Wednesday, February 28, 2024

রাতজাগা কি গুনাহের কাজ ও রাতজাগার ৮ মারাত্মক ক্ষতি এবং যারা রাত জেগে কাজ করে তাদের সুস্থতার জন্য ৫ খাবার

 প্রশ্ন: ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য রাত জাগতে হয়। এতে কি গুনাহ হবে? আর রাতজাগার ক্ষতিকর দিক সমূহ এবং এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় করণীয় কী?

উত্তর: আল্লাহ তাআলা রাতকে আমাদের জন্য বিশ্রাম গ্রহণ এবং দিনকে জীবিকা উপার্জনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

‏ وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا ‎‏ وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا-‏ وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا

“তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকা উপার্জনের সময়।” [সূরা নাবা: ৯, ১০ ও ১১]

তিনি আরও বলেন,

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا

“আর তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে।” [সূরা ফুরকান: ৪৭]

তিনি আরও বলেন,

وهُوَ الذي جعلَ لَكمُ الليلَ لِتَسكنوا فيهِ والنهارَ مُبصرا إِنَّ في ذلكَ لآَياتٍ لقوم يَسمعون

“তিনি তোমাদের জন্য তৈরি করেছেন রাত, যাতে করে তোমরা তাতে প্রশান্তি লাভ করতে পার, আর দিন দিয়েছেন দর্শন করার জন্য। নিঃসন্দেহে এতে নিদর্শন রয়েছে সে সব লোকের জন্য যারা শ্রবণ করে।” [সূরা ইউনুস: ৬৭]

তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একান্ত জরুরি কাজ ছাড়া ইশার সালাতের পূর্বে ঘুম এবং ইশার সালাতের পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন এবং তিনি আগেভাগে ঘুম এবং আগেভাগে ঘুম থেকে জাগার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

তাই আমাদের কতর্ব্য, যথাসম্ভব দিনের বেলায় কাজ করা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া।

কিন্তু বর্তমান যুগে অনেক মানুষকে নানা কারণে রাত জেগে কাজ করতে হয়। যদি চাকরি বা পেশাগত প্রয়োজনে রাতে জেগে কাজ করা আবশ্য হয় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তা নাজায়েজ নয়। তবে এ জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। সেগুলো লক্ষ্য রেখে রাত জেগে কাজ করা জায়েজ রয়েছে। যেমন:

◍ ১. কাজটা জীবিকা উপার্জন বা মানব কল্যাণের বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি হওয়া আবশ্যক। অপ্রয়োজনীয় কাজে রাতজাগা বৈধ নয়।
◍ ২. কাজটা হালাল হওয়া। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং বা অন্য যে কাজ করবেন তা অবশ্যই হালাল হতে হবে। হারাম কাজের জন্য রাতজাগা হারাম।
◍ ৩. রাতজাগার কারণে মাগরিব, ইশা ও ফরজের সালাত আর দিনের বেলায় ঘুমের কারণে জোহর/জুমা, আসর সালাত ইত্যাদি কাজা না করা।
◍ ৪. রাতজাগার ফলে যথাসময়ে মসজিদে জামাতে সালাত মিস না করা। (পুরুষদের জন্য)।
◍ ৫. রাত জেগে কাজ করার প্রয়োজন থাকলে দিনে পর্যাপ্ত ঘুমের মধ্যমে শরীরের চাহিদা পূরণ করা জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম গ্রহণ মানুষের উপর তার নফসের হক। তাছাড়া শারীরিক ও মানসিক সুস্থ থাকার জন্যও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

◍ ৬. রাতজাগার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা থাকলে অনতিবিলম্বে রাতজাগা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় রাতজাগা মানুষের দেহে নানা রোগ-ব্যাধির সৃষ্টির কারণ হয়। সুতরাং এ বিষয়ে সচেতনতা কাম্য।

❂ শাইখ আলবানি রাহ. কে রাতে কাজ করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন,

إذا كنت لا تضيع أي صلاة عن وقتها المشروع أولا ثم لا تضيع حضور الصلاة في مساجد المسلمين ثانيًا ثم لا تستطيع أن تجد عملًا في النهار ثالثًا بهذه الشروط يجوز فإذا اختل شرط من هذه الشروط لا يجوز

“তুমি যদি প্রথমত: নির্ধারিত সময়ে কোন সালাত মিস না করো, দ্বিতীয়ত: তুমি যদি মসজিদে নামাজ পড়া মিস না করো, তারপর তৃতীয়ত: তুমি যদি দিনে করার মত কোনও কাজ খুঁজে না পাও তাহলে এসব শর্ত সাপেক্ষে রাত জেগে কাজ করা জায়েজ। কিন্তু যদি এই শর্তগুলোর কোনও একটি লঙ্ঘিত হয় তাহলে তা জায়েজ নয়।” [al-fatawa]

❂ রাতে কাজ করা এবং দিনের অধিকাংশ সময় ঘুমানো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে islamweb-এর উত্তরে বলা হয়েছে,

فإذا كان نومك لا يترتب عليه تضييع الصلوات المفروضة وإخراجها عن وقتها بحيث تستيقظ وتصلي الصلاة لوقتها، ثم تعود للنوم فإنه لا حرج عليك، وإن كنت تضيع الصلوات فتخلط الظهر مع العصر مثلا أو تصلي الفجر بعد وقتها فهذا لا يجوز، وتلزمك التوبة إلى الله تعالى

“আপনার ঘুমের কারণে যদি ফরজ সালাত ছুটে না যায় বা সময় অতিবাহিত করে না পড়া হয় অর্থাৎ আপনি ঘুম থেকে জাগবেন এবং যথাসময়ে সালাত পড়ে পুনরায় ঘুমাবেন তাহলে এতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যদি সালাত ছুটে যায়-যেমন: জোহরকে আসরের সাথে যুক্ত করে দেন বা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ফজর সালাত পড়েন তাহলে তা জায়েজ নয়। আপনার জন্য তওবা করা আবশ্যক।” [ফতোয়া নং-১১২৭৮৫]

❑ রাতজাগার ৮ মারাত্মক ক্ষতি:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, টানা কয়েকদিন রাত জাগলে শরীর ভিতর থেকে ভাঙতে শুরু করে। ফলে এমন সব রোগ ঘাড়ে চেপে বসে যে আয়ু কমে চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, সঙ্গে রাতজাগা লেজুড় হলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ভয়ও থাকে। তাই শরীরের এসব মারাত্মক ক্ষতি বাঁচতে রাত জাগবেন না।

❑ রাতজাগার ফলে শরীরের যে ৮টি মারাত্মক ক্ষতি হয়:

✪ ১.উচ্চ রক্তচাপ: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে টানা ২-৩ দিন ঠিক করে না ঘুমলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে। আর এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত যদি ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা না যায়, তাহলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

✪ ২.ওজন বাড়ে: ২০১৪ সালে হওয়া একটি স্টাডিতে দেখা গেছে টানা কয়েকদিন ৬ ঘণ্টার থেকে কম সময় ঘুমালে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কারণ ঘুম কম হলে স্বাভাবিকভাবেই খিদে বাড়তে থাকে।

আর বেশি মাত্রায় খেলে যে স্বাভাবিকভাবেই ভাবে ওজন বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! আর ওজন যখন মাত্রা ছাড়ায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই একে একে শরীরে এসে বাসা বাঁধে ডায়াবেটিস, কোলেস্ট্ররল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের মতো নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ। তাই তো বলি বন্ধু, ওবেসিটির মতো মারণ পরিস্থিতির খপ্পরে পরতে যদি না চান, তাহলে রাতজাগার প্ল্যান বাদ দিতে হবে।

✪ ৩. ব্রেনের পাওয়ার কমে: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক নিজেকে রিজুভিনেট করতে থাকে। সেই সঙ্গে সারা দিন ধরে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা এবং তথ্য ব্রেনে স্টোর করার কাজটাও এই সময় ঘটে থাকে। তাই তো ঠিক মতো ঘুম না হলে প্রথমেই স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব পরে। সেই সঙ্গে কগনিটিভ ফাংশন কমে যাওয়ার কারণে মনোযোগ এবং বুদ্ধি কমে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলিও ঘটে থাকে।

প্রসঙ্গত: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের কোনও কিছু শেখার ক্ষমতার সঙ্গে ঘুমের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই তো ঠিক মতো ঘুম না হলে এই ক্ষমতাও কমে যেতে শুরু করে। তাই সাবধান!

✪ ৪. আয়ু কমে: প্রায় দশ হাজার ব্রিটিশ ছাত্রের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা ৫ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমায়, তাদের হঠাৎ করে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষদের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঘুমের সঙ্গে হার্ট এবং ব্রেনের স্বাস্থ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই তো ঘুম ঠিক মতো না হলে শরীরেই সবথেকে দুটি ভাইটাল অঙ্গ দুর্বল হয়ে যেতে শুরু করে। আর এমনটা হতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু চোখে পরার মতো কমে যায়।

✪ ৫. মানসিক অবসাদ: ২০০৫ সালে হওয়ার বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছিল দিনের পর দিন ঠিক মতো ঘুম না হলে ধীরে ধীরে মস্তকের অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডিপ্রেশন এবং অ্যাংজাইটির মতো সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই হাজারো চাপের মাঝেও মনকে যদি চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে ভুলেও ঘুমের সঙ্গে আপোস করবেন না যেন!

✪ ৬. সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে: একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে মাসের পর মাস ঠিক মতো ঘুম না হলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ এতটাই ক্লান্ত হয়ে পরে যে ঠিক মতো কাজ করে উঠতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে কেরিয়ারে দ্রুত উন্নতি করার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

✪ ৭. ত্বকের সৌন্দর্য কমে: দিনের পর দিন ঠিক মতো ঘুম না হলে কর্টিজল নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যা, সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে কোলাজেনের মাত্রা কমতে শুরু করার কারণে সৌন্দর্যও হ্রাস পায়।

✪ ৮. হার্টের মারাত্মক ক্ষতি হয়: একাধিক গবেষণার পর এই বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই যে ঘুমের সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। সেই কারণেই তো চিকিৎসকেরা দৈনিক কম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আসলে এমনটা না করলে ধীরে ধীরে হার্ট দুর্বল হয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে হার্ট ফেলিওর, ইরেগুলার হার্ট বিট সহ আরও নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। [উৎস: ekushey-tv]

❑ রাত জেগে কাজ করছেন, সুস্থ থাকতে খান ৫ খাবার:

রাত জেগে কাজ করে থাকেন অনেকেই। কেউ অভ্যাসবশত আবার কেউ জীবনের তাগিদেই এমনটি করেন। দীর্ঘদিন রাত জেগে কাজ করলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শরীরে।

টানা রাত জাগলে শরীরে ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত ঘুমালেও এই ঘাটতি পূরণ হয় না।

আর রাত জাগার সবচেয়ে বাজে প্রভাব হচ্ছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, রক্তচাপে স্বাভাবিক না থাকা এবং কাজে মনোযোগ না থাকা। এ ছাড়া শরীর দুর্বল লাগে ও কর্মোদ্দীপনা নষ্ট হয়ে যায়।

যারা রাত জাগেন, তাদের খাবারের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। তেল-মসলা, কফিজাতীয় খাবার খাবেন না। এমন কিছু খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীর ভালো রাখবে (ইনশাআল্লাহ)।

আসুন জেনে নিই কী খাবেন-

❂ ১. রাত জাগলে খেতে পারেন খেজুর ও খেজুরের গুড়। এ ছাড়া গুড় দিয়ে রুটি খেতে পারে। খেজুরে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ থাকে। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি খেজুর বা খেজুরের গুড় খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

❂ ২. রাত জেগে খিদে পেলে কাজুবাদাম কিংবা পেস্তাবাদাম খেতে পারেন। এতে পেট ভরবে আর শরীরও ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে ঘুমও ভালো হয়।

❂ ৩. ঘি শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে। রাতে রুটি বা ভাতে এক চামচ ঘি খেতে পারেন। তবে কোলেস্টেরল থাকলে ঘি এড়িয়ে চলুন।

❂ ৪. রাতে কাজ করার সময় খেতে পারেন ফল বা ফলের রস। সফেদা, শাঁখালু, আপেল, পেয়ারা, পেঁপে এসব ফল খেতে পারেন। খেতে পারেন দেশি ফলও।

❂ ৫. রাত জাগলে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। রাতে কাজ করলে এক ঘণ্টা পর পর এক গ্লাস পানি পান করুন। এতে ক্লান্তি দূর হবে। [jugantor]

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬

উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

শাবান মাসে নফল রোজা সম্পর্কিত কয়েকটি সহিহ হাদিস

 শাবান মাসে নফল রোজা রাখা সম্পর্কে অনেক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিন্মে এ সম্পর্কিত ৪টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরা হল:

❖ ১. আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

كان رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم يصوم حتى نقولَ: لا يُفطر، ويُفطر حتى نقول: لا يَصوم، فما رأيتُ رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم استكملَ صِيامَ شهرٍ إلاَّ رمضان، وما رأيتُه أكثرَ صيامًا منه في شعبان” (متفق عليه)

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (নফল) রোজা রাখতে শুরু করতেন তখন আমরা বলতাম যে তিনি রোজা রাখা আর বাদ দিবেন না। আবার যখন রোজা বাদ দিতেন তখন আমরা বলতাম তিনি আর রোজা করবেন না। তবে তাঁকে রমজান ছাড়া পরিপূর্ণভাবে অন্য কোন মাসে রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।” [1]

❖ ২. আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

« لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ -صلى الله عليه وسلم- يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ، فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ، وَكَانَ يَقُولُ: خُذُوا مِنْ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَأَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- مَا دُووِمَ عَلَيْهِ وَإِنْ قَلَّتْ، وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاةً دَاوَمَ عَلَيْهَا»

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোজা আর কোন মাসে রাখতেন না। তিনি (প্রায়) পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন। তিনি বলতেন, “তোমরা এমন আমল গ্রহণ কর যা তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। কারণ, আল্লাহ তাআলা বিরক্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত হও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এমন নামাজই পছন্দনীয় যা নিয়মিতভাবে আদায় করা হয় যদিও তা স্বল্প হয়। তাঁর নিয়ম ছিল, যখন তিনি কোন নামাজ পড়তেন নিয়মিতভাবে তা পড়তেন। [2]

❖ ৩. উসামা বিন যায়দ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল, আপনাকে শাবান মাসে যে পরিমাণ রোজা পালন করতে দেখি অন্য মাসে তা দেখি না। এর কারণ কী? তিনি বললেন,
ذاكَ شهرٌ يغفلُ الناسُ عنهُ بينَ رجبَ ورمضانَ وهو شهرٌ يُرفعُ فيهِ الأعمالُ إلى ربِّ العالمينَ فأُحِبُّ أن يُرفعَ عملي وأنا صائمٌ
“রজব এবং রমজানে মধ্যবর্তী এ মাস (শাবান মাস) সম্পর্কে মানুষ উদাসীন থাকে। অথচ (এটি এত গুরুত্বপূর্ণ মাস যে,) এ মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে মানুষের আমল সমূহ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি চাই, রোজা অবস্থায় আমার আমল উঠানো হোক।” [3]

❖ ৪. কারো যদি রমজানের রোজা ছুটে যায় তবে সে তা শাবান মাসে কাজা করে নিতে পারে। যেমন: আবু সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা. কে বলতে শুনেছি,

كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ ، فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ إِلا فِي شَعْبَانَ
“আমার রমজানের কিছু রোজা বাকি থাকত। সেগুলো আমি শাবান ছাড়া কাযা করতে পারতাম না।”[4] অর্থাৎ আয়েশা রা. গত রমজানের ছুটে যাওয়া ফরজ রোজাগুলো শাবান মাসে কাজা করতেন।

টিকা:
[1] বুখারি, কিতাবুস্‌ সাওম। মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম।
[2] বুখারি, কিতাবুস্‌ সাওম। মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম।
[3] মুসনাদ আহমদ ৫ম খণ্ড ২০১ পৃষ্ঠা। সুনান নাসাঈ, কিতাবুস সিয়াম। আলবানী রা. বলেন, এ সনদটি হাসান। দ্র: সিলসিলাতুল আহাদীস আস সাহীহাহ্‌। হাদিস নং ১৮৯৮।
[4] বুখারি, কিতাবুস্‌ সাওম। মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম। ইয়াহয়া বলেন, এর কারণ ছিল তিনি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেবায় ব্যস্ত থাকতেন।
[আল বিদা’ আল হাওলিয়া গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত]
মহান আল্লাহ আমাদেরকে শাবান মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখার তওফিক দান করুন। আমিন।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সকল প্রকার অনুষ্ঠান করা হারাম

 সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের ফতোয়া।

▬▬▬▬◈♡◈▬▬▬▬
সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদে বিশ্লেষণের পর এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা এ কথা অকাট্য ভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামে ঈদ বা উৎসবের দিন মাত্র দুটি। সালাফে সালেহীনগণও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইসলামে স্বীকৃত ঈদ দুটির একটি হল ঈদুল ফিতর, অপরটি হল ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।

উল্লিখিত ঈদ দুটি ব্যতীত যত ঈদ বা উৎসব আছে, হোক না তা কোন ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত বা কোন গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত বা কোন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তা বিদআত। মুসলমানদের তা পালন করা বা পালন করতে বলা বৈধ নয় এবং এ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা ও এ ব্যাপারে কিছু দিয়ে সাহায্য করাও নিষেধ। কেননা এ ধরণের কাজ আল্লাহ তা’আলার সীমা লঙ্ঘন বৈ অন্য কিছু হবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করবে সে নিজের উপর অত্যাচার করবে। এ ধরণের কালচার বিধর্মীদের অনুসরণের কল্পে গ্রহণ করা হলে অপরাধ আরও মারাত্মক হবে। কারণ এর মাধ্যমে তাদের সদৃশ্যতা গ্রহণ করা এবং তাদেরকে এক ধরণের বন্ধু বানানো হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে এ থেকে বারণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من تشبه بقوم فهو منهم
“যে ব্যক্তি কোনও সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করল সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য। ভালোবাসা দিবস পালন করাও এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি খৃষ্টানদের উৎসব। যে মুসলমান আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার জন্য এ কাজ করা বা এই দিনে কাউকে ফুল বা অন্যকোনো উপহার দেয়া বৈধ নয়। বরং তার কর্তব্য হল আল্লাহ এবং তার রাসূলের হুকুম পালন করা এবং আল্লাহর শাস্তি ও গযব আসে এমন কাজ থেকে নিজে দূরে থাকা ও অন্যদের দূরে রাখা।

অতএব এ দিবসকে কেন্দ্র করে পানাহার করা, ক্রয়-বিক্রয় করা, কোন কিছু প্রস্তুত করা বা উপঢৌকন দেয়া, চিঠি-পত্র চালাচালি করা ও প্রচার-পত্র বিলি করা অবৈধ। এ সমস্ত কাজের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করা হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَاب

“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” [সূরা মায়িদাহ: ২]
▬▬▬▬◈♡◈▬▬▬▬
সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ:
১. চেয়ারম্যান: আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আলে শেখ
২. সদস্য: সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
৩. সদস্য: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-গুদাইয়ান
৪. সদস্য: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ
[ফতোয়া নং ২১২০৩ তারিখ: ২৩-১১- ১৪২০ হি.]

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Saturday, February 10, 2024

মেয়েদের পায়ে নূপুর পরা জায়েজ কি

 উত্তর: ইসলামে নারীদের সাজসজ্জা এবং অলংকার পরার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ইসলাম নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে তা করতে হবে। যেমন: পর পুরুষের সামনে সাজসজ্জা, অলংকারাদি, শরীর বা পোশাকের সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে না এবং এতে শরিয়া বিরোধী বা হারাম এর মিশ্রণ থাকা চলবে না। সুতরাং একজন মুসলিম নারী পায়ের নূপুর পরিধান করতে পারে‌। তবে শর্ত হল, তাতে বাজনা থাকা যাবে না এবং তা পর পুরুষদের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

ولا يَضْرِبْنَ بأرجُلِهِنّ لِيُعْلَمَ ما يُخْفِين من زِينَتِهِنّ
“আর তাদের পা দিয়ে যেন তারা আঘাত না করে যাতে তাদের অলংকারের যা লুকিয়ে আছে তা জানানো যায়।” [সূরা নূর এর ৩১ নং আয়াত] তবে স্বামী, মাহরাম পুরুষ অথবা মহিলা অঙ্গনে; পরলে তাতে কোন সমস্যা নেই।

◍ বাজনাদার নূপুর পড়া বৈধ নয়:

🔰 একদিন মা আয়েশা রা. এর নিকট কোনও এক বালিকা বাজনাদার নূপুর পরে আসলে তিনি তাকে বললেন, “খবরদার! তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না।” অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” [সুনানে আবু দাউদ হাদিস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদিস : ৫২৩৭]

🔰 সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল,‌ শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।” [সহীহ মুসলিম হাদিস : ২১১৪] আল্লাহু আলাম
▬▬▬🔹♦🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ফরজ গোসলের বিধান

 প্রশ্ন: রাতে স্বপ্নদোষ হলে এই শীতের সকালে গোসল সম্ভব নয়। তাহলে এ ক্ষেত্রে নামাজ পড়তে চাইলে কী করা উচিত?

উত্তর: স্বপ্নদোষ হওয়া বড় নাপাকির অন্তর্ভুক্ত। এ থেকে পবিত্রতার জন্য গোসল করা ফরজ। সুতরাং এমনটি ঘটলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার সময় পানি গরম করে গোসল করতে হবে। কিন্তু যদি এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকেন যে, সেখানে পানি গরমের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের কারণে অসুস্থ হওয়ার কিংবা রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে তাহলে এক্ষেত্রে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ। কিন্তু পানি গরমের ব্যবস্থা থাকলে তায়াম্মুম করা জায়েজ হবে না।

◆ আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُم

“তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।” [সূরা তাগাবুন: ১৬]

◆ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

“আমি যদি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্য অনুসারে তা পালন করবে।” [সহিহ বুখারি]

◆ হাদিসে আরও এসেছে, প্রখ্যাত সাহাবী আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

احتَلمتُ في ليلةٍ باردةٍ في غزوةِ ذاتِ السُّلاسلِ فأشفَقتُ إنِ اغتَسَلتُ أن أَهْلِكَ فتيمَّمتُ، ثمَّ صلَّيتُ بأصحابي الصُّبحَ فذَكَروا ذلِكَ للنَّبيِّ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ فقالَ: يا عَمرو صلَّيتَ بأصحابِكَ وأنتَ جنُبٌ ؟ فأخبرتُهُ بالَّذي مَنعَني منَ الاغتِسالِ وقُلتُ إنِّي سَمِعْتُ اللَّهَ يقولُ:( وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ) فضحِكَ رسولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ ولم يَقُلْ شيئًا

“যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সময় এক প্রচণ্ড শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। আমার ভয় হল, আমি যদি গোসল করি তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই আমি তায়াম্মুম করে লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করলাম। পরে তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালে তিনি বললেন, “হে আমর, তুমি নাকি জুনুবি (নাপাক) অবস্থায় তোমার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করেছো?”
তখন আমি গোসল না করার কারণ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম এবং বললাম, আমি আল্লাহর এই বাণী শুনেছি, (আল্লাহ বলেছেন,)

وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا

“আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড়ই দয়াবান’’ (সূরা নিসা: ২৯)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না।” [আবু দাউদ-সহিহ]

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে তায়াম্মুম করার বৈধতা প্রমাণিত হয়।

❑ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,

إذا كان في محل لا يستطيع فيه تدفئة الماء وليس هناك كن يستكن به للغسل بالماء الدافي وخاف على نفسه فإنه يصلي بالتيمم
ولا حرج عليه

“যদি সে এমন জায়গায় থাকে যেখানে সে পানি গরম করতে পারে না এবং গরম পানি দিয়ে গোসল করার জন্য সেখানে এমন কোনো ঘর না থাকে যেখানে (ঠাণ্ডা থেকে) আত্মরক্ষা করবে এবং (ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারের কারণে) শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। এতে কোনও আপত্তি নেই।” [binbaz]

🔸উল্লেখ্য যে, এই বিধান স্বপ্নদোষের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী মিলন কিংবা জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাতের মাধ্যমে জুনুবি (নাপাক) হওয়ার ক্ষেত্রে, মহিলাদের ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়া ও প্রসূতি নারীর পবিত্রতার জন্য গোসলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate