Monday, October 14, 2024

আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন আবার তিনি নিচের আসমানেও নেমে আসেন সে সময় কি আরশ খালি হয়ে যায় এ বিষয়ে সঠিক আকিদা কী

 প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা বলেন, “রহমান (দয়াময় আল্লাহ্‌) আরশে সমুন্নত।” [সূরা ত্ব-হা: ৫]। সেই সাথে এটাও সত্য যে, আল্লাহ তাআলা প্রতি শেষ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন, যা বহু সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

আমার প্রশ্ন হলো, আমার জিজ্ঞেস হলো, আল্লাহ আরশে আজিমে আছেন। তাহলে প্রতি রাতে তিনি প্রথম আসমানে নেমে আসেন। এ বিষয়ে আকিদা কী পোষণ করব? একটু বুঝিয়ে বলুন।
উত্তর:
✪ প্রথমত: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জানা জরুরি যে, কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলার যে সকল সিফাত (গুণ ও‌ বৈশিষ্ট্য ) বর্ণিত হয়েছে সেগুলো যেভাবে এসেছে হুবহু সেভাবে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। এগুলোর কোন ধরনের আকার-আকৃতি, সাদৃশ্য, ধরণ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা যাবে না। সেগুলোকে রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করাও যাবে না। বরং কুরআন ও হাদিসে যেভাবে এসেছে হুবহু সেভাবেই প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করতে হবে।

✪ দ্বিতীয়ত:

আল্লাহ তায়ালা সাত আসমানের উপরে সমুন্নত রয়েছেন-এটা যেমন কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য নস দ্বারা প্রমাণিত তেমনি তিনি রাতের শেষ প্রহরে নিচের আসমানে নেমে আসেন সেটাও বহু নস দ্বারা প্রমাণিত।
অতএব উভয়টির প্রতি বিশ্বাস করা আবশ্যক। আরও বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।

✪ তৃতীয়ত:

তিনি কীভাবে আরশের উপরে সমুন্নত, কীভাবে নিচের আসমানে নেমে আসেন,‌ এই সময় আরশ খালি হয়ে যায় কিনা, পৃথিবীর কোথাও রাতের শেষ প্রহর অথচ কোথাও দুপুর, কোথাও বিকেল, কোথাও বা রাতের প্রথম প্রহর তাহলে তিনি কোথায় কীভাবে নিচের আসমানে অবতরণ করেন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা জায়েজ নেই। এগুলো বিদআতি প্রশ্ন। কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ কখনো এইসব প্রশ্ন করেননি। বরং তারা বিনা প্রশ্নে আল্লাহর এই সকল সিফাতের উপরে বিশ্বাস পোষণ করেছেন। সুতরাং তাদের মতই আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে।

✪ চতুর্থত:

“আল্লাহ আরশ থেকে কীভাবে নিচের আসমানে নেমে আসেন?” এই জাতীয় প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়ার কারণ হল, আমরা আল্লাহর সিফাতগুলোকে মানবিক বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা বিচার করি। কিন্তু এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। আল্লাহর সিফাতকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা অনুমান করা বা বিচার বিশ্লেষণ করা কখনো সম্ভব নয়। কেননা আল্লাহর সিফাত বা গুণ-বৈশিষ্ট্য গুলো অবশ্যই তাঁর কোনো সৃষ্টি জীবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। ‌ আমাদের কার্যক্রম এবং গুণ-বৈশিষ্ট্য খুবই সীমিত ও দুর্বল কিন্তু আল্লাহ তাআলার গুণ বৈশিষ্ট্য অসীম অপার, অতুলনীয় ও অপরিমেয়।

সুতরাং আল্লাহর আরশে উপরে অবস্থান করা এবং দুনিয়ার জমিনে অবতরণ করা অবশ্যই সত্য কিন্তু তার ধরণ-প্রকৃতি আল্লাহর জন্য যেমনটা শোভনীয় ঠিক তেমনই। আমাদের কোন কিছুর সাথে তার সাদৃশ্য বা মিল নেই।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিয়েছেন।‌ তা হলো, “আল্লাহ তাআলা নিচের আসমানে অবতরণ করলে আরশ খালি হয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়। যেভাবে মানুষ ঘুমালে তার আত্মা আল্লাহর নিকটে চলে যায় কিন্তু তা মানুষের দেহ থেকে পরিপূর্ণভাবে আলাদা হয় না।”
আল্লাহু আলম।

♦️আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল♦️

ইচ্ছাকৃত ভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে কাজে ফাঁকি দেওয়া বা ডিউটির সময় চুরি করা হারাম

 প্রশ্ন: আমি শুনেছি কেউ যদি অফিসের কাজে ফাঁকি দেয় তাহলে তার ওই সময়টুকুর ইনকাম হারাম হবে। এখন আমার দুলাভাই একটা বেসরকারি অফিসে চাকরি করে।কিন্তু আমি শুনেছি, তিনি কাজে ফাঁকি দেন, কাজের সময় বাসায় এসে রেস্ট নেন।এখন তার ইনকাম খাওয়া কি আমার জন্য জায়েজ হবে?

উত্তর: কোন কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কোন ব্যক্তি যখন চাকরির জন্য কন্ট্রাক্ট করে তখন লিখিতভাবে কিংবা মৌখিকভাবে কিছু শর্ত থাকে। যেমন: সপ্তাহে কত দিন কাজ, কত ঘণ্টা ডিউটি, বেতন-ভাতা, ছুটি ইত্যাদি।

এই ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের জন্য কৃত চুক্তি পালন করা ফরজ। আল্লাহ বলেন,

یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوۤا۟ أَوۡفُوا۟ بِٱلۡعُقُودِۚ

“হে মুমিনগণ, তোমরা চুক্তি পূর্ণ কর।” সূরা [মায়িদা: ১]

অতএব কোন কর্মচারী যদি নানা ছলচাতুরী করে ইচ্ছাকৃত ভাবে ডিউটির বাইরে সময় কাটায় অথবা ডিউটির মধ্যে কাজে ফাঁকি দেয় তাহলে সে শর্ত লঙ্ঘনকারী বলে বিবেচিত হবে। আর নিঃসন্দেহে তা গুনাহের কাজ। অনুরূপভাবে মালিক বা কর্তৃপক্ষ যদি কর্মচারীর সাথে কৃত চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে সে অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে। একদিকে আল্লাহর কাছে মানুষের হক নষ্ট করার অপরাধে দণ্ডিত হবে অন্যদিকে প্রচলিত আইনেও সে অন্যায়কারী হিসেবে গণ্য হবে।

যাহোক, কোন কর্মচারী ডিউটি রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ভাবে যতটুকু ছলচাতুরী ও ফাঁকিবাজি করেছে ততটুকু উপার্জন হারাম বলে গণ্য হবে। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতির সাপেক্ষে বাইরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে বা কোন কাজ করার দরকার হলে সেটা ভিন্ন কথা।

আরও উল্লেখ্য যে, ডিউটি চলাকালীন সময়ে সামান্য কিছু বিশ্রাম নেওয়া বা কলিগের সাথে খোশ গল্প করা অথবা ব্যক্তিগত জরুরি কাজকর্ম করা, সালাত আদায় করা, খাওয়া-দাওয়া, প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ ইত্যাদিতে কোন সমস্যা নেই। কেননা সাধারণ নিয়ম হিসেবে এই ধরনের কাজ-কারবার প্রতিটি কোম্পানি বা সংস্থায় অনুমোদিত।
কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে কাজে ফাঁকি দেওয়া বা ডিউটির সময় চুরি করা হারাম। কেউ তা করলে তার এই সময় কালীন উপার্জনও হারাম বলে গণ্য হবে।
আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।

মোটকথা, সর্বাবস্থায় মানুষের হক আদায়, আমানতদারিতা, সততা, স্বচ্ছতা এবং সত্যবাদিতা অপরিহার্য। মানব জীবনে এগুলো অসাধারণ গুণ ও বৈশিষ্ট্য। এগুলোর মাধ্যমে যেমন ভাবে তার উপার্জন হালাল হবে তেমনি সে হবে সবার কাছে প্রিয় পাত্র এবং মহান আল্লাহও তাকে ভালবাসবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে :
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ঘরে খেলনার পুতুল থাকলে সালাত আদায়ের সময় করণীয় কী এবং এগুলো ঘরে থাকার দায় কার উপর বর্তাবে

 প্রশ্ন: আমার ছোট ভাই বোন তারা পুতুল দিয়ে খেলা করে কিন্তু পুতুল ঘরে থাকলে তো ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। আমি চাইলেও পুতুল গুলো সরাতে পারবো না এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? আমি শুনেছি ফজর এবং মাগরিবের ওয়াক্তে রহমতের ফেরেশতা ঘরে প্রবেশ করে তাই ঐ সময়ে পুতুল গুলো লুকিয়ে রাখলে যথেষ্ট হবে কি?

আর যে ঘরে নামাজ পড়বো ঐ ঘরে পুতুল থাকলে কি কোনও সমস্যা আছে?
উত্তর: ঘরে কোন প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রাখা জায়েজ নেই। ঠিক তদ্রূপ বাচ্চাদের খেলনা পুতুলও রাখা জায়েজ নেই। (অবশ্য যদি সেগুলোর নাক, চোখ, মুখ, কান ইত্যাদি অবয়বগুলো মুছে দেওয়া হয় তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ)।। হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, আবু ত্বলহা রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“‏ لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ ‏”
“যে ঘরে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে সেই ঘরে (আল্লাহর রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।” [সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), অধ্যায়: ৭৭/ পোশাক, পরিচ্ছেদ: ৭৭/৮৮. ছবি সম্পর্কিত]
তাই অনতিবিলম্বে এগুলো থেকে ঘরবাড়িকে পরিষ্কার করা আবশ্যক। অন্যথায় বাড়ির প্রধান কর্তা ব্যক্তি এ জন্য গুনাহগার হবে। আপনার দ্বারা যদি সেগুলো ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্ভব না হয় তাহলে এতে আপনি গুনাহগার হবেন না ইনশাআল্লাহ। কেননা তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যে ঘরে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি রয়েছে সে ঘরেও সালাত শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে উত্তম হলো, এসব থেকে মুক্ত অন্য কোনও ঘরে সালাত আদায় করা। কমপক্ষে সালাতের সময় এসব জিনিস কাপড় বা কোন কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা।
আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Friday, October 4, 2024

ভিপিএন VPN ব্যবহারের বিধিবিধান

 ❑ প্রশ্ন: ভিপিএন ব্যবহারের বিধান কী?

উত্তর: VPN (virtual personal network) ব্যবহারের ব্যাপারে কথা হলো, যদি বৈধ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হয় তাহলে বৈধ আর অবৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে অবৈধ। যেমন:
অনেক সময় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মবিশ্বাস গত মতপার্থক্য কিংবা বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক অথবা পার্থিব উপকারী কিছু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্লক করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে VPN ব্যবহার করা জায়েজ। কিন্তু সরকার যদি বৃহত্তর জনস্বার্থে কিংবা দেশ, জাতি বা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর কোন ওয়েবসাইট/অ্যাপ বন্ধ করে তাহলে তা ভিপিএন ব্যবহার করে সেগুলো খোলা জায়েজ নেই। যেমন: পর্ণ বা অশ্লীল ওয়েবসাইট, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস প্রচারকারী ওয়েবসাইট/অ্যাপ ইত্যাদি।

– আর ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে যদি কোন অবৈধ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে অবশ্যই তা হারাম। যেমন: ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানির বা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করা বা কারো অধিকার নষ্ট করা। উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ভিপিএন-এর সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর-এর সিম থেকে ফ্রি ইন্টারনেট ডাটা বিক্রয় করে থাকে। অতএব তা বিক্রয় করা যেমন হারাম তেমনি ব্যবহার করাও হারাম। কেননা তা মানুষের হক নষ্ট করার শামিল। একই ভাবে দেশ, জাতি বা মানব সমাজ ও মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কন্টেন্ট বা ওয়েব সাইটের অ্যাক্সেস পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিপিএন ব্যবহার করা হারাম।

❑ প্রশ্ন: VPN ব্যবহার কি সরকারের আনুগত্য পরিপন্থী?
উত্তর: যেমনটি আমরা জানি যে, অনেক সময় অমুসলিম, জালিম বা বিদআতি সরকার শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার স্বার্থে কোনও কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক/উপকারী ওয়েব সাইট, অ্যাপ বা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে যদি ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত ওয়েব সাইট/অ্যাপ ব্যবহার করা হয় তাহলে তা হারাম হবে না বা এ কারণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার গুনাহ হবে না। কারণ সরকারের আনুগত্য নিঃশর্ত নয়। অবশ্যই শর্তসাপেক্ষে। আর তা হলো, আনুগত্য হবে কেবল ভালো কাজে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا طَاعَةَ في مَعْصِيَةٍ، إنَّما الطَّاعَةُ في المَعروفِ

“(আল্লাহর) অবাধ্যতায় কোনও আনুগত্য নেই। আনুগত্য হবে কেবল ভালো কাজে।” [সহিহ বুখারি, হা/৭২৫৭]

অনুরূপভাবে সাইবার নিরাপত্তা তথা হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে আত্মরক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত VPN ব্যবহারের সুযোগ আছে। ভিপিএন-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যকে সুরক্ষিত করে থাকে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রাইভেট নেটওয়ার্কগুলোকে নিরাপদে সংযুক্ত করার জন্য ভিপিএন-এর বিকল্প নেই।
শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন ভিপিএন ব্যবহারে কোনও আপত্তি নেই।

◆ ◆ সতর্কী করণ: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিপিএন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এসব দেশে অবৈধ ভাবে তা ব্যবহার কারীদের জন্য জেল, অর্থ দণ্ড ও নানা ধরণের শাস্তি রয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।

❑ ভিপিএন-এর মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে নিষিদ্ধ স্থানে হালাল ব্যবসা করার হুকুম কী?
ভিন্ন বিদেশি অনলাইন মার্কেট প্লেসে তাদের নিজেদের দেশের লোক ছাড়া অন্য কোন দেশের লোক ব্যবসা করতে পারে না। তখন ঐ সমস্ত মার্কেট প্লেসে বাইরের দেশের অনেক লোক ভিপিএন-এর মাধ্যমে নিজ কম্পিউটারের আইপি এড্রেস এবং নিজ দেশের পরিচয় হাইড করে দিয়ে ঐ দেশের আইপি এড্রেস এবং পরিচয় গ্রহণ করে নিজেকে উক্ত দেশের নাগরিক পরিচয় দিয়ে ঐ সমস্ত মার্কেট প্লেসে ব্যবসা করে থাকে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এ কাজটি ধোঁকাবাজি ও মিথ্যা ও প্রতারণা বলে গণ্য হবে। সুতরাং এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করা হারাম।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَاجْتَنِبُواْ قَوْلَ الزُّورِ
“এবং মিথ্যা কথা থেকে বাঁচো।” [সূরা হজ: ৩০]
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا »
“যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” [সহিহ মুসলিম, হা/ ১০১] অর্থাৎ সে ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত।
তবে বিক্রিত পণ্য যদি হালাল হয় এবং হালাল পদ্ধতিতে বিক্রয় করা হয় তাহলে বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা হালাল। কিন্তু অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে গুনাহগার হতে হবে। এ জন্য তওবা করে দ্রুত এই ব্যবসা পরিহার করা আবশ্যক।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Friday, September 27, 2024

কোনো অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া এবং ইসলাম বিদ্বেষী ও ধর্মদ্রোহী বা নাস্তিকদেরকে গোপনে হত্যা করার বিধান

 ইসলামী হুদুদ তথা দণ্ড প্রয়োগের একমাত্র দায়িত্বশীল হল রাষ্ট্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আদালত। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি, কমিটি, জামাত বা সংগঠন এই ক্ষমতা রাখে না। কেননা এতে ‘হদ’ কায়েমের নামে ব্যক্তিগত রেষারেষি, পারিবারিক কলহ, জায়গাজমি নিয়ে ধন্ধ, রাজনৈতিক ও দলীয় প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ইত্যাদি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া দলিল-প্রমাণ সহকারে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার সম্ভাবনা আছে। তাই আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি। এতে সমাজে বিবাদ, বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইবনে রুশদ কুরতুবি বলেন,
وأما من يقيم هذا الحد – أي : جلد شارب الخمر – فاتفقوا على أن الإمام يقيمه وكذلك الأمر في سائر الحدود . ” بداية المجتهد ” ( 2 / 233 )
“আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এই হদ (তথা মদ পানকারীর উপর চাবুক লাগানোর বিধান) বাস্তবায়ন করবে ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান)। সকল হুদুদ (দণ্ড প্রয়োগ) এর ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য।” (বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/২৩৩)
শাওকানী বলন: মদিনা মদিনা বাসী ফকিহগণ বলতেন:
لا ينبغي لأحد يقيم شيئاً من الحدود دون السلطان إلا أن للرجل أن يقيم حد الزنا على عبده وأمَته
“একমাত্র সুলতান ছাড়া কারো জন্য কোন হদ (দণ্ড) বাস্তবায়ন করা উচিত নয়। তবে কেউ তার দাস-দাসীর ওপর জিনার হদ (দণ্ড) কায়েম করতে পারে।” (নাইলুল আওতার ৭/২৯৫ ও ২৯৬)
সুতরাং সর্বসাধারণের দায়িত্ব, মানুষকে হেকমত ও সদুপদেশ দ্বারা ইসলামের দিকে আহ্বান করা, তাকে বুঝানো ও গোপনে সংশোধন করা, দ্বীনের শিক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি। তাদের জন্য কারো উপর শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা বৈধ নয়।
তাই কোন নাস্তিক, ধর্মদ্রোহী ব্যক্তি বা জিনা কারী, মদপান কারী, হত্যাকারী, চোর, ডাকাত ইত্যাদি অপরাধী ব্যক্তিকে গোপনে হত্যা করা বা গণপিটুনি দেয়া বা এলাকার মোড়ল, মাতাব্বর, ইমাম বা পঞ্চায়েত কমিটি ইত্যাদি কর্তৃক হদ, কিসাস, চাবুক মারা ইত্যাদি বিধান বাস্তবায়ন করা বৈধ নয়।
এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা আদালত যদি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে তাহলে ক্ষমতার মসনদে আরোহী ব্যক্তি ও আদালতের বিচারকগণ মহান আল্লাহর কাঠগড়ায় অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হবে।
এ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের কর্তব্য হল, ধৈর্য ধারণ করা এবং সম্ভব হলে সরকারের কাছে যথানিয়মে স্মারকলিপি ও দাবি পেশ করা। কিন্তু কোনভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate