প্রশ্ন: একজন নারীদের দাদার আপন ভাইয়েরা বা চাচাতো ভাইয়েরা আর তাদের ছেলেরা কি মাহরাম? অনুরূপভাবে নানার আপন ভাইয়েরা বা চাচাতো ভাইয়েরা আর তাদের ছেলেরা কি মাহরাম?
Tuesday, August 19, 2025
দাদা ও নানার আপন ভাই ও চাচাতো ভাই ও তাদের ছেলেরা কি মাহরাম
উত্তর: একজন নারীর আপন দাদা এবং তাদের আপন ভাইয়েরা সবাই মাহরাম। আর আপন দাদার ছেলেরা (চাচারা) মাহরাম। কিন্তু দাদার ভাইয়ের ছেলেরা মাহরাম নয়। অনুরূপভাবে দাদার চাচাতো ভাইয়েরাও মাহরাম নয়। নানা এবং তার ছেলেরা (মামারা) মাহরাম। আর নানার আপন ভাইয়েরাও মাহরাম। কিন্তু নানার ভাইদের ছেলেরা মাহরাম নয়। অনুরূপভাবে নানার চাচাতো ভাইয়েরাও মাহরাম নয়।
সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
১. দাদা ও তাঁর ভাইয়েরা= মাহরাম। 
২. দাদার ছেলেরা (চাচারা)= মাহরাম। 
৩. দাদার ভাইয়ের ছেলেরা= মাহরাম নয়। 
৪. দাদার চাচাতো ভাইয়েরা= মাহরাম নয়।
৫. নানা ও তার ভাইয়েরা= মাহরাম। 
৬. নানার ছেলেরা [মামারা]= মাহরাম। 
৭. নানার ভাইদের ছেলেরা = মাহরাম নয়। 
৮. নানার চাচাতো ভাইয়েরা=মাহরাম নয়। 
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
মন্তব্যে উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তানের সাথে বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তানের বিয়ে
প্রশ্ন: স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তানের সাথে কি বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তানের বিয়ে বৈধ কি?
উত্তর: আপনার বর্ণিত সম্পর্কটি হল, স্ত্রীর আগের স্বামীর সন্তান এবং বর্তমান স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তান। এদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নেই, দুধের সম্পর্ক নেই। তারা সৎ ভাই বোনও নয়। কারণ সৎভাই বোন হওয়ার জন্য একই পিতা বা একই মাতা থাকা লাগে যা এখানে নেই।
মোটকথা, আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যে সব নারীদেরকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন এখানে এরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং ইসলামি শরিয়তে এই বিয়েতে কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। অর্থাৎ এই বিয়ে বৈধ। আল্লাহু আলাম। আল্লাহ সর্বোজ্ঞ।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
স্বামীর পরিবারের কোন কোন পুরুষ নারীর জন্য মাহরাম
জেনে নিন, স্বামীর পরিবারের কোন কোন পুরুষ আপনার জন্য মাহরাম এবং কোন কোন পুরুষ মাহরাম নয়। স্বামীর চাচা কি স্ত্রীর জন্য মাহরাম? বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন এবং বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ. কে প্রশ্ন করা হয়- স্বামীর চাচা কি স্ত্রীর জন্য মাহরাম? স্বামীর উপস্থিতিতে কি তার সাথে হাত মেলাতে অনুমতি আছে? তিনি উত্তরে বলেন,
عم الزوج ليس محرمًا للزوجة ولا أخوه، وإنما المحرم أبوه وجده وابنه، أما عمه وأخوه فليسا محرمين للزوجة
“স্বামীর চাচা স্ত্রীর জন্য মাহরাম নন এবং তার ভাই (দেবর ভাসু্রও) নন। মাহরাম হলেন, কেবল স্বামীর পিতা (শ্বশুর), দাদা-নানা (দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর) এবং তার পুত্র। কিন্তু তার চাচা (চাচা শ্বশুর) এবং ভাই (দেবর-ভাসুর) স্ত্রীর জন্য মাহরাম নন।’ [binbaz] অর্থাৎ স্ত্রীর জন্য স্বামীর পিতা, দাদা-নানা, পুত্র, পুত্রের পুত্র এবং কন্যার পুত্র-এরা সকলেই মাহরাম। কিন্তু স্বামীর চাচা বা ভাই মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নন। অনুরূপভাবে স্বামীর মামা, খালু এবং ফুফাও মাহরাম নয়।
الخال والعم ليسا محرمين، بل ليس لها أن تكشف لعم الزوج، ولا لخال الزوج، ولا لأخي الزوج، وهو أقرب أيضًا، وإنما قوله : وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ[النور:31] هذا يعم الآباء والأجداد، ولا يدخل فيه الأعمام ولا الأخوال،
” (স্বামীর) চাচা এবং মামা মাহরাম নন। বরং স্ত্রীর জন্য স্বামীর চাচার সামনে, স্বামীর মামার সামনে, এমনকি স্বামীর ভাইয়ের সামনেও পর্দা করা আবশ্যক। (স্বামীর ভাই তো আরও নিকটাত্মীয়, তবুও সে মাহরাম নয়।) আর আল্লাহ তা’আলার বাণী:
وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ
“এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের স্বামী অথবা তাদের পিতা ও পিত্রব্যদের ব্যতীত।” [সূরা নূর: ৩১] এটি পিতা এবং দাদা-নানাদের অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু চাচা এবং মামাদের এর অন্তর্ভুক্ত করে না।” [Binbaz]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
Wednesday, August 6, 2025
রাসূল বলেন তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে
প্রশ্ন: রাসূল ﷺ বলেন: “তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো, যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে।”(মুসনাদে আহমেদ হা/১৭৫৩৮) এই হাদিসটির বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা কি?
▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। অতঃপর:
প্রথমত: প্রশ্ন উল্লেখিত হাদিসটি ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলন করেছেন।বর্ননাটি হচ্ছে সাহাবী ওয়াবেস্বাহ ইবনে মা‘বাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তুমি পুণ্যের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে এসেছ?’’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি তোমার অন্তরকে (ফতোয়া) জিজ্ঞাসা কর। পুণ্য হল তা, যার প্রতি তোমার মন প্রশান্ত হয় এবং অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আর পাপ হল তা, যা মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং অন্তর সন্দিহান হয়; যদিও লোকেরা তোমাকে (তার বৈধ হওয়ার) ফতোয়া দিয়ে থাকে।’’(মুসনাদে আহমেদ হা/১৭৫৩৮; ১৭৫৪০; ১৭৫৪৫; সুনানে দারেমী হা/২৫৩৩)
.
এটি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত চল্লিশ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত একটি মহামূল্যবান হাদীস। ইমাম নববী, ইমাম মুনযিরি এবং ইমাম শাওকানী হাদিসটিকে সহীহ (বা হাসান)’ হাদীস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও সহীহ আত-তারগীব হা/১৭৩৪) গ্রন্থে এটিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সহীহ (বা হাসান) রূপে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ হাদীসটি ওয়াবেস্বাহ ইবনে মা‘বাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর বর্ণিত অনুরূপ আরেকটি হাদীসের মতোই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। হাদীসটি হলো: নাওওয়াস ইবনু সাম’আন আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে পূণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন, পূণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো।”(সহীহ মুসলিম হা/৬৪১০)
.
আবূ সা‘লাবাহ খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সৎকর্ম হল তা, যার প্রতি তোমার মন প্রশান্ত হয় এবং অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আর পাপ হল তা, যা মনে খট্কা সৃষ্টি করে এবং অন্তর সন্দিহান হয়; যদিও লোকেরা তোমাকে (তার বৈধ হওয়ার) ফতোয়া দিয়ে থাকে।’’(মুসনাদে আহমেদ খণ্ড: ২৯; পৃষ্ঠা: ২৭৮-২৭৯; শায়খ শু’আইব আল-আরনা’উত (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ বলেছেন; ইমাম মুনযিরি বলেছেন: এর সনদ উত্তম (জায়িদ)। আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (৩/২৩) হাফিজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) জামি’আল-উলুম ওয়াল-হিকাম; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৫১ এ অনুরূপ কিছু বলেছেন, যেমনটি ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ আত-তারগীব; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ১৫১ সহীহ বলেছেন)
.
দ্বিতীয়ত: অনেকেই এই হাদিসটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। তারা নিজেদের ইচ্ছা, প্রবৃত্তি বা পছন্দকে মানদণ্ড বানিয়ে কোন কিছু হালাল বা হারাম বলার জন্য এ হাদীসটি ব্যবহার করেন। এমনকি কেউ কেউ নানা রকম অবৈধ কাজ করেও হাদীসটি উদ্ধৃত করে বলেন: “তোমার অন্তরের সাথে পরামর্শ করো, দেখো মন কী বলে!” অথচ হাদীসটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এটি নয়।মূলত, হাদীসটির তাৎপর্য হলো— এক মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো বিষয়ে সংশয়ে পড়ে এবং জ্ঞানীদের থেকে ফতওয়া নেয়, তখন যদি তার অন্তর সেই হালাল হারামের ফাতওয়ায় অস্বস্তি অনুভব করে, তবে সে যেন নিজ অন্তরের সততা ও তাকওয়ার অনুসরণে তা পরিত্যাগ করে। কারণ পবিত্র হৃদয় অন্যায়ের প্রতি প্রশান্তি পায় না।
.
শাইখ, আল্লামাহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফাক্বীহ,আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যা,(রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন:
“لا يجوز العمل بمجرد فتوى المفتي إذا لم تطمئن نفسه ، وحاك في صدره من قبوله ، وتردد فيها ؛ لقوله صلى الله عليه وسلم : (استفت نفسك وإن أفتاك الناس وأفتوك) .
فيجب عليه أن يستفتي نفسه أولا ، ولا تخلصه فتوى المفتي من الله إذا كان يعلم أن الأمر في الباطن بخلاف ما أفتاه ، كما لا ينفعه قضاء القاضي له بذلك ، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم : (من قضيت له بشيء من حق أخيه فلا يأخذه ، فإنما أقطع له قطعة من نار) .
والمفتي والقاضي في هذا سواء ، ولا يظن المستفتي أن مجرد فتوى الفقيه تبيح له ما سأل عنه إذا كان يعلم أن الأمر بخلافه في الباطن ، سواء تردد أو حاك في صدره ، لعلمه بالحال في الباطن ، أو لشكه فيه ، أو لجهله به ، أو لعلمه جهل المفتي ، أو محاباته في فتواه ، أو عدم تقيده بالكتاب والسنة ، أو لأنه معروف بالفتوى بالحيل والرخص المخالفة للسنة ، وغير ذلك من الأسباب المانعة من الثقة بفتواه ، وسكون النفس إليها”
“আর যদি তুমি কোনো ফতোয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ো এবং তোমার মনে অস্বস্তি অনুভব করো, তবে এর ভিত্তিতে আমল করা তোমার জন্য হালাল হবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তুমি তোমার হৃদয়ের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করো, যদিও মুফতিরা তোমাকে ফাতওয়া দিয়ে থাকে।” (মুসনাদে আহমাদ হা/১৮০০১; সহীহুল জামে হা/৯৪৮) সুতরাং প্রথমেই তোমার উচিত তোমার হৃদয়ের অনুভূতির দিকে খেয়াল করা। কেননা, যদি তুমি নিশ্চিত হও যে কোনো মুফতির কাছ থেকে তুমি যে ফতোয়া পেয়েছো, তা আল্লাহর সামনে তোমার দায়মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে না—যদি তুমি জানো যে বাস্তবে যে বিষয়টি ঘটেছে তা ঐ ফতোয়ার বিপরীত—তাহলে সে ফতোয়া কোনো কাজে আসবে না। একইভাবে, কোনো বিচারক যদি তোমার পক্ষে রায় দেয়, সেটাও তোমার কোনো উপকারে আসবে না, যদি তুমি জানো যে, তুমি যে হক দাবি করছো, তা প্রকৃতপক্ষে তোমার ভাইয়ের ন্যায্য অধিকার। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:”যদি আমি কাউকে তার ভাইয়ের কোন হক দিয়ে ফেলি,(বাস্তবে হয়ত এতে তার কোন অধিকারই নেই) তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কেননা,এতে যেন আমি তাকে জাহান্নামের এক খণ্ড আগুন প্রদান করলাম।”(সহিহ বুখারী হা/৭১৬৯; সহিহ মুসলিম হা/৪৩৬৫) এই দৃষ্টিকোণ থেকে মুফতি ও বিচারক উভয়েই সমান। আর কোনো প্রশ্নকারী ব্যক্তি যেন এই ভুল ধারণা না করে বসে যে, একজন আলেম ফতোয়া দিয়েছেন বলেই তার জন্য সেটাই হালাল হয়ে গেছে,যখন তিনি জানেন যে বাস্তবে তা সঠিক ফতোয়া থেকে ভিন্ন। সে হয়তো সংশয়বোধ করেছিল, অথবা তার অন্তরে অস্বস্তি অনুভব করেছিল। কারণ, হয় সে জানত বাস্তবতা কী,অথবা সে সন্দেহে ছিল, অথবা সে নিজেই সে বিষয়ে অজ্ঞ ছিল, অথবা সে জানত যে, মুফতিও সে বিষয়ে অজ্ঞ, অথবা সে জানত মুফতি ব্যক্তি পক্ষপাতিত্ব করে, অথবা সে জানে, তিনি (মুফতি) কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ফতোয়া দেন না, অথবা তিনি পরিচিত এমন ফতোয়া দেওয়ার জন্য, যাতে সুন্নাহ পরিপন্থী ছাড় (রুখসাহ্) ও চালাকি (হীলা) রয়েছে। এবং এরকম আরও অনেক কারণ থাকতে পারে—যেগুলোর কারণে সেই ফতোয়ার ওপর আত্মবিশ্বাস স্থাপন করা এবং তার উপর অন্তরকে শান্ত রাখা বৈধ হয় না—যদি সে জানে যে, এই সব বিষয় সত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”(ইমাম ইবনু কাইয়্যিম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ইন খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা: ২৫৪)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
أي : حتى وإن أفتاك مفتٍ بأن هذا جائز ، ولكن نفسك لم تطمئن ولم تنشرح إليه فدعه ، فإن هذا من الخير والبر ، إلا إذا علمت في نفسك مرضا من الوسواس والشك والتردد فلا تلتفت لهذا ، والنبي صلى الله عليه وسلم إنما يخاطب الناس أو يتكلم على الوجه الذي ليس في قلب صاحبه مرض
অর্থাৎ, যদি কোনো মুফতি তোমাকে ফতোয়া দেন যে — এটি বৈধ, কিন্তু তোমার মন এতে প্রশান্তি অনুভব করে না এবং এটি গ্রহণে তোমার হৃদয় উদার হয় না, তাহলে সেটিকে ছেড়ে দাও। কেননা, এটিই কল্যাণ ও পূণ্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি তুমি জানো যে, তোমার মনে কোনো রোগ আছে, যেমন: ওয়াসওয়াসাহ্ (অতিরিক্ত সন্দেহ), সংশয় ও দ্বিধা তাহলে সে অবস্থায় এ অনুভবের প্রতি কর্ণপাত কোরো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উপদেশ কেবল সেইসব লোকদের উদ্দেশ্যেই দিয়েছিলেন যাদের অন্তর রোগমুক্ত, যাদের হৃদয় স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে বিচার করতে সক্ষম।”(ইবনু উসাইমিন, শারহু রিয়াদিস সালিহিন: খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২৪৮)
.
যে ব্যক্তি নিজের হৃদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সঠিক ও ভুলের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারে—সে হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার হৃদয় পবিত্র ও আল্লাহভীতি সম্পন্ন।পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির হৃদয় পথভ্রষ্ট ও পাপপ্রবণ,যদি সে কবীরা গোনাহ নিয়ে নিজের হৃদয়ের সাথে পরামর্শ করে,তবে সে নিশ্চয়ই তা বৈধ মনে করবে। কেননা, তার হৃদয়ে আর সত্য-মিথ্যার মাঝে কোনো স্পষ্ট পার্থক্য থাকে না।” এ সম্পর্কে বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:
(الإثم ما حاك في نفسك) أي : تردد وصرت منه في قلق (وكرهت أن يطلع عليه الناس) لأنه محل ذم وعيب ، فتجدك متردداً فيه وتكره أن يطلع عليك الناس .وهذه الجملة إنما هي لمن كان قلبه صافياً سليماً ، فهذا هو الذي يحوك في نفسه ما كان إثماً ، ويكره أن يطلع عليه الناس .أما المُتَمَرِّدون الخارجون عن طاعة الله الذين قست قلوبهم فهؤلاء لا يبالون ، بل ربما يتبجحون بفعل المنكر والإثم ، فالكلام هنا ليس عاماً لكل أحد ، بل هو خاص لمن كان قلبه سليماً طاهراً نقياً ، فإنه إذا هَمَّ بإثم وإن لم يعلم أنه إثم من قبل الشرع تجده متردداً يكره أن يطلع الناس عليه ، فهذا علامة على الإثم في قلب المؤمن”
“পাপ হলো সেই বিষয়, যা তোমার অন্তরে দ্বিধা ও সংশয়ের সৃষ্টি করে” অর্থাৎ, তুমি তাতে দ্বিধায় পড়ে যাও এবং তা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও অস্বস্তি অনুভব করো। আর তুমি চাও না যে মানুষজন এ ব্যাপারে জানুক; কারণ এটি নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক কিছু। ফলে তুমি নিজেকে এতে দ্বিধায় পড়া অবস্থায় পাবে, এবং চাইবে না যে কেউ তা জেনে ফেলুক। এই উপদেশ মূলত তার জন্য, যার অন্তর বিশুদ্ধ ও সুস্থ। এমন ব্যক্তিই হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে পাপসমূহ ঘুরপাক খায় (অন্তর তা নিয়ে দোলাচলে পড়ে), এবং যে চায় না মানুষ তা জানুক। অথচ যারা অবাধ্য, আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করেছে এবং যাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে—তারা এসব নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয়; বরং কখনো কখনো তারা প্রকাশ্যেই গর্ব করে অন্যায় ও পাপ কাজ করার ব্যাপারে।সুতরাং, এই হাদীসের বক্তব্য সবার জন্য নয়; বরং শুধু তার জন্য, যার অন্তর সুস্থ, নির্মল ও পবিত্র রয়েছে। কারণ, এমন ব্যক্তি যখন কোনো পাপের দিকে মনোনিবেশ করে এমনকি যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে তা স্পষ্টভাবে পাপ কি না, সে না জানে—তবুও তার অন্তরে দ্বিধা সৃষ্টি হয় এবং সে চায় না যে মানুষ তা জানুক।এটি একজন মু’মিনের অন্তরে পাপ-সচেতনতার পরিচায়ক।”(ইবনু উসাইমীন; শারহ আরবাইন আন-নববিয়্যাহ পৃষ্ঠা: ২৯৪-২৯৫) আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৩৭২৬৭)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।
নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে চাকরি করার শারঈ বিধান এবং শর্তাবলি
প্রশ্ন: নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে চাকরি করার শারঈ বিধান এবং শর্তাবলি কি? একটি দলিল ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর ইসলাম নারীর সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার জন্য এসেছে। ইসলাম এমন কিছু বিধান আরোপ করেছে যাতে করে নারীর এ অধিকারগুলো রক্ষা করা যায়। সুতরাং মূলনীতি হলো একজন নারীর উচিত তার নিজ গৃহেই অবস্থান করা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া। এর সপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ্র বাণী:وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰ “আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না।”(সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৩) উক্ত আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলা হলেও এর বিধান নিঃসন্দেহে সকল মুমিন নারীকেও অন্তর্ভুক্ত করে।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে বলার কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের মর্যাদা ও অবস্থান। অধিকন্তু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীগণ ছিলেন নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও আদর্শতম। সুতরাং, যেসব নির্দেশনা তাঁদের প্রতি প্রদান করা হয়েছে, সাধারণ মুমিন নারীদের জন্য তা আরও অধিক গুরুত্বের সঙ্গে পালনীয় হওয়া যুক্তিসঙ্গত। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,“মেয়ে মানুষ (সবটাই) লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে। সে নিজ বাড়ির অন্দর মহলে অবস্থান করে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী থাকে।”(ত্বাবারানীর আওসাত্ব হা/২৮৯০, সহীহ তারগীব হা/৩৪৪; সিলসিলাহ সহীহাহ হা/২৬৮৮ হাদিসটি বিশুদ্ধ) রাসূল (ﷺ) আরও বলেছেন;”তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।”(মুসনাদে আহমাদ হা/৫৪৬৮; আবু দাউদ হা/৫৬৭)
.
উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিসের ভিত্তিতে বলা যায়, মূল বিধান হলো- নারীরা ঘরে অবস্থান করবে; আবশ্যকীয় বিষয় কিংবা প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া ঘর থেকে বের হবে না। ইসলাম নারীর ঘরে সলাত আদায়কে মসজিদে সলাত আদায় করার চেয়ে উত্তম ঘোষণা করেছে; এমন কি সেটা যদি মসজিদে হারামও হয় না কেন।এর অর্থ এ নয় যে, নারী ঘরের মধ্যে বন্দীদশায় পড়ে থাকবে। বরং ইসলাম নারীর জন্য মসজিদে যাওয়া বৈধ রেখেছে। নারীর ওপর হজ্জ-উমরা, ঈদের সলাত ইত্যাদি আদায় করা ফরয করেছে। এ ছাড়াও ইসলামী শরিয়ত নারীকে তার পরিবার-পরিজন, মাহরাম আত্মীয়-স্বজনকে দেখার জন্য, আলেমদেরকে ফতোয়া জিজ্ঞেস করার জন্য বের হওয়ার অনুমোদন দেয়। অনুরূপভাবে নারীদের প্রয়োজনে তাদেরকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। তবে উল্লেখিত প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে বের হতে হবে। যেমন সফরের ক্ষেত্রে মাহরাম সাথে থাকা, নিজ এলাকার মধ্যে হলে রাস্তা নিরাপদ হওয়া, পরিপূর্ণ পর্দাসহ বের হওয়া, বেপর্দা না হওয়া, সাজসজ্জা না করা, সুগন্ধি ব্যবহার না করা।সুতরাং কুরআন সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ’র প্রসিদ্ধ আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীর জন্য ঘরের বাইরে চাকুরী করা বৈধ। তবে সেটি নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে।শর্তগুলো পাওয়া গেলে নারীর জন্য ঘর ছেড়ে বের হওয়া বৈধ। সেগুলো হলো:
.
(১).পরিবারের অনুমতি থাকা: অর্থাৎ নারীদের চাকরি করার ক্ষেত্রে বিবাহের পর স্বামী এবং বিবাহ পূর্ব অভিভাবকের অনুমতি থাকা জরুরি।
.
(২).নিজের আবশ্যকীয় অর্থের যোগান দেওয়ার জন্য চাকুরী করা তার প্রয়োজন হতে হবে এবং চাকরির মাধ্যমে সমাজ ও পরিবারের জন্য উপকারী হতে হবে, শুধুমাত্র দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য নয়; যেমনটি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়।
.
(৩).কাজটি নারীর প্রকৃতি ও শারীরিক গঠনের সাথে মানানসই হওয়া। যেমন: চিকিৎসা, নার্সিং, শিক্ষকতা, সেলাই ইত্যাদি।
.
(৪).কাজটি নিছক নারীর অঙ্গনে হওয়া। সেখানে কোনো বেগানা পুরুষের সাথে মেলামেশা না থাকা।
.
(৫).শরীয়াহসম্মত পরিবেশ: কর্মস্থলে নারী তার শরয়ি হিজাব তথা পর্দার বিধান মানার সুযোগ থাকতে হবে।
.
(৬).ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে বাধা না থাকা: সলাত, সিয়াম, হালাল-হারামের বিধান মেনে চলতে হবে।
.
(৭).নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:যাতায়াত ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে এবং চাকুরীর জন্য তাকে মাহরাম ছাড়া সফর না করা ।
.
(৮).চাকুরীতে যাওয়ার জন্য তাকে কোনো হারামে লিপ্ত হতে না হওয়া। যেমন: ড্রাইভারের সাথে একাকী অবস্থান, এভাবে সুগন্ধি লাগানো যার ঘ্রাণ বেগানা পুরুষ পায়।
.
(৯).নৈতিক ও চারিত্রিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখা: কাজের মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু করা যাবে না।
.
(১০).পরিবারের অধিকার রক্ষা: চাকরির কারণে স্বামী, সন্তান ও পরিবারের প্রতি আবশ্যকীয় দায়িত্ব অবহেলা করা যাবে না। যেমন: ঘরের পরিচর্যা, স্বামী ও সন্তানদের দেখভাল করা।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: একজন নারী কি ব্যবসা করতে পারবে সে মুকীম হোক (নিজ শহরে অবস্থানরত) অথবা মুসাফির হোক (ভ্রমণরত)? এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী? উত্তরে স্থায়ী কমিটির আলেমগণ বলেন:
الأصل إباحة الاكتساب والاتجار للرجال والنساء معا في السفر والحضر ؛ لعموم قوله سبحانه : ( وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا ) وقوله صلى الله عليه وسلم لما سئل أي الكسب أطيب ؟ قال : (عمل الرجل بيده ، وكل بيع مبرور) ولما هو ثابت أن النساء في صدر الإسلام كن يبعن ويشترين باحتشام وتحفظ من إبداء زينتهن ، لكن إذا كان اتجار المرأة يعرضها لكشف زينتها التي نهاها الله عن كشفها ، كالوجه ، أو لسفرها بدون محرم ، أو لاختلاطها بالرجال الأجانب منها على وجه تخشى فيه فتنة ، فلا يجوز لها تعاطي ذلك ، بل الواجب منعها ؛ لتعاطيها محرما في سبيل تحصيل مباح “
“মূলনীতি হলো,পুরুষ ও নারীদের জন্য উপার্জন করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করা বৈধ,তা সফরে থাকাকালীন হোক বা নিজ গৃহে অবস্থানকালে। কারণ এই বিষয়ে আল্লাহর বাণী সর্বজনীন: “আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।”(সূরা আল-বাকারা: ২৭৫) এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:“কোন্ প্রকারের জীবিকা উত্তম?’ উত্তরে তিনি বললেন— নিজ হাতের উপার্জন এবং সৎ ব্যবসা”।(বাযযার ২য় খণ্ড ৮৩ পৃষ্ঠা, বুলুগুল মারাম হা/৭৮২ সনদ সহীহ) এছাড়াও প্রমাণিত রয়েছে যে, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নারীরা নিজেদের লজ্জা ও সংযম বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতেন, এবং তাদের সৌন্দর্য (যেমন সাজ-সজ্জা) প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতেন। তবে যদি কোনো নারীর ব্যবসা তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে যেমন সে নিজের রূপ-সৌন্দর্য (যেমন মুখমণ্ডল) প্রকাশ করতে বাধ্য হয়, যা আল্লাহ প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন, অথবা মাহরাম ছাড়া সফর করে,অথবা পুরুষদের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করতে হয় যাতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে,তাহলে তার জন্য এধরনের ব্যবসা করা বৈধ নয়। বরং, তাকে তা থেকে বিরত রাখা ওয়াজিব, কারণ সে একটি নিষিদ্ধ পন্থায় একটি বৈধ কাজ (ব্যবসা বা উপার্জন) অর্জন করতে চাচ্ছে।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৩; পৃষ্ঠা: ১৬)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:
المجال العملي للمرأة أن تعمل بما يختص به النساء مثل أن تعمل في تعليم البنات سواء كان ذلك عملا إداريّاً أو فنيّاً , وأن تعمل في بيتها في خياطة ثياب النساء وما أشبه ذلك , وأما العمل في مجالات تختص بالرجال ، فإنه لا يجوز لها أن تعمل حيث إنه يستلزم الاختلاط بالرجال ، وهي فتنة عظيمة يجب الحذر منها , ويجب أن يعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم ثبت عنه أنه قال : (ما تركت بعدي فتنة أضر على الرجال من النساء وأن فتنة بني إسرائيل كانت في النساء) ، فعلى المرء أن يجنب أهله مواقع الفتن وأسبابها بكل حال
“নারীর জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র হলো সেইসব কাজ যা নারীদের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: নারীদের শিক্ষাখাতে চাকুরী করা; সেটা প্রশাসনিক চাকুরী হোক বা টেকনিক্যাল চাকুরী হোক। ঘরে বসে নারীদের পোশাক সেলাই বা অনুরূপ কাজ করা। কিন্তু পুরুষদের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করা তার জন্য জায়েয নেই। কারণ এতে করে পুরুষদের সাথে তাকে মেলামেশা করতে হয়। এটি বড় ধরনের ফিতনা। এর থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এটা জানা জরুরী যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে:“আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।”এবং বনী ইসরাঈলের ফিতনাও ছিল নারীদের মাধ্যমে। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত তার পরিবারকে ফিতনার স্থান ও কারণসমূহ থেকে সর্বাবস্থায় নিরাপদে রাখা।”(ইবনু উসাইমীন; আলফাতাওয়া আল্জামি‘আহ লিল মারআতিল মুসলিমাহ (মুসলিম নারীর জীবন ঘনিষ্ট ফতোয়াসমগ্র), খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৯৮১)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:আমি কিছু এতিম সন্তানের মা এবং আমি (বাহিরে) চাকরি করতে ইচ্ছুক। তবে এই কাজে পুরুষদের সাথে ফ্রি-মিক্সিং আছে। তো এখন আমার কী করা উচিত, যেহেতু আমি ওয়ালিল্লাহিল হামদ দ্বীন মেনে চলছি? শাইখ জবাবে বলেন:
لا تعملي مع الرجال، وأبشري بالخير إن شاء الله، دوِّري على عملٍ آخر بين النساء، وأبشري بالخير: وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا [الطلاق:2]، وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا [الطلاق:4]، أما مع الرجال: ممرضة مع الممرضين، أو غير ذلك، فلا، هذه فتنةٌ وخطرٌ عظيمٌ على دينك، وعلى عرضك، لا تكوني مع الرجال في العمل، ابتعدي، ولا تكوني سكرتيرة للرجل، ولا مع الطبيب: سكرتيرة الطبيب، ولا تُعاونينه، كل هذا خطر عظيم، مع النساء، مع الطبيبات والممرضات لا بأس، وغيرهم في أعمال النساء، أما مع الرجال فلا، ولو أكلتِ الترابَ، اتَّقي الله وأبشري بالخير: وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا.
“পুরুষদের সাথে কাজ করবেন না। আর ভালো কিছুর সুসংবাদ গ্রহণ করুন। মহিলাদের মাঝে করা যায় এমন চাকরি খুঁজুন। সাথে ভালো কিছুর সুসংবাদ গ্রহণ করুন। “আর যে কেউ আল্লাহভীতি অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন।”(সুরা তালাক: ২) “আর যে আল্লাহভীতি অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।”(সুরা তালাক: ৪) পক্ষান্তরে একজন মহিলা নার্স পুরুষদের সাথে কাজ করবে, তা হবে না! মনে রাখা উচিত, ফিতনা আপনার দ্বীন ও সম্ভ্রমের জন্য খুবই বিপজ্জনক। পুরুষদের সাথে কাজ করবেন না। তাদের থেকে দূরে থাকুন। কোনো পুরুষের সেক্রেটারি হবেন না। কোনো পুরুষ ডাক্তারের সেক্রেটারি হবেন না। তাকে সহযোগিতা করবেন না। এগুলো সবই চরম বিপজ্জনক। আপনি মহিলাদের মাঝে অবস্থান করবেন। মহিলা ডাক্তার এবং মহিলা নার্সের সাথে কাজ করবেন এবং আরও যে সমস্ত কাজ রয়েছে মহিলাদের সাথে (সেসব করবেন)। এতে কোনো ক্ষতি নেই। পক্ষান্তরে পুরুষদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে বলব, ‘না। এমনকি আপনাকে যদি মাটি খেয়েও থাকতে হয়, তবুও না!’ আল্লাহকে ভয় করুন এবং ভালো কিছুর সুসংবাদ গ্রহণ করুন।”(বিন বায অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-২১২৬৯)
.
পরিশেষে, প্রিয় পাঠকবৃন্দ! উপরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, যদি কোনো নারীর কাজের পরিবেশ শরিয়তের নির্ধারিত শর্তসমূহ পূরণ করে, তবে ইনশাআল্লাহ্ তা তার জন্য নিন্দনীয় নয়। আমরা মহান আল্লাহ্র দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন প্রতিটি ধর্মপরায়ণ, পরহেযগার নারীকে একজন সৎ, নেককার ও সহনশীল জীবনসঙ্গী দান করেন, যে তাকে দ্বীনের পথে সহায়তা করবে। নিঃসন্দেহে তিনিই সকল বিষয়ের সর্বোত্তম অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক। বিস্তারিত জানতে দেখুন; ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১০৬৮১৫)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
Subscribe to:
Posts (Atom)