Sunday, December 19, 2021

ফরয সালাতের পরে সম্মিলিত মুনাজাত একটি প্রচলিত বিদআত

 আমাদের সমাজে যতগুলি বিদ’আত প্রচলিত আছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফরয সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত। এই সম্মিলিত মুনাজাতের দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পাওয়া যায় না । কোন কোন বিদ’আত বছরে একবার করা হয় , কোন কোনটি হয়ত মাসে একবার , কোন কোনটি হয়তো সপ্তাহে একবার । কিন্তু সম্মিলিত মুনাজাত এমন এক বিদ’আত যা প্রতিদিন পাঁচবাব করা হয় । সুতরাং এর থেকে দুরে থাকতে হবে ।

হাদীসে বর্ণিত ফরয সালাতের পর পঠিতব্য দুআ ও যিকিরগুলো এককী পড়তে হবে, দলবদ্ধভাবে নয় । কারণ, হাদীসে এ ক্ষেত্রে পঠিতব্য দুআগুলো প্রায়ই সবই এক বচনের শব্দে এসেছে ।দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভারত বর্ষের প্রায় সকল মুসলিম জনগণ (আলিম ও সাধারণ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সালাতের পর পঠিতব্য দুআর তালিকাটি আংশিক বা পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন দুআ নির্বাচন ও সংযুক্ত করেছে। এর সাথে আরো যোগ করেছে দলবদ্ধ ও সম্মিলিত রুপ । ফলে সালাতের পরে দুআর নামে সম্মিলিত মুনাজাতের মাধ্যমে অনেকগুলো সুন্নাত উৎখাত হয়েছে । প্রথমতঃ যে সুন্নাতটি উঠেছে সেটা হল, ফরয সালাতের পর যে নির্দিষ্ট কিছু দুআ ও যিকির রয়েছে এটার জ্ঞানই অধিকাংশ লোকের নেই । যার জন্য ওগুলো কন্ঠস্থ করার সুযোগ তাদের হয়নি । ঐ সকল দুআ ও যিকির সম্বলিত হাদীসগুলো পড়ার কিম্বা ইমাম সাহেবের মাধ্যমে শোনার অবকাশ হয়নি বা নেই । এখন আমি যে সকল স্থানে হাত তুলে দোয়া করা যায় তা সহীহ হাদীসের মাধ্যমে তুলে ধরবোঃ
যে সকল স্থানে হাত তুলে দোয়া করা যায়:
(১) বৃষ্টি প্রার্থনার জন্যঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানায় এক বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিল । সে সময় একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুৎবা প্রদানকালে জনৈক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল , হে আল্লাহর রাসূল ! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে , পরিবার পরিজন অনাহারে মরছে । আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন । অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় হস্তদয় উত্তোলন পূর্বক দোয়া করলেন । সে সময় আকাশে কোন মেঘ ছিল না । (রাবী বলেন) আল্লাহর কসম করে বলছি, তিনি হাত না নামাতেই পাহাড়ের মত মেঘের খন্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তার মিম্বার থেকে নামার সাথে সাথেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল । এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তি জুম’আ পর্যন্ত হ’তে থাকল । অতঃপর পরবর্তি জুম’আর দিনে সে বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ীঘর ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে । অতএব আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন । তখন তিনি দু’হাত তুললেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহ ! আমাদের পার্শ্ববর্তি এলাকায় বৃষ্টি দাও , আমাদের এখানে নয় । এ সময় তিনি স্বীয় আঙ্গুলী দ্বারা মেঘের দিকে ইশারা করছিলেন । ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল । ( বুখারী , প্রথম খন্ড , পৃঃ ১২৭ , হা/৯৩৩ জুম’আর সালাত’ অধ্যায়)
একই বিষয় সম্পর্কিত আরও হাদীস দেখুন – বুখারী প্রথম খন্ড , পৃঃ ১৪০ , হা/১০২৯ ‘ইস্তিস্কা’ অধ্যায় ।
বৃখারী , প্রথম খন্ড , পৃঃ ১৩৭ ; মুসলিম , প্রথম খন্ড , পৃঃ ২৯৩-২৯৪ ।
মুসলিম , মিশকাত হা/১৪৯৮ ‘ইস্তিস্কা’ অনুচ্ছেদ ।
বুখারী , প্রথম খন্ড , পৃঃ ১৪০ , হা/১০৩১ ; মিশকাত হা/১৪৯৯।
(২) বৃষ্টি বন্ধের জন্যঃ
উপরে এক নম্বরে আলোচিত দলীল সমূহ ।
(৩) চন্দ্র ও সূর্য গ্রহনের সময়ঃ

আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) বলেন , আমি রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় এক সময় তীর নিক্ষেপ করছিলাম । হঠাৎ দেখি সূর্য গ্রহণ লেগেছে । আমি তীর গুলো নিক্ষেপ করলাম এবং বললাম , আজ সূর্য গ্রহণে রাসূল সাঃ এর অবস্থান লক্ষ্য করব । অতঃপর আমি তাঁর নিকট পৌছলাম । তিনি তখন দু’হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করছিলেন এবং তিনি “আল্লাহু আকবার” , “আলহামদু লিল্লাহ” , “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলছিলেন । শেষ পর্যন্ত সূর্য প্রকাশ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দু’টি সূরা পড়লেন এবং দু’রাকাত সালাত আদায় করলেন । (মুসলিম ১ম খন্ড , পৃঃ ২৯৯ হা/৯১৩ , চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত অধ্যায়)
(৪) উম্মাতের জন্য রাসূল সাঃ এর দোয়াঃ
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস রাঃ বলেন , একদা রাসূল সাঃ সূরা ইবরাহীমের ৩৫ নং আয়াত পাঠ করে দু’হাত উঠিয়ে বলেন , আমার উম্মাত , আমার উম্মাত এবং কাঁদতে থাকেন । তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন , হে জিবরীল ! তুমি আমার মুহাম্মাদের নিকট যাও এবং জিজ্ঞেস কর , কেন তিনি কাঁদেন । অতঃপর জিবরীল তাঁর নিকটে আগমন করে কাঁদার কারণ জানতে চাইলেন । তখন রাসূল সাঃ তাঁকে বললেন , আল্লাহ তায়ালা তা অবগত । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা জিবরীলকে বললেন , যাও , মুহাম্মাদকে বল যে , আমি তার উপর এবং তার উম্মাতের উপর সন্তুষ্ট আছি । আমি তার অকল্যাণ কবর না’ (মুসলিম , ১ম খন্ড , পৃ১১৩ , হা/৩৪৬ ‘ঈমান’ অধ্যায়)
(৫) কবর জিয়ারতের সময়ঃ
আয়েশা রাঃ বলেন , একদা রাতে রাসূল সাঃ আমার নিকটে ছিলেন । শোয়ার সময় চাদর রাখলেন এবং জুতা খুলে পায়ের নিচে রেখে শুয়ে পড়লেন । তিনি অল্প সময় এ খেয়ারে থাকলেন যে , আমি ঘুমিয়ে পড়েছি । অতঃপর ধীরে চাদর ও জুতা নিলেন এবং ধীরে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন । তখন আমিও কাপড় পরে চাদর মাথায় তাঁর পিছনে চললাম । তিনি “বাক্বীউল গারক্বাদে” (জান্নাতুল বাক্বী) পৌঁছলেন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন । অতঃপর তিন তিন বার হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করলেন । (মুসলিম , ১ম খন্ড , পৃঃ ৩১৩ , হা/৯৭৪ ‘জানাযা’ অধ্যায় , অনুচ্ছেদ-৩৫)
আয়েশা রাঃ বলেন , কোন এক রাতে রাসূল সাঃ বের হলেন , আমি বারিরা রাঃ কে পাঠালাম , তাঁকে দেখার জন্য যে , তিনি কোথায় যান । তিনি জান্নাতুল বাক্বীতে গেলেন এবং পার্শ্বে দাঁড়ালেন । অতঃপর হাত তুলে দোয়া করলেন। তারপর ফিরে আসলেন । বারিরাও ফিরে আসলো এবং আমাকে খবর দিল । আমি সকালে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম , হে আল্লাহর রাসূল ! আপনি গত রাতে কোথায় গিয়েছিলেন ? তিনি বললেন জান্নাতুল বাকীতে গিয়েছিলাম কবর বাসীর জন্য দোয়া করতে । (ইমাম বুখারী , রাফউল ঈয়াদাঈন , পৃঃ ১৭ , হাদীস সহীহ; মুসলিম হা/৯৭৪ (মর্মার্থ))
(৬) কারো জন্য ক্ষমা চাওয়ার লক্ষ্যে হাত তুলে দোয়া:
আউতাসের যুদ্ধে আবু আমেরকে তীর লাগলে আবু আমের স্বীয় ভাতিজা আবু মুসার মাধ্যমে বলে পাঠান যে , আপনি আমার পক্ষ থেকে রাসূল সাঃ কে সালাম পৌঁছে দিবেন এবং ক্ষমা চাইতে বলবেন । আবু মুসা আশ’আরী রাঃ রাসূলু্ল্লাহ সাঃ এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন এবং ওযু করলেন । এবং হাত তুলে প্রার্থনা করলেন , “হে আল্লাহ ! উবাইদ এবং আবু আমেরকে ক্ষমা করে দাও । (রাবী বলেন) এ সময় আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখলাম ।তিনি বললেন , “হে আল্লাহ ! ক্বিয়ামতের দিন তুমি তাকে তোমার সৃষ্টি মানুষের অনেকের উর্ধ্বে করে দিও” ।(বুখারী , ২য় খন্ড , পৃঃ ৯৪৪ , হা/৪৩২৩ ও ৬৩৮৩ ‘দু’আ সমূহ’ অধ্যায় )
(৭) হজ্জে পাথর নিক্ষেপের সময় :
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাঃ তিনটি জামারায় সাতটি পাথর খন্ড নিক্ষেপ করতেন এবং প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলতেন । প্রথম দু’জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর ক্বিবলামুখী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে দু’আ করতেন । তবে তৃতীয় জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর দাঁড়াতেন না । শেষে বলতেন , আমি রাসূল সাঃ কে এগুলো এভাবেই পালন করতে দেখেছি । (বুখারী , ১ম খন্ড , পৃঃ ২৩৬৭ , হা/১৭৫১ ‘হজ্জ’ অধ্যায় )
(৮) যুদ্ধক্ষেত্রে :
ওমর ইবনু খাত্তাব রাঃ হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূল সাঃ বদরের যু্দ্ধে মুশরিকদের দিকে লক্ষ্য করে দেখলেন, তাদের সংখ্যা এক হাজার । আর তাঁর সাথীদের সংখ্যা মাত্র তিনশত উনিশ জন । তখন তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’হাত উঠিয়ে দু’আ করতে লাগলেন । এ সময় তিনি বলছিলেন , ‘হে আল্লাহ ! তুমি আমাকে সাহায্য করার ওয়াদা করেছ । হে আল্লাহ! তুমি যদি এই জামা’আতকে আজ ধ্বংস করে দাও , তাহ’লে এই জমীনে তোমাকে ডাকার মত আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না । এভাবে তিনি উভয় হাত তুলে ক্বিবলা মুখী হয়ে প্রার্থনা করতে থাকলেন । এ সময় তাঁর কাঁধ হতে চাদরখানা পড়ে গেল । আবু বকর রাঃ তখন চাদরখানা কাঁধে তুলে দিয়ে রাসূল সাঃ কে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাঃ আপনার প্রতিপালক প্রার্থনা কবুলে যথেষ্ট । নিশ্চয়ই তিনি আপনার সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করবেন । (মুসলিম , ২য় খন্ড , পৃঃ ৯৩ , হা/১৭৬৩ , ‘জিহাদ’ অধ্যায় , অনুচ্ছেদ – ১৮ )
(৯) কোন গোত্রের জন্য দু’আ করা :
আবু হুরায়রা রাঃ বলেন , একদা আবু তুফাইল রাসূল সাঃ এর কাছে গিয়ে বলল , হে আল্লাহর রাসূল ! দাউস গোত্রও অবাধ্য ও অবশীভূত হয়ে গেছে , আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদ দু’আ করুন । তখন রাসূল সাঃ ক্বিবলামুখী হ’লেন এবং দু’হাত তুলে বললেন , হে আল্লাহ ! তুমি দাঊস গোত্রকে হেদায়াত দান কর এবং তাদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আস’। (বুখারী , মুসলিম , ছহীহ আল আদাবুল মুফরাদ , পৃঃ ২০৯ , হা/৬১১ সনদ সহীহ)
(১০) সাফা মারওয়া সায়ী করার সময় :
আবু হুরায়রা রাঃ বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং পাথরের নিকট এসে পাথর চুম্বন করলেন, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং সাফা পাহাড়ে এসে তার উপর উঠলেন । অতঃপর তিনি বায়তুল্লাহর দিকে লক্ষ্য করে দু’হাত উত্তোলন পুর্বক আল্লাহকে ইচ্ছামত স্মরণ করতে লাগলেন এবং প্রার্থনা করতে লাগলেন । (সহীহ আবু দাউদ , হা/১৮৭২ সনদ সহীহ , মিসকাত হা/২৫৭৫ ‘হজ্জ’ অধ্যায় )
(১১) কুনুতে নাযেলার সময় :
আবু উসামা রাঃ হতে বর্ণিত , রাসূল সাঃ কুনুতে নাযেলায় হাত তুলে দু’আ করেছিলেন । (ইমাম বুখারী , রাফউল ঈয়াদাঈন , সনদ সহীহ)
হাত তুলে দু’আ করার অন্যান্য সহীহ হাদীস সমূহঃ
(১২) খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ এর অপছন্দ কর্মের কারণে হাত তুলে দু’আ :
সালেমের পিতা হ’তে বর্ণিত , নবী করীম সাঃ খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে বনী জামীমার বিরুদ্ধে এক অভিযানে পাঠালেন । খালিদ তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন । তারা এ দাওয়াত গ্রহণ করে নিল । কিন্তু ‘ইসলাম গ্রহণ করেছি’ না বলে তারা বলতে লাগল , ‘আমরা নিজেদের ধর্ম ত্যাগ করেছি’ তখন খালিদ তাদেরকে কতল ও বন্দী করতে লাগলেন এবং বন্দীদেরকে আমাদের প্রত্যেকের হাতে সমর্পণ করতে থাকলেন । একদিন খালিদ আমাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব বন্দী হত্যা করার নির্দেশ দিলেন । আমি বললাম , আল্লাহর কসম ! আমি নিজের বন্দীকে হত্যা করব না এবং আমার সাথীদের কেউই তার বন্দীকে হত্যা করবে না । অবশেষে আমরা নবী করীম সাঃ এর খেদমতে হাযির হলাম এবং তার কাছে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলাম । তখন নবী করীম সাঃ স্বীয় হস্ত উত্তোলন পূর্বক প্রার্থনা করলেন , ‘হে আল্লাহ ! খালিদ যা করেছে তার দায় থেকে আমি মুক্ত’ – এ কথা তিনি দু’বার বললেন । (বুখারী , ২য় খন্ড , পৃঃ ৬২২ , হা/৪৩৩৯ ‘মাগাযী’ অধ্যায়)
(১৩) সাদাক্বাহ আদায়কারীর ভুল মন্তব্য শুনে হাত তুলে দু’আঃ
আবু হুমায়েদ সায়েদী রাঃ বলেন , একবার নবী সাঃ ইবনু লুত্ববিইয়াহ নামক ‘আসাদ’ গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করলেন । তখন সে যাকাত নিয়ে মদীনায় ফিরে এসে বলল , এ অংশ আপনাদের প্রাপ্য যাকাত , আর এ অংশ আমাকে হাদীয়া স্বরুপ দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে নবী সাঃ ভাষণ দানের জন্য দাঁড়ালেন এবং প্রথমে আল্লাহর গুনগান বর্ণনা করলেন । অতঃপর বললেন , আমি তোমদের কোন ব্যক্তিকে সে সকল কাজের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করি , যে সকল কাজের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা আমার উপর সমর্পণ করেছেন । অতঃপর তোমাদের সে ব্যক্তি এসে বলে বলে যে , এটা আপনাদের প্রাপ্য যাকাত , আর এটা আমাকে হাদীয়া স্বরুপ দেয়া হয়েছে। সে কেন তার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকল না? দেখা যেত কে তাকে হাদীয়া দিয়ে যায় । আল্লাহর কসম , যে ব্যক্তি এর কোন কিছু গ্রহণ করবে , সে নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন তা আপন ঘাড়ে বহন করে হাযির হবে । যদি আত্মসাৎকৃত বস্তু উট হয় , উটের ন্যায় ‘চি চি’ করবে , যদি গরু হয় তবে ‘হাম্বা হাম্বা’ করবে । আর যদি ছাগল-ভেড়া হয় , তবে ‘ম্যা ম্যা’ করবে । অতঃপর রাসূল সাঃ স্বীয় হস্তদ্বয় উঠালেন , তাতে আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করলাম । তিনি বললেন , ‘হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই তোমার নির্দেশ পৌঁছে দিলাম । হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই আমি পৌঁছে দিলাম’ ।(বুখারী , পৃঃ ৯৮২ , হা/ ৬৬৩৬ ‘কসম ও মানত’ অধ্যায় )
(১৪) মুমিনকে কষ্ট বা গালি দেয়ার প্রতিকারে হাত তুলে দু’আ :
আয়েশা রাঃ রাসূল সাঃ কে হাত তুলে দু’আ করতে দেখেন । তিনি দু’আয় বলছিলেন , ‘নিশ্চয় আমি মানুষ । কোন মুমিনকে গালি বা কষ্ট দিয়ে থাকলে তুমি আমাকে শাস্তি প্রদাণ কর না’ ।
 (সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ , হা/৬১০ , পৃঃ ২০৯ ; সিলসিলাহ সহীহা , হা/৮২-৮৩ , সনদ সহীহ)
সম্মানিত পাঠকগণ ! এখানে হাত তুলে দু’আ করার প্রমাণে অনেকগুলো হাদীস পেশ করা হল , যদ্দ্বারা প্রমাণিত হয় যে , হাত তুলে দু’আ করার বিধান শরীয়াতে রয়েছে । উক্ত হাদীছ গুলোতে এককভাবে হাত তুলে দু’আ করার কথা এসেছে । শুধু প্রথম হাদীসটিতে সম্মিলিতভাবে দু’আ করার কথা এসেছে যা ইসতিস্কা বা পানি চাওয়া সংক্রান্ত । ইসতিস্কা বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে , যাতে সম্মিলিতভাবে দু’আ করার কথা আছে । তাই এই দু’আ করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিয়ম পদ্ধতির এক চুলও ব্যতিক্রম করা যাবে না । যে ক্ষেত্রে যেভাবে দু’আ করার কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে সেভাবেই দু’আ করতে হবে । কেননা দু’আও ইবাদতেরই অংশ বিশেষ । অতএব এর ব্যতিক্রম ঘটলে তা বিদ’আতে পরিণত হবে । (বুখারী , মুসলিম , মিশকাত হা/২৭ ‘ঈমান’ অধ্যায় )
হাত তুলে দু’আর প্রমাণে পেশকৃত য’ঈফ হাদীস সমূহঃ
(১) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন কোন বান্দা প্রত্যেক সালাতের পর দু’হাত প্রশস্ত করে , অতঃপর বলে , হে আমার মাবুদ এবং ইবরাহিম , ইসহাক্ব (আঃ) এর মাবুদ এবং জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীল (আঃ) এর মাবুদ , তোমার কাছে আমি চাচ্ছি , তুমি আমার প্রার্থনা কবুল কর । আমি বিপথগামী, তুমি আমাকে আমার দ্বীনের উপর রক্ষা কর। তুমি আমার উপর রহমত বর্ষণ কর । আমি অপরাধী, তুমি আমার দারিদ্রতা দূর কর । আমি দৃঢ়ভাবে তোমাকে গ্রহণ করি । তখন আল্লাহর উপর হক্ব হয়ে যায় তার খালি হাত দু’খানা ফেরত না দেয়া । (ইবনুস সুন্নী , আমালুল ইয়াম ওয়াল লাইল ৪৯পৃঃ)
হাদীসটি যঈফ । হাদীসটির সনদে আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুর রহমান ও খাদীফ নামে দু’জন দূর্বল রাবী রয়েছে ।তা সত্ত্বেও অত্র দুর্বল হাদীসে একক ব্যক্তি হাত তুলে দু’আ প্রমাণিত হয় , দলবদ্ধভাবে দু’আ প্রমাণিত হয় না ।
(২) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত , একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরার পর ক্বিবলা মুখ হয়ে দু’হাত উঠালেন এবং বললেন , হে আল্লাহ ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদকে পরিত্রাণ দাও । আইয়াশ , ইবনু আবী রবী’আহ , সালাম ইবনু হিশাম এবং দূর্বল মুসলমানদের পরিত্রাণ দাও । যারা কোন কৌশল জানে না । যারা কাফিরদের হাত হতে কোন পথ পায় না – (ইবনু কাসীর , ২য় খন্ড , পৃঃ ৫৫৫ ; সুরা নিসা ৯৭ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ) । হাদীসটি যঈফ (ইবনু হাজার আসক্বালানী , তাহযীবুত তাহযীব , ৭/২৭৪ , রাবী নং ৪৯০৫)
আলোচ্য হাদীসে আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জাদআন যঈফ রাবী । (ইবনু হাজার আসক্বালানী , তাক্ববীর , পৃঃ ৪০১ , রাবী নং ৪৭৩৪ । এ রাবীকে শায়খ আলবানীও দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন , দেখুন “যিলালিল জান্নাহ” (৬৩০) , “আল ইসরা ওয়াল মি’রাজ” (পৃঃ ৫২) ও কিসসাতু মাসীহিদ দাজ্জাল” গ্রন্থে (পৃঃ ৯৪) অন্য প্রসঙ্গে বর্ণিত একটি হাদীসে)
আলোচ্য হাদীসটি মুনকার তথা সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহ বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত সহীহ হাদীস বিরোধী । আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত বুখারীর হাদীসে সালাতের মধ্যে রুকুর পর দু’আ করার কথা রয়েছে । অথচ এ দূর্বল হাদীসে সালামের পরের কথা রয়েছে । বুখারীর হাদীসে হাত তোলার কথা নেই , কিন্তু এ হাদীসে হাত তোলার কথা বলা হয়েছে । অথচ ঘটনা একটিই এবং দু’আ হল কুনুতে নাযেলা । (সহীহুল বুখারী , হা/২৯৩২ , ‘জিহাদ’ অধ্যায় , অনুচ্ছেদ ৯৮ , মুসলিম ৬৭৫ , নাসাঈ ১০৭৪ , আবু দাউদ ১৪৪২ , ইবনু মাজাহ ১২৯৪ , আহমাদ ৭৪১৫ , ও দারেমী ১৫৯৫)
অতএব সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আর প্রমাণ পেশ করা শরীয়ত বিকৃত করার শামিল ।
(৩) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন , সালাত দু’ দু’রাকাত এবং প্রত্যেক দু’রাকাতেই তাশাহুদ , ভয় , বিনয় ও দীনতার ভাব থাকবে । অতঃপর তুমি ক্বিবলামুখী হয়ে তোমার দু’হাতকে তোমার মুখের সামনে উঠাবে এবং বলবে , হে আমার প্রতিপালক ! হে আমার প্রতিপালক ! যে এরুপ করবে না তার সালাত অসম্পূর্ণ (মিশকাত , পৃঃ ৭৭ , হাদীস/৮০৫ ‘সালাতের বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ ) হাদীসটি যঈফ । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু নাফি’ ইবনিল আময়া যঈফ রাবী । (আলবানী , যঈফ আবু দাউদ , হা/১২৯৬ , যঈফ ইবনে মাজাহ , হা/১৩২৫ , ইবনু খুজায়মা , হা/১২১২ , যঈফুল জামে আস সগীর , হাদীস/৩৫১২ ; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/৮০৫-এর টিকা নং ৩ ; তাক্বরীবুত তাহযীব পৃঃ ৩২৬ , রাবী নং ৩৬৫৮)
এ হাদীসটি দূর্বল হওয়া সত্ত্বেও এতে নফল সালাতের কথা বলা হয়েছে এবং এককভাবে দু’আর কথা এসেছে ।
(৪) খাল্লাদ ইবনু সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দু’আ করতেন , তখন তাঁর দু’হাত মুখের সামনে উঠাতেন (মাযমাউয যাওয়ায়েদ , ১ম খন্ড , পৃঃ ১৬৯ ) হাদীসটি যঈফ । হাফস ইবনু হাসি ইবনু উৎবা যঈফ রাবী অ (তাক্বরীবুত তাহযীব , পৃঃ ১৭৪ , রাবী নং ১৪৩৪)
(৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন , তোমরা হাতের পেট দ্বারা চাও পিঠ দ্বারা চেয়ো না । অতঃপর তোমরা যখন দুআ শেষ কর তখন তোমাদের হাত দ্বারা চেহারা মুছে নাও । (হাদীসটি দুর্বল , দেখুন যঈফ আাবু দাউদ , ১৪৮৫ , উল্লেখ্য তোমরা হাতের পেট দ্বারা চাও পিঠ দ্বারা চেয়ো না , এই অংশ টুকু সহীহ , দেখুন সহীহ আবু দাউদ , ১৪৮৬ , সহীহ জামেউস সগীর , ৫৯৩ ৩৬৩৪ ও সিলসিলাহ আহাদীসিস সহীহাহ , ৫৯৫) ।
প্রকাশ থাকে যে , হাত তুলে দুআ করার পর হাত চেহারায় মুছার প্রমাণে কোন সহীহ হাদীস নেই । বিস্তারিত দেখুন – ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৮-১৮২ , হা/৪৩৩ ও ৪৩৪ এর আলোচনা তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/২২৫৫ এর টিকা নং ৪ ।
(৬) সায়িব ইবনু ইয়াযিদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দুআ করতেন তখন দুহাত উঠাতেন এবং দুহাত দ্বারা চেহারা মুছে নিতেন । (আবু দাউদ , হা/১৪৯২ ; মিশকাত হা/২২৫৫) । হাদীসটি যঈফ । আলোচ্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনু লাহইয়াহ নামক রাবী যঈফ । (যঈফ আবু দাউদ , হা/১৪৯২ , পৃঃ ১১২ ; আউনুল মাবুদ , ১ম খন্ড ,পৃঃ ৩৬০ ; তাক্বরীব পৃঃ ৩১৯ রাবী নং ৩৫৬৩)
(৭) আসওয়াদ আমিরী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন , তার পিতা বলেন , আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করেছি । যখন তিনি সালাম ফিরালেন এবং ঘুরলেন তখন হাত উঠিয়ে দুআ করলেন । (ইবনু আবী শায়বা, ১ম খন্ড , পৃঃ ৩৩৭)
প্রকাশ থাকে যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত উঠালেন এবং দুআ করলেন , এই অংশটুকু মূল হাদীসে নেই । (ইবনু আবী শায়বা , আল মুসান্নাফ , ১/৩৩৭ , সালাত অধ্যায় , অনুচ্ছেদ ৭৬) মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভী এবং আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তারা নিজ নিজ গ্রন্থে হাদীসগুলো আলোচনা করেছেন । কিন্তু সহীহ যঈফের মানদন্ডে হাদীসগুলো সহীহ নয় । তাই এখনও যারা এ হাদীস বক্তব্য বা লিখনীর মাধ্যমে প্রচার করতে চাইবেন তাদেরকে অবশ্যই হাদীসের মূল কিতাব দেখে পরিত্যাগ করতে হবে অন্যথা তারা হবেন নবীর উপর মিথ্যারোপকারী এবং মিথ্যা প্রচারকারী , যাদের পরিণতি ভয়াবহ । (মুসলিম , মিশকাত হা/১৯৮ , ১৯৯ ইলম অধ্যায়)
(৮) আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের একজন লোককে সালাত শেষের পূর্বে হাত তুলে দুআ করতে দেখলেন । যখন তিনি দুআ শেষ করলেন , তখন আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের তাকে বললেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শেষ না করা পর্যন্ত হাত তুলে দুআ করতেন না – (মাজমাউয যাওয়ায়েদ , ১ম খন্ড , পৃঃ ১৬৯) । হাদীসটি যঈফ , (মুনকার), সহীহ হাদীস বিরোধী । সহীহ হাদীসে সালাতের মধ্যে রুকুর পর কুনুতে নাযেলা পড়ার সময় হাত তুলার কথা আছে – (আহমাদ , তাবারানী , সনদ সহীহ , ইরওয়াউল গালীল , ২/১৮১ , হ/৮৩৮-এর আলোচনা দ্রঃ) । তবে সালাতের পর হাত তোলার কোন সহীহ হাদীস নেই ।
(৯) আবু নাঈম (রাঃ) বলেন , আমি ওমর ও ইবনু যুবায়ের (রাঃ) কে তাদের দুহাতের তালু মুখের সামনে করে দুআ করতে দেখেছি । অত্র হাদীসে মুহাম্মাদ ইবন ফোলাইহ এবং তার পিতা তারা দুজনই যঈফ রাবী । (আল আদাবুল মুফরাদ , তাহক্বীক্ব , হা/৬০৯ পৃঃ ২০৮ ; দুআয় হাত তোলা অনুচ্ছেদ , পৃঃ ২০৮)
ফরয সালাতের পরে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু’আ করা সম্বদ্ধে পৃথিবীর শ্রেষ্ট আলেমদের অভিমতঃ
(১) আহমাদ ইবনু তাইমিয়াহ (রাঃ) কে ফরয সালাতের পর ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে দু’আ করা জায়েয কি-না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন , “সালাতের পর ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে দু’আ করা বিদ’আত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এরুপ দু’আ ছিল না । বরং তার দু’আ ছিল সালাতের মধ্যে । কারণ সালাতের মধ্যে মুসল্লি স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে আর নীরবে কথা বলার সময় দু’আ করা যথাযথ” । ( মাজমুআ ফাতাওয়া, ২২/ ৫১৯পৃঃ)
(২) শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহঃ) বলেন, “পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করা স্পষ্ট বিদ’আত । কারণ এরুপ দু’আ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগে ছিল না । যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করে সে যেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের বিরোধীতা করে ।” (হাইয়াতু কেবারিল ওলামা ১/২৪৪পৃঃ)
তিনি আরো বলেন , “ইমাম-মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে দু’আ করার প্রমাণে রাসূলুল্লাহ সাঃ থেকে , কথা , কর্ম ও অনুমোদন ( কাওলী , ফে’লী , তাক্বরীরী) কোন হাদীস সম্পর্কে আমরা অবগত নই । আর একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শের অনুসরণেই রয়েছে সম্স্ত কল্যাণ । সালাত আদায়ের পর ইমাম-মুক্তাদির দু’আ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ সুস্পষ্ট আছে , যা তিনি সালামের পর পালন করতেন । চার খলীফা সহ সাহাবীগণ এবং তাবেঈ গণ যথাযথভাবে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেছেন । অতঃপর যে ব্যক্তি তাঁর আদর্শের বিরোধীতা করবে , তাঁর আমল পরিত্যাজ্য হবে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , “যে ব্যক্তি আমার নির্দেশ ব্যতীত কোন আমল করবে , তা পরিত্যাজ্য ।” কাজেই যে ইমাম হাত তুলে দু’আ করবেন এবং মুক্তাদীগণ হাত তুলে আ-মীন আ-মীন বলবেন তাদের নিকট এ সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলীল চাওয়া হবে। অন্যথায় (তারা দলীল দেখাতে ব্যর্থ হ’লে) তা পরিত্যাজ্য।” (হাইয়াতু কেবারিল ওলামা ১/২৫৭)
(৩) বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস আল্লামা শায়খ নাসিরউদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন , “দু’আয়ে কুনুতে হাত তুলার পর মুখে হাত মুছা বিদ’আত । সালাতের পরেও ঠিক নয় । এ সম্পর্কে যত হাদীস রয়েছে , এর সবগুলিই যঈফ। এজন্য ইমাম আযউদ্দীন বলেন , সালাতের পর হাত তুলে দু’আ করা মুর্খদের কাজ । (সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃঃ ১৪১)
(৪) শায়খ উছায়মিন (রহঃ) বলেন, সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু’আ করা বিদ’আত । যার প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে নেই । মুসল্লিদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে। (ফাতাওয়া উছায়মিন, পৃঃ ১২০)
(৫) আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ) বলেন , ফরয সালাতের পর হাত তুলে দু’আ করা ব্যতীত অনেক দু’আই রয়েছে । (রফূস সামী , পৃঃ ৯৫)
(৬) আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষনৌভী (রহঃ) বলেন , বর্তমান সমাজে প্রচলিত প্রথা যে , ইমাম সালাম ফিরানোর পর হাত উঠিয়ে দু’আ করেন এবং মুক্তাদীগণ আ-মীন , আ-মীন বলেন , এ প্রথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছিল না । ফৎওয়া আব্দুল হাই, ১ম খণ্ড , পৃঃ ১০০)
(৭) আল্লামা ইউসুফ বিন নূরী বলেন , অনেক স্থানেই এ প্রথা চালু হয়ে গেছে যে ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর পর সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা হয় যা রাসূল সাঃ হতে প্রমাণিত নয় । (মা’আরেফুস সুনান , ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪০৭)
(৮) আল্লামা আবুল কাশেম নানুতুবী (রহঃ) বলেন, ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর পর ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা নিকৃষ্ট বিদ’আত । (এমদুদ্দীন , পৃঃ ৩৯৭)
(৯) আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন , ইমাম পশ্চিমমুখী হয়ে অথবা মুক্তাদী গণের দিকে ফিরে মুক্তাদী গণকে নিয়ে মুনাজাত করা কখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তরীকা নয় । এ সম্পর্কে একটিও সহীহ অথবা হাসান হাদীস নেই । ( ইবনুল কাইয়্যেম , যাদুল মা’আদ, ১ম খন্ড ,পৃঃ নং ১৪৯ ‘ফরয সালাতের পর দু’আ করা সম্পর্কে লেখকের মতামত’ অনুচ্ছেদ )
(১০) আল্লামা মাজদুদ্দীন ফিরোযাবাদী (রহঃ) বলেন, ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর পর ইমামগণ যে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেন, তা কখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেননি এবং এ সম্পর্কে কোন হাদীসও পাওয়া যায় না । (ছিফরুস সা’আদাত, পৃঃ২০)
(১১) আল্লামা শাত্বেবী (রহঃ) বলেন, শেষ কথা হল এই যে, ফরয সালাতের পর সম্মিলিতভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মুনাজাত করেননি, করার আদেশও দেননি । এমনকি তিনি এটা সমর্থন করেছেন, এ ধরনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । (আল-ইতেসাম ,১ম খন্ড , পৃঃ ৩৫২)
(১২) আল্লামা ইবনুল হাজ মাক্কী বলেন, নিঃসন্দেহে এ কথা বলা চলে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর পর হাত উঠিয়ে দু’আ করেছেন এবং মুক্তাদীগণ আ-মীন , আ-মীন বলেছেন, এরুপ কখনও দেখা যায় না । চার খলীফা থেকেও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । তাই এ ধরনের কাজ, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেননি , তাঁর সাহাবীগণ করেননি , নিঃসন্দেহে তা না করা উত্তম এবং করা বিদ’আত । (মাদখাল, ২য় খন্ড , পৃঃ ২৮৩)
(১৩) মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেন, ফরয সালাতের পর ইমাম সাহেব দু’আ করবেন এবং মুক্তাদীগণ আ-মীন আ-মীন বলবেন, এ সম্পর্কে ইমাম আরফাহ এবং ইমাম গারবহিনী বলেন , এ দু’আকে সুন্নাত অথবা মুস্তহাব মনে করা না জায়েজ । (ইস্তিবাবুদ দাওয়াহ পৃঃ৮)
(১৪) মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রাহঃ) বলেন , বর্তমানে অনেক মসজিদের ইমামদের অভ্যাস হয়ে গেছে যে , কিছু আবরী দু্’আ মুখস্থ করে নিয়ে সালাত শেষ করেই (দু’হাত উঠিয়ে ) ঐ মুখস্থ দু’আগুলি পড়েন । কিন্তু যাচাই করে দেখলে দেখা যাবে যে , এ দু’আগুলোর সারমর্ম তাদের অনেকেই বলতে পারে না । আর ইমামগণ বলতে পারলেও এটা নিশ্চিত যে , অনেক মুক্তাদী এ সম্স্ত দু’আর অর্থ মোটেই বুঝে না । কিন্তু না জেনে না বুঝে আ-মীন, আ-মীন বলতে থাকে । এ সমস্ত তামাশার সারমর্ম হচ্ছে কিছু শব্দ পাঠ করা মাত্র । প্রার্থনার যে রুপ বা প্রকৃতি , তা এতে পাওয়া যায় না । (মা’আরেফুল কুরআন , ৩য় খন্ড , পৃঃ ৫৭৭) তিনি আরো বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনে ইযাম হ’তে এবং শরীয়তের চার মাযহাবের ইমামগণ হ’তেও সালাতের পরে এ ধরনের মুনাজাতের প্রমাণ পাওয়া যায় না । সারকথা হ’ল, এ প্রথা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের প্রদর্শিত পন্থা ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের পরিপন্থি । (আহকামে দু’আ , পৃঃ ১৩)
(১৫) মুফতী আযম ফয়যুল্লাহ হাটহাজারী বলেন , ফরয সালাতের পর দু’আর চারটি নিয়ম আছে । (১) মাঝে মাঝে একা একা হাত উঠানো ব্যতীত হাদীসে উল্লিখিত মাসনুন দু’আ সমূহ পড়া । নিঃসন্দেহে তা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । (২) মাঝে মাঝে একা একা হাত উঠিয়ে দু’আ করা । এটা কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় । তবে কিছু যঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । (৩) ইমাম ও মুক্তাদীগণ সম্মিলিতভাবে দু’আ করা । এটা না কোন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত , না কোন যঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । (৪) ফরয সালাতের পর সর্বদা দলবদ্ধভাবে হাত উঠিয়ে প্রার্থনা করার কোন প্রমাণ শরীয়তে নেই । না সাহাবী ও তাবেঈদের আমল দ্বারা প্রমাণিত , না হাদীস সমূহ দ্বারা , সহীহ হোক অথবা যঈফ হোক অথবা জাল হোক । আর না ফিক্বাহ এর কিতাবের কোন পাতায় লিখা আছে। এ দু’আ অবশ্যই বিদ’আত (আহকামে দু’আ , পৃঃ ২১)
(১৬) পাকিস্থানের বিখ্যাত মুফতী আল্লামা রশীদ আহমাদ বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পাঁচবার প্রকাশ্যে জামা’আত সহকারে পড়তেন । যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও সম্মিলিতভাবে মুক্তাদীগণকে নিয়ে মুনাজাত করতেন তাহলে নিশ্চয়ই একজন সাহাবী হলেও তা বর্ণনা করতেন । কিন্তু এতগুলো হাদীসের মধ্যে একটি হাদীসও এ মুনাজাত সম্পর্কে পাওয়া যায়নি । তারপর কিছুক্ষনের জন্য মুস্তাহাব মানলেও বর্তমানে যেরুপ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে , তা নিঃসন্দেহে বিদ’আত । (আহসানুল ফাতাওয়া , ৩য় খন্ড ,পৃঃ ৬৮ )
(১৭) মাওলানা মওদুদী বলেন , এতে সন্দেহ নেই যে , বর্তমানে জামা’আতে সালাত আদায় করার পর ইমাম ও মুক্তাদী মিলে যে নিয়মে দু’আ করেন, এ নিয়ম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানায় প্রচলিত ছিল না। এ কারণে বহুসংখ্যক আলেম এ নিয়মকে বিদ’আত বলে আখ্যায়িত করেছেন । ( আহসানুল ফাতাওয়া , ৩য় খন্ড , পৃঃ ৬৯৮)
(১৮) মাসিক মঈনুল ইসলাম পত্রিকার প্রশ্নোত্তর কলামে বলা হয়েছে , জামা’আতে ফরয সালাতান্তে ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা বিদ’আত ও মাকরুহে তাহরীমী । কেননা সাহাবয়ে কেরাম , তাবেঈন , তাবে তাবেঈনদের কেউ এ কাজ শরী’আত মনে করে ‘আমল করেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । তা নিশ্চয়ই মাকরুহ ও বিদ’আত । ( মাসিক মঈনুল ইসলাম , ছফর সংখ্যা ১৪১৩ হিঃ )
প্রকাশ থাকে যে , কোন কোন ‘আলেম ফরয সালাতান্তে হাত উঠিয়ে দু’আ করার প্রমাণে কিছু পুস্তক লিখলেও প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি বিতর্কিত নয় । সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অথবা স্বার্থান্বেষী হয়ে আমরাই বিষয়টিকে বিতর্কিত করেছি । কারণ একথা সর্বজন বিদিত যে , রাসূল সাঃ , সাহাবীগণ ও তাবেঈগণ ইমাম-মুক্তাদী মিলে হাত উঠিয়ে কখনো দু’আ করেননি এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ‘আলিমগণ করেননি এবং বর্তমানেও করেন না । কাজেই এটি স্পষ্ট বিদ’আত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী ‘আমল করার তাওফীক দান করুন – আমীন !!
সৌজন্যে: মুক্ত ব্লগ ডট নেট (ব্লগার তাসনীম)
সৌজন্যে:preachingauthenticislaminbangla.blog

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য-সমর্থন করার একশত উপায়

 

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা, আপনাদের কারো অজানা নয় যে, কাফের সম্প্রদায় কখনো ইসলাম নিয়ে, কখনো মুসলমানদের নিয়ে কখনো নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে আবার কখনো ইসলামে বিশেষ কোন দিক নিয়ে আক্রমণাত্মক, ব্যাঙ্গাক্তক ও উস্কানি মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি আমেরিকায় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গাক্ত ফ্লিম তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আমরা কিভাবে নবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য ও সমর্থন করতে পরি এ প্রবন্ধে সে ব্যাপারে একশটি উপায় তা আলোচনা করা হয়েছে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। নবী ও রাসূলদের শ্রেষ্ঠতম সত্বা, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , তাঁর সাথী-সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজনের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
ইসলামের মূলভিত্তি সমূহের একটি হল: এ কথার ঘোষণা দেয়া যেঃ  আল্লাহ তাআলা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্যিকার কোন মাবুদ নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
ইসলামের এ মহান দু’টো ঘোষণার দ্বিতীয়টি হল:  মুহাম্মাদ [সা:] আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।
নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে এ ঘোষণার বাস্তবায়ন করা যায়ঃ
প্রথমতঃ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে মেনে নেয়া। তিনি মানব ও জ্বিনসহ সকলের জন্য প্রেরিত। তার প্রধান মিশন হল আল-কুরআন ও সুন্নাহ। এ দু’টো বাদ দিয়ে কোন ধর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
দ্বিতীয়তঃ তার আনুগত্য করা, তার হুকুমে সন্তুষ্ট থাকা। তার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে মেনে নেয়া, তার সুন্নাত ও আদর্শের অনুসরণ করা। এবং এর বাহিরে যা আছে তা প্রত্যাখ্যান করা।
তৃতীয়তঃ নিজের চেয়ে, নিজের মাতা-পিতা ও পরিবার-পরিজনের চেয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বেশী মুহাব্বত করা-ভালবাসা। এ ভালবাসার যথার্থ রূপ হচ্ছে তাকে সম্মান করা, মর্যাদা দেয়া, সাহায্য করা এবং তার পক্ষ সমর্থন করা।
সকল মুসলিমের কর্তব্য হলঃ এ বিষয়গুলো বাস্তবে রূপদানের চেষ্টা করা। এতে তার ঈমান পরিশুদ্ধ হবে, কালেমায়ে তাওহীদের দ্বিতীয় ঘোষণা সঠিক বলে গৃহীত হবে। শুধু মুখে স্বাক্ষ্য দেয়ার নাম ঈমান নয়। যেমনটি করে মুনাফিকরা।
আল্লাহ বলেনঃ
মুনাফিকরা বলে, আমরা স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহও জানেন নিশ্চয়ই আপনি তাঁর রাসূল। কিন্তু আল্লাহ স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী। (সূরা আল-মুনাফিকুনঃ )
কেন মুনাফিকদের এ ঘোষণা কাজে আসেনি? কারণ তারা এ ঘোষণার বাস্তবায়নে কাজ করেনি।
এ প্রসঙ্গে আমরা আপনার খেদমতে এমন কিছু বিষয় পেশ করছি যা দিয়ে আপনি আল্লাহর রাসূলকে মুহাব্বত ও ভালবাসার পরিচয় দিতে পারবেন। বিশেষ করে বর্তমানের এ সংকটময় সময়ে তার মুহাব্বত ও ভালবাসার প্রমাণ দেয়া অনেক জরুরী হয়ে পড়েছে। ঈমানের দাবীতে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকে যার যার সামর্থ অনুযায়ী মুহাব্বতের দাবীর প্রমাণ দিবেন। নিজে এর দায়িত্ব বহন করবেন।
ব্যক্তি হিসাবে দায়িত্বঃ
[১ ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়তের অকাট্য প্রমাণাদির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা, যা দিয়ে প্রমাণ হয় যে, তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের রাসূল। এ সকল প্রমাণের মূল হল আল-কুরআন। এতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়তের সত্যতার বিষয়ে যে সকল বানী এসেছে তা অনুধাবন করা ও তাতে চিন্তা-গবেষণা করা।
[২]  নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য ও অনুসরণ যে অবশ্য কর্তব্য এবং তার সকল নির্দেশ পালন করা যে অপরিহার্য, এ বিষয়ে কুরআন,সুন্নাহ ও ইজমার প্রমাণাদিগুলো শিক্ষা করা।
[৩]  মহান আল্লাহ তাআলা যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ সংরক্ষণ করেছেন সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করা এবং সঠিক ধারণা লাভ করা। আর সেটি সম্পন্ন হয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও অক্লান্ত চেষ্টা-মেহনতের মাধ্যমে। যেমন আমরা দেখি উম্মাতের হাদীস বিশারদগণ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দূর্বল হাদীস, সহীহ হাদীস, বানোয়াট হাদীস চিহ্নত করেছেন এবং এগুলো নিরূপনের অত্যান্ত সূক্ষ্ম ও গ্রহনযোগ্য কিছু মূলনীতি প্রনয়ন করেছেন। এটা শুধু এ উম্মাতে মুহাম্মদীই করেছে এবং করছে। অন্য কোন জাতি তাদের নবীর আদর্শ সংরক্ষণের বিষয়ে এমন ভূমিকা অতীতে রাখেনি।
[৪]  অন্তরে আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুহাব্বতের অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করা। এটা তার অনুপম স্বভাব, চরিত্র, আচার-আচারণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট মন্ডিত অবয়ব-আকৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন ও তার সীরাত পাঠের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।

[৫]  আমাদের প্রত্যেকের প্রতি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যে ইহসান ও অনুগ্রহ আছে তা সদা অনুভব করা। তিনি কত সুন্দরভাবে আল্লাহর দীন আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন ও উম্মাতের কল্যাণ কামনা করেছেন।
[৬]  আল্লাহ তাআলার নেয়ামত ও অনুগ্রহের পর আমাদের উপর তার অনুগ্রহ সবচে বেশী। তিনিই আমাদের আল্লাহর দিকে ও তার জীবন বিধানের দিকে পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলের পক্ষ থেকে তাকে উত্তম প্রতিদানে সম্মানিত করুন! যে প্রতিদান হবে সকল নবীকে তাদের উম্মাতের পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিদানের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর।
[৭]  অনুভব করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তার উম্মাতের প্রতি সবচেয়ে দয়াদ্র, করুণাময়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্টতর।” (সূরা আল-আহযাব : ৬)
অর্থ্যাৎ একজন ঘনিষ্ট ও আপন ব্যক্তি তার আরেক ঘনিষ্ট ব্যক্তিকে যত আপন ভাবে, যত আন্তরিক হতে পারে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মাতের জন্য এর চেয়ে বেশী ঘনিষ্ট।
 [৮]  যে সকল আয়াত ও হাদীস আল্লাহর কাছে তার শ্রেষ্ঠত্ব, তার প্রতি আল্লাহর ভালবাসা , তাকে আল্লাহর সম্মান প্রদর্শন বিষয়ে প্রমাণ বহন করে তা জানা ও সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
[৯]  আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে ভালবাসতে আমাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন তা কঠোরভাবে পালন করা।বরং তাকে নিজের চেয়েও বেশী ভালবাসা। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমাদের কেহ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার প্রাণের চেয়ে, সন্তানের চেয়ে, মাতা-পিতার চেয়ে ও সকল মানুষের চেয়ে অধিকতর প্রিয় না হব।”
[১০] আল্লাহ তাআলা তার সাথে যে আদব-কায়দা, শিষ্ঠাচার অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন তা কাঠোরভাবে পালন করা।
যেমন তিনি বলেছেনঃ
হে ঈমানদারগন! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তার সাথে সে রকম উচ্চস্বরে কথা বলো না; কারণ এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে। যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নীচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার। (সূরা আল-হুজুরাত : ২-৩(
আল্লাহ আরো বলেনঃ
“রাসূলকে ডাক দেয়ার ক্ষেত্রে তোমরা একে অপরের ডাকের মত গণ্য করো না।” (সূরা আন-নূর : ৬৩(
 [১১] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করার বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালনে যত্নবান হওয়া। যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ
“যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং রাসূলকে সাহায্য কর ও সম্মান কর।” (সূরা আল-ফাতহ: )
 [১২] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সাহায্য করার জন্য আন্তরিক নিয়্যত ও সংকল্প অব্যাহত ভাবে ধারণ করা তার পক্ষে প্রতিরোধ করা।
[১৩]~ বিশ্বাস করা, যে ব্যক্তি সঠিকভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করবে, তাকে ভালবাসবে তার জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার, জান্নাতে সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর সাথে থাকবে। যেমন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, আমি আপনাকে ভালবাসি। রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
“তুমি যাকে ভালবাস তার সাথে থাকবে।”
 [১৪] নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ পেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া। যখনই তাঁর নাম উচ্চারণ হয়, আজানের পরে, জুমআর দিনে তার প্রতি বেশী করে দরুদ পাঠ করা।
[১৫] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঠিক ও বিশুদ্ধ সীরাতগ্রন্থ পাঠ করা। তার সকল ঘটনাবলী থেকে নিজের জীবন গঠনের উপাদান সংগ্রহ করে নেয়া। নিজে জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা-সাধনা করা।
[১৬]~ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- এর সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা। তার সহীহ হাদীসমূহ অধ্যায়ন করা, ভালভাবে অনুধাবন করতে চেষ্টা করা। তাতে যে সকল বিষয় উন্নত চরিত্র গঠন সম্পর্কে, এক আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে সেগুলো সুন্দরভাবে অনুসরণ করা।
[১৭]~ তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর সকল সুন্নতের অনুসরণ করা। এ ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া।
[১৮]~ মুস্তাহাব বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও আগ্রহভরে তাঁর অনুসরণ করার চেষ্টা করে যাওয়া। এমনকি পূর্ণ জীবনে অন্তত একবারের জন্যেও যদি হয়। যাতে জীবনের যাবতীয় পর্বে – প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ সম্পন্ন হয়।
[১৯]~ তাঁর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর যে কোন সুন্নত ও আদর্শ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা।
[২০]~ মানুষের মাঝে তাঁর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর আদর্শের অনুশীলন ও প্রসার দেখলে আনন্দিত হওয়া।
[২১]~ মানুষের মধ্যে তাঁর আদর্শের চর্চা ও আমলের অনুপস্থিতির কারণে ব্যথিত ও মর্মাহত হওয়া।
[২২]~ নবীজী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর বা তাঁর আদর্শের সমালোচনা-ছিদ্রান্বেষণকারীর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষন করা।
[২৩]~ তাঁর পরিবারস্থ লোকজন যথা সন্তান-সন্ততি ও সহধর্মিণী প্রমুখদের ভালবাসা। ইসলাম ও নবীজীর আত্মীয়তার সূত্রধরে তাদেরকে মুহাব্বতকরে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন করা।তাঁর আত্মীয়ের মধ্যে যারা অমুসলিম বা পাপি তাদের হেদায়াত কামনা করা। কেননা নবীজীর নিকট অন্যদের তুলনায় এদের হেদায়াতই ছিল সবচে প্রিয় ও কাঙ্খিত। বিষয়টি আমরা উমর বিন খাত্তাব [রা]-এর নিম্নোক্ত উক্তি থেকে স্পষ্টকরে বুঝতে পারব, যখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর চাচা আব্বাস [রা] আনহুকে সম্মোদন করে বলেছিলেন।
“হে আব্বাস! ইসলাম গ্রহন করার জন্য আপনাকে অশেষ মুবারকবাদ।যেদিন আপনি ইসলাম গ্রহন করেছিলেন সেদিন আপনার ইসলাম গ্রহন আমার নিকট পিতা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহন অপেক্ষা অধিক প্রিয় ও কাঙ্খিত ছিল। তার কারণ হচ্ছে : আমি জানতে পেরেছিলাম যে রাসুলুল্লার [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট আপনার মুসলমার হওয়াটা খাত্তাবের মুসলমান হওয়া অপেক্ষা অধিক কাঙ্খিত ও প্রিয় ছিল।
[২৪]~ আহলে বাইত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর অসিয়ত পালন করা। কারণ নবীজী বলেছেন:“আমার পরিবার সর্ম্পকে আমি তোমাদেরকে আল¬াহর কথা স্মরণ করিয়ে যাচ্ছি” একথাটি তিনি পরপর তিন বার বলেছেন।
[২৫]~ নবীজীর সাহাবীদের মুহাব্বত করা ,তাঁদের সম্মান করা এবং তাদের পরে আগত সকল উম্মত অপেক্ষা এলম,আমল এবং আল্লাহ্‌ তা’লার নিকট তাদের অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনায় তাদের মর্যাদা বেশী বলে বিশ্বাস পোষন করা।
[২৬]~ আলেম-উলামাদের মুহাব্বত করা, তাঁদের সম্মান করা।নবুওয়াতী উত্তরাধিকার তথা এলমের সাথে তাদের সম্পর্ক ও অবস্থানগত উচ্চতার কারণে।উলামারাই হচ্ছেন নবীদের উত্তরসূরী।সুতরাং উম্মতের উপর নবীজীর অধিকারের ভিত্তিতে তাদের (উলামা) মুহাব্বত ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
পরিবার ও সামাজিক ক্ষেত্রে:~
[২৭]~ রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর মুহাব্বতের উপর সন্তানদের প্রশিক্ষন দান করা।
[২৮]~ জীবনের যাবতীয় ক্ষেত্রে তাদেরকে (সন্তান) নবীজীর আদর্শের অনুসরণের প্রশিক্ষন দান করা।
[২৯]~ তাদেরকে নবীজীর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর জীবন-চরিত সম্পর্কীয় বই-পুস্তক সংগ্রহ করে দেয়া । এই লিংকথেকে ডাউনলোড করুন।
[৩০]~ তাঁর জীবন-চরিতধর্মী ক্যাসেট সংগ্রহ করা।
[৩১]~ প্রশিক্ষন দানের ক্ষেত্রে পরিষ্কার ও বোধগম্য কারিকুলাম সম্পন্ন কার্টুন ছবি বাছাই করে দেয়া।
[৩২]~ নিজ ঘরে পরিবারস্থ লোকদের নিয়ে সাপ্তাহে এক বা একাধিক সীরতের দরসের আয়োজন করা।
[৩৩]~ গৃহ:স্বামীকে পরিবারস্থ লোকজনদের সাথে চাল-চলন উঠা-বসার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর অনুসরণ করা।
[৩৪]~ সন্তানদেরকে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- কর্তৃক বর্ণিত দোআসমূহ মুখস্থ করানো এবং প্রাত্যহিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা।
[৩৫]~ সন্তানদেরকে তাদের প্রাত্যহিক ব্যয়ের একটি অংশ হাদীসের নির্দেশনা অনুসারে ব্যয়ের জন্য উৎসাহী করা।
যেমন ইয়াতীমকে সহযোগিতা করা, খাদ্য প্রদান, প্রয়োজনগ্রস্তকে সহযোগিতা করা।
[৩৬]~ হাদীসে বর্ণিত উপমাগুলো বাস্তবায়নে সন্তানদের অভ্যস্ত করে তোলা ; যেমন ‘মুমিন বিচক্ষণ এবং চতুর’, ‘মুমিন এক গর্তে দুবার পা দেয় না’, ‘সহজ করে দেও, কঠিন কর না’ ইত্যাদি।
[৩৭]~ সীরাত সম্পর্কিত পারিবারিক প্রতিযোগিতার আয়োজন।
[৩৮]~ ‘রাসূলের গৃহে একদিন’ এই শিরোনামে রাসূলের জীবনীর সংশ্লেষে মুসলিম পরিবারের পরিচয় প্রদান।
শিক্ষা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট লোকদের ক্ষেত্রেঃ~
[৩৯]~  উম্মতের উপর রাসূলের হক বর্ণনা করে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে রাসূলের মুহাব্বাতের বীজ বপন।
[৪০]~  অধিকহারে আলোচনা সভার আয়োজন করা, যাতে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর ব্যক্তিত্ব ও জীবনের সংশ্লিষ্ট সার্বিক আলোচনা উত্থাপন করা হবে।
[৪১]~  শিক্ষা সিলেবাসে এবং ইসলামিক ডিপ্লোমা শাখাগুলোতে সীরাতুন নবীর বিষয় আকারে সংযোজনের জন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করা।
[৪২]~  পশ্চিমা প্রসিদ্ধ ভার্সিটিগুলোতে সীরাত পাঠের জন্য স্বতন্ত্র ডিপার্টমেন্ট খোলার জন্য অর্থায়নের তৎপরতা চালানো।
[৪৩]~  সীরাত সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সীরাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য গবেষকদের উৎসাহ প্রদান।
[৪৪]~  স্কুল এবং ভার্সিটিতে সীরাতের প্রদর্শনীর কার্যক্রম গ্রহণ, যাতে ইসলামের অভ্যুদয়কালিন ভৌগলিক কাঠামো বানানো হবে এবং রাসূলের সীরাত ও রেসালাতের পরিচয় প্রদান করা হবে।
[৪৫]~  লাইব্রেরীগুলোর নির্দিষ্ট একটি অংশ বিশিষ্ট করে দেয়া হবে, যাতে রাসূলের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু থাকবে, এবং তা স্থাপিত হবে প্রকাশ্য কোন স্থানে।
[৪৬]~  সীরাতুন নবী বিষয়ে বিশ্বকোষধর্মী কোন কাজ হাতে নেয়া হবে, এবং তাকে রেফারেন্সের মানে উন্নীত করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে বিশ্বের অন্যান্য ভাষায়।
[৪৭]~  ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বাৎসরিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে, তাতে উপস্থাপিত হবে সীরাতুন নবীর সর্বোত্তম আলোচনা-গবেষণাটি। এবং মূল্যবান পুরস্কারে গবেষককে ভূষিত করা হবে।
[৪৮]~  যুবকদেরকে নিয়ে ওয়ার্কশপ করা এবং তাদেরকে বাস্তব কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট করে তাদের অন্তরে রাসূলের মুহাব্বাত এবং তার সুন্নতের সাথে সম্পৃক্ত করা।
[৪৯]~  রাসূলের অনুসারী নেতৃত্ব গঠনে বিশেষ অনুশীলনমূলক কর্মশালার আয়োজন।
ইমাম, দায়ী ও তালেবুল ইলমদের ক্ষেত্রেঃ~
[৫০]~  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত ও রেসালাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা। তিনি উদার ও বিশুদ্ধতম সত্য নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন এবং তার দাওয়াতের মৌল নীতি হচ্ছে তাবৎ মানব শ্রেণিকে মানুষের প্রতিপালকের নিরঙ্কুশ ইবাদতের প্রতি হেদায়েত করা—সাথে সাথে এ বিষয়টিরও স্পষ্টিকরণ।
[৫১]~  গোত্র, শ্রেণি নির্ভেদেমানুষকে দাওয়াত এবং এই দীনের প্রতি তাদেরকে হেদায়েতের নিমেত্তে কর্মতৎপরতা চালানো।
[৫২]~  রাসূলের চারিত্রিক ও স্বভাবগত সিফাত সমূহ—রিসালাতের পূর্বের ও পরের—বর্ণনা।
[৫৩]~  উপভোগ্য শৈলী ব্যবহার করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফযীলত এবং তার উম্মতের বৈশিষ্ট্য সমূহ বর্ণনা।
[৫৪]~  পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী এবং সাহাবীদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ নীতিমালা বর্ণনা।
[৫৫]~  আহলে কিতাব, পৌত্তলিক এবং মুনাফিকদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ পদ্ধতির বর্ণনা।
[৫৬]~  রাসূলের প্রাত্যহিক জীবনের নীতিমালা সংক্রান্ত বর্ণনা।
[৫৭]~  কিছু কিছু জুমার দ্বিতীয় খুতবা রাসূলের সীরাত বিষয়ক আলোচনা দ্বারা বিশিষ্ট করা, পুরো খুতবা জুড়ে এ আলোচনার প্রয়োজন নেই।
[৫৮]~  কুরআনের যে সমস্ত আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, সালাতে পাঠ করা হলে সে প্রসঙ্গে সালাতের পূর্বে অনুর্ধ্বে পাঁচ মিনিট সার আলোচনা করা।
[৫৯]~  মসজিদ কেন্দ্রিক তাহফীজুল কুরআনের হলকার পাশাপাশি সীরাতুননবীর অনুশীলনের হলকার সংযোজন।
[৬০]~  রাসূলের সীরাত সংক্রান্ত যে সমস্ত বিভ্রান্তি সাধারণ মানুষের ভাবনায় ছড়িয়ে আছে সেগুলোর অপনয়োন এবং বিশুদ্ধ করণ। এবং রাসূলের পক্ষ যা বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা আকড়ে ধরার জন্য সুবিস্তৃত এবং স্পষ্ট ভাষায় সকলকে আহ্বান জানান।
[৬১]~  রাসূলের বিরোধিতায় যে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, আঘাত করেছে তার মর্যাদায়, তার ব্যাপারে উলামায়ে উম্মতের ফতোয়া বর্ণনা করা, এবং যারা এ বিষয়ে লিপ্ত, তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এবং তাদের কর্মকান্ড হতে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করা ওয়াজিব—এ বিষয়টি সবিশেষ উল্লেখ করা।
[৬২]~  রাসূলের দাওয়াতী নীতিমালার সবিস্তার উল্লেখের মাধ্যমে মানুষকে তাদের ধর্মের প্রতি প্রত্যবর্তনের লক্ষ্যে কর্মতৎপরতা চালানো।
[৬৩]~  রাসূলের ব্যাপারে অতিরঞ্জন পরিহারের লক্ষ্যে টিভি, রিডিও এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্কবাণী প্রচার করা। অতিরঞ্জন সংক্রান্ত কুরআনের আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেয়া যেমন কুরআনে এসেছে—
তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন কর না।
এবং এ ব্যাপারে রাসূলের বিশেষ হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেমন হাদীসে এসেছে—
তোমরা আমার অনর্থক স্তুতি কর না, যেমন খ্রিস্টানরা ইবনে মারইয়ামের সাথে করেছে। সাথে সাথে এ বিষয়টিও বর্ণনা করে দেয়া যে, বিশুদ্ধ মুহাব্বাত একমাত্র তার অনুসরণেই নিহিত।
[৬৪]~  সীরাতের মৌলিক উৎসগুলো হতে রাসূলের জীবনী অধ্যয়নে সকলকে উৎসাহী করা, এবং সে উৎসগুলো সম্পর্কে তাদেরকে ওয়াকিবহাল করানো।
[৬৫]~  রাসূল ও তার সীরাত সম্পর্কে যে সকল বিভ্রান্তি, সংশয় ছড়িয়ে আছে সেগুলো দূর করা।
সংকৃতিবান, চিন্তাবিদ, মিডিয়াকর্মী এবং সংবাদকর্মীদের ক্ষেত্রেঃ~
[৬৬]~ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব, তার উম্মতের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি প্রচার প্রসার এবং মিডিয়া এবং কালচারাল বিভিন্ন ফাংশনে সে সংক্রান্ত আলোচনার সূত্রপাত।
[৬৭]~  এমন কোন বিষয়ের উল্লেখ হতে বিরত থাকা, যাতে রাসূলের সুন্নতের সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটে।
[৬৮]~ পশ্চিমা ও ইহুদি প্রপাগান্ডার মুকাবেলা করা ; তারা আমাদের ধর্ম ও নবী সম্পর্কে যে সমস্ত সংশয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে তার যথপোযুক্ত প্রতিরোধ করা।
[৬৯]~  অমুসলিমদের উদার শ্রেণিকে নিয়ে কালচারাল ও তথ্যের আদান-প্রদান সূচক সম্মিলনীর আয়োজন এবং রাসূল ও তার রেসালাত সম্পর্কিত আলোচনার উত্থাপন।
[৭০]~  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অমুসলিমদের উদার ও ন্যয়নিষ্ঠ শ্রেণি যা বলেছে, লিখেছে, সেগুলো প্রচার করা।
[৭১]~  রাসূলের নীতিমালা, পদ্ধতি, সীরাত এবং তার আচরিত নীতিমালার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার লক্ষ্যে কালচারাল সেমিনার-সিম্পেজিয়ামের আয়োজন।
[৭২]~  রাসূলের সীরাত নিয়ে মিডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং এ জন্য মূল্যবান পুরস্কার নির্ধারণ।
[৭৩]~  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার জীবনী নিয়ে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প এবং ছোট ছোট পুস্তিকা প্রণয়ন।
[৭৪]~  পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীর সম্পাদকদের নিয়ে পরামর্শ সভা ও বৈঠকীর আয়োজন করা, যাতে কুরআন ও হাদীসের সে আয়াত ও বর্ণনাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, যা প্রমাণ করে রাসূলের মুহাব্বাত ওয়াজিব, তার মুহাব্বাত সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা ও সকল মানুষের মুহাব্বাতের চেয়ে অগ্রগামী, এমনকি তা অগ্রগামী নিজের প্রতি মুহাব্বাতের চেয়েও। এবং এই মুহাব্বাতের অনস্বীকার্য দাবী হচ্ছে তার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন, তার অনুসরণ এবং পৃথিবীর যে কারো কথার তুলনায় তার কথাকে অধিক অগ্রাধিকার প্রদান।
[৭৫]~  রাসূলের সীরাত, স্ত্রী-পরিজন-সাহাবী এমনকি শত্র“দের সাথে আচরণ নীতিমালা ও তার চারিত্রিক ও স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বিভিন্ন চ্যানেলের কর্ণধারদের সাথে বৈঠক করা।
[৭৬]~  ভিজ্যুয়াল কোম্পানীগুলোকে রাসূলের সীরাত সংক্রান্ত ভিডিও ক্যাসেট প্রকাশ করার জন্য তাদেরকে উৎসাহ প্রদান।
[৭৭]~  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ-বৈশিষ্ট্য, এবং সুন্নতে নববীর কিছু গল্প নিয়ে কার্টুন নির্মাণের জন্য টেলিভিশন এবং চ্যানেল কোম্পানী ও সংস্থাগুলোকে উৎসাহ প্রদান।
দাতব্য ও দাওয়াতী প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেঃ~
[৭৮]~  বিভিন্ন কমিটি গঠন বা ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহায্য-সহযোগিতার ঝান্ডা বহন করবে।
[৭৯]~  নবীজীর বৈশিষ্ট্য সম্বলিত অডিও, ভিডিও, ক্যাসেট ও বিভিন্ন বই পুস্তক প্রদর্শনীর জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী স্থানসমূহ ও মেলায় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারগুলোতে স্টল বরাদ্দ নেয়া।
[৮০]~  রাসূলের সীরাত সংক্রান্ত ক্যাসেট, পুস্তক, ও প্রকাশনা পরিবেশনের জন্য শো রুম প্রতিষ্ঠা।
[৮১]~  সুন্নাত এবং সীরাতের সর্বোত্তম সেবাকারীকে সালাফের অনুসৃত নীতিমালার মাপকাঠিতে নির্ধারিত পুরস্কার প্রদান এবং বার্ষিক সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন, যাতে বড় বড় ব্যক্তিত্বদের নিমন্ত্রণ জানানো হবে।
[৮২]~  অন্যান্য ভাষায় রাসূলের সীরাত প্রকাশের এবং বিশ্বব্যাপী প্রকাশনা কেন্দ্র এবং মাকতাবাগুলোতে পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
[৮৩]~  রাসূলের পবিত্র সীরাত সংক্রান্ত আলোচনা, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা, উম্মতের বৈশিষ্ট্যবলী এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনিত এ ধর্মের সৌন্দর্য বর্ণনা সম্বলিত পত্রিকা বা সাময়িকীর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা।
[৮৪]~  রাসূলের নুসরতে নিয়োজিত কর্মীদের এবং সীরাত সংক্রান্ত রচনা, অনুবাদ এবং সাইট নির্মাণে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করা।
সাইট কর্মকর্তা এবং কর্ণধারদের ক্ষেত্রেঃ~
[৮৫]~  সম্মেলনের আয়োজন, যাতে ইসলাম ধর্মের বৈশিষ্ট্য, সকল নবীর ক্ষেত্রে একই মুহাব্বাতের অনুবর্তনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
[৮৬]~  সাইট নির্মাণ কিংবা সংস্থা গঠন। অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, তার বৈশ্বিক রেসালাতের বর্ণনা সম্বলিত সাইটের একটি অংশ নির্ধারণ করে দেয়া।
[৮৭]~  অমুসলিমদের হেদায়েতের লক্ষ্যে তাদের সাথে আলোচনা-বৈঠকে অংশগ্রহণ, তাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর ব্যক্তিত্ব এবং তার আনিত ধর্মের পাঠে উৎসাহ প্রদান।
[৮৮]~  বিশেষ কোন হাদীস বা নববী বাণী সমৃদ্ধ বিশেষ ”গ্রপ” মেইল করা।
[৮৯]~  এখন থেকে শেষ পর্যন্ত সমকালিনতার সাথে প্রাসঙ্গিক করে রাসূলের ব্যক্তিত্ব, তার দাওয়াত সংক্রান্ত বিশেষ ইন্টারনেট প্রচারণা।
[৯০]~  বিভিন্ন উপলক্ষ্যে মিডিয়া পুস্তক ও গবেষণার যে তালিকা বের হয়, তাতে সীরাত সংক্রান্ত গবেষণাগুলো সংযোজন করা।
বিত্তবান এবং ইসলামী হুকুমাতের ক্ষেত্রেঃ~
[৯১]~  সীরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মতৎপরতার পৃষ্ঠপোষকতা করা।
[৯২]~  হাদিস ও ওয়াজ সম্বলিত বিভিন্ন লিফলেট ছাপানো.
[৯৩]~  বিভিন্ন ভাষায় বিশেষ করে ইংরেজী ভাষায় ইসলাম ও নবিজী সম্পর্কে আলোচনা করে, প্রোগ্রাম পরিচালনা করে এমন চ্যানেল প্রতিষ্টা করা ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করার কাজে অংশগ্রহন করা।
[৯৪]~  ইসলাম ও নবিজী সম্পর্কে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপনার জন্য বিদেশী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সময় বরাদ্দ নেয়া ও ভাড়া নেয়া।
[৯৫]~  নবিজীর সীরাত গবেষণা ও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করার জন্য বিভিন্ন কেন্দ্র বা সেন্টার প্রতিষ্টা করা।
[৯৬]~  নবিজীর সীরাত কীর্তি সম্বলিত বিভিন্ন পাঠাগার ও যাদুগার প্রতিষ্টা করা।
[৯৭]~  নবিজীর সীরাত সম্বলিত বিভিন্ন ওয়েবসাইট নির্মান করা।
[৯৮]~  বিভিন্ন ভাষায় বিশেষ করে ইংরেজী ভাষায় এমন বই পুস্তক ছাপানো ও প্রকাশ করা, বা ক্যাসেট বের করা ও মিড়িয়া প্রোগ্রামসমূহের আয়োজন করা যা নবীজী আনিত ইসলাম ধর্মের চমৎকার দিকগুলো ফুটিয়ে তুলে, মহানবীর উৎকৃষ্ট চরিত্রের বিভিন্ন দিকসমূহ গতিময় উপস্থাপনার মাধ্যমে মানুষের সম্মুখে পেশ করে।
[৯৯]~  সীরাত সংক্রান্ত বিভিন্ন দাওয়াতী প্রতিযোগীতায় সাহায্য করা। উৎসাহ ব্যাঞ্জক পুরস্কার ঘোষনা করা।
[১০০]~  নবীজীর সাহায্য-সমর্থন করার ক্ষেত্রে বৈধ পন্থা অবলম্বন করা এবং বিদআত ও কুসংস্কার সহ সর্বপ্রকার সুন্নাহ পরিপন্থি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা।
প্রকাশনায়: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ

Translate