ভালোবাসি ইসলাম ধর্ম

ইসলাম শান্তির ধর্ম

Pages

  • Home
  • কোরআন
  • হাদীস
  • ইসলামিক বই
  • ইসলাম সম্পর্কে জানুন
  • নবী (সাঃ) এর জীবনী
  • ইসলামিক জ্ঞান
  • চাকরির জন্য পড়ুন
  • চাকরির জন্য পড়ুন
  • Best Islamic Site

Tuesday, June 13, 2023

কুরআনের কয়েকটি বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফজীলত

 শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

বাজারে প্রচলিত বিদ’আত ও ভুলে ভরা বই এ আমরা কুরআনের প্রত্যেকটি সূরার কোন না কোন ফজীলতের কথা পড়েছি। অথচ এগুলো অনেকাংশেই দুর্বল ও জাল হাদিসের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে কুরআনের যেসব সূরা ও আয়াতের কথা সহীহ হাদিসে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে, সে হাদিসগুলো একত্রে উপস্থাপন করা হল।
সূরা ফাতিহা

১) আবু সাইদ রাফে’ ইবনে মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন,

একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, “ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি যে আমাকে বললেন তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানি (অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত ) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে”। (সহীহুল বুখারি ৪৪৭৪)

সূরা ইখলাস
২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।
৩) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনি বললেন, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশের কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
৪) উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান”।(সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (মুসলিম ৮১২)
৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি। তিনি বললেন, ‘ এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’। (সহীহুল বুখারি ৭৭৪)

সূরা ফালাক ও সূরা নাস
৭) উকবাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা বললেন, ‘তুমি কি দেখনি, আজ রাতে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার আনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ক’ ও ‘কুল আউযু বিরাব্বিল নাস’। (মুসলিম ৮১৪)
৮) আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। (তিরমিজী ২০৫৮)
সূরা মূলক
৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূ দাউদ ১৪০০)
সূরা বাক্বারা
১০) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, একদা জিবরাইল (আঃ) নবী(সাঃ)-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা আবতির্ন হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে,ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্কারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্যে হতে যে বর্নটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।’’ (মুসলিম ৮০৬)
১১) আবূ মাসাঊদ বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সেই দু’টি যথেষ্ট হবে’।(সহীহুল বুখারি ৪০০৮)
বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।
১২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা নিজিদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্কারা পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে’। (মুসলিম ৭৮০)
(অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ ক’রে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়)।
আয়াতুল কুরসী পড়ার ফযীলত
১৩) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান,মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরাআন) এর ভিতর তমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?’ আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী’। সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপর মেরে বললেন, ‘আবুল মুনযির! তমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক’। (মুসলিম ৮১০)
(অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বর্কতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।)
১৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে রমযানের জাকাত(ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ ( আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে আবেদন করল,আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুন অভাব’; কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট হাযির হলাম); রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আনুরুপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পুর্ববৎ) এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে বলল, ‘আমি অভাবী,পরিবারের দায়ত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না’;সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেরে দিলাম।
সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ‘‘আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তানের-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে)আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম ‘‘এবারে তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর দরবারে হাযির করবই’; এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার । ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস’’; সে বলল ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন’; আমি বললাম ‘সেগুলি কী?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানাই যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ ক’রে (ঘুমাবে); তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’।
সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম); তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তোমার বন্দী কী আচারন করেছে?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে বলল, ‘‘ আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন’’; বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’; তিনি বললেন ‘‘সে শব্দগুলি কী?’’ আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, ‘‘যখন তুমি বিছানাই (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে’’;সে আমাকে আর বলল, “তার কারনে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’’।
(এ কথা শুনে) তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘শোনো ! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?’’ আমি বললাম, ‘জী না’; তিনি বললেন, ‘‘সে ছিল শয়তান’’। (সহীহুল বুখারী ২৩১১)
সূরা কাহফ
১৫) আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্ত করবে,সে দাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ৮০৯)
at June 13, 2023 No comments:
Email ThisBlogThis!Share to XShare to FacebookShare to Pinterest

বিপদে ধৈর্যধারণ : দশটি উপদেশ

 বিপদে ধৈর্যধারণ : দশটি উপদেশ কে আছে এমন, যে পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জন কিংবা কোন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে শোকাহত হয়নি, চক্ষুদ্বয় অশ্রু বিসর্জন করেনি; ভর দুপুরেও গোটা পৃথিবী ঝাপসা হয়ে আসেনি; সুদীর্ঘ, সুপ্রশস্ত পথ সরু ও সংকীর্ণ হয়ে যায়নি; ভরা যৌবন সত্ত্বেও সুস্থ দেহ নিশ্চল হয়ে পড়েনি; অনিচ্ছা সত্ত্বেও অপ্রতিরোধ্য ক্রন্দন ধ্বনি তুলতে তুলতে গলা শুকিয়ে আসেনি; অবিশ্বাস সত্ত্বেও মর্মন্তুদ কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হয়নি; এই বুঝি চলে গেল, চির দিনের জন্য; আর কোন দিন ফিরে আসবে না; কোন দিন তার সাথে দেখা হবে না; শত আফসোস ঠিকরে পড়ে, কেন তাকে কষ্ট দিয়েছি; কেন তার বাসনা পূর্ণ করিনি;

কেন তার সাথে রাগ করেছি; কেন তার থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। আরো কত ভয়াবহ স্মৃতির তাড়না তাড়িয়ে বেড়ায়, শোকাতুর করে, কাঁদায়। কত ভর্ৎসনা থেমে থেমে হৃদয়ে অস্বস্তির জন্ম দেয়, কম্পনের সূচনা করে অন্তরাত্মায়। পুনঃপুন একই অভিব্যক্তি আন্দোলিত হয়- মুখের ভাষা যা ব্যক্ত করতে অক্ষম। হাতের কলম যা লিখতে অপারগ।
হ্যাঁ, এ কঠিনতম মুহূর্ত, হতাশাময় পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে শক্তি, সাহস ও সুদৃঢ় মনোবল উপহার দেয়ার মানসে আমাদের এ প্রয়াস। আমরা মুসলমান। আমাদের মনোনীত রব আল্লাহ। আমাদের পছন্দনীয় ধর্ম ইসলাম। আমাদের একমাত্র আদর্শ মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারাই আত্মতৃপ্তি লাভের যোগ্যপাত্র। পক্ষান্তরে কাফেরদের জীবন সংকীর্ণ, তারা হতাশাগ্রস্ত, তারা এ তৃপ্তি লাভের অনুপোযুক্ত। কারণ, আল্লাহ মোমিনদের অভিভাবক, কাফেরদের কোনো অভিভাবক নেই।বিশ্ব নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পার্থিব জগতে মোমিনদের অবস্থার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি বলেন :مثل المؤمن كمثل الزرع لا تزال الريح تميله، ولا يزال المؤمن يصيبه البلاء، ومثل المنافق كمثل شجرة الأرز لاتهتز حتى تستحصد. (صحيح مسلم:৫০২৪)“একজন মোমিনের উদাহরণ একটি শস্যের মত, থেকে থেকে বাতাস তাকে দোলায়। তদ্রূপ একের পর এক মুসিবত অবিরাম অস্থির করে রাখে মোমিনকে। পক্ষান্তরে একজন মুনাফেকের উদাহরণ একটি দেবদারু বৃক্ষের ন্যায়, দুলে না, কাত হয়েও পড়ে না, যাবৎ-না শিকড় থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা হয় তাকে।”[১]আবু হুরায়রা রা.-র সূত্রে বর্ণিত আরেকটি উদাহরণে আছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :مثل المؤمن كمثل خامة الزرع يفيء ورقه من حيث أتتها الريح تكفؤها، فإذا سكنت اعتدلت، وكذلك المؤمن يكفآ بالبلاء، ومثل الكافر كمثل الأرزة صمعاء معتدلة حتى يقصمها الله إذا شاء. (صحيح البخاري : ৬৯১২)“ইমানদার ব্যক্তির উদাহরণ শস্যের নরম ডগার ন্যায়, বাতাস যে দিকেই বয়ে চলে, সেদিকেই তার পত্র-পল্লব ঝুঁকে পড়ে। বাতাস যখন থেমে যায়, সেও স্থির হয়ে দাঁড়ায়। ইমানদারগণ বালা-মুসিবত দ্বারা এভাবেই পরীক্ষিত হন। কাফেরদের উদাহরণ দেবদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষের ন্যায়, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তা মূলসহ উপড়ে ফেলেন।”[২] শস্যের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে। তার সাথে একাকার হয়ে যায়। যদিও বাতাস শস্যকে এদিক-সেদিক দোলায়মান রাখে। কিন্তু ছুঁড়ে মারতে, টুকরা করতে বা নীচে ফেলে দিতে পারে না। তদ্রুপ মুসিবত যদিও মোমিনকে ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত ও চিন্তামগ্ন রাখে, কিন্তু সে তাকে হতবিহ্বল, নিরাশ কিংবা পরাস্ত করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাকে প্রেরণা দেয়, তার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে, সর্বোপরি তাকে হেফাজত করে।এ পার্থিব জগৎ দুঃখ-বেদনা, দুর্যোগ-দুর্ঘটনা, সংহার ও জীবন নাশকতায় পরিপূর্ণ। এক সময় প্রিয়জনকে পাওয়ার আনন্দ হয়, আরেক সময় তাকে হারানোর দুঃখ। এক সময় সুস্থ, সচ্ছল, নিরাপদ জীবন, আরেক সময় অসুস্থ, অভাবী ও অনিরাপদ জীবন। মুহূর্তে জীবনের পট পালটে যায়, ভবিষ্যৎ কল্পনার প্রাসাদ দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে মিশে যায়। অথবা এমন সংকট ও কর্মশূন্যতা দেখা দেয়, যার সামনে সমস্ত বাসনা নিঃশেষ হয়ে যায়। শেষ হয়ে যায় সব উৎসাহ-উদ্দীপনা।কারণ এ দুনিয়ায় নেয়ামত-মুসিবত, হর্ষ-বিষাদ, হতাশা-প্রত্যাশা সব কিছুর অবস্থান পাশাপাশি। ফলে কোন এক অবস্থার স্থিরতা অসম্ভব। পরিচ্ছন্নতার অনুচর পঙ্কিলতা, সুখের সঙ্গী দুঃখ। হর্ষ-উৎফুল্ল ব্যক্তির ক্রন্দন করা, সচ্ছল ব্যক্তির অভাবগ্রস্ত হওয়া এবং সুখী ব্যক্তির দুঃখিত হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।এ হলো দুনিয়া ও তার অবস্থা। প্রকৃত মোমিনের এতে ধৈর্যধারণ বৈ উপায় নেই। বরং এতেই রয়েছে দুনিয়ার উত্থান-পতনের নিরাময় তথা উত্তম প্রতিষেধক। হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন :جربنا وجرب المجربون فلم نر شيئا أنفع من الصبر، به تداوى الأمور، وهو لا يداوى بغيره.“আমাদের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানীদেরও অভিজ্ঞতা, ধৈর্যের চেয়ে মূল্যবান বস্তু আর পায়নি। ধৈর্যের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যায়, তবে তার সমাধান সে নিজেই।” অর্থাৎ প্রত্যেক জিনিসের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন, আবার ধৈর্যের জন্যও ধৈর্য প্রয়োজন। হাদিসে এসেছে :وما أعطي أحدا عطاء خيرا وأوسع من الصبر. ( البخاري :১৩৭৬، و مسلم : ১৭৪৫)“ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপকতর কল্যাণ কাউকে প্রদান করা হয়নি।”[৩]অন্যত্র এরশাদ হয়েছে :إن أصابته سراء شكر فكان خيراله، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيرا له. (مسلم : ৫৩১৮)“মোমিনের ব্যাপারটি চমৎকার, নেয়ামত অর্জিত হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তার জন্য মঙ্গলজনক এতে কৃতজ্ঞতার সওয়াব অর্জিত হয়। মুসিবতে পতিত হলে ধৈর্যধারণ করে, তাও তার জন্য কল্যাণকর এতে ধৈর্যের সওয়াব লাভ হয়।”[৪]আল্লাহ তাআলা আমাদের ধৈর্য্যধারণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে তার সাহায্য ও সান্নিধ্য লাভের উপায় ঘোষণা করেছেন। এরশাদ হচ্ছে :يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿البقرة:১৫৩﴾“হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।”[৫]আরো বিষেশভাবে জানিয়ে দিয়েছেন পার্থিব জীবন একটি পরীক্ষাগার, আমি তোমাদেরকে ভয়-ভীতি, ক্ষুধা-দারিদ্র, ধন-সম্পদ, জনবল ও ফল-মূলের সল্পতার মাধ্যমে পরীক্ষা করব। হে রাসূল! আপনি ধৈর্য্যশীলদের সুসংবাদ দিন। এরশাদ হচ্ছে :وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ. الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ. أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ ﴿البقرة:১৫৫-১৫৭﴾“আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।”[৬]বস্তত নিজ দায়িত্বে আত্মোনিয়োগ, মনোবল অক্ষুণ্ন ও কর্ম চঞ্চলতার জন্য ধৈর্য অপরিহার্য। কেউ সাফল্য বিচ্যুত হলে, বুঝতে হবে ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার অভাব রয়েছে তার মধ্যে। কারণ ধৈর্য্যের মতো শক্তিশালী চাবির মাধ্যমে সাফল্যের সমস্ত বদ্ধ কপাট উম্মুক্ত হয়। পাহাড়সম বাধার সম্মুখেও কর্মমুখরতা চলমান থাকে।মানব জাতির জীবন প্রবাহের পদে পদে ধৈর্যের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য বিধায় এ নিবন্ধের সূচনা। কেন ধৈর্যধারণ করব? কী তার ফল? কীভাবে ধৈর্যধারণ করব? কী তার পদ্ধতি? ইত্যাদি বিষয়ের উপর দশটি উপদেশ উল্লেখ করব। যা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর বিশেষ উপকারে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। মুসিবত আর প্রতিকূলতায় নিত্যদিনের মত স্বাভাবিক জীবন উপহার দিবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে সাফল্যমণ্ডিত জীবন লাভে।
 ১. যে কোন পরিস্থিতি মেনে নেয়ার মানসিকতা লালন করা:
প্রত্যেকের প্রয়োজন মুসিবত আসার পূর্বেই নিজকে মুসিবত সহনীয় করে তোলা, অনুশীলন করা ও নিজেকে শোধরে নেয়া। কারণ ধৈর্য কষ্টসাধ্য জিনিস, যার জন্য পরিশ্রম অপরিহার্য।স্মর্তব্য যে, দুনিয়া অনিত্য, ভঙ্গুর ও ক্ষণস্থায়ী। এতে কোনো প্রাণীর স্থায়িত্ব বলে কিছু নেই। আছে শুধু ক্ষয়িষ্ণু এক মেয়াদ, সিমীত সামর্থ। এ ছাড়া আর কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পার্থিব জীবনের উদাহরণে বলেন :كراكب سار في يوم صائف، فاستظل تحت شجرة ساعة من نهار، ثم راح وتركها. (مسند الإمام أحمد، من حديث عبد الله بن عباس، رقم : ২৭৪৪)“পার্থিব জীবন ঐ পথিকের ন্যায়, যে গ্রীষ্মে রৌদ্রজ্জ্বল তাপদগ্ধ দিনে যাত্রা আরম্ভ করল, অতঃপর দিনের ক্লান্তময় কিছু সময় একটি গাছের নীচে বিশ্রাম নিল, ক্ষণিক পরেই তা ত্যাগ করে পুনরায় যাত্রা আরম্ভ করল।”[৭]হে মুসলিম! দুনিয়ার সচ্ছলতার দ্বারা ধোঁকা খেওনা, মনে করো না, দুনিয়া স্বীয় অবস্থায় আবহমানকাল বিদ্যমান থাকবে কিংবা পট পরিবর্তন বা উত্থান-পতন থেকে নিরাপদ রবে। অবশ্য যে দুনিয়াকে চিনেছে, এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে, তার নিকট দুনিয়ার সচ্ছলতা মূল্যহীন।জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, “যে দুনিয়া থেকে সতর্ক থেকেছে ভবিষ্যত জীবনে সে অস্থির হয়নি। যে অনুশীলন করেছে পরবর্তীতে তার পদস্খলন ঘটেনি। যে অবর্তমানে অপেক্ষমাণ ছিল বর্তমানে সে দুঃখিত হয়নি।” মুদ্দা কথা, যে পার্থিব জগতে দীর্ঘজীবি হতে চায়, তার প্রয়োজন মুসিবতের জন্য ধৈর্য্যশীল এক হৃদয়। 

২. তাকদিরের উপর ঈমান:
যে ব্যক্তি মনে করবে তাকদির অপরিহার্য বাস্তবতা এবং তা অপরিবর্তনীয়। পক্ষান্তরে দুনিয়া সংকটময় ও পরিবর্তনশীল, তার আত্মা প্রশান্তি লাভ করবে। দুনিয়ার উত্থান-পতন সুখ-দুঃখ স্বাভাবিক ও নগন্য মনে হবে তার কাছে। আমরা দেখতে পাই, তাকদিরে বিশ্বাসী মুমিনগণ পার্থিব মুসিবতে সবচে’ কম প্রতিক্রিয়াশীল, কম অস্থির ও কম হতাশাগ্রস্ত হন। বলা যায় তাকদিরের প্রতি ঈমান শান্তি ও নিরাপত্তার ঠিকানা। তাকদির-ই আল্লাহর কুদরতে মোমিনদের হৃদয়-আত্মা নৈরাশ্য ও হতাশা মুক্ত রাখে। তদুপরি চিরসত্যবাদী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বিশ্বাস তো আছেই :واعلم أن الأمة لواجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك بشيء إلا قد كتبه الله لك، ولو اجتمعت على أن يضروك بشيء لم يضروك بشيء إلا قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام، وجفت الصحف. (سنن الترمذي : ২৪৪০)“জেনে রেখ, সমস্ত মানুষ জড়ো হয়ে যদি তোমার উপকার করতে চায়, কোনও উপকার করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার তারা সকলে মিলে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, তবে যততুটু আল্লাহ তোমার কপালে লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কিতাব শুকিয়ে গেছে।”[৮] আমাদের আরো বিশ্বাস, মানুষের হায়াত, রিযিক তার মায়ের উদর থেকেই নির্দিষ্ট। আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :وكل الله بالرحم ملكا، فيقول: أي رب نطفة؟ أي رب علقة؟ أي رب مضغة؟ فإذا أراد الله أن يقضي خلقها، قال : أي رب أذكر أم أنثى؟ أشقي أم سعيد؟ فما الرزق؟ فما الأجل؟ فيكتب كذلك في بطن أمه. (البخاري : ৬১০৬، ومسلم : ৪৭৮৫)“আল্লাহ তাআলা গর্ভাশয়ে একজন ফেরেস্তা নিযুক্ত করে রেখেছেন, পর্যায়ক্রমে সে বলতে থাকে, হে প্রভু জমাট রক্ত, হে প্রভু মাংস পিণ্ড। যখন আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, ফেরেস্তা তখন বলে, হে প্রভু পুঃলিঙ্গ না স্ত্রী লিঙ্গ? ভাগ্যবান না হতভাগা? রিযিক কতটুকু? হায়াত কতটুকু? উত্তর অনুযায়ী পূর্ণ বিবরণ মায়ের পেটেই লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়।”[৯]একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী উম্মে হাবিবা রাদিআল্লাহু আনহা মুনাজাতে বলেন, “হে আল্লাহ! আমার স্বামী রসূল, আমার পিতা আবু সুফিয়ান এবং আমার ভাই মুয়াবিয়ার দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :قد سألت الله لآجال مضروبة، وأيام معدودة، وأرزاق مقسومة، لن يعجل الله قبل حله، أو يؤخر شيئا عن حله، ولو كنت سألت الله أن يعيذك من عذاب في النار، أو عذاب في القبر، كان خيرا وأفضل. (مسلم : ৪৮১৪)“তুমি নির্ধারিত হায়াত, নির্দিষ্ট কিছু দিন ও বণ্টনকৃত রিযিকের প্রাথর্না করেছ। যাতে আল্লাহ তাআলা আগ-পাছ কিংবা কম-বেশী করবেন না। এরচে’ বরং তুমি যদি জাহান্নামের আগুন ও কবরের আযাব থেকে নাজাত প্রার্থনা করতে, তাহলে তোমার জন্য কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক হত।”[১০]ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হাদীসের বক্তব্যে সুষ্পষ্ট, মানুষের হায়াত, রিযিক আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত, তার অবিনশ্বর জ্ঞান অনুযায়ী লিপিবদ্ধ এবং হ্রাস-বৃদ্ধিহীন ও অপরিবর্তনীয়।”[১১]ইবনে দায়লামী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উবাই ইবনে কাব রাদিআল্লাহু আনহুর নিকট আসেন এবং বলেন, আমার অন্তরে তাকদির সম্পর্কে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আমাকে কিছু বর্ণনা করে শোনান। হতে পারে আল্লাহ আমার অন্তর থেকে তা দূর করে দিবেন। তিনি বলেন, আল্লাহ আসমান এবং জমিনবাসীদের শাস্তি দিলে, জালেম হিসেবে গণ্য হবেন না। আর তিনি তাদের সকলের উপর রহম করলে, তার রহম-ই তাদের আমলের তুলনায় বেশী হবে। তাকদিরের প্রতি ঈমান ব্যতীত ওহুদ পরিমান স্বর্ণ দান করলেও কবুল হবে না। স্মরণ রেখ, যা তোমার হস্তগত হওয়ার তা কোনভাবেই হস্তচ্যুত হওয়ার সাধ্য রাখে না। এতদ্ভিন্ন অন্য আকিদা নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে জাহান্নাম অবধারিত। তিনি বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর কাছে আসি। তিনিও তদ্রূপ শোনালেন। হুযাইফাতুল য়ামান এর কাছে আসি, তিনিও তদ্রুপ বললেন। যায়েদ বিন ছাবেত এর কাছে আসি, তিনিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করে শোনালেন।”[১২] 

৩. রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আদর্শ পূর্বসূরীদের জীবন চরিত পর্যালোচনা:
পরকালে বিশ্বাসী আল্লাহ ভীরু গোটা মুসলিম জাতির আদর্শ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তাআলা বলেন :لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴿الأحزاب:২১﴾“অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।”[১৩]রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত চিন্তাশীল, গবেষকদের উপজীব্য ও শান্তনার বস্তু। তার পূর্ণ জীবনটাই ধৈর্য ও ত্যাগের দীপ্ত উপমা। লক্ষ্য করুন, সল্প সময়ে মধ্যে চাচা আবু তালিব, যিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কাফেরদের অত্যাচার প্রতিহত করতেন; একমাত্র বিশ্বস্ত সহধর্মিনী খাদিজা; কয়েকজন ঔরসজাত মেয়ে এবং ছেলে ইব্রাহিম ইন্তেকাল করেন। চক্ষুযুগল অশ্রসিক্ত, হৃদয় ভারাক্রান্ত, স্মায়ুতন্ত্র ও অস্থিমজ্জা নিশ্চল নির্বাক। এর পরেও প্রভুর ভক্তিমাখা উক্তি :إن العين تدمع، والقلب يحزن، ولانقول إلا ما يرضى ربنا، وإنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون. ( البخاري : ১৩০৩)“চোখ অশ্রুসিক্ত, অন্তর ব্যথিত, তবুও তা-ই মুখে উচ্চারণ করব, যাতে প্রভু সন্তুষ্ট, হে ইব্রাহিম! তোমার বিরহে আমরা গভীর মর্মাহত।”[১৪] আরো অনেক আত্মোৎর্সগকারী সাহাবায়ে কেরাম মারা যান, যাদের তিনি ভালবাতেন, যারা তার জন্য উৎসর্গ ছিলেন। এত সব দুঃখ-বেদনা তার শক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ধৈর্য-অভিপ্রায়গুলো ম্লান করতে পারেনি।তদ্রুপ যে আদর্শবান পূর্বসুরীগণের জীবন চরিত পর্যালোচনা করবে, তাদের কর্মকুশলতায় অবগাহন করবে, সে সহসাই অবলোকন করবে, তারা বিবিধ কল্যাণ ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী একমাত্র ধৈর্য্যের সিঁড়ি বেয়েই হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيهِمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ. ﴿الممتحنة:৬﴾“নিশ্চয় তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে[১৫] উত্তম আদর্শ রয়েছে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রত্যাশা করে, আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত।”[১৬]উরওয়া ইবনে জুবায়েরের ঘটনা, আল্লাহ তাআলা তাকে এক জায়গাতে, এক সাথে দুটি মুসিবত দিয়েছেন। পা কাটা এবং সন্তানের মৃত্যু। তা সত্ত্বেও তিনি শুধু এতটুকু বলেছেন, “হে আল্লাহ! আমার সাতটি ছেলে ছিল, একটি নিয়েছেন, ছয়টি অবশিষ্ট রেখেছেন। চারটি অঙ্গ ছিল একটি নিয়েছেন, তিনটি নিরাপদ রেখেছেন। মুসিবত দিয়েছেন, নেয়ামতও প্রদান করেছেন। দিয়েছেন আপনি, নিয়েছেনও আপনি।”[১৭]উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এর একজন ছেলের ইন্তেকাল হয়। তিনি তার দাফন সেরে কবরের পাশে সোজা দাঁড়িয়ে, লোকজন চারপাশ দিয়ে তাকে ঘিরে আছে, তিনি বলেন, “হে বৎস! তোমার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন। অবশ্যই তুমি তোমার পিতার অনুগত ছিলে। আল্লাহর শপথ! যখন থেকে আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন, আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্টই ছিলাম। তবে আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমাকে এখানে অর্থাৎ আল্লাহর নির্ধারিত স্থান কবরে দাফন করে আগেরচে’ বেশি আনন্দিত। আল্লাহর কাছে তোমার বিনিময়ে আমি অধিক প্রতিদানের আশাবাদী। 

৪. আল্লাহর রহমতের প্রসস্ততা ও করুণার ব্যাপকতার স্মরণ:
সত্যিকার মুমিন আপন প্রভুর প্রতি সুধারণা পোষণ করে। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ তাআলা বলেন :أنأ عند ظن عبدي بي. (البخاري : ৬৭৫৬، ومسلم : ৪৮২২)“আমার ব্যাপারে আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী, আমি ব্যবহার করি।”[১৮]মুসিবত দৃশ্যত অসহ্য-কষ্টদায়ক হলেও পশ্চাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। তাই বান্দার কর্তব্য আল্লাহর সুপ্রসস্ত রহমতের উপর আস্থাবান থাকা।এরশাদ হচ্ছে :وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿البقرة:২১৬﴾“এবং হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।”[১৯]রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :عجبا للمؤمن، لايقضي الله له شيئا إلا كان خيرا له. (المسند من حديث أنس بن مالك : ২০২৮৩)“মোমিনের বিষয়টি চমৎকার, আল্লাহ তাআলা যা ফয়সালা করেন, তা-ই তার জন্য কল্যাণকর।”[২০]আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে যে সমস্ত নেয়ামত ও অনুদান দ্বারা আবৃত করেছেন, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা, যাতে এ অনুভূতির উদয় হয় যে, বর্তমান মুসিবত বিদ্যমান নেয়ামতের তুলনায় বিন্দুমাত্র। আল্লাহ তাআলা চাইলে মুসিবত আরো বীভৎস-কঠোর হতে পারত। তদুপরি আল্লাহ তাআলা আরো যে সমস্ত বালা মুসিবত থেকে নিরাপদ রেখেছেন, যে সকল দুর্ঘটনা থেকে নাজাত দিয়েছেন, তা অনেক বড়, অনেক বেশী।খিজির ও মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় উল্লেখিত বালকটিকে, খিজির হত্যা করেন, প্রথমে মূসা আলাইহিস সালাম আপত্তি জানান, খিজিরের অবহিত করণের দ্বারা জানতে পারেন, তার হত্যায় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এরশাদ হচ্ছে :وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا. فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا ﴿الكهف:৮০-৮১﴾“আর বালকটির বিষয় হল, তার পিতা-মাতা ছিল মুমিন। অতঃপর আমি আশংকা[২১] করলাম যে, সে সীমালংঘন ও কুফরী দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।”[২২] এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :إن الغلام الذي قتله الخضر طبع كافرا، ولو عاش لأرهق أبويه طغيانا وكفرا. (مسلم : ৪৮১১)“খিজির আলাইহিস সালাম যে ছেলেটিকে হত্যা করেছেন, তার জন্মই ছিল কাফের অবস্থায়, যদি সে বেঁচে থাকত সীমালঙ্ঘন ও অকৃতজ্ঞতা দ্বারা নিজ পিতা-মাতাকে হত্যা করত।”[২৩] কাতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন : তার জন্ম লাভে পিতা-মাতা উভয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছে, তার মৃত্যুতে উভয়ে তেমন ব্যথিত হয়েছে। অথচ সে বেঁচে থাকলে, উভয়ের ধ্বংসের কারণ হত। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকা। 

৫. অধিকতর বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেখা:
অন্যান্য বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেখা, তাদের মুসিবতে স্মরণ করা। বরং অধিকতর বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দিকে নজর দেয়া। এতে সান্ত্বনা লাভ হয়, দুঃখ দূর হয়, মুসিবত হয় সহনীয়। হ্রাস পায় অস্থিরতা ও নৈরাশ্যতা। জেনে রাখা ভাল, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :من يتصبر يصبره الله. (البخاري : ১৩৭৬)“ধৈর্য অসম্ভব বা অসাধ্য কিছু নয়, যে র্ধৈয্যধারণ করে আল্লাহ তাকে ধৈর্য্যধারণের ক্ষমতা দান করেন।”[২৪]বিকলাঙ্গ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, তার চেয়ে কঠিন বিপদগ্রস্তকে দেখবে। একজনের বিরহ বেদানায় ব্যথিত ব্যক্তি, দুই বা ততোধিক বিরহে ব্যথিত ব্যক্তিকে দেখবে। এক সস্তানহারা ব্যক্তি, অধিক সন্তানহারা ব্যক্তিকে দেখবে। সব সন্তানহারা ব্যক্তি, পরিবারহারা ব্যক্তিকে দেখবে।এক ছেলের মৃত্যু শোকে শোকাহত দম্পত্তি স্মরণ করবে নিরুদ্দেশ সন্তান শোকে কাতর দম্পত্তিকে- যারা স্বীয় সন্তান সর্ম্পকে কিছুই জানে না যে, জীবিত না মৃত। ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ইউসুফ আ.-কে হারিয়ে অনেক বছর যাবৎ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে রাখেন। বৃদ্ধ ও দুর্বল হওয়ার পর আবার দ্বিতীয় সন্তান হারান। প্রথম সন্তান হারিয়ে বলেছিলেন :فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ ﴿يوسف:১৮﴾“সুতরাং (আমার করণীয় হচ্ছে) সুন্দর ধৈর্য। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে আল্লাহই সাহায্যস্থল।”[২৫]দ্বিতীয় সন্তান হারিয়ে বলেন :فَصَبْرٌ جَمِيلٌ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَنِي بِهِمْ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿يوسف:৮৩﴾“সে বলল, ‘বরং তোমাদের নাফ্‌স তোমাদের জন্য একটি গল্প সাজিয়েছে, সুতরাং (আমার করণীয় হচ্ছে) সুন্দর ধৈর্য। আশা করি, আল্লাহ তাদের সকলকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবেন, নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”[২৬]ওলিদ ইবনে আব্দুল মালেক এর নিকট চোখ ঝলসানো, বিকৃত চেহারার একজন লোক এসে উপস্থিত হয়। তিনি তার অবস্থা আপাদ-মস্তক পর্যবেক্ষণ করলেন। কিন্তু তার ভেতর অস্থিরতার কোনও আলামত পেলেন না। অতঃপর তার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সে বলল : “আমি অনেক সম্পদ, সন্তানের মালিক ছিলাম, একদা আমরা একটি ময়দানে রাত যাপন করি। অকস্মাৎ বিশাল এক মরুঝড় আমাদের আক্রমণ করে বসে। একটা উট, একজন সন্তান ছাড়া সব নিয়ে যায় সে। অবশেষে উটটিও পালিয়ে যেতে লাগল। সন্তানটি আমার কাছে, আমি সন্তান রেখে উট ধরতে গেলাম। সন্তানের কাছে ফিরে এসে দেখি, নেকড়ে বাঘ তার পেটে মাথা ঠুকে আছে, বাকি অংশ সাবাড়। তাকে রেখে উটের পিছু নেই, সে প্রচন্ড এক লাথি মারে, যদ্দরুণ আমার চেহারা বিকৃত হয়ে যায়, সাথে সাথে দৃষ্টিও চলে যায় চোখের। অবশেষে আমি সম্পদ, সন্তান এবং দৃষ্টি শক্তিহীন এ দুনিয়াতে নিঃসঙ্গ বেঁচে রইলাম। ওলিদ বললেন, তাকে উরওয়ার কাছে নিয়ে যাও; সে যাতে বুঝে, তার চে’ অধিক বিপদগ্রস্ত লোকও এ পৃথিবীতে বিদ্যমান আছে। 

৬. মুসিবত পুণ্যবাণ হওয়ার আলামত:
মুসিবত পুণ্যবাণ হওয়ার আলামত, মহত্বের প্রমাণ। এটাই বাস্তবতা। একদা সাহাবী সাদ বিন ওয়াক্কাস রা. রসূল সা.কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রসূল, দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত কে? উত্তরে তিনি বলেন :الأنبياء ثم الأمثل، فالأمثل، فيبتلى الرجل على حسب دينه، فإن كان دينه صلبا اشتد بلاؤه، وإن كان في دينه رقة ابتلي على حسب دينه، فما يبرح البلاء بالعبد حتى يتركه يمشي على الأرض ما عليه خطيئة. (الترمذي : ২৩২২)“নবীগণ, অতঃপর যারা তাদের সাথে কাজ-কর্ম-বিশ্বাসে সামঞ্জস্যতা রাখে, অতঃপর যারা তাদের অনুসারীদের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। দ্বীনি অবস্থান পাকাপোক্ত হলে পরীক্ষা কঠিন হয়। দ্বীনি অবস্থান দুর্বল হলে পরীক্ষাও শিথিল হয়। মুসিবত মুমিন ব্যক্তিকে পাপশূন্য করে দেয়, এক সময়ে দুনিয়াতে সে নিষ্পাপ বিচরণ করতে থাকে।”[২৭] রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :من يرد الله به خيرا يصب منه. (البخاري : ৫২১৩، ومسلم : ৭৭৮)“আল্লাহ যার সাথে কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তার থেকে বাহ্যিক সুখ ছিনিয়ে নেন।”[২৮]তিনি আরো বলেন :وإن الله إذا أحب قوما ابتلاهم. ( الترمذي : ২৩২০، ابن ماجه : ৪০২১)“আল্লাহ তাআলা যখন কোন সম্প্রদায়কে পছন্দ করেন, তখন তাদেরকে বিপদ দেন ও পরীক্ষা করেন।”[২৯] 

৭. মুসিবতের বিনিময়ে উত্তম প্রতিদানের কথা স্মরণ:
মোমিনের কর্তব্য বিপদের মুহূর্তে প্রতিদানের কথা স্মরণ করা। এতে মুসিবত সহনীয় হয়। কারণ কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী সওয়াব অর্জিত হয়। সুখের বিনিময়ে সুখ অর্জন করা যায় না- সাধনার ব্রিজ পার হতে হয়। প্রত্যেককেই পরবর্তী ফলের জন্য নগদ শ্রম দিতে হয়। ইহকালের কষ্টের সিঁড়ি পার হয়ে পরকালের স্বাদ আস্বাদান করতে হয়। এরশাদ হচ্ছে :إن عظم الجزاء مع عظم البلاء. (الترمذي : ২৩২০)“কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করা হয়।”[৩০]একদা হজরত আবু বকর রা. ভীত-ত্রস্ত হালতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কীভাবে অন্তরে স্বস্তি আসে?لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿النساء:১২৩﴾“না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।”[৩১]রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :غفرالله لك يا أبا بكر! ألست تمرض؟ ألست تنصب؟ ألست تحزن؟ ألست تصيبك اللأواء؟“হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি বিষণ্ন্ন হও না? মুসিবত তোমাকে কি পিষ্ট করে না? উত্তর দিলেন, অবশ্যই। বললেন :فهو ما تجزون به. (المسند : من حديث أبي بكر : ৬৮)“এগুলোই তোমাদের অপরাধের কাফফারা-প্রায়শ্চিত্ত।”[৩২]আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীল বিপদগ্রস্তদের জন্য উত্তম প্রতিদান তৈরী করেছেন, বালা-মুসিবতগুলো গুনাহের কাফফারা ও উচ্চ মর্যাদার সোপান বানিয়েছেন। আরো রেখেছেন যথার্থ বিনিময় ও সন্তোষজনক ক্ষতিপূরণ।জান্নাতের চেয়ে বড় প্রতিদান আর কি হতে পারে! এ জান্নাতেরই ওয়াদা করা হয়েছে ধৈর্য্যশীলদের জন্য। যেমন মৃগী রোগী মহিলার জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে- ধৈর্য্যধারণের শর্তে। আতা বিন আবি রাবাহ বর্ণনা করেন, একদা ইবনে আব্বাস রা. আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতি মহিলা দেখাবো? আমি বললাম অবশ্যই। তিনি বললেন, এই কালো মহিলাটি জান্নাতি। ঘটনাটি এরূপ- একবার সে রসূল সা.-এর নিকট এসে বলে, হে আল্লাহর রসূল আমি মৃগী রোগী, রোগের দরুন ভূপাতিত হয়ে যাই, বিবস্ত্র হয়ে পরি। আমার জন্য দোয়া করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :إن شئت صبرت ولك الجنة، وإن شئت دعوت الله أن يعافيك. (البخاري : ৫২২০، ومسلم : ৪৬৭৩)“ইচ্ছে করলে ধৈর্যধারণ করতে পার, বিনিময়ে জান্নাত পাবে, আর বললে সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করে দেই।” সে বলল, আমি ধৈর্যধারণ করব। তবে আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যাতে বিবস্ত্র না হই। অতঃপর তিনি তার জন্য দোয়া করে দেন।”[৩৩]অনুরূপ জান্নাতের নিশ্চয়তা আছে দৃষ্টিহীন ব্যক্তির জন্য। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :إن الله قال : إذا ابتليت عبدي بحبيبتيه فصبر عوضته منهما الجنة. (البخاري : ৫২২১)“আল্লাহ তাআলা বলেছেন : আমি যখন আমার বান্দাকে দুটি প্রিয় বস্তু দ্বারা পরীক্ষা করি, আর সে ধৈর্যধারণ করে, বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করি।”[৩৪]আরো জান্নাতের ওয়াদা আছে, প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যুতে ধৈর্য্যধারণকারীর জন্য। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন :ما لعبدي المؤمن عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه إلا الجنة. (البخاري : ৫৯৪৪)“আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি যখন আমার মুমিন বান্দার অকৃত্রিম ভালোবাসার পাত্রকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই। এবং তাতে সে ধৈর্য্যধারণ করে, ছওয়াবের আশা রাখে, আমার কাছে তার বিনিময় জান্নাত বৈ কি হতে পারে?”[৩৫] অর্থাৎ নিশ্চিত জান্নাত।সন্তান হারাদেরও আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। কারণ তিনি বান্দার প্রতি দয়ালু, তার শোক-দুঃখ জানেন। যেমন: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তিন সন্তান দাফনকারী মহিলাকে। তিনি তাকে বলেন- “তুমি জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধকারী মজবুত ঢাল বেষ্টিত হয়ে গেছ।” ঘটনাটি নিম্নরূপ : সে একটি অসুস্থ বাচ্চা সাথে করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসে, এবং বলে হে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। ইতিপূর্বে আমি তিন জন সন্তান দাফন করেছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে নির্বাক : دفنت ثلاثة؟! “তিন জন দাফন করেছ!” সে বলল- হ্যাঁ। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন :لقد احتظرت بحظار شديد من النار. (مسلم : ৪৭৭০)“তুমি জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধকারী মজবুত প্রাচীর ঘেরা সংরক্ষিত দুর্গে প্রবেশ করেছ।”[৩৬]অন্য হাদীসে আছে :أيما مسلمين مضى لهما ثلاثة من أولادهما، لم يبلغوا حنثا كانوا لهما حصنا حصينا من النار.“সাবালকত্ব পাওয়ার আগে মৃত তিন সন্তান- তাদের মুসলিম পিতা-মাতার জন্য জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধকারী মজবুত ঢালে পরিনত হবে।”আবুযর রা. বলেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দু’জন মারা গেছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :واثنان، “দুজন মারা গেলেও।” উস্তাদুল কুররা আবুল মুনজির উবাই রা. বলেন : হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার একজন মারা গেছে, তিনি বললেন :وواحد، وذلك في الصدمة الأولى. (المسند من حديث عبد الله مسعود : ৪৩১৪)“একজন মারা গেলেও। তবে মুসিবতের শুরুতেই ধৈর্য্যধারণ করতে হবে।”[৩৭] মাহমুদ বিন লাবিদ জাবির রা. থেকে বর্ণনা করেন : আমি রসূল সা.-কে বলতে শুনেছি :من مات له ثلاثة من الولد فاحتسبهم دخل الجنة،“সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, যার তিনজন সন্তান মারা যায় এবং সে তাদের পূণ্য জ্ঞান করে।” তিনি বলেন : আমরা জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার দু’জন মারা যায়? বললেন :واثنان. (المسند من حديث جابر بن عبد الله : ১৪২৮৫)“দু’জন মারা গেলেও।” মাহমুদ বলেন : আমি জাবের রা.- কে বললাম, আমার মনে হয় আপনারা যদি একজনের কথা বলতেন, তাহলে তিনি একজনের ব্যাপারেও হাঁ বলতেন। তিনি সায় দিয়ে বলেন : আমিও তাই মনে করি।”[৩৮]শোক সন্তপ্ত পিতা-মাতার জন্য আরেকটি হাদিস। আশা করি এর দ্বারা সান্ত্বনা লাভ হবে, দুঃখ ঘুচে যাবে। এরশাদ হচ্ছে :إذا مات ولد العبد قال الله لملائكته: قبضتم ولد عبدي؟ فيقولون: نعم، فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده؟ فيقولون : نعم، فيقول : ماذا قال عبدي؟ فيقولون : حمدك واسترجع، فيقول الله : ابنوا لعبدي بيتا في الجنة، وسموه بيت الحمد. (الترمذي : ৯৪২)“যখন বান্দার কোন সন্তান মারা যায়, আল্লাহ তাআলা ফেরেস্তাদের বলেন : তোমরা আমার বান্দার সন্তান কেড়ে নিয়ে এসেছো? তারা বলে হ্যাঁ। তোমরা আমার বান্দার কলিজার টুকরো ছিনিয়ে এনেছো? তারা বলে হ্যাঁ। অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, আপনার প্রসংশা করেছে এবং বলেছে আমরা আল্লাহ তাআলার জন্য এবং তার কাছেই প্রত্যাবর্তন করব। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরী কর এবং তার নাম দাও বায়তুল হামদ্‌ বা প্রশংসার ঘর বলে।”[৩৯]উপরন্তু ওই অসম্পূর্ণ বাচ্চা, যা সৃষ্টির পূর্ণতা পাওয়ার আগেই মায়ের পেট থেকে ঝড়ে যায়, সেও তার মায়ের জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :والذي نفسي بيده إن السقط ليجر أمه بسرره إلى الجنة، إذا احتسبته. (ابن ماجه :১৫৯৮)“ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, অসম্পূর্ণ বাচ্চাও তার মাকে আচঁল ধরে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। যদি সে তাকে পূণ্য জ্ঞান করে থাকে।”[৪০]বিশুদ্ধ হাদীসে এ ধরনের বিপদাপদকে গুনাহের কাফফার বলা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে :ما من مسلم يصيبه أذى، شوكة فما فوقها إلا كفر الله بها سيئاته، كما تحط الشجرة ورقها. (البخاري : ৫২১৫،ومسلم : ৪৬৬৩)“যে কোন মুসলমান কাঁটা বা তারচে’ সামান্য বস্তুর দ্বারা কষ্ট পায়, আল্লাহ তার বিনিময়ে প্রচুর গুনাহ ঝড়ান- যেমন বৃক্ষ বিশেষ মৌসুমে স্বীয় পত্র-পল্লব ঝড়িয়ে থাকে।”[৪১]আরেকটি বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে :ما يصيب المسلم من نصب، ولا وصب، ولا هم، ولاحزن، ولا أذى، ولاغم, حتى الشوكة يشاكها إلا كفر الله بها من خطاياه. (البخاري : ৫২১০)“মুসলমানদের কষ্ট-ক্লেশ, চিন্তা-হতাশা আর দুঃখ-বিষাদ দ্বারা আল্লাহ গুনাহ মাফ করেন। এমনকি শরীরে যে কাঁটা বিঁধে তার বিনিময়েও আল্লাহ গুনাহ মাফ করেন।”[৪২]আরো এরশাদ হচ্ছে :ما يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة في نفسه وولده وماله، حتى يلقى الله وما عليه خطيئة. (الترمذي : ২৩২৩)“মুমিন নর-নারীরা নিজের, সন্তানের বা সম্পদের মাধ্যমে সর্বদা বিপদগ্রস্ত থাকে। যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে নিষ্পাপ সাক্ষাৎ করে।”[৪৩] মুসিবত মর্যাদার সোপান। কারণ ধৈর্য্যের মাধ্যমে অতটুকু সফলতা অর্জন করা যায়। যা আমল বা কাজের দ্বারা করা যায় না। মুসনাদে ইমাম আমহদে বর্ণিত আছে :إذا سبقت للعبد من الله منزلة لم يبلغها بعمله ابتلاه الله في جسده أو في ماله أو في ولده، ثم صبره، حتى يبلغه المنزلة التي سبقت له منه. (مسند : ২২৩৩৮)“আল্লাহ তাআলা যখন কোন বান্দার মর্যাদার স্থান পূর্বে নির্ধারণ করে দেন, আর সে আমল দ্বারা ওই স্থান লাভে ব্যর্থ হয়, তখন আল্লাহ তার শরীর, সম্পদ বা সন্তানের ওপর মুসিবত দেন এবং ধৈর্যের তওফিক দেন। এর দ্বারা সে নির্ধারিত মর্যাদার উপযুক্ত হয়ে।”[৪৪]একদা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের জিজ্ঞাসা করেন :ما تعدون الرقوب فيكم؟“তোমরা কাকে নিঃসন্তান মনে কর? তারা বলল : যার কোন সন্তান হয় না। তিনি বললেন :ليس ذاك بالرقوب، ولكنه الرجل الذي لم يقدم من ولده شيئا. (مسلم : ৪৭২২)“সে নয়। বরং সে, যার মৃত্যুর পূর্বে তার কোন সন্তানের মৃত্যু হল না।”[৪৫] অর্থাৎ পার্থিব জগতে সন্তানাদি আমাদের বার্ধক্যের সম্বল। যার সন্তান নেই সে যেন নিঃসন্তান। তদ্রুপ পর জগতের সম্বল মৃত সন্তান। যার সন্তান মারা যায়নি সে প্রকৃত- পরজগতের- নিঃসন্তান। এতে আমরা সন্তানহারা পিতা-মাতার প্রতিদান অনুমান করতে পারি। সন্তান বিয়োগের মুসিবত কল্যাণকর, এর বিনিময়ে অর্জিত হয় জান্নাত।মুসিবতের পশ্চাতে আছে কল্যাণ, উত্তম বিনিময়। যার কোন প্রিয় বস্তু হারায়, সে এর পরিবর্তে অধিক প্রিয় বস্তু প্রাপ্ত হয়। অনেক সময় এক সন্তান মারা গেলে, তারচে’ ভাল দ্বিতীয় সন্তান প্রদান করা হয়। দুঃখের আড়ালে সুখ বিদ্যমান। উম্মে ছালামা বর্ণনা করেন, আমি রসূল সা.কে বলতে শুনেছি :ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله : إنا لله وإنا إليه راجعون، اللهم أجرني في مصيبتي، وأخلف لي خيرا منها، إلا أخلف الله له خيرا منها. (مسلم : ১৫২৫)“যে কোন মুসলমান মুসিবত আক্রান্ত হয় এবং বলে- আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, তুমি আমার এ মুসিবতের প্রতিদান দাও এবং এর চে’ উত্তম জিনিস দান কর। আল্লাহ তাকে উত্তম জিনিস দান করেন।” তিনি বলেন : যখন আবু ছালামা মারা যায়, আমি ভাবলাম মুসলমানের ভেতর কে আছে যে, আবু ছালামা থেকে উত্তম? সর্বপ্রথম তার পরিবার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হিজরত করে আসে। তবুও বলার জন্য বললাম, আল্লাহ তাআলা আমাকে আবু সালামার পরিবর্তে রসূল সা.-কে প্রদান করেন। যিনি আবু সালামা থেকে উত্তম।[৪৬] কতক সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতার নানাবিধ কল্যাণ নিহিত থাকে। হতে পারে তাকদির অনুযায়ী এ ছেলেটি বেঁচে থাকলে পিতা-মাতার কষ্টের কারণ হত। যেমন খিজির আলাইহিস সালাম এর ঘটনায় বর্ণিত বাচ্চার অবস্থা। অনেক সময় পিতা-মাতার ধৈর্যধারণ, মৃত সন্তানকে পূণ্য জ্ঞান করণ উত্তম প্রতিদানের কারণ হয়। যেমন উম্মে ছালামার ঘটনা। কখনো আগন্তুক শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া লাভ হয়। যেমন তারা বলেন, “হে আল্লাহ! তুমি তাদের উত্তম বিনিময় দান কর। তাদের ক্ষতস্থান পূর্ণ কর। তার পরিবর্তে উত্তম বস্তু দান কর।” যার ফলে তার জীবিত অন্যান্য ভাইরা সংশোধন ও অধিক তওফিক প্রাপ্ত হয়। পিতা-মাতা অধিক আনুগত্যশীল সুসন্তান প্রাপ্ত হয়।

৮. বালা-মুসিবতের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা:
যার ওপর দিয়ে কোন মুসিবত বয়ে যায়, তার উচিত এর স্মৃতিচারণ বা পুনরাবৃত্তি না করা। যখন মনে বা স্মৃতি পটে চলে আসে, সাধ্যমত এড়িয়ে যাওয়া। পুনঃপুন বৃদ্ধি বা লালন না করা। কারণ এর ভেতর বিন্দু পরিমাণ লাভ নেই। উপরন্তু ধৈর্য্য ছাড়া কোন উপায়ও নেই। বরং এ নিয়ে কল্পনা-জল্পনা করা দৈন্যদের কাজ, তাদের মূলপুঁজি। দ্বিতীয়ত যে চলে গেছে, সে কখনো ফিরে আসবে না। যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তা পাল্টাবে না।হজরত উমর রা. এর একটি উপদেশ :لا تستفزوا الدموع بالتذكر.“তোমরা স্মৃতিচারণ করে চোখের পানি উছলে তুলো না।”অধিকাংশ প্রিয়জনহারা শোকাতুর লোক মৃত ব্যক্তির স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে প্রতি মুহূর্ত মৃত ব্যক্তির স্মরণে সে ব্যস্ত থাকে। শোক-দুঃখ মোচনের পথে যা বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। 

৯. একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা বর্জন:
শোকাতুর ব্যক্তির একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা পরিহার করা উচিত। কেননা সংশয় প্রবঞ্চনা নিঃসঙ্গ-অবসর ব্যক্তির পিছু নেয়। নিঃসঙ্গদের ওপর শয়তান অধিক কূটকৌশল ও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।কল্যাণকর ও অর্থবহ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। অটল থাকতে হবে পূর্ব নির্ধারিত স্বীয় সিদ্ধান্তে। নিয়মিত তেলাওয়াত, দু’আ-দরুদ, নামায ইত্যাদিতে মশগুল থাকতে হবে। এসবকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু ও নিত্যসঙ্গি বানিয়ে নিতে হবে। কারণ আল্লাহর যিকিরের মালেঝই নিহিত রয়েছে আত্মিক প্রশান্তি। 

১০. আপত্তি অভিযোগ ও অস্থিরতা ত্যাগ করা:
যে কোন বিপদাপদের সময় অসহিষ্ণুতা ও আপত্তি-অভিযোগ পরিহার করা। এটাই সান্ত্বনার শ্রেয়পথ। শান্তির উপায়-উপলক্ষ। যে এর থেকে বিরত থাকবে না, তার কষ্ট ও অশান্তি দ্বিগুন হবে। বরং সে নিজেই স্বীয় শান্তি বিনাশকারী-নিঃশেষকারী। কোন অর্থেই তার জন্য ধৈর্য্য প্রযোজ্য হবে না, মুসিবত থেকে নাজাতও পাবে না। কারণ ধৈর্য যদি হয় বিপদাপদ মূলোৎপাটনকারী, অধৈর্য্যতা তার পৃষ্ঠপোষকতা-দানকারী। যার বিশ্বাস আছে, নির্ধারিত বস্তু নিশ্চিত হস্তগত হবে, নির্দিষ্ট বস্তু নিশ্চিত অর্জিত হবে, তার ধৈর্য্য পরিহার করা নিরেট বিড়ম্বনা- আরেকটি মুসিবত। আল্লাহ তাআলা বলেন :مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ. لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آَتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿الحديد:২২-২৩﴾“যমীনে এবং তোমাদের নিজদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ। যাতে তোমরা আফসোস না কর তার উপর যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে এবং তোমরা উৎফুল্ল না হও তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার কারণে। আর আল্লাহ কোন উদ্ধত ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।”[৪৭]বর্ণিত আছে, জনৈক যাযাবর শহরে প্রবেশ করে একটি বাড়িতে চিৎকারের আওয়াজ শোনে জিজ্ঞাসা করল, এটা কিসে আওয়াজ? তাকে বলা হল, তাদের একজন লোক মারা গেছে। সে বলল, আমার মনে হচ্ছে : তারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে, তার সিদ্ধান্তে বিরক্তি প্রকাশ করছে এবং সওয়াব বিনষ্ট করছে।মনে রাখা প্রয়োজন! অস্থিরতা হারানো বস্তু ফিরিয়ে আনতে পারে না, বরং তা হিতকামনাকারীকে দুঃখিত ও অশুভ কামনাকারীকে আনন্দিত করে। সাবধান! মুসিবতের দুঃখের সাথে হতাশার নৈরাশ্য সংযোজন করো না। কারণ উভয়ের সঙ্গে ধৈর্যের সহাবস্থান হয় না। এমন বিপরীতধর্মী জিনিস অন্তরও গ্রহণ করে না। এ জন্য বলা হয়, “ধৈর্য্যের মুসিবত, সবচে’ বড় মুসিবত।” কথিত আছে, জনৈক দম্পতির খুব আদরের এক সন্তান মারা যায়, স্বামী স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, আল্লাহকে ভয় কর, ছওয়াবের আশা রাখ, ধৈর্য্যধারণ কর। সে উত্তরে বলে, আমি যদি ধৈর্য্যকে হতাশার মাধ্যমে নষ্ট করে দেই। তাহলে এটাই হবে সবচে’ বড় মুসিবত।জনৈক বিদ্বান বলেছেন : “জ্ঞানী ব্যক্তি মুসিবতের সময় সে কাজ করে, যা আহমক একমাস পরে করে। অবশেষে যখন ধৈর্য ধরতেই হয় আর এতে মানুষ ভালও জানে না। তাহলে শুরুতেই তো ধৈর্য্যধারণ করা কত ভাল- যা নির্বোধেরা একমাস পর করে থাকে।”[৪৮]সম্ভব ও সাধ্যের নাগালের জিনিস গ্রহণ করেই ধৈর্য্যধারণকারীদের মর্যাদা লাভ করা যায়। যেমন হাতাশা না করা, কাপড় না ছিড়া, গাল না চাপড়ানো, অভিযোগ না করা, মুসিবত প্রকাশ না করা, খাওয়া-দাওয়া ও পরিধানের অভ্যাস স্বাভাবিক রাখা, আল্লাহ তাআলার ফায়সালাতে সন্তুষ্ট থাকা- এ বিশ্বাস করে, যা ফেরত নেয়া হয়েছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আমানত ছিল। এবং সে পদ্ধতি গ্রহণ করা, যা হজরত উম্মে সুলাইম রা. গ্রহণ করেছিলেন।বর্ণিত আছে : তাদের একটি ছেলে মারা গেলে, আপন স্বামী আবু তালহাকে তিনি এ বলে সান্ত্ব্তনা দেন যে, কোন সম্প্রদায় যদি কোন দম্পতির নিকট একটি আমানত রাখে, অতঃপর তারা তাদের আমানত ফেরৎ নিয়ে নেয়, তাহলে আপনি সেটা কোন দৃষ্টিতে দেখবেন? তাদের নিষেধ করার কোন অধিকার আছে কি? উত্তর দিলেন, না। বললেন, আপনার ছেলেকে সে আমানত গণ্য করুন। তাকে হারানো পূণ্য জ্ঞান করুন।এ ঘটনা অবহিত হয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :بارك الله لكما في غابر ليلتكما. ( مسلم : ৪৪৯৬)“আল্লাহ তাআলা তোমাদের গত রাতে বরকত দান করুন।”[৪৯]সর্বশেষ বলি, ধৈর্য্য ধৈর্য্যধারণকারীকে প্রশান্তি এনে দেয়, মুসিবতের পরিবর্তে পূণ্য এনে দেয়। অতএব স্বেচ্ছায় ধৈর্যধারণ করাই ভাল। অন্যথায় অযথা পেরেশান হয়ে, ধৈর্যধারণ করতে বাধ্য হবে। তাই বলা হয় “যে জ্ঞানীর মত ধৈর্যধারণ না করে, সে চতুষ্পদ জন্তুর মত যন্ত্রণা সহ্য করে।” হজরত আলী রা. বলেন :إنك إن صبرت جرى عليك القلم وأنت مأجور، وإن جزعت جرى عليك القلم وأنت مأزور.“যদি তুমি ধৈর্যধারণ করো, তাহলে তোমার ওপর তকদির বর্তাবে, তবে তুমি নেকি লাভ করবে। পক্ষান্তরে যদি ধৈর্যহারা হও, তাহলেও তোমার উপর তকদির বর্তাবে, তবে তুমি গুনাহ্‌গার হবে।”[৫০]হজরত ওমর রা. বলেন :إنا وجدنا خير عيشنا الصبر.“আমরা উত্তম জীবনের বাহন হিসেবে ধৈর্যকেই পেয়েছি।”হজরত আলী রা. থেকে বর্ণিত:اعلموا أن الصبر من الإيمان بمنزلة الرأس من الجسد. ألا إنه لا إيمان لمن لا صبر له.“স্মরণ রেখ মাথা যেমন শরীরের অংশ, তদ্রূপ ধৈর্যও ইমানের অংশ। আরো স্মরণ রাখ, যার ধৈর্য নেই, তার ইমানও নেই।”হজরত হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:ما تجرع عبد جرعة أعظم من جرعة حلم عند الغضب، وجرعة صبر عند المصيبة.“ক্রোধের সময় সহনশীলতার ঢোক এবং মুসিবতের সময় ধৈর্যের ঢোকের চেয়ে বড় ঢোক কেহ গলধকরণ করেনি।”উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন :ما أنعم الله على عبد نعمة فانتزعها منه، فعاضه مكانها الصبر إلا كان ما عوضه خيرا مما انتزعه.“আল্লাহ তাআলা যদি কাউকে নেয়ামত দিয়ে পুনরায় নিয়ে নেন এবং বিনিময়ে ধৈর্য দান করেন, তাহলে বলতে হবে, দানকৃত বস্তুই উত্তম, নিয়ে নেয়া বস্তু থেকে।”আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রকৃত ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের জন্য তিনিই যথেষ্ট, তিনিই আমাদের অভিভাবক। সমাপ্ত 

[১] মুসলিম : ৫০২৪[২] বুখারী : ৬৯১২[৩] বুখারী : ১৭৪৫[৪] মুসলিম : ৫৩১৮[৫] আল-বাকারা : ১৫৩। পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে আল্লাহ নেককারদের সাথে আছেন, ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন ইত্যাদি বলা হয়েছে। তিনি আরশের উপর থেকেও বান্দাকে সাহায্য সহযোগিতা করার মাধ্যমে তার সাথে রয়েছেন বলে বুঝে নিতে হবে।[৬] আল-বাকারা : ১৫৫-১৫৭[৭] মুসনাদে ইমাম আহমাদ : ২৭৪৪[৮] তিরমিযী : ২৪৪০[৯] বোখারি : ৬১০৬ মুসলিম : ৪৭৮৫[১০] মুসলিম শরীফ : ৪৮১৪[১১] মুসলিম : নববীর ব্যাখ্যা সহ[১২] আবু দাউদ : ৪০৭৭ আহমাদ : ২০৬০৭[১৩] আহযাব : ২১[১৪] বুখারী : ১৩০৩[১৫] ইবরাহীম আ. ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে[১৬] মুমতাহানা : ৬[১৭] সিয়ারু আলা মিনন নুবালা : ৪ / ৪৩০[১৮] বুখারী : ৬৭৫৬ মুসলিম : ৪৮২২[১৯] বাকারা : ২১৬[২০] মুসনাদ : ২০২৮৩[২১]. তাঁর আশংকা নিছক ধারণা ভিত্তিক ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিশ্চিত জানতে পেরেছিলেন।[২২] কাহাফ : ৮০-৮১[২৩] মুসলিম : ৪৮১১[২৪] বুখারী : ১৩৭৬[২৫] ইউসুফ : ১৮[২৬] ইউসুফ : ৮৩[২৭] তিরমিজি : ২৩২২[২৮] বোখারি : ৫২১৩ মুসলিম : ৭৭৮[২৯] তিরমিযী : ২৩২০ ইবনে মাজাহ : ৪০২১[৩০] তিরমিযী : ২৩২০[৩১] নিসা : ১২৩[৩২] আল মুসনাদ মিন হাদীসে আবি বকর : ৬৮[৩৩] বুখারী : ৫২২০ মুসলিম : ৪৬৭৩[৩৪] বুখারী : ৫২২১[৩৫] বুখারী : ৫৯৪৪[৩৬] মুসলিম : ৪৭৭০[৩৭] মুসনাদ : ৪৩১৪[৩৮] মুসনাদে আহমদ : ১৪২৮৫[৩৯] তিরমিযী : ৯৪২[৪০] ইবনে মাজাহ : ১৫৯৮[৪১] বুখারী : ৫২১৫ মুসলিম : ৪৬৬৩[৪২] বুখারী : ৫২১০[৪৩] তিরমিযী : ২৩২৩[৪৪] মুসনাদ : ২২৩৩৮[৪৫] মুসলিম : ৪৭২২[৪৬] মুসলিম : ১৫২৫[৪৭] হাদীদ : ২২-২৩[৪৮] উত্তাতুচ্ছাবিরীন পৃ : ৭৪[৪৯] মুসলিম : ৪৪৯৬[৫০] আদাবুদ দুনিয়া ওদ্দিন পৃ : ৪০৭_________________________________________________________________________________ লেখক : সানাউল্লাহ বিন নজির আহমদثناء الله نذير أحمدসম্পাদনা : আলী হাসান তৈয়বمراجعة : علي حسن طيبসূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
at June 13, 2023 No comments:
Email ThisBlogThis!Share to XShare to FacebookShare to Pinterest

Saturday, June 10, 2023

বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াত

বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াত:


 ১. তিনিই ওই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে (রাসূল) ঐ দ্বীনকে অন্য দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন। আর এ বিষয়ে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (সূরা ফাতহ্-৪৮:২৮)

وَ مَاۤ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا وَّ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَক্স

২. (হে নবী!) আমি আপনাকে গোটা মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই তা জানে না। (সূরা সাবা- ৩৪:২৮)

فَلَا وَ رَبِّكَ لَا یُؤْمِنُوْنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوْكَ فِیْمَا شَجَرَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ لَا یَجِدُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیْتَ وَ یُسَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا

৩.না, হে রাসূল! আপনার রবের কসম, এরা কখনো ঈমানদার হতে পারবে না; যে পর্যন্ত এরা নিজেদের মতবিরোধের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেয়, তারপর যে ফয়সালাই আপনি দিন তা মেনে নিতে তাদের মন খুঁত খুঁত না করে এবং তা মনে-প্রাণে গ্রহণ না করে। (সূরা নিসা-০৪: ৬৫)

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيْصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِيْنَ رَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ

৪. দেখ! তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের মধ্য থেকেই একজন। যা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর তাতে তিনি কষ্ট পান। তিনি তোমাদের হিতকামী। ঈমানদারদের জন্য তিনি বড়ই স্নেহশীল ও রহমদিল। (সূরা তাওবা- ০৯:১২৮)

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیْرًؕ

৫. আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে সুন্দর আদর্শ রয়েছে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও শেষদিনের আশা করে এবং বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করে। (সূরা আহযাব- ৩৩ঃ২১) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা- ১১৯, সূরা আলে ইমরান- ২০,৩১,৭৯,১১৪,১৪৪,১৬৪. সূরা নিসা- ৭৯,১৩,১৬৫, সূরা মায়েদা- ৬৭,৯২,৯৯, সূরা আনয়াম- ১২৪, সূরা আরাফ- ১৫,৫৯,৭৩,১৫, সূরা আনফাল- ২০, সূরা তাওবা- ১২৮, সূরা ইউসুফ- ৪৭,১০৯, সূরা রা’দ- ৭,৩০,৪০, সূরা ইব্রাহিম- ৪,৫,১০-১১, সূরা নাহল-৩৬,৮৪, সূরা বনি ইসরাইল- ১০৫, সূরা সাবা- ২৮. সূরা আম্বিয়া -১০৭, সূরা আহযাব -৬,২১,৪০,৪৫-৪৬, সূরা ফাতের- ২৪, সূরা ইয়াছিন- ২-৩, সূরা হুজুরাত- ১, সূরা হাশর- ৭, সূরা সফ- ৬ ,

 

·         হাদিস

عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِه وَوَلَدِه وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ.

১. হযরত আনাস ” হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমাদের কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মু’মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত আমি (তথা আমার আদর্শ) তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয় না হব। (বুখারী ও মুসলিম)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يَـكُوْنَ هَوَاهُ تَبْعًا لِمَا جِئْتُ بِه (اَلْاِبَانَةُ الْكُبْرٰى لِاِبْنِ بَطَّةَ، صَحَّحَهُ الْاَلْبَانِىْ)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমাদের কেহই ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমার আনীত দ্বীনের অনুগত না হবে। (ইবানাতুল কুবরা লিইবনি বাত্তাহ : ২১৯)

 

আখেরাত

·         আল-কুরআন

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ زَیَّنَّا لَهُمْ اَعْمَالَهُمْ فَهُمْ یَعْمَهُوْنَؕ

১. আসলে যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের আমলকে আমি তাদের চোখে সুন্দর বানিয়ে দিয়েছি। তাই তারা দিশেহারা হয়ে ফিরছে। (সূরা নামল-২৭:৪)

فَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَیْرًا یَّرَهٗؕ – وَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا یَّرَهٗ۠

২. অতঃপর যে বিন্দু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে বিন্দু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে, সে তাও দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল-৯৯:৭-৮)

اَلْیَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤی اَفْوَاهِهِمْ وَ تُكَلِّمُنَاۤ اَیْدِیْهِمْ وَ تَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ

৩. আজ আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি। তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দিবে যে, তারা দুনিয়াতে কী কামাই করে এসেছে। (সূরা ইয়াসিন- ৩৬:৬৫)

یَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِّنَفْسٍ شَیْـًٔا ؕ وَ الْاَمْرُ یَوْمَىِٕذٍ لِّلّٰهِ۠

৪. এটা সেই দিন, যেদিন কেউ কারো জন্য কিছু করতে পারবে না এবং সেদিন ফয়সালার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে থাকবে। (সূরা ইন্ফিতার- ৮২:১৯)

٣٤ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ34

٣٥ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ35 ٣٦ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ36

٣٧ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ

৫. সেদিন মানুষ তার ভাই, মা, বাপ ও বিবি-বাচ্চাদের থেকে পালাতে থাকবে। সেদিন প্রত্যেককে একটি চিন্তা ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। (সূরা আবাসা- ৮০:৩৪-৩৭) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা- ৪৫, ৪৬, ৪৮, ৭২-৭৩, ১১৩, ১৫৪, ১৪৮, ১৬৫-১৬৭, ১৭৪, ২৫৪, ২৫৫, সূরা আলে ইমরান-৭০,৯৪,১৬৪,১৬৯-১৭১, সূরা আনয়াম-৩২,৯২, সূরা আরাফ- ৬,১৪৭, সূরা আনফাল- ৬৭, সূরা ইউনুস- ৩,৫-৬,২৭-৩০,৫৭, সূরা রা’দ- ৫, সূরা ইব্রাহিম- ৪৪-৪৫,৫১, সূরা হুদ- ১০৩, সূরা নাহল- ২২,৩০,৮৬,৮৭,৯৩, সূরা ম’মিনূন-৭৪, সূরা শুয়ারা- ৮৮,৮৯, সূরা নামল- ৪৪,৮৯-৯০, সূরা কাছাছ-৮৩, সূরা ইয়াছিন- ৩৩,৭৭-৭৮, সূরা হা-মিম আস সাজদা-৪৬,৪৮, সূরা শূ-রা-২০,৪৬, সূরা হাদিদ- ২০,২১, সূরা জুমুয়াহ-৮, সূরা ক্বেয়ামাহ- ৩,৪,৩৭-৪০, সূরা এনফেতর- ১-৫,১৫-১৯, সূরা আলা -১৭, সূরা গাশিয়াহ- ১,৩, সূরা লাইল-১৩-১৪, সূরা তাকাসসুর-৮,

 

 

·         হাদিস

عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزُوْلُ قَدَمُ ابْنِ اٰدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّه حَتّٰى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمُرِه فِيْمَ أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيْمَ أَبْلَاهُ وَمَالِه مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَه وَفِيْمَ أَنْفَقَه وَمَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ ـ (اَلتِّرْمِذِىْ: بَابُ مَاجَاءَ فِىْ شَاْنِ الْحِسَابِ وَالْقِصَاصِ حَسَّنَهُ الْاَلْبَانِىْ)

১. হযরত ইবনে মাসউদ ” নবী সাঃ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন কোন আদম সন্তানের পা এক কদমও নড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা না হবে। ১. নিজের জীবনকাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে? ২. যৌবনের শক্তি সামর্থ্য কোথায় ব্যয় করেছে? ৩. ধন-সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে? ৪. কোথায় তা ব্যয় করেছে? ৫. এবং সে (দ্বীনের) যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে? (তিরমিযী : বাবু মাজা’আ ফি শানিল হিসাবি ওয়াল ক্বিসাসি, ২৩৪০)

 

সালাত

·         আল-কুরআন

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ

১. তারাই ঐ সব লোক, যাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তাহলে তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই হাতে। (সূরা হাজ-২২ : ৪১)

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیْلِ وَ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ ؕ اِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا

২. (হে নবী!) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন। আর ফজরের (নামাজে) আল-কুরআন পড়–ন, কেননা ফজরে আল-কুরআন পড়ার সময় (ফেরেশতারা) হাজির থাকে। (সূরা বনি ইসরাইল-১৭:৭৮)

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ ارْكَعُوْا مَعَ الرّٰكِعِیْنَ

৩. সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং যারা আমার সামনে নত হয় (রুকুকারী) তাদের সাথে তোমরাও নত হও (রুকু কর) (সূরা বাকারা-০২:৪৩)

وَ اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ الصَّلٰوةِ ؕ وَ اِنَّهَا لَكَبِیْرَةٌ اِلَّا عَلَی الْخٰشِعِیْنَۙক্স الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوْا رَبِّهِمْ وَ اَنَّهُمْ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَ۠

৪. সবর ও নামাজ দ্বারা তোমরা সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই নামাজ খুব মুশকিল কাজ। কিন্তু ঐসব অনুগত লোকদের জন্য মুশকিল নয়, যারা মনে করে যে, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আপন রবের সাথে দেখা করতেই হবে এবং তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে। (সূরা বাকারা, ০২:৪৫-৪৬)

اُتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ ؕ اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لَذِكْرُ اللّٰهِ اَكْبَرُ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ

৫. (হে নবী!) আপনার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা আপনি তিলাওয়াত করুন এব নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। আর আল্লাহর জিকর এর চেয়েও বড় জিনিস। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা জানেন। (সূরা আনকাবুত-২৯ঃ৪৫)

উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন, সূরা বাকারা- ৪৩,১১০,১২৫,১৩৮, সূরা নিসা-১০১-১০৩, সূরা মায়েদা-৬,১২,৫৫, সূরা তাওবা-৫,১১,৭১, সূরা হুদ-১১৪, সূরা বনি ঈসরাইল-৭৮-৭৯, ১১০, সূরা ত্বহা-১৩০-১৩২, সূরা আম্বিয়া- ৭৩, সূরা ম’মিনূন-২, সূরা নূর- ৩৭, সূরা ফুরকান-৬৩-৭৪, সূরা আনকাবুত- ৪৫, সূরা রোম-৩৯,৫৫, সূরা জুমুয়াহ-৯, সূরা মাউন-৪-৫

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَبْرِدُوْا بِالصَّلَاةِ فَاِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ـ (بُخَارِىْ : بَابُ صِفَةِ النَّارِ)

১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাঃ বলেছেন, (গরমকালে যুহরের নামাজ গরমের প্রচন্ডতা কমলে) নামাজ ঠান্ডার সময় পড়। কেননা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের শ্বাস থেকেই উৎসারিত। (বুখারী: বাবু ছিফাতিন নারি, ৩০১৯)।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ دَرَجَةً ـ (بُخَارِىْ بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ، (مُسْلِمْ: بَابُ فَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ وَبَيَانِ التَّشْدِيْدِ فِى التَّخَلَّفِ عَنْهَا)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর ” থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন, একাকী নামাজ পড়ার চাইতে জামাআতে নামাজ পড়ার ফজিলত সাতাশ গুণ বেশি। (বুখারী: বাবু ফাদলি সালাতিল জামাআতি, ৬০৯; মুসলিম: বাবু ফাদলি সালাতিল জামাআতি, ১০৩৮)

 

যাকাত

·         আল-কুরআন

وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ

১. যারা জাকাতের ব্যাপারে কর্মতৎপর হয়। (সূরা মুমিনূন- আয়াত: ২৩:৪)

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ

২। সালাত কায়েম কর জাকাত দাও এবং যারা আমার সামনে নত হয় (রুকুকারী) তাদের সাথে তোমরাও নত হও (রুকু কর)। (সূরা বাকারা- আয়াত: ০২:৪৩)

الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ

৩। যারা জাকাত আদায় করে না, তারাই আখেরাত অস্বীকারকারী। (সূরা হামিম আস সাজদাহ- আয়াত: ৪১:৭)

এছাড়া সূরা বাকারা- ৮৩,২৩,১৭৭,২১১,২৬১,২৭১,২৭৩,২৭৪,২৭৭. সূরা মায়েদা- ১২, সূরা মারইয়াম- ৩১,৫৫, সূরা মুমিনুল- ১৪, সূরা ফাতির-২৯,৩০, সূরা রুম- ৩৯, সূরা মা’আরিফ- ২৪,২৫। ইমরান- ৯২, সূরা তওবা- ৪১, ৩৪, ৩৫।

 

·         হাদিস

عنْ جَرِيْرِبْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ بَايَعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلٰى اِقَامِ الصَّلَاةِ وَ اِيْتَاءِ الزَّكَاةِ وَ النُصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ ـ (بُخَارِىْ: بَابُ قَوْلِ النَّبِىِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدِّيْنُ النَّصِيْحَةُ ، مُسْلِمْ : بَابُ بَيَانِ اَنَّ الدِّيْنَ النَّصِيْحَةُ)

হযরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ ” বলেন, আমি নবী করীম সাঃ এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি নামাজ কায়েম করার জন্য, জাকাত দেয়ার জন্য এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার জন্য। (বুখারী: বাবু ক্বাওলিন নাবিয়্যি আদ দ্বীনু আন নাসিহাতু, ৫৫; মুসলিম: বাবু বায়ানি আন্নাদ দ্বিনা আননাসিহাতু, ৮৩)

 

সাওম

·         আল-কুরআন

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের নবীগণের উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল। এর ফলে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ পয়দা হবে। (সূরা বাকারা ০২:১৮৩)

اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ؕ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ وَ عَلَی الَّذِیْنَ یُطِیْقُوْنَهٗ فِدْیَةٌ طَعَامُ مِسْكِیْنٍ ؕ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا فَهُوَ خَیْرٌ لَّهٗ ؕ وَ اَنْ تَصُوْمُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ

২. কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের রোজা। যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তাহলে সে অন্য সময় যেন এ দিনগুলোর রোজা আদায় করে নেয়। আর যারা রোজা রাখতে সক্ষম (হয়েও রোজা রাখে না) তারা যেন ‘ফিদ্ইয়া’ দেয়। এক রোজার ফিদইয়া হলো একজন মিসকিনকে খাওয়ানো। যদি তোমরা বুঝ তাহলে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য বেশি ভালো। (সূরা বাকারা-০২:১৮৪)

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰی وَ الْفُرْقَانِ ۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْیَصُمْهُ ؕ وَ مَنْ كَانَ مَرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیْدُ اللّٰهُ بِكُمُ الْیُسْرَ وَ لَا یُرِیْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ ؗ وَ لِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

৩. রমজান ঐ মাস, যে মাসে আল-কুরআন নাজিল করা হয়েছে; যা মানুষের জন্য পুরোটাই হেদায়াত, যা এমন স্পষ্ট উপদেশে পূর্ণ যে, তা সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। তাই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাস পায় তার অবশ্য কর্তব্য, সে যেন পুরো মাস রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য সময় ঐ দিনগুলোর রোজা করে নেয়। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা-ই চান, যা কঠিন তা তিনি চান না। তোমাদেরকে এ জন্যই এ নিয়ম দেয়া হয়েছে, যাতে তোমরা রোজার সংখ্যা পূর্ণ করতে পার, আর যে হেদায়াত আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়েছেন এর জন্য তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ করতে পার এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পার। (সূরা বাকারা-০২:১৮৫) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন, সূরা কদর- ১,৫, সূরা দুখান-২-৫, সূরা বাকারা ৯৯, ৯৬, ১২৫, ১৫৮, ১৯৫, ১৯৭, সূরা আলে ইমরান- ৯৬,৯৭, সূরা মায়েদা- ১,৯৫,৯৬, সূরা তাওবা-৩, সূরা হজ- ২৬-২৭,২,২৯, সূরা ফাতাহ- ২৭,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ اِيْمَانًا وَاِحْتِسَابًا غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه ـ (بُخَارِىْ: بَابُ صَوْمِ رَمَضَانَ اِحْتِسَابًا مِنَ الْاِيْمَانِ، مسلم: باب التَّرْغِيْبِ فِى قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيْحُ)

১. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে লোক রমজান মাসের রোজা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে তার পূর্ববর্তী সকল গুনা ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী: বাবু সাওমি রামাদানা ইহতিসাবান মিনাল ঈমান, ৩৭; মুসলিম বাবুত তারগিব ফি ক্বিয়ামি রামাদানা, ১২৬৮)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رضـ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَّمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلّٰهِ حَاجَةٌ فِىْ أَنْ يَّدَعَ طَعَامَه وَ شَرَابَه ـ (بُخْارِىْ: بَابُ مَنْ لَّمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ)

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করতে পারল না, তবে এমন ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী, বাবু মান লাম ইয়াদা’ ক্বাওলায যূরি: ১৭৭০)

 

হজ

·         আল-কুরআন

وَ اَذِّنْ فِی النَّاسِ بِالْحَجِّ یَاْتُوْکَ رِجَالًا وَّعَلٰی كُلِّ ضَامِرٍ یَّاْتِیْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِیْقٍ

১. আর আপনি সকল মানুষের হজের জন্য ডাক দিন। তারা (এ ডাকে সাড়া দিয়ে) দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে ও উটে চড়ে আসবে। (সূরা হাজ- ২২:২৭)

اِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَۃَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ۚ فَمَنْ حَجَّ الْبَیْتَ اَوِاعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِ اَنْ یَّطَّوَّفَ بِهِمَا ؕ وَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا ۙ فَاِنَّ اللهَ شَاکِرٌ عَلِیْمٌ

২. নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে গণ্য। তাই যে আল্লাহর ঘরের হাজ বা উমরা করে, তাদের জন্য এ দুটো পাহাড়ের মাঝখানে দৌড়ানো কোনো গুনাহের কাজ নয়। আর যে নিজের মর্জি ও আগ্রহে কোনো ভালো কাজ করবে, আল্লাহর তা জানা আছে এবং তিনি এর মূল্য দেবেন । (সূরা বাকারা- ২:১৫৮)

اَجَعَلْتُمْ سِقَایَۃَ الْحَآجِّ وَعِمَارَۃَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ کَمَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَجٰهَدَ فِیْ سَبِیْلِ اللهِ ؕ لَا یَسْتَوٗنَ عِنْدَ اللهِ ؕ وَاللهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ

৩. তোমরা কি হাজিদের পানি পান করানো ও মসজিদে হারামের খেদমত করাকে ঐ লোকদের কাজের সমান মনে করে নিয়েছো, যে ঈমান এনেছে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি এবং যে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছে? আল্লাহর কাছে তো এরা দুজন সমান নয়। আর আল্লাহ জালিম কাওমকে হেদায়াত করেন না । (সূরা তাওবা-৯:১৯) উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরো দেখুন, সূরা বাকারা-১২৫, ১৯৬, ১৯৭-১৯৯, সূরা আলে ইমরান-৯৭, সূরা হজ-২৮-৩৭, সূরা আল ফাতাহ-২৭।

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَجَّ هٰذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهٗ أُمُّهٗ ـ (بُخَارى: بَابُ قَوْلِ اللهِ تَعَالٰى (فَلَا رَفَثَ) مُسْلِمْ: بَابَ فُضْلِ الْحَجِّ وَ الْفُمْرَةِ وَ يَوْمِ عَرَفَةَ)

১. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরে হজ করতে আসল, অতঃপর স্ত্রী সংগম করেনি, কোন প্রকার অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হয়নি, তবে সেখান থেকে তেমন পবিত্র হয়ে) ফিরে আসে, যেমন নিষ্পাপ অবস্থায় তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিল। (বুখারী: বাবু ক্বাওলিল্লাহি ‘‘ফালা রাফাছা’’ ১৬৯০; মুসলিম: বাবু ফাদলিল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি: ২৪০৪)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَىُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ فَقَالَ اِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ قِيْلَ ثُمَّ مَذَا قَالَ الْجِهَادُ فِىْ سِبِيْلِ اللهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجُّ مَبْرُوْرٌ ـ (بُخَارِىْ: بَابُ مَنْ قَالَ اِنَّ الْاِيْمَانَ هُوَ الْعَمَلُ ، مُسْلِمْ: بَابَ بَيَانِ كَوْنِ بَيَانِ كَوْنِ الْاِيْمَانِ بِاللهِ تَعَالٰى أَفْضَلُ الْاَعْمَالِ)

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমল অধিক উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান। জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন কবুল হওয়া হজ। (বুখারী: বাবু মান ক্বালা ইন্নাল ঈমানা হুয়াল আমালু, ২৫; মুসলিম: বাবু বায়ানি কাওনিল ঈমানি বিল্লাহি আফদালুল আ’মালি: ১১৮

শাহাদাত

·         আল-কুরআন

وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللهِ اَمْوَاتٌ ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّلٰکِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ

১. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বল না। এরা তো আসলে জীবিত। কিন্তু তাদের জীবন সম্পর্কে তোমাদের ধারণা হয় না। (সূরা বাকারা-০২:১৫৪)

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللهِ اَمْوَاتًا ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُوْنَ

২. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না। তারা তো আসলে জীবিত। তারা তাদের রবের কাছে রিজিক পাচ্ছে। (সূরা আলে ইমরান-০৩:১৬৯)

وَمَنْ یُّطِعِ اللهَ وَالرَّسُوْلَ فَاُولٰٓئِکَ مَعَ الَّذِیْنَ اَنْعَمَ اللهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَالصِّدِّیْقِیْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِیْنَ ۚ وَحَسُنَ اُولٰٓئِکَ رَفِیْقًا

৩. যারা আল্লাহ ও রাসূলের কথা মেনে চলবে তারা ঐসব লোকের সাথেই থাকবে, যাদের উপর আল্লাহ নিয়ামত বর্ষণ করেছেন। তাঁরা হলেন-নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালিহ (নেক) লোকগণ। তাঁরা কতই না ভালো সাথী। (সূরা নিসা-০৪ঃ৬৯) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন, সূরা বাকারা- ১৫৪, সূরা আলে ইমরান- ৭০,১৪০,১৫৭,১৬৯,১৯৫, সূরা নিসা- ৬৯,৭৪, সূরা হাজ-৫৮, সূরা মু’মিনূন- ২৮, সূরা ফুরকান- ৬৩-৭৪, সূরা আহযাব- ২৩, সূরা ইয়াছিন- ২৬, সূরা মোহাম্মদ-৪, সূরা হাদিদ-১৯, সূরা বুরুজ- ৮-৯।

 

·         হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِ و بْنِ الْعَاصِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُغْفَرُ لِلشَّهِيْدِ كُلُّ ذَنْبٍ اِلَّا الدَّيْنَ ـ

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স থেকে বর্নিত। রাসূলে করীম সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা (বান্দাহর) শহীদের সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন, শুধুমাত্র ঋণ ব্যতীত। (মুসলিম)

عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ رَضَىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَاَلَ اللهُ تَعَالَى الشَّهَادَةَ بِصدْقٍ بَلَّغَهُ اللهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَاِنْ مَاتَ عَلٰى فِرَاشِه ـ

২. হযরত সাহাল ইবনে হানিফ ” থেকে বর্ণিত। রাসূলে করিম # বলেছেন যে, ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শাহদাতের মর্যাদা দান করবেন । যদি সে ঘরে তার বিছানায় ও মৃত্যুবরণ করে (মুসলিম)

 

লক্ষ ও উদ্দেশ্য

·         আল-কুরআন

اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَۚ

১. আমি তো একমুখী হয়ে তাঁর দিকেই আমার মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই। (সূরা আন’আম- ০৬:৭৯)

قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ

২. (হে রাসূল!) বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার সবরকম ইবাদত, আমার হায়াত, আমার মওত সবকিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। (সূরা আন’আম- ০৬:১৬২)

وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْرِیْ نَفْسَهُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ رَءُوْفٌۢ بِالْعِبَادِ

৩. অপরদিকে মানুষের মধ্যে কেউ এমনও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বিক্রি করে দেয় এবং এমন বান্দাদের উপর আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। (সূরা বাকারা- ০২:২০৭)

اِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ اَنْفُسَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ؕ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَ یُقْتَلُوْنَ ۫ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىةِ وَ الْاِنْجِیْلِ وَ الْقُرْاٰنِ ؕ وَ مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِكُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِهٖ ؕ وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ

৪. (আসল ব্যাপার হলো) আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল বেহেশতের বদলে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, (দুশমনকে) মারে এবং (নিজেরাও) নিহত হয়। তাদেরকে (বেহেশত দেওয়ার ওয়াদা) আল্লাহর দায়িত্বে একটি মজবুত ওয়াদা-যা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে (করা হয়েছে)। ওয়াদা পালনে আল্লাহর চেয়ে বেশি যোগ্য আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে বেচা-কেনার কারবার করেছ, সে বিষয়ে খুশি হয়ে যাও। এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা (সূরা তাওবাহ- ০৯:১১১)

وَ مَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَ الْاِنْسَ اِلَّا لِیَعْبُدُوْنِ

৫. আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত করা ছাড়া আর কারো গোলামির উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। (সূরা যারিয়াত- ৫১:৫৬)

উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন -সূরা বাকারা -১৪৩,১৬৫,২০৭, সূরা আলে ইমরান -১১০, নিসা- ৪৬, সূরা তাওবা- ১১১, সূরা মায়েদা- ৩৫, সূরা যুমার -২,১০,১১, সূরা হুদ- ৫০, আল বাইয়্যিনাহ- ৫,৮

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ اُمَامَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّه قَالَ مَنْ أَحَبَّ لِلّٰهِ وَأَبْغَضَ لِلّٰهِ وَ أَعْطٰى لِلّٰهِ وَمَنَعَ لِلّٰهِ فَقَدْ اِسْتَكْمَلَ الْاِيْمَانَ ـ (اَبُوْ دَاؤُدَ: بَابُ الدَّلِيْلِ عَلٰى زِيَادَةِ الْاِيْمَانِ وَنُقْصَانِهِ)

১. হযরত আবু উমামা ” রাসূল সাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে (কাউকে) ভালোবাসল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, শত্রুতা পোষণ করল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, কিছু দান করল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দান থেকে বিরত থাকল তাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সেই ঈমানের পূর্ণতা লাভ করল। (আবু দাউদ, বাবুদ দালিলি আলা যিয়াদাতিল ঈমানি ওয়া নুকসানিহি)

عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِه وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ.

২. হযরত আনাস ” বলেন। রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই। (মিশকাত)

عَنِ عَبَّسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ ا للهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاقَ طَعْمَ الْاِيْمَانِ منْ رَضِىَ بِاللهِ رَبًّاوَ بِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًاـ

৩. হযরত অব্বাস বিন মুত্তালিব ” বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, সে-ই ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে, যে, আল্লাহকে রব, ইসলামকে জীবনব্যবস্থা (দ্বীন) এবং মুহাম্মদ সাঃ কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্টি হয়েছে (বুখারী ও মুসলিম)

عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْ لُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَنْهِ وَسَلَّمِ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُ كُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِه وَ وَلَدِه وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ ـ

৪. হযরত আনাস ” বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই। (মিশকাত)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَفَاتِيْحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا للهُ

৫. হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল ” হতে বর্ণিত । তিনি বলেন রাসূল সাঃ বলেছেন, বেহেশতের চাবি হচ্ছে এ কথার সাক্ষী দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। (বুখারী)

দাওয়াত

·         আল-কুরআন

اُدْعُ اِلٰی سَبِیْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَ الْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَ جَادِلْهُمْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ

১. (হে নবী!) হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আপনি মানুষকে আপনার রবের পথে ডাকুন। আর তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করতে হলে সুন্দরভাবে করুন। আপনার রবই বেশি জানেন যে, কে তাঁর পথ থেকে সরে আছে, আর কে সঠিক পথে আছে। (সূরা নাহ্ল- ১৬:১২৫)

وَ مَنْ اَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَاۤ اِلَی اللّٰهِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ

২. তার চেয়ে আর কে উত্তম কথার অধিকারী হতে পারে যে (মানুষকে) ডাকে আল্লাহর পথে, সৎকর্ম করে এবং বলে নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত (হা-মিম আস-সাজদাহ- ৪১:৩৩)

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًاۙক্স وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذْنِهٖ وَ سِرَاجًا مُّنِیْرًا

৩. হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী বানিয়ে, সুখবরদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর দিকে দাওয়াতদাতা বানিয়ে এবং উজ্জ্বল বাতি হিসাবে। (সূরা আহযাব- ৩৩: ৪৫-৪৬)

١ يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ1

٢ قُمْ فَأَنْذِرْ2

٣ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ

৪. হে কম্বল মুড়ি দিয়ে শায়িত ব্যক্তি! ওঠ এবং সাবধান কর এবং তোমার রবের বড়ত্ব প্রচার কর। (সূরা মুদ্দাস্সির-৭৪:১-৩)

اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ بِالْحَقِّ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا ؕ وَ اِنْ مِّنْ اُمَّةٍ اِلَّا خَلَا فِیْهَا نَذِیْرٌ

৫. নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্য সহকারে সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে পাঠিয়েছি। আর এমন কোন উম্মত গত হয়নি, যাদের মধ্যে কোনো সতর্ককারী আসেনি। (সূরা ফাতির- ৩৫:২৪)

উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা বাকারা – ১৪০,২০৮, সূরা আল ইমরান- ১০৪, ১১০, সূরা মায়েদা-৬৭, সূরা ইউনুস- ২৫ সূরা ইউসুফ- ১০৮, সূরা ইব্রাহিম- ৫, সূরা বনি ইসরাইল- ৫৩, সূরা কাহাফ- ২৯, সূরা আরাফ- ৫৯,৭৩,৮৫,১৬৫, সূরা শূরা- ১৫,

 

·         হাদিস

عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَسِّرُوْا وَلَا تُعَسِّرُوْا وَبَشِّرُوْا وَلَا تُنَفِّرُوْا ـ (بُخَارِىْ: بَابُ مَا كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُهُمْ بِالْمَوْعِظَةِ وَالْعِلْمِ كَـىْ لَا يَنْفِرُوْا)

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” নবী করীম সাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাঃ ইরশাদ করেছেন, তোমরা সহজ কর, কঠিন করো না, সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ করো না। (বুখারী, বাবু মা কানান নাবিয়্যু সাঃ ইয়াতাখাওয়ালুহুম বিল মাওইযাতি ওয়াল ইলমি কায় লা ইয়ানফিরু- ৬৭)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَعَا اِلٰى هُدًى كَـانَ لَه مِنَ الْاَجْرِ مِثْلُ اُجُوْرِ مَنْ تَبِعَه لَا يَنْقُصُ ذٰلِكَ مِنْ اُجُوْرِهِمْ شَيْئًا.

২. হযরত আবু হুরাইরা ” হতে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তির দাওয়াতে কেউ হিদায়াত প্রাপ্ত হয়, তাহলে দা’য়ীর জন্য (পুরস্কার) প্রতিদান হল হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সমান। এতে তার অংশের কোন কমতি হয় না। (মুসলিম)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍ و اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ بَلِّغُوْا عَنِّىْ وَلَوْ اۤيَةً وَحَدِّثُوْا عَنْ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدً افَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهٗ مِنَ النَّارِ- ــ (بُخَارِىْ: بَابُ مَاذُكِرَ عنْ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ)

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ” থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাঃ ইরশাদ করন, একটি আয়াত হলেও তা আমার পক্ষ থেকে প্রচার কর। আর বনি ইসলাইল সম্পর্কে আলোচনা কর, তাতে কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি আমার প্রতি ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা আরোপ করে, তার নিজ ঠিকানা জাহান্নামে সন্ধান করা উচিত। (বুখারী, বাবু মা যুকিরা আন বানি ইসরাইল, ৩২০২)

عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِه  لَتَأْ مُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَىِ أَوْ لَيُو شِكَنَّ اللهُ اَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهٗ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ ــ (ترمذى : بَابُ مَا جَاءَ فِى الْاَمْرِ بِالْمَعْرُوْفِ وَالنَّهْىِ عَنِ الْمُنْكَرِ)

৪. হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান ” নবী করীম সাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাঃ এরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে লোককে বিরত রাখবে নতুবা তোমাদের উপর শীঘ্রই আল্লাহর গজব নাজিল হবে। অতঃপর তোমরা (তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য) দোয়া করতে থাকবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না। (তিরমিযী:- ২০৯৫)

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَن رَأى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِه فِاِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فِبِلِسَانِه فِاِنْ لَّمْ يَسْتَطِع فَبِقَلْبِه وَذٰلِكَ اَضْعَفُ الْاِيْمَانِ ــ (مُسْلِمٌ : بَابُ بَيَانِ كَوْنِ النَّهْىِ عَنِ الْمُنْكَرِ مِنَ الْاِيْمَانِ)

৫. হযরত আবু সাঈদ খুদরী ” নবী করীম সাঃ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন কোন খারাপ কাজ হতে দেখে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতা না রাখে তবে যেন মুখের কথার দ্বারা (জনমত গঠন করে) তা প্রতিরোধ করে। যদি সে এ ক্ষমতাটুকু না রাখে তবে যেন অন্তরের দ্বারা (পরিকল্পিত উপায়ে) এটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। (বা এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে) আর এটা হলো ঈমানের দুর্বলতম (নিম্নতম ) স্তর। (মুসলিম -৭০)

 

সংগঠন

·         আল-কুরআন

اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الَّذِیْنَ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِهٖ صَفًّا كَاَنَّهُمْ بُنْیَانٌ مَّرْصُوْصٌ

১. নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐসব লোককে পছন্দ করেন, যারা তাঁর পথে এমনভাবে কাতারবন্দী হয়ে লড়াই করে, যেন তারা সীসা গলানো মজবুত দেয়াল। (আস্ সাফ্- ৬১: ০৪)

وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ تَفَرَّقُوْا وَ اخْتَلَفُوْا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآئَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌۙ

২. তোমরা যেন ঐ লোকদের মতো হয়ে না যাও, যারা বহু দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে এবং অত্যন্ত স্পষ্ট হেদায়াত পাওয়ার পরও যারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। যারা এমন আচরণ করেছে তারা সেদিন কঠোর শাস্তি পাবে। (সূরা আলে ইমরান- ০৩: ১০৫)

كُنْتُمْ خَیْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ تَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ اَكْثَرُهُمُ الْفٰسِقُوْنَ

৩. তোমরাই দুনিয়ার ঐ সেরা উম্মত যাদেরকে মানবজাতির হেদায়াত ও সংশোধনের জন্য আনা হয়েছে। তোমরা নেক কাজের আদেশ কর ও মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত তাহলে তাদের জন্যই তা ভাল ছিল। যদিও তাদের কিছু লোক ঈমানদারও পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই নাফরমান। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১১০)

وَ لْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ یَّدْعُوْنَ اِلَی الْخَیْرِ وَ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

৪. তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক তো অবশ্যই থাকা উচিত, যারা নেকি ও কল্যাণের দিকে ডাকবে, ভালো কাজের হুকুম দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই সফল হবে। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১০৪)

وَ اعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِیْعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوْا ۪

৫. তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আল ইমরান-১০৩) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন

সূরা বাকারা-১৪৩, সূরা আলে ইমরান -১০১,১০৩, সূরা নিসা -১৪৬,১৭৫, সূরা তাওবা -৭১, সূরা হাজ্জ- ৭৮, সূরা আহযাব- ২৩, সূরা শূ-রা- ১৩, সূরা ম’মিনূন- ৫২, সূরা সফ- ৪,১৪,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِذَا كَانَ ثَلَاثَةٌ فِىْ سَفَرٍ فَلْيُؤَمِّرُوْا اَحَدَهُمْ ـ (اَبُوْ دَاؤدَ: بَابٌ فِى النِّدَاءِ عِنْدَ النَّفِيْرِ يَا خَيْلَ اللهِ ارْكَبِىْ)

১. হযরত আবু হুরায়রা ” বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যখন কোন তিনজন ব্যক্তি সফরে থাকে, তখন যেন একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়। (আবু দাউদ: বাবুন ফিন নিদাই ইনদাল নাফিরি ইয়া খাইলাল্লাহির কাবী,২২৪২)

عَنْ اَبِىْ ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْاِسْلَامِ مِنْ عُنُقِه ـ اَبُوْ دَاؤدَ: بَابٌ فِىْ قَتْلِ الْخَوَارِجِ)

২. হযরত আবু যর ” বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল (আবু দাউদ: বাবুনফী ক্বাতলিল খাওয়ারিজি- ৪১৩১)

عَنِ الْحَارِثِ الْاَشْعَرِىِّ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنَا اۤمُرَنَّكُمْ بِخَمْسٍ اَللهُ أَمَرَنِىْ بِهِنَّ بِالْجَمَاعَةِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ فِاِنَّهٗ مَنْ خَرَجَ مِنَ الْجَمَاعَةِ قِيْدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْاِسْلَامِ مِنْ عُنُقِه اِلَّا أَن يَّر جِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوٰى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَاءِ جَهَنَّمَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَاِنْ صَامَ وَصَلّٰى قَالَ وَاِنْ صَامَ وَصَلّٰى وَزَعَمَ أَنَّهٗ مُسْلِمٌ فَادْعُوْا ا لْمُسْلِمِيْنَ بِمَا سَمَّاهُمْ الْمُسْلِمِيْنَ الْمُؤْ مِنِيْنَ عِبَادَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ــ ( مُسْنَدِ اَحْمَدَ : حَدِيْثُ الْحَارِثِ الْاَشْعَرِىِّ عَنِ النَّبِىِّ )

৩. হযরত হারিসুল আশয়ারী ” থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাঃ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ১. জামায়াতবদ্ধ হবে ২. নেতার আদেশ মন দিয়ে শুনবে ৩. তার আদেশ মেনে চলবে ৪. আল্লাহর পথে হিজরত করবে ৫. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে, আর তোমাদের মধ্য হতে যে সংগঠন হতে বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল, সে তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল তবে যদি ফিরে আসে তা ভিন্ন কথা। আর যে ব্যক্তি (মানুষদেরকে) জাহেলিয়াতের দিক আহবান জানায় সে জাহান্নামি। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাঃ ! সে যদি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে, এরপরও? রাসূল সাঃ বললেন, যদি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে এরপরও জাহান্নামি হবে। তবে তোমরা মুসলমানদের ডাকো যেভাবে তিনি (আল্লাহ) তাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম, মু’মিন এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে। (মুসনাদে আহমাদ: হাদিসুল হারিসিল আশয়ারী আনিন নাবিয়্যি, ১৬৫৪২)।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَا اِسْلَامَ اِلَّا بِجَمَاعَةٍ وَ لَا جَمَاعَةَ اِلَّا بِاِمَارَةٍ وَلَا اِمَارَةَ اِلَّا بِطَاعَةٍ ـ

৪. হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব ” হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সংগঠন ব্যতীত ইসলাম নেই, আর নেতৃত্ব ব্যতীত সংগঠন নেই এবং আনুগত্য ব্যতীত নেতৃত্ব নেই। (আসার)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَهَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمِ يَقُوْلُ مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَرَقَ الْجَمَاعَةِ فَمَاتَ مَاتَ مَيْتَةً جَاهِلِيَّةً ـ

৫. হযরত আবু হুরায়রা ” হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আল্লাহর রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমিরের আনুগত্যকে অস্বীকার করত জামায়াত পরিত্যাগ করল এবং সেই অবস্থায় সে মারা গেল সে জাহেলিয়াতর মৃত্যুবরণ করল (মুসলিম শরীফ)

 

প্রশিক্ষণ

·         আল-কুরআন

هُوَ الَّذِیْ بَعَثَ فِی الْاُمِّیّٖنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ ۗ وَ اِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍۙ

১. তিনিই সেই সত্তা, যিনি উম্মিদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যে তাদেরকে তাঁর আয়াত শোনান, তাদের জীবন পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। অথচ এর আগে তারা স্পষ্ট গোমরাহিতে পড়ে ছিল। (সূরা জুমুআ-৬২: ২)

كَمَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ یَتْلُوْا عَلَیْكُمْ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیْكُمْ وَ یُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ یُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَؕ

২. যেমন (তোমরা এভাবে সফলতা লাভ করেছে) আমি তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনান, তোমাদের জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তোলেন, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদের ঐসব কথা শেখান, যা তোমরা জানতে না। (সূরা বাকারা- ০২: ১৫১)

وَ یُعَلِّمُهُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ التَّوْرٰىةَ وَ الْاِنْجِیْلَۚ

৩. (ফেরেশতারা আগের কথার জের টেনে বলল) আল্লাহ তাঁকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দিবেন এবং তাওরাত ও ইনজিলের ইলম শেখাবেন। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ৪৮)

 

١ الرَّحْمَٰنُ1

٢ عَلَّمَ الْقُرْآنَ2

٣ خَلَقَ الْإِنْسَانَ3

٤ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ

৪. অতি বড় মেহেরবান আল্লাহ এ আল-কুরআনের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন। (সূরা আর-রাহমান-৫৫: ১-৪)

وَ عَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَی الْمَلٰٓىِٕكَةِ ۙ فَقَالَ اَنْۢبِـُٔوْنِیْ بِاَسْمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ

৫. এরপর আল্লাহ আদমকে সব জিনিসের নাম শেখালেন। তারপর এসব জিনিসকে ফেরেশতাদের সামনে পেশ করে বললেন, যদি তোমাদের এ ধারণা সঠিক হয়ে থাকে (যে খলিফা নিয়োগ করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে) তাহলে এসব জিনিসের নাম বল দেখি। (সূরা বাকারা-০২: ৩১)

উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা বাকারা- ১২৯,১৫১,২৮২, সূরা নিসা-১১৩, সূরা রা’দ- ১৬, সূরা ফাতের-২৮, সূরা যুমার- ৯, সূরা রাহমান- ১-৪, সূরা মোজাদালাহ- ১১, সূরা জুমুয়াহ-২,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَعَلَّمُوا الْقُرْاٰنَ وَالْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوْا النَّاسَ فَاِنِّىْ مَقْبُوْضٌ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابٌ مَا جَاءَ فِىْ تَعْلِيْمِ الْفَرَائِضِ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

১. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, আল-কুরআন এবং ফারায়েজ শিক্ষা গ্রহণ কর এবং মানুষকে শিক্ষা দাও। নিশ্চয়ই আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে। (তিরমিযী: বাবু মা জা’আ ফি তালিমিল ফারায়েযে, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন, ২০১৭)

عَنْ عُثْمَانَ رَضِىَ اللهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَه ـ (بُخَارِىْ: بَابُ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَه)

২. হযরত উসমান ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই হচ্ছে সর্বোত্তম ব্যক্তি যে, নিজে আল-কুরআন মাজিদ শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (বুখারী, বাবু খায়রুকুম মান তায়াল্লামাল আল-কুরআন ওয়া আল্লামাহু: ৪৬৩৯)

أَخْبَرْنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ أَنَّهٗ بلَغَهٗ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُعِثْتُ لِاُتَمِّمَ حُسْنَ الْاَخْلَاقِ ــ(مُؤْطَّا مَالِكِ : باب مَاجَاءَ فَى حُسْنِ الْخُلْقِ

৩. হযরত ইমাম মালেক (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে, রাসূলুল্লাহ # বলেছেন, আমাকে সুন্দর, বলিষ্ঠ চরিত্রের পরিপূর্ণতা বিধানের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। (মুয়াত্তা মালেক, বাবু মা জা আফি হুসনিল খুলকি)

عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِىْ طَلَبِ الْعِلْمِ كَانَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ حَتّٰى يَرْجِـعَ

৪. হযরত আনাস ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার উদ্দেশ্যে বের হয় সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে (জিহাদের মধ্যে) অবস্থান করে। (তিরমিযি)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْ لُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ اُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ ـ

৫. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তিকে দীনের কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় এবং সে তা গোপন রাখে তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে। (তিরমিযি ও আবু দাউদ)

 

ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্রসমস্যা

·         আল-কুরআন

اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَۚ

خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍۚ

اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَكْرَمُۙ

الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِۙ

عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْؕ

১. পড়–ন (হে রাসূল!) আপনার রবের নাম নিয়ে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি জমাট রক্তের পি- (ভ্রুণ) থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আপনি পড়–ন, আপনার রব বড়ই দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্য জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে তিনি এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানত না। (সূরা আলাক- ৯৬:১-৫)

كَمَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ یَتْلُوْا عَلَیْكُمْ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیْكُمْ وَ یُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ وَ یُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَؕۛ

২. যেমন আমি তোমাদের জন্য স্বয়ং তোমাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শুনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ ও উৎকর্ষিত করে তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমতের শিক্ষা দেয় এবং যেসব কথা তোমাদের জানা নেই তা জানিয়ে দেয়। (সূরা আল বাক্বারাহ-২:১৫১)

وَ اِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَ اَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

৩. যখন তোমাদের সামনে আল-কুরআন পড়া হয়, তখন মনোযোগের সাথে তা শুন এবং চুপ থাক। সম্ভবত এর মাধ্যমে তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষিত হবে। (আল আ‘রাফ-৭:২০৪)

هُوَ الَّذِیْ بَعَثَ فِی الْاُمِّیّٖنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ ۗ

৪. তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের জন্য একজন নিরক্ষর রাসূল পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে আমার নিদর্শন (আয়াত) সমূহ পেশ করবেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন, তাদেরকে শিক্ষা দিবেন কিতাব ও (হিকমত) কলা-কৌশল। (সূরা আল জুমুআ-৬২:২)

كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ اِلَیْكَ مُبٰرَكٌ لِّیَدَّبَّرُوْۤا اٰیٰتِهٖ وَ لِیَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ

৫. এ এক বরকতপূর্ণ কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যেন লোকেরা এর আয়াতসমূহ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বিবেকবানেরা সবক গ্রহণ করে। (সূরা সোয়াদ-৩৮:২৯) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা আলে ইমরান- ৭,১৮, (২৯০-২৯১), সূরা তাওবা- ১১২, সূরা রা’দ- ১৬,১৯ সূরা নাহল- ৪৪,৮৯, সূরা বনি ইসরাইল -৫৩, সূরা কাহ্ফ- ৭,৬৫,৬৬, সূরা ত্বহা- ১১৪, সূরা ম’মিনূন, সূরা হাজ্জ-৭৭, সূরা ফাতের-২৮, সূরা যুমার -৯,২৩ সূরা মুহাম্মদ- ২৪, সূরা নাজম -১৭,২৩, সূরা রাহমান-১-৪, সূরা মোজাদালাহ- ১১,

 

·         হাদিস

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيْضَةٌ عَلٰى كُلِّ مُسْلِمٍ ـ (بَيْهَقِىْ: شُعَبُ الْاِيْمَانِ)

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম (নর-নারীর) ব্যক্তির উপর ফরজ (বায়হাকী: শুয়াবুল ঈমান: ১৬১৪)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِىْ طَلَبِ الْعِلْمِ كَـانَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ حَتّٰى يَرْجِـعَ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابُ اَفْضَلُ الْعِلْمِ)

২. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথেই থাকে। (তিরমিযি বাবু ফাদলি তলাবিল ইলমি-২৫৭১)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِذَا مَاتَ الْاِنْسَانُ اِنْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهٗ اِلّا مِنْ ثَلَاثَةٍ اِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوِ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِه أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْ عُوْ لَهٗ ــ (مُسْلِمٌ : بَابُ مَا يَلْحَقُ الْاِنْسَانَ مَنَ الثَّوَابِ بعْدَ وَفَاتِه )

৩. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়াহ। ২. এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকার লাভ করা যায়। ৩. এমন নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, বাবু মা ইয়ালহাকুল ইনসানা মিনাছ সাওয়াবে বা-দা ওফাতিহি : ৩০৮৪)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ مَنْ سَلَكَ طَريْقًا يَلْتَمِسْ فِيْهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهٗ لَهٗ طَرِيْقًا اِلَى الْجَنَّةِ ــ (تِرْمِذِىْ : بَابُ فَضْلِ طَلْبِ ا لْعِلْمِ

৪. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করার জন্য কোন পথে চলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন। (তিরমিযী, বাবু ফাদলি তলাবিল ইলমি: ২৫৭০)

 

ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ

·         আল-কুরআন

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰی تِجَارَةٍ تُنْجِیْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تُجَاهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَۙ

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আমি কি তোমাদেরকে ঐ ব্যবসায়ের কথা বলব, যা তোমাদেরকে কষ্টদায়ক আজাব থেকে বাঁচাবে? তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান আন এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য অত্যন্ত ভালো, যদি তোমরা তা জান। (সূরা সাফ্-৬১:১০-১১)

وَ مَنْ جَاهَدَ فَاِنَّمَا یُجَاهِدُ لِنَفْسِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ

২. যে চেষ্টা-সাধনা করবে, সে তা নিজের ভালোর জন্যই করবে। নিশ্চয়ই গোটা সৃষ্টি জগতে কারো কাছে আল্লাহর কোনো ঠেকা নাই। (সূরা আনকাবূত-২৯: ৬)

اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ

৩. তোমরা বের হও, হালকা অবস্থায়ই হোক আর ভারী অবস্থায়ই হোক এবং তোমাদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর। তোমরা যদি জানো তাহলে এটাই তোমাদের জন্য ভালো। (সূরা তাওবা-০৯: ৪১)

وَ مَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَ الْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا ۚ وَ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا ۙۚ وَّ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًاؕ

৪. তোমাদের কি হলো যে, তোমরা ঐসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর পথে লড়াই করছ না, যাদেরকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে এবং যারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিমদের এ জনপদ থেকে উদ্ধার করো। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারীর ব্যবস্থা কর। (সূরা নিসা-০৪: ৭৫)

اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ الطَّاغُوْتِ فَقَاتِلُوْۤا اَوْلِیَآءَ الشَّیْطٰنِ ۚ اِنَّ كَیْدَ الشَّیْطٰنِ كَانَ ضَعِیْفًا۠

৫. যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কুফরি করেছে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে। তাই শয়তানের সাথীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও। জেনে রাখ, শয়তানের চাল আসলে বড়ই দুর্বল। (সূরা নিসা-০৪: ৭৬)

وَ قُلْ رَّبِّ اَدْخِلْنِیْ مُدْخَلَ صِدْقٍ وَّ اَخْرِجْنِیْ مُخْرَجَ صِدْقٍ وَّ اجْعَلْ لِّیْ مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطٰنًا نَّصِیْرًا

৬. আর দোয়া করো, যে আমার রব! আমাকে যেখানেই তুমি নিয়ে যাও সত্যতার সাথে নিয়ে নাও এবং যেখান থেকেই বের করো সত্যতার সাথে বের করো এবং তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত ব্যক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও। (সূরা বানী ইসরাইল-১৭:৮০) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন-সূরা বাকারা-৮৫, ১৯৩,২১৬,২১৮,২৫৬, সূরা আলে ইমরান- ১৩,১৪০-১৪৩,১৫১,১৫২-১৫৫,১৫৮,১৬৫-১৭১, সূরা নিসা- ৭৪,৮৪,৯৫,১০২. সূরা মায়েদা-৩৫,৫৪, সূরা আরাফ-৫৪. সূরা আনফাল- ১৫-১৮,৩৯,৪১-৪৮,৬০,৬৫, সূরা তাওবা -১৩-১৬,২০-২৬,৩৬,৩৮,৩৯,৭৩,১২৩, সূরা ইউনুস- সূরা ইউসুফ-৪০, সূরা হাজ-৩৯,৪১,৭৮, সূরা নূর- ৫৫, সূুরা আনকাবুত-৬৯, সূরা আহযাব-২৫-২৭, সূরা শূ-রা- ১৩, সূরা মোহাম্মদ-৪,৭,২০, সূরা ফাতাহ-২৫, সূরা হুজরাত -১৫, সূরা হাদিদ-২৫, সূরা মোজাদালাহ- সূরা সফ-৪,১১,১৪,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ ذَرٍّ (رضـ) قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَىُّ الْاَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ اَلْاِيْمَانُ بِاللهِ وَالْجِهَادُ فِىْ سَبِيْلِه ـ (مُسْلِمٌ: بَابُ بَيَانِ كَوْنِ الْاِيْمَانِ بِاللهِ تَعَالٰى أَفْضَلُ الْاَعْمَالِ)

১. হযরত আবুযর গিফারী ” বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল সাঃ , সবচেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তার পথে জিহাদ। (মুসলিম : বাবু বায়ানি কাওলিন ঈমানি বিল্লাহি তায়ালা আফদালুল আ’মালি- ১১৯)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ (رضـ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى رَأْسِ الْاَمْرِ وَعُمُوْدِهِ وَذَرْوَةَ سَنَامَهِ أَمَّا رَأْسُ الْاَمْرِ فَالْاِسْلَامُ فَمَنْ أَسْلَمَ سَلِمَ وَأَمَّا عُمُوْدُه فَالصَّلَاةُ وَأَمَّا ذَرْوَةَ سَنَامِهِ فَالْجِهَادُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ ـ (مُسْنَد اَحْمَدَ: حَدِيْثُ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ)

২. হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ # বলেছেন, আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল সূত্র, তার খুঁটি এবং সর্বোচ্চ চূড়ার সন্ধান দিব না? রাসূল সাঃ তার ইতিবাচক সাড়া পেয়ে বললেন, দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, সুতরাং যে ইসলাম গ্রহণ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে, খুঁটি হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। (মুসনাদে আহমাদ: হাদিস মুয়ায ইবনে জাবাল ” : ২১০৫৪)

عَنْ أَنَسٍ (رضـ) عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ جَاهِدُوْا الْمُشْرِ كِيْنَ بِأَمْوَا لِكُمْ وَأَيْدِيْكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ ــ (اَلنَّسَائِىْ : بَابُ وُجُوْبِ الْجِهَادِ)

৩. হযরত আনাস ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা তোমাদের সম্পদ, হাত ও মুখ দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো। (নাসায়ী: বাবু উজুবিল জিহাদি: ৩০৪৫)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَغَدْوَةٌ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ أَوْ رَوْ حَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ــ (بُخَارِىْ : بَابُ الْغَدْوَةِ و الرَّوْحَةَ فَىْ سَبِيْلِ اللهِ)

৪. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহর পথে একটি সকাল ও একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও এর সমস্ত সম্পদ থেকে উত্তম। (বুখারী, বাবুল গাদওয়াতি ওয়ার রাওহাতি ফি সাবিল্লিহি: ২৫৮৩)

عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ وَضَعَ رِجْلَهٗ فِى الْغَرْزِ اىُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ كَلِمَةُ حَقٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ (نَسَائِى : بَابُ فَضْلِ كَنْ تَكَلَّمَ بَالْحَقَّ عِنْدَ اِمَامٍ جَائِرِ)

৫. হযরত তারেক ইবনে শিহাব ” থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাঃ ঘোড়ার জিনে পা রাখার সময় এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল, উত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন, অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা। (নাসায়ী, বাবু ফাদলি মান তাকাল্লামা বিল হাক্কি ইনদা ইমামিন জায়িরিন : ৪১৩৮)

عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ قَالَ اَدْركَنِىْ أَبُوْ عَبْسٍ وَأَنَا أَذهَبُ اِلَى الْجُمُعَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهْ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنِ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ حَرَّمَهُ اللهِ عَلَى النَّارِ ــ (بُخَارِىْ : بَابُ الْمَشْىِ اِلَى الْجُمُعَةِ)

৬. হযরত আবায়া ইবনে রিফায়া ” বলেন, আমি জুময়ার দিকে যাওয়ার সময় আবু আবছের সাথে সাক্ষাৎ হলো। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর পথে যার পদযুগল ধুলোয় মলিন হলো আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। (বুখারী, বাবুল মাশয়ি ইলাল জুময়াতি: ৮৫৬)

আনুগত্য

·         আল-কুরআন

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَ اُولِی الْاَمْرِ مِنْكُمْ ۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللّٰهِ وَ الرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا۠

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! (যদি তোমরা সত্যি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান এনে থাক তাহলে) আল্লাহকে মেনে চল এবং রাসূলকে মেনে চল। আর তোমাদের মধ্যে যাদের হুকুম দেয়ার অধিকার আছে তাদেরকেও (মানো)। তারপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনা বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং শেষ ফলের দিক দিয়েও এটাই ভাল। (সূরা নিসা-০৪: ৫৯)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَ لَا تُبْطِلُوْۤا اَعْمَالَكُمْ

২. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ ও রাসূলের কথামতো চল। আর নিজেদের আমল নষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মদ-৪৭: ৩৩)

وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ یَخْشَ اللّٰهَ وَ یَتَّقْهِ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ

৩. যারা আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম পালন করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম। (সূরা নূর-২৪: ৫২)

وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَۚ

৪. আর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, আশা করা যায় তোমাদের উপর রহমত করা হবে! (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৩২)

تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ ؕ وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ

৫. এসব আল্লাহর সীমা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মেনে চলবে তাকে আল্লাহ এমন সব বাগানে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে ঝরনা বইতে থাকবে। তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। আর এটাই বড় সফলতা। (সূরা নিসা-০৪: ১৩)

উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা আলে ইমরান-৩১,৩২,১৪৪, সূরা নিসা-৬৯,৮০, সূরা মায়েদা -২,৯২, সূরা আনফাল-২০,২৪,২৭, সূরা নূর-৫১-৫৪,৬২, সূরা শূয়ারা-১৩১, সূরা আহযাব-৩৬,৭১, সূরা হুজুরাত-১৪,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً.

১. আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। নবী সাঃ বলেছেন: যে ব্যক্তি আনুগত্যের গন্ডি থেকে বের হয়ে যায় এবং জা’মায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অতঃপর মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু হয় জাহিলিয়াতের মৃত্যু। (মুসলিম, ইমারাহ, হাদিস নং ৫৩ (১৮৪৮)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ اَنَّه سَمِـعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : وَمَنْ يُّطِعِ الْاَمِيْرَ فَقَدْ اَطَاعَنِىْ وَمَنْ يَّعْصِ الْاَمِيْرَ فَقَدْ عَصَانِىْ.

২. হযরত আবু হুরায়রা ” হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করলো সে আমারই আনুগত্য করলো। আর যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্য হলো সে আমারই অবাধ্য হলো। (বুখারী: অধ্যায় ৫৬ জিহাদ, অনুচ্ছেদ ১০৮ নেতার আদেশ শ্রবণ ও তার আনুগত্য করা, হাদিস নং-২৯৫৫)

 

পরামর্শ

আল-কুরআন

فَبِمَا رَحْمَۃٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ ۚ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِکَ ۪ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ ۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَکَّلْ عَلَی اللهِ ؕ اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُتَوَکِّلِیْنَ

১. হে রাসূল! এটা আল্লাহর বড়ই রহমত যে, আপনি এসব লোকের জন্য খুব নরম মেজাজবিশিষ্ট হয়েছেন। তা না হয়ে যদি আপনি কড়া ও পাষাণ মনের অধিকারী হতেন তাহলে তারা সবাই আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। তাদের দোষ মাফ করে দিন, তাদের পক্ষে মাগফিরাতের দোয়া করুন এবং দীনের কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। তারপর যখন আপনি কোনো মতের উপর মজবুত সিদ্ধান্তে পৌঁছেন তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ ঐসব লোককে ভালোবাসেন, যারা তাঁরই ভরসায় কাজ করে। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৫৯)

وَ الَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمْ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ۪ وَ اَمْرُهُمْ شُوْرٰی بَیْنَهُمْ ۪ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ

২. আর যারা তাদের রবের হুকুম মেনে চলে ও নামাজ কায়েম করে নিজেদের সব কাজ পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে চালায় এবং তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছে তা থেকে খরচ করে। (সূরা শুরা-৪২: ৩৮)

لَا خَیْرَ فِیْ کَثِیْرٍ مِّنْ نَّجْوٰىهُمْ اِلَّا مَنْ اَمَرَ بِصَدَقَۃٍ اَوْ مَعْرُوْفٍ اَوْ اِصْلَاحٍۭ بَیْنَ النَّاسِ ؕ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِکَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللهِ فَسَوْفَ نُؤْتِیْـهِ اَجْرًا عَظِیْمًا

৩. তাদের বেশির ভাগ গোপন শলাপরামর্শেই কোন মঙ্গল থাকে না অবশ্য যদি কেউ গোপনে কাউকে দান-খয়রাত করার জন্য আদেশ করে অথবা কোন কাজ অথবা জনগণের মধ্যে সংশোধনমূলক কজের তাগিদ দেয় (তাহলে তা ভাল) আর যদি কেউ এসব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে তাহলে তাকে আমি বিরাট প্রতিদান দেবো। (সূরা নিসা-৪:১১৪) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা বকারা -২৩৩,

 

·         হাদিস

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَانَ أُمَرَا ئُكُمْ خِيَارَكُمْ وَ اَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَائَـكُمْ وَ أُمُوْرُكُمْ شُوْرٰى بَيْنَكُمْ فَظَهْرُ الْاَرْضَ خَيْرٌ لَّكُمْ مِنْ بَطْنِهَا وَ اِذَا كَانَ اُمَرَائُكُمْ شِرَارَكُمْ وَاَغْنِيَاؤُكُمْ بُخَلَائَـكُمْ وَ اُمُوْرُكُمْ اِلٰى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الْارْضِ خَيْرٌ لَّكُمْ مِنْ ظَهْرِهَا ـ (تِرْمِذِىْ : بَابَ مَا جَاءَ فِى النَّهْىِ عَنْ سَبِّ الرِّيَاحِ ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

 

১. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ # বলেছেন, যখন তোমাদের নেতারা হবেন ভালো মানুষ, ধনীরা হবেন দানশীল এবং তোমাদের কার্যক্রম চলবে পরামর্শের ভিত্তিতে তখন মাটির উপরিভাগ নিচের ভাগ হতে উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের নেতারা হবে খারাপ লোক, ধনীরা হবে কৃপণ এবং নেতৃত্ব যাবে নারীদের হাতে, তখন পৃথিবীর উপরের অংশের চেয়ে নিচের অংশ হবে উত্তম। (তিরমিযী: বাবু মা জা’আ ফিন নাহি আন সাব্বির রিয়াহি, ২১৯২, আলবানী একে দুর্বল বলেছেন)

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللهَ وَ اَثْنٰى عَلَيْهِ وَ قَالَ مَا تُشِيْرُوْنَ عَلَىَّ فِىْ قَوْمٍ يَسُبُّوْنَ أَهْلِىْ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِمْ مِنْ سُوْءٍ قَطْ ـ (بُخَارِىْ: بَابَ قُوْلِ اللهِ تَعَالٰى (وَاَمْرُهُمْ شُوْرٰى بِيْنَهُمْ)

২. হযরত আয়েশা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ # লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পরে তিনি বললেন, যারা আমার পরিবারের কুৎসা করে বেড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কে আমার প্রতি তোমাদের কী পরামর্শ আছে? আমি কখনও তাদের মধ্যে কোনরূপ মন্দ কিছু দেখি নাই। (বুখারী: বাবু ক্বাওলিল্লাহি তায়ালা ‘ওয়া আমরুহুম শুরা বাইনাহুম’ ৬৮২২)

 

ইহতেসাব

আল-কুরআন

اِقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِیْ غَفْلَۃٍ مُّعْرِضُوْنَ ۚ

১. লোকদের হিসাব-নিকাশের সময় খুব কাছে এসে গেছে। অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে পড়ে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। (সূরা আম্বিয়া-২১: ১)

وَ اِنَّهٗ لَذِكْرٌ لَّکَ وَ لِقَوْمِکَ ۚ وَ سَوْفَ تُسْـَٔلُوْنَ

২. আসলে সত্য হলো, এ কিতাব আপনার ও আপনার কওমের জন্য বিরাট মর্যাদার বিষয় এবং এ জন্য তোমাদেরকে শিগগিরই জবাবদিহি করতে হবে। (সূরা যুখরুফ-৪৩: ৪৪)

اِنَّ اِلَیْنَاۤ اِیَابَهُمْ ড় ثُمَّ اِنَّ عَلَیْنَا حِسَابَهُمْ

৩. এদেরকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে। এরপর তাদের হিসাব নেয়া আমারই দায়িত্ব। (সূরা গাশিয়াহ, ৮৮: ২৫-২৬)

ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ یَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِیْمِ

৪. তারপর সেদিন (দুনিয়ার সব) নিয়ামত সম্বন্ধে অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা তাকাসুর-১০২: ৮) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন-সূরা আরাফ- ৬, সূরা নাহল-৯৩, সূরা হুজুরাত-১০,১২

 

তাকওয়া

আল কুরআন

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহকে তেমনি ভয় কর, যেমন ভয় করা উচিত। আর মুসলিম অবস্থায় ছাড়া যেন তোমাদের মৃত্যু না হয়। (সূরা আলে ইমরান- ০৩: ১০২)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ لْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ

২. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করে চল! প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত যে, সে আগামী দিনের জন্য কী ব্যবস্থা করেছে। আল্লাহকে আরো ভয় করে চল। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সব আমলের খবর রাখেন। (সূরা হাশর-৫৯: ১৮)

اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّ الَّذِیْنَ هُمْ مُّحْسِنُوْنَ۠

৩. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন, যারা তাকওয়ার জীবনযাপন করে এবং যারা ইহসানের সাথে আমল করে। (সূরা নাহ্ল-১৬: ১২৮)

اِنَّ اَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللّٰهِ اَتْقٰىكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ

৪. নিশ্চয়ই আল্লাহ্র নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত, যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত। (সূরা আল হুজুরাত ৪৯:১৩)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ كُوْنُوْا مَعَ الصّٰدِقِیْنَ

৫. হে ঈমানদার লোকেরা! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদী লোকদের সঙ্গী হও। (সূরা আত তাওবা ৯:১১৯) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন, সূরা বাকারা-১২৩,১৮৯,১৯৭, সূরা আলে ইমরান-২০০, সূরা নিসা-১,৭৭, সূরা মায়েদা-২,৪,৭, সূরা আনয়াম-১৫৫, সূরা তাওবা-১১৯, সূরা ম’মিনূন-৫২, সূরা নূর-৫২, সূরা শূয়ারা-১১০, সূরা আহযাব-১,৭০, সূরা হুজুরাত-১,১৩, সূরা হাদীদ-২৮, সূরা মোজাদালাহ-৯, সূরা হাশর-৭, সূরা তাগাবুন-১৬, সূরা তালাক-২,৪,৫, সূরা মুলক-১২

 

·         হাদিস

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا عَائِشَةُ اِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوْبِ فَاِنَّ لَهَا مِنَ اللهِ طَالِبًا ـ (اَلسِّلْسِلَةُ الصَّحِيْحَةُ لِلْاَلْبَانِىْ)

১. হযরত আয়েশা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ তাকে বলেছেন, হে আয়েশা ছোট-খাট গুনাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও, কেননা এর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (সিলসিলাতুস সহীহা লিল আলবানী, ২৭৩১)

عَنْ عَطِيَّةَ السَّعْدِىْ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَّـكُوْنَ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ حَتّٰى يَدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِه حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَـأْسُ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابُ مَا جَاءَ فِى صِفَةِ أَوَانِى الْحَوْضِ)

২. হযরত আতিয়া আসআ’দী ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, কোন বান্দাহ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে গুনাহের আশঙ্কায় গুনাহ নেই এমন কাজও ছেড়ে দেবে। (তিরমিযী : বাবু মা জা আ ফি সিফাতি আওয়ানিল হাউদ, ২৩৭৫)

পর্দা

·         আল কুরআন

قُلْ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ یَغُضُّوْا مِنْ اَبْصَارِهِمْ وَ یَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ؕ ذٰلِكَ اَزْكٰی لَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌۢ بِمَا یَصْنَعُوْنَ

১. (হে নবী!) মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন নিজেদের চোখ নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র নিয়ম। তারা যা কিছু করে আল্লাহ এর খবর রাখেন। (সূরা নূর-২৪: ৩০)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتًا غَیْرَ بُیُوْتِكُمْ حَتّٰی تَسْتَاْنِسُوْا وَ تُسَلِّمُوْا عَلٰۤی اَهْلِهَا ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ

২. হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ঘর ছাড়া অন্যদের ঘরে তাদের অনুমতি ছাড়া এবং তাদেরকে সালাম পাঠানো ছাড়া কখনও ঢুকবে না। এ নিয়ম তোমাদের জন্যই ভালো। আশা করা যায় যে, তোমরা এ বিষয়ে খেয়াল রাখবে। (সূরা নূর-২৪: ২৭)

وَ اِذَا بَلَغَ الْاَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْیَسْتَاْذِنُوْا كَمَا اسْتَاْذَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ

৩. যখন তোমাদের সন্তানরা সাবালক হয়ে যায় তখন তারা অবশ্যই যেন তেমনিভাবে অনুমতি নিয়ে আসে, যেমনিভাবে তাদের বড়রা অনুমতি নিয়ে এসে থাকে। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলো তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাকুশলী। (সূরা নূর-২৪: ৫৯)

وَٱلَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ○

৪. আর যারা (সফল মু’মিনদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা) নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। (সূরা মুমিনূন-২৩: ৫)

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ قَدْ اَنْزَلْنَا عَلَیْكُمْ لِبَاسًا یُّوَارِیْ سَوْاٰتِكُمْ وَ رِیْشًا ؕ وَ لِبَاسُ التَّقْوٰی ۙ ذٰلِكَ خَیْرٌ ؕ ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ

৫. হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের প্রতি পোশাক নাজিল করেছি, যাতে তোমাদের শরীরের লজ্জাস্থান ঢাকা যায় এবং শরীরের হেফাযত ও সাজ-সজ্জা হয়। আর তাকওয়ার পোশাকই সবচেয়ে ভালো। এটা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন। হয়তো লোকেরা এ থেকে উপদেশ নেবে। (সূরা আ’রাফ-০৭: ২৬) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা-২২১. সূরা নিসা-২৩,২৫, সূরা ম’মিনূন-৫, সূরা নূর- ১৯,৩১,৫৮,৬০. সূরা আহযাব-৩২-৩৩,৫৩,৫৯,

 

·         হাদিস

عَنْ جَرِيْرٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظْرَةِ الْفُجَأَةِ فَقَالَ اِصْرِفْ بَصَرَكَ ـ (اَبُوْ دَاودَ: بَابُ مَا يَؤُمَرُ بِه مِنْ غَضِّ الْبَصَرِ)

১. হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম, হঠাৎ যদি কোন মহিলার উপর দৃষ্টি পড়ে তাহলে কী করতে হবে? তিনি আমাকে বললেন (কাল বিলম্ব না করেই) তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবে। (আবু দাউদ: বাবু মা ইউমার বিহি মিন গাচ্ছিল বাছার, ১৮৩৬)

عَنْ عَلِـىٍّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِـىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُتْبِـعِ النَّظْرَ النَّظْرَ فَاِنَّ الْاُوْلٰى لَكَ وَلَيْسَتْ لَكَ الْاَخِيْرَةُ ـ (اَحْمَدْ: مُسْنَدِ عَلِـىٍّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ)

২. হযরত আলী ” হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে বললেন, (অপরিচিত নারীর প্রতি) একবার দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার, পরবর্তী দৃষ্টি তোমার নয়। (মুসনাদে আহমাদ: মুসনাদে আলী (রা), ১২৯৮)

عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَلْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَاِذَا خَرَجَتْ اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابُ مَا جَاءَ فِىْ كَرَاهِيَةِ الدُّخُوْلِ عَلَى الْمُغِيْبَاتِ)

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, মহিলারা হলো পর্দায় থাকার বস্তু। যখন সে (পর্দা উপেক্ষা করে) বাহিরে আসে তখন শয়তান তাকে সুসজ্জিত করে দেখায়। (তিরমিযী: বাবু মা জা’আফি কারাহিয়াতিদ দুখুলি আলাল মুগিবাতি, ১০৯৩)

বাইয়াত

·         আল-কুরআন

اِنَّ الَّذِیْنَ یُبَایِعُوْنَكَ اِنَّمَا یُبَایِعُوْنَ اللّٰهَ ؕ یَدُ اللّٰهِ فَوْقَ اَیْدِیْهِمْ ۚ فَمَنْ نَّكَثَ فَاِنَّمَا یَنْكُثُ عَلٰی نَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ اَوْفٰی بِمَا عٰهَدَ عَلَیْهُ اللّٰهَ فَسَیُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا۠

১. (হে রাসূল!) যারা আপনার হাতে বাইয়াত করছিল তারা (আসলে) আল্লাহর কাছে বাইয়াত করছিল, তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাত ছিল। এখন যে এ ওয়াদা ভঙ্গ করবে এর কুফল তার উপরই পড়বে। আর আল্লাহর সাথে ওয়াদা করে যে তা পূরণ করবে, আল্লাহ শিগগিরই তাকে বড় পুরস্কার দেবেন। (সূরা ফাত্হ-৪৮: ১০)

لَقَدْ رَضِیَ اللّٰهُ عَنِ الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ یُبَایِعُوْنَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ فَاَنْزَلَ السَّكِیْنَةَ عَلَیْهِمْ وَ اَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِیْبًاۙ

২. (হে রাসূল!) আল্লাহ তায়ালা মু’মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন, যখন তাকে গাছের তলায় আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছিল। তাদের মনের অবস্থা তাঁর জানা ছিল। তাই তিনি তাদের উপর সান্ত¡না নাজিল করলেন এবং পুরস্কার হিসেবে নিকটবর্তী বিজয় দান করলেন। (সূরা ফাত্হ-৪৮: ১৮)

اِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ اَنْفُسَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ؕ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَ یُقْتَلُوْنَ ۫ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىةِ وَ الْاِنْجِیْلِ وَ الْقُرْاٰنِ ؕ وَ مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِكُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِهٖ ؕ وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ

৩. (আসলে ব্যাপার হলো) আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল বেহেশতের বদলে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, (দুশমনকে) মারে এবং (নিজেরাও) নিহত হয়। তাদেরকে (বেহেশত দেওয়ার ওয়াদা) আল্লাহর দায়িত্ব একটি মজবুত ওয়াদা-যা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে (করা হয়েছে)। ওয়াদা পালনে আল্লাহর চেয়ে বেশি যোগ্য আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে বেচাকেনার কারবার করেছ, সে বিষয়ে খুশি হয়ে যাও। এটাই সবচেয়ে বড় সফলতা। (সূরা তাওবা-০৯: ১১১)

قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ

৪. আপনি বলুন! আমার নামায, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ্রই জন্য। (সূরা আল আন‘আম ৬:১৬২)

بَلٰی مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ وَ اتَّقٰی فَاِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ

৫. আর যে ব্যক্তি তার ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) পূর্ণ করবে এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করবে (সে আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়ভাজন হবে)। আর নিশ্চিতভাবে আল্লাহ পাক মুত্তাকিদের ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান-৩:৭৬) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন, আলে ইমরান- ৭৭, সূরা নিসা- ৭৪, সূরা তাওবা ১১১, সূরা মুমতাহিন- ১২, সূরা নাহল- ৯১,

 

·         হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِىَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَه وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِىْ عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً ـ (مُسْلِمْ: بَابُ وُجُوْبِ مُلَازَمَةِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ)

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ” বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে তার হাতকে খুলে ফেলল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এমনভাবে যে তার বলার কিছু থাকবে না, আর যে ব্যক্তি বাইয়াতের বন্ধন ছাড়াই মারা গেল সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম: বাবু উজুবি মুলাযামাতি জামায়াতিল মুসলিমিন: ৩৪৪১)

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا اِذَا بَايَعَنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقُوْلُ لَنَا فِيْمَا اسْتَطَعْتُمْ ـ (بُخَارِىْ: بَابُ كَيْفَ يُبَايِـعُ الْاِمَامُ النَّاسَ)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতাম শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর। আর তিনি আমাদেরকে সামর্থ্য অনুযায়ী উক্ত আমল করতে বলতেন। (বুখারী: বাবু কাইফা ইউবায়িউল ইমামুন নাসা, ৬৬৬২)

 

 

 

তাওবা

আল-কুরআন

اَفَلَا یَتُوْبُوْنَ اِلَی اللهِ وَیَسْتَغْفِرُوْنَهٗ ؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ

১. তবে কি তারা আল্লাহর নিকট তাওবা করবে না এবং তাঁর কাছে মাফ চাইবে না? আল্লাহ তো বড়াই ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। (সূরা মায়িদা-০৫: ৭৪)

وَالَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِهَا وَ اٰمَنُوْۤا ۫ اِنَّ رَبَّکَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ

২. যারা বদ আমল করে, তারপর তাওবা করে ও ঈমান আনে; নিশ্চয়ই আপনার রব তাওবা ও ঈমানের পর বড়ই ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। (সূরা আ’রাফ-০৭: ১৫৩)

فَمَنْ تَابَ مِنْۢ بَعْدِ ظُلْمِهٖ وَاَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ یَتُوْبُ عَلَیْهِ ؕ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ

৩. অতঃপর যে জুলুম করার পর তাওবা করে এবং নিজকে সংশোধন করে নেয় নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও মেহেরবান। (সূরা মায়িদা: ০৫: ৩৯) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা আলে ইমরান -১৩৫, সূরা নিসা -১৭,১৮, সূরা নুর-৩১, সূরা শু’রা -৪২,

 

·         হাদিস

عَنْ اِبْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ اللهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ ـ (تِرْمِذِىْ : بَابُ فِىْ فَضْلِ التَّوْبَةِ وَ الْاِسْتِغْفَارِ)

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ” নবী করীম সাঃ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুও যন্ত্রণা শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বান্দার তাওবা কবুল করেন। (তিরমিযী: বাবু ফি ফাদলিত তাওবাতি ওয়াল ইস্তেগফারি, ৩৪৬০)

عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُ اَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِه مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلٰى بَعِيْرِه وَعَدْ أَضْلَّهٗ فِىْ أَرْضٍ فُلَاةٍ ـ (بُخَارِى: بَابُ التَّوْبَةِ)

২. হযরত আনাস ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাহর তাওবায় তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যার উট মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর সে তা ফিরে পেল। (বুখারী বাবুত তাওবাতি, ৫৮৩৪)

 

মুমিনদের গুণাবলি

আল কুরআন

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّـهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴿٢﴾ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣﴾ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٤﴾

১. সাচ্চা ঈমানদার তো ঐসব লোক, যাদের দিল আল্লাহর কথা শুনলে কেঁপে ওঠে, যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা তাদের রবের উপর ভরসা রাখে, যারা নামাজ কায়েম করে এবং যা কিছু আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে (আমার পথে) খরচ করে। এরাই ঐসব লোক, যারা সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে বড় মর্যাদা, গুনাহের ক্ষমা ও উত্তম রিজিক আছে। (সূরা আনফাল, ০৮: ২-৪)

الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٦﴾ الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ ﴿١٧﴾

২. তারা ঐসব লোক, যারা বলে: হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের গুনাহ্ মাফ কর এবং আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে বাঁচাও। এসব লোক ধৈর্যশীল, সত্যপন্থী, অনুগত, দানশীল ও শেষরাতে আল্লাহর কাছে গুণাহ মাফ চায়। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৬-১৭)

اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ اِخْوَةٌ فَاَصْلِحُوْا بَیْنَ اَخَوَیْكُمْ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۠

৩. মু’মিনরা তো একে অপরের ভাই। তাই তোমাদের ভাইদের মধ্যে সুসম্পর্ক বহাল করে দাও। আল্লাহকে ভয় কর। আশা করা যায়, তোমাদের উপর দয়া করা হবে। (সূরা হুজুরাত: ৪৯: ১০)

اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللّٰهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِهٖ ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ

৪. আল্লাহ যদি তোমাদেরকে সাহায্য করেন তাহলে কোন শক্তি তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনিই যদি তোমাদেরকে ত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর পরে আর কে আছে, যে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে। কাজেই যারা সাচ্চা মুমিন তাদেরকে আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান: ০৩ঃ১৬০)

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١﴾ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ﴿٢﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ﴿٣﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ ﴿٤﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٥﴾

৫. অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে। যার তাদের নামাজে বিনয়ী ও ভীত থাকে। যারা বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকে। যারা যাকাতের ব্যাপারে কর্মতৎপর হয়। যারা তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। (সূরা মু’মিনূন ২৩:১-৫) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন- সূরা বাকারা-২৫৭, সূরা নিসা-৬৭, সূরা মায়েদা-৫১, সূরা তাওবা-১১১, ১১২, ১২২, সূরা রা’দ-২৮, সূরা ইব্রাহিম-২৭, সূরা নাহল-৯৭, সূরা মারইয়াম-৯৬, সূরা হাজ-৩৫, সূরা নূর-৫১,৫২,৫৫,৫২, সূরা ফুরকান-৬৩-৭৪, সূরা আনকাবুত-৭, সূরা রোম-৪৭, সূরা লোকমান-৩-৫,৮,৯,১৭-১৯, সূরা আহযাব-৩৫,৪৭, সূরা শূ-রা-৩৭-৩৯, সূরা হুজুরাত-৭,১০,১৫,

 

·         হাদিস

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْمُسْلِمُوْنَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ اِنِ اشْتَكٰى عَيْنُه اِشْتَكٰى كُـلُّه وَاِنِ اشْتَكٰى رَأْسُه اِشْتَكٰى كُـلُّه ـ (مُسْلِمٌ: بَابُ تَرَاحُمِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَتَعَاطُفِهِمْ)

১. হযরত নুমান ইবনে বাশির ” হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাঃ বলেছেন, সকল মুসলমান একই ব্যক্তি সত্তার মত। যখন তার চোখে যন্ত্রণা হয়, তখন তার গোটা শরীরই তা অনুভব করে। যদি তার মাথা ব্যথা হয়, তখনও গোটা শরীরই তা অনুভব করে। (মুসলিম: বাবু তারাহুমিল মুমিনীনা ওয়া তায়াতুফি হিম, ৪৬৮৭)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَلْمُؤْمِنُ مَألَفٌ وَلَا خَيْرَ فِيْمَنْ لَا يَأْلَفُ، وَلَا يُؤَلَفُ ـ (مِشْكَـاةُ الْمَصَابِيْحِ ـ بَابُ السَّلَامِ)

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ সাঃ বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি ভালোবাসা ও দয়ার প্রতীক। ঐ ব্যক্তির মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, যে কাউকে ভালোবাসে না এবং কারো ভালোবাসা পায় না। (মিশকাতুল মাসাবীহ: বাবুস সালাম, ৪৯৯৫)

 

ত্যাগ-কোরবানি

·         আল কুরআন

وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْرِیْ نَفْسَهُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ رَءُوْفٌۢ بِالْعِبَادِ

১. (অপর দিকে) মানুষের মধ্যে কেউ এমনও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেয় এবং এমন বান্দাদের উপর আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। (সূরা বাকারা-০২: ২০৭)

اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَ لَمَّا یَعْلَمِ اللّٰهُ الَّذِیْنَ جٰهَدُوْا مِنْكُمْ وَ یَعْلَمَ الصّٰبِرِیْنَ

২. তোমরা কি মনে করেছ, তোমরা এমনিই বেহেশতে চলে যাবে? অথচ আল্লাহ এখনো দেখে নেননি যে, তোমাদের মধ্যে এমন কারা আছে, যারা তাঁর পথে জিহাদ করে এবং (তাঁরই খাতিরে) সবর করতে পারে। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৪২)

وَ لَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَیْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَ الْجُوْعِ وَ نَقْصٍ مِّنَ الْاَمْوَالِ وَ الْاَنْفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیْنَۙ

৩. আমি অবশ্যই ভয়, বিপদ, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি এবং আয় কমিয়ে দিয়ে তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলব। এসব অবস্থায় যারা সবর করে তাদেরকে সুখবর দাও। (সূরা বাকারা-০২: ১৫৫)

أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ ﴿٢﴾ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّـهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ

৪. মানুষ কি মনে করে যে, আমরা ঈমান এনেছি শুধু এটুকু কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদেরকে কোনো পরীক্ষা করা হবে না। অথচ তাদের আগে যারা ছিল তাদের সবাইকে আমি পরীক্ষা করেছি। আল্লাহকে তো অবশ্যই দেখে নিতে হবে যে, (ঈমান এনেছি বলার মধ্যে) কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যুক। (সূরা আনকাবুত-২৯: ২-৩)

مَاۤ اَصَابَ مِنْ مُّصِیْبَةٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَ مَنْ یُّؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ یَهْدِ قَلْبَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ

৫. কোন মুসিবত কখনো আল্লাহর অনুমতি ছাড়া আসে না। যে আল্লাহর উপর ঈমান রাখে আল্লাহ তার অন্তরকে হেদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ সব বিষয়ে জানেন। (সূরা তাগাবুন-৬৪: ১১)

 

·         হাদিস

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِى عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيْهِمْ عَلٰى دِيْنِه كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ـ (تِرْمِذِى: بَابُ مَا جَاءَ فِى النَّهْىِ عَنْ سَبِّ الرِّيَاحِ)

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, মানুষের উপর এমন এক যুগ আসবে, যখন দ্বীনদারের জন্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মত কঠিন হবে। (তিরমিযী: বাবু মা জা.আ আন সাব্বির রিয়াহী, ২১৮৬)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ.

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেন, দুনিয়াটা হলো ঈমানদারদের জন্য কারাগার এবং কাফেরদের জন্য বেহেশত। (মুসলিম)

 

 

ইসলামী অর্থব্যবস্থা

·         আল-কুরআন

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ ۫ وَ لَا تَقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُمْ رَحِیْمًا

১. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে খেয়ো না। সন্তুষ্টচিত্তে লেনদেন করা উচিত। তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই জানবে, আল্লাহ তোমাদের উপর মেহেরবান। (সূরা নিসা-০৪: ২৯)

وَ لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَ تُدْلُوْا بِهَاۤ اِلَی الْحُكَّامِ لِتَاْكُلُوْا فَرِیْقًا مِّنْ اَمْوَالِ النَّاسِ بِالْاِثْمِ وَ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۠

২. তোমরা একে অপরের মাল বেআইনিভাবে খেয়ো না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের মালের অংশ অন্যায়ভাবে দখল করার জন্য বিচারকদের নিকট দাবি পেশ করো না। (সূরা বাকারা-০২: ১৮৮)

وَ فِیْۤ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآىِٕلِ وَ الْمَحْرُوْمِ

৩. এবং তাদের মালের মধ্যে ভিখারি ও বঞ্চিতদের অধিকার ছিল। (সূরা যারিয়াত-৫১: ১৯)

إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّـهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَّن تَبُورَ ﴿٢٩﴾ لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ ۚ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ ﴿٣٠﴾

৪. যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা কিছু রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, নিশ্চয়ই তারা এমন এক ব্যবসায়ের আশা করে, যার মধ্যে কখনো লোকসান হবে না। (এ ব্যবসায়ে তাদের সব কিছু লাগিয়ে দেয়ার কারণ এই যে) যাতে আল্লাহ তাদের বদলা পুরোপুরি তাদেরকে দিয়ে দেন এবং তাঁর মেহেরবানি থেকে আরো বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি গুনাহ মাফ করেন এবং নেক আমলের কদর করেন। (সূরা ফাতির-৩৫: ২৯-৩০)

وَ مَا كَانَ لِنَبِیٍّ اَنْ یَّغُلَّ ؕ وَ مَنْ یَّغْلُلْ یَاْتِ بِمَا غَلَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ

৫. খিয়ানত করা কোনো নবীর কাজ হতে পারে না। আর যে খিয়ানত করে সে কিয়ামতের দিন তার খিয়ানতসহ হাজির হয়ে যাবে। তারপর প্রত্যেক লোকই তার কামাইয়ের পুরা বদলা পাবে এবং কারো উপর কোনো জুলুম করা হবে না। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৬১)

 

·         হাদিস

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيْضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيْضَةِ ـ (بَيْهَقِىْ: شُعَبِ الْاِيْمَانِ، ضَعَّفَهُ الْاَلْبَانِىْ)

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ফরজ ইবাদাতের পরে হালাল রুজির সন্ধান করাও ফরজ। (বায়হাকী, শোয়াবুল ঈমান ৮৪৮২, আলবানী একে’দয়ীফ’ বলেছেন)

عَنْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا أَوْلٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِأَهْلِه وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَعَلَـىَّ وَاِلَـىَّ فَأَنَا أَوْلٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ (صَحِيْحُ اِبْنِ حِبَّانٍ: فَصْلٌ فِى الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ)

২. হযরত জাবের ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, মুমিনদের জন্য আমার ভালোবাসা তার নিজসত্তার চাইতেও বেশি। যে ব্যক্তি (মৃত্যুবরণের সময়) সম্পদ রেখে গেল, তা তার পরিবার পরিজনের জন্য। আর যে ব্যক্তি ঋণ বা অসহায় সন্তান রেখে গেল তার দায় দায়িত্ব আমার উপর। কেননা মুমিনদের প্রতি আমার ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। (সহীহ ইবনু হিব্বান: ফাসলুন ফিস সালতি আলাল জানাযতি, ৩১২৭)

 

 

 

 

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা

·         আল কুরআন

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ

১. তারাই ঐসব লোক, যাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তাহলে তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই হাতে। (সূরা হাজ-২২: ৪১)

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَیْنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرٰىكَ اللّٰهُ ؕ وَ لَا تَكُنْ لِّلْخَآىِٕنِیْنَ خَصِیْمًاۙ

২. হে রাসূল! আমি এ কিতাব হকসহকারে আপনার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, সে অনুযায়ী জনগণের মধ্যে ফয়সালা করেন। আপনি খিয়ানতকারীদের পক্ষ হয়ে ঝগড়া করবেন না। (সূরা নিসা-০৪: ১০৫)

وَ قُلْ رَّبِّ اَدْخِلْنِیْ مُدْخَلَ صِدْقٍ وَّ اَخْرِجْنِیْ مُخْرَجَ صِدْقٍ وَّ اجْعَلْ لِّیْ مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطٰنًا نَّصِیْرًا

৩. এবং দোয়া করুন, হে আমার রব! আমাকে যেখানেই নিয়ে যাও, সত্যতার সাথেই নিয়ে যাও এবং যেখান থেকে বের কর সত্যতার সাথেই বের কর। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে এমন কোনো শক্তি দান কর, যে আমার সাহায্যকারী হবে। (সূরা বনি ইসরাইল- ১৭: ৮০)

اِنَّ رَبَّـكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ۫ یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ یَطْلُبُهٗ حَثِیْثًا ۙ وَّ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ وَ النُّجُوْمَ مُسَخَّرٰتٍۭ بِاَمْرِهٖ ؕ اَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْاَمْرُ ؕ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ

৪. নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের রব, যিনি আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন। যিনি দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন। তারপর দিন রাতের পেছনে দৌড়ে চলে আসে। যিনি সূর্য, চন্দ্র ও তারকা সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর হুকুমের অধীন। সাবধান, সৃষ্টিও তাঁর, হুকুমও তাঁরই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বড়ই বরকতময়। (সূরা আ’রাফ-০৭: ৫৪)

اَفَحُكْمَ الْجَاهِلِیَّةِ یَبْغُوْنَ ؕ وَ مَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ یُّوْقِنُوْنَ۠

৫. (যদি তারা আল্লাহর আইন থেকে মুখ ফিরায়) তাহলে কি তারা আবার জাহিলিয়াতের বিচার-ফয়সালা চায়? অথচ যারা আল্লাহর উপর ইয়াকিন রাখে, তাদের কাছে আল্লাহ থেকে কে বেশি ভালো ফয়সালাকারী হতে পারে? (সূরা মায়িদা-০৫: ৫০)

 

·         হাদিস

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيْرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ فَاِنَّه مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مَيْتَةً جَاهِلِيَّةً ـ (بُخَارِىْ: بَابُ قَوْلِ النَّبِىِّ سَتَرَوْنَ بَعْدِىْ أُمُوْرًا تُنْكِرُوْنَه)

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ” নবী করিম সাঃ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার নেতার মাঝে এমন কিছু দেখে যা অপছন্দনীয় সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি নেতার আনুগত্য থেকে সামান্যতমও দূরে গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল। (বুখারী: বাবু ক্বাওলিন নাবিয়্য সাতারাওনা বা’দি উমুরান তুনকিরুনাহু, ৬৫৩০)

عَنْ أَبِىْ مُوْسَى الْاَشْعَرِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ مِنْ اِجْلَالِ اللهِ اِكْرَامَ ذِى الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامِلِ الْقُرْاٰنِ غَيْرَ الْغَالِىْ فِيْهِ وَالْجَافِىْ عَنْهُ وَاِكْرَامَ ذِى السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ ـ (اَبُوْ دَاؤدَ: بَابُ فِى تَنْزِيْلِ النَّاسِ مَنَازِلَهُمْ)

২. হযরত আবু মুসা আশয়ারী ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, আল-কুরআনের বাহক যদি তাতে অতিরঞ্জিত কিছু না করে তাকে সম্মান করা এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা আল্লাহকে সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ: বাবুন তানজিলিন্নাসি মানজিলাহুম, ৪২০৩)

عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ثَلَاثٌ اَخَافُ عَلٰى أُمَّتِىْ اَلْاِسْتِسْقَاءُ بِالْأَنْوَاءِ وَحَيْفُ السُّلْطَانِ وَتَـكْذِيْبٌ بِالْقَدْرِ ـ (اَحْمَدُ : حَدِيْثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ)

৩. হযরত জাবের ইবনে সামুরা ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি, আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে তিনটি বিষয়ের আশঙ্কা করি ১. তারকারাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা ২. শাসকদের পক্ষ থেকে অত্যাচার ৩. তাকদিরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। (আহ্মাদ: হাদিস জাবের ইবনে সামুরাতা, ১৯১৬)

 

আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়

·         আল-কুরআন

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ ؕ۬ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌক্স

১. তোমাদের ঐসব জিনিস, যা তোমরা ভালোবাস তা (আল্লাহর পথে) খরচ না করা পর্যন্ত তোমরা নেকি হাসিল করতে পার না। আর তোমরা যা কিছু খরচ করবে তা আল্লাহর অজানা থাকবে না। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ৯২)

اَلَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ لَا یُتْبِعُوْنَ مَاۤ اَنْفَقُوْا مَنًّا وَّ لَاۤ اَذًی ۙ لَّهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَ لَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ

২. যারা তাদের মাল আল্লাহর পথে খরচ করে এবং এরপর তা বলে বেড়ায় না ও কষ্ট দেয় না, তাদের পুরস্কার তাদের রবের কাছে রয়েছে। তাদের কোন চিন্তা ও ভয়ের কারণ নেই। (সূরা বাকারা-০২: ২৬২)

وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَكُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ- وَ لَنْ یُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُهَا ؕ وَ اللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ۠

৩. আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগেই তা থেকে তোমরা খরচ কর। মৃত্যুর সময় সে বলে, হে আমার রব! আমাকে কেন আরেকটু সময় দিলে না, তাহলে আমি দান করতাম ও নেক লোকদের মধ্যে শামিল হতাম। অথচ যখন কারো (কাজ করার) সময় পূর্ণ হয়ে যায় তখন আল্লাহ এর খবর রাখেন। (সূরা মুনাফিকুন: ৬৩: ১০-১১)

الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الْكٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَ الْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَۚ

৪. যারা সব অবস্থায়ই নিজেদের মাল খরচ করে খারাপ অবস্থাই থাকুক আর ভালো অবস্থাই থাকুক; যারা রাগকে দমন করে এবং অপরের দোষ মাফ করে দেয়; এমন নেক লোক আল্লাহ খুব পছন্দ করেন। (সূরা আলে ইমরান-০৩: ১৩৪)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا بَیْعٌ فِیْهِ وَ لَا خُلَّةٌ وَّ لَا شَفَاعَةٌ ؕ وَ الْكٰفِرُوْنَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ

৫. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ কর, ঐ দিনটি আসার আগে, যেদিন কোনো কেনাবেচা হবে না, কোনো বন্ধুত্ব কাজে আসবে না এবং কোনো সুপারিশ চলবে না। আসলে তারাই জালিম, যারা কুফরির নীতি গ্রহণ করে। (সূরা বাকারা-০২:২৫৪) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা-১৯৫, ২৪৫, ২৬১, ২৭২, সূরা আলে ইমরান-১৩৪, ৩৬,৬০, সূরা তাওবা- ৩৩-৩৪, ৫৪, ১২১, সূরা ইব্রাহিম-৩১, সূরা মোহাম্মদ-৩৮, সূরা হাদিদ-১০,১১, সূরা মুনাফিকুন -১০-১১,

 

·         হাদিস

عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِىْ سَبِيْلِ اللهِ كُتِبَتْ لَه بِسَبْعِ مِأَةِ ضِعْفٍ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابُ مَاجَاءَ فِىْ فَضْلِ النَّفَقَةِ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ)

১. হযরত খুরাইম ইবনে ফাতেক ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, যে আল্লাহ তায়ালার পথে একটি জিনিস দান করল, তার জন্য সাতশত গুণ সওয়াব লেখা হবে। (তিরমিযী : বাবু মা জা আ ফি ফাদলিন নাফাকাতি ফি সাবিলিল্লাহি, ১৫৫০)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللهُ أَنْفِقْ يَا ابْنَ اٰدَمَ اُنْفِقْ عَلَيْكَ ـ (بُخَارِىْ: بَابُ فَضْلِ النَّفَقَةِ عَلَى الْأَهْلِ)

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করব। (বুখারী : বাবু ফাদলিন নাফাকাতি আলাল আহলি ৪৯৩৩)

 

জান্নাত

·         আল কুরআন

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًاۙ۝۱۰۷ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا لَا یَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا

১. নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তাদের মেহমানদারির জন্য ফিরদাউস নামক বেহেশত রয়েছে, যেখানে তারা চিরদিন থাকবে এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও তারা যেতে চাইবে না। (সূরা কাহফ-১৮:১০৭, ১০৮)

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ ذٰلِکَ الْفَوْزُ الْکَبِیْرُ

২. যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগান, যার নিচে ঝরনাধারা প্রবাহিত হতে থাকবে-এটা বিরাট সফলতা।(সূরা বুরুজ-৮৫:১১)

وَسِیْقَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ اِلَی الْجَنَّۃِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا وَ فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوْهَا خٰلِدِیْنَ

৩. আর যারা তাদের রবকে ভয় করত তাদেরকেও দলে দলে বেহেশতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছবে তখন (দেখা যাবে যে,) বেহেশতের দরজাগুলো আগে থেকেই খুলে রাখা হয়েছে। বেহেশতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা খুব ভালো অবস্থায় ছিলে। বেহেশতে চিরদিনের জন্য এসে যাও। (সূরা যুমার-৩৯ঃ৭৩) বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা-২৫, সূরা আলে ইমরান-১৩৩, ১৮৫, সূরা তাওবা-৭২, সূরা নাহল-৩২, সূরা ইয়াছিন-৫৫-৫৮, সূরা মোহাম্মদ-১৫, সূরা হাশর-২০, সূরা দাহর-১৩,২০,

 

·         হাদিস

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِطَّلَعْتُ فِىْ الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ وَاطَّلَعْتُ فِىْ النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ ـ (بُخَارِىْ : بَابُ مَا جَاءَ فِىْ صِفَةِ الْجَنَّةِ)

১. হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন ” নবী করীম সাঃ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জান্নাতে উঁকি দিয়ে দেখেছি, তার অধিকাংশ অধিবাসীই দরিদ্র। আর জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখেছি তার অধিকাংশ মহিলা। (বুখারী)

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ اَلسَّاعِدِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْضِعُ سَوْطٍ فِىْ الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ـ (بُخَارِىْ: بَابُ مَا جَاءَ فِىْ صِفَةِ الْجَنَّةِ)

২. হযরত সাহল ইবনে সা’দ সায়েদী ” থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, একটি চাবুক রাখার পরিমাণ সম জান্নাতের মর্যাদা গোটা পৃথিবী এবং তার মাঝে যা রয়েছে, তার চাইতেও উত্তম (বুখারী)

 

জাহান্নাম

·         আল-কুরআন

فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا وَلَنْ تَفْعَلُوْا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیْ وَقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَۃُ ۚۖ اُعِدَّتْ لِلْکٰفِرِیْنَ

১. যদি (এখন) তোমরা তা করতে না পার, অবশ্য তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না; তাহলে ঐ আগুনকে ভয় কর, যার লাকড়ি হবে মানুষ ও পাথর এবং যা কাফিরদের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে। (সূরা বাকারা-০২:২৪)

وَالَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَکَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ

২. আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা জাহান্নামি। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। (সূরা-বাকারা: ০২ঃ৩৯)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قُوْۤا اَنْفُسَكُمْ وَ اَهْلِیْكُمْ نَارًا وَّ قُوْدُهَا النَّاسُ وَ الْحِجَارَۃُ عَلَیْهَا مَلٰٓئِکَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعْصُوْنَ اللهَ مَاۤ اَمَرَهُمْ وَ یَفْعَلُوْنَ مَا یُؤْمَرُوْنَ

৩. হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ! নিজেদেরকে ও আপন পরিবার-পরিজনকে ঐ আগুন থেকে বাঁচাও, যার লাকড়ি হবে মানুষ ও পাথর। এবং যার উপর এমন সব ফেরেশতা নিয়োগ করা হবে, যারা খুবই কর্কশ ও কঠোর; যারা কখনো আল্লাহর নাফরমানি করে না এবং যে হুকুমই তাদেরকে দেয়া হয় তা তারা পালন করে। (সূরা তাহরিম ৬৬ : ৬)

وَسِیْقَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْۤا اِلٰی جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ یَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ یَتْلُوْنَ عَلَیْكُمْ اٰیٰتِ رَبِّكُمْ وَ یُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ یَوْمِكُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا بَلٰی وَلٰکِنْ حَقَّتْ کَلِمَۃُ الْعَذَابِ عَلَی الْکٰفِرِیْنَ

৪. (এ ফয়সালার পর) যারা কুফরি করেছিল তাদেরকে দলে দলে দোজখের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছবে তখন দোজখের দরজাগুলো খোলা হবে। দোজখের পাহারাদার তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্যে থেকে রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ শুনিয়েছেন এবং এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, একদিন তোমাদেরকে এ দিনটি দেখতে হবে? তারা জবাবে বলবে, হ্যাঁ, তারা এসেছিল। কিন্তু আজাবের ফয়সালা কাফিরদের উপর জারি হয়ে গেছে।’ (সূরা যুমার-৩৯ঃ৭১) বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা-৩৯,৫৬, সূরা নিসা-১৪,২৬,১১৫, সূরা আনয়াম-২৭-৩১, সূরা আরাফ-৩৬-৪১,৫০-৫১, সূরা কাহ্ফ-২৯, সূরা ত্বহা-৭৪, সূরা আহযাব-৬৪-৬৬, সূরা ফাতের-৩৬, সূরা মোমেন-৭১-৭২, সূরা যোখরুখ-৭৪-৭৬, সূরা মোহাম্মদ-১৫, সূরা মুলক-৬-১১, সূরা নাবা -২১-২৬, সূরা গশিয়াহ-৭,

 

 

·         হাদিস

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لاَ تَزَالُ جَهَنَّمُ تَقُوْلُ هَلْ مِنْ مَزِيْدٍ حَتّٰى يَضَعَ فِيْهَا رَبُّ الْعِزَّةِ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى قَدَمَهٗ فَتَقُوْلُ قَطْ قَطْ وَعِزَّتِكَ وَ يُزْوَى بَعْضُهَا اِلٰى بَعْضٍ ـ (مُسْلِمٌ : بَابُ فِىْ شِدَّةِ حَرِّ نَارِ جَهَنَّمَ وَ بُعْرِهَا )

১. হযরত আনাস ইবনে মালেক ” থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাঃ বলেছেন, জান্নাম অনবরত বলতেই থাকবে আরো (অপরাধী) আছে কি ? এমনকি শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ তায়ালা তার পা দ্বারা তাকে চেপে ধরবেন। অতঃপর জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট, যথেষ্ট। তোমার ইজ্জতের কসম! একাংশ অপরাংশকে নিবিষ্ট করে দিচ্ছে। (মুসলিম ৫০৮৪)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَ حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ ـ (اَحْمَدُ : مُسْنَدِ أَبِىْ هُرَيْرَةَ)

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, জাহান্নামকে লোভনীয় বস্তু দ্বারা আবৃত করে রাখা হয়েছে, আর জান্নাতকে আবৃত রাখা হয়েছে কষ্টকর কার্যদ্বারা। (আহমাদ: মুসনাদে আবি হুরাইরা, ৭২১৬)

 

আত্মশুদ্ধি

·         আল-কুরআন

قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَکّٰی ড় وَ ذَکَرَ اسْمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰی

১. সে-ই সফলকাম হয়েছে, যে পবিত্রতা লাভ করেছে ও আপন রবের নাম স্মরণ করেছে এবং তারপর নামাজ পড়েছে। (সূরা আ’লা-৮৭:১৪-১৫)

صِبْغَۃَ اللهِ ۚ وَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللهِ صِبْغَۃً ۫ وَّنَحْنُ لَهٗ عٰبِدُوْنَ

২. আপনি বলুন, আল্লাহর রং ধারণ কর। তাঁর রং থেকে আর কার রং বেশি সুন্দর হতে পারে? আমরা তাঁরই দাসত্ব করে চলেছি। (সূরা বাকারা-০২ : ১৩৮) উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরও দেখুন সূরা বাকারা- ১৫৩, সূরা আলে ইমরান-১০৩,১৬৪, সূরা আনফাল-২, সূরা তাওবা-১০৩, সূরা হাশর-১, সূরা জুমুয়াহ-২, সূরা মোযাম্মেল -৬-৮

 

·         হাদিস

عَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ قَالَ لِى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اتَّقِ اللهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَ أَتْبِع السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا وَ خَالِقِ النَّاسَ بَخُلْقٍ حَسَنٍ ـ (تِرْمِذِىْ : بَابُ مَا جَاءَفِىْ مُعَاشَرَةِ النَّاسِ)

১. হযরত আবু যর গিফারী ” থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে বলেছেন, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর, আর মন্দ কাজ করলে তার পরপরই সৎ কাজ কর। তাহলে ভালো কাজ মন্দ কাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার কর। (তিরমিযী: বাবু মা জা’আ ফি মুয়াশারাতি নাসি, ১৯১০)

عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حُسْنِ اِسْلَامِ الْمَرْهِ تَرْكُهٗ مَا لَا يَعْنِيْهِ ـ (تِرْمِذِىْ: بَابُ فِيْمَنْ تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ يُضْحِكُ بِهَا النَاسَ )

২. হযরত আবু হুরায়রা ” থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, অশোভনীয় (অনর্থক) কাজ পরিহার করা মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিযী : বাবু ফিমান তাকাল্লামা বিকালিমাতিন ইউদহিকু বিহান্নাসা, ২২৩৯)

 

দায়িত্বশীলের গুণাবলি

·         আল-কুরআন

فَبِمَا رَحْمَۃٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ ۚ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِکَ ۪ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ ۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَکَّلْ عَلَی اللهِ ؕ اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُتَوَکِّلِیْنَ

১. এটা আল্লাহর অনুগ্রহ মাত্র যে আপনি (১) কোমল হৃদয়সম্পন্ন, যদি আপনি কঠোরভাষী ও তিক্ত মেজাজসম্পন্ন হতেন, তাহলে এরা আপনার চার পাশ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেতো। (২) কাজেই এদের ত্রুটিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন (৩) এদের জন্য শাফায়াত (ক্ষমা) চান এবং (৪) বিভিন্ন বিষয়ে এদের সাথে পরামর্শ করুন। (৫) অতঃপর পরামর্শের পর যখন কোন বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প হয়ে যান (৬) তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর উপর) ভরসাকারীদের ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান-৩:১৫৮)

مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ ؕ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیْنَهُمْ تَرٰىهُمْ رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللهِ وَ رِضْوَانًا ۫

২. মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি বজ্র-কঠোর। আর নিজেরা নিজেদের প্রতি বড়ই করুণাশীল। (সূরা আল ফাতাহ-৪৮:২৯)

 

·         হাদিস

عَنْ ابْنَ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْ لُ اللهِ صَلَى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمَ اَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِه فَالْاِ مَامُ الْاَعْظَمُ الَّذِىْ عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِه ـ

১. সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। মুসলমানদের যিনি বড় নেতাও দায়িত্বশীল এবং তাঁকে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهَ صَلَى اللهُ عَلَيْهَ وَسَلَّمِ اِنَّ اللهَ رَفَيْقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِى الْاَمْرِ كُلِّه ـ

২. হযরত আবু হুরায়রা ” হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ নরম আচরণকারী এবং যাবতীয় কার্যক্রমে তিনি নরম আচরণই পছন্দ করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

 

 

ইসলামী আন্দোলন না করার পরিণাম সম্পর্কে

·         আল-কুরআন

إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

১. তোমরা যদি যুদ্ধযাত্রা না কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য কোন জাতি সৃষ্টি করে দেবেন আর তোমরা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তির আধার। (সূরা তওবা, আয়াত-৯:৩৯)

إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا

২. তোমরা যদি নবীর সাহায্য না কর তাহলে সেই জন্য কোনই পরোয়া নেই, আল্লাহ সেই সময়ও তাঁর সাহায্য করেছেন যখন কাফিরগণ তাকে বহিষ্কার করে দিয়েছিল। (সূরা তওবা, আয়াত-৯:৪০)

فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُولِ اللَّهِ وَكَرِهُوا أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَالُوا لَا تَنفِرُوا فِي الْحَرِّ ۗ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا ۚ لَّوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ

৩. যাদেরকে পেছনে থেকে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তারা আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে না যেয়ে ঘরে বসে থাকতে পেরে খুব খুশি হয়েছে এবং খোদার পথে জান ও মাল নিয়োগ করে জিহাদ করা তাদের সহ্য হল না। তারা লোকদের বলল যে, এই কঠিন গরমে বাইরে যেয়ো না তাদেরকে বল যে, জাহান্নামের আগুন তো উহা অপেক্ষা অধিক গরম। হায়, উহাদের যদি এটুকুও চেতনা না হতো! (সূরা তওবা, আয়াত-৯:৮১)

 

 

 

 

 

ব্যক্তিগত রিপোর্ট

·         আল-কুরআন

اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا ١

১. আপন কর্মের রেকর্ড পড়! আজ তোমার নিজের হিসাব দেয়ার জন্য তুমিই যথেষ্ট। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত-১৭:১৪)

إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ ﴿١٧﴾ مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ﴿١٨﴾

২. দু’জন লেখক তাদের ডানে বামে বসে সব কিছু রেকর্ড করে চলেছে। তাদের (মানুষ) মুখ থেকে এমন কথাই বের হয় না যা রেকর্ড করার জন্য একজন সজাগ সচেতন প্রহরী উপস্থিত না থাকবে। (সূরা আল-ক্বাফ, আয়াত-৫০:১৭-১৮)

 

وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ﴿١٠﴾ كِرَامًا كَاتِبِينَ ﴿١١﴾ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾

৩. তোমাদের উপর পরিদর্শক নিযুক্ত রয়েছে, তারা হলেন সম্মানিত লেখকবৃন্দ। যারা তোমাদের প্রত্যেকটি কাজ জানেন যা তোমরা কর। (সূরা ইনফিতার, আয়াত-৮২:১০-১২)

 

·         হাদিস

وَ عَنْ شَدَّادِ بْنِ اَوْسٍ (رضـ) قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (صـ) اَلْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَ عَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِرُ مَنْ اَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهُ وَتَمَنَّى عَلٰى اللهِ ـ

১. হযরত সাদ্দাদ ইবনে আউস ” থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ থেকে বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে সেই প্রকৃত বুদ্ধিমান, আর যে ব্যক্তি নিজেকে কুপ্রবৃত্তির গোলাম বানায় অথচ আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করে সে-ই অক্ষম। (তিরমিজি শরীফ)

 

 

 

আল-কুরআনের দশটি সূরা

·         সূরা ফাতিহা

·         بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿١﴾ الْحَمْدُ لِلَّـهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٢﴾ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ ﴿٣﴾ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿٤﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٥﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٦﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٧﴾

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও মহান দয়ালু, যিনি বিচার দিনের মালিক, আমরা তোমারই এবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, তুমি আমাদের সরল সহজ পথ দেখাও, তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছে, তাদের পথ নয়, (যারা) অভিশপ্ত এবং পথহারা হয়েছে।

 

সূরা ফিল
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ ﴿١﴾ أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ ﴿٢﴾ وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ ﴿٣﴾ تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ ﴿٤﴾ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ ﴿٥﴾

অর্থ : তুমি কি শোনো নি, তোমার প্রভু হস্তীওয়ালাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছিলেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপরে প্রেরণ করেছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। যারা তাদের উপরে নিক্ষেপ করেছিল মেটেল পাথরের কঙ্কর। অতঃপর তিনি তাদের করে দেন ভক্ষিত তৃণসাদৃশ।

 

সূরা কুরাইশ
لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ ﴿١﴾ إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ ﴿٢﴾ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَـٰذَا الْبَيْتِ ﴿٣﴾ الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ ﴿٤﴾

অর্থ : যেহেতু কুরাইশ অভ্যস্ত। শীত ও গ্রীষ্মের সফরে তারা অভ্যস্ত হওয়ায়। অতএব তারা যেন এ গৃহের রবের ইবাদাত করে। যিনি ক্ষুধায় তাদেরকে আহার দিয়েছেন আর ভয় থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।

সূরা মাঊন
أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ﴿١﴾ فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ ﴿٢﴾ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ ﴿٣﴾ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ ﴿٤﴾ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿٥﴾ الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ ﴿٦﴾ وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ ﴿٧﴾

অর্থ : তুমি কি তাকে দেখেছ, যে হিসাবÑপ্রতিদানকে অস্বীকার করে? সে-ই ইয়াতিমকে কঠোরভাবে তাড়িয়ে দেয়। আর মিসকিনকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না। অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী। যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে এবং ছোট-খাটো গৃহসামগ্রী দানে নিষেধ করে।

 

সূরা কাউসার
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ﴿١﴾ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿٢﴾ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ ﴿٣﴾

সূরা কাফিরূন
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾

অর্থ : বল, হে কাফিররা। তোমরা যার ইবাদাত কর আমি তার ইবাদাত করি না এবং আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী নও। আর তোমরা যার ইবাদত করছ আমি তার ইবাদাতকারী হব না। আর আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী হবে না। তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।

 

 

সূরা নসর
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّـهِ وَالْفَتْحُ ﴿١﴾ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّـهِ أَفْوَاجًا ﴿٢﴾ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ﴿٣﴾

অর্থ : যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। আর তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে। তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবিহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী।
ক্স         সূরা লাহাব

تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ ﴿١﴾ مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ ﴿٢﴾ سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ﴿٣﴾ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ﴿٤﴾ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ ﴿٥﴾

অর্থ : ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দু’হাত এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ এবং যা সে অর্জন করেছে তা তার কাজে আসবে না। অচিরেই সে দগ্ধ হবে লেলিহান আগুনে। আর তার স্ত্রী লাকড়ি বহনকারী। তার গলায় পাকানো দড়ি।

 

সূরা ইখলাস
قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّـهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

অর্থ : বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই।

 

সূরা ফালাক
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

অর্থ : বল, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়। আর গিরায় ফুঁ-দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’।
সূরা নাস
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

অর্থ : বলুন আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার কাছে। মানুষের অধিপতির কাছে। মানুষের মা’বুদের কাছে। তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

 

 

 

© Bangladesh Jamaat-e-Islami

  • নীড়
  • সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
  • রমাদান ২০২২
  • বিভাগ ভিত্তিক
  • রুকন সিলেবাস
  • কর্মী সিলেবাস
  • বাৎসরিক পাঠ্যসূচি
  • উচ্চতর অধ্যয়ন
  • অডিও বই
  • অন্যান্য
  • লেখক

@BJI Dhaka City South

at June 10, 2023 No comments:
Email ThisBlogThis!Share to XShare to FacebookShare to Pinterest
Newer Posts Older Posts Home
Subscribe to: Posts (Atom)

Translate

About Me

My photo
ভালোবাসি ইসলাম ধর্ম
View my complete profile

Search

Blog Archive

  • ►  2018 (23)
    • ►  April (1)
      • ►  Apr 05 (1)
    • ►  May (5)
      • ►  May 07 (1)
      • ►  May 12 (1)
      • ►  May 13 (1)
      • ►  May 15 (1)
      • ►  May 24 (1)
    • ►  June (3)
      • ►  Jun 04 (3)
    • ►  October (11)
      • ►  Oct 13 (5)
      • ►  Oct 18 (2)
      • ►  Oct 19 (1)
      • ►  Oct 22 (3)
    • ►  December (3)
      • ►  Dec 07 (3)
  • ►  2019 (10)
    • ►  January (1)
      • ►  Jan 23 (1)
    • ►  February (1)
      • ►  Feb 06 (1)
    • ►  May (1)
      • ►  May 05 (1)
    • ►  July (2)
      • ►  Jul 08 (1)
      • ►  Jul 13 (1)
    • ►  September (3)
      • ►  Sep 18 (3)
    • ►  December (2)
      • ►  Dec 03 (2)
  • ►  2020 (130)
    • ►  February (1)
      • ►  Feb 19 (1)
    • ►  September (3)
      • ►  Sep 04 (1)
      • ►  Sep 07 (1)
      • ►  Sep 12 (1)
    • ►  October (10)
      • ►  Oct 05 (5)
      • ►  Oct 12 (1)
      • ►  Oct 29 (4)
    • ►  November (116)
      • ►  Nov 15 (32)
      • ►  Nov 16 (81)
      • ►  Nov 19 (1)
      • ►  Nov 24 (1)
      • ►  Nov 27 (1)
  • ►  2021 (1405)
    • ►  February (10)
      • ►  Feb 21 (2)
      • ►  Feb 23 (1)
      • ►  Feb 26 (1)
      • ►  Feb 28 (6)
    • ►  March (67)
      • ►  Mar 01 (16)
      • ►  Mar 02 (2)
      • ►  Mar 03 (26)
      • ►  Mar 05 (7)
      • ►  Mar 06 (3)
      • ►  Mar 07 (1)
      • ►  Mar 11 (1)
      • ►  Mar 15 (1)
      • ►  Mar 16 (2)
      • ►  Mar 17 (1)
      • ►  Mar 21 (1)
      • ►  Mar 27 (6)
    • ►  April (4)
      • ►  Apr 06 (1)
      • ►  Apr 22 (1)
      • ►  Apr 23 (1)
      • ►  Apr 26 (1)
    • ►  May (1)
      • ►  May 29 (1)
    • ►  August (3)
      • ►  Aug 11 (1)
      • ►  Aug 13 (1)
      • ►  Aug 29 (1)
    • ►  October (6)
      • ►  Oct 13 (2)
      • ►  Oct 15 (1)
      • ►  Oct 16 (1)
      • ►  Oct 31 (2)
    • ►  November (260)
      • ►  Nov 03 (1)
      • ►  Nov 15 (1)
      • ►  Nov 18 (1)
      • ►  Nov 20 (1)
      • ►  Nov 27 (3)
      • ►  Nov 28 (104)
      • ►  Nov 29 (48)
      • ►  Nov 30 (101)
    • ►  December (1054)
      • ►  Dec 01 (88)
      • ►  Dec 02 (12)
      • ►  Dec 06 (86)
      • ►  Dec 07 (113)
      • ►  Dec 08 (46)
      • ►  Dec 09 (54)
      • ►  Dec 10 (101)
      • ►  Dec 11 (101)
      • ►  Dec 12 (100)
      • ►  Dec 15 (100)
      • ►  Dec 17 (33)
      • ►  Dec 18 (68)
      • ►  Dec 19 (89)
      • ►  Dec 20 (45)
      • ►  Dec 21 (10)
      • ►  Dec 23 (8)
  • ►  2022 (184)
    • ►  January (1)
      • ►  Jan 26 (1)
    • ►  February (54)
      • ►  Feb 05 (31)
      • ►  Feb 19 (23)
    • ►  March (51)
      • ►  Mar 22 (10)
      • ►  Mar 24 (41)
    • ►  April (16)
      • ►  Apr 01 (3)
      • ►  Apr 02 (3)
      • ►  Apr 05 (2)
      • ►  Apr 10 (3)
      • ►  Apr 11 (2)
      • ►  Apr 22 (3)
    • ►  June (17)
      • ►  Jun 16 (12)
      • ►  Jun 30 (5)
    • ►  September (16)
      • ►  Sep 03 (16)
    • ►  October (27)
      • ►  Oct 01 (15)
      • ►  Oct 03 (1)
      • ►  Oct 08 (4)
      • ►  Oct 12 (3)
      • ►  Oct 25 (4)
    • ►  November (2)
      • ►  Nov 12 (1)
      • ►  Nov 15 (1)
  • ►  2023 (283)
    • ►  January (29)
      • ►  Jan 10 (26)
      • ►  Jan 23 (3)
    • ►  February (17)
      • ►  Feb 22 (17)
    • ►  March (55)
      • ►  Mar 14 (10)
      • ►  Mar 18 (13)
      • ►  Mar 21 (13)
      • ►  Mar 22 (5)
      • ►  Mar 26 (6)
      • ►  Mar 27 (8)
    • ►  April (1)
      • ►  Apr 12 (1)
    • ►  June (24)
      • ►  Jun 03 (6)
      • ►  Jun 04 (9)
      • ►  Jun 10 (1)
      • ►  Jun 13 (2)
      • ►  Jun 19 (6)
    • ►  July (28)
      • ►  Jul 09 (28)
    • ►  August (16)
      • ►  Aug 17 (16)
    • ►  September (77)
      • ►  Sep 16 (7)
      • ►  Sep 26 (38)
      • ►  Sep 27 (6)
      • ►  Sep 29 (26)
    • ►  October (13)
      • ►  Oct 20 (1)
      • ►  Oct 23 (8)
      • ►  Oct 28 (4)
    • ►  November (6)
      • ►  Nov 09 (3)
      • ►  Nov 11 (1)
      • ►  Nov 13 (1)
      • ►  Nov 18 (1)
    • ►  December (17)
      • ►  Dec 08 (14)
      • ►  Dec 15 (2)
      • ►  Dec 29 (1)
  • ►  2024 (231)
    • ►  February (25)
      • ►  Feb 10 (16)
      • ►  Feb 28 (9)
    • ►  March (60)
      • ►  Mar 15 (3)
      • ►  Mar 27 (56)
      • ►  Mar 29 (1)
    • ►  April (32)
      • ►  Apr 02 (5)
      • ►  Apr 04 (1)
      • ►  Apr 21 (25)
      • ►  Apr 27 (1)
    • ►  May (42)
      • ►  May 06 (3)
      • ►  May 08 (1)
      • ►  May 19 (35)
      • ►  May 20 (1)
      • ►  May 22 (1)
      • ►  May 24 (1)
    • ►  June (11)
      • ►  Jun 01 (1)
      • ►  Jun 12 (2)
      • ►  Jun 24 (8)
    • ►  July (12)
      • ►  Jul 07 (1)
      • ►  Jul 08 (3)
      • ►  Jul 09 (1)
      • ►  Jul 24 (1)
      • ►  Jul 25 (6)
    • ►  August (6)
      • ►  Aug 11 (1)
      • ►  Aug 16 (5)
    • ►  September (16)
      • ►  Sep 12 (13)
      • ►  Sep 27 (3)
    • ►  October (15)
      • ►  Oct 04 (1)
      • ►  Oct 14 (12)
      • ►  Oct 27 (2)
    • ►  November (4)
      • ►  Nov 09 (1)
      • ►  Nov 25 (3)
    • ►  December (8)
      • ►  Dec 14 (7)
      • ►  Dec 16 (1)
  • ►  2025 (336)
    • ►  January (28)
      • ►  Jan 10 (14)
      • ►  Jan 23 (14)
    • ►  February (23)
      • ►  Feb 11 (1)
      • ►  Feb 21 (8)
      • ►  Feb 22 (14)
    • ►  March (9)
      • ►  Mar 02 (8)
      • ►  Mar 23 (1)
    • ►  April (39)
      • ►  Apr 16 (17)
      • ►  Apr 21 (22)
    • ►  May (20)
      • ►  May 04 (1)
      • ►  May 10 (1)
      • ►  May 12 (5)
      • ►  May 25 (13)
    • ►  June (27)
      • ►  Jun 19 (1)
      • ►  Jun 20 (26)
    • ►  July (37)
      • ►  Jul 19 (37)
    • ►  August (39)
      • ►  Aug 06 (13)
      • ►  Aug 19 (17)
      • ►  Aug 30 (9)
    • ►  September (41)
      • ►  Sep 03 (20)
      • ►  Sep 10 (10)
      • ►  Sep 17 (6)
      • ►  Sep 29 (5)
    • ►  October (36)
      • ►  Oct 16 (18)
      • ►  Oct 29 (14)
      • ►  Oct 31 (4)
    • ►  November (29)
      • ►  Nov 08 (10)
      • ►  Nov 15 (3)
      • ►  Nov 24 (14)
      • ►  Nov 26 (2)
    • ►  December (8)
      • ►  Dec 02 (8)
  • ▼  2026 (354)
    • ►  January (33)
      • ►  Jan 08 (29)
      • ►  Jan 09 (4)
    • ►  February (51)
      • ►  Feb 21 (13)
      • ►  Feb 22 (37)
      • ►  Feb 25 (1)
    • ►  March (31)
      • ►  Mar 06 (7)
      • ►  Mar 14 (6)
      • ►  Mar 27 (18)
    • ►  April (26)
      • ►  Apr 13 (26)
    • ►  May (51)
      • ►  May 01 (28)
      • ►  May 12 (2)
      • ►  May 16 (14)
      • ►  May 25 (7)
    • ►  June (37)
      • ►  Jun 01 (4)
      • ►  Jun 14 (9)
      • ►  Jun 15 (13)
      • ►  Jun 17 (7)
      • ►  Jun 18 (3)
      • ►  Jun 23 (1)
    • ►  July (21)
      • ►  Jul 07 (7)
      • ►  Jul 14 (9)
      • ►  Jul 22 (3)
      • ►  Jul 23 (1)
      • ►  Jul 26 (1)
    • ►  August (34)
      • ►  Aug 04 (10)
      • ►  Aug 08 (1)
      • ►  Aug 27 (23)
    • ►  September (52)
      • ►  Sep 12 (20)
      • ►  Sep 15 (13)
      • ►  Sep 26 (18)
      • ►  Sep 28 (1)
    • ▼  October (18)
      • ▼  Oct 12 (18)
        • আল্লাহকে রব ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লা...
        • মুসলিম যুবক অবৈধভাবে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে অন্য দেশে...
        • পুরুষ শিক্ষক কর্তৃক মেয়েদের অনলাইনে কিংবা অফলাইনে...
        • সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমোজি বা স্টিকার ব্যবহারের শরয়ি...
        • আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অপরিহার্যতা ও পদ্ধতি
        • আরবি ভাষা শেখার সহজ কৌশল
        • দ্বীনের ক্ষেত্রে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং অহংকার ও ...
        • মাসুমা কামিল কামেল ও আসিম আসেম নাম রাখার বিধান
        • গর্ভবতী নারীর তালাকের ইদ্দত কত দিন
        • প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নির্দিষ্ট কোনো পাপের সাথে সম্প...
        • বিতর সালাতের পর দুই রাকাত নফল আদায় করার বিধান এবং...
        • বিতরের পর বসে দুই রাকাত নফল নামাজের শরয়ি বিধান
        • বিতরের পর বসে দুই রাকাত নামাজ
        • অটোরিকশা টুকটুক ইত্যাদির লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার শরয়...
        • ইমাম গাজালি এর কিতাবাদী পড়া এবং বিজ্ঞ আলেমদের দৃষ্...
        • প্রতি মাসে কুরআন খতম করা একটি অবহেলিত সুন্নাহ
        • সহিহ হাদিস কাকে বলে
        • জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের পরিচয়

Popular Posts

  • কেমন করে ঘুমাও তুমি ফজর করে কাজা? এমনও তো হতে পারে জহরে জানাজা তোমার
  • বিপ্লব মানে জীবন দেওয়া বসে থাকা নায়
  • সুরা বাকারার ১-৪৩ নম্বর আয়াতের তাফসির
  • টাখনুর নিচে পোশাক (প্যন্ট, পায়জামা ইত্যাদি) পড়া ইসলাম কি বলে?
  • (no title)

Social Plugin

  • facebook
  • twitter
  • pinterest
  • instagram
  • youtube

Follow me

পড় তোমার প্রভুর নামে,যিনি তোমাকে জ্ঞান দান করেছেন. Simple theme. Theme images by epicurean. Powered by Blogger.