Wednesday, October 12, 2022

অভ্যাসগত সুন্নত এবং ইবাদতগত সুন্নত

 প্রশ্ন: যে সব সুন্নাহ পালন করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আদেশ করেন নি কিন্তু তিনি নিজে করেছেন। এসব সুন্নাহকে কী বলে? এসব সুন্নাহ পালন করলে আমরা কী রকম নেকি পাবো?

উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল কাজ করতেন সেগুলো দু ভাগে বিভক্ত। যথা:

◈ ১) সুন্নতে আদাহ বা অভ্যাসগত সুন্নত
◈ ২) সুন্নতে ইবাদাহ বা ইবাদতগত সুন্নত।

◍ সুন্নতে আদাহ বা অভ্যাসগত সুন্নত:

কিছু কাজ তিনি প্রচলিত নিয়ম পালন, সামাজিকতা বা ব্যক্তিগত অভ্যাস হিসেবে করতেন। সেগুলো করার জন্য তিনি কাউকে নির্দেশ বা উৎসাহ দিতেন না বা এগুলোর কোন ফযিলতও বর্ণনা করেন নি। এগুলোকে সুন্নতে আদাহ বা অভ্যাসগত সুন্নত বলা হয়। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কদু পছন্দ করা, মিষ্টি পছন্দ করা, পাগড়ি/লুঙ্গি পরিধান করা, মাথার চুল লম্বা করা, হাতে লাঠি নিয়ে চলাফেরা করা, উটে চড়া ইত্যাদি।

এ সকল অভ্যাসগত আমল উম্মত আমল করতে নির্দেশিত নয়। তবে কেউ যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ভালবাসা ও তাঁকে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করার নিয়তে সেগুলো আমল করে তাহলে নিয়তের কারণে সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ।

◍ সুন্নতে ইবাদাহ বা ইবাদতগত সুন্নত:

আরেক প্রকার কাজ যেগুলো ইবাদত ও দ্বীনের সাথে সম্পর্কিত। এগুলোকে বলাকে সুন্নতে ইবাদত বা ইবাদতগত সুন্নত বলা হয়। এ সকল ইবাদত করতে তিনি উৎসাহিত করেছেন বা এগুলোর ফযিলত বয়ান করেছেন। আমরা মূলত: সেগুলো পালন করতে নির্দেশিত। যেমন, নিয়মিত সুন্নত নামায, তারাবীহর সালাত, মিসওয়াক করা, সকাল-সন্ধ্যার দুয়া ও জিকির ইত্যাদি। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬❖▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার। KSA.

নারীকে পুরুষের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি বিষয়ে হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা এবং সংশয় নিরসন

 প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা কি সব মহিলাকে পুরুষের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন? এ বিষয়ে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি কী?

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: আমরা প্রথমে নিম্নে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করব। তারপর সেগুলো ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে উপরোক্ত বিষয়টি সম্পর্কে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি পেশ এবং এ সম্পর্কে মানুষের মনের ভ্রান্তি ও সংশয় নিরসন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

❑ স্ত্রীকে বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি সংক্রান্ত হাদিস:
◆ আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا, فَإِنَّهُنَّ خُلِقْنَ مِنْ ضِلَعٍ, وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ, فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمَهُ كَسَرْتَهُ, وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا»مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
وَلِمُسْلِمٍ: «فَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ وَبِهَا عِوَجٌ, وَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا كَسَرْتَهَا, وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا

“আর তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো যে, তোমরা তামাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে দিবে আর যদি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার ব্যাপারে উপদেশ গ্রহণ করো।”

◆ উপরোক্ত শব্দ বিন্যাস সহিহ বুখারির আর সহিহ মুসলিমে এসেছে এভাবে:

فَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ وَبِهَا عِوَجٌ, وَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا كَسَرْتَهَا, وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا

“আর যদি তোমরা তাদের থেকে উপকৃত হতে চাও তাহলে বাঁকা থাকা অবস্থায়ই তাদের থেকে উপকৃত হও আর যদি সোজা করতে যাও তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর ভেঙ্গে ফেলার অর্থ তালাক দেয়া। [ বুখারী ৩৩৩১, ৫১৮৪, ৫১৮৫, ৬০১৮, ৬১৩৮, ৬৪৭৫, মুসলিম ৪৭, ১৪৬৮]

◆ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

‏ الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ، إِنْ أَقَمْتَهَا كَسَرْتَهَا، وَإِنِ اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفِيهَا عِوَجٌ

“নারী হল, পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে সোজা করতে যাও তাহলে তাকে ভেঙ্গে ফেলবে। সুতরাং যদি তাদের থেকে লাভবান হতে চাও তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হবে।” [সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৫৪/ বিয়ে-শাদি, পরিচ্ছেদ: ২৫০৪. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার, আর এই সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত”]

❑ নারীদেরকে পুরুষের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে-সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা:

এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের থেকে দু ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত পাওয়া যায়। যেমন:

◈◈ ১ম অভিমত:

প্রথম ও আদি পুরুষ আদম আলাইহিস সালাম-এর জীবন সঙ্গিনী মা হাওয়া আ. কে কেবল আদম আ.-এর বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন:

◆ ইবনে হাজার রহ. বলেন,
“كأن فيه إشارةً إلى ما أخرجه ابن إسحاق في المبتدأ عن ابن عباس أن حواء خُلقت من ضلع آدم الأقصر الأيسر”
“এখানে যেন ইবনে ইসহাক তার আল ‘মুবতাদা’ কিতাবে ইবনে আব্বাস রা. থেকে যে বর্ণনা এনেছেন সে দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, (ইবনে আব্বাস রা. বলেন)
إن حواء خلقت من ضلع آدم عليه الصلاة والسلام الأقصر الأيسر وهو نائم
“ঘুমন্ত অবস্থায় আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর বাম পাঁজরের সবচেয়ে ছোট হাড় থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে।”

◆ দাউদি (আহমদ বিন নসর আদ দাউদি-আল জাযায়েরি (আলজেরিয়া) যাকে সহিহ বুখারির ১ম এবং মুয়াত্তা মালিকের ২য় ভাষ্যকার বলে গণ্য করা হয়, মৃত্যু: ৪০২] বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, إنما المرأة كالضلع “মহিলা হল, বাম পাঁজরের হাড়ের মত।” এ কথার বলার কারণ হল, لأنها خلقت من ضلع آدم “কারণ তাকে (হাওয়া আ. কে) আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [উমদাতুল কারি-বদরুদ্দিন হানাফি রাহ.]

◆ ইমাম নওবী বলেন,

فيه دليل لما يقوله الفقهاء أو بعضهم أن حواء خلقت من ضلع آدم

“এ হাদিসে ফকিহদের এ কথার পক্ষে দলিল রয়েছে যে, হাওয়া আ. কে আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [শরহে সহিহ মুসলিম,৫/২৮১]

এই সৃষ্টির ধরণ কেমন ছিল তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কিন্তু কতিপয় আলেম বিষয়টি বুঝার স্বার্থে এর উদাহরণ দিয়েছেন যে, “খেজুরের আঁটি থেকে যেভাবে খেজুরের চারা গাছ বের হয়।” [আল মুফহিম-আবুল আব্বাস আল কুরতুবি-মৃত্যু: ৬৫৬]
আদম ও হাওয়া আ. ছাড়া তাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি ও বংশধর সকলেই স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর মানব সৃষ্টির সাধারণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে-যা আল্লাহ তায়ালা সূরা নিসার প্রথম আয়াতে স্পষ্ট করে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً

“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।” [সূরা নিসা: ১] এ ছাড়াও বিষয়টি নিম্নোক্ত আয়াত সমূহে আলোচিত হয়েছে। যথা: সূরা আরাফ-এর ১৮৯ নম্বর, সূরা যুমার-এর ৬ নম্বর এবং সূরা আনআম: ৯৮ নম্বর আয়াত।

◈ ২য় অভিমত:

অন্য একদল আলেম বলনে, বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টির ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপক অর্থ ও উপমা অর্থে বলেছেন। অর্থাৎ নারীদের আচার-আচরণ ও স্বভাব চরিত্রে কিছুটা বক্রতা রয়েছে বিধায় তার উদাহরণ হিসেবে এমনটি বলা হয়েছে।
শাইখ আলবানি বলেন, মিশকাত গ্রন্থের ভাষ্যকার মোল্লা আলি কারি [শরহে মিশকাত ৩/৪৬০] বলেছেন, “অর্থাৎ মহিলাদেরকে এমন স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য সহকারে সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তাতে বক্রতা রয়েছে-যেন তাদেরকে বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর বাম পাঁজরের হাড় হল, বক্র। সুতরাং বক্রতার আকৃতি বা অর্থ বুঝাতে এমন বা استعارة (ইস্তিয়ারাহ) বা রূপকতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এর উদাহরণ রয়েছে, কুরআনের এই আয়াতে (আল্লাহ তাআলা বলেন),
خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ
“মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়া প্রবণতা থেকে।” [সূরা আম্বিয়া: ৩৭] (অর্থাৎ মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি হল, তাড়াহুড়া করা। এটা তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট)

আমি বলি (শাইখ আলবানি রাহ. বলেন,) এ মতটাই আমার নিকট অধিক অগ্রাধিকার যোগ্য। কারণ এটি উপমা এবং রূপক অর্থ; প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য নয় দুটি কারণে। যথা:

● ১ম: কোনও হাদিস প্রমাণিত হয়নি যে, হাওয়াকে আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
● ২য়ত: উপমার বিষয়টি অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন: আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে এসেছে. إن المرأة كالضِّلع
“নিশ্চয় মহিলা হল, পাঁজরের হাড়ের মত।” (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ প্রমুখ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান এটিকে সহিহ বলেছেন। এ ছাড়াও ইমাম আহমদ প্রমুখ আবু যর এবং আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে সহিহ বলেছেন] [সিলসিলা যাইফাহ, ১৩/১১৩৯ ও ১১৪০]

◈ তাহলে হাওয়া আ. কে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?

শাইখ আলবানি আরও বলেন যে, কেউ যদি প্রশ্ন তোলে যে, হাওয়াকে যদি আদম থেকে সৃষ্টি না করা হয়ে থাকে তাহলে তাকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? আমরা এর উত্তরে বলব যে, আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি না যে, হাওয়াকে আদমের পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কারণ এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট কোনও হাদিস সাব্যস্ত হয়নি। মুফাসসিরগণ এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণনা করেছেন সেগুলো ইসরাইলি বর্ণনা-যা আমরা সত্য-মিথ্যা কোনটাই বলবো না এবং কেউ এ মত ব্যক্ত করলে আমরা তার বিরোধিতাও করবো না। যেহেতু তা শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এটি অধিকাংশ মুফাসসিরের অভিমত। কিন্তু আল্লাহ কিভাবে হাওয়া আলাইহাস সালামকে সৃষ্টি করেছেন তা আমরা দৃঢ়তার সাথে বলবো না এবং আমরা এর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে কষ্টও করতে যাবো না বরং বলব, আল্লাহু আলাম।অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমরা বলব যেমনটি আল্লাহ বলেছেন,
وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ
“প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছে অধিকতর এক জ্ঞানী।” [সূরা ইউসুফ: ৭৬]
وَمَا أُوتِيتُم مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا
“আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।” [সূরা ইসরা: ৮৫]
[দেখুন: তাফসিরে মানার: ৯/৪৩১-৪৩২] ও সিলসিলা যাইফাহ, ১৩/১১৩৯]

◈ মহিলাদেরকে পাঁজরের বাঁকা হাড়ের সাথে উপমা দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?

মহিলাদেরকে এভাবে পাঁজরের বাঁকা হাড়ের উপমা দেওয়ার উদ্দেশ্য হল, তাদের আচরণে বক্রতা থাকলেও স্বামীরা যেন তার প্রতি ভদ্রতা ও সদয় আচরণ করে, সব সময় তার দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান না করে এবং তাকে সব দিক থেকে পরিপূর্ণ গুণের অধিকারী হিসেবে পেতে না চায়। অন্যথায় সংসার ভাঙ্গা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। বরং তার উচিত, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে তাকে নিয়ে ঘর সংসার অব্যাহত রাখা।

❂ সৌদি আরবের স্থায়ী জ্ঞান-গবেষণা ও ফতোয়া বোর্ডকে প্রশ্ন করা হয়, “নারীকে বাঁকা পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” রসূলের এ হাদিসটির ব্যাখ্যা কী এবং বক্রতা বলতে কী বোঝায়? তারা এর জবাবে বলেন,
أن المرأة لا تخلو من اعوجاج في أخلاقها كالضلع، فمن أراد كمالها لم يستطع ذلك إلا بطلاقها، فالمشروع له: الصبر والتغاضي عن بعض الاعوجاج، مع الاستمرار في النصيحة والتوجيه
“এর অর্থ হল: একজন মহিলা আচার-আচরণে বক্রতা মুক্ত নয়-যেমনটা থাকে পাঁজরের হাড়। তাই যে ব্যক্তি তার মধ্যে পরিপূর্ণতা (দোষত্রুটি মুক্ত এবং সব দিক থেকে পরিপূর্ণ) পেতে চায় সে তা পাবে না তালাক ছাড়া। সুতরাং তার জন্য এটাই বিধেয় যে, সে ধৈর্য ধারণ করবে এবং তার কিছু বাঁকা আচরণ উপেক্ষা করার পাশাপাশি, পরামর্শ এবং নির্দেশনা অব্যাহত রাখবে।” [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪র্থ খণ্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা]

❂ নাস্তিকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন:

অনেক নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী এক্টিভিস্ট এ সংক্রান্ত হাদিস সমূহের অপব্যাখ্যা করে বলতে চায় যে, হাদিসে বলা হয়েছে, সব নারীকেই তাদের স্বামীর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ কথা বলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বহুবিবাহ, পাঁজরের হাড় সংখ্যা এবং তাঁর স্ত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলে। আবার কেউ কেউ অবিবাহিত নারী, তালাক প্রাপ্ত নারী, একাধিক পুরুষের সাথে বিয়ে হওয়া নারীর উদাহরণ দেখিয়ে হাদিসকে ভুল প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু তাদের এ সব অভিযোগের মূলেই আছে, এ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ভুল বুঝ এবং অপব্যাখ্যা।

❑ সারাংশ:
নারীদেরকে পুরুষের বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টির ব্যাপারে হক্কানি বিজ্ঞ আলেমদের থেকে দুটি অভিমত পাওয়া যায়। যথা:
ক. শুধু হাওয়া আ. কে আদম আ. এর বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; আর কোনও নারীকে নয়।
খ. হাওয়া আ. কে আদম আ. বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়নি। বরং হাদিসে মহিলাদের আচার-আচরণ ও স্বভাবে বক্রতা থাকার বিষয়টিকে উপমা ও রূপক অর্থে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য হল, নারীদের সাথে নম্রতা, ভদ্রতা ও সদাচরণ করা।

সব নারীকে পুরুষের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করার বিষয়টি কোনও নির্ভরযোগ্য আলেম বলেননি। বরং একশ্রেণীর নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীর পক্ষ থেকে ইসলামের প্রতি মিথ্যা অপবাদ।
আল্লাহ আমাদেরকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন এবং সকল বিভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Saturday, October 8, 2022

সালাতুল ইস্তিস্ক্বা বা বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত আদায়ের বিধান

 প্রশ্ন: সালাতুল ইস্তিস্ক্বা বা বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত আদায়ের বিধান কি? উক্ত সালাত কিভাবে আদায় করতে হয়?

▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬
ইস্তিস্‌ক্বা অর্থ: পান করার জন্য বৃষ্টি বা পানি প্রার্থনা করা। শারঈ পরিভাষায় ব্যাপক খরা ও অনাবৃষ্টির সময় বিশেষ পদ্ধতিতে সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে পানি প্রার্থনা করাকে ‘ছালাতুল ইস্তিস্ক্বা’ বলা হয়। স্বালাতুল ইস্তিসকা বা বৃষ্টি প্রার্থনার নামায অনাবৃষ্টির সময় মহান প্রতিপালকের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে পড়া সুন্নত ৬ষ্ঠ হিজরীর রামাযান মাসে সর্বপ্রথম মদ্বীনায় ইস্তিসক্বার সালাতের প্রবর্তন হয়।(মির‘আত ৫/১৭০)
.
◾জমিনে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কারণ কি?
_______________________________
পৃথিবীতে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হলে
মানুষের পাপ ও বিশেষ করে যাকাত বন্ধ করে দেওয়া। মহানবী (ﷺ) বলেন, “হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না। যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না।যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে।আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ্‌ ৪০১৯ নং, সহীহ তারগীব ৭৫৯)।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন, “ পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কি কি?’ তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানী, মু’জাম, সহিহ তারগিব ৭৬০)

◾কখন কি প্রেক্ষিতে এ সালাত পড়তে হয়?
____________________________________
অনাবৃষ্টি, খরা ও দূর্ভিক্ষ দেখা দিলে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চেয়ে তখন এ সালাত আদায় করা সুন্নাত (মুগনী- ৩/৩৩৪)। আর খরা, অনাবৃষ্টি ও দূর্ভিক্ষের কারণ হলো পাপ কাজ বেড়ে যাওয়া। (ইবনে মাজাহ: ৪০১৯)।

◾কিভাবে সালাতুল ইস্তিস্ক্বা আদায় করতে হয়:
_______________________________________
মলিন ও পরিচ্ছন্ন পোষাক পরে চাদর গায়ে দিয়ে একান্ত বিনয়ের সাথে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ঈদগাহ ময়দান অভিমুখে রওয়ানা হবে। সাথে ইমামের জন্য মিম্বর নিতে পারবে। অতঃপর নিম্নের যে কোন একটি পদ্ধতি অবলম্বনে আযান ইকামত ছাড়া দুই রাকআত ইস্তিসক্বার সালাত আদায় করবে। (নিচে ৪ টি পদ্ধতি উল্লেখ করা আছে) এই সালাত ঈদের নামাযের মতই প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা পর অতিরিক্ত সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে ওঠে দাঁড়ানোর পর অতিরিক্ত আরো পাঁচ তাকবীর দেওয়ার বিধানও রয়েছে তবে এই অতিরিক্ত তাকবীর গুলো মুস্তাহাব কম বেশি হলে বা কেউ অতিরিক্ত তাকবীর না দিয়ে সাধারণভাবে দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেও কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেক রাকআতে সশব্দে সূরা ফাতিহার পর যে কোন সূরা পড়া যায়,তবে প্রথম রাকআতে সূরা ‘আলা’ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা গাশিয়া পড়া উত্তম। নামাযের আগে অথবা পরে খুতবা দেওয়া যায়। যদি সালাত শেষে খুতবা দেওয়া হয় তাহলে ইমাম মিম্বরে বসে বা দাঁড়িয়ে অথবা মিম্বর ছাড়াই মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লা-হু আকবর,
আলহামদু লিল্লা-হি রবিবল ‘আলামীন ওয়াছস সালাতু ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিহিল কারীম’ বলে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূল (ﷺ) এর উপর দরূদ পাঠ শেষে মুছল্লীদের প্রতি ইস্তিস্ক্বার গুরুত্ব সম্পর্কে ঈমান বর্ধক উপদেশসহ সংক্ষিপ্ত খুৎবা দিবেন। (আবুদাঊদ হা/১১৬৫, ইবনু আববাস (রাঃ) হতে; বুখারী হা/১০২২ ‘দাঁড়িয়ে ইস্তিস্কার দো‘আ পাঠ’ অনুচ্ছেদ-১৫; মির‘আত ৫/১৮৯) খুতবায় ইমাম সাহেব বেশী বেশী ইস্তিগফার ও দুআ করবেন। মুক্তাদীগণ সে দুআয় ‘আমীন’ বলবে। এই দুআয় বিশেষ করে ইমাম (এবং সকলে) খুব বেশী হাত তুলবেন। মাথা বরাবর হাত তুলে দুআ করবেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১১৬৮, ইবনে হিব্বান, সহীহ, মিশকাত ১৫০৪) এমন কি চাদর গায়ে থাকলে তাতে বগলের সাদা অংশ দেখা যাবে। (সহীহ বুখারী ১০৩১, মুসলিম, সহীহ ৮৯৫)

বৃষ্টি প্রার্থনার সময় উল্টা হাতে দুআ করা মুস্তাহাব। অর্থাৎ, সাধারণ প্রার্থনার করার সময় হাতের তেলো বা ভিতর দিকটা হবে আকাশের দিকে এবং বৃষ্টি প্রার্থনার সময় হবে মাটির দিকে; আর হাতের বাহির দিকটা হবে আকাশের দিকে। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘একদা নবী (ﷺ) বৃষ্টি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁর হাতের পিঠের দিকটা আকাশের দিকে তুলে ইঙ্গিত করলেন।’ (সহীহ মুসলিম, সহীহ ৮৯৫-৮৯৬) ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ্‌ প্রমুখ উলামাগণ বলেন, কোন কিছু চাওয়া হয় হাতের ভিতরের অংশ দিয়েই, বাইরের অংশ দিয়ে নয়। আসলে আল্লাহর নবী (ﷺ) হাত দুটিকে মাথার উপরে খুব বেশী উত্তোলন করলে দেখে মনে হয়েছিল যে, তিনি হাতের বাইরের অংশ আকাশের দিকে করেছিলেন। (আল-ইনসাফ ২/৪৫৮, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৫/২৮৩)

অতঃপর কিবলামুখ হয়ে ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে চাদর উল্টাবেন; অর্থাৎ, চাদরের ডান দিকটাকে বাম দিকে, বাম দিকটাকে ডান দিকে করে নেবেন এবং উপর দিকটা নিচের দিকে ও নিচের দিকটা উপর দিকে করবেন। এরপর সকলে পুনরায় (একাকী) দুআ করে বাড়ি ফিরবে। চাদর উল্টানো এবং দুআর সময় উল্টাহাত করা আসলে এক প্রকার কর্মগত দুআ। অর্থাৎ, হে মওলা! তুমি আমাদের এই চাদর ওহাত উল্টানোর মত আমাদের বর্তমান দুরবস্থাও পাল্টে দাও। আমাদের অনাবৃষ্টির অবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দাও। (নামাযে নববী, সাইয়েদ শাফীকুর রহ্‌মান, লাহোর ছাপা ২৩৪পৃ:) প্রকাশ থাকে যে, ইস্তিসকার জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন নেই। যে কোন একটি দিন ঠিক করে সেই দিনে নামায পড়া যায়। রোযা রাখা, পশু নেওয়া ইত্যাদির কথাও হাদীসে নেই। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৫/২৭১-২৭২)

▪️বৃষ্টি প্রার্থনার দ্বিতীয় পদ্ধতি: জুমআর খুতবায় ইমাম সাহেব হাত তুলে দুআ করবেন এবং মুক্তাদীরাও হাত তুলে ‘আমীন-আমীন’ বলবে। একদা মহানবী (ﷺ) জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক মরুবাসী (বেদুঈন) উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! মাল-ধন ধ্বংস হয়ে গেল আর পরিবার পরিজন (খাদ্যের অভাবে) ক্ষুধার্ত থেকে গেল। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ তখন নবী (ﷺ) নিজের দুইহাত তুলে দুআ করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে দুআর জন্য হাত তুলল। ফলে এমন বৃষ্টি শুরু হল যে পরবর্তী জুমআতে উক্ত (বা অন্য এক) ব্যক্তি পুনরায় খাড়া হয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! ঘর-বাড়ি ভেঙে গেল এবং মাল-ধন ডুবে গেল। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য দুআ করুন!’ মহানবী (ﷺ) তখন নিজেরহাত তুলে পুনরায় বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দুআ করলেন এবং বৃষ্টিও থেমে গেল। (বুখারী ৯৩২, ৯৩৩, ১০১৩, ১০২৯, মুসলিম, সহীহ ৮৯৭নং, নাসাঈ, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ৩/২৫৬, ২৭১)

▪️বৃষ্টি প্রার্থনার তৃতীয় পদ্ধতি :শুরাহ্‌বীল বিন সিমত একদা কা’ব বিন মুর্রাহ্‌কে আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর হাদীস বর্ণনা করতে বললে তিনি বললেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ‘আপনি মুযার (গোত্রের) জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন।’ তিনি বললেন, “তুমি তো বেশ দুঃসাহ্‌সিক! (কেবল) মুযারের জন্য (বৃষ্টি)?” লোকটি বলল, ‘আপনি আল্লাহ আযযা অজাল্লার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন, তিনি আপনাকে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ আযযা অজাল্লার কাছে দুআ করেছেন, তিনি তা কবুল করেছেন।’ এ কথা শোনার পর মহানবী (ﷺ) দুইহাত তুলে বৃষ্টি প্রার্থনার দুআ করলেন এবং এত বৃষ্টি হল যে, তা বন্ধ করার জন্য পুনরায় তিনি দুআ করলেন। (আহমাদ, মুসনাদ, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১২৬৯ বায়হাকী, ইবনে আবী শাইবা)

▪️বৃষ্টি প্রার্থনার চতুর্থ পদ্ধতি: ইমাম শা’বী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উমার (রাঃ) বৃষ্টি প্রার্থনা করতে বের হয়ে কেবল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে ফিরে এলেন। লোকেরা বলল, ‘আমরা তো আপনাকে বৃষ্টি চাইতে দেখলাম না?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি সেই নক্ষত্রের মাঝে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছি, যাতে বৃষ্টি হয়ে থাকে। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন,(اِسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً، يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَاراً)অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) কর। তিনি তো মহা ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত করবেন। (কুরআন মাজীদ ৭১/১০-১১) (اِسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوْبُوْا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَاراً وَّيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلاَ تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِيْنَ)
অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) কর। অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন কর; তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদেরকে আরো শক্তি দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না। (কুরআন মাজীদ ১১/৫২) (সুনানু সাঈদ বিন মানসূর, আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ, বায়হাকী, ইবনে আবী শাইবা ৮৩৪৩)

বৃষ্টি-প্রার্থনার কতিপয় দুআ:
(1) اَلْحَمْدُ ِللهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ، مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ، لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيْدُ- اَللَّهُمَّ أَنْتَ اللهُ لآ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ عَلَيْنَا قُوَّةً وَّ بَلاَغًا إِلَى حِيْنٍ-

(১) উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, আররহমা-নির রহীম, মা-লিকি ইয়াওমিদ্দ্বীন। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ইয়াফ‘আলু মা ইউরীদু। আল্লা-হুম্মা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা। আনতাল গানিইয়ু ওয়া নাহ্নুল ফুক্বারা-উ। আনঝিল ‘আলায়নাল গায়ছা ওয়াজ‘আল মা আনঝালতা ‘আলায়না কুউওয়াতাঁও ওয়া বালা-গান ইলা হীন।

অনুবাদ: সকল প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য। যিনি করুণাময় ও কৃপানিধান। যিনি বিচার দিবসের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। তিনি যা ইচ্ছা তাই-ই করেন। হে প্রভু! আপনি আল্লাহ। আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আপনি মুখাপেক্ষীহীন ও আমরা সবাই মুখাপেক্ষী। আমাদের উপরে আপনি বৃষ্টি বর্ষণ করুন! যে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তা যেন আমাদের জন্য শক্তির কারণ হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদী কল্যাণ লাভে সহায়ক হয়’। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৫০৮ সালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ইস্তিসকা’ অনুচ্ছেদ-৫২)

(2) اَللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهَائِمَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَاحْيِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ-

(২) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাস্ক্বে ‘ইবা-দাকা ওয়া বাহা-এমাকা ওয়ানশুর রহমাতাকা ওয়াহ্ইয়ে বালাদাকাল মাইয়েতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি পান করান আপনার বান্দাদেরকে ও জীবজন্তু সমূহকে এবং আপনার রহমত ছড়িয়ে দিন ও আপনার মৃত জনপদকে পুনর্জীবিত করুন’।(মুওয়াত্ত্বা, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৫০৬ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ইস্তিসক্বা’ অনুচ্ছেদ-৫২।)

(3) اَللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُّغِيْثًا مَّرِيْئًا مَّرِيْعًا، نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ-

(৩) উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাসক্বেনা গায়ছাম মুগীছাম মারীআম মারী‘আ, না-ফে‘আন গায়রা যা-র্রিন ‘আ-জেলান গায়রা আ-জেলিন।অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এমন বৃষ্টি দান করুন, যা চাহিদা পূরণকারী, পিপাসা নিবারণকারী ও শস্য উৎপাদনকারী। যা ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী এবং যা দেরীতে নয় বরং দ্রুত আগমনকারী’। (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৫০৭।)

এই সময় বৃষ্টি দেখলে বলবে, اَللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا আল্লা-হুম্মা ছাইয়েবান না-ফে‘আন (হে আল্লাহ! উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন)। (সহীহ বুখারী হা/১০৩২, মিশকাত হা/১৫০০।) বৃষ্টিতে চাদর ভিজিয়ে আল্লাহর বিশেষ রহমত মনে করে আগ্রহের সাথে তা বরণ করে নিতে হবে। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা/১৫০১)

◾সালাতুল ইস্তিস্ক্বা সম্পর্কে যে বিষয়গুলো জেনে রাখা ভাল:
_________________________________
(১) সালাতুল ইস্তিস্কার নামাজ দু রাকাত। আযান ইকামতবিহীন জোরে কিরাআতে উক্ত সালাত আদায় করতে হয়।

(২) এ সালাতের কোন নির্ধারিত সময় বা দিন নেই, নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যেকোন সময় বৃষ্টির সালাত আদায় করা যায়। তবে উত্তম হলো ঈদের সালাতের মতো সকালে সূর্যোদয়ের একটু পরপরই পড়া।

(৩) শিশু ও নারীদেরকেও এ সালাতে নিয়ে যাওয়া, তবে বৃদ্ধদের উপস্থিতি আরো উত্তম।

(৪) জীবিত কোন মুত্তাক্বী পরহেযগার ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে বৃষ্টি প্রার্থনা করা যাবে। রাসূল (ﷺ) এর মৃত্যুর পরে তাঁর চাচা আব্বাস (রাঃ) এর মাধ্যমে ওমর (রাঃ) বৃষ্টি প্রার্থনা করতেন। (সহীহ বুখারী হা/১০১০, মিশকাত হা/১৫০৯)

(৫) কোন মৃত ব্যক্তির দোহাই বা অসীলা দিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করা যাবেনা। কারণ এটি হ’ল সবচেয়ে বড় শিরক।

(৬) দু’আর সময় ইমাম সাহেব মুসল্লীদের দিকে পিঠ দিয়ে কিবলামুখী হয়ে প্রার্থনা করবে, দু’আর সময় হাত যতখানী সম্ভব উপরে উঠিয়ে দুআ করবে, রাসূল (স) যখন হাত উঠিয়ে দু’আ করতেন তখন তার দুই বোগল পর্যন্ত নজরে আসত। দু’হাতের পিঠ উপরে এবং তালু নিচের দিকে দিয়ে দু’আ করবে, সে সময় গায়ের চাদর বা রুমান উল্টিয়ে পড়বে।

(৭) ঈদের সালাতের মতো প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা পর অতিরিক্ত সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে ওঠে দাঁড়ানোর পর অতিরিক্ত আরো পাঁচ তাকবীর দেওয়ার বিধানও রয়েছে। (শরহেস্ সুন্নাহ লিলবাগাউয়ী- ৪/৪০২) তবে অতিরিক্ত তাকবির না দিলে বা কম বেশি হলে সমস্যা নেই ইনসাআল্লাহ।

(৮) ইস্তিস্ক্বার খুৎবা সাধারণ খুৎবার মত নয়। এটির সবটুকুই কেবল আকুতি ভরা দো‘আ আর তাকবীর মাত্র। (আবুদাঊদ হা/১১৬৫)

(৯) অতিবৃষ্টি হ’লে বলবে, اَللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا আল্লা-হুম্মা সাইয়েবান না-ফে‘আন (হে আল্লাহ! উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন)। (বুখারী হা/১০৩২, মিশকাত হা/১৫০০।)আর তাতে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিলে তা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করে বলবে, اَللهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اَللّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَ بُطُوْنِ الأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ।

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাহাওয়া-লাইনা অলা আলাইনা, আল্লা-হুম্মা আলাল আ-কামি অযযিরা-বি অবুতূনিল আউদিয়াতি অমানা-বিতিশ শাজার।অর্থ:- হে আল্লাহ! আমাদের আশে-পাশে বর্ষাও, আমাদের উপরে নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকা এবং বৃক্ষাদির উদগত হওয়ার স্থানে বর্ষাও। (বুখারী,হা/৯৩৩, ১০২১; সহীহ মুসলিম,৮৯৭ আবুদাঊদ হা/১১৭৪)

(১০)বযেনে রাখা ভাল যে, বৃষ্টি-প্রার্থনার জন্য ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া, গোবর-কাদা বা রং ছিটাছিটি করে খেল খেলা, কারো চুলো ভেঙ্গে দেওয়া ইত্যাদি প্রথা শিরকী তথা বিজাতীয় প্রথা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

যে দু’টো নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধোঁকায় আছে এই হাদীসের ব্যাখ্যা

 প্রশ্ন: রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে দু’টোতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধোঁকায় আছে। (তা হল) সুস্থতা ও অবসর। উক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যা কি?

▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, বহু মানুষ সে দু’টির ব্যাপারে ধোঁকায় আছে। (তা হল) সুস্থতা ও অবসর।’’ (সহীহুল বুখারী ৬৪১২, তিরমিযী ২৩০৪, ইবনু মাজাহ ৪১৭০, আহমাদ ২৩৩৬, রিয়াদুস সলেহিন ৯৮)।

হাদীসটির ব্যাখ্যা: মানুষের ওপর আল্লাহর নি‘আমতসমূহ হতে এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে দুটির মূল্য সে জানে না এবং সে এ দু’টির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর সে দুটি হলো দৈহিক সুস্থতা ও অন্তরের অবসরতা।” কারণ, একজন মানুষ ইবাদাতের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত অবসর হতে পারে না যতক্ষণ না সে সুস্থ হবে। কারণ, কখনো সে অভাবহীন হবে, কিন্তু সুস্থ থাকবে না। আবার কখনো সে সুস্থ থাকবে কিন্তু অভাবহীন থাকবে না। ফলে সে কামাই রুজির জন্য ব্যস্ত থাকার কারণে ইলম ও আমলের জন্য অবসর হয় না। সুতরাং যার জন্য দুটি জিনিস হাসিল হবে এবং ইবাদতে অলসতা করবে সে অবশ্যই ক্ষতি গ্রস্থ হবে। অর্থাৎ, ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ।
.
উক্ত হাদীসে বর্নিত দুটি শব্দের মধ্যে একটি হল সুস্থতা। সুস্থতা মানুষের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক অপার মহিমা বিশাল নেয়ামত। সুস্থ অবস্থায় মানুষ আল্লাহর ইবাদত করার যে সামর্থ রাখে অসুস্থ হলে তার আর সামর্থ থাকেনা। কারণ মানুষের শরীর একটা স্বয়ংক্রীয় যন্ত্র বিশেষ। তাই এ যন্ত্রের একটু ব্যতিক্রম হলেই শরীরে নানা ধরণের বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তার নাম অসুস্থতা। সুস্থতা আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত। মানুষ সুস্থ থাকলে সবকিছু করতে পারে কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেলে আর কোন কাজ করতে পারে না। তাই যখন সে সুস্থ থাকে তখন তাকে নেয়ামত মনে করে ইবাদতে মশগুল হওয়া প্রয়োজন। কেননা সে জানে না যে, বর্তমানে যে অবস্থায় আছে পরবর্তীতে অবস্থা আরো অবনতি হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থা সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) অন্য হাদীসে বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দিনটি পারিবারিক নিরাপত্তাবোধ ও সুস্থতার মধ্য দিয়ে শুরু করতে পারলো এবং নিজের দিনটিকে কাজে লাগাতে পারলো সে যেন সমগ্র দুনিয়া অধিকার করলো।” (সুনানে তিরমিযি ২৩৪৬, ইবনে মাজাহ ৪১৪১)।
.
হাদীসের দ্বিতীয় শব্দটি হল অবসর। শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে সময়ের মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম অলস সময় কাটানোকে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে ব্যস্ততা ও অবসর দু’টোই বান্দাহর জন্য নেয়ামত। ব্যস্ততা এজন্য নেয়ামত যে, ব্যস্ততা মানুষের অনেক অন্যায় ও বেহুদা কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবসর এই অর্থে নিয়ামত যে, সে এই অবসরে অনেক ভালো কাজ সম্পন্ন করে নেকী লাভ করতে পারেন। ব্যস্ততা মানব জীবনের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। কার কখন ব্যস্ততা এসে যাবে এটা কেউ বলতে পারেনা। আর অত্যাধিক ব্যস্ততা মানুষকে অনেক প্রয়োজনীয় কাজ থেকে অপারগ বানিয়ে ফেলে। এটাকে মনে রেখেই মানুষকে কর্ম পরিকল্পনা করতে হবে। মানব জীবনের একটি দূর্বলতা বা প্রবণতা আছে কোন কাজ তার সামনে এলে মনে করে একটু পরে কাজটি করে ফেলব। কিন্তু দেখা যায় একটু পরেই তার সামনে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপস্থিত হয়ে গেল। সেটা শেষ করতে না করতেই আরো একটা উপস্থিত হলো। এভাবে প্রথম যে কাজটি অনায়াসে করা যেতো, সেটা করার কোন সুযোগই পাওয়া যায় না। তাই যখন সুযোগ পাওয়া যায় তখনই কাজটি সম্পন্ন করে ফেলা উচিত। অনুরূপভাবে আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারেও যদি কেউ মনে করে এখন না, একটু পরে ইবাদতটা করব, তার পরিণতিও অনুরূপ। সে ইবাদতটি করার সুযোগ আর নাও পেতে পারে। এভাবে প্রতিনিয়ত মানুষের যে সময় অতীত হয়ে যাচ্ছে সে সময় আর কখনও ভবিষ্যতে ফিরে আসবে না। তাই বর্তমানে যে সময়টা অবসর আছে এটাকে নেয়ামত মনে করে অপেক্ষাকৃত বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক লাভজনক কাজ গুলো সম্পন্ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, বহু মানুষ সে দু’টির ব্যাপারে ধোঁকায় আছে। (তা হল) সুস্থতা ও অবসর।’ (সহীহুল বুখারী ৬৪১২, তিরমিযী ২৩০৪, ইবনু মাজাহ ৪১৭০, আহমাদ ২৩৩৬, ৩১৯৭, দারেমী ২৭০৭, রিয়াদুস সলেহিন হাদিস নং ৯৮)। আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
___________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

মুসলিমদের জন্য বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব ও পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ হারাম হওয়ার দশ কারণ

 প্রশ্ন: কোনো মুসলিমের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা মণ্ডপে যাওয়া কি জায়েজ? কেউ যদি সেখানে যায় তাহলে কি সে কাফের হয়ে যাবে বা বেঈমান হয়ে মারা যাবে? এবং এতে কি তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে?

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: কোন মুসলিমের জন্য কেবল আনন্দ-উপভোগের উদ্দেশ্যে বিধর্মীদের দেব-দেবতা, মূর্তি ইত্যাদি দেখতে যাওয়া বা অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা অথবা তাদেরকে এ ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করা জায়েজ নেই। তা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা অন্য কোন ধর্মের হোক না কেন।

নিম্নে এর দশটি কারণ উল্লেখ করা হল:

◈ ১. বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা বা তাদের দেবদেবী ও মূর্তি দর্শনের উদ্দেশ্যে তাদের উপাসনালয়ে যাওয়া তাদের সাথে ‘সাদৃশ্য অবলম্বন’ এর শামিল যা ইসলামে নিষিদ্ধ। কেননা এগুলো অমুসলিমদের বৈশিষ্ট্য; মুসলিমদের নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি অন্য সম্প্রদায়ের (বিধর্মীদের) সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে তাদেরই দলভুক্ত।“ [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪০৩১, সহীহুল জামে-আলবানী হা/২৮৩১]

◈ ২. এর মাধ্যমে দৃশ্যত: কাফির-মুশরিকদের দল ভারী করা হয় যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

◈ ৩. যে উৎসবে শিরকের মত আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত এবং ক্রোধ উদ্রেক কারী কার্যক্রম সংঘটিত হয় সেখানে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নাজিল হয়। উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলতেন,
اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ ـ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى ـ فِي عِيدِهِمْ يَوْمَ جَمْعِهِمْ؛ فَإِنَّ السَّخَطَ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ فَأَخْشَى أَنْ يُصِيبَكُمْ
“তোমরা আল্লাহর দুশমন ইহুদি-খৃষ্টানদের উৎসবসমূহে তাদের থেকে দূরে থাক। কারণ তাদের উপর আল্লাহর অসন্তোষ অবতীর্ণ হয়। ফলে এ আশঙ্কা আছে যে, তোমরাও তাতে আক্রান্ত হবে।” [বায়হাকী-আস-সুনান আল-কুবরা, ৯/২৩৪; দেখুন: কানযুল ‘উম্মাল, হাদীস নং- ১৭৩২]

সুতরাং আল্লাহর অসন্তুষ্টি নাজিলের স্থানে কোন মুসলিমের বেড়াতে যাওয়া বা আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠা মোটেও সমীচীন নয়। কেননা এতে তারা আল্লাহর অসন্তোষ, শাস্তি ও ক্রোধের রোষানলে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

◈ ৪. এ সকল কপোল কল্পিত দেব-দেবতা বা কথিত উপাস্যদের মূর্তি ও প্রতিকৃতি তৈরি এবং সেগুলোর উপাসনা করা তাদের নিজদের বানোয়াট, মনগড়া ও অর্থহীন কাজ ছাড়া কিছু নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا ۚ إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ ۖ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

“তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করছ, তারা তোমাদের রিজিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর কাছে রিজিক তালাশ কর, তাঁর এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” [সূরা আনকাবুত: ১৭]

সুতরাং এই সকল বানোয়াট ও অসার জিনিস দেখতে যাওয়া কোন তাওহিদপন্থী মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا
“আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং অসার কার্যকলাপের সম্মুখীন হলে আপন মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে ।” [সূরা আল ফুরকান: ৭২]
কতিপয় মুফাসসিরের মতে, এ আয়াতে ‘মিথ্যা’ বলতে মুশরিকদের উৎসব বুঝানো হয়েছে।

◈ ৬. হিন্দুদের পূজামণ্ডপ, বৌদ্ধদের প্যাগোডা বা খৃষ্টানদের গির্জায় গিয়ে তাদের দেব-দেবতা ও শিরকী কার্যক্রম দেখে আনন্দ উপভোগ করলে অন্তর থেকে শিরক ও আল্লাহর নাফরমানি মূলক কার্যক্রমের প্রতি ঘৃণা বোধ চলে যাওয়ার এবং এসব হারাম কর্মের প্রতিবাদের মানসিকতা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

◈ ৭. এর ফলে কাফেরদের ধর্মীয় রীতি-নীতি দ্বারা অন্তর প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার পরিণতি খুব ভয়াবহ। বিশেষ করে দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তির অন্তরে তাদের ধর্মের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণ বোধ তৈরি হতে পারে। এমনকি এ কারণে তার ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

◈ ৮. বিধর্মীদের উৎসব, পর্ব এবং উপাসনালয়গুলোতে শিরকের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণত: গান-বাদ্য, বেপর্দা নারীদের অবস্থান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, মদ পান, গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ ও পশু বলি ইত্যাদি নানা ধরণের হারাম কর্ম সংঘটিত হয়। সুতরাং এমন পাপ পূর্ণ ও‌ নোংরা পরিবেশে কোন আত্ম মর্যাদাসম্পন্ন মুমিনের যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে অন্তরে আল্লাহ, রাসূল ও দীন ইসলামের প্রতি মজবুত ঈমান থাকলে এবং নিজেকে এ সকল ফেতনা থেকে নিরাপদ মনে করলে আল্লাহর সাথে শিরকের ভয়াবহ রূপ স্বচক্ষে দর্শন করে শিক্ষালাভ করত: মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে অথবা এই অন্যায়ের প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে কিংবা অমুসলমিদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে যদি কোন ইমানদার ব্যক্তি সেখানে যায় তাহলে তা না জায়েজ নয়।

অনুরূপভাবে কোন ইমানদার ব্যক্তি যদি দীনহীন বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় পড়ে বা কু প্রবৃত্তির টানে সেখানে যায় তাহলে তার জন্য আবশ্যক হল, অনতিবিলম্বে সেখান থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর নিকট লজ্জিত অন্তরে তওবা করা। কিন্তু এ কারণে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে না এবং তাদের দাম্পত্য জীবনেও তার কোন প্রভাব পড়বে না ইনশাআল্লাহ। কারণ আল্লাহর প্রতি তার দৃঢ় বিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে।

৯. আরেকটি বিষয় হল, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে মুসলিমদের ভিড় করার ফলে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অনেক সময় তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে। কারণ কিছু দুর্বৃত্ত এই সুযোগে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করে এবং স্বার্থান্বেষীরা পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে থাকে যা বহু ঘটনা থেকে প্রমাণিত। সুতরাং অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের দিন তারা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের ধর্মাচার্য পালন করতে পারে সে জন্য সেদিন মুসলিমদের সেখানে ভিড় করা মোটেও উচিৎ নয়।

◈ ১০. অনুরূপভাবে বিধর্মীদেরকে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে সাহায্য-সহযোগিতা করা জায়েজ নয়। কারণ তা মূলত: আল্লাহ দ্রোহিতা ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতার শামিল যা আল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“আর সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তি দাতা।” [সূরা মায়িদা: ২]

মোটকথা, মুসলিমদের জন্য বিধর্মীদের দেব-দেবী দেখে শুধু আনন্দ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে তাদের উপাসনালয়ে গমন করা বা তাদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করা, এ উপলক্ষে পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং এসব কাজে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। অথচ আমাদের দেশের একশ্রেণীর তথাকথিত প্রগতিবাদী নামধারী মুসলিম ও বক ধার্মিক ব্যক্তিরা “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এই যুক্তিহীন ও ভ্রান্ত স্লোগানের আড়ালে মুসলিমদেরকে এমন হারাম ও শিরকী কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করে। এর চেয়েও বড় ভয়াবহ বিষয় যে, এরা নিজেরাও অনেক সময় দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে পূজায় অংশ গ্রহণ করে থাকে। সত্যি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী বর্তমানে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেছেন,
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ
‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে এবং মূর্তি পূজায় লিপ্ত হওয়ার পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবেনা।” [বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুল মানাকিব]

➤ উল্লেখ্য যে, কোনও মুসলিম যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মকে অধিক উত্তম, সমপর্যায়ের অথবা সঠিক বলে বিশ্বাস করে তাহলে সে ইসলামের গণ্ডী থেকে বের হয়ে যাবে (মুরতাদ হয়ে যাবে)। কারণ দীন-ইসলাম হচ্ছে বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র মনোনীত ও গ্রহণীয় জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলাম ছাড়া যত ধর্ম এবং মতাদর্শ রয়েছে সবই বাতিল-মিথ্যা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَامُ
“আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) ইসলাম।” [সূরা আলে ইমরান: ১৯]
তিনি আরও বলেন,
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু (ধর্ম/মতাদর্শ) অনুসন্ধান করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” [সূরা আলে ইমরান: ৮৫]

পরিশেষে দুআ করি, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের নির্বোধদের কারণে আমাদেরকে তার শাস্তির হাত থেকে হেফাজত করুন, অজ্ঞদেরকে কে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও সুবুদ্ধি দান করুন এবং আমাদেরকে হেদায়েতের উপর অটল রাখুন মৃত্যু অবধি। আমীন। আল্লাহু আলাম। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate