ্গি এবং তাদের দোসরদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন।
কিন্তু যুগ শ্রেষ্ঠ আহলুল ইলম, মুহাদ্দিস ও আলেমগণ শাইখ রবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আল হামদুলিল্লাহ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায, আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমিন, আল্লামা শাইখ নাসির উদ্দিন আলবানি সহ সমসাময়িক বিজ্ঞ আলেমগণ।
প্রকৃতপক্ষে তাঁর ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের প্রশংসা বাণী অনেক বেশি। তবে নিম্নে তাঁর ব্যাপারে আমরা কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমের অবস্থান ও প্রশংসা বাণী উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।
✪ ১. সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি, যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. বলেন,
“আমাদের পরিচিত মদিনার ভ্রাতৃমণ্ডলী ও শায়েখগণের ব্যাপারে আমাদের কাছে সন্দেহ নাই যে, তারা ভালো আকিদার অনুসারী এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত-এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন: শাইখ মোহাম্মদ আমান বিন আলি, শাইখ রবি বিন হাদি। তারা সকলেই আমাদের নিকট দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা, ইলম এবং ভালো আকিদার ধারক-বাহক হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কারী এবং বাতিলের দিকে আহবান কারীরাই মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং এসব বিষয়ে (বিভ্রান্তিমূলক) কথা বলে। তারা বলে, “(অমুকের কথার) উদ্দেশ্য, এই এই…।” এটা ভালো কাজ নয়। বরং আবশ্যক হচ্ছে, মানুষের কথাকে সবচেয়ে ভালো অর্থে ব্যাখ্যা করা।” [ক্যাসেট: তাওজিহুল বায়ান]
তিনি আরও বলেন,
«الشيخ ربيع من خيرة أهل السنَّة والجماعة، ومعروف أنَّه من أهل السنَّة، ومعروف كتاباته ومقالاته
“শায়খ রবি (বিন হাদি আল মাদখালি) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-এর শ্রেষ্ঠ আলেমদের একজন। তিনি আহলুস সুন্নাহ হিসেবে সুপরিচিত। তার লেখনী ও বিভিন্ন প্রবন্ধ সুপরিচিত।” [ক্যাসেট: শাইখ রবির ব্যাপারে আলেমদের প্রশংসা]
✪ ২. বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. বলেন,
أما بالنسبة للشيخ ربيع فأنا لا أعلم عنه إلا خيرًا والرجل صاحب سنة وصاحب حديث
“আর শাইখ রবির ব্যাপারে কথা হল, আমি তার ব্যাপারে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানি না। তিনি সুন্নতের অনুসারী এবং মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ)।” [ক্যাসেট: আল আসইলাতুস সুওয়াইদিয়াহ]
তিনি আরও বলেন,
الشيخ ربيع من علماء السنة، ومن أهل الخير، وعقيدته سليمة، ومنهجه قويم. لكن لما كان يتكلم على بعض الرموز عند بعض الناس من المتأخرين وصموه بهذه العيوب
“শাইখ রাবি হলেন, একজন সুন্নি আলেম এবং ভালো মানুষ। তার আকিদা (বিশ্বাস) নিষ্কলুষ এবং তার মানহাজ (পথ ও পদ্ধতি) সঠিক। কিন্তু যখন তিনি পরবর্তী যুগের কিছু মানুষের অনুসরণীয় বিশেষ কতিপয় ব্যক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করলেন তখন তারা এসব দোষত্রুটির মাধ্যমে তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করল।” [ক্যাসেট: কাশফুল লিসাম]
✪ ৩. বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানি রাহ. বলেন,
«إنَّ حامل راية الجرح والتعديل اليوم في العصر الحاضر وبحقٍّ هو أخونا الدكتور ربيع، والذين يردون عليه لا يردون عليه بعلم أبداً، والعلم معه»
“বর্তমান যুগে জারহ ও তাদিল (গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশ্যে আলেমদের দোষ-গুণ সংক্রান্ত বিশ্লেষণ)-এর পতাকা বহনকারী হলেন, আমাদের ভাই ডক্টর রবি। যারা তার বিরোধিতা করে তারা কখনোই ইলমের মাধ্যমে তাঁর বিরোধিতা করে না। অথচ সঠিক ইলম রয়েছে তাঁরই নিকট।” [ক্যাসেট: আল মুয়াযানাত-বিদআতুল আসর]
তিনি আরও বলেন,
«فهؤلاء الذين ينتقدون الشيخين -كما ذكرنا- (يعني الشيخين مقبل الوادعي وربيع المدخلي) إما جاهل فيُعلَّم، وإما صاحب هوى فيُستعاذ بالله من شره، ونطلب من الله -عز وجل- إما أن يهديه وإما أن يقصم ظهره»
“ওই সকল লোক যারা এই দুই শাইখের সমালোচনা করে যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি (অর্থাৎ শায়েখ মুকবিল এবং শাইখ রবিউ আল মাদখালি) তারা হয় জাহেল (অজ্ঞ) যাকে জ্ঞান শেখানো উচিত অথবা প্রবৃত্তির অনুসারী যার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিৎ। আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন তাকে হেদায়েত করেন অথবা তার পিঠ ভেঙ্গে দেন।” [সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, ৮৫১]
✪ ৪. ইয়েমেনের বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আল্লামা মুকবিল আল ওয়াদায়ী রাহ. বলেন,
«مِنْ أبصر الناس بالجماعات وبدخن الجماعات في هذا العصر الأخ الشيخ ربيع بن هادي، مَن قال له ربيع بن هادي إنه حزبي فسينكشف لكم بعد أيام إنه حزبي
“বর্তমান যুগে বিভিন্ন দল এবং দলের সমস্যাগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখেন শাইখ রবি বিন হাদি। রবি বিন হাদি যাকে হিজবি (দলবাজ) বলেছেন স্বল্প দিনের ব্যবধানে সে আপনাদের কাছে সে হিজবি (দলবাজ) হিসেবেই প্রকাশিত হবে।” [আসইলাতু শাবাবিত তায়েফ-তায়েফের যুবকদের প্রশ্ন সমূহ]
তিনি আরও বলেন,
«الشيخ ربيع في أرض الحرمين ونجد، نعم بحمد الله يغربل الحزبيين غربلةً ويبيِّن ما هم عليه»
“শাইখ রবি হারামাইন (মক্কা ও মদিনা) এবং নজদের মাটি থেকে হিজবি বা দলবাজদেরকে ছাঁকুনি দিয়ে ছেঁকে আলাদা করে দেন এবং তাদের আসল রূপ প্রকাশ করে দেন-আল হামদুলিল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন,
«الشيخ ربيع بن هادي المدخلي فهو آيةٌ من آيات الله في معرفة الحزبيين»
“শইখ রাবি বিন হাদি আল মাদখালি হিজবিদের (দলবাজদের) পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখার ক্ষেত্রে আল্লাহর একটি অন্যতম নিদর্শন।” [তুহফতুল কারীব ওয়াল মুজিব]
✪ ৫. শাইখ আল্লামা মুহম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আল বান্না রাহ. বলেন,
«أنا أقول: إنَّ ربيع هادي يحيى بن معين هذا الزمان»
“আমি বলি, রবি বিন হাদি হলেন, বর্তমান যুগের ইয়াহইয়া বিন মাঈন।” [আস সানাউল বাদী]
✪ ৬. শাইখ আল্লামা আহমদ বিন এহিয়া নাজমি রাহ. বলেন,
«فالذي يطعن في الشيخ ربيع هذا دليلٌ على أنَّه مبتدع، على أنَّه يحبِّذ المبتدعين ويلمِّع أصحاب البدع»
“সুতরাং যে ব্যক্তি শাইখ রবির সমালোচনা করে, এটাই প্রমাণ করে যে, সে একজন বিদআতি। আরও প্রমাণ করে যে, সে বিদআতিদের পক্ষ নেয় এবং বিদআতপন্থীদের প্রশংসা করে।” [ফোন মারফত ফতোয়া]
✪ ৭. মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস সুবাইল রাহ. বলেন,
«يُعادونه كثيرٌ من الناس أهل البدع وإلاَّ هو صاحب سُنَّة»
শাইখ রবি বিন হাদি আল মাদখালি (হাফিযাহুল্লাহ) রচিত কতিপয় মূল্যবান গ্রন্থের তালিকা:
1. بين الإمامين مسلم والدار قطني ” مجلد كبير وهو رسالة الماجستير.
2. النكت على كتاب ابن الصلاح ” مطبوع في جزئين وهو رسالة الدكتوراه .
3. تحقيق كتاب المدخل إلى الصحيح ” للحاكم طبع الجزء الأول منه.
4. تحقيق كتاب التوسل والوسيلة ” للإمام ابن تيمية – مجلد.
5. منهج الأنبياء في الدعوة إلى الله فيه الحكمة والعقل .
6. منهج أهل السنة في نقد الرجال و الكتب و الطوائف .
7. “تقسيم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف بين واقع المحدثين ومغالطات المتعصبين ” رد على عبد الفتاح أبو غدة ومحمد عوامه.
8. كشف موقف الغزالي من السنة وأهلها.
9. صد عدوان الملحدين وحكم الاستعانة بغير المسلمين.
10. مكانة أهل الحديث .
11. منهج الإمام مسلم في ترتيب صحيحه .
12. أهل الحديث هم الطائفة المنصورة الناجية ـ حوار مع سلمـــان العودة ـ .
13. مذكرة في الحديث النبوي .
14. أضواء إسلامية على عقيدة سيد قطب وفكره.
15. مطاعن سيد قطب في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم .
16. العواصم مما في كتب سيد قطب من القواصم .
17. ” الحد الفاصل بين الحق والباطل ” حوار مع بكر أبو زيد .
18. مجازفات الحداد .
19. المحجة البيضاء في حماية السنة الغراء .
20. ” جماعة واحدة لا جماعات و صراط واحد لا عشرات ” حوار مع عبد الرحمن عبد الخالق .
21. النصر العزيز على الرد الوجيز .
22. التعصب الذميم وآثاره . عني به سالم العجمي .
23. بيان فساد المعيار ، حوار مع حزبي متستر .
24. التنكيل بما في توضيح المليباري من الأباطيل .
25. دحض أباطيل موسى الدويش .
26. إزهاق أباطيل عبداللطيف باشميل .
27. انقضاض الشهب السلفية على أوكار عدنان الخلفية .
28. النصيحة هي المسؤولية المشتركة في العمل الدعوي . ( طبع ضمن مجلة التوعية الإسلامية ) .
29. الكتاب والسنة أثرهما ومكانتهما والضرورة إليهما في إقامة التعليم في مدارسنا . ( ضمن مجلة الجامعة الإسلامية العدد السادس عشر ) .
30. حكم الإسلام في من سبَّ رسول الله أو طعن في شمول رسالته . ( مقال نشر في جريدة القبس الكويتية ) العدد ( 8576 ) بتاريخ ( 9/5/ 1997 ).
(শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট rabee ডট নেট থেকে সংগৃহীত)
প্রশ্ন: মদিনার বাকি গোরস্থানে নাকি অনেক মাজার ছিল, পরে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে? যারা মাজারে বিশ্বাসী তাদের কাছে এমন কথা শোনা যায়। তাই এ সম্পর্কে আপনার নিকট জানতে চাই।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: প্রথমেই আমাদের জানা জরুরি যে, ইসলামের দৃষ্টিতে কবর পাকা করা, কবরের দেয়ালে চুনকাম করা, তাতে কিছু লিখা ইত্যাদি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বিশিষ্ট সাহাবি জাবের রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ
“রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর বিল্ডিং নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।” [সহিহ মুসলিম]
এ হাদিস দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণ হল যে, কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুনকাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ। এ মর্মে আরও হাদিস রয়েছে।
❒ ইসলামি সরকারের দায়িত্ব হল, উঁচু কবর, মাজার ইত্যাদি ভেঙ্গে ফেলা:
ইসলামি সরকারের দায়িত্ব হল, উঁচু কবর, মাজার ইত্যাদি ভেঙ্গে ফেলা। এ মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রখ্যাত তাবেয়ি আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদি রহ. বলেন, আমাকে আলি রা. (তার খেলাফত কালে সরকারী ফরমানে) বললেন,
أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَ