Tuesday, December 21, 2021

আধুনিক সমাজে হিজাবের নামে চেলছে অশ্লিলতা।

 হিজাব ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদের অহংকার এবং আভিজাত্যের প্রতীক। তাঁদের আব্রু আর সম্ভ্রমের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। নিজে হিজাব না পরলেও যখন কোন সম্ভ্রান্ত মহিলাকে হিজাব পরতে দেখি, তাঁদের আদব-লিহাজ,কায়দা-কানুনে শ্রদ্ধায় আপনিতেই মাথা নুয়ে আসে।

আধুনিক সমাজে হিজাবের নামে চেলছে অশ্লিলতা।

তাঁরা বংশ পরম্পরায় তাঁদের ঐতিহ্যকে লালন এবং বহন করে আসছে। হিজাব মানেই সম্মান এবং শ্রদ্ধা। সত্যিকারের হিজাব (দেহ এবং মনের), নারীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমি আজ কিছু সৌখিন হিজাবীদের কথা বলবো। এক পার্টিতে গেছি অনেকেই দেখি হিজাব পরে এসেছে সাথে টিকলি।

সাঁজ সজ্জা ফ্যাশানেবল কাপড় পরা সব ঠিক ঠাক আছে বরং সাধারনের থেকে খানিকটা মাত্রাতিরিক্ত।এদের দেখতে ভীষণ ভালোও লাগে, কেমন যেন ধাঁধাঁ, চোখ ফেরানো যায় না। একটু বেশীই বোধ হয় আকর্ষণও করে। চোখ, ঠোঁট, গণ্ডদেশ, কপোল কোথাও তিল পরিমান অযত্ন নেই, অবহেলা নেই, সাঁজ সজ্জায় কোন কার্পণ্যও নেই।
শাড়ী কিংবা পোশাকেও আটসাঁট ভাব অক্ষুণ্ণ আছে। তবে চুল বেচারা কি দোষ করলো! আমার ঠিক মাথায় ঢুকে না। ওদের অকাট্য যুক্তি চুল দেখানো পাপ। চুলে কোন স্নায়ুতন্ত্র নেই তাই সংবেদনশীলতাও নেই । কিন্তু শরীরের আর সব অঙ্গ পতঙ্গতো সংবেদনশীল।

বিশেষ করে চোখ, ঠোঁট, গণ্ডদেশ ! তবুও সব পাপ তাপ শুধু চুলে এসেই বর্তায় ! অনেক সময় রাস্তায়, মার্কেটে, শপিংমলেও দেখি বৃদ্ধা মা হিজাব পরে আছে, সাথের তরুণী কন্যা জিন্স প্যান্ট ফতুয়া পরে আছে। কেমন যেন বৈসাদৃশ্য, মিলানো যায় না সহজে।
অল্প কিছুদিন আগে অফিসারস ক্লাবের এক বিয়েতে আমার এক পুরনো বান্ধবীর সাথে দেখা।

প্রথম দেখায় আমি ঠিক চিনতে পারিনি, কারণ আর কিছু নয়, হিজাব। আমি বেশ খানিকটা অবাক হয়ে বলেই ফেললাম তুমি আবার হিজাব, কিভাবে সম্ভব ! ও’ যা বলল, দারুণ ইন্টারেস্টিং। ভীষণ স্মার্ট আর চটপটে আমার বান্ধবী কোন ভনিতা না করে হাসতে হাসতে উত্তর দিলো, ”সব ফ্যাশানইতো করলাম, এখন চুলে রূপালী আভা, গলায় বয়সের ভাঁজ ঢাকতে পারছি না তাই হিজাবটাকেই বেছে নিলাম”।

এখন থেকে এটা কাজ করবে। একের ভিতর তিন। ফ্যাশানও হবে, চুল কালার করতে হবে না আবার মানুষ ধার্মিকও মনে করবে। চুল কালার করতে যে পরিমাণ টাকা এবং সময় ব্যয় হয় হিজাব তার থেকে ঢের বেশী সাশ্রয়ী। সত্যিই ওর বুদ্ধি আছে, আমি ওর প্রশংসায় মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না।

***সংগৃহীত মরাল ব্লগ থেকে***

কি কি করলে ওযু নষ্ট হয় না?

 ১। নারীদেহ্‌ স্পর্শ করলে ওযু ভাঙ্গে না। কারণ, মহানবী (সাঃ) রাত্রে নামায পড়তেন, আর মা আয়েশা (রাঃ) তাঁর সম্মুখে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। যখন তিনি সিজদায় যেতেন, তখন তাঁর পায়ে স্পর্শ করে পা সরিয়ে নিতে বলতেন। এতে তিনি নিজের পা দু’টিকে গুটিয়ে নিতেন। (বুখারী ৫১৩, মুসলিম, সহীহ ৫১২নং)

তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)কে চুম্বন দিতেন। তারপর ওযু না করে নামায পড়তে বেরিয়ে যেতেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১৭৮-১৭৯ নং, আহমাদ, মুসনাদ ৬/২১০, দি: ৮৬, নাসাঈ, সুনান ১৭০, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৫০২নং, দারাক্বুত্বনী, সুনান ১/১৩৮, বায়হাকী ১/১২৫)

অবশ্য স্পর্শ বা চুম্বনে মযী বের হলে তা ধুয়ে ওযু জরুরী। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন১/২৮৫-২৮৬)

২। হো-হো করে হাসলে; এ প্রসঙ্গের হাদীসটি দলীলের যোগ্য নয়। তাই হাসলে ওযু ভাঙ্গে না। (ফিকহুস সুন্নাহ্‌ উর্দু ১/৫০-৫১, বুখারী, ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ১/৩৩৬)

৩। বমি করলে; একদা নবী (সাঃ) বমি করলে রোযা ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর তিনি ওযু করলেন। (আহমাদ, মুসনাদ ৬/৪৪৯, তিরমিযী, সুনান) এই হাদীসে তাঁর কর্মের পরস্পর অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। বমি করলেন বলে ওযু ভেঙ্গে গিয়েছিল, তাই তিনি ওযু করেছিলেন -তা প্রমাণ হয় না। (ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ১/১৪৮, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ১/২২৪-২২৫)

৪। গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলালে; গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলানো কাবীরা গুনাহ। কিয়ামতে আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে তাকিয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি তার পরনের কাপড় পায়ের গাঁটের নিচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে। (বুখারী ৫৭৮৪, মুসলিম, সহীহ ২০৮৫নং) কিন্তু এর ফলে ওযু ভাঙ্গে না। এক ব্যক্তি ঐরুপ কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়লে মহানবী (সাঃ) তাকে পুনরায় ওযু করে নামায পড়তে হুকুম দিয়েছিলেন বলে যে হাদীস আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে, তা যয়ীফ এবং দলীলের যোগ্য নয়। (যয়ীফ আবূদাঊদ, সুনান ১২৪, ৮৮৪নং)

৫। নাক থেকে রক্ত পড়লে; এতে ওযু নষ্ট হয় বলে হাদীস ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে, তা যয়ীফ। (যয়ীফ ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ২৫২, যয়ীফ জামে ৫৪২৬নং)

৬। দেহের কোন অঙ্গ কেটে রক্ত পড়লে, দাঁত থেকে রক্ত ঝরলে, তীরবিদ্ধ হয়ে রক্ত পড়লে; যা-তুর রিকা’ যুদ্ধে নবী (সাঃ) উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হলেও সে রুকু সিজদা করে নামায সম্পন্ন করেছিল। হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন, মুসলিমরা এ যাবৎ তাদের রক্তাক্ত ক্ষত নিয়েই নামায পড়ে আসছে। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) একটি ফুসকুরি গেলে দিলে তা থেকে রক্ত বের হল। কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবনে আবী আওফা রক্তমাখা থুথু ফেললেন। অতঃপর তিনি তাঁর নামায সম্পন্ন করলেন। ইবনে উমার ওহাসান বলেন, কেউ শৃঙ্গ লাগিয়ে বদ-রক্ত বের করলে কেবল ঐ জায়গাটা ধুয়ে নেবে। এ ছাড়া ওযু-গোসল নেই। (বুখারী ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ১/৩৩৬)

পূর্বোক্ত তীরবিদ্ধ লোকটি ছিল একজন আনসারী। তার সঙ্গী এক মুহাজেরী তার রক্তাক্ত অবস্থা দেখে বলল, ‘সুবহানাল্লাহ্‌! (তিন তিনটে তীর মেরেছে?!) প্রথম তীর মারলে তুমি আমাকে জাগিয়ে দাওনি কেন?’ আনসারী বলল, ‘আমি এমন একটি সূরা পাঠ করছিলাম, যা সম্পূর্ণ না করে ছেড়ে দিতে পছন্দ করিনি!’ (আবূদাঊদ, সুনান ১৯৮নং)

৭। মুর্দা গোসল দিলে; মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি মুর্দা কে গোসল দেবে, সে যেন নিজে গোসল করে নেয়। আর যে ব্যক্তি জানাযা বহন করবে, সে যেন ওযু করে নেয়।” (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ২/২৮০ প্রভৃতি) কিন্তু এই নির্দেশটি মুস্তাহাব। অর্থাৎ না করলেও চলে। তবে করা উত্তম। কারণ, গোসলদাতার দেহে নাপাকী লেগে যাওয়ার সন্দেহ্‌ থাকে তাই। তাই তো অন্য এক বর্ণনায় আছে; তিনি বলেন, “মুর্দাকে গোসল দিলে তোমাদের জন্য গোসল করা জরুরী নয়। কারণ তোমাদের মুর্দা তো আর নাপাক নয়। অতএব তোমাদের হাত ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট।” (হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৩৮৬, বায়হাকী ৩/৩৯৮)

হযরত উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমরা মাইয়্যেতকে গোসল দিতাম। তাতে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ গোসল করে নিত। আবার অনেকে করত না।’ (দারাক্বুত্বনী, সুনান ১৯১নং)

অবশ্য মাইয়্যেতকে গোসল দেওয়ার সময় তার শরমগাহে হাত লেগে থাকলে ওযু অবশ্যই নষ্ট হবে। আর জানাযা বহন করাতে ওযু নষ্ট হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৬/৯৬)

৮। মৃতদেহের পোষ্টমর্টেম করাতেও ওযু ভাঙ্গে না। (ঐ ২৭/৪০)

৯। ওযু করে মায়েরা যদি তাদের শিশুর পেশাব বা পায়খানা সাফ করে, তবে তা হাতে লাগলেও ওযু ভাঙ্গে না। অবশ্য পায়খানাদ্বার বা পেশাবদ্বার ধোয়ার সময় কোন দ্বারে হাত লাগলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। (ঐ ২২/৬২)

১০। কোনও নাপাক বস্তু (মানুষ বা পশুর পেশাব, পায়খানা, রক্ত প্রভৃতি)তে হাত বা পা দিলে ওযু ভাঙ্গে না। (ঐ ৩৫/৯৬)

১১। ওযু করার পর ধূমপান করলে ওযু নষ্ট হয় না। তবে ধূমপান করা অবশ্যই হারাম। (ঐ ১৮/৯২-৯৩)

১২। কোলন, কোহল বা স্পিরিট-মিশ্রিত আতর বা সেন্টব্যবহার করলে ওযুর কোন ক্ষতি হয় না। তবে তা ব্যবহার বৈধ নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২০৩)

১৩। চুল, নখ ইত্যাদি সাফ করলে ওযু ভাঙ্গে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/২৯২, বুখারী ১/৩৩৬) তদনুরুপ অশ্লীল কথা বললে, হাঁটুর উপর কাপড় উঠে এলে, মহিলার মাথা খোলা গেলে, কাউকে বা নিজেকে উলঙ্গ দেখলে ওযু নষ্ট হয় না।

দুধ পান করলে নামাযের পূর্বে কুল্লি করা মুস্তাহাব। (বুখারী ২১১, মুসলিম, সহীহ ৩৫৮নং)

সিয়াম বা রোজার কিছু আহকাম এবং প্রচলিত কিছু ভুলের নমুনা

 আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু।

:
এই পোস্টে রমযানের সিয়ামে বা যে কোনো সুন্নাহসম্মত নফল সিয়ামে কিছু হুকুম-আহকাম এবং প্রচলিত কিছু ভূল তুলে ধরা হলো যাতে করে আমি সহ অন্যান্য মানুষজন সতর্ক হতে পারে।
:
==> ১। সাহরির খাবারের পর যে নিয়ত পড়া হয়:— “নাওয়াতুআন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমযানাল মুবারাকা…………।”

এই নিয়ত পড়া বিদআত এবং বাতিল। উচ্চারণ করে কোনো নিয়ত পড়া নেই। অবশ্যই নিয়ত ছাড়া নামায-রোজা কিছুই কবুল হয় না। তবে জেনে রাখা জরুরী যে, নিয়ত হলো করার জিনিস, পড়ার জিনিস নয়। নিয়ত হবে অন্তরে। মুখে উচ্চারণ করে নয়। আপনি যে সাহরি খাচ্ছেন, এটাই প্রমাণ করে যে আপনি সিয়াম পালন করার নিয়তেই সাহরি খাচ্ছেন। অন্তরে যদি নিয়ত না থাকত তাহলে আপনি সাহরি খেতেন না।
কাজেই, উচ্চারণ করে নিয়ত পড়া ছেড়ে দিন। বিষয়টা সিরিয়াস। এতটুকু কাজই আপনার পুরো আমলকে বর্বাদ করে দিতে পারে। কারণ বিদআত যে কোনো আমলকে বর্বাদ করে দেয়।
:
==> ২। ইফতারের সময় যে দু’আটা পড়া হয় তা সহীহ নয়। যা হলো:— “আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা ওয়াতা ওয়াক্কালতু ‘আলা রিযকিকা ওয়া আফতারতু………।”
অথবা:— “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু………” অথবা “আল্লাহুম্মা ইন্নী লাকা সুমতু………।”

উক্ত বাক্যসমূহ দিয়ে যে ইফতারের দু’আ পড়া হয় তা আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ হাদীসে প্রমানিত নয়। কাজেই, এসব দু’আ পরিহার করা উচিত।
পক্ষান্তরে ইফতারের সময় “বিসমিল্লা-হ” বলে সিয়াম খুলে নিম্নলিখিত দু’আ পড়া সুন্নাহসম্মত, যা হাদীস দ্বারা প্রমানিত। দু’আটি হলো,
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ
উচ্চারণঃ- যাহাবাযযমাউ ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরু-ক্বু ওয়াসাবাতাল আজরু ইন-শা-আল্লাহ।
অর্থঃ- পিপাসা দূরীভূত হলো, ধমনী শিক্ত হলো এবং সওয়াব প্রতিষ্ঠা হলো ইন-শা-আল্লাহ।

[বি.দ্র.ঃ- আরবী দেখে পড়ুন কারণ বাংলা দেখে আরবী সঠিক উচ্চারণ হয় না]
:
==> ৩। অনেকে মনে করে যে, সুবহে সাদিকের সময় অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টা বা দশ-পনেরো মিনিট আগেই সাহরির খাওয়া স্টপ করা জরুরী। এটা মহাভূল। বরং এটাকে শাইখ উসায়মিন (রহিমাহুল্লাহ) বিদআত বলে অভিহিত করেছেন। সঠিক কথা হলো যে, সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সাহরি খাওয়ার টাইম। এবং এই সময়ের মধ্যে যত দেরি করে খাওয়া যায়, সেটাই সুন্নাহ। তবে এমনিতে কেউ আগে খেতে চাইলে সেটা ভিন্নকথা।
:
==> ৪। অনেকে মনে করতে পারে যে, সূর্যাস্তের পর আরও পাঁচ-দশ মিনিট বা এরকম কিছুক্ষণ সময় অপেক্ষা করে ইফতার করা ভালো। মোটেই না। বরং এটা ইহুদীদের সুন্নাহ। রসূলের সুন্নাহ নয়। রসূলের সুন্নাহ হলো সূর্যাস্ত হয়ে গেলেই বিনা বিলম্বে দ্রুত ইফতার করা। কাজেই, যখনই দেখবেন বা জানতে পারবেন যে সূর্য ডুবে গিয়েছে, তখনই সাথে সাথে খেজুর দিয়ে শুরু করবেন, যা হলো সুন্নাহ।
:
==> ৫। অনেকে হয়ত মনে করে যে কোনোভাবে রক্ত বের হলেই সিয়াম ভঙ্গ হয়। কিন্তু তা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হলো যে, জখমের মাধ্যমে বা কেটে গেলে, নাক দিয়ে বা মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হলে তথা অনিচ্ছাকৃতভাবে রক্ত বের হলে সিয়াম নষ্ট হয় না। একইভাবে প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করাতে হলেও সিয়াম ভঙ্গ হয় না (সম্ভব হলে ইফতার পর্যন্ত বিলম্ব করা উত্তম)।
তবে হ্যাঁ, রক্ত দান করলে অথবা শরীরে রক্ত নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। একইভাবে হিজামা করালেও (cupping) সিয়াম ভঙ্গ হয়। এমনকি যে হিজামা করে দেবে তারও সিয়াম ভঙ্গ হয়। একইভাবে শরীরে কিছু প্রবেশ করালেও সিয়াম ভঙ্গ হয়, যেমন শরীরে স্যালাইন প্রবেশ করানো, ইত্যাদি।
:
==> ৬। ভিটামিনযুক্ত ইনজেকশন নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। এছাড়া চিকিৎসার জন্য বা রক্ত পরীক্ষার জন্য ইনজেকশন নিলে সিয়াম নষ্ট হয় না। তবে সম্ভব হলে রাত পর্যন্ত দেরি করা উত্তম এবং এতে সন্দেহমুক্ত থাকা যায়। আর আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকতে।
:
==> ৭। কিডনি ডায়ালিসিস (Kidney dialysis) করালে সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়।
:
==> ৮। অনেকে মনে করতে পারে যে দাঁত উঠালে বা দাঁত থেকে রক্ত বের হলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। কিন্তু তা ভুল। এতে সিয়াম নষ্ট হয় না। তবে খেয়াল রাখতে হবে রক্ত যেন গলার ভেতর না যায় এবং রক্ত থুথুর সাথে ফেলে দিতে হবে।
:
==> ৯। অনেকে মনে করে ভূলবশত কিছু খেয়ে ফেললে সিয়াম ভঙ্গ হয়। এটা ঠিক নয়। বরং ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। তবে অবশ্যই ইচ্ছাপূর্বক খেলে সিয়াম ভঙ্গ হবে। যখনই সিয়ামের কথা স্মরণে আসবে তৎক্ষণাৎ খাওয়া স্টপ করতে হবে। নতুবা ভেঙ্গে যাবে। আর আল্লাহই অন্তর্যামী। তিনিই ভালো জানেন যে কে ইচ্ছা করে খেলো আর কে ভুল বশত খেলো।
:
==> ১০। অনেকে মনে করতে পারে যে, মুখের ভেতরের থুথু গিলে ফেললে সিয়াম ভেঙ্গে যায়। তা ভূল। এতে সিয়াম নষ্ট হয় না।
:
==> ১১। এমনিতে ওযু করার ক্ষেত্রে কুলি করার সময় এবং নাকে পানি দেয়ার সময় অতিরঞ্জন করে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তবে সিয়াম অবস্থায় কুলি করার সময় এবং নাকি পানি দেয়ার সময় অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে পানি গলার ভেতরে প্রবেশ করে ভেতরে চলে যেতে পারে।
:
==> ১২। অনেকে মনে করতে পারে চোখে বা কানে ঔষধের ড্রপ দিলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। এটা ঠিক নয়। বরং কানে বা চোখে ঔষধের ড্রপ দিলে বা চোখে সুরমা দিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। তবে নাক দিয়ে কিছু নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয়।
:
==> ১৩। অনেকে মনে করে যে পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলেই বুঝি সিয়াম ভেঙ্গে যায়। এই ধারণা ভুল। পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে সিয়াম ভাঙ্গে না। তবে শর্ত হলো যে, পেস্ট যেন গলা থেকে পেটের ভেতর না যায়। পেস্ট মুখের ভেতর কন্ট্রোলে রেখে গলার ওপাশে না গেলে কোনো সমস্যা নেই। এই মর্মে সৌদি আরবের বিগত প্রধান মুফতি শাইখ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফতোয়া রয়েছে। একইভাবে সিয়াম অবস্থায় মেসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজলে কোনো দোষ নেই।
:
==> ১৪। অনেকে মনে করতে পারে যে স্বপ্নদোষ হলে সিয়াম ভাঙ্গে। এটা ভূল। স্বপ্নদোষ হলে সিয়াম ভাঙ্গে না, তবে অবশ্যই ফরজ গোসল করতে হবে। কারণ এটা মানুষের সামর্থ্যের বাহিরে এবং তা সে ইচ্ছা করে করছে না। তবে হ্যাঁ, স্বপ্নদোষ ছাড়া অন্য যেকোনোভাবে যদি বের হয় অথবা দিনের বেলা সহবাস করা হয়, তাহলে অবশ্যই সিয়াম ভাঙ্গবে।
:
==> ১৫। অনেকে মনে করতে পারে যে সমগ্র রমযান মাসেই বুঝি স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করা নিষিদ্ধ। আমার কাছেই বছর খানেক আগে আমার এক বিবাহিত বন্ধু এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল। কিন্তু এটা ভুল। বরং সহবাস করা হারাম শুধু দিনের বেলা সিয়াম থাকা অবস্থায়। রমযানের রাতে সহবাস করাতে কোনো দোষ নেই। তবে যদি কেউ কোনোভাবে দিনের বেলা সহবাসের কারণে সিয়াম নষ্ট করে তাহলে তাকে অবশ্যই এর কাফফারা দিতে হবে। এর কাফফারা হলো একজন দাস/দাসী মুক্ত করতে হবে। তা করতে অক্ষম থাকলে দুইমাস একভাবে সিয়াম পালন করতে হবে (এক এক দিন সিয়ামের পরিবর্তে)। শারীরিকভাবে তা করতে অক্ষম হলে ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে হবে (এক এক দিনের পরিবর্তে) (জনপ্রতি মিসকিনকে আধা সা অর্থাৎ সোয়া এক কেজি পরিমাণ)। আর এই বিধানের কথা স্বয়ং আল্লাহর রসূল নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন যা আছে সহীহ বুখারী-মুসলিম এর হাদীসে।
তবে যদি সফর অবস্থায় থাকে তাহলে সহবাস করতে দোষ নেই কারণ আল্লাহ সফরকারীদের জন্য সিয়ামের ব্যাপারে ছাড় দিয়েছেন অর্থাৎ পরে তা কাজা করতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন এই পোস্টে,
:
==> ১৫। অনেকে মনে করে যে বমি করলেই সিয়াম ভঙ্গ হয়। এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হলো যে অনিচ্ছাবশত বমি করলে সিয়াম নষ্ট হবে না। তবে স্বেচ্ছায় বমি করলে সিয়াম নষ্ট হবে এবং তা পরে কাজা করতে হবে।
:
==> ১৬। অনেকে মনে করতে পারে যে, আতর-খোশবু মাখলে সিয়াম ভাঙ্গে। তা অতিশয় ভুল। এতে সিয়ামের কোনই ক্ষতি হয় না (তবে নাক দিয়ে ধূপের গন্ধ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ এতে এমনকিছু থাকে যা পেটের ভেতর যেতে পারে)।
তবে খবরদার, মহিলারা আতর-সুগন্ধি-খোশবু-পারফিউম মেখে বাহিরে গমন করতে পারবে না, এমনকি ঘরেও মাখতে পারবে না যদি ঘর থেকে সেই সুগন্ধির ঘ্রাণ বাহিরে আসে বা পরপুরুষ অনুভব করতে পারে বা ঘর থেকে কোনো পরপুরুষ অনুভব করতে পারে। সহীহ হাদীসে মহিলাদের সুগন্ধি মেখে বাহিরে যাবার ব্যাপারে কঠিন ও ভয়ংকর বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। খোশবু-ঘ্রাণ মূলত পুরুষদের জন্য, ঠিক যেমন স্বর্ণ-অলংকার নারীদের জন্য।
:
==> ১৭। অনেকে মনে করে রমযানের তারাবীর সলাত আর তাহাজ্জুদ সলাত দুইটি পুরোপুরি ভিন্ন সলাত। এটা ভূল। বরং দুটিই একই সলাত। রমযানে কিয়ামুল্লাইল বা রাতের সলাত রাতের শুরুতে পড়া হয় (ইশার পর) তাই সেটা তারাবীহ। আর অন্যান্য মাসে এটা দেরী করে অর্ধরাতের পর বা শেষ রাতে পড়া হয় বিধায় সেটাকে বলা হয় তাহাজ্জুদ।
:
==> ১৮। অনেকে মনে করে যে তারাবী দ্রুত পড়াটাই সুন্নাহ। এটা মহাভূল। বরং দ্রুত পড়া ইসলাম পরিপন্থী এবং কুরআনের সাথে বেয়াদবি। বরং আস্তে ধীরে-সুস্থে থেমে থেমে স্পষ্ট করে ইতমিনারের সাথে তারাবী পড়া বাধ্যতামূলক এবং সুন্নাহ।
:
==> ১৯। অনেকে মনে করে যে, বিশ রাকাতের নিচে তারাবী পড়া যাবে না, আবার অনেকে মনে করে আট রাকাতের বেশিও তারাবী পড়া যাবে না। দুইটাই ভুল। বরং কেউ চাইলে আটের বেশিও পড়তে পারে আবার বিশের নিচেও পড়তে পারে তবে শর্তসাপেক্ষে। শর্ত ঠিক রেখে রমযানে বা রমযানে বাহিরে দুই দুই করে যত রাকাত ইচ্ছা তারাবীহ/তাহাজ্জুদ/কিয়ামুল্লাইল/রাতের-সলাত আদায় করতে পারে।
:
==> ২০। অনেকেই মনে করে যে, শবে ক্বদরের রাত বুঝি রমযানের ২৭শে রাতেই। তাই তারা শুধু ২৭শে রাতেই ইবাদত-বন্দেগী করে পরিশ্রম করে। এটা একটা ভূল। বরং শবে ক্বদরের রাত শেষ দশদিনের যে কোনো বেজোড় রাতেই হতে পারে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) আর সেটা একুরেটভাবে কোন রাতটা তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। কাজেই এই বেজোড় পাঁচটি রাতেই পরিশ্রম করে শবে ক্বদর তালাশ করা উচিত, যা আল্লাহর রসূল বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে শেষ দশদিনের প্রত্যেক রাতেই রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করা সুন্নাহ এবং রেকমেন্ডেড। আল্লাহর রসূল কখনই বিনা ঘুমে সারারাত জেগে থাকতেন না শুধুমাত্র রমযানের শেষ দশরাত ছাড়া। কাজেই, এবার বুঝে নিন শেষ দশরাতে সারারাত ইবাদত-বন্দেগী করার মর্তবা। আর এই শেষ দশরাতেই পরিশ্রম করলে শবে ক্বদর মিস হবে না। আর ইবাদতের সময় যদি শবে ক্বদর মিলে যায় তাহলে এক হাজার মাস তার চাইতেও বেশি ইবাদত করার সমান সওয়াব। আর এক হাজার মাস মানে ৮৩ বছরেরও বেশি। সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি। কাজেই, নিশ্চয়তার সাথে শুধুমাত্র ২৭শে রাতেই শবে ক্বদর মনে করা একটা ভূল।
:
==> ২১। অনেকে মনে করে সিয়ামের ফিদিয়া বা কাফফারা টাকা দিয়ে আদায় হবে যা মহাভূল। একইভাবে অনেকে মনে করে সাদাকাতুল ফিতরাও টাকা দিয়ে আদায় হবে, তাও মহাভূল। টাকা দিয়ে এগুলো আদায় হবে না। বরং নির্ধারিত খাবার দিয়েই আদায় করা ওয়াজিব।
:
আপাতত এখানেই ইতিরেখা টানলাম। আর মাথায় কিছু আসছে না। আসলে হয়ত এখানে আপডেট করা হতে পারে। আল্লাহু মুস্তা’আন।
জাযাকুমুল্লাহু খইরন।
:
সোর্স সমূহ:—

সৌদির সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড, শাইখ ইব্রাহীম তুআইজিরীর কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী ফিকাহ, এবং আরো কিছু সোর্সসমূহ।

 

*************************{সংগৃহীত করা হয়েছে””আবু তাউহা”” ভাই থেকে}******************************

আল হামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশা আল্লাহ…কখন কোনটি বলতে হবে!

 রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

ইসলামী বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ আমাদের সমাজে দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে বাচ্চাদেরকে প্রতিদিন ভোর সকালে মকতবে পাঠানো হতো কুরআন পড়ার জন্য, সেখানে এখন তাদেরকে পাঠানো হয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গুলোতে টুইংকল টুইংকল শেখানোর জন্য। আগে যেখানে ফজরের পর মুসলিম পরিবার গুলোর জানালা দিয়ে কুরআন তিলাওয়াতের সূর ভেসে আসতো, আজ সেখান থেকে শোনা যায় হারমোনিয়াম আর গিটারের আওয়াজ।

এভাবে আমাদের এই পুরো সমাজের চেহারাটাই দিন দিন কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। তাই তো আজ অনেক নামাজী আর দীনদার ব্যক্তিরাও ইসলামের অনেক পরিভাষার যথোপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে প্রায় সময়ই দ্বিধান্বিত হয়ে পরেন। এই যেখানে ধর্মীয় আবহে থাকা লোকদের অবস্থা সেখানে ধর্ম থেকে দূরে কিংবা বিমুখ মুসলিমদের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

আমার পরিচিত একজন শীর্ষ ইসলামী বুদ্ধিজীবি আছেন, তার সাথে আমার আমার দেখা হলে যখনি আমি তাকে জিজ্ঞেস করি ভাই কেমন আছেন? তখনি তিনি উত্তর দেন ইনশাআল্লাহ্ ভালো আছি। তাই এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি ইসলামের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পারিভাষিক শব্দ বা দোয়ার যথোপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাচ্ছি।

আল হামদুলিল্লাহ: আল হামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। যে কোন সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে সাধারণত এটি বলা হয়ে থাকে। যেমন ভাই আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা উচিত, আল হামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

ইনশাআল্লাহ: ইনশাআল্লাহ শব্দের অর্থ, মহান আল্লাহ যদি চান তাহলে। ভবিষ্যতের হবে, করবো বা ঘটবে এমন কোন বিষয়ে ইনশাআল্লাহ বলা সুন্নাত। যেমন ইনশাআল্লাহ আমি আগামী কাল আপনার কাজটি করে দিবো। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।

মাশা আল্লাহ: মাশা আল্লাহ শব্দের অর্থ, আল্লাহ যেমন চেয়েছেন। এটি আল হামদুলিল্লাহ শব্দের মতোই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোনো সুন্দর এবং ভালো ব্যাপারে এটি বলা হয়। যেমন, মাশা আল্লাহ তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো।

সুবহানাল্লাহ: সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান। আশ্চর্য জনক ভালো কোন কাজ হতে দেখলে সাধারণত এটি বলা হয়ে থাকে। যেমন সুবহানাল্লাহ! আগুনে পুরো ঘর পুরে গেলেও কুরআন শরীফ অক্ষত আছে।

নাউযুবিল্লাহ: নাউযুবিল্লাহ শব্দের অর্থ, আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। যে কোনো মন্দ ও গুনাহের কাজ দেখলে তার থেকে নিজেকে আত্মরক্ষার্থে এটি বলা হয়ে থাকে।

আসতাগফিরুল্লাহ: আসতাগফিরুল্লাহ শব্দের অর্থ আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। অনাকাঙ্খিত কোন অন্যায় বা গুনাহ হয়ে গেলে আমরা এটি বলবো।

ইন্নালিল্লাহ বা ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন: অর্থ, নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে যাবো। যে কোনো দু:সংবাদ বা বিপদের সময় আমরা এটি বলবো।

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: অর্থ; মহান আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই। শয়তানের কোন ওয়াসওয়াসা বা দূরভিসন্ধিমূলক কোন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য এটি পড়া উচিত।

: পাশ্চাত্য সংস্কৃতির নিন্মোক্ত কয়েকটি বাক্যের স্থলে আসুন আমরা কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত বাক্য প্রয়োগ করি :

কারো সাথে দেখা হলে- হাই, হ্যালো না বলে বলুন- আস সালামু আলাইকুম (আপনার উপর মহান আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)
কেউ আপনার কোন উপকার করলে- তাকে থ্যাংক ইউ না বলে বলুন- জাযাকাল্লাহু খায়রান (মহান আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন)
কারো কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময়- টা টা না বলে বলুন- আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুন এবং আস সালামু আলাইকুম (আপনার উপর মহান আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)।।

***সৌজন্যেঃ কোরআনের আলো***

মানুষের পাপ গোপন রাখার গুরুত্ব

 “যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক,নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ্ জানেন,তোমরা জানো না”। [সূরা আন-নূর; ২৪:১৯]

প্রিয় নবী (সা) আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন যার একটি হল অন্যের পাপ গোপন রাখা। আমাদের মাঝে কেউ যদি এমন কোন খারাপ কাজ করে বসে যা কিনা আল্লাহ্‌র আদেশ বিরুদ্ধ বা নৈতিক চরিত্র বিরুদ্ধ কিংবা অন্যের জন্য মর্যাদাহানিকর, সেক্ষেত্রে তার উচিৎ তা গোপন রাখা এবং কৃতকর্মের জন্য একান্ত নিভৃতে আল্লাহ্‌র কাছে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করা। প্রিয় নবী (সা) বলেছেন,

“আমার সমগ্র উম্মাহ্‌ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা কিনা তাদের পাপ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, “এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি”।  সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়”।

[সহীহ আল বুখারী]

জায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত,

“আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) এর সময়ে এক লোক যখন স্বীকার করল যে, সে ব্যভিচার করেছে, তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) একটি চাবুক চাইলেন। যখন তাকে একটি ছেঁড়া/পুরানো চাবুক দেওয়া হল তিনি বললেন, “এটার চেয়ে ভাল নেই?” তখন একটি নতুন চাবুক আনা হলে তিনি বললেন, “এটার চাইতে একটু পুরাতন দেখে নিয়ে আস”। এরপর এমন একটা চাবুক আনা হল যেটা ছিল (ব্যবহারের ফলে) একটু পুরানো/নরম। তখন তিনি ওটা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একশো দোর্‌রা মারার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্‌র সীমা অতিক্রম করোনা। কেউ এই ধরনের ঘৃণিত কোন অপরাধ (যেমন ব্যভিচার) করে বসলে, সে যেন তা গোপন রাখে, কারন কেউ যদি তা প্রকাশ করে বসে, তবে আমরা তার ব্যাপারে বর্ণিত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র কিতাবের বিধান কার্যকর করব”। [মুসনাদ আহমদ]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, “একজন লোক রাসূল (সা) এর নিকট  আসেলেন এবং বললেন:

“হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি মদিনার থেকে দূরবর্তী এক স্থানে এক মহিলার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। সুতরাং, আমাকে আমার প্রাপ্য শাস্তি দেন’। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) তখন বললেন: ‘আল্লাহ্ তো  তোমার পাপ  গোপন রেখেছিল, তবে কেন তুমি তা গোপন রাখলেনা?’”  [সহীহ্‌ মুসলিম]

একইভাবে, যদি কেউ অন্যের পাপের কথা জেনে থাকে তবে তার উচিৎ তা গোপন রাখা। রাসূল (সা) বলেন:

“যে ব্যক্তি দুনিয়ায় একজন মুসলমানের একটা কষ্ট দূর করবে, হাশরের দিন আল্লাহ্ও তার একটা কষ্ট দূর করে দিবেন;  যে একজন ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করবে, আল্লাহ্ তার দুনিয়া আর আখিরাত দুটোই সহজ করে দিবেন; আর যে ব্যক্তি একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, দুনিয়া আর আখিরাত দুই জায়গাতেই আল্লাহ্ তার দোষ গোপন রাখবেন।” [ সহীহ্‌ মুসলিম]

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত,

“রাসূল (সা) একবার মীম্বরে দাড়িয়ে উচ্চস্বরে বললেন, “হে লোকেরা, যারা কিনা ইসলামকে শুধুমাত্র মুখে গ্রহন করেছ কিন্তু অন্তরে ঈমান আননি এখনো, তোমরা মুসলমানদের অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাক, বিরত থাক তাদের ঠাট্টা করা থেকে, আর বিরত থাক তাদের ভুলত্রুটি বলে বেড়ানো থেকে, কারন যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ অন্বেষণ করে বেড়ায় আল্লাহ্ও তার দোষ অন্বেষণ করবেন এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিবেন, এমনকি যদি নিভৃতে কোন এক গৃহকোণেও সংঘটিত হয়ে থাকে পাপটি।” [সহীহ্‌ আল জামী]

ইমাম আন-নাওয়াবী (রঃ) লিখেছেন, ‘এই হাদিস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, শুধুমাত্র মুনাফিক আর দুর্বল ঈমানের লোকেরাই মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং তা প্রকাশ করে বেড়ায়… ”

লজ্জা আর অপমানের ভয় অনেকসময় মানুষকে অনেক খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। হতে পারে এই ভয়টাই একদিন তাকে আল্লাহ্‌র দিকে নিয়ে যাবে, যখন সে তার ভুল বুঝতে পারবে এবং তার কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু যখন তার অপরাধ জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়া হয় তখন সেই ভয়টা আর তার মাঝে কাজ করে না । সে তখন ভাবতে থাকে, ‘কি হবে আর ভাল থেকে, ক্ষতি যা হবার তা তো হয়েই গেছে, লোকজন তো জেনেই গেছে ইতোমধ্যে’, তখন সে প্রাকাশ্যে পাপ কাজে লিপ্ত হতে থাকবে।

তাছাড়া বারবার পাপের কথা বলতে থাকলে মানুষের অন্তর থেকে পাপের ভয় দূর হয়ে যায়। তখন পাপকে আর পাপ বলে মনেই হয়না। যে পাপের কথা বলে বেড়াতে লজ্জাবোধ করেনা, একই পাপে লিপ্ত হওয়া তার জন্য অসম্ভব কিছু নয়। আর এভাবেই সমাজে পাপ ছড়িয়ে পড়তে থাকে!

তাই এক মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে পাপ করতে দেখলে তার উচিত তা গোপন রাখা। সেই পাপ প্রকাশ করে দিয়ে লোকজনকে পাপের দিকে ঠেলে দেওয়া তার পক্ষে সমীচীন নয়। আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে শুধুমাত্র গুনাহগারদেরকেই সতর্ক করেননি, যারা গুনাহের কথা বলে বেড়ায় তাদেরকেও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

“যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক, নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ্ জানেন,তোমরা  জানো না”। [সূরা আন-নূর; ২৪:১৯]

সূরা আন-নিসা এর মধ্যে আল্লাহ্ বলেনঃ

“আল্লাহ্ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ্ শ্রবণকারী,বিজ্ঞ”।

[সূরা আন নিসা, ৪:১৪৮]

ইবনে আব্বাস (রা) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন,

“আল্লাহ্ পছন্দ করেন না যে, আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদ্‌দোয়া বা মন্দ বিষয় প্রকাশ করি, যদি না আমাদের উপর অন্যায় করা হয়। তবে যদি কারো উপর জূলূম করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এই ব্যাপারে আল্লাহ্‌র অনুমতি রয়েছে। তারপরও এই ব্যপারে ধৈর্য ধারন করাই উত্তম।”

[তফসীর ইবনে কাসীর]

সমাজে আজ এতো ব্যাপকভাবে পাপ ছড়িয়ে পড়ার কারন হল আমরা রাসূল (সা) এর দেওয়া শিক্ষার কথা ভুলে গেছি যার শিক্ষা ছিল নিজের আর অন্যের মন্দ বিষয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার। আজ সে কারনেই মানুষের অন্তর থেকে গুনাহের ভয় উড়ে গেছে- হোক সেটা ছোট গুনাহ্‌  বা বড় গুনাহ্‌। আরো ভয়ঙ্কর হল, মানুষ আজকাল তাদের নিজের পাপের কথা গর্বভরে প্রচার করতে পছন্দ করে! একবারও কি ভেবে দেখেছি কোথায় চলে গেছি আমরা!!

আজকাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির নামে সমাজে কতভাবে যে পাপ ছড়িয়ে পড়ছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। ইন্টারনেট, বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা এবং রেডিও-টেলিভিশনের প্রোগ্রামগুলোতে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ব্যভিচার, দুর্নীতি, বাটপারি আর মারামারি ছাড়া ভাল কোন খবরই পাওয়া যায়না আজকাল। মিডিয়া-যার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সবচাইতে বড় ভুমিকা রাখার কথা ছিল-তাই আজ সমাজে অন্যায়কে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করছে। কয়েকবছর আগেও আমরা যেসব অপরাধের কথা কল্পনা করতে পারতাম না, সেগুলোই আজ মিডিয়ার কল্যাণে নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে! তাই মুসলিম ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আসুন, মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এমন সকল পথ পরিহার করে চলি আমরা; বিরত থাকি নিজের বা অপরের দোষ প্রচার করা থেকে; পানাহ্‌ চাই আল্লাহ্‌র কাছে, আল্লাহ্ যেন আমাদের সকলকে এমন ঘৃণিত অপরাধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।

ধৈর্যসহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহু খাইরান!

 

References: Lecture by Allama Ehsan Ilahi Zaheer (rahimahullah), Qawaaid wa-Fawaaid min al-Arabeen an-Nawawi by Shaikh Nathim Sultan, Tafseer Ibn Katheer, and others.

অনুবাদঃ মুনিমুল হক

সম্পাদনাঃ আবদ্‌ আল-আহাদ এবং শাবাব শাহরিয়ার খান

প্রকাশনায়ঃ কুরআনের আলো ওয়েবসাইট

Translate