Monday, July 8, 2024

নারীরা শয়তানের ফাঁদ শীর্ষক প্রচলিত হাদিসটি জাল বা বানোয়াট

 আমাদের সমাজে নিম্নোক্ত হাদিসটি ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ। অনেক ইসলামি বই-পুস্তক এবং বক্তাদের মুখে তা প্রায় শোনা যায়। প্রচলিত হাদিসটি হলো,

النساء حبائل الشيطان
“নারীরা শয়তানের ফাঁদ।” কিন্তু মুহাদ্দিসদের গবেষণায় উক্ত হাদিসটি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়। অনেক মুহাদ্দিসের মতে তা বানোয়াট বা জাল। আবার অনেকের মতে তা সনদগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল।

নিম্নে এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতামত উল্লেখ পূর্বক হাদিসটি মান উল্লেখ করা হলো:

◈ ১. আবুশ শাইখ আসপাহানি [আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আসপাহানি (জন্ম:২৭৪, মৃত্যু: ৩৬৯ হিজরি মোতাবেক ৮৮৭-৯৭৯ খৃষ্টাব্দ)] তার আল আমসাল গ্রন্থে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি লম্বা বক্তৃতা উল্লেখ করেছেন। সে বক্তৃতার মধ্যে উক্ত বাক্যটি রয়েছে। কিন্তু উক্ত বক্তৃতাটি সহিহ সনদে প্রমাণিত নয়। বরং তা মুহাদ্দিসগণের নিকট ضعيف جدا বা অত্যধিক দুর্বল। কেননা এর সনদে দু জন অভিযুক্ত রাবি (বর্ণনাকারী) রয়েছে। যেমন:

◆ ক. আবু উবায়দ আল আত্তার। তিনি متروك الحديث বা মুহাদ্দিসগণের নিকট পরিত্যাজ্য।
◆ খ. আমর বিন সাবেত। এই ব্যক্তি শিয়া-রাফেজি এবং দুর্বল।

◈ ২. এ হাদিসটি মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-এ ইবনে মাসউদ রা. থেকে মওকুফ সূত্রে উল্লেখিত হয়েছে। অর্থাৎ এই সূত্র অনুযায়ী এটি প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর বক্তব্য; আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস নয়।

◈ ৩. ইমাম বায়হাকি তার দালায়েলুন নবুওয়াহ কিতাবেও উক্ত লম্বা বক্তৃতাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেটিও সনদগতভাবে শুদ্ধ নয় বরং তা ضعيف جدا বা অত্যধিক দুর্বল। কেননা এর বর্ণনা সূত্রে ৪ জন রাবি বা বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ আপত্তি করেছেন। মুহাদ্দিসগণ বলেন,
ابو أمية الطرسوسى ضعيف.
يعقوب بن محمد بن عيسى الزهرى و هو ضعيف في حديثه نكارة، و لكن يعتبر به.
عبد العزيز بن عمران الزهرى و هو ابن أبي ثابت و هو متروك الحديث.
عبدالله بن مصعب و أبيه لم أعرفهما

◈ ৪. এ ছাড়াও কাসেম বিন মুসা [মৃত্যু: ৩০২ হিজরি] তার জুয-এ উক্ত লম্বা বক্তৃতাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেটিও সনদগতভাবে মুনকার। কারণ মুহাদ্দিসগণ বলেন,
عبد الله بن مصعب بن خالد الجهنى و أبيه مجهولان

“আব্দুল্লাহ বিন মুসআব বিন খালেদ আল জুহানি বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে। কিন্তু দুজনই মাজহুল বা অজ্ঞাত পরিচয়।”

قال العراقي في تخريج الاحياء:” أخرجه الأصفهاني في الترغيب والترهيب من حديث خالد بن زيد الجهني بإسناد فيه جهالة
[সোর্স: al-maktaba]

◈ ৫. ইমাম সাখাবি এ হাদিসটিকে তার বানোয়াট বা জাল হাদিস সংকলন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
[দ্রষ্টব্য: আল মাকাসিদুল হাসানা كتاب المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة, বানোয়াট হাদিস নং-১২৭৪]

◈ ৬. আল্লামা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আলবানি রাহ. “নারীরা শয়তানের ফাঁদ” শীর্ষক প্রচলিত এ হাদিসটি সম্পর্কে বলেন,

هذا لا اصل له في الحديث ، ومعناه لا ينبغي إطلاقه علي الناس لأن فيه هضم لهن بصورعامة والنساء كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ( شقائق الرجال) ففيهن الطالحة والصالحة كالرجال ، وإن كان الرجال تميزوا عليهن بكثرة الصالحين كما أشار الرسول صلى الله عليه وسلم بقوله كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء إلا آسيا ومريم

“হাদিসে এ কথার কোনও ভিত্তি নাই। আর তার মমার্থটাও মানুষের উপর ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়। কারণ তা সাধারণভাবে নারীদের জন্য অপমান জনক। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَالِ

“নারীরা পুরুষদের সমকক্ষ।”

সুতরাং পুরুষদের মত তাদের মধ্যেও ভালো-মন্দ রয়েছে। যদিও পুরুষরা এদিক থেকে বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত যে, তাদের মধ্যে নারীদের তুলনায় সৎ লোকের সংখ্যা বেশি। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন,

كَمَلَ مِنَ الرِّجالِ كَثِيرٌ، ولَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّساءِ إلَّا مَرْيَمُ بنْتُ عِمْرانَ، وآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ

“পুরুষদের মধ্যে অনেক মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ইমরান কন্যা মরিয়ম আ. এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া আ., খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-এর মত আর কেউ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেনি।” (অন্য বর্ণনায় ফাতিমা রা.-এর নাম এসেছে-অনুবাদক)। [source: kulalsalafiyee]

তবে অন্যত্র এ হাদিসটিকে জইফ বা দুর্বল বলেছেন। [সিলসিলা যাইফা, ২৪৬৪, যইফুত তারগিব, ১৪১৪]

অবশ্য এ হাদিস বানোয়াট হলেও এ মর্মার্থটাকে অনেক আলেম সঠিক বলেছেন। কারণ শয়তান নারীর ফাঁদে ফেলে অসংখ্য দ্বীনদার-পরহেজগার ভালো মানুষকে ধ্বংস করেছে। এটা বাস্তব সত্য। অর্থাৎ এটি হাদিস নয় তবে একটি আরবি প্রবাদ বাক্য। এর মাধ্যমে দুশ্চরিত্রা নারীদের থেকে সাবধান করা হয়েছে; সকল নারী উদ্দেশ্য নয়।

নারী ফিতনার ব্যাপারে কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসে অনেক সতর্কতা মূলক বক্তব্য এসেছে। সেগুলোই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এসব জাল-বানোয়াট বা অপ্রমাণিত হাদিসের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Sunday, July 7, 2024

সন্তানের জন্য একজন পিতার উপদেশ

  -জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিওনা, বরং জুতাটা খুলে নিজে একবার মুছে দিও।

- কখনও কাউকে কামলা, কাজের লোক বা বুয়া বলে ডেকোনা। মনে রেখো তারাও কারো না কারো ভাই, বোন, মা, বাবা। তাদেরকে সম্মান দিয়ে ডেকো।
- বয়স, শিক্ষা, পদ বা পদবীর দিক দিয়ে কেউ ছোট হলেও কখনও কাউকে ছোট করে দেখোনা। নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে।
- পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করো, কিন্তু কারো ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো না।
- কাউকে সাহায্য করে পিছনে ফিরে চেওনা, সে লজ্জা পেতে পারে।
- সব সময় পাওয়ার চেয়ে দেয়ার চেষ্টা করো বেশি । মনে রেখো, প্রদানকারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে।
- এমন কিছু করোনা যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল ওঠে।
- ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছো, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেওনা।
- তোমার কি আছে তোমার গায়ে লেখা নেই। কিন্তু তোমার ব্যবহারে দেখা যাবে তোমার পরিবার কোথায় আছে।
- কখনও মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না। কাউকে ফেলতে পারবে না।
- কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলে বাসায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে যেও। অন্যের পাতিলের ভাতের আশায় থেকো না।
- কারো বাসার খাবার নিয়ে সমালোচনা করো না। কেউ খাবার ইচ্ছে করে অস্বাদ করার চেষ্টা করে না।
- বড় হবার জন্য নয়, মানুষ হবার জন্য চেষ্টা করো।
- শ্বশুর কিংবা শাশুড়িকে এতটা সম্মান দিও, যতটুকু সম্মান তোমার বাবা-মাকে দাও। এবং তাদের প্রতি এমন আচরণ করো, যাতে করে তাদের মেয়েকে তোমার বাড়ি পাঠানোর জন্য উতলা থাকে।
- সব সময় ভদ্র ও নম্রভাবে চলো এবং কথা বলো। কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ করোনা।

(সংগ্রহ)

Monday, June 24, 2024

আমরা চেষ্টা করেছি বাকি আল্লাহ ভরসা এ কথার মধ্যে শিরক আছে কি

 ❑ প্রশ্ন-১: আমরা প্রায়শই বলি, “আমরা চেষ্টা করেছি, বাকি আল্লাহ ভরসা।” এ কথার মধ্যে শিরক আছে কি?

উত্তর:
এ কথা সঠিক। এতে কোনও শিরক নেই। কারণ ইসলাম আমাদেরকে শিখিয়েছে, আল্লাহর নামে আগে কাজ করতে হবে, চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে হবে অতঃপর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। চেষ্টা-পরিশ্রম না করে কেবল আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়।
আনাস রা. হতে বর্ণিত,

قال رجلٌ يا رسولَ اللهِ أعقِلُها وأتوكَّلُ أو أُطلقُها وأتوكَّلُ قال اعقِلها وتوكَّلْ

“এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসুল, আমি কি উট বেঁধে রেখে আল্লাহর উপর ভরসা করব, নাকি তা ছেড়ে রেখে? তিনি বললেন, “উট বাঁধ, অতঃপর আল্লাহর উপর ভরসা কর।” [সহিহ তিরমিজি, হা/২৫১৭, শাইখ আলবানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]

– উমর ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,

لو أنَّكم تَوَكَّلُونَ علَى اللهِ تعالَى حَقَّ تَوَكُلِهِ ، لَرَزَقَكُمْ كمَا يَرْزُقُ الطيرَ ، تغدُو خِماصًا ، وتروحُ بِطانًا

“তোমরা যদি সত্যিকার ভাবেই আল্লাহর উপর ভরসা কর তবে তিনি পাখিদের মতই তোমাদের রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। ভোরবেলা পাখিরা খালি পেটে বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যা বেলা ভরা পেটে ফিরে আসে।” [তিরমিজি, সহিহুল জামে, হা/৫২৫৪] এখানে

লক্ষণীয় বিষয় হলো, পাখিরা আল্লাহর উপর ভরসা করে বাসায় বসে থাকে না। তারা খুব ভোরে তাদের বাসা ছেড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রিজিকের সন্ধানে যায়। সেখানে ওঁত পেতে থাকা শিকারির জালে ধরা পড়ার কিংবা সাপ-বিচ্ছু ও হিংস্র পশুর আক্রমণে জীবননাশের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রিজিক অনুসন্ধান করে। ফলে আল্লাহ তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন। এবং তারা সন্ধ্যায় পেট পুরে খাবার খেয়ে বাসায় ফিরেতে পারে।

তাহলে বুঝা গেল, ঘরে বসে খাবারের অপেক্ষা করার নাম তাওয়াক্কুল বা ভরসা নয়। বরং হালাল উপার্জনের জন্য দৌড়-ঝাঁপ ও চেষ্টা-পরিশ্রম করা, বিভিন্ন ঝুঁকি মাথায় নিতে কাজ করা এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখা উভয়টির প্রয়োজন আছে। তাহলেই আল্লাহ সাহায্য করবেন।

সুতরাং “আমরা চেষ্টা করেছি, বাকি আল্লাহ ভরসা।” এ কথা বলায় কোন দোষ নেই ইনশাআল্লাহ।

তবে মনে রাখতে হবে যে, আমরা চেষ্টা-পরিশ্রম বা কোন কাজ করতে পারবো না যদি আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ক্ষমতা না দেন। আমরা আমাদের নিজস্ব ক্ষমতা বলে কোন কিছুতে করতে সক্ষম নই। এটাই “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”-এর অর্থ।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। তা হলো:

بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله

(বিসমিল্লা-হি, তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লা-হি, লা- হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহ।)

অর্থ: “আল্লাহর নামে (বের হলাম)। আমি আল্লাহর উপর নির্ভর করলাম। কোনও অবলম্বন নেই এবং কোনও শক্তি নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া।”

[সুনানুত তিরমিজি, ৫/৪৯০, সহীহুল জামিয়িস সাগীর ২/৮৫৯, হাদিসটি হাসান।]

তাই আমাদেরকে আল্লাহর নামে কাজ শুরু করতে হবে, তার সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে, অতঃপর তার উপর ভরসা করতে হবে।
নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক। আর আমরা অতিশয় দুর্বল দুর্বল এবং তার করুণার মুখাপেক্ষী। তার দেওয়া শক্তি-সামর্থ্য ছাড়া ছাড়া আমাদের নিজস্ব কোনও শক্তি, সামর্থ্য বা যোগ্যতা নেই।
আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি-

❑ প্রশ্ন-২: “আমার যতটুকু করার তা আমি করেছি- বাকিটা আল্লাহর উপর।” এ কথা বলার হুকুম কী?
উত্তর:
الحمد لله، رب العالمين والصلاة السلام على رسول الله، وبعد:
فمن يقول هذا العبارة مراده أني فعلت السبب الذي أقدر عليه في الأمر الذي أريد تحقيقه، وأما حصول المقصود، وتحقيق النتائج فذلك إلى الله، وهذا المعنى حق، فإن العبد لا يملك تحقيق مقاصده، وبلوغ آماله إلا بتوفيق الله وتيسيره، فمعنى هذه العبارة يرجع إلى ما جاء في الحديث “اعقلها وتوكل”. أخرجه الترمذي (2517)، وابن حبان (731). وهذا هو الذي يليق بالمسلم أن يفعل السبب المشروع ويعتمد في حصول المطلوب على ربه، فيجتهد في فعل الأسباب المشروعة، ويستعين بربه في حصول مطلوبه كما قال صلى الله عليه وسلم “احرص على ما ينفعك، واستعن بالله ولا تعجِز”. صحيح مسلم (2664).
ولكن ينبغي أن يقول المتكلم بهذه العبارة (والباقي إلى الله)، بدل (على الله)، والله أعلم

“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুলের উপর। অত:পর-

যে ব্যক্তি এই বাক্যটি বলে তার কথার মানে হল যে, আমি যে বিষয়টি অর্জন করতে চাই তার জন্য আমি সাধ্যানুযায়ী উপায় অবলম্বন করেছি (অর্থাৎ আমার যা করণীয় আমি তা করেছি)। কিন্তু লক্ষ্য হাসিল বা ফলাফল অর্জনের জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করছি।
আর এ অর্থটি সত্য। কারণ আল্লাহর রহমত ও তৌফিক ছাড়া বান্দা তার লক্ষ্য অর্জন এবং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না।

সুতরাং উক্ত বাক্যটির অর্থ সেটাই, যা এ হাদিসে এসেছে:

اعقِلْها وتوكَّلْ

“আগে উট বাঁধো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা কর।” (অর্থাৎ উটকে না বেঁধে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থেকো না। অন্যথায় উট পালিয়ে যাবে)। এটি তিরমিজি (২৫১৭) এবং ইবনে হিব্বান (৭৩১) বর্ণনা করেছেন।

একজন মুসলিমের জন্য কর্তব্য হলো, সে যা চায় তা অর্জনের জন্য তার প্রতিপালকের উপর ভরসা করবে। ফলে সে বৈধ উপায় অবলম্বন করার করার পাশাপাশি তার প্রতিপালকের সাহায্য প্রার্থনা করবে। যেন সে তার প্রত্যাশা অনুযায়ী তা অর্জন করতে পারে। যেমন: রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

احْرِصْ علَى ما يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ باللَّهِ وَلَا تَعْجِزْ

“যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা গুরুত্ব সহকারে করো এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। অক্ষম হয়ো না।” [সহীহ মুসলিম, ২৬৬৪]
তবে যে এমন কথা বলবে, তার “বাকিটা আল্লাহর উপর” না বলে উচিৎ, “বাকিটা আল্লাহর নিকটে।” আল্লাহু আলাম-আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।”
– শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসের আল বাররাক। (লেকচারার, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব)।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

হজ্জ থেকে ফিরে এসে ৪০ দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

 প্রশ্ন: “যে ব্যক্তি হজ্জ থেকে ফিরে আসবে সে ৪০ দিন বাড়ি থেকে বের হবে না” ইসলামে এ কথার কোনও ভিত্তি আছে কি?

উত্তর: “যে ব্যক্তি হজ্জ থেকে ফিরে আসবে সে ৪০ দিন বাড়ি থেকে বের হবে না” এমন কোন কথা কুরআন ও হাদিসে নেই। সুতরাং তা নিঃসন্দেহে ভ্রান্ত কথা। যুক্তির নিরিখেও তা অগ্রহণযোগ্য। কারণ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই তাদের নিজস্ব গণ্ডীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে হজ্জের দীর্ঘ সফর শেষে।
যেমন—
হজ্জ সফর থেকে ফিরে এসে একজন নারী শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে তার পিতা-মাতার বাড়িতে যাবেন, তার প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয় ও প্রিয়জনদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করবেন, তাদের তাদের খোঁজ-খবর নিবেন
আর পুরুষ মানুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ (সুন্নতে মুয়াক্কাদা মতান্তরে ওয়াজিব), জুমার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া ফরজ, কোন মুসলিম মারা গেলে তার জানাজা ও কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করা ফরজে কেফায়া, রোগী দেখতে যাওয়া, কেউ দাওয়াত দিলে তাতে অংশগ্রহণ ইত্যাদি মুসলিমের হক, অর্থ উপার্জনের জন্য চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ইত্যাদি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, নিজের অথবা পরিবারের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে আলেমের বক্তৃতা শোনা বা পড়াশোনা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গমন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, হজের শিক্ষা ও ইসলামের সৌন্দর্য মণ্ডিত বিভিন্ন দিক মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আল্লাহ পথে মানুষকে আহ্বান করার জন্য বাইরে যাওয়া দরকার। এ ছাড়াও সমাজ ও দেশের বিভিন্ন দায়-দায়িত্ব তার কাঁধে ন্যস্ত থাকতে পারে সে জন্য তাকে বাইরে যেতে হতে পারে। কিন্তু এত কিছু দায়-দায়িত্ব ও প্রয়োজন বাদ দিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিন ঘরে বসে থাকা কিভাবে শরিয়ত সম্মত হতে পারে? তবে হজ্জের পরে মানুষের আরও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা উচিত। যথাসম্ভব চেষ্টা করবে, তার দ্বারা যেন কোনও ধরণের গুনাহ সংঘটিত না হয়, কারো হক নষ্ট না হয়, কাউকে কষ্ট দেওয়া না হয়, অনর্থক কাজে সময়, শ্রম ও অর্থ অপচয় না করা হয়। বরং আরও অধিক পরিমাণে আল্লাহ মুখী হওয়ার এবং ঈমান ও তাকওয়া ভিত্তিক জীবন পরিচালনার চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে মানুষের সাথে কথাবার্তা, লেনদেন ও আচার-আচরণ আরও সুন্দর করতে হবে।
সতর্ক হতে হবে যেন, হজ্জের আগের জীবন এবং পরের জীবন এক না হয়ে যায়। বরং হজ্জের পরের জীবন যেন আরও সুন্দর, শৃঙ্খল, নিয়ন্ত্রিত, আল্লাহর পথে নিবেদিত এবং মানব কল্যাণে অবদান রাখা সহ অনুকরণীয় আদর্শ জীবন গঠিত হয়-সে চেষ্টা করতে হবে।
মোটকথা, একজন হাজি সাহেব হজ্জ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর দ্বীনের পথে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে পরিচালিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

◈◈ বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম ডক্টর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ)-কে NTV-এর “আপনার জিজ্ঞাসা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয় যে, হজ্জ করে আসার পর, বিশেষ করে মহিলা হাজিরা নাকি ৪০ দিন বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না?
তিনি উত্তরে বলেন,
“না, এ ধরনের কোনও বিধান ইসলামের মধ্যে নেই। মহিলা হোক বা পুরুষ হাজি হোক, হজ্জ করে আসার পর ৪০ দিন পর্যন্ত ঘরেই থাকতে হবে, বাইরে যেতে পারবেন না—এ বক্তব্য সঠিক নয়। কুসংস্কারের মতো আমরা নিজেরা এটি আবিষ্কার করেছি। যিনি হজ্জ করে ফিরেছেন, তিনি তো হজের বার্তা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তিনি আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, কথা বলবেন, যা শিখেছেন সেটি ভাগাভাগি করবেন এবং ইসলামের সৌন্দর্যের বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরবেন। যদি জ্ঞানের বিষয় থাকে, তাহলে মানুষকেও সে বিষয়ে জানাবেন।” [উৎস: NTVBD] মহান আল্লাহ সকলকে তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার। সৌদি আরব।

হজ্জ ও উমরা সফরে মৃত্যুবরণকারীদের মর্যাদা

 প্রশ্ন: লোকমুখে বলতে শোনা যায় যে, “যারা হজ্জ বা উমরা করতে গিয়ে মারা যায় তারা জান্নাতি।” এ কথাটা কি সঠিক?

উত্তর: হজ্জ ও উমরা সফর নি:সন্দেহে বরকতপূর্ণ সফর। এ সফরে কেউ মৃত্যু বরণ করলে তার জন্য হাদিসে বিশেষ কতিপয় ফজিলত (মর্যাদা) বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সহিহ নয়।

নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপাস্থাপন করা হল:

✪ ১. কেউ যদি হজ্জ বা উমরা আদায়ের জন্য দৃঢ়ভাবে নিয়ত করে বা এই নিয়তে যাত্রা করে কিন্তু সে হজ্জ বা উমরা আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে পূর্ণ হজ্জ ও উমরার পূর্ণ সওয়াব দান করবেন। কেননা কোন ব্যক্তি সৎ আমলের দৃঢ় নিয়ত করার পরে মারা গেলে আল্লাহ তাকে সে কাজটির পূর্ণ সওয়াব দান করেন। যেমন আল্লাহ বলেন,

وَمَن يَخْرُجْ مِن بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّـهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّـهِ ۗ

“যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও রসুলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশ্যে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়।” [সূরা নিসা: ১০০] এ মর্মে একাধিক হাদিসও বিদ্যমান রয়েছে।

✪ ২. কেউ যদি হজ্জ-উমরা করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার সওয়াব লিপিবদ্ধ করতেই থাকেন। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রf. হতে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

«من خرج حاجًا فمات؛ كتب الله له أجر الحاج إلى يوم القيامة، ومن خرج معتمرًا فمات، كتب الله له أجر المعتمر إلى يوم القيامة، ومن خرج غازيًا فمات، كتب الله له أجر الغازي إلى يوم القيامة» (صحيح لغيره).

“যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর মারা যাবে সে ব্যক্তির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জ সওয়াব লেখা হতে থাকবে। আবার যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যাবে তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ওমরার সওয়াব লেখা হতে থাকবে।” [আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব-সহিহ লিগাইরিহ]

✪ ৩. যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে কিয়ামতের দিন সে লাব্বাইক পাঠ করতে করতে উঠবে। যেমন: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। এক ইহরাম ধারী ব্যক্তিকে তার বাহনটি ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে সে মারা যায়। তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلاَ تُخَمِّرُوا وَجْهَهُ وَلاَ رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا

“তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার পরনের বস্ত্রদ্বয় দিয়ে তাকে কাফন দাও এবং তার মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকো না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া (লাব্বাইক) পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।”
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “তাকে সুগন্ধি মাখিও না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।” [বুখারি ও মুসলিম]

❒ “হজ্জ ও উমরা আদায় করতে এসে মৃত্যু বরণ করলে সে জান্নাতি” এ মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ নয়:

হজ্জ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো একটিও সহিহ নয়।

❂ এ মর্মে বর্ণিত হয়েছে “যে ব্যক্তি হজ্জ করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করবে তার হিসেব নেওয়া হবে না, এমনকি হিসেবের জন্য তাকে উপস্থাপনও করা হবে না এবং বলা হবে, জান্নাতে প্রবেশ কর।”

– এ হাদিসটিকে খতীব বাগদাদী জইফ (দূর্বল) বলেছেন।
– ইমাম শাওকানী বলেন, এর সনদে ইসহাক বিন বিশর আল কাহেলী নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। সে মিথ্যুক।
– আলবানী এটিকে ‘মুনকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

❂ অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে “হজ্জ ও উমরা আদায়কারী এবং গাজি বা আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী ব্যক্তি আল্লাহর বাহিনী। তারা সবাই আল্লাহর জিম্মায় থাকে। মারা গেলে তাদেকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে আর ফিরে আসলে ক্ষমা করা হবে।” এটিও মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে জইফ বা দুর্বল। কেননা এর সনদে একাধিক সমস্যা আছে। যেমন: এর বর্ণনা সূত্রে উসমান ইবনে আমর ইবনে সাজ নামক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। আরেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর পরিচয় অজ্ঞাত। (উক্ত হাদিসদ্বয় ইমাম আল ফাকেহী তার আখবারে মক্কা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।)

উক্ত হাদিসদ্বয়ের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য নিম্নরূপ: (আরবি)
” الْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَالْغَازِي وَفْدُ اللهِ، ضَمَانُهُمْ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يُدْخِلَهُمُ الْجَنَّةَ إِنْ تَوَفَّاهُمْ، أَوْ يُرْجِعَهُمْ وَقَدْ غُفِرَ لَهُمْ ”
قل : هذا إسناد ضعيف ، عثمان هو ابن عمرو بن ساج قال أبو حاتم : ( يكتب حديثه ولا يحتج به ) .
ومحمد بن عبد الله هذا لم أعرفه ، لم أجد في ترجمة عثمان بن ساج أنه روى عن أحد اسمه محمد بن عبد الله ؛ أخشى أن يكون تحرف من محمد بن السائب الكلبي ، فإنه كثير الرواية عنه . والله أعلم .
مَن مات في هذا الوجهِ من حاجٍّ أو مُعْتَمِرٍ ، لم يُعْرَضْ ولم يُحَاسَبْ ، وقيل له : ادْخُلِ الجنةَ
الراوي:عائشة أم المؤمنين المحدث:الألباني المصدر:السلسلة الضعيفة الجزء أو الصفحة:2187 حكم المحدث:منكر
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate