Thursday, October 16, 2025

গান গজল বা সংগীতের সুরে কুরআন তেলাওয়াতের বিধান

 “কুন ফায়াকুন” (كن فيكون) সূরা আনআমের ৭৩ নম্বর আয়াত। অথচ এই আয়াতটিকে সংগীতের সুরে সংগীতের অংশ হিসেবে পড়া হচ্ছে! ইদানিং অনেক কথিত ইসলামি সংগীতে বা গজলের মধ্যে দুই-একটা আয়াত ঢুকিয়ে দেওয়ার ট্রেন্ডটা দেখা যাচ্ছে। অথচ ইসলামের বিধান হল, কুরআনে কারিমের কোন আয়াত গান, গজল বা সংগীতের সুরে পাঠ করা হারাম। বরং কুরআন পড়তে হবে, কূরআনের আদব রক্ষা করে, ভয়-ভীতি ও বিনয়-নম্রতা পূর্ণ হৃদয়ে এবং তারতিল সহকারে অর্থাৎ স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে ধীরে ধীরে-যেভাবে আল্লাহ আদেশ করেছেন (দেখুন: সূরা মুজাম্মেল-এর ৪ নাম্বার আয়াতের তাফসির) এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিগণ তেলাওয়াত করতেন।

– সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায বলেন,
لا يجوز للمؤمن أن يقرأ القرآن بألحان الغناء وطريقة المغنيين، بل يجب أن يقرأه كما قرأه سلفنا الصالح من أصحاب الرسول ﷺ وأتباعهم بإحسان، فيقرأه مرتلاً متحزنًا متخشعًا حتى يؤثر في القلوب التي تسمعه وحتى يتأثر هو بذلك. أما أن يقرأه على صفة المغنيين وعلى طريقتهم، فهذا لا يجوز
“একজন ইমানদারের জন্য গানের সুরে এবং গায়কদের ধাঁচে কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়। বরং তাঁকে অবশ্যই সেইভাবে তেলাওয়াত করতে হবে, যেভাবে আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিগণ এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারীগণ তেলাওয়াত করেছেন।
সুতরাং একজন ইমানদার ব্যক্তি তারতিল (ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে) সহকারে, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং বিনীতভাবে তা তেলাওয়াত করবে, যাতে তা শ্রোতার হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এবং সে নিজেও তাতে প্রভাবিত হয়। কিন্তু গায়কদের গায়কি ধাঁচে এবং তাদের স্টাইলে তা তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়।”
[সূত্র: মাজমূ’ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত-শাইখ ইবনে বায (৯/২৯০)]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

নাপাক অবস্থায় মৃত্যু কি খারাপ মৃত্যু বলে গণ্য হয়

 প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম শ্রদ্ধেয় শাইখ। এমন মৃত্যুর হুকুম কী যখন কোন নারী মাসিক চলাকালীন সময় অর্থাৎ নাপাকি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে? এই মৃত্যু কি খারাপ মৃত্যুর শামিল? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহ. না, নাপাক অবস্থায় মৃত্যু খারাপ মৃত্যু,তার ইমানি দুর্বলতা কিংবা তার উপর আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট এমন কিছুর প্রমাণ বহন করে না। বরং একজন ইমানদার, তাকওয়াবান এবং জান্নাতি মানুষেরও ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটতে পারে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হানজালা বিন আমের রা. উহুদের যুদ্ধে জুনুবি (স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে নাপাক) অবস্থায় শাহাদত বরণ করেছিলেন এবং ফেরেশতাগণ তাঁকে গোসল করিয়েছিল।
◈ আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إنَّ صاحبَكم حَنْظلةَ تغسِلُه الملائكةُ فسَلُوا صاحبتَه
“তোমাদের এই সাথী হানজালাকে রা.কে ফেরেশতাগণ গোসল করাচ্ছেন। তোমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করো।”
তখন (তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে) তিনি বললেন: তিনি যুদ্ধের ডাক শুনেই জুনুবি (স্ত্রী মিলন জনিত কারণে নাপাক) অবস্থায় বের হয়ে পড়েছিলেন।
তখন আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এই কারণেই ফেরেশতাগণ তাকে গোসল করিয়েছেন।” [ইবনে হিব্বান, হা/৭০২৫, বায়হাকি, সহিহ-ইরওয়াউল গালীল, ৩/১৬৭]
এ কারণে এই সাহাবিকে গাসিলুল মালাইকাহ غسيل الملائكة (ফেরেশতা কর্তৃক গোসল করানো ব্যক্তি) বলা হয়ে থাকে।
সুতরাং স্বামী-স্ত্রী সহবাস কিংবা স্বপ্নদোষ ঘটার পর ফরজ গোসলের পূর্বে অথবা কোনও নারীর ঋতুস্রাব চলাকালীন অবস্থায় বা কোনও প্রসূতি নারীর রক্তস্রাব চলাকালীন সময় মৃত্যু ঘটলে এটা তার খারাপ মৃত্যু, ইমানি দুর্বলতা বা তার উপর আল্লাহর অসন্তুষ্টির প্রমাণ বহন করে না। কারণ মৃত্যু এমন এক অবিসম্ভাবি বিষয় যে, তা যে কারও জীবনে যে কোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে।
বিজ্ঞ আলেমগণ এমনটাই বলেছেন।
✪ তবে গোসল ফরজ হলে আমাদের কর্তব্য, যথাসম্ভব দ্রুত ফরজ গোসল করে নেওয়া। এটা অধিক উত্তম। বিনা দরকারে বিলম্ব না করাই ভালো। কিন্তু দরকার বোধে দেরি করলেও গুনাহ নেই ইনশাআল্লাহ যদি এ কারণে কোনও ফরজ ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।
✪ হ্যাঁ, কেউ যদি জিনা, সমকামিতা, হস্তমৈথুন (আল্লাহ ক্ষমা করুন) ইত্যাদি হারাম কারণে নাপাক হয় অথবা কেউ যদি ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস ও শিরক-বিদআতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় থাকে অথবা নানা ধরণের ছোট পাপ অনবরত করতে থাকে বা বড় বড় গুনাহের কাজে জড়িত থাকে কিন্তু তওবা করার আগেই তার মৃত্যু এসে যায় তাহলে তা সূ-উল খাতিমাহ বা অপমৃত্যুর প্রমাণ যা হবে তার জন্য আখিরাতে দুর্ভাগ্যের কারণ। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন। তাই আমাদের কর্তব্য, মৃত্যুর পূর্বে আমাদের ইমান-আকিদা সংশোধন করা এবং অধিক পরিমান নেক আমল করার পাশাপাশি সব ধরণের পাপাচার থেকে দূরে থাকা এবং কোন পাপ ঘটে গেলে অনতিবিলম্বে লজ্জিত অন্তরে আল্লাহর নিকট তওবা করা। নিশ্চয় আল্লাহ দয়াময় ও তওবা কবুলকারী। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত বসা নিষিদ্ধ

 হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে দুই রাকাত সালাত আদায় করার আগে বসতে নিষেধ করেছেন।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ”
“যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে।” [সহিহ মুসলিম, হা/৭১৪]
বরং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে বসে পড়ছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন,
“أَصَلَّيْتَ؟
‘তুমি কি সালাত আদায় করেছ?’
সে বলল, ‘না।’
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“قُمْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيهِمَا
‘তুমি ওঠো এবং দ্রুত দুই রাকাত সালাত আদায় করো।’ [সহিহ মুসলিম]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বসার বা খুতবা শোনার অনুমতি দেননি যতক্ষণ না সে দুই রাকাত সালাত আদায় করে। তবে তিনি তাকে দ্রুত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সে খুতবা শুনতে পারে। কারণ খুতবা শোনা ওয়াজিব।
এ কারণেই যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের সাথে কথা বলে- এমনকি সৎ কাজের আদেশও দেয় তবে সে জুমার প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ أَلْغَوْتَ”
“যখন তুমি তোমার সঙ্গীকে জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় ‘চুপ করো’ বলবে, তখন তুমি অনর্থক কাজ করলে।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
সুতরাং যখনই তোমাদের কেউ দিনের বা রাতের যে কোনো সময় মসজিদে প্রবেশ করবে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ পালনার্থে এবং তার নিষেধ থেকে বিরত থাকার জন্য দুই রাকাত সালাত আদায় না করে বসবে না।
-আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ.
শাইখের বক্তব্যের ভিডিও (বাংলা ক্যাপশন সহ)
ভিডিও বক্তব্য থেকে অনুবাদ:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

গর্ভকালীন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করা কি বৈধ এবং এতে কোনো সুবিধা বা ক্ষতি আছে কি

 প্রথমত: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর মূলনীতি হলো: স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা সর্বাবস্থায় ও সব সময় বৈধ; তবে শরীয়তে যেসব অবস্থায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব ব্যতীত। যেমন পায়ুপথে সহবাস করা, কিংবা ঋতুকাল (হায়েয) ও প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব (নিফাস) চলাকালীন সহবাস করা, রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রেখে সহবাস করা এবং হজ্জ বা উমরাহর ইহরাম অবস্থায় সহবাস করা নিষিদ্ধ।

.
আর গর্ভবতী স্ত্রীর ব্যাপারে: গর্ভবতী স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো শরঈ দলিল নেই। তবে যদি সহবাসের ফলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মত দেন যে গর্ভাবস্থায় সহবাসে স্ত্রীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে,তাহলে সে ক্ষেত্রে তা পরিহার করা (সহবাস থেকে বিরত থাকা) আবশ্যক।কিন্তু এমন কোনো আশঙ্কা না থাকলে গর্ভবতী স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সহবাস করা শরিয়তসম্মত ও বৈধ। দলিল হচ্ছে মহান আল্লাহর বানী;(نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ )”তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে গমন করতে পার।”(সূরা বাকারাহ: ২২৩) আল্লাহ তাআলা এখানে স্বামীকে তার স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাসের কোনো নির্দিষ্ট ভঙ্গি বা অবস্থানে সীমাবদ্ধ করেননি। শোয়া, বসা কিংবা কাত হয়ে যে কোনো ভঙ্গিতেই সহবাস বৈধ। তবে স্ত্রীর যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্য অঙ্গে, যেমন পায়ুপথ বা মুখে সহবাস করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, কারণ তা বিকৃত প্রবৃত্তি ও অস্বাভাবিক কামনার প্রকাশ। এ বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদীসে স্পষ্ট নিষেধ এসেছে।হাফিয ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:قال ابن عباس : الحرث موضع الولد .( فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ) أي : كيف شئْتم ، مقبلة ومدبرة في صِمام واحد ، كما ثبتت بذلك الأحاديث ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:‘শস্যক্ষেত্র’ বলতে বোঝানো হয়েছে সন্তান উৎপন্ন হওয়ার স্থান। আল্লাহর বানী: “তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে গমন করতে পার।” এর অর্থ হলো,“তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে যেভাবে ইচ্ছা সহবাস করতে পারো সামনের দিক থেকে বা পেছন দিক থেকে, তবে তা একই ছিদ্রপথে (যোনিপথে) হতে হবে। এই অর্থে সহিহ হাদীসসমূহে প্রমাণ রয়েছে।”(তাফসির ইবনু কাসীর; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৫৮৮)
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:গর্ভাবস্থায় কোন সময়ে স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস থেকে বিরত থাকা জরুরি? এবং বিশেষত গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে সহবাস করলে ভ্রূণের কোনো ক্ষতি হয় কি?
তারা উত্তর দিয়েছেন:
“لا بأس بجماع الحامل ما لم يكن فيه ضرر على الحمل ، وإنما الممنوع جماع الحائض ؛ لقوله تعالى : ( فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ) البقرة/ 222 .ومثلها النفساء حتى تطهر من النفاس ، والمحرمة بحج أو عمرة”
“গর্ভবতী নারীর সঙ্গে সহবাসে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত এতে গর্ভের ক্ষতি হবে না। নিষিদ্ধ কেবলমাত্র ঋতুমতী নারীর সঙ্গে সহবাস করা, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমরা হায়েজকালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হইও না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট আস, যেমনভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।”(সূরা আল-বাকারা: ২২২) একই নিয়ম প্রসূতি (নিফাসগ্রস্ত) নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যতক্ষণ না তিনি পবিত্র হন। এছাড়াও হজ্জ বা ওমরাহ পালনরত অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৯; পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:আমার স্ত্রী এখন গর্ভাবস্থার অ্যাডভান্সড স্টেজে আছে, এখন তার সপ্তম মাস চলছে। আমি কি তার সাথে সহবাস (যৌন মিলন) করতে পারি? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। জবাবে শাইখ বলেন:
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:يجوز للإنسان أن يُجامع زوجته الحامل متى شاء إلا إذا كان ذلك يضرّها ، فإنه يحرم عليه أن يفعل ما يضر بها ، وإن كان لا يضرها ولكن يشق عليها فإن الأولى عدم مجامعتها ، لأن اجتناب ما يشق عليها من حسن العشرة ، وقد قال تعالى : ( وعاشروهن بالمعروف ) النساء /19 ولكن المحرّم أن يجامع الرجل زوجته وهي حائض ، أو يجامعها في دبرها ، أو يجامعها وهي نفساء ، فإن ذلك محرم ولا يجوز ، وعلى المرء أن يتجنّب ذلك إلى ما أباحه الله . وإذا كانت حائضاً فله أن يستمتع بها فيما دون الفرج والدبر ، لقول النبي صلى الله عليه وسلم : ( اصنعوا كل شيء إلا النكاح ) رواه مسلم (الحيض /455)
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:”(গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসের বিধান হলো) মানুষ যখন ইচ্ছা তার গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারে, যদি না তা স্ত্রীর জন্য ক্ষতিকর হয়। যদি সহবাস স্ত্রীর জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তা তার জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) হয়ে যাবে, কারণ এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হবে যা স্ত্রীর ক্ষতি করে।যদি সহবাস স্ত্রীর জন্য ক্ষতিকর না হয়, তবে তা যদি স্ত্রীর জন্য কষ্টকর বা কঠিন হয়, তাহলে সহবাস না করাই উত্তম। কারণ, স্ত্রীর জন্য যা কষ্টকর, তা পরিহার করাই হলো উত্তম দাম্পত্য আচরণের অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।” (সূরা নিসা: ১৯) কিন্তু নিষিদ্ধ হলো যে পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে যখন সে হায়েযে (ঋতুমতী) থাকে,অথবা তার মলদ্বারে সহবাস করে,অথবা তার নিফাস (প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) অবস্থায় সহবাস করে।নিশ্চয়ই এগুলো হারাম এবং বৈধ নয়।একজন মানুষের উচিত এসব থেকে বিরত থাকা এবং যা আল্লাহ বৈধ করেছেন, তাতেই সীমাবদ্ধ থাকা।আর যদি স্ত্রী হায়েয অবস্থায় থাকে,তবে স্বামীর জন্য বৈধ যে সে যোনিপথ ও মলদ্বার ছাড়া অন্যভাবে স্ত্রীর কাছ থেকে উপভোগ গ্রহণ করবে।কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সঙ্গম ছাড়া সবকিছু করতে পারো।”(সহীহ মুসলিম,কিতাবুল হায়েয, হা/ ৪৫৫ ইমাম ইবনু উসাইমীন,ফাতাওয়া আল-উলামা ফি ‘ইশরাতিন নিসা,পৃষ্ঠা: ৫৫)
.
সৌদি আরবের অন্যতম আলেম শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু মানীঈ (হাফিযাহুল্লাহ)-কে গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
​তিনি উত্তরে বলেন:
​”ليس في الشريعة الإسلامية نهي عن جماع الرجل زوجته الحامل ، وإنما النهي خاص بجماع المرأة الحائض أو النفساء ، وأما إذا قرر الأطباء لامرأة معينة لظروفها الصحية أن جماع زوجها يضر بها : فهذه حالة خاصة لا يقاس عليها
​”ইসলামী শরীয়তে পুরুষ তার গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং নিষেধাজ্ঞা কেবল ঋতুমতী (মাসিক চলাকালীন) বা নিফাস অবস্থায় থাকা (সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাবকালে) নারীর সাথে সহবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে, যদি ডাক্তাররা কোনো নির্দিষ্ট নারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে এই সিদ্ধান্ত দেন যে স্বামীর সহবাস তার জন্য ক্ষতিকর হবে: তাহলে এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং এর উপর ভিত্তি করে সাধারণ কোনো বিধান প্রয়োগ করা যাবে না।”(ফাতাওয়া ওয়া বুহুস শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু মানীঈ; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২২৮)।
.
দ্বিতীয়ত: গর্ভকালীন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসের কি কোনো সুবিধা বা অসুবিধা আছে?
.
কেউ কেউ বলে থাকেন,গর্ভাবস্থার শেষ মাসে সহবাস করা স্ত্রীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই বিষয়ে বলা যায়, গর্ভাবস্থার শেষ মাসগুলোতে সহবাসের ফলে স্ত্রীর ক্ষতি হয় কিনা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বিশস্ত মহিলা ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞাসা করা উচিত।কেননা এটি নারীর প্রকৃতি, তার গর্ভধারণের ধরন এবং গর্ভাবস্থা থেকে সৃষ্ট প্রভাবের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন হতে পারে। তবে, নীতিগতভাবে বলতে গেলে: গর্ভাবস্থায় সহবাসের কারণে নারী বা ভ্রূণের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর ভ্রূণকে ফসলের সাথে এবং পুরুষের বীর্যকে সেই ফসলকে সেচ দেওয়া পানির সাথে তুলনা করেছেন। এটি বোঝায় যে ভ্রূণ পুরুষের বীর্য থেকে উপকৃত হয়, যার মানে গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস ও বীর্যপাত উপকারী।
.
​ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,قال الإمام أحمد : الوطء يزيد في سمعه وبصره “ইমাম আহমাদ বলেছেন: সহবাস ভ্রূণের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।”(ইবনু ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ১৪০)
.
যদি প্রশ্ন ওঠে যে, গর্ভবতী অবস্থায় সহবাস কি শিশুর জন্মকে ত্বরান্বিত করে কি না, তবে সাধারণভাবে এর উত্তর হলো না, এটি সাধারণত সত্য নয়। শুধুমাত্র যদি সহবাস অত্যন্ত তীব্র হয় এবং স্ত্রীর জরায়ু যদি দুর্বল থাকে, তখনই এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, স্বামীকে গর্ভবতী স্ত্রীর মানসিক অবস্থা, শারীরিক ক্লান্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্য বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, বিশেষ করে গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে। সুতরাং সহবাসের সময় এমন অবস্থান বেছে নেওয়া উচিত যা স্ত্রী বা ভ্রূণের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ না হয়। কারণ ইসলামের একটি মূলনীতি হলো; কারও ক্ষতি করা যাবেনা এবং নিজের উপরও কোনো ক্ষতি আসতে দেয়া যাবেনা। দলিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ক্ষতি করা নয় এবং ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতি করাও নয়”(মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ হা/২৩৪১), ইমাম আলবানী ‘সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায় ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।

স্ত্রীর মৃত্যু হলে কি পুরুষকে ইদ্দত পালন করতে হয় এবং কখন তিনি পুনরায় বিবাহ করতে পারবেন

 ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর শোক পালন (ইদ্দত) মানে নির্দিষ্ট একটি সময় সাজসজ্জা ও সুগন্ধির ব্যবহার বর্জন করা। এটি নারীদের বৈশিষ্ট্য;পুরুষদের নয়। সুতরাং যে নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করেছেন, তার জন্য ইদ্দত পালন ও শোক পালন (ইদ্দত) ওয়াজিব। কিন্তু কোনো পুরুষের স্ত্রীর মৃত্যু হলে তার উপর শোক পালন (ইদ্দত) ওয়াজিব নয়।

.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন: ” وَتَجْتَنِبُ الزَّوْجَةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا : الطِّيبَ وَالزِّينَةَ … هَذَا يُسَمَّى الْإِحْدَادَ , وَلَا نَعْلَمُ بَيْنَ أَهْلِ الْعِلْمِ خِلَافًا فِي وُجُوبِهِ عَلَى الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا“সদ্য বিধবা নারী সুগন্ধি ও সাজসজ্জা বর্জন করবে…। এটাকে শোকপালন বলা হয়। সদ্য বিধবা নারীর উপর এটি ওয়াজিব এ ব্যাপারে আলেমদের কোন মতভেদ আছে মর্মে আমরা জানি না।”(ইবনু কুদামাহ আল-মুগনী; খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ১২৫)
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন,يجب على المرأة التي مات زوجها عنها العدة والإحداد“যে নারীর স্বামী মারা গেছেন তার উপর ইদ্দত পালন ও শোক পালন ওয়াজিব।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ২০; পৃষ্ঠা: ৪৭৯)
.
পক্ষান্তরে,আলেমদের ইজমা তথা সর্বসম্মতিক্রমে পুরুষের উপর কোন শোকপালন নেই। আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা গ্রন্থে এসেছে: أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّهُ لَا إحْدَادَ عَلَى الرَّجُلِ“তারা (আলেমগণ) এই মর্মে ইজমা (মতৈক্য) করেছেন যে, পুরুষের উপরে শোকপালন নেই।”(আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১০৫)
.
সুতরাং কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তার উপর কোনো ইদ্দত আরোপিত হয় না। ফলে স্বামী ইচ্ছা করলে যেকোনো সময় পুনরায় বিয়ে করতে পারেন। যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক বিয়ে সম্পূর্ণ বৈধ, তবুও সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু সময় স্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা এবং মর্যাদা রক্ষা করা উত্তম। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পরামর্শমাত্র।অতএব, স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী যে কোনো সময় বিয়ে করতে পারেন। এই বিধানের প্রমাণ মহান আল্লাহর বানী:فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ“তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও।’ (সূরা আন-নিসা: ৩)। এই আয়াতের মাধ্যমে পুরুষদেরকে বিবাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো বিধিনিষেধ ছাড়া, সেজন্য প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্ত্রী জীবিত হোক বা মৃত,তা বিবাহের ক্ষেত্রে বাধা নয়।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:“​যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা যায়, তবে তার মৃত্যুর পর এক মাস, বা এর কম বা বেশি সময়ে কি তার পুনরায় বিবাহ করা জায়েজ? কারণ কিছু ইমাম বলেন যে, তার ইদ্দতকাল অর্থাৎ তিন মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করা জায়েজ নয়। আমি এই অবস্থা দেখে অবাক হয়েছি যে, এটা কি সঠিক নাকি ভুল?
​উত্তরে তারা বলেন:إذا ماتت زوجة الرجل فله أن يتزوج متى شاء، وليس لما ذكره من نقلت عنهم أصل، بل هو باطل. وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.”​যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা যায়, তবে সে ইচ্ছামতো যখন খুশি পুনর্বিবাহ করতে পারে। যাদের থেকে আপনি এটি শুনেছেন,(অর্থাৎ তিন মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করা জায়েজ নয়।) তাদের উদ্ধৃতির কোনো সত্যতা নেই; বরং এটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।আল্লাহ্‌ই তাওফিকদাতা, এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবর্গের উপর আল্লাহ্‌র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২৭–২৮; ফাতওয়া নং: ৩৫৬৮)
.
স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:“আমরা যে অঞ্চলে আছি সেখানে একটি প্রথা আছে; তাহলো: কারো স্ত্রী মারা গেলে সে স্বামী ৬ মাস বা তদুর্ধ্ব সময়ের আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে না। আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন: কেন? তারা বলবে: স্ত্রীর প্রতি সম্মানপ্রদর্শনস্বরূপ। ঘটনাক্রমে এক লোক তার স্ত্রী মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ পরে বিয়ে করে ফেলে। মানুষ তার বিয়েতে যায়নি। এমনকি তারা এ লোককে সালাম পর্যন্ত দেয় না। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে; এমনকি সেটা যদি একদিন পরেও হয় বিয়ে করা কি শরিয়তে অনুমোদিত; নাকি অনুমোদিত নয়?
জবাবে তারা বলেন:هذه عادة جاهلية ، لا أصل لها في الشرع المطهر ، ولذا فإنه ينبغي التواصي بتركها وعدم اعتبارها ، ولا يجوز هجر من تزوج بعد وفاة امرأته مباشرة ؛ لأنه هجر بغير حق شرعي”এটি একটি জাহেলী প্রথা। পবিত্র শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। তাই এ প্রথাটি বর্জন করা ও এটাকে বিবেচনা না করার জন্য একে অপরকে নসিহত করা বাঞ্চনীয়। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মৃত্যুর পরপর বিয়ে করেছে তার সাথে সম্পর্কচ্ছিন্ন করা জায়েয নয়।কেননা তা শরিয়ত প্রদত্ত অধিকার ছাড়া সম্পর্কচ্ছেদ।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৯; পৃষ্ঠা: ১৫৬)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬
আপনাদের দ্বীনি ভাই: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Translate