Wednesday, February 22, 2023

প্রতিবেশীর হক

 প্রশ্ন: ইসলামে প্রতিবেশীর হকগুলো কী কী?▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬

উত্তর: ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ মর্মে কুরআন-সুন্নাহ তাদের প্রতি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে অনেক কথা বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কতিপয় হক অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল:
১) তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
২) সে কষ্ট দিলে যথাসম্ভব ধৈর্য ধারণ করা।
৩) তার প্রতি দয়া ও বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ করা।
৪) তাকে সম্মান করা।
৬) বিপদাপদে সাহায্য করা।
৭) তার সাথে যথাসম্ভব বিবাদে লিপ্ত না হওয়া।
৮) রোগ-ব্যাধিতে দেখতে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় সেবা করা।
৯) দেখা হলে হাসি মুখে কথা বলা।
১০) সালাম বিনিময় করা।
১১) মারা গেলে কাফন-দাফন ও জানাজায় অংশ গ্রহণ করা।
১২) কেউ তার ক্ষতি করতে চাইলে যথাসম্ভব তাকে প্রতিহত করা।
১৩) তার সাথে ভালবাসা পূর্ণ সম্পর্ক রাখা।
১৪) ক্ষতিকর কিছু ঘটলে যথাসাধ্য সাহায্য করা ও সমবেদনা জানানো।
১৫) তার খুশিতে শরিক হওয়া।
১৬) মাঝে-মধ্যে তার বাড়িতে উপহার পাঠানো।
১৭) তার মাঝে শরিয়ত বিরোধী কিছু দেখলে তাকে আন্তরিকভাবে নসিহত করা।
১৮) দীনী বিষয়ে না জানলে জ্ঞানদান করা।
১৯) কাফির হলে দীনের দাওয়াত দেওয়া।
২০) তার মধ্যে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে তা লোক সম্মুখে প্রকাশ না করা এবং যথাসাধ্য গোপনে সংশোধন করার চেষ্টা করা ইত্যাদি।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

বিড়াল সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর

 ◾সালাতরত অবস্থায় সামনে দিয়ে বিড়াল চলাচল করা:

প্রশ্ন: আমার একটা পালিত বিড়াল আছে। যখন আমি কোন সময় ঘরে একাকী নামাজ আদায় করি তখন বিড়ালটা জায়নামাজের উপর শুয়ে-বসে থাকে এবং সামনে দিয়ে হাঁটা-চলা করে। এতে কি আমার নামাজের কোন ক্ষতি হবে?
উত্তর: সালাতের সময় বিড়াল সামনে দিয়ে চলাফেরা করলে বা তা গায়ের সাথে লাগলেও সালাতের কোন ক্ষতি হবে না। কেননা বিড়াল পবিত্র প্রাণি। তবে যদি নাপাক বস্তুর উপর দিয়ে চলাফেরা করার কারণে তার পায়ে নাপাক বস্তু লেগে থাকে তাহলে ঐ অবস্থায় জায়নামাজে চলাফেরা করলে তাতে নাপাকি লেগে তা নাপাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্কতা কাম্য। তাছাড়া সালাতের সামনে দিয়ে বিড়াল চলাফেরা করলে সালাতে মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সম্ভব হলে বিড়ালকে ঘর থেকে বের করে দরজা লাগিয়ে সালাত আদায় করবেন।
আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

◾প্রশ্ন: কুরআন পড়ার সময় আমাদের বিড়ালটি কুরআনের উপর দিয়ে যায় এবং কুরাআনের উপর পা দিয়ে লাফ দেয়। এতে কি আমার গুনাহ হবে? এখন আমার করণীয় কী?
উত্তর: যদি আপনার অসতর্ক অবস্থায় বিড়াল কুরআনের উপর দিয়ে পা দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার কোনও গুনাহ হবে না। তবে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবেন যেন, বিড়াল সে সুযোগ না পায়। কোনভাবেই যেন দয়াময় আল্লাহর বাণী মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সম্মানহানি না হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য। তবে এজন্য কোন কাফফারা আদায় অথবা আলাদা কোন কিছু করার প্রয়োজন নেই।

◾প্রশ্ন: বিড়ালের মুখ দেওয়া খাবার খাওয়া কি জায়েজ আছে?
উত্তর: বিড়াল পবিত্র প্রাণি। সুতরাং বিড়াল যদি খাদ্য-পানীয়তে মুখ দেয় তাহলে তা নাপাক হবে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ- وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ – أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا، فَجَاءَتْ هِرَّةٌ فَشَرِبَتْ مِنْهُ، فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ، قَالَتْ كَبْشَةُ: فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي؟ فَقُلْتُ: نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ ‏”‏

কাবশা বিনতে কাব ইবনে মালিক সূত্রে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবু কাতাদা রা. এর পুত্রবধূ। তিনি বলেন, একদা আবু কাতাদা (বাহির থেকে) আসলে আমি তার জন্য অজুর পানি দিলাম। এমন সময় একটি বিড়াল এসে তা থেকে পানি পান করতে লাগল। আবু কাতাদা বিড়ালের জন্য পাত্রটি কাত করে ধরলেন। ফলে বিড়ালটি তৃপ্তি সহকারে পান করল। কাবশা বলেন, আবু কাতাদা দেখলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন, হে ভাতিজী, তুমি কি আশ্চর্যবোধ করছ? আমি বললাম, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিড়াল নাপাক নয়। এরা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী প্রাণি।”
[তিরমিযী, অধ্যায়: পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে, হা/৯২, সনদ হাসান]
অতএব বিড়ালের মুখ দেওয়া খাদ্যদ্রব্য খেতে আপত্তি নেই। অবশ্য তার মুখে ময়লা বা নাপাক কোন কিছু লেগে থাকলে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে ময়লা বা নাপাকি দূর করে বাকি খাবার খাওয়া জায়েজ আছে যদি রুচি হয়। অন্যথায় ফেলে দেবে। তবে মুখে নাপাক বস্তু লেগে থাকা অবস্থায় তরল পানীয় দ্রব্য (যেমন: দুধ) আছে এমন পাত্রে মুখ দিলে তা পুরোটাই ফেলে দিতে হবে। কারণ তাতে মুখ দেওয়ার সাথে সাথে নাপাকি তরল পানীয়ের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

◾বিড়াল নাপাক প্রাণি নয় তবে তার পেশাব-পায়খানা নাপাক:

প্রশ্ন: আমরা জানি, ‌বিড়াল নাপাক প্রাণি নয়। তাহলে বিড়াল যদি পোশাকে প্রস্রাব করে দেয় তাহলে সেই পোশাকে সালাত আদায় করা যাবে কী?
উত্তর: বিড়াল বাহ্যিকভাবে পবিত্র। অর্থাৎ যদি শরীর বা পোশাকের সাথে বিড়ালের স্পর্শ লাগে তাহলে তা নাপাক হবে না। অনুরূপভাবে যদি সে খাবার বা পান পাত্রে মুখ দেয় তাহলেও তা নাপাক হবে না। কারণ এ ব্যাপারে একাধিক হাদিস রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওজুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করিয়ে অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওজু করেছেন এবং বলেছেন,
إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ
“বিড়াল নাপাক প্রাণি নয়। এটা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী।”
[তিরমিযী, অধ্যায়: পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে, হা/৯২, সনদ হাসান]
কিন্তু তার গোশত খাওয়া হারাম।‌ কারণ তা হিংস্র প্রাণির অন্তর্ভূক্ত।
আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي، ثَعْلَبَةَ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ
আবু সালাবা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন),‌ অধ্যায়: ৩৫/ শিকার ও জবেহকৃত জন্তু এবং যে সব পশুর গোশত খাওয়া হালাল, পরিচ্ছেদ: ৩. হিংস্র পশু ও নখরওয়ালা পাখি খাওয়া হারাম]
আর ইসলামের মূলনীতি হল, যে প্রাণির গোস্ত খাওয়া হারাম তার পেশাব-পায়খানাও নাপাক। (অধিক বিশুদ্ধ মতে)। সুতরাং বিড়ালের পেশাব-পায়খানা কাপড় বা শরীরে লাগলে তা নাপাক হয়ে যাবে। যেমন: মানুষ বাহ্যত পবিত্র কিন্তু তার পেশাব-পায়খানা অপবিত্র।
তাই যে পোশাকে বিড়ালের পেশাব লেগেছে তা ধৌত করা জরুরি। অন্যথায় উক্ত পোশাকে সালাত সহিহ হবে না।
আল্লাহু আলাম।

◾ বিড়ালের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাঁচতে তা হত্যা করার বিধান:

প্রশ্ন: আমাদের বাড়িতে আমরা কবুতর পালন করি। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে বিড়াল কবুতরের ডিম এবং বাচ্চা সব কিছুই খেয়ে ফেলছে। কিছুতেই বিড়ালকে থামানো যাচ্ছে না। সুযোগ পেলেই ডিম এবং বাচ্চা সবই খেয়ে নিচ্ছে। এমনকি বড় কবুতরকেও তাড়া করছে। এ অবস্থায় আমরা কি বিড়ালকে মারার কোন ব্যবস্থা করতে পারি?
উত্তর: বিড়ালকে না মেরে যদি অন্য কোন পদ্ধতিতে কবুতরের বাচ্চা ও কবুতর রক্ষা করা সম্ভব হয় তাহলে সে চেষ্টা করা উচিত। যদি দূরে কোথাও ফেলে আসা সম্ভব হয় তাও করা যেতে পারে। কিন্তু এতে কাজ না হলে তখন তার ক্ষতির হাত থেকে আত্মরক্ষার স্বার্থে মেরে ফেলা জায়েজ আছে। মোটকথা, যদি কোন পশু বা জীবজন্তু মানুষের ক্ষতি করে তাহলে তার ক্ষতির হাত থেকে আত্মরক্ষার বিকল্প কোন পথ না থাকলে তাকে হত্যা করা জায়েজ।
সৌদি আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায ক্ষতিকর বিড়াল সম্পর্কে বলেন,
إذا تيسر طرده وإبعاده وتخويفه حتى يبتعد فلا يقتل فإذا اضطر الإنسان إلى قتل القط لإيذائه، وعدم التخلص منه بغير ذلك، فلا بأس لكن بغير النار
“যদি তাকে তাড়িয়ে দেওয়া বা দূরে ফেলে দেওয়া অথবা ভয়-ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে হত্যা করা যাবে না। কিন্তু যদি তার ক্ষয়ক্ষতির জন্য হত্যা করা আবশ্যক হয়ে যায় এবং এছাড়া বাঁচার কোন বিকল্প না থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু আগুন দিয়ে হত্যা করা যাবে না।” [Binbaz]

◾কাঠবিড়ালির ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাঁচতে তা হত্যা করা:

প্রশ্ন: কাঠবিড়ালি মারা কি জায়েজ? উল্লেখ্য, কাঠবিড়ালি আমাদের বাড়ির গাছের পেয়ারা, ডাব সহ আরো বিভিন্ন ফলমূল খেয়ে ফেলছে।
উত্তর: প্রথমত: যদি হত্যা না করে বিকল্প পন্থায় কাঠবিড়ালির ক্ষয়-ক্ষতি থেকে ফল-ফসল রক্ষা করা সম্ভব হলে তাই করা উচিৎ। কিন্তু যদি বিকল্প কোনভাবেই তার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব না হয় তখন হত্যা করা জায়েজ আছে।

◾রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিড়াল প্রসঙ্গে প্রচলিত ভিত্তিহীন কথা:

প্রশ্ন: “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়েজ্জা নামে একটা বিড়াল ছিল এমন কিছু কথা কেউ কেউ বলে থাকে। সাথে এ বিষয়ে বেশ বিভিন্ন ঘটনাও বলে। কিন্তু মনে হয় না সেগুলো সত্য। যাই হোক, এই সম্পর্কে আপনার মতামত আশা করছি।
উত্তর: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনও বিড়াল পালতেন বলে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায় না। যেমন: কাতার ভিত্তিক বিখ্যাত ফতোয়ার ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে,
لم يثبت فيما نعلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اتخذ قطة، فضلاً عن اصطحابها للصلاة
“আমাদের জানামতে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়াল প্রতিপালন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি, সাথে করে সালাতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তো আরও দূরের কথা।” [Islamweb]
তবে বহু হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বিড়াল ভালোবাসতেন এবং বিড়ালকে পবিত্র প্রাণি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (যেমন উপরে উল্লেখিত হাদিস সমূহ)।

◾প্রশ্ন: আমাদের নবী‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কি কোন পোষা বিড়াল ছিল যার নাম মুয়েজ্জা?
উত্তর: এটি‌ ভিত্তিহীন কথা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কোন বিড়াল পুষতেন না। এই নামে তার কোন বিড়াল ছিল না। তবে তিনি বিড়াল ভালবাসতেন। এবং তিনি বিড়ালকে পবিত্র প্রাণি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার ওজুর পাত্র থেকে পিপাসার্ত বিড়ালকে পানি পান করিয়ে পরে ওই পানি দ্বারাই ওজু করেছেন। (দেখুন উপরে উল্লেখিত হাদিস সমূহ), এক মহিলা খাঁচায় একটি বিড়ালকে বন্দি রেখেছিলো। এবং তাকে খাদ্য-পানীয় থেকে বঞ্চিত করে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলার অপরাধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিণতি জাহান্নাম বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

যার নাম টান সমিতি: ইসলামি বিধান

 প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় কিছু মহিলা প্রতি সপ্তাহে একটি খেলা খেলে। খেলাটি হল, ধরুন দশ জন মহিলা ১০০ টাকা করে জমা দিবে। তাহলে সপ্তাহে জমা হবে, ১০০০ টাকা। এই টাকাটা প্রতি সপ্তাহে লটারির মাধ্যমে একজন মহিলা পাবে। অর্থাৎ যার নাম উঠবে সে পাবে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একজন করে মহিলা কমবে। এই লটারির দায়িত্বটা একজনের কাছে থাকবে। সে প্রত্যেকের নাম আলাদা আলাদা কাগজে মুড়িয়ে লটারি করবে। যে এ দায়িত্ব পালন করবে তাকে কিছু (৩০/৪০) টাকা দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, এই খেলাটি কি জায়েজ আছে? হাদিসে তো লটারি নিষেধ আছে। এটা কি সে পর্যায়ে যাবে?

উত্তর: এতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। এটা নিষিদ্ধ লটারির অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এখানে তারা প্রত্যেকেই সমান টাকা জমা দিবে এবং প্রত্যেকেই তার জমা কৃত পূর্ণ টাকা ফেরত পাবে। কেউ কম-বেশি পাবে না বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কিন্তু সপ্তাহান্তে জমা কৃত টাকা গুলো একসাথে নেওয়ার ক্ষেত্রে কে আগে নিবে-এটা নির্ধারণের জন্য লটারি করা হয়। এটা দোষের কিছু নয়। এই ধরণের সমিতি অনেক জায়গায় ‘টান সমিতি’ নামে পরিচিত।
মূলত: ইসলামে ওই লটারি হারাম যেটা জুয়া। যেখানে অংশ গ্রহণকারীরা সবাই টাকা জমা দিবে কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তি লাভবান হবে আর বাকিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে যে ব্যক্তি লটারি ও টাকা ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়টি পরিচালনা করে তাকে যে টাকাটা দেওয়া হয় তাতে কোনও আপত্তি নেই। এটা তার পারিশ্রমিক।

■ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. কে প্রশ্ন করা হয়:
প্রশ্ন: আমরা দশ জনের একদল মানুষ প্রতি মাসে পঁচিশ দিনার প্রদানের মাধ্যমে একটি সমবায় সমিতিতে অংশগ্রহণ করি। এ পরিমাণ দিনার প্রতিমাসে সবাই জমা দিবে কিন্তু পালা অনুযায়ী একজন করে (জমা কৃত সম্পূর্ণ দিনার) গ্রহণ করবে। এভাবে (পালাক্রমে) প্রতি মাসে সবাই তা গ্রহণ করে। এর হুকুম কী? এটা কি জায়েজ? আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দান করুন। আমিন।
উত্তর:
الجواب: ما فيه بأس، إذا تعاونوا لا بأس بهذا المبلغ أو بأكثر أو بأقل، إذا تعاونوا عن سماح نفوسهم فلا بأس بهذا. نعم، هذا من باب التعاون على الخير. نعم.
“এতে দোষের কিছু নেই। তারা সবাই পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ কাজ করলে কোনও দোষ নেই। চাই (তাদের অর্থের পরিমাণ) কম হোক বা বেশি হোক। তারা যদি উদার মনে এভাবে পারস্পারিক সহযোগিতা করে তাতে কোনও সমস্যা নেই। হ্যাঁ, এটি কল্যাণকর কাজে পারস্পারিক সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। জি।

➧ সতর্কতা: এ জাতীয় সমিতির অন্যতম একটা সমস্যা হল, সদস্যদের মধ্যে যে ইতোমধ্যে টাকা পেয়ে গেছে সে অন্যান্য মাসে টাকা জমা না দিয়ে আত্মগোপন করতে পারে অথবা টাকা জমার ক্ষেত্রে গড়িমসি করতে পারে। তাই এতে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ছাড়া অন্য কাউকে যুক্ত করা উচিত নয়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

স্ত্রী, পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সাথে সুন্দর আচরণ এবং একটি প্রসিদ্ধ হাদিসের ভুল অর্থ ও ব্যাখ্যা

 নিম্নোক্ত হাদিসটি আমাদের সমাজে যথেষ্ট পরিচিত: প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
“তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে ভালো যে তার পরিবারের নিকট সবচেয়ে ভালো আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের নিকট সবচেয়ে ভালো।” [ইবনে মাজহ: হাদিস নং ১৯৭৭, তিরমিযী: হাদিস নং ৩৮৯৫, শায়েখ আলবানিসহ অনেক মুহাদ্দিস এটিকে সহিহ বলেছেন। সহিহ লিগাইরিহি, সহিহ তিরমিযি, হা/৩৮৯৬]

উপরোক্ত হাদিসটি আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিচিত। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তার ভুল অর্থ প্রচলিত। আর তা হল, উক্ত হাদিসকে কেবল স্ত্রীর সাথে খাস করা।‌ অর্থাৎ এভাবে অর্থ করা যে, “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ওই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো…।” (অধিকাংশ অনুবাদক এমনটি অর্থ করেছেন) কিন্তু তা সঠিক নয়। বরং ‘আহল‌’ শব্দের সঠিক অর্থ হলো, ‘পরিবার’ (শুধু স্ত্রী নয়)। আর স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন ইত্যাদি সকলেই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কিছু আলেমের মতে, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজন বা নিকটাত্মীয়গণও এর মধ্যে শামিল।

🔸নিম্নে উক্ত হাদিসের ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা পেশ করা হলো:

◾সুনানে তিরমিজির অনবদ্য ব্যাখ্যা গ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াজিতে এই হাদিসের ব্যাখায় বলা হয়েছে,
لعياله، وذوي رحمه
“(সবচেয়ে উত্তম হলো সে ব্যক্তি যে), তার পরিবার-পরিজন এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের নিকট ভালো।”
কেউ কেউ বলেন,
لأزواجه وأقاربه
“স্ত্রী ও নিকাটাত্মীয়গণের নিকট ভালো। কারণ এ হাদিসটি সুন্দর আচরণের অর্থ বহন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে সকল মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং সবচেয়ে সুন্দর আচরণের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন, মহান চরিত্রের উপরে প্রতিষ্ঠিত।” [তুহফাতুল আহওয়াজি]

◾সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি বিশ্ব নন্দিত আলেমে দীন শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
أهله: زوجته، وأمه، وأبوه، وأولاده، كلهم أهله، يعني: يحسن إليهم، وينفق عليهم، أفضل من الأجانب، والبعيدين.
“আহল অর্থ: স্ত্রী, মা, বাবা ও সন্তান-সন্ততি। এরা সবাই পরিবারভূক্ত। হাদিসটির অর্থ হল, যে ব্যক্তি এদের প্রতি দয়াসুলভ আচরণ করে এবং তাদের জন্য অর্থ খরচ করে সে উত্তম অনাত্মীয় এবং দূরবর্তী লোকদের থেকে।” [binbaz]

◾বর্তমান শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ আল্লামা শাইখ মুহম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমিন রহ. বলেন,
فإذا كان فيك خير؛ فاجعله عند أقرب الناس لك وليكن أول المستفيدين من هذا الخير
“অতএব যদি তোমার মধ্যে ভালো কিছু থাকে তাহলে তা তোমার কাছের মানুষদেরকে দাও। এই কল্যাণ থেকে তারাই সর্বপ্রথম উপকৃত হোক।”

◾তিনি আরো বলেন,

ومن فوائد هذا الحديث: أنه ينبغي للإنسان أن يقتدي برسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا، بحيث يكون مع أهله لينًا هيّنا أليفا لا يبعد عنهم ولا يطيل البعد

“এই হাদিসের অন্যতম একটি শিক্ষা হলো, একজন ব্যক্তির উচিত, আল্লাহর রসূলের আদর্শ অনুসরণ করা, যাতে সে তার পরিবারের সাথে নম্র, সহজ-সরল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন। যে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে না বা দীর্ঘ সময় দূরে থাকবে না।” [শারহে বুলুগুল মারাম-alathar]

মোটকথা, আমাদের সুন্দরতম আচার-আচরণ তথা হাসিমুখে কথা বলা, বদান্যতা, মানুষের অশোভন আচরণে ধৈর্য ধারণ করা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া ইত্যাদি উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচার-আচরণের যত বিষয় রয়েছে সেগুলোর সবচেয়ে বেশি হকদার নিজের স্ত্রী, মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি এবং বিশেষ করে রক্ত সম্পর্কীয় বা নিকটাত্মীয়গণ। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আমাদের সমাজে দেখা যায় তার উল্টো চিত্র। অনেক মানুষ বাইরের লোকদের সাথে খুবই নম্র, ভদ্র, সভ্য ও শালিন আচরণ করে কিন্তু নিজের স্ত্রী-পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সাথে তার সম্পর্ক ও আচরণ খুব নিম্ন পর্যায়ের। এমনটি হওয়া উচিত নয়।‌ বরং হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানুষ তারাই যারা তাদের স্ত্রী, পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দরতম আচরণ করে। আর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে ব্যক্তি যার আচার-আচরণ সবচেয়ে সুন্দর এবং এই সুন্দর আচরণের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্নিকটে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, মা,‌ বাবা, ভাই, বোন রক্তের সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়, সর্বোপরি সকল মানুষের সাথে সুন্দরতম আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

সচেতনতা মূলক পোস্ট: তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া-ঝাটি করা পথভ্রষ্টতার কারণ

 বর্তমানে মুসলমানদের মাঝে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও মতভেদ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ভয়ানক আক্রমণাত্মক ভাষায় আঘাত করছে। চলছে গালাগালি আর হিংসার উদগীড়ন। একে অপরকে কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগে ধোলাই করছেন। সব চেয়ে ভাবনার বিষয় হচ্ছে, একেবারে সাধারণ মানুষও ইলম ছাড়াই আলেমদের সাথে বিতর্ক জড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে তারা ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি কোনভাবেই মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণকর নয়। বরং তা গোমরাহির আলামত ও ভ্রষ্টতার পূর্বাভাষ। তাই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া (তাও শর্ত সাপেক্ষ) নিজেদের মাঝে বিতর্ক পরিহার করা প্রয়োজন।

কারণ আবু উমারা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ الْآيَةَ ((مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ
“কোন জাতি হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার পরে গোমরাহ হয় না যতক্ষণ না তারা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়। অত:পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন:
مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا – بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ
“তারা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল বিতর্কের জন্যেই করে। বস্তুত: তারা হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়।” [তিরমিযি হা/৩১৭৬, ইবনে মাজাহ হা/৪৭, সহীহ তারগীব- হাসান, আলবানি]
সত্য জানার পরেও শুধু প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা ব্যক্তি, দল, মত, বংশ ইত্যাদির স্বার্থে অন্যায় জেনেও তার সমর্থনে তর্ক-বিতর্ক গোমরাহির একটি কারণ।ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “শরিয়তে ঐ তর্ককে তিরস্কার করা হয়েছে যা ইলম ছাড়া অন্যায়ভাবে করা হয়। অথবা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও করা হয়। সুতরাং এখান থেকে বুঝা যায়, ঝগড়া-ঝাটি ও অন্যায় বিতর্ক গোমরাহির আলামত। পক্ষান্তরে বিতর্কের উদ্দেশ্য যদি হয়, সত্যকে সমর্থন করা বা অন্যায় কে অন্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা তবে তা কখনো ফরজে আইন; কখনো ফরজে কেফায়াহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ – وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ- إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ
“ডাক তোমার রবের পথে প্রজ্ঞা এবং সুন্দর উপদেশ বাণীর মাধ্যমে আর তাদের সাথে বিতর্ক কর সুন্দরতম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার রব সব চেয়ে বেশি জানেন, কে তার পথে থেকে বিচ্যুত হয়েছে।” [সূরা নাহল: ১২৫]
উক্ত আয়াতে দাওয়াতের দুটি চমৎকার মূলনীতি বলা হয়েছে। যথা:
🔹 এক. হেকমত তথা কুরআন-সুন্নাহর দলিল দ্বারা দাওয়াত দেয়া।
🔹 দুই. সুন্দর উপদেশ বাণী অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহয় যে সকল উৎসাহ ব্যঞ্জক, সতর্ক বাণী, জান্নাতের নেয়ামতরাজি ও জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া।
অনুরূপভাবে এখানে বিতর্ক করার একটি চমৎকার মূলনীতিও বলা হয়েছে। তা হল: যদি বিতর্কের প্রয়োজন হয় তবে সুন্দরতম পন্থায় তথা নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতা, প্রমাণ উপস্থাপন, ইলম (শরিয়তের জ্ঞান) এবং যৌক্তিক বক্তব্য পেশের মাধ্যমে বিতর্ক করতে হবে। গালাগালি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করা হলে বিতর্কের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। বিতর্কের উদ্দেশ্য মানুষকে হেদায়েত করা; প্রতিপক্ষের উপর বিজয় প্রমাণ করা নয়। (তাফসিরে ইবনে কাসির ও তাফসীরে ইবনে সাদি থেকে সংক্ষেপায়িত)
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।

Translate