Saturday, February 5, 2022

শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট হবে কি? মতবিরোধ এবং সমাধান

 শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে তাতে ওজু ভঙ্গ হবে কি না-সে বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে, তা ওজু ভঙ্গের কারণ নয়।

নিম্নে এ বিষয়ে বিংশ শতকের অন্যতম দুই শ্রেষ্ঠ ফকিহ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. এবং আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন রাহ. এর ফতোয়া তুলে ধরা হল:

❑ শাইখ উসাইমিন রাহ এর ফতোয়া:

প্রশ্ন: আহত স্থান থেকে রক্ত বের হলে কি ওজু নষ্ট হবে? না কি যে স্থান থেকে রক্ত বের হয়েছে তা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট?
উত্তর:
“সঠিক কথা হল, পেশাব-পায়খানার স্থান ছাড়া শরীরের অন্য কোনও স্থান থেকে রক্ত বের হলে ওজু ভঙ্গ হবে না-চাই নাক থেকে বের হোক (এপিসট্যাক্সিস) বা আহত স্থান থেকে বের হোক বা রক্ত পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃত বের করা হোক। বেশি হোক বা কম হোক। এসব কারণে ওজু ভঙ্গ হবে না-এটাই অগ্রাধিকার যোগ্য মত। কারণ এতে ওজু ভঙ্গ হওয়ার কোন দলিল নেই। আর ওজু ভঙ্গ হওয়া শরিয়তের একটি বিধান- যার পক্ষে দলিল থাকা প্রয়োজন। ওজু সাব্যস্ত হয়েছে শরিয়তের দলিলের মাধ্যমে। আর যা শরিয়তের দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে তা শরিয়তের দলিল ছাড়া বাতিল হবে না। কিন্তু পেশাব-পায়খানার রাস্তা ছাড়া শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে রক্ত বের হলে ওজু ভঙ্গ হওয়ার পক্ষে কোনও দলিল নাই। চাই তা রক্ত হোক বা পুঁজ হোক বা বমি হোক।

যেহেতু তা পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হয় নি তাই তাতে ওজু নষ্ট হবে না-চাই কম হোক বা বেশি হোক। তবে শরীরের কোনও অঙ্গ থেকে বেশি পরিমাণে রক্ত বের হলে তাহলে তা ধুয়ে ফেলবে। যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ফাতিমা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুখমণ্ডল থেকে রক্ত ধুয়ে দিতেন যখন উহুদ যুদ্ধে তিনি আহত হয়েছিলেন।”
[উৎস: নূরুন আলাদ দারব (সৌদি আরবে বিখ্যাত ইসলামি প্রশ্নোত্তর বিষয়ক রেডিও প্রোগ্রাম]

❑ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন,

“যদি রক্ত স্বল্প পরিমাণে হয়-যেমন: সামান্য আহত হওয়া-তাহলে তাতে ওযু ভঙ্গ হবে না। তার ওযু সহিহ। কিন্তু রক্ত বেশি পরিমাণে হলে এ ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন, এতে অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারো কারো মতে শরীর আহত হলে বা তাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ওজু বাতিল হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এতে ওযু বাতিল হবে না। অর্থাৎ এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো স্পষ্ট নয় এবং যেগুলো স্পষ্ট সেগুলো সহিহ নয়।

তাই মুমিনের জন্য নিরাপদ হল, যদি প্রচুর পরিমাণে রক্ত নির্গত হয় তাহলে সালাত কাজা করে নিবে (অর্থাৎ ঐ অবস্থায় সালাত পড়ে থাকলে ওজু করে পুনরায় সালাত কাজা করে নিবে) মতানৈক্য থেকে দূরে থাকার স্বার্থে এবং দীনের ব্যাপারে সতর্কতা হিসেবে। তবে রক্ত হালকা ও সামান্য হলে তা ক্ষমার্হ।”

◯ শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট না হওয়ার পক্ষে হাদিসের দলিল:

ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক, মদিনার সাত ফকিহ প্রমুখ ফকিহগণ রক্ত নির্গত হওয়ার কারণে ওজু ভঙ্গ না হওয়ার পক্ষে নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন:

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, জাবের বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যাতুর রিকা যুদ্ধের পরে গাতফান থেকে মদিনা ফেরত আসার পথে রাতের বেলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম সৈন্যদের প্রহরায় আম্মার বিন ইয়াসের রা. এবং আব্বাদ বিন বিশর রা. কে নিযুক্ত করে সকলে ঘুমিয়ে পড়লেন। আব্বাদ রা. প্রহরায় নিয়োজিত থাকার সময়টা আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর উদ্দেশ্যে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইত্যবসরে, এক মুশরিক তাকে উদ্দেশ্য করে পরপর তিনটি তীর নিক্ষেপ করলো। কিন্তু তিনি প্রতিবার শরীর থেকে তীর বের করে সালাত অব্যাহত রাখলেন। তারপর সালাত সমাপ্ত করার পর তার সঙ্গী আম্মার বিন ইয়াসের রা. আব্বাদ রা. এর শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখে বললেন, প্রথম তীর নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে তুমি কেন আমাকে জাগিয়ে দাও নি? তিনি বললেন, “আমি এমন একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম যা বন্ধ করতে চাই নি।”
[রাগিব সারজানি-সিরাতে নববী ৩৫ তম খণ্ড ৮ম পৃষ্ঠা-অনলাইন ভার্সন]

ঘটনাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জেনেছেন। কিন্তু রক্ত প্রবাহিত হওয়া স্বত্বেও সালাত অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আপত্তি করেন নি। এতে ওজু নষ্ট হলে তিনি অবশ্যই তাকে বলতেন যে, শরীর থেকে রক্ত বের হওয়ার কারণে তোমার ওজু ভঙ্গ হয়ে গিয়েছিলো। তাই এভাবে তোমার সালাত শুদ্ধ হয় নি। কিন্তু তিনি তা বলেন নি।

কিন্তু হানাফি মাজহাব সহ অন্যান্য আলেম যারা বলেছেন, শরীর থেকে রক্ত নির্গত হলে ওজু নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের কথার পক্ষ কোনও হাদিসের দলিল নাই কিয়াস বা যুক্তি ছাড়া। তাদের মতে, শরীর থেকে পেশাব-পায়খানা বের হলে যদি ওজু নষ্ট হয় তাহলে রক্ত বের হলেও ওজু নষ্ট হবে। কারণ প্রবাহিত রক্তও নাপাক। কিন্তু হাদিসের বিপরীতে কিয়াস বা যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

সুতরাং অধিক বিশুদ্ধ মতে, পেশাব-পায়খানার রাস্তা ছাড়া শরীরের অন্য কোনও স্থান থেকে রক্ত নির্গত হলে তাতে ওজু নষ্ট হবে না। বরং তা ধৌত করা বা কাপ, টিস্যু ইত্যাদি দ্বারা ভালোভাবে তা পরিষ্কার করে নেওয়াই যথেষ্ট। তবে সতর্কতা এবং মতবিরোধ থেকে বাঁচার স্বার্থে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্ত নির্গত হলে কেউ যদি পুনরায় ওজু করে নেয় তাহলে তা উত্তম-যেমনটি বলেছেন, শাইখ বিন বায রাহ.।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য এবং তার সাথে অন্যায়-আচরণের ভয়াবহতা

 প্রশ্ন: কেউ প্রতিবেশীকে কষ্ট দিলে, তার সাথে প্রতারণা করলে, তার টাকা-পয়সা নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে বা তার সাথে হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে তার পরিণতি কী হবে?

উত্তর:
ইসলাম এমন একটি মহান জীবনাদর্শের নাম যা মানুষকে সব সময় কল্যাণের পথ দেখায়, কল্যাণের পথে চলতে উৎসাহিত করে এবং প্রতিটি মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। তাই নিম্নে ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের কী দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে এবং তার অধিকারগুলো কী সে সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল:

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবেশীর প্রতি বেশি কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য ও হক রয়েছে-যেগুলো বাস্তবায়ন করতে প্রতিটি মুসলিম নির্দেশিত।

◈ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
“আর ইবাদত কর আল্লাহর এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করো না। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিত জনকে।” [সূরা নিসা: ৩৬]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
‏ مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَيُوَرِّثَنَّهُ ‏
“জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এমনভাবে জোর দিয়ে নির্দেশ দেন যে, আমি ধারণা করছিলাম যে, তাকে সম্পদের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিবেন।”
[সহীহ মুসলিম,৪৭/ সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, পরিচ্ছেদ: ৪২. প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে জোরদারের নির্দেশ এবং তার প্রতি সদ্ব্যবহার প্রসঙ্গ]

◈ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا، أَوْ لِيَصْمُتْ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يُؤْذِ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ ‏‏
“যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে নয়তো নীরব থাকে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।” [সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ৬৮/ কোমল হওয়া, পরিচ্ছেদ: ২৭০৫. জবান সাবধান রাখা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। আল্লাহর বাণী: যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার নিকটে একজন সদা তৎপর প্রহরী রয়েছে।]

◈ তিনি আরও বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُّحِبَّ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَوْ يُحِبَّهُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ فَلْيُصْدِقْ حَدِيْثَهُ إِذَا حَدَّثَ وَلِيُؤَدِّ أَمَانَتَهُ إِذَا اُؤْتُمِنَ وَلِيُحْسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَهُ-
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা পেতে চায সে যেন সদা সত্য কথা বলে, আমানত রক্ষা করে এবং প্রতিবেশীর উপকার করে।” [মিশকাত হা/৪৯৯০, সনদ হাসান]
কুরআন-হাদিসে প্রতিবেশী সম্পর্কে এমন আরও বহু নির্দেশনা এসেছে।

❑ নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু পয়েন্ট অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল:

১. প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া
২. প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা
৩. প্রতিবেশীকে নির্যাতন করে গৃহত্যাগে বাধ্য না করা
৪. প্রতিবেশীকে হাদিয়া (উপহার) দেওয়া
৫. প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজে ভুরি ভোজ না করা
৬. প্রতিবেশীর দাওয়াত কবুল করা
৭. প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখা
৮. প্রতিবেশীর জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু হেফাজত করা
৯. প্রতিবেশীর দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা
১০. প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ করা ও তাকে কর্যে হাসানা প্রদান করা
১১. প্রতিবেশীর দুঃখ-শোকে সান্ত্বনা দেওয়া
১২. প্রতিবেশীর জানাজায় অংশগ্রহণ
১৩. প্রতিবেশীর মৃত্যু হলে তার পরিবারের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা
১৪. প্রতিবেশীদের মাঝে ন্যায়বিচার করা ইত্যাদি। [পয়েন্টগুলো at-tahreek থেকে সংগৃহীত]

❑ প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘন এবং তার প্রতি অন্যায় আচরণের ভয়াবহতা:

কেউ যদি প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, তার সাথে প্রতারণা করে, তার জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি করে, তার বিরুদ্ধে শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র করে অথবা হিংসা, অন্যায় গালাগালি বা বিভিন্নভাবে অন্যায়-অবিচার করে তাহলে নি:সন্দেহে সে প্রতিবেশীর অধিকার লঙ্ঘন করলো। এ কারণে সে আল্লাহর কাছে অপরাধী ও গুনাহগার বলে গণ্য হবে। সুতরাং সে যে ধরণের অন্যায় করবে আল্লাহ তাআলা সে অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিবেন-দুনিয়াতেও হতে পারে- আখিরাতেও হতে পারে।

যেমন: যদি কোনও প্রতিবেশী বা তার পার্শ্বস্থ ব্যক্তিকে গালাগালি করে বা তাকে প্রহার করে বা তার অর্থ-সম্পদ চুরি করে বা প্রতারণার মাধ্যমে তার মান-সম্মান হানী বা অর্থ সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি করে তাহলে আল্লাহ তাআলা আখিরাতের মহাবিচার দিবসে তার নেকিগুলো এই নিপীড়িত ব্যক্তিকে দান করবেন এবং তার গুনাহগুলো ওই অত্যাচারী প্রতিবেশীর উপর চাপিয়ে দিবেন। যেমন:
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,
أَتَدْرُونَ ما المُفْلِسُ؟ قالوا: المُفْلِسُ فِينا مَن لا دِرْهَمَ له ولا مَتاعَ، فقالَ: إنَّ المُفْلِسَ مِن أُمَّتي يَأْتي يَومَ القِيامَةِ بصَلاةٍ، وصِيامٍ، وزَكاةٍ، ويَأْتي قدْ شَتَمَ هذا، وقَذَفَ هذا، وأَكَلَ مالَ هذا، وسَفَكَ دَمَ هذا، وضَرَبَ هذا، فيُعْطَى هذا مِن حَسَناتِهِ، وهذا مِن حَسَناتِهِ، فإنْ فَنِيَتْ حَسَناتُهُ قَبْلَ أنْ يُقْضَى ما عليه أُخِذَ مِن خَطاياهُمْ فَطُرِحَتْ عليه، ثُمَّ طُرِحَ في النَّارِ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমরা কি জান নি:স্ব কে?”
সাহাবায়ে কেরাম বললেন: “আমাদের মধ্যে নি:স্ব তো সে যার কোন দিনার-দিরহাম বা অর্থ-সম্পদ নেই।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“আমার উম্মতের মধ্যে সত্যিকার নি:স্ব হল সেই ব্যক্তি যে, কেয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাতসহ অনেক ভাল কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে অথচ দুনিয়াতে সে কাউকে গালি দিয়েছিল, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছিল, করো সম্পদ আত্মসাত করেছিল, কারো রক্তপাত ঘটিয়েছিল, কাউকে মারধোর করেছিল। ফলে তার থেকে নেক আমলগুলো নিয়ে তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা আদায় করা হবে।
এভাবে যখন তার নেক আমলগুলো শেষ হয়ে যাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়ার জন্য আর কিছু থাকবে না তখন তাদের পাপগুলো তাকে দেয়া হবে। ফলে সে (নিঃস্ব অবস্থায়) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।” [সহিহ মুসলিম]

এভাবে হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি যত প্রকার অন্যায় আছে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি অন্যায়ের সূক্ষ্ম বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ। নিশ্চয় আল্লাহ সবচেয়ে বড় ন্যায়পরায়ণ বিচারক।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রতিবেশী সহ প্রতিটি মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

প্রচলিত কুরআন খতম নিয়ে দেওবন্দের ফতোয়ায় যা রয়েছে

 আমাদের সমাজে কুরআন খতমের একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে। যেমন, নতুন ঘর ক্রয় করা হলে কুরআন খতম করা হয়। দোকান উদ্বোধন করা হলে খতম করা হয়। কারো চল্লিশা হলে কুরআন খতম করা হয়, কারো মৃত্যুর তৃতীয় দিনে কুরআন খতম করা হয়; যাতে মৃত ব্যক্তির কাছে ছওয়াব পৌঁছে।

কোনো সময় এর ঘোষণা পত্রিকায় দেওয়া হয় এবং মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে শুধুমাত্র কুরআন খতমের জন্য আসে। এমন কুরআন খতমের আমলের হুকুম কী? কুরআন হাদিসের আলোকে এর কোনো প্রমাণ আছে কি?

এ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে কাশ্মীরের একজন বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। যার প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে শরীয়তের আলোকে নিজেদের মতামত জানান দেওবন্দের মুফতিরা।

নিম্নে প্রশ্নোত্তরটি হুবহু দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইট থেকে অনুবাদ করা হলো-

প্রশ্ন: কাশ্মীরে লোকজন অধিকাংশ সময় হুজুরদেরকে খতম পড়ার জন্য দাওয়াত করে আনে, খতম করার পর তাদেরকে খাওয়ায় এবং টাকা পয়সাও দেয়। এমন করা কি জায়েজ?

উত্তর: প্রচলিত খতমে কুরআন পাঠকারীদের খাবার খাওয়ানো এবং টাকা পয়সা দেওয়া বিদআত ও নাজায়েজ। এভাবে কুরআন তেলাওয়াত করার দ্বারা না পাঠকারী কোনো সওয়াব পায় আর না মৃতব্যক্তিরা।

ফাতাওয়া শামীতে রয়েছে- অর্থ: তাজুশ শরিয়াহ হেদায়াতে লিখেন, বিনিময় নিয়ে কুরআন পড়ার দ্বারা কোনো সওয়াবই হয় না। না মৃতব্যক্তি সওয়াব পায়, আর না তেলাওয়াতকারী।

আল্লামা আইনী হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে লেখেন, দুনিয়া তলব করার কারণে তেলাওয়াতকারীকে এমন তেলাওয়াত থেকে বারণ করা হবে। এভাবে তেলাওয়াত করার বিনিময় দেওয়া হলে গ্রহীতা ও দাতা উভয়ে গুনাহগার হবে।

মোটকথা, আমাদের সময়ে বিনিময় গ্রহণ করে কুরআন তেলাওয়াত করার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তা জায়েজ নয়। কারণ, এর মধ্যে খতমের আয়োজনকারী বা তার আত্মীয়ের জন্য সওয়াব পাঠানো উদ্দেশ্য হয় এবং তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত করে টাকার জন্য।

টাকার জন্য তেলাওয়াত করায় তেলাওয়াতকারী নিজে কোনো সওয়াব না পেলে ভাড়া গ্রহণকারীকে সওয়াব দিবে কোত্থেকে?

বর্তমান সময়ে কুরআন তেলাওয়াত করার বিনিময় না দিলে সাধারণত কেউ তেলাওয়াত করবে না। কুরআনকে তারা উপার্জন এবং দুনিয়া কামানোর মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। ইন্নালিল্লাহ। (ফাতাওয়া শামী ৬/৫৬)
[দারুল উলুম দেওবন্দ, ফতোয়া নং: ১৮৩৬০১]
[উৎস: jugantor]

▬▬▬✪✪✪▬▬▬

প্রেম বিষয়ক মিথ্যা হাদিস

 প্রশ্ন: নিচের হাদিসটি কি সঠিক? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কেউ কারও প্রতি আসক্ত হল, আর ভালোবাসা রইল অপ্রকাশিত। এভাবে নিজের চরিত্র নির্মল রেখে, সবর করে মৃত্যুবরণ করল। আল্লাহ তায়ালা তাকে দান করবেন শাহাদাতের মর্যাদা।” [কানযুল আমাল-১৮০/৪]

উত্তর:
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসটি বানোয়াট এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে মিথ্যাচার। নিম্নে হাদিসটি উল্লেখ পূর্বক মুহাদ্দিসদের অভিমত অনুযায়ী হাদিসের মান উপস্থাপন করা হল।

হাদিসটি হল,
مَن عشق فعفّ فكتَم فمات فهو شَهيد
“যে প্রেমাসাক্ত হল, পবিত্র থাকল, গোপন রাখল এবং মৃত্যু বরণ করল সে শহিদ।” [কানযুল উম্মাল, ১৮০/৪]

এ হাদিসটি বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

◍ ইবনুল জাউযি বলেন, لا يصح “এটি সহিহ নয়।” [আল ইলালুল মুতানাহিয়া ২/৭৭১]
◍ ইবনুল কাইয়েম রাহ. বলেন, এটি موضوع “বা বানোয়াট।” [যাদুল মায়াদ ৪/২৫৩ ও আল মানারুল মুনিফ,/ ১০৭]
◍ শাইখ আলবানি বলেন, باطل “এটি বাতিল (বানোয়াট)।” [সিলসিলা, ৭/১৭৪০]
বি. দ্র. কানযুল উম্মাল নামক এই হদিসের বইটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জাল-যইফ হাদিস রয়েছে। সুতরাং এ কিতাব থেকে হাদিস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহর বাণীকে উচ্চকিত করার জন্য কাফির/মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যু বরণ করে সে শহিদ। ইসলামের শহিদের মর্যাদা অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা শহিদদেরকে জান্নাতবাসী করবেন। কিন্তু প্রেমাসক্ত ব্যক্তি তার প্রেমের কথা গোপন রেখে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে তাকে শহিদি মর্যাদা দেওয়া মূলত: শহিদের সাথে উপহাসের শামিল। তাছাড়া একটি বানোয়াট কথাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করার পরিণতি ভয়াবহ। কারণ হাদিসের আলোকে এটা এমন অপরাধ যার পরিণতি জাহান্নাম।

রাসূল সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ”
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করল (মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করল), সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা করে নিলো।” [সহিহ বাখারি, অনুচ্ছেদ: আম্বিয়াদের হাদিস, হা/ ৩২৭৪]

যে সব ব্যক্তিরা পরনারীর প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে ব্যর্থ হয়েছে তারাই এ জাতীয় মনগড়া ও ভিত্তিহীন হাদিস দ্বারা তাদের অশান্ত মনকে প্রবোধ দেয়। কিন্তু ইসলামে বিয়ের পূর্বে কথিত প্রেম-ভালবাসা সম্পূর্ণ হারাম। আর হারামকে হালাল করার একমাত্র উপায় হল, ইসলামের বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা।

আল্লাহ আমাদেরকে হালালের মাধ্যমে হারাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম

▬▬▬✪✪✪▬▬▬
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

Wednesday, January 26, 2022

⚫আল কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ একশ নির্দেশনাঃ

 ⚫আল কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ একশ নির্দেশনাঃ


০১. কথাবার্তায় কর্কশ হবেন না। (০৩ঃ১৫৯)

০২. রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন (০৩ঃ১৩৪)।

০৩. অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। (০৪ঃ ৩৬)

০৪. অহংকার করবেন না। (০৭ঃ ১৩)

০৫. অন্যকে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করুন (০৭ঃ ১৯৯)

০৬. লোকদের সাথে ধীরস্থির হয়ে শান্তভাবে কথা বলুন। (২০ঃ ৪৪)

০৭. উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। (৩১ঃ ১৯)

০৮. অন্যকে উপহাস করবেন না (৪৯ঃ ১১)

০৯. পিতামাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন। (১৭ঃ ২৩)

১০. পিতামাতার প্রতি অসম্মানজনক শব্দ উচ্চারণ করবেন না। (১৭ঃ ২৩)

১১. অনুমতি না নিয়ে পিতামাতার শোবার ঘরে প্রবেশ করবেন না। (২৪ঃ ৫৮)

১২. ঋণ গ্রহণ করলে তা লিখে রাখুন। (০২ঃ ২৮২)

১৩. কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। (০২ঃ ১৭০)

১৪. ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিন। (২ঃ ২৮০)

১৫. কখনো সুদের সাথে জড়িত হবেন না। (০২ঃ ২৭৫)

১৬. কখনো ঘুষের সাথে জড়িতে হবেন না। (০২ঃ১৮৮)

১৭. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। (০২.১৭৭)

১৮. আস্থা রাখুন (০২ঃ ২৮৩)

১৯. সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করবেন না। (২:৪২)

২০. ইনসাফের সাথে বিচার করবেন। (০৪ঃ ৫৮)

২১. ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান। (০৪: ১৩৫)

২২. মৃতদের সম্পদ তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করুন। (০৪ঃ ০৭)

২৩. মহিলাদের উত্তরাধিকারের অধিকার আদায় করুন। (০৪ঃ ০৭)

২৪. এতিমদের সম্পত্তি গ্রাস করবেন না। (০৪.১০)

২৫. এতিমদের রক্ষা করুন। (০২.২২০)

২৬. অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করবেন না। (০৪ঃ ২৯)

২৭. মানুষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করুন। (৪৯ঃ ০৯)

২৮. সন্দেহ এড়িয়ে চলুন। (৪৯ঃ ১২)

২৯. গুপ্তচরবৃত্তি করবেন না, কুৎসা রটাবেন না। (৪৯ঃ ১২)

৩০. আল্লাহর বিধানুসারে বিচার করুন। (০৫ঃ ৪৫)

৩১. সাদাকাতে সম্পদ ব্যয় করুন। (৫৭ঃ০৭)

৩২.দরিদ্রকে খাবার খাওয়ান। (১০৭ঃ ০৩)

৩৩. অভাবীকে অভাব পূরুনের উপায় বাতলে দিন। (০২ঃ ২৭৩)

৩৪. অপব্যয় করবেন না। (১৭ঃ ২৯)

৩৫. খোঁটা দিয়ে দানকে নষ্ট করে দিবেন না। (০২ঃ ২৬৪)

৩৬. অতিথিকে সম্মান করুন। (৫১ঃ ২৬)

৩৭. কেবলমাত্র নিজে আমল করে তারপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যকে আমল করার আদেশ দিবেন। (০২ঃ৪৪)

৩৮. কাউকে গালাগালি করবেন না। (০২ঃ ৬০)

৩৯. লোকজনকে মসজিদে যেতে বাধা দিবেন না। (০২ঃ ১৪৪)

৪০. কেবল তাদের সাথেই লড়াই করুন, যারা আপনার সাথে লড়াই করে (০২ঃ ১৯০)

৪১. যুদ্ধের শিষ্টাচার মেনে চলুন। (০২ঃ ১৯১)

৪২. যুদ্ধেংদেহী হবেন না। (০৮ঃ১৫)

৪৩. দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। (০২ঃ ২৫৬)

৪৪. সকল নবির উপর ঈমান আনুন। (২: ২৮৫)

৪৫. স্ত্রীর মাসিকের সময় যৌন মিলন করবেন না। (০২ঃ ২২২)

৪৬. আপনার শিশুকে পূর্ণ দুবছর বুকের দুধ খাওয়ান। (০২ঃ ২৩৩)

৪৭. অননুমোদিত উপায়ে যৌন মিলন করবেন না। (১৭ঃ ৩২)

৪৮. যোগ্যতা অনুসারে নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করুন। (০২ঃ ২৪৭)

৪৯. কোনো ব্যক্তিকে সামর্থ্যের বাহিরে বেশি বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। (০২ঃ ২৮৬)

৫০. বিভক্তি উসকে দিবেন না। (০৩ঃ ১০৩)

৫১. মহাবিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করুন (৩: ১৯১)

৫২. আমল অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলাদের সমান পুরষ্কার পাবেন; তাই আমল করুন। (৩: ১৯৫)

৫৩. 'মাহরাম' আত্মীয়কে বিবাহ করবেন না। (০৪ঃ ২৩)

৫৪. পুরুষ হিসেবে মহিলাদের সুরক্ষা দিন। (০৪ঃ ৩৪)

৫৫. কৃপণ হবেন না । (০৪ঃ ৩৭)

৫৬. অন্তরে পরশ্রীকাতরতা পুষে রাখবেন না। (০৪ঃ ৫৪)

৫৭. একে অপরকে হত্যা করবেন না। (০৪ঃ ৯২)

৫৮. প্রতারণার পক্ষে ওকালতি করবেন না। (০৪ঃ ১০৫)

৫৯. পাপ কাজে এবং আগ্রাসনে সহযোগিতা করবেন না। (০৫ঃ০২)

৬০. সৎ কাজে সহযোগিতা করুন। (০৫ঃ ০২)

৬১. সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনোকিছু সত্য বলে গ্রহণ করবেন না। ( ০৬ঃ ১১৬)

৬২. ন্যায়বিচার করুন। (০৫ঃ ০৮)

৬৩. অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। (০৫ঃ ৩৮)

৬৪. পাপ ও বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করুন (০৫ঃ ৬৩)

৬৫. মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস ভক্ষণ থেকে দূরে থাকুন। (০৫ঃ ০৩)

৬৬. মাদক এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন (৫:৯০)

৬৭. জুয়া খেলবেন না। (০৫ঃ ৯০)

৬৮. অন্য ধর্মের দেবদেবীদের অবমাননা করবেন না। (০৬ঃ ১০৮)

৬৯. ক্রেতাকে ঠকানোর উদ্দ্যেশ্যে মাপে কম দিবেন না। (০৬ঃ ১৫২)

৭০. খান এবং পান করুন; তবে অপচয় করবেন না। (০৭ঃ ৩১)

৭১. নামাজের সময় ভালো পোশাক পরিধান করুন। (০৭ঃ ৩১)

৭২. আশ্রয়প্রার্থীকে সুরক্ষা দিন, সহযোগিতা করুন। (০৯ঃ ০৬)

৭৩. বিশুদ্ধতাকে আঁকড়ে ধরুন। (০৯ঃ ১০৮)

৭৪. আল্লাহর রহমতের আশা কখনই পরিত্যাগ করবেন না। (১২ঃ ৮৭)

৭৫. অজ্ঞতাবশত ভুল করলে আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করুন। ( ১৬ঃ ১১৯)

৭৬. মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করুন হিকমা ও উত্তমভাবে। (১৬ঃ ১২৫)

৭৭. অন্যের পাপের বোঝা কাউকে বইতে হবে না, বিশ্বাস করুন। (১৭ঃ ১৫)

৭৮. দারিদ্র্যের ভয়ে আপনার বাচ্চাদের হত্যা করবেন না। (১৭ঃ ৩১)

৭৯. যে বিষয়ে জ্ঞান আপনার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে কারও পিছু লাগবেন না। (১৭ঃ ৩৬)

৮০. নিরর্থক কাজ থেকে দূরে থাকুন। (২৩ঃ ০৩)

৮১. অনুমতি না নিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করবেন না। (২৪ঃ ২৭)

৮২. যারা আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন, এই বিশ্বাস রাখুন। (২৪:৫৫)

৮৩. জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করুন। (২৫ঃ ৬৩)

৮৪. পৃথিবীতে আপনার অংশকে অবহেলা করবেন না। (২৮ঃ ৭৭)

৮৫. আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকবেন না। (২৮ঃ ৮৮)

৮৬. সমকামিতার ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হবেন না। (২৯ঃ ২৯)

৮৭. সৎ কাজের আদেশ দিন, অসৎ কাজে বাধা দিন। (৩১ঃ ১৭)

৮৮. জমিনের উপর দম্ভভরে ঘুরে বেড়াবেন না। (৩১ঃ ১৮)

৮৯. মহিলারা তাদের জাকজমকপূর্ণ পোষাক প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (৩৩ঃ ৩৩)

৯০. আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন, বিশ্বাস রাখুন। (৩৯ঃ ৫৩)

৯১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। (৩৯ঃ ৫৩)

৯২. ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করুন। (৪১ঃ ৩৪)

৯৩. পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। (৪২ঃ ১৩)

৯৪. সর্বোত্তম মানুষ হওয়ার লড়াই করুন। (৪৯ঃ ১৩)

৯৫. বৈরাগ্যবাদী হবেন না। ( ৫৭ঃ ২৭)

৯৬. জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাপৃত হোন। ( ৫৮ঃ ১১)

৯৭. অমুসলিমদের সাথে সদয় এবং নিরপেক্ষ আচরণ করুন। (৬০ঃ ০৮)

৯৮. লোভ থেকে নিজেকে বাঁচান। (৬৪ঃ ১৬)

৯৯. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (৭৩ঃ ২০)

১০০. ভিক্ষুককে ফিরিয়ে দিবেন না। (৯৩ঃ ১০)


বিঃদ্রঃ ৬৪ সূরা নাম্বারঃ ১৬ আয়াত নম্বর। 

আল্লাহ আমাদের নির্দেশনা গুলি আমল করার তাওফিক দান করুন।

fb.com/abdulhimd.saifullah

Translate